অনেকদিন পর গতোকাল ব্লগে ঢুকেছিলাম। জানতাম প্রচুর হাঙ্গামা হবে। হয়েছিলোও তাই। ব্রাজিলের হার বলে কথা। কিন্তু ব্রাজিল সমর্থক বলে যতোটা কষ্ট পাওয়ার কথা ততোটা পাইনি। কেন, সেটা লিংকে দেওয়া পোস্ট এ বলে দিয়েছি।
প্রথম মন্তব্যটা রাজসোহানের। স্পেশাল মন্তব্য জেরীর। দুজনেই তখন উন্মাতাল ডিসকো করছিলো, ব্রাজিলের হারের উপলক্ষ্যে। আমি শুধু উত্তরে বলেছিলাম একটা দিন অপেক্ষা করতে। কারণ, আর্জেন্টিনার সামনে জার্মানি নামের প্রবল প্রতিপক্ষ।
আর সবার মতো আমিও আশা করেছিলাম এই বিশ্বকাপের সবচাইতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এই ম্যাচে। কারণ, আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলে এসছিলো এবং জার্মানি যেভাবে খেলে যাচ্ছিলো। কিন্তু এক হালি গোল খেয়ে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করলো, বিশ্বকাপে বড়ো দলের সম্মুখে তাদের পড়তে হয়নি তখনো পর্যন্ত। যখন পড়লো, তখনই হেগে মুতে একাকার।
টূর্নামেন্টের এই লেভেলে চারটা গোল হজম করায় মনে হচ্ছিলো আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছেনা। খেলছে বাছাই পর্বের ম্যাচ।
ব্লগারগন প্রচুর অ্যানালাইলিস পড়েছেন, কেন এরকম হজবরল অবস্থা হলো আর্জেন্টাইনদের। আমি বিশ্লেষনে যাচ্ছিনা। অন্য একটা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
আর্জেন্টিনার পরাজয় সবসময় আনন্দের। কিন্তু কট্টর ব্রাজিল সমর্থক হয়েও আজ আমার চোখে পানি এসছিলো ম্যাচের শেষে। স্বভাবতই তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিলাম ম্যাচ শেষে। কিন্তু যখন ম্যারাডোনার মুখটা স্কিনে ভেসে উঠলো, তখন বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। দিয়েগো খুব কষ্টে চোখের পানি ধরে রেখেছিলো। প্রত্যেক ম্যাচে ওকে দেখেছি বাচ্চাদের মতো ইমোশনাল হতে। দলের জয়ে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বুকে জড়াতে দেখেছি। ওকে কোনকালেই আমি তেমন একটা পছন্দ করতাম না। কিন্তু নিজের জীবনে ট্র্যাজেডির পর ট্র্যাজেডি আসার পর দিয়োগেও মনের অজান্তে পছন্দ করতে শুরু করি। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর অবশ্যই।
আজ যখন দেখলাম খুব অসহায়ভাবে মাঠে বিচরন করছে ম্যারাডোনা, চোখ ছলছল করছে পানিতে, তখন নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করলো। আমার উল্লাস থেমে গেলো, অন্তর দিয়ে অনুভব করলাম, ম্যারাডোনা স্বপ্নভাঙ্গার বেদনায় কাতর, আমার মতো। তাই আর্জেন্টিনার পরাজয়ে খুশি হতে পারিনি আমি, বরং কষ্ট পেয়েছি।
ছবি- কালের কন্ঠ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১০ রাত ১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



