এতোদিন শুনতাম মানুষের দ্বিখণ্ডিত লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু দ্বিখণ্ডিত মানুষ! সে আবার কী?
আমার উনি! গতকাল এক চিরসত্যের মুখে দাঁড় করালেন আমাকে। নিজের কৈফিয়তে নিজেই বললেন উনি আসলে মানসিক রোগী নয় বরং সে দ্বিখণ্ডিত স্বত্তার একজন মানুষ। তাই তার কখনও আমাকে ভীষণ ভালো লাগে আর কখনও ভীষণ বিরক্ত লাগে। আমি চলে গেলে তার খুব খারাপ লাগে, আবার থাকলেও বিরক্ত লাগে। সে তার এই দ্বৈতসত্তা থেকে মুক্তি চায়।
সে চায় আমাকে শুধুই ভালোবাসতে, সে চায় আমাকে আর কখনও মারবে না, কিন্তু মাঝে মাঝে তার এও মনে হয় যে আমাকে মেরে ফেলতে পারলেই তার যতো সুখ।
সত্যিই কি আমার ও পাগল হয়ে গেছে?
কিন্তু ও অনেক জটিল জটিল জ্ঞানী কথা আমাকে শোনালো। ও স্বীকার করলো ও খুব সংকীর্ণমনা, কিন্তু মাঝে মাঝে ও অনেক উদার। ও কৃপণ অথচ খরচেও হাতপাকা। মানুষের জন্য খরচ করতে পারলে খুব ভালো লাগে। সস্তা মহত্ত কিনতে সবাই ভালোবাসে। ও তা চায় না। ও কারও জন্য কিছু করলে সেটা লুকিয়ে রাখতে চায়, আবার সেটা কেউ জানলেও নাকি খুব সুখ সুখ লাগে। ওর ডায়রি পড়লে ওর খারাপ লাগে অথচ কেউ পড়ুক এটাও সে চায়।
অফিসে সবাই মিলে ইফতারী করে চাঁদা দিয়ে, অনেক গেস্ট থাকে বলে ওর খারাপ লাগে অথচ সে কাউকে ডেকে আচ্ছারকম খাওয়াতে পারলে সুখ পায়। কেন এমন হয়?
তবেকি আসলেই দ্বিখণ্ডিত মানুষ সে। যার অর্ধেকটা মানুষ আর অর্ধেকটা পশু বা খারাপ মানুষ?
আমি ওকে পূর্ণ মানুষরূপে দেখতে চাই।
ও বলে তা নাকি সম্ভব না। আমাদের চারপাশ নাকি স্বার্থপরতার দেয়াল দিয়ে ঘেরা। সবাই কেবল জিততে চায়, ঠগতে চায় না কেউ ঠকাতে চায়।
সে নিজেও মুক্ত চায়, মরে যেতে চায়, কায়মনোবাক্যে প্রভূর কাছে সেই প্রার্থনাও জানায়। আবার মরে গেলেও নাকি তার কষ্ট।...
আমি যে এখন কী করি!
সে আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে চায়। ঈদ সে ঢাকাতে একা করবে। এটাও নিশ্চই তার সিদ্ধান্ত নয়, তার ভেতরের আরেকটা অস্তিত্বের। ঈদের ২য় ৩য় দিনে ঘুরতে বেরুবে বলে গাড়ি অর্ডার দিয়েরেখেছে। জানি না কী হবে। হয়ত দেখা যাবে রেডি হবার পর বলবে নাহ তোমাকে আর নেওয়া যাবে না। তোমার গায়ে কোনও গহনা নাই। এ অবস্থায় কেউ দেখলে আমার মানইজ্জত থাকবে না। অতপর শুরু হবে আমার মা বাবাকে গালিগালাজ করে পুরো যাত্রাই বাতিল করবে।
একটুপর হয়ত রিকশা নিয়ে বেরুবে, ফুচকা খাবে। ফিরে আসবে খুশি মনে। আমিতো তাকে চিনি না, তার এতো কাছের হয়েও তাকে আমার এতো অচেনা লাগে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



