আজকে আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কোন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যাক্তি সে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিবেন। তিনি হলেন বারাক ওবামা । উনি হবেন ৪৪ তম প্রেসিডেন্ট। সেই গত বছর থেকে স্ব-দলীয় হিলারী ক্লিনন্টন কে পিছনে ফেলে ডেমোক্রেট দল হতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার টিকেট লাভ করে প্রবল প্রতিদ্বন্দী জন ম্যাককেইন কে নির্বাচনে বড় পার্থক্যে (ইলেক্টোরাল ভোটে) পরাজিত করে প্রেসেডেন্ট হওয়া আর মহাসাগর সাতরে পার হওয়া সমান কথা। সে যাই হৌক গত বছর ২০০৮ এর জুলাই-আগষ্টে বারাক ওবামা বলেছিলেন যে পূর্ব জেরুজালেম শহড় নিয়েই ইসরাইল রাষ্ট্র হবে। যা ১৯৬৭ সালের পূর্বে ছিলনা। তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রই যূগপোৎ চান কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দ্বাবী অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনে রাখতে চান না। বিষয় টি আমাকেও অত্যন্ত ব্যাথিত করে। তা এ কারণে আরব লীগ এবং এর প্রেসিডেন্ট আমার মুসা বলেছেন যদি ইসরাইল ১৯৬৭ সালের পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় তো সমগ্র আরব দেশ ইসরাইল কে স্বীকৃতি সহ তাকে নিরাপত্তা দিবে এবং ভাল প্রতিবেশীর মত অচরণ করবে। তাই সিদ্ধান্ত নেই বারাক ওবামা কে অনুরোধ করবো যে তিনি যেন ইসরাইলের স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার বিনিময়ে ইসরাইল কে ১৯৬৭ সালের পুর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। তো তার নির্বাচনী অফিসিয়াল ওয়েব সাইটের মাধ্যমে ২৪শে আগষ্ট ২০০৮ তাকে আমার অনুরোধ জানাই। তো জবাবে উনি কি বললেন একটু দেখি;
From:
To:
Inbox (7222)
Drafts (12)
Sent
[ ] Spam (70) Empty
[ ] Trash Empty
Search Shortcuts
My Photos
My Attachments
ADVERTISEMENT
Tuesday, August 26, 2008 2:06 AM
A response to your message to Obama for America
"Obama for America Correspondence Team"
*******@yahoo.com
Dear Friend,
Thank you for contacting me about the Israeli-Palestinian
conflict. I appreciate hearing from you on this important
issue.
I traveled to the Middle East in July of this year and in
January 2006, and I met with both Israeli and Palestinian
leaders, as well as ordinary citizens in both
communities. These visits have increased my understanding
of the challenges that confront the people who live in the
region and our diplomatic efforts there, but also my
resolve to make a difference.
The best solution to this difficult conflict is two states
living side-by-side in peace and security. I believe the
vast majority of Israelis and Palestinians support this
outcome. What is needed is a far more vigorous U.S.
diplomatic effort to help them achieve it. But the
current administration has sat on the sidelines for far
too long. As president, I would make a personal
commitment to this effort.
Israel is our closest ally in the Middle East, and we are
obligated to help ensure its security. A negotiated peace
with the Palestinians would make Israel more secure and
allow the Palestinians to achieve their goal of an
independent state. We should be doing more to strengthen
Palestinian leaders who support a two-state solution,
isolate those who seek Israel's destruction, and help the
two sides reach negotiated solutions to all outstanding
issues.
An agreement that fulfills the legitimate aspirations of
both the Israeli and the Palestinian peoples is the only
path to peace, and I will continue to work toward this
end. Thank you again for the opportunity to share my
thoughts with you on this issue.
Sincerely,
Barack Obama
স্পষ্টতই পূর্ব জেরুজালেম বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই তবে বুশ জুনয়িরের প্রশাসন ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে যে অবহেলা গত ৮ বছর করেছিল তিনি তা করবেন না। আর বর্তমান হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যেও তিনি আবারও বললেন যে পূর্ব জেরুজালেম অবশ্যই ইসরাইলের মধ্যে থাকবে। তাই উনার পত্রে উল্লেখিত যে ইসরাইল মার্কিনিদের ঘনিষ্ঠ মিত্র সেটাই উনার কাছে মূখ্য। ১৯৯৩ সালে তার দলীয় লোক বিল ক্লিন্টন যে উদ্যোগ নিয়ে রবিন ও আরাফাতের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি করিয়ছিলেন তা আদৌ সত্যিকার অর্থে আলোর মুখ দেখবে কিনা তা অনিশ্চিত রয়ে গেল। প্রশ্ন হল ওবামা যে পরিবর্তন চান তা কি শুধু আমেরিকার জন্য নাকি সারা বিশ্বও এর কিছুটা হলেও সুফল পাবে। অন্তত আর কোন যুদ্ধ নয় এমন কোন ভরসা থাকলে পৃথিবীর মানুষ অনেকটাই হাফ ছেড়ে বাচে। কারণ যুদ্ধ মানেই গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে কু-প্রভাব যা বাংলাদেশ সহ তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ মানুষ র্দূভোগের শিকার হয়। ঠিক যেমন ২০০১ সালের ৯/১১ এর পূর্বে বিশ্ব ব্যাপী জ্বালানি তেলের ব্যারেল প্রতি মূ্ল্য ছিল ১৮-২২ ডলার যা পরবর্তিতে সর্বচ্চো দাম ১৫০ ডলার হয়। কিন্তু এগুলোর একটি সীমা আছে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দ্রব্যের দাম এমন ভাবে বেড়ে যায় যে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে মহামন্দায় পতিত। বর্তমানে এই তেলের দাম ৫০ ডলারের নীচে নামালেও বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা কাটছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদগণ আশংকা করছেন যে এ বছর ২০০৯ এর মার্চ মাসের পর দেশ বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার খানিকটা ধাক্কা লাগবে। যা বাংলাদেশের রপ্তানী ক্ষেত্র কে বাঁধা গ্রস্থ করতে পারে। ১৯৩০ সালের আমেরিকার অর্থনীতির মহামন্দার সময় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধই ঐ মহামন্দাকে কাটিয়ে উঠায়। স্পষ্টতই ইউরোপে মহা ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়ে এর অর্থনীতি কে প্রায় ধ্বংস করা হয় ফলে মার্কিন অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হয়ে উঠে। কিন্তু বিগত (১৯৯০ পরবর্তী) স্নায়ু যুদ্ধ যূগের অবসান হওয়ার পর আমেরিকার অর্থনীতি আবার ক্রমে মন্দার মধ্যে পড়া শুরু করে এবং ইউরোপ বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি চাঙ্গা হতে শুরু করে। নতুন অভিন্ন মুদ্রা ইউরো ডলারের আধিপত্য কে ভালভাবেই চ্যালেঞ্জ করে। ফলে সোনা, ষ্টীল সহ বিভিন্ন দ্রব্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আর ওপেকের অনেক দেশ তেলের মূল্য ইউরোর সমপরিমাণ বিনিময় হারে তেলের দাম নির্ধারণ করতে চেয়েছিল কিন্তু সৌদি আরব ও কুয়েতের বাঁধায় সেটা সম্ভব হয় নি। আর এর খেসারত দিতে হয় ইরাক ও সাদ্দাম হোসেন কে। ২০০৩ সালে ইরাক দখল, জর্জিয়া ও ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার বিরোধ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত যুদ্ধ যেকোন উপায়ে বাঁধিয়ে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সুচনাও করতে মার্কিন কর্পোরেট সদা তৎপর। কথায় বলে হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না। এই বিষয়ে বিবেচনায় আনলে বুশ জুনিয়রের বিদায় হলেও আমেরিকার কর্পোরেটের সাম্রাজ্যবাদী নীতির খুব একটা হেরফের হবে না এবং পররাষ্ট্র নীতির তেমন কোন পরিবর্তন ঘটবে না। অর্থাৎ সংঘাত, যুদ্ধ ও অশান্তির আশংকা পৃথিবীতে থেকেই যাচ্ছে। বারাক ওবামা ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলে আমেরিকার নতুন ইমেজ তৈরীর কথা তথা আমেরিকাকে বিশ্বের মানুষ যেন আবারও শ্রদ্ধার ও সম্মানের চোখে দেখে সে প্রচেষ্টা তিনি করবেন। এও বলেছেন আমেরিকা আবারও তার অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে বাঁচবে। তাই অতীতের বিবেচনায় এটা আশংকার ব্যাপার যে ওবামা শান্তির স্বপক্ষে হওয়া সত্ত্বেও কর্পোরেটের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে তিনি কতটা সফল হবেন তা ভবিষ্যতই বলে দেবে। ১৯৬৩ সালে জন. এফ কেনেডী ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন বলেই তাকে আতাতয়ীর হাতে নিহত তো হতেই হয় এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ভাগ্যেও একই রকম বিপর্যয় নেমে আসে। তারপরেও আমি আশাবাদী যে বারাক ওবামা যেন শান্তির প্রচেষ্টায় সফল হন। আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ যেন বিশ্ব কে যুদ্ধ, সংঘাত, অশান্তি মূক্ত করেন যাতে বিশ্বের সকল শান্তিকামী মানুষ ঐক্য গড়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারে সেই দোয়া করি। আমিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



