somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ইচড়ে পাঁকা"

১৬ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার এই লেখাটা চলতি সংখা “মৌচাকে ঢিল” পত্রিকায় ছাপা হয়েছে সংশধিত ভাবে। আপনাদের সাথে লেখাটা শেয়ার করছি-

"ইচড়ে পাঁকা"

"মৌচাকে ঢিল" বিশেষ সঙখা "বিযে বাড়ী"-র জন্য এক টা লেখা পাঠাবার ইচ্ছায় আমি আমার মেমরী কারড রিওযাইন্ড করছিলাম- কোনটা রেখে কোনটা লিখবো সেই সিধান্ত নেবার জন্য। অনেক সৃতি ভেষে ওঠে-ছোট বেলা থেকে বড় বেলা যাবত। যে কোনএকটা লিখব ভাবছি। তবে তা ছোট বেলার কথা। আমার জীবনের মধ্য বেলায় অপ্রকাশিত গোপন প্রেমিকা-র বিয়েতে ছবি তোলার আমন্ত্রন পেয়ে অনেক কসট বুকে চেপে ছবি তুলতে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম-আমি আমার অনেক শখের মামইয়া ক্যমেরার লেন্স কভার ওপেন না করেই গুরুত্তপুরনো ঘটনার ছবি নসট করেছিলাম-সেকথা লিখবনা। আজ লিখব আমি যখন ক্লাশ টু-তে পড়ি তখনকার একটি ঘটনা নিয়ে।

আমরা ২ ভাই বোন। আমি ছোট। বুবু আমার থেকে ১২ বছরের বড়। আমার জন্মের সময় আমার মা মারা যান। তারপর থেকে আমার নামের সাথে "অপয়া" নামটাও জুড়ে যায়! যথা রিতি সৎ মায়ের সংসারে আমাদের বড় হওয়া। বুবুই আমার মা, বাবা-ভাই-বোন-বন্ধু সবই! বুবুর কোলে পিঠেই আমার বড় হওয়া, অক্ষর জঞান শেখা।

আমি যখন ২য় শ্রেনীতে উঠলাম তখন বুবুর বিয়ে হয়। বুবুকে যখন শশুর বাড়ী নিয়ে জাচ্ছিল-তখন আমার কান্না আর চিতকারে বুবুর শশুর বাড়ীর লোকজন আমাকেও আপাতত বুবুর সংগী করে নিলেন। আমার সৎ মাও চেয়েছিলেন আমি বাড়ী ছাড়ি। ছোট বেলায় আমি ছিলাম খুব বেশি ডানপিটে স্বভাবের। আমার মুখে নাকি সব সময় একটার পর একটা প্রশ্ন লেগেই থাকতো। যার কারনে আমাকে নিয়ে সবাই অস্বস্তিতে থাকত।

বুবুর বিয়ের দিন অনুসঠানে হল ভরতি মেহমানদের মাঝে আমাকে দুলাভাইর কোলে বসিয়ে দেয়া হলো। আমি দুলাভাইর কোলে বসেই জানতে চাইলাম- "তোমার কি মুসলমানী করা হয়েছে"? দুলাভাই আমার প্রশ্ন শুনে থ! দুলাভাই উত্তর দিচ্ছেনা। আমিও নাছর বান্দা, আবার প্রশ্ন করি-"বলনা, তোমার মুসলমানী করা হয়েছে কীনা"? দুলাভাই মৃদু হেসে সম্মতি সুচক মাথা নাড়লেন। আমিও বল্লাম-"আমার মুসলমানী হয়েছে কয়দিন আগে, এখনো ভাল করে শুকায়নি"-বলেই আমার হাপ প্যন্ট খুলে দেখাতে লাগছিলাম! সবাই আমাকে নিবৃত করল পরে দেখানো যাবে বলে। তারপরি আমি বায়না ধরলাম-"দুলাভাই, তোমার নুনু আমাকে দেখাও...তোমার নুনু কি শুকিযেছে"? তখন এক ভয়ংকর পরিস্তিতি! আমার জেদ এবং কান্না সম্পরকে বাড়ীর সবাই পরিচিত-তাই পরিসথিতি সামাল দিতে আমাকে দুলাভাইর কাছ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

অনেক ধুমধাম করে বুবুর বিয়ে হয়ে গেল। আমি খুব খুশি মনে আমার সব চাইতে আপন জন বুবুর সাথে দুলাভাইর বাড়ী গোপালগঞ্জ চলে যাই। আমি ওই বাড়ীতে গিয়ে মোটামুটি সব বয়ষী ছেলে-বুড়ো দের জানাই আমার মুসলমানী হয়েছে...তাদের করা হয়েছে কিনা জান্তে চাই! আমার এই অভিনব প্রশ্ন শুনে বুবুর চাচাতো মামাতো যতো প্রকার ননদ আছে সবাই হই চই শুরু করেদিল! সব ননদরাই বলতে গেলে স্কুল, কলেজের উচু ক্লাশের ছাত্রী। যারা সবাই বিয়ে উপলক্ষে গোপালগঞ্জ এসেছেন। আমি ছিলাম তখন ন্যাড়া বেল মাথা!আমার ন্যাড়া মাথাটা ওদের আরও বেশী আকরষন করেছিল। সুযোগ পেলেই এক জন করে আমার মাথায় টোকা দিয়ে ছড়া বলে-"ন্যাড়া মাথায় তব্লার তাল, টাক দিলে যায় বরিশাল"-আর সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেবার উপক্ক্রম! কেউ কেউ টান মেরে আমার হাফ প্যান্ট খুলে দেয় দৌড়! আমি মুখ বুজে ওদের আদরের জ্বালাতন সয্য করে যচ্ছি। আমিও সুযোগ বুঝে ওদেরকে জানতে চাই-"তোমাদের কি মুসলমানী হয়েহে"? আমার প্রশ্ন শুনে ওরা লজ্জা পায়...হই চই করে ওঠে! আমার কাছ থেকে দৌড়ে পালায়!! এর পর থেকে কেউ আমার মাথায় টোকা দিতে আসলেই আমি আগেই জানতে চাই-"তোমার কি মুসলমানী হয়েছে"? আমার লাগাতর প্রশ্ন শুনে কেউ কেউ আমার থেকে দূরে সরে যায়-আমাকে কম জ্বালায়! আবার কিছুক্ষন পর দল বেধে মেয়েরা এসে আমার মাথায় পিছন থেকে টোকা মেরে ছড়া কাটে...... আমি কয়েকবার বুবুর কাছে দৌড়ে গিয়ে নালিশ করেছি-বুবু বলে, "ওদের কাছে যেওনা, আমার কাছে কাছে থাকো..."। কিন্ত আমার মন চায় ছুটাছুটি করতে...

আমি হঠাৎ করে বললাম-"যে আমাকে মাথায় টোকা দিবে এবং ছড়া বলবে-সে আমার বৌ হবে"! আমার এই ঘোষনায় কিছুটা কাজ হল। কেউ আমাকে ন্যাড়া বলেনা! আমার মত একজন বেল মাথা, তার উপর আমার সামনের পাটির ২ টি দাঁত নেই-এমন বাচ্ছা ছেলের বৌ হতে কেউ রাজী ছিলনা! আমি অনেকটা হাপ ছেড়ে বাচলাম-বেজায় খুশী আমি। এখন আমি সুযোগ পেলেই জানতে চাই-কার 'মুসলমানী হোয়েছে'?

আমি অনেকটাই নিঃশঙ্গতায় ভুগছিলাম-কারন সবাই আমার থেকে বয়ষে বড়। হঠাৎ দেখি একদল মেহমান এসেছে। তাদের সাথে আমারি বয়ষী একটি ফুটফুটে সুন্দর শিশু কণ্যা। তার নাম কুমকুম। মুহুরতেই তার সাথে আমার ভাব হয়ে গেল। আমি তার সাথে করে নিযে যাওযা ক্লাশ টু’র নতুন বই দেখলাম-যে সব বই আমাকে বুবু অনেক আগেই পড়িয়েছে বাসায় বসে। কুমকুম আমার দুলাভাইর বড় বোনের ছোট মেয়ে। কুমকুম এর মাথাটাও আমারি মত ন্যাড়া। আমার মত তার দাঁত পড়েছে। আমার ২ টা, ওর ৪ টা দাঁত নেই। কুমকুমকেও সবাই “ন্যাড়া বেল, ফোকলা বুড়ি” বলে মজা করে, খ্যাপায়! কুমকুম আমার মত শক্ত মনের না। সে কান্না করে, রাগ করে গাল ফুলায়! তার প্রতি আমার মায়া হল। আমিও তার মত বলে আমি তার দুঃখ বুঝলাম অন্তর দিয়ে। সেই ছোট বেলাতেই আমার হাতের লেখাছিল খুব সুন্দর। আমি গোটা গোটা অক্ষরে
তার খাতায় লিখলাম-"তুমিও ন্যাড়া, আমিও ন্যাড়া, তোমারো দাঁত নেই, আমারো দাঁত নেই, আই লাভ উ" (আমি লাভ'উ বলতে শিখেছিলাম-বুবু'র কাছে, বুবু সব সময় আমকে আদর করে বলতেন-"রাগ করেনা হিমু, আই লাভ'উ")।
আমার হাতের লেখা সুন্দর তাই কুমকুম আমার লেখাটা ওর মা সহ বাড়ীর সবাইকে দেখালো। আমার বেয়াইন-রা আর একটা ইস্যু পেল আমাকে জ্বালানর জন্য। সবাই বল্লো-"ও মা, এই ন্যাড়া পোলার মনের মদ্ধে এত চালাকী! এই বয়ষেই 'আই লাভ উ'! শালা ইছড়ে পাকা"! আমি বুঝতে পারলাম "ইছড়ে পাকা" কথাটা ভাল নয়। আমি দৌড়ে গিয়ে বুবুর কাছে জানতে চাইলাম-বুবু, "ইছড়ে পাকা" মানে কি"? বুবু শুধু আমাকে বল্লেন-"ওদের কাছে যেওনা ভাইয়া"।
আমি যদি ওই কান্ডটা বরতমান জামানায় করতাম তাহলে আমার বেয়াইনরা নিশচই বলতেন-"শালা শুধু ইছড়ে পাকাই নয়-একদম ক্যামিকেল দিয়ে পাকানো"!

এখন পরেছি আর এক ঝামেলায়! সব বেয়াইনরা আমাকে দেখে বলে-"ন্যড়া বেল, আই লাভ'উ"! "ফোক্লা দাঁত আই লাভ'উ"-আসো আমরা বিয়ে করি"!! আমি সবাইকে বলি-"আমি তোমাদের কাউকে বিয়ে করবোনা, তোমরা আমার সাথে দুস্টামী কর, আমার মাথায় টোকা দাও"! কুমকুম-এর মা আমাকে ডেকে তাঁর কোলে বসালেন। আমার কপালে চুমু দিয়ে বল্লেন-"হিমু, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে"? আমি প্রস্তাব প্রত্তাক্ষান করায় জান্তে চাইলেন-'কেন বিয়ে করবা না, আমি কি দেখতে পছা'? আমি বল্লাম-"তুমি দেখতে ভাল, বুবুর মতো সুন্দর- কিন্ত 'বড়ো' তাই তোমাকে বিয়ে করবোনা"। আমার একথা শুনে সবাই হাসে! কুমকুম-র মা আমাকে খুব আদর করেন-তাই আমি তার সাথেই বেশী থাকি...।

দেখতে দেখতে দিন চলে যায়। আমি বুবুর সাথে আমাদের বাড়ী চলে আসি। কুমকুম চলে যায় ওদের বাড়ী। কুমকুম-কে আমার আর আই লাভ উ বলা হয়নি। কুমকুম কেও আর আমি দেখিনি। আমার বুবুর বিয়ের ২ বছরের মাথায় সন্তানের মা হতে গিয়ে বুবুও আমার মায়ের পথ অনুসরন করেন....বুবু তোমাকে আমি খুব মিস করি...!!

৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×