আমার ঈদঃ-(২য় কিস্তি)
আমরা সিডর দুর্গত অন্য একটা গ্রামে সাহায্য বিতরণের সিদ্ধান্ত নিলাম। যে গ্রামের নাম-চালিতাবুনিয়া। বরগুনা জেলার বামনা থানাধীন খুব বেশী অনুন্যত একটা গ্রাম। শতাধিক দুর্গত পরিবারের মাঝে আমরা ত্রাণ বিতরণ করার মত রশদ নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওখানে গিয়ে দেখি শত শত নয়-হাজার হাজার ক্ষুধার্ত মানুষের মলিন মুখ! বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছুটে আসছে নিরন্য মানুষের ঢল! আসছে এলাকার স্থানীয় মামলাবাজ, ইলেকশনবাজ নেতারাও! তারা ভেবেছে-আমি ইলেকশন করার মতলবে সাহায্য দিতে এসেছি! এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ ছুটে এসেছে-আমরা সরকারী লোক মনে করে! তারা আমাদেরকে বুঝানোর চেস্টা করছে-তাদের কাছে ত্রান সামগ্রী দিয়ে যেতে-তারা প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে ত্রান পৌছে দিবে! তাদের কথায় কান না দিয়ে আমরা সরাসরি স্থানীয়দের যথা সাধ্য সাহায্য করলাম। আমরা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মোটেই পাত্তা দিচ্ছিনা দেখে গ্রামবাসী খুব খুশী! আমার জীবনে আমি অনেক কস্টের মুখ দেখেছি, সেই সঙ্গে দেখেছি অনেক হাসি মুখও। কিন্তু সাহায্য পেয়ে একসাথে অনেকগুলো এমন অমলিন হাসি মুখ আমি অন্য কোথাও দেখিনি! যাদের ঈদের দিন না খেয়ে থাকার কথা ছিলো-সেই তাদের মুখে আমি এক বেলা খাবার, কিছু কাপড় দিতে পেরেছি বলে আমার জীবনের অনেক কস্ট ধুয়ে মুছে গিয়েছে!
চালতাবুনিয়া প্রাইমারী স্কুলের মাঠে কিছুটা উতসবের আমেজ। জান্তে পারলাম ঈদ উপলক্ষে আজ এবং কাল এই মাঠে একটা খেলা হবে। খেলা দেখার জন্য কর্মহীন বেকার মানুষের অনেক ভীড়। আমাদেরকে স্কুলের হেড মাস্টার এবং এলাকাবাসী খেলা দেখে যাবার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ করলো। আমি জানতে চাইলাম-কি খেলা খেলবে? ওরা জানালো "কেরুকেট"। "কেরুকেট" নামটা শুনেই আমরা "কেরুকেট" খেলা দেখার জন্য বিকেল পর্যন্ত থেকে যেতে রাজী হলাম।
আমাদের সাথে নেয়া আমাদের জন্য খাবার (যারা রোজা ছিলোনা, আমি, আমার ছোট ছেলে এবং ঢাকা আগত ছেলের বন্ধুরা কেঊ রোজা ছিলোনা)দুপুর বেলা গ্রামবাসীর সাথে শেয়ার করে খেয়ে নিলো। বৃস্টি থেমেছে। চিক চিক সোনালী রোদের গ্রামটা যেনো হাসছে! বিকেল গড়িয়ে আসছে। আমাদের আসার খবরে এখোনো অনেক দুরের গ্রাম থেকে বাচ্চারা দৌড়ে গাড়ীর কাছে আসছে। আমি বরাবরই বাচ্চাদের খুব লাইক করি। আমার সাথে থাকা এক টিন চকোলেট থেকে ওদের ভাগ করে দেই............। ওদের সাথে গল্প করতে, মজা করতে আমার ভালো লাগে।
বেলা তিনটায় শুরু হবে "কেরুকেট" খেলা। আমরা অপেক্ষায় আছি। আমরা এখোনো আন্দাজ করতে পারছিনা-"কেরুকেট" খেলাটা কেমন হবে! বেলা তিনটা বাজার পুর্বেই দুই দলের ১১ জন করে খেলোয়ারদের নাম-আমাদের দিয়ে দিলেন স্থানীয় উঠতি মাস্তান টাইপের কয়েকজন। চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও আছেন আমাদের সাথে। আমরা এখোন এখানকার ছেলে বুড়ো সকলের খুব প্রিয় পাত্র............
আগামী দিন "কেরুকেট" খেলা বিশয় পড়ুনঃ
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



