somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা

২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষানীতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন নাগরিক ফোরাম, শিক্ষক সংগঠনের উদ্যোগে গোলটেবিল, টেবিলটক, টকশো, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীরা বিভিন্ন মত দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির ধারা অনুসারে বিরোধী দল বিরোধিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এত এত কর্মযজ্ঞ তাদের মতামত কি প্রতিফলিত হয়েছে? জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের ভাবনা সবার আগে থাকা দরকার।

এখন আসা যাক শিক্ষার্থীদের ভাবনা কি?

একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা শেষে তার কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চায়। সে আরও চায় অর্থের অভাবে শিক্ষার মাঝপথ থেকে যাতে ঝরে যেতে না হয়। সুতরাং শিক্ষার মধ্যে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা রেখেই আমাদের শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ভাবা উচিত।

১. কর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্তকরণঃ একজন শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই চাইবে শিক্ষা শেষে সে যাতে বেকার না থাকে। এজন্য শিক্ষার মধ্যেই তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি থাকা দরকার। আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা কর্মমুখী। অর্থাৎ শিক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট অর্জন করে তারপর কর্মসংস্থানের উপায় খুঁজে নেবে। কিন্তু এমন যদি হয় একজন শিক্ষার্থী শিক্ষালাভ করছে এবং পাশাপাশি তার কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে চলেছে। একটি শিক্ষাবন্ড এই সুযোগটি সৃষ্টি করতে পারে। একটি অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যাংক স্থাপিত হতে পারে। উদ্যোক্তা শিক্ষার্থীদের দ্বারা এই ব্যাংকটি পরিচালিত হতে পারে।

২. বিদ্যমান ব্যবস্থা শক্তিশালী ও জোরদারকরণঃ শিরোনামটি সম্মানিত পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে। অধিকাংশ মানুষই মনে করে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী নয়, চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যর্পূণ নয় তথা গুণগত মানসম্পন্ন নয়। তারপরও বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এ কর্মসংস্থানের উপর কোন প্রকার আঘাত হেনে এ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও জোরদার করা সম্ভব নয়। বরং বিদ্যমান জনবলের কতিপয় অভ্যাসের পরিবর্তন ও নতুন কিছু প্রণোদনামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃষি শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, গার্হস্থ্য শিক্ষা ইত্যাদি বিদ্যমান। এগুলোর ব্যবহারিক অংশটুকুর জোরদার মনিটরিং করেই শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও জোরদার করা যায়।

৩. বাংলাদেশের সংবিধান ও শিক্ষাসংস্কারঃ বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫,১৬ এবং ১৭ অনুচ্ছেদে শিক্ষা সম্পর্কে বেশ কিছু মূল্যবান ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ দিক নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা পদ্ধতি (education system), শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ইত্যাদি। এছাড়া ১৭ (খ) উপ-অনুচ্ছেদে শিক্ষা সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে “রাষ্ট্র সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সংগতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছা প্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।“

দেশের পুরো জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হলে চাই নতুন দৃষ্টিভঙ্গী। পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষাকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া। যার চালিকাশক্তি হবে ভিশন ও কতিপয় মিশন সমৃদ্ধ সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি।

৪. স্থায়ী ন্যাশনাল এডুকেশন কমিশনঃ আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হলে ‍স্থায়ী ন্যাশনাল এডুকেশন কমিশন গঠন করা জরুরী। কমিশনে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজ সহ সামরিক-বেসামরিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কমিশনের কাজ হবে শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও জটিলতা নিরসন এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনা করা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তবায়নের জন্য নির্বাহী সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা প্রদান ও মূল্যায়ন করা।

৫. জাতীয় শিক্ষা তহবিল ও শিক্ষার অর্থসংস্থানঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিবছর সরকার মোট জাতীয় বাজেটের কমবেশি ১৫ ভাগ বরাদ্দ রাখছে। এই অর্থকে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যাভিমুখী ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন জাতীয় শিক্ষা তহবিল গঠন করা। প্রচলিত বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি বাজারে এডুকেশন বন্ড ছেড়ে তহবিল সংগ্রহ করা যেতে পারে।

৬. কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষাব্যবস্থাঃ কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষাব্যবস্থা বলতে শিক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন ও আয়বৃদ্ধির একটি প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ এ শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এ নিশ্চিতকরণের পাথেয় হবে লোকাল কারিকুলাম, লাইফ লং এডুকেশন। লোকাল কারিকুলাম এবং লাইফ লং এডুকেশনের আওতায় স্থানীয় সম্প্রদায় পণ্য ও সেবার উৎপাদন ও বণ্টন কার্যে নিয়োজিত হবে। গড়ে উঠবে মাইক্রো পাইলট প্রজেক্ট ও মাইক্রো বিজনেস। পাইলটিং এর মাধ্যমে ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা নির্ধারণের পর অর্থসংস্থান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডুকেশন ফান্ড গঠন করা। উক্ত ফান্ড কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সমন্বিত প্রজেক্ট হাতে নেবে এবং তা বাস্তবায়নে সাধারণ জনগণের মতামতসমূহ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরবে।

৭. লোকাল কারিকুলামঃ আমাদের দেশের এক এক এলাকায় একেক প্রকার পণ্য বা সেবা উৎপাদিত হয়। যে এলাকাটি যে পণ্য উৎপাদন করে সে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঐ পণ্যটির উৎপাদন, সংরক্ষণ, রূপান্তরের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন এবং বিপণন ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি কারিকুলাম প্রণয়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হবে লোকাল কারিকুলামের উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। লোকাল কমিউনিটির সহায়তায় পণ্যটির উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করাই হবে মুখ্য বিষয়। অর্থাৎ লোকাল কারিকুলামের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদনের পৃষ্ঠপোষকতা ও অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সহজ হবে।

৮. লাইফ লং এডুকেশনঃ লোকাল কারিকুলামে স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে লাইফ লং এডুকেশন। লাইফ লং এডুকেশন হচ্ছে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীকে সু-নাগরিক ও দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করার একটি শিক্ষাব্যবস্থা। এ ধারণাকে ভিত্তি করেই বাংলাদেশে উপ-আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। এ শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন-মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ এসকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সম্পৃক্ততা রয়েছে। লাইফ লং এডুকেশনের আওতায় স্থানীয় শিক্ষা এবং লোকাল কারিকুলামের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে স্থানীয় উৎপাদনের পৃষ্ঠপোষকতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

৯. একগ্রাম এক পণ্যঃ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো এক জেলা এক পণ্য নামে জেলায় জেলায় একটি করে পণ্য চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। গ্রামে গ্রামে এরকম পণ্য চিহ্নিত করে লোকাল কারিকুলাম এবং লাইফ লং এডুকেশনের আওতায় তা পাঠদানের ব্যবস্থা করে পুরো জনগোষ্ঠীকে একই সাথে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা যায়।

১০. বিদ্যুতায়ন এবং উন্নয়নঃ বিদ্যুৎ একটি সম্ভাবনার নাম। বিদ্যুৎ রাতারাতি পরিবর্তন করে দিতে পারে মানুষের অভ্যাস, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের। সেই সাথে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের বাজার সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত যোগাযোগ স্থাপনে (মোবাইল, ইন্টারনেট) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অথচ আমাদের গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ স্থানেই আজও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছেনি। বাংলাদেশের ন্যয় দুর্বল অর্থনীতির দেশে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে রাতারাতি বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া কঠিন হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা একান্তই সম্ভব। যে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি গ্রামের সে স্কুলগুলোতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কিংবা সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়। লোকাল কারিকুলাম এবং লাইফ লং এডুকেশনের মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ এবং সমৃদ্ধির জন্য বিদ্যুতের কোন বিকল্প নেই।

১১. মাইক্রো বিজনেস এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নঃ বিশ্ববাণিজ্যের এ যুগে শিক্ষার্থীরা ক্রমবর্ধমান হারে বাণিজ্য শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে। বাণিজ্য শিক্ষা ব্যবস্থার অর্পূণাঙ্গতার কারণে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়ের উদ্যোক্তা না হয়ে চাকরির পেছনে ছুটছে। বাণিজ্য শিক্ষাকে এভাবে সংষ্কার করতে হবে যেন চাকুরির পাশাপাশি এ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষার্থী একজন উদ্যোক্তায় পরিণত হতে পারে। একজন উদ্যোক্তা তার নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যজনের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য শিক্ষা কারিকুলামে মাইক্রো বিজনেস ও সোশ্যাল বিজনেস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা মাইক্রো বিজনেস প্রক্রিয়ার সাথে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মাইক্রো-সোশ্যাল বিজনেসের সাথে এবং লোকাল কমিউনিটি উভয়টির সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।

১২. মাইক্রো পাইলট প্রজেক্টঃ যে কোন বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য পাইলট প্রজেক্ট গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, ঝুঁকি, ত্রুটি-বিচ্যুতি, সমাধান চিহ্নিতকরণ একটি আধুনিক ও কার্যকর পন্থা। পাইলট প্রজেক্ট ধারণার চেয়েও সহজ ও কার্যকর পন্থা হতে পারে মাইক্রো পাইলট প্রজেক্ট। মাইক্রো প্রজেক্টগুলো কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে শিক্ষা সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাবে। এমপ্লয়মেন্ট ফোকাসড লারনিং বাংলাদেশ (ইএফএলবিডি) এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

১৩. ক্যাম্পেইনঃ যথাযথ ক্যাম্পেইন তথা প্রচারের অভাবে যে কোন শুভ উদ্যোগই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে যে কোন সংস্কার বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে সংস্কারের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিগুলো সাধারণ জনগণের নিকট তুলে ধরে জনমত গঠন করা। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান বিকাশের ফলে ক্যাম্পেইন কাজটি বেশ সহজ হয়ে উঠেছে। মিডিয়া পার্টনারশীপ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ন্যয় সর্বাধুনিক ধারণাগুলো প্রয়োগ করে একটি সুসংগঠিত ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে ফ্রি ইনফরমেশন পেপার। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ক্যাম্পেইনের আন্তার্জাতিক রূপ দেয়া যেতে পারে।

১৪. সমনব্য় ও পরিবীক্ষণঃ যে কোন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম সীমাবদ্ধতা হচ্ছে যথাযথ সমন্বয়ের অভাব। ফলে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত ফললাভ সম্ভব হয়না। শিক্ষা যেহেতু একটি সার্বজনীন বিষয় সেহেতু শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের প্রায় সকল অংশের অংশগ্রহণ জরুরী। বর্তমানের ডিগ্রী বা সার্টিফিকেট প্রাপ্তির শিক্ষাকে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষায় পরিণত করার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করতে হবে এবং প্রত্যেকের কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে যথাযথ পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এটি খুব সহজেই সম্ভব। তাই এ বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকার প্রধানের কার্যালয় হতে পরিচালনা করতে হবে।

ভিশনঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে ২৫ বা ৫০ বছর মেয়াদী একটি ভিশন নিয়ে এগুতে হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পপুলেশন প্রজেকশন অনুযায়ী ২০৩৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১৯৬ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ। ২০১০ সাল থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর সময়। এই ২৫ বছরে আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন নিয়ে এগুতে পারি। পুরো জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হলে ২৫ বছর মেয়াদী এরকম একটি ভিশন কি আমরা সবাই মিলে গ্রহণ করতে পারি না?

৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×