somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম বিশ্বাসঃ

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধর্ম বিশ্বাসঃ

ইদানীং ব্লগে কতিপয় ব্লগার ধর্ম নিয়ে নানান মন্তব্য করে অহেতুক একটা অসস্তিকর পরিবেশ সৃস্টির অপচেস্টা করছেন-যাহা নিতান্তই বালক সুলভ একটা দৃস্টি আকরষনের অপচেস্টা! এদের একমাত্র টার্গেট হলো ইসলাম ধর্ম! অন্য কোন ধর্মের ধর্মীয় গোড়ামীতে তাদের কোন প্রকার উস্মা নেই। ওই সব ব্লগারগন দু'এক খানা লাল চটি বই পড়ে নিজেদেরকে "কমরেড" ভাবেন এবং মহা বিদ্যান মনে করে ফুটপাথে হাটেন। বিকেল বেলা ৪/৫ জনে মিলে এক কাপ রং চা ভাগ করে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন! এদের পেটে "কুযুক্তি"র অভাব নেই।

আল্লাহ আছেন কি নেই-সেটা প্রধান্য নয় অনেকের কাছে। আল্লাহ আছেন-এই সত্য যারা ভুলে যান-তাদের জন্যও আল্লাহ আছেন। কে মনে রাখলো কে মনে রাখলোনা-তাতে আল্লাহর কিছুই যায় আসেনা। কিন্তু মাঝে মধ্যে আল্লাহকে বরই প্রয়োযন হয়-সেই সব নাস্তিকেরও। কর্ম যখোন প্রবল হয়ে ওঠে, চারিদিক ঢেকে দ্যায় সকল নান্দনিকতা, অসম্ভবের গর্জন শোনা যায় চারিদিকে-তখোন সৃস্টিকর্তার করুনাধারার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে "অতি মানবীয়, অতি আধুনিক শিক্ষিত" মানুষগুলি! মানুষ যখোন অহমিকার চুড়ান্ত পর্যায় পৌছে যায়, কামনা-বাসনায় অন্ধ হয়ে যায়-তখোনি ঘটে বিপর্যয়!কিছু দিন পুর্বে রামকৃশনো রোডের একজন নাস্তিক ভবঘুরে রাজনৈতিক যখন মারা যায়, তখন তার জানাজা পড়াতে অস্বীকার করেছিলেন স্থানীয় মুছুল্লীরা। তখন তার বৌ, মেয়ে অনেক কান্নাকাটি করে "আস্তিক মুসলমান" হয়ে গিয়েছিল! তা নাকরলে সেই মৃত নাস্তিক রাজনীতিবিদের লাশ শকুন কুকুরে খেতো!

আসলে আল্লাহ কি "মহা দুঃখ", নাকি "মহা সুখ"? মানুষের মনে যখোন আনন্দ খেলা করে-তাও আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়, আবার দুঃখ-শোক-সেও আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়। তাহলে কি আল্লাহই শোক, দুঃখ, কান্না, জ্বরা-ব্যাধি? তবে কি আল্লাই সুখ-শান্তি, হাঁসি-কান্না আনন্দ এইসব? এধরনের কুযুক্তিতে ওরা খুবই ভালো তার্কিক! এদের সব কিছুই ভরং! তারা কিন্তু আসলে নাস্তিক নয়। বরং অনেকের চাইতেই ভালো আস্তিক। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে অনেক জন "কমরেড" কে চিনি, জানি। এরা রাতে ঘুমোনোর সময় ১ বার আলহামদু ৩ বার কুল্লহুয়াল্লাহ সুরা আঊরিয়ে ঘুমায়-যাতে আজ্রাইল ঘুমের ভিতর ওদেরকে "কাঁথা পারানী" (এক ধরনের মাইর, কাঁথা গায়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় কাঁথায় পেঁচিয়ে পা দিয়ে পারানোর নাম কাঁথা পারানী) না দেয়! আবার দিনের বেলায় এরাই হয় সব চাইতে বড় নাস্তিক। কারন আজকাল "নাসতিকতা" একটা আধুনিকতা, একটা ফ্যাশন(?)।আমি লক্ষ্য করে দেখেছি-এই সব "ফালতু"-গুলো এসেছে নিতান্তই গ্রামের ভুষি-মুদী দোকানী পরিবার থেকে।যাদের পরিবারের পরিচিতি "গো-মুর্খ..."! এদের পোলাপান শহরে এসে হঠাত বিপ্লবী হয়ে যায়। নিজের বিদ্যার দৌড় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই টাইন্না টুইন্না ইন্টারমিডিয়েট। ২/১ জন শিক্ষিত লোকও খারাপ হয়ে যায়-তারা হলো "গোবরে পদ্ম ফুল" এর ঠিক বিপরীত।

আমি মনে করি এধরনের আলোচনা অনভিপ্রেত। আমি বিশ্বাস করি আমার নিজ ধর্মে। কোন কিছুতেই আমার এই বিশ্বাসে চীড় ধরাতে পারবেনা। আমি এই বিশ্বাস অর্জন করেছি। তাই এই বিশ্বাস ধারন করি অন্তরে, লালন করি, সাধ্যমত পালন করতে চেস্টা করি জীবনের প্রতিটি স্তরে। সেই সঙ্গে সম্মান করি পরমতে।ধর্ম নিয়ে কার কি বিশ্বাস, কি চিন্তা ভাবনা-তা শেয়ার করা নিতান্তই ব্যাক্তিগত বিশয় বলেই মনে করি।যে বা যারা ধর্মে বিশ্বাস করে-তারা কখোনোই নিজেকে প্রকাশ করতে ব্যাতিব্যাস্ত নয়-যেমনটা ব্যাস্ত নাস্তিকেরা।

আমি মনে করি শুধু মাত্র নিজের জন্ম রহস্য নিয়ে যদি মন খুলে গভীর ভাবে চিন্তা করি-তাহলেই সৃস্টি কর্তা সম্পর্কে উপলব্ধি করা যেতে পারে। কেউ কেউ ডারউনবাদে বিশ্বাসী। কেউবা তাও নয়! ডারউইনবাদীদের ধারনা বিভিন্ন বিবর্তনের মাধ্যমে মানব্জাতীর জন্ম। তাদের ধারনা-"বানর" মানব্জাতীর পুর্ব পুরুষ ছিল। কারন নাস্তিকদের বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষের আচার আচরনের সাথে বানরের অনেক মিল খুজে পায়। তাদের কাছে প্রশ্ন-যদি বিবর্তনের মাধ্যমেই বানর থেকে মানুষের জন্ম হয়ে থাকে-তাহলে এখোন পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো একটা চিড়িয়াখানার একটা বানরও মানুষ হলোনা কেনো? তাদের নিজেরদের অথবা তাদের পুর্ব পুরুষের একটা লেজ খসে পড়ে মানুষ কিম্বা নতুন করে তার চৌদ্দ পুরুষের একটা লেজ লম্বা হয়ে জন্ম নিয়ে বানর হচ্ছেনা কেনো? এই অতি শিক্ষিত বান্দরের বংশধরেরা একবারো চিন্তা করেনা- সেই বিশ্বাসীদের পুর্ব পুরুষ বানরদেরে কে সৃস্টি করেছিল?

সত্যি কথা বলতে কি-আমার মত স্বল্প জ্ঞানের মানুষ এই সব বিশাল বিশাল বিশয় নিয়ে চিন্তা করে সময় নস্ট করতে চায়না। আমি চাই সৎ ভাবে জীবন ধারন করে নিজে বেচে থাকতে, সম্ভব মত অন্যের জন্য কিছু করতে। আমি কারো জন্য কোন উপকার নাকরতে পারলেও যেনো আমার দ্বারা অন্য কেউ ধর্মীয় ভাবে, শারিরিক, মানষিক, চিন্তায়, চেতনায় কোন ভাবেই যেনো ক্ষতিগ্রস্ত নাহয়-এটাই মানব ধর্ম। সেই ধর্ম হতে পারে ইসলাম, হতে পারে বৌদ্ধ, হিন্দু কিম্বা অন্য কোন ধর্ম।সব ধর্মেরই উদ্দ্যেশ্য মানব কল্যান। কাজেই ফাজিলুর রহমান ফাজিল'দের ওই সব ফালতু লেখায় চোখ-কান না দেয়াই উত্তম। মজার ব্যাপার হলো-এই নাস্তিক ফাজিলুর রহমান সাংবাদিকতার নামে সাংঘাতিক ভাবে মহাজাতকের মতো টাউট বাটপারদের দালালী কাম পৃস্টহপোশকতা করে সাধারন মানুষ ঠকাচ্ছে অত্যন্ত নির্লজ্জের মত!

এই সব তথাকথিত ফ্যাশনিস্ট শুধু মাত্র "ইসলাম ধর্ম বিদ্দ্যেশী" অবতারদের কোন মুসলিম লেখকের রেফারেন্স বই পড়তে বল্লেও ভুল করা হবে। তাদের জন্য নাসা'র সদ্য-প্রাক্তন প্রধান মহাকাশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস কলিন্স এর "ল্যাঙ্গুয়েজ অফ গড" কিম্বা নিদেন পক্ষে মরিস বুকাইলীর "কোরান-বাইবেল-বিজ্ঞান" এর বাংলা অনুবাদ পড়ার জন্য অনুরোধ করা গেলো।


৪৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×