(প্রিয় বন্ধুরা, মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন আজ একটি স্বপ্নের স্কুল ঘর হয়ে জেগে আছে জেলে শিশুদের কাছে। আপনাদের অব্যাহত সমর্থনে আমরা এ পর্যণ্ত এসেছি। আমরা আরও অনেদূর যেতে চাই। আপনাদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রয়োজন। আগামীকাল আমি লক্ষ্মীপুর যাবো। স্কুলের জন্য স্থায়ী একটি ব্যবস্থা করার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর এই আবেদনখানা লিখেছি। প্রিন্ট করার সময় সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে। আপনাদের মূল্যবান মতামত প্রয়োজন। আবেদনের সাথে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শও সংযু্ক্ত করা হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর স্কুলের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আরেকটি আবেদনও নেবো। আগামী সোমবার পর্যণ্ত তিন দিন স্কুলের রেজিস্ট্রেশন এবং স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লক্ষ্মীপুর অবস্থান করবো। এই তিনদিন আপনাদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ থাকবে আশা করি। এ ব্যাপারে আরও কিছু পোস্ট দেবো। ভাল থাকবেন সবাই।)
.....................................................................................................
বরাবর
নির্বাহী প্রকৌশলী
পানি উন্নয়ন বোর্ড
লক্ষ্মীপুর।
বিষয়ঃ মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের জন্য বর্তমান স্থানে এক টুকরো ভূমি লীজ প্রদান প্রসঙ্গে।
উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরী হাটে মেঘনা নদীর বুকে একটি অবহেলিত জেলে জনগোষ্ঠীর বাস। প্রায় ৫০/৬০ টি মাঝি পরিবার নৌকার মধ্যেই বসবাস করে আসছে সুদীর্ঘ কয়েক যুগ। মেঘনা নদী সংলগ্ন বেড়ি বাঁধে আরও প্রায় কয়েক শ পরিবারের বাস। এ স্থানে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ২০০৮ সালের ১৪ জুলাই তারিখে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রাথমিক চিন্তা শুরু হয়। স্কুলের নামকরণ করা হয় মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন।
লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং দেশে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ব্লগার বন্ধুদের সহায়তায় স্কুলটি এ পর্যণ্ত এসেছে। বর্তমানে স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪০ জন। ২ জন শিক্ষক নিরবচ্ছিন্নভাবে স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্কুলের পরিচালনার জন্য স্থানীয়ভাবে একটি নির্বাহী কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। স্কুলের জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।
কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন কাজ করে যাচ্ছে। স্কুলের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ থেকে একনাগাড়ে ১০ দিন শিক্ষার্থীদের মাশরুম চাষ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই মাশরুম চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে তা উৎপাদন করতে পারবে। এতে করে স্কুলের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্কুলটি কারও উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব আয় দিয়েই চলতে পারবে। এ ব্যাপারে একটি সংক্ষিপ্ত প্রকল্প প্রস্তাবনা সংযুক্ত করা হলো (সংযুক্তি-১)
স্কুলটি বর্তমানে একটি পরিত্যাক্ত বেড়ি বাঁধের উপর অবস্থিত যা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর আওতাধীন এলাকার মধ্যে আছে। উক্ত পরিত্যাক্ত অংশটুকু স্কুলের নামে সাময়িক বরাদ্দ/ লীজ প্রদান করলে স্কুলের রেজিস্ট্রেশন সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যাবলি সম্পাদন সম্ভব হবে। কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের জন্য স্কুলের বর্তমান স্থানটি লীজ হিসেবে পেলে ১৪০ জন শিশুর শিক্ষাজীবন সুনিশ্চিত হবে।
অতএব মহোদয় সমীপে প্রার্থনা, মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের অবহেলিত শিশুদের জন্য এই স্থানে স্কুলের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে স্কুলের বর্তমান স্থানটি স্কুলের অনুকূলে লীজ/বরাদ্দ দানে বাধিত করবেন।
.................................
চেয়ারম্যান
ম্যানেজিং কমিটি
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
মজু চৌধুরী হাট, লক্ষ্মীপুর।
সংযুক্তি :
১. গঠনতন্ত্রের ১ কপি।
২. মাশরুম প্রকল্প প্রস্তাবনা ১ কপি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

