আপনি কিভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেনঃ
আপনি সদ্য পড়াশুনা শেষ করেছেন। আপনার পড়াশুনার ক্ষেত্র ছিল ব্যবসায় শিক্ষা। এখন ভাবছেন একটি জব পাবেন কিভাবে। অনেক প্রতিষ্ঠানে সিভি নিয়ে নিয়ে ঘুরছেন কিন্তু কাঙ্ক্ষিত জব পাচ্ছেন না। ভেবে দেখুন আপনি যেখানে জব করবেন তাঁরা কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক। অর্থাৎ তারা উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে, তাই তারা উদ্যোক্তা।
আপনি ভাবতে পারেন, উদ্যোক্তারা প্রচুর অর্থের মালিক। তারা বিপুল ব্যয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে। তাদের রাজনৈতিক কানেকশন ভালো। দেশ বিদেশের প্রচুর কাজ নিয়ে তারা রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনি এই প্রতিষ্ঠানের একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে চাকুরি পেলে বর্তে যাবেন।
কিন্তু ভেবে দেখুন আপনি নিজেই ইচ্ছে করলে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করে ফেলতে পারবেন। অল্প বাজেট নিয়ে খুব ছোট করেই শুরু করলেন। আস্তে আস্তে ব্যবসায়কে সম্প্রসারণ করতে পারবেন। আমাদের দেশে ব্যবসায় শিক্ষা পড়াশুনা শেষে শিক্ষার্থীরা কর্মী হতে চায় কিন্তু কেউ উদ্যোক্তা হতে চায় না।
উদ্যোক্তা হওয়ার তিনটি ধাপ-
ক. একটি প্রকল্প প্রস্তুত;
খ. প্রকল্প বাজেট সংস্থানের উৎস খোঁজা;
গ. অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন।
ক. একটি প্রকল্প প্রস্তুতঃ মনে করুন আপনি উদ্যোক্তা হতে চান। আপনি প্রথমেই পণ্য বা সেবা নির্বাচন করুন যা নিয়ে আপনি এগিয়ে যাবেন। তাই প্রথমেই সেই নির্বাচিত পণ্য নিয়ে আপনি কিভাবে বাজারে প্রবেশ করবেন তা একঝলকে বুঝে নেওয়ার জন্য একটি প্রোজেক্ট প্রোফাইল প্রস্তত করতে হবে। এখানে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, প্রকল্প কি উৎপাদন করবে, প্রতি বৎসর কত ভোক্তার কাছে সে পণ্য পৌঁছানো যাবে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। সমগ্র প্রকল্পটির একটি বাজেট থাকবে। আয়-ব্যয়ের খাত উল্লেখ থাকবে।
প্রকল্প প্রস্তুতের পাশাপাশি আপনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ অথবা সিটি কর্পোরেশন থেকে যে নামে ব্যবসাটা হবে সে নামে ট্রেড লাইসেন্স করে ফেলতে পারেন। প্রথমে একক মালিকানায় শুরু করুন। প্রয়োজনে পার্টনার নিয়ে শুরু করে ডিড বা অংশীদারি চুক্তি করে নিতে পারেন। নিজের বন্ধুবান্ধব নয় দক্ষ কর্মী নিন ব্যবসায়ের কাজের জন্য।
খ. প্রকল্প বাজেট সংস্থানের উৎস খোঁজাঃ ধরুন আপনার প্রকল্প বাজেট ২ লক্ষ টাকা। এই মূলধন সংস্থানের জন্য আপনি আপনার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছে ধার চাইতে পারেন। প্রাথমিক অবস্থায় ব্যাংকের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রজেক্ট প্রোফাইল প্রস্তুত করে এবং আপনার বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়কে বুঝিয়ে বাজেট সংগ্রহ করুন।
গ. অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নঃ মনে করুন আপনি কম্পিউটার সেলস অ্যান্ড সার্ভিসিং ব্যবসায় উদ্যোক্তা হতে চান। একটি অফিস কাম ল্যাবরুম নিতে হবে। দক্ষ কর্মী রাখতে হবে। উদ্যোক্তা হয়ে একটি সফটওয়্যার ফার্ম গড়ে তোলা যায়। সরাসরি পণ্য উৎপাদনে জড়িত হতে চাইলে মাশরুম চাষে জড়িত হওয়া যায়। সবচেয়ে কম খরচে প্রকল্প অফিস গোছানোর চেষ্টা করবেন। প্রাথমিক অবস্থায় নিজেই সব কাজ গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
আপনার পণ্য বা সেবা প্রচারের জন্য জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। সাথে যোগাযোগের নাম্বার। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রচার করতে পারেন। ই-মেইল অ্যাড্রেস সংগ্রহ করে কিংবা মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে প্রচার চালাতে পারেন। এভাবে পণ্য বা সেবাটিকে পরিচিত করে তুলতে হবে।
একজন উদ্যোক্তা দশজন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী। তাই উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী হোন। আজকাল একটি মোবাইল নাম্বার এবং একটি ওয়েবসাইট দিয়েও যে কোনো পণ্য বা সেবার ব্যবসা শুরু করে দেওয়া যায়। তাই উদ্যোক্তা হওয়ার প্রচেষ্টায় আজই নেমে পড়ুন। আপনার মাথায় কোনো সৃজনশীল আইডিয়া থাকলে তা নিয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রচেষ্টায় নেমে পড়ুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



