আমার প্রিয় পোস্ট

আমি চাই শক্তিশালী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ

যুক্ত বাংলা পরিকল্পনা ও বাংলার বিভক্তিঃ জিন্নাহ-নেহরুর ভূমিকা

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৫৭

শেয়ারঃ
0 0 0

পন্ডিত জহর লাল নেহেরু সহ সেই সময়কার উগ্র হিন্দু সামপ্রদায়িক কিছূ ব্যাক্তি ও দলের জন্যেই যে অখন্ড বাংলা স্বাধীন হতে পারেনি নিম্নের আর্টিকেল তা প্রমাণ করে। এমন একটি তথ্য বহুল রচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যারিষ্টার সালাহউদ্দীন আহমদ সাহেব কে অনেক ধন্যবাদ। পাঠক দের পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।

দৈনিক নয়াদিগন্ত ৮ই অক্টোবর ২০০৭ইং

Click This Link



লেখকঃ ব্যা রি স্টা র সা লা হ উ দদী ন আ হ ম দ

ভারত বিভাগের অব্যবহিত পূর্বে ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের পক্ষে সোহরাওয়ার্দী জয়লাভ না করলে জিন্নাহ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হতে পারতেন না। কিন্তু জিন্নাহ যখন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হন, ঠিক ওই একই সময়ে সোহরাওয়ার্দীও এক স্বাধীন যুক্ত বাংলার প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন। জিন্নাহ যুক্ত বাংলা পরিকল্পনা বাংলার মুসলমানদের জন্য মঙ্গলকর হবে মনে করে এর সমর্থন করেন। ১৯৪৭ সালের ২৬ এপ্রিল জিন্নাহর সাথে এক আলাপ-আলোচনায় লর্ড মাউন্টবেটেন তাকে জানান, সোহরাওয়ার্দী ‘মনে করেন যে তার পক্ষে যুক্ত বাংলাকে ধরে রাখতে সম্ভব হবে, যদি এটি পাকিস্তান অথবা হিন্দুস্তান কোনোটাতেই যোগদান না করে।’ ‘টপ সিক্রেট’ এই আলাপ-আলোচনা এভাবে লিপিবদ্ধ হয়ঃ ‘আমি মি. জিন্নাহকে সোজাসুজি জিজ্ঞেস করলাম পাকিস্তানের বহিভূêত থেকে যুক্ত বাংলার অবস্থান সম্পর্কে তার কী অভিমত?’ কোনো দ্বিধা না করে তিনি বললেনঃ ‘আমি আনন্দিত হব। কলকাতা ব্যতীত বাংলার কী মর্যাদা রয়েছে? তাদের (বাঙালিদের) পক্ষে যুক্ত থাকা এবং স্বাধীন থাকাই ভালো হবে। আমি এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ যে এরা আমাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখবে।’ আমি তখন বললাম, সোহরাওয়ার্দী বলেছেন­ যদি বাংলা যুক্ত এবং স্বাধীন থাকে তাহলে বাংলা কমনওয়েলথের অন্তর্ভুক্ত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করবে। জিন্নাহ উত্তরে বলেনঃ ‘সেটাই তো ঠিক, যেমন আমি আপনার কাছে প্রকাশ করেছি, পাকিস্তান কমনওয়েলথের অন্তর্ভুক্ত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করবে।’ (মাউন্টবেটেন পেপারস, লর্ড মাউন্টবেটেন ও জিন্নাহর মধ্যে ১৯৪৭ সালের ২৬ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ইন্টারভিউয়ের রেকর্ড, Nicholas Mansergh, The Transfer of Power, 1942-47, vol. X, পৃঃ ৪৫২-৪৫৩ দ্রঃ)

১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিলে লর্ড মাউন্টবেটেন নিশ্চিত হন, জিন্নাহ যুক্ত বাংলা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। ওই তারিখে বাংলার গভর্নর বারোসের কাছে এক টেলিগ্রামে তিনি বলেনঃ ‘এটা ভুলবেন না যে আমার প্ল্যানে পাকিস্তান অথবা হিন্দুস্তানের অংশ নয় এমন একটি যুক্ত অথচ স্বাধীন বাংলার পথ খোলা রেখেছে। জিন্নাহ এই প্ল্যানের কোনো বিরোধিতা করবে না।’ (‘টপ সিক্রেট’, Mansergh, vol. X,পৃঃ ৪৭২ দ্রঃ) মে মাসে অনুষ্ঠিত ভাইসরয়’স মিটিংয়ে ‘ভাইসরয় বলেন ... মি. জিন্নাহ পাকিস্তান থেকে পৃথক একটি স্বাধীন বাংলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেন।’ (মাউন্টবেটেন পেপারস, ১৯৪৭ সালের ১ মে, Mansergh, vol. X,পৃঃ ৫১২ দ্রঃ) এমনকি ১৯৪৭ সালের মে মাসের প্রথম দিকে একটি স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য জিন্নাহর সম্মতি সম্পর্কে সোহরাওয়ার্দী নিঃসংশয় ছিলেন। ১৯৪৭ সালের ৭ মে ‘টপ সিক্রেট’ মাউন্টবেটেন পেপারসে উল্লেখ রয়েছেঃ ‘মি. সোহরাওয়ার্দী তাকে (গভর্নর বারোসকে) বলেন, মি. জিন্নাহ বলেছেন যে তিনি একটি স্বাধীন বাংলার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে রাজি হবেন।’ Mansergh, vol. X,পৃঃ ৬৫৭ দ্রঃ)
এসব বিষয় পর্যালোচনা করে গ্রন্থকার স্ট্যানলি ওয়ালপার্ট মন্তব্য করেন, ‘জিন্নাহ একটি স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠাকল্পে আগ্রহসহকারে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি ছিলেন। কিন্তু নেহরু ও প্যাটেল এই পরিকল্পনাকে কংগ্রেস এবং ভারতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিসম্পাত বলে মনে করেন এবং ভয় করেন যে মুসলিম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি যুক্ত ‘বাংলাদেশ’ ভারতের চেয়ে পাকিস্তানের সাথে নিবিড়তর সম্পর্ক স্থাপন করবে।’ (জিন্নাহ অব পাকিস্তান, পৃঃ ৩২০) শীলা সেন তার গ্রন্থে প্রায় একই ধরনের মত প্রকাশ করেনঃ ‘জিন্নাহ এই [যুক্ত বাংলার] পরিকল্পনার বিরুদ্ধাচরণ করেননি। কিন্তু কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ প্রথম থেকেই এর সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে ছিলেন।’ ‘প্যাটেল ও নেহরুর বিরোধিতা ছিল জেদে পূর্ণ।’ (মুসলিম পলিটিকস ইন বেঙ্গল, পৃঃ ২৪৩) ‘বাংলার কংগ্রেস নেতাদের কাছে লিখিত বেশ কিছু পত্রে প্যাটেল এই পরিকল্পনাকে নিন্দা করেন। (পৃঃ ১৩০)

জিন্নাহ জানতেন যে বাঙালি হিন্দুরা মন-প্রাণ দিয়ে যুক্ত বাংলার সমর্থন করে না। ১৯৪৭ সালের ১৭ মে জিন্নাহ বলেন, ‘দাবি-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার বেশির ভাগ হিন্দু বাংলার বিভক্তি চায়।’ Mansergh, vol. X, পৃঃ ৮৫২ দ্রঃ) ১৯৪৭ সালে জিন্নাহ বাংলায় রেফারেনডাম করার প্রস্তাব করলে ব্রিটিশ কেবিনেট ২০ মে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। Mansergh, vol. X, পৃঃ ৯২১-৯২২ দ্রঃ) ১৯৪৭ সালের ২৮ মে লর্ড মাউন্টবেটন লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ কেবিনেট মিটিংকে অবহিত করেন, জিন্নাহ তাকে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, তার পক্ষে বাংলার বিভক্তি মেনে নেয়া সম্ভব হবে না। Mansergh, vol. X, পৃঃ ১০১৪)
পক্ষান্তরে হিন্দু মহাসভা যুক্ত বাংলা সম্পর্কে প্রথম থেকেই একটি নেতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করে। নিখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্ট শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি যুক্ত বাংলা পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে ছিলেন এবং ভাইসরয় লর্ড মাউন্টবেটনের কাছে তিনি একটি তীব্র প্রতিবাদ পাঠান। ২ মে তারিখে লিখিত একটি চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘একটি স্বাধীন অবিভক্ত বাংলা সম্বন্ধে কিছু এলোমেলো কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। এর ভাবার্থ আমাদের কাছে একেবারেই বোধগম্য নয় এবং আমরা এর সমর্থন কোনোভাবেই করি না। আমরা হিন্দুদের কাছে এই পরিকল্পনা কোনো উপকারে আসবে না।
স্বাধীন অবিভক্ত বাংলা প্রকৃতপক্ষে একটি পাকিস্তানের রূপ নেবে... আমরা কোনোভাবেই ভারতের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না।’ (মাউন্টবেটেন পেপারস Mansergh, vol. X,পৃঃ ৫৫৭ দ্রঃ) সোহরাওয়ার্দী জানতেন, কেন্দ্রীয় কংগ্রেস ছাড়াও হিন্দু মহাসভা যুক্ত বাংলা পরিকল্পনার পরম বিপক্ষে ছিল। ১৯৪৭ সালের ১৫ মে ভাইসরয়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ঝমড় ঊ. গমপংমললপ-এর কাছে এক পত্রে সোহরাওয়ার্দী লেখেন, ‘পার্টিশানের ব্যাপারে হিন্দু মহাসভা হিন্দুদের ধ্যান-ধারণাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।’ (Mansergh, vol. X, পৃঃ ৮৩০ দ্রঃ)
বাঙালি হিন্দুরা তাদের দৃষ্টিতে মনে করে, ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে একজন মুসলমান অভিষিক্ত হওয়ার পর বাংলায় রাজনৈতিক প্রাধান্য এরা চিরদিনের জন্য হারিয়েছে। বাংলার কংগ্রেস তাদের তরফ থেকে যুক্ত বাংলা সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা চালানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ভার দেয়নি অথবা কোনো সংস্থা স্থাপনা করেনি। যুক্ত বাংলা পরিকল্পনা কার্যকর না হওয়ার কারণগুলোর বিশ্লেষণ করে শীলা সেন তার গ্রন্থে বলেন, ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন বাংলা পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার’ প্রথম কারণটি হচ্ছে ‘কংগ্রেস নেতাদের পুরোপুরি বিরোধিতা’। (পৃঃ ২৪৩)
যুক্ত বাংলা পরিকল্পনাকে পুরোপুরি অকেজো করে দেয়ার জন্য বাঙালি হিন্দুরা বাংলার বিভক্তি দাবি করে। বাংলার বিভক্তি সম্পর্কে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের মিটিংয়ের আগে বাংলার কংগ্রেস এবং বাংলার হিন্দু মহাসভা বাংলার বিভক্তি দাবি করে। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলের প্রথমভাগে প্রাদেশিক হিন্দু কনফারেন্স ঘোষণা করেঃ ‘বাংলার হিন্দুদেরকে একটি শক্তিশালী জাতীয় সরকারের অধীনে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করতে হবে।’ (অমৃতবাজার পত্রিকা), ৫ এপ্রিল, ১৯৪৭) ১৩ মে সর্দার প্যাটেল বাঙালি হিন্দুদের একজন নেতা কে সি নিয়োগিকে চিঠিতে লেখেনঃ ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন বাংলার দাবি একটি ফাঁদ, যাতে এমন কি কিরণ শংকরও শরৎ বাবুর সাথে পড়ে যেতে পারেন... বাংলার হিন্দুদের বাঁচানোর একমাত্র পথ বাংলার পার্টিশনের দাবি অব্যাহত রাখা এবং অন্য কিছুতে কর্ণপাত না করা... অমুসলমানদের বাঁচাতে হলে বাংলাকে ভাগ করতেই হবে।’ (শীলা সেন, পৃঃ ২৪৪) নেহরু মনে করেন, যুক্ত বাংলা বাস্তবায়িত হলে তার দ্বারা বাঙালি মুসলমানরা বেশি উপকৃত হবে। তার নেতৃত্বাধীনে ভারতীয় কংগ্রেস এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলে যুক্ত বাংলার জন্য সোহরাওয়ার্দীর স্বপ্নের যবনিকাপাত ঘটে। বাংলার সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় বাঙালি মুসলমানরা কখনো বাংলার বিভক্তিকরণ চায়নি। পক্ষান্তরে বাংলাকে ভাগ করার দাবি সম্পর্কে বাঙালি হিন্দুদের মনোভাব অমৃতবাজার পত্রিকা (৫ এপ্রিল, ১৯৪৭ এভাবে প্রকাশ করেঃ ‘এটা শুধু পার্টিশনের প্রশ্ন নয়, এটা হিন্দুদের জীবন মরণের প্রশ্ন।’
ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রায় শেষ পর্যন্ত বাংলাকে ভাগ করার প্রশ্নে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কোনো স্থির সিদ্ধান্ত নেয়নি। অবশেষে বাংলার বিভক্তি সম্পর্কে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ১৯৪৭ সালের ১৭ মে সিদ্ধান্ত নেয়, বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদকে দু’টি অংশে মিলিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। মুসলিম সংখ্যাগুরু অধ্যুষিত জেলাগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করবে একটি অংশ এবং অপরটি করবে বাংলার অবশিষ্ট জেলাগুলো। বাংলাকে ভাগ করা হবে, কি হবে না এই মর্মে পরিষদের দু’অংশের সদস্যদের পৃথকভাবে বসে ভোট দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়। যেকোনো অংশের অধিকাংশ সদস্য যদি বাংলা বিভক্তির পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে বাংলা ভাগ হবে। (সংশোধিত খসড়া ঘোষণা, ১৭ মে, ১৯৪৭ সাল, Mansergh, vol. X,পৃঃ ৮৮৪ দ্রঃ) বাংলার পার্টিশনের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পরিষদের সদস্যরা দু’টি ভাগে মিলিত হন। উচ্চবর্ণের হিন্দু সদস্যরা পার্টিশনের পক্ষে ভোট দেন, পক্ষান্তরে মুসলিম সদস্যরা ও তফসিলি সম্প্রদায়ের অনেকে পার্টিশন বিপক্ষে ভোট দেন।
১৯৪৭ সালের ২০ জুন লর্ড মাউন্টবেটনের কাছে গভর্নর বারোস এক টেলিগ্রাম প্রেরণ করে বাংলার বিভক্তি সম্পর্কে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটের ফলাফল জানিয়ে বলেনঃ ‘অদ্য অপরাহ্নে পশ্চিম বঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্যদের পৃথক মিটিংয়ে [পার্টিশনের] পক্ষে ৫৮ ভোট এবং বিপক্ষে ২১ ভোটে সাব্যস্ত হয় যে [বঙ্গ] প্রদেশকে বিভক্ত করতে হবে... অদ্য অপরাহ্নে পূর্ব বঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্যদের পৃথক মিটিংয়ে [পার্টিশনের] বিপক্ষে ১০৬ ভোট এবং পক্ষে ৩৫ ভোটে সাব্যস্ত হয় যে [বঙ্গ] প্রদেশকে বিভক্ত না করা হয়।’ Mansergh, vol. XI,পৃঃ ৫৩৬ দ্রঃ) এভাবে বাঙালি হিন্দুদের ভোটে বাংলা দু’টি অংশে বিভক্ত হয়। একটি অংশ অর্থাৎ পশ্চিম বঙ্গ ভারতের সাথে যুক্ত হয় এবং অপর অংশটি অর্থাৎ পূর্ব বঙ্গ পাকিস্তানে যোগদান করে। ফলে যুক্ত বাংলার বাস্তবায়ন ইতিহাসে পর্যবসিত হয় এবং এ ব্যাপারে সোহরাওয়ার্দীর আপ্রাণ উদ্যম ও আকাঙ্ক্ষা স্বপ্নেই থেকে যায়। সময়ের স্রোতে পূর্ব বঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হয়।



লেখকঃ যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারেলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অতিথি অধ্যাপক।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ইতিহাসরাজনীতি ;
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:০৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:০৩
দেশী পোলা বলেছেন: হ হ, সব দোষ হিন্দুদের, জিন্নাহ হল দুধে ধোওয়া তুলসী পাতা, আর ফাকিস্তান হল শাব্বাবের বেহেস্ত

জামাতের রাষ্ট্র পরিচালনা স্ট্রাটেজি - মোকাবেলার উপায় কি?
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:১১

লেখক বলেছেন: অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ হয়? পাকিস্তান ও বাংলাদেশে যে কয়জন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য স্কলার আছে সেই তুলনায় ভারতে বেশী মুসলমানদের কয়জন স্কলার আছে জবাব দেবেন কি?

২. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:০৯
স্বদেশ হাসনাইন বলেছেন: নয়া দিগন্ত শুনলে মাইনাস লাগাহতে আরাম!
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন: হুম! নয়াদিগন্ত যতই খারাপ হউক, বিদেশী লেখক এবং তাদের লিখিত বই কি মিথ্যা বলে?

৩. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:৫৯
ধীবর বলেছেন: দাদাদের পায়ের ধোয়া 'জল" খেয়ে মগজ ধোলাই হওয়া কিছু বুড়া হাবড়া সেই সাথে তস্য চামুন্ডারা এখন ইতিহাসকেই অস্বীকার করার চেস্টা করছে। খেয়াল করে দেখেন, প্রবাসি একজন লেখকের রেফারেন্স দেয়া লেখাটির বিরোধিতা করার মুরোদ নেই বলে এরা অন্য ভাবে বিরোধিতা করছে। পারলে তথ্য দিয়ে বিরোধিতা করুক। সেটা তারা পারবে কিনা সন্দেহ।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ভাইকে অনুরোধ, এমন তথ্য সম্বিলিত ইতিহাস বেশি করে তুলে ধরতে। তাতে মিথ এবং মিথ্যার আবরন খসে পড়বে। প্লাস ।
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪

লেখক বলেছেন: ধীবর ভাই কে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। যে দেশে ডঃ জাফর ইকবালের মত জ্ঞানপাপী দালাল মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করে তখন তার চ্যালাদের কাছ থেকে ভাল কি আশা করা যায়।

৪. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:১০
দেশী পোলা বলেছেন: লেখক বলেছেন: হুম! নয়াদিগন্ত যতই খারাপ হউক, বিদেশী লেখক এবং তাদের লিখিত বই কি মিথ্যা বলে?

বিদেশী লেখক যদি ইহুদী হয়, তাহলে কি সে সত্যি কথা বলবে?

জামাতের রাষ্ট্র পরিচালনা স্ট্রাটেজি - মোকাবেলার উপায় কি?
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৩০

লেখক বলেছেন: ঢালাও ভাবে সব ইহুদীই যে খারাপ সেটা আপনাকে কে বলল? পারলে প্রমাণ করেন Nicholas Mansergh মিথ্যা লেখছে। আর ভারতের মুসলমানগণ শোচনীয় অবস্থায় তার জন্য সে দেশের সরকার দ্বায়ী এটা জানেন কি?

৫. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:০৪
বন্ধনহীন বলেছেন: ব্যারিস্টার সালাহউদদন আহমদের লেখাটা নিয়ে ভালো আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। শুধু মাত্র নয়াদিগন্ত ও "বাংলাদেশ জিন্দাবাদের" জন্য লেখাটি গুরুত্ব পায়নি।
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: যাহা সত্য শুধু তাহাই গ্রহণ কর, আর যাহা মিথ্যা তা বর্জন কর (আল হাদিস)।

৬. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৫০
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অনেক তথ্যবহুল লেখা।
কিন্তু, সে লেখকে সোর্সগুলো আসলে কতটুকু শক্তিশালী এটা চেক করে দেখার ব্যাপার আছে। নয়া দিগন্ততে ছাপাইছে বলে কথা!!!
তবে, সোর্সগুলা যদি ঠিক থাকে, তাহলে জটিল একটা ইতিহাস জানলাম, সেটা স্বীকার করতেই হয়।
১২ ই মে, ২০০৯ রাত ২:৩২

লেখক বলেছেন: সহমত এবং ধন্যবাদ।

৭. ১২ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:২৪
দিগন্ত বলেছেন: যদি হিন্দুরা বাংলার বিভক্তি চেয়েই থাকে তাহলে তারা তা পেয়েছে। সবারই খুশী হওয়া উচিত এতে। মুসলিমেরা যদি ভারত থেকে মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ দাবী করতে পারে অন্য ধর্মের লোকে সেই অংশ থেকে বাদ যাবার দাবী রাখতেই পারে। মাথায় রাখুন, পাকিস্তান দেশ গঠন হয়েছে ধর্মের নামে - ভৌগোলিক ভাবে নয়, সুতরাং অন্য ধর্মের লোকজনের তার প্রতি ভীতি থাকা স্বাভাবিক।

স্বাধীন বাংলার প্রসঙ্গে বলি - সেক্ষেত্রে ভারতের বাকি অংশগুলো থেকে আলাদা হয়ে যেতে হত। সেটাও কাম্য ছিল না। দুয়ের মধ্যে একটা বেছে নিতেই হত। আমার তো মনে হয় এখনও একটা ভোট করলে পশ্চিমবঙ্গে সবাই বলবে ভারতের সাথে থাকায় ভালই হয়েছে তাদের।
১২ ই মে, ২০০৯ রাত ২:৩৬

লেখক বলেছেন: মুসলমানগণ ধর্মের ভিত্তিতে ভারত হতে আলাদা হয়ে বরং বেশী লাভবান হয়েছে। অন্তত ভারতের মুসলমানদের চরম দূরাবস্থার উপর শেখর কমিশনের দেওয়া রিপোর্ট কিন্তু তাই বলে;

http://en.wikipedia.org/wiki/Sachar_Committee

৮. ১২ ই মে, ২০০৯ সকাল ৭:২৬
দিগন্ত বলেছেন: একইভাবে হিন্দুরাও আলাদা হয়েই ভাল আছে বলে মনে করে, তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
১২ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৮

লেখক বলেছেন: আমি বলছি ভারতীয় মুসলমানদের দূরাবস্থার কথা। যদি আমরা ১৯৪৭ সালে আলাদা না হতাম তো গোটা ভারতের মুসলমানদের অবস্থা আরো শোচনীয় হত। আশা করি বুঝাতে পেরেছি।

৯. ১২ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:১১
দিগন্ত বলেছেন: সেইটা একটা বিরাট থিয়োরির ব্যাপার। তবে ১৯৪৭ এর পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকই আছে। আমিও ভাবি পাকিস্তান যদি আমাদের দেশের অংশ হত তাহলে ওই তালিবানেরা এতদিনে আমার বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করত। ভয়ানক ব্যাপার ... :)
১৩ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:১৫

লেখক বলেছেন: বিজেপি, শিবসেনা, বজরং থাকতে তালেবান টিকবে, এটা স্রেফ আপনার আকাশ কুসুম কল্পনা! বরং অখন্ড ভারত থাকলে বাবরী মসজিদের আরো মসজিদ ভাঙা অব্যাহত থাকত, গুজরাটের মত মুসলিমদের গণহত্যা চলত, উড়িষ্যার মতন খ্রীষ্টানদের গণহত্যা চলত এবং সর্বপরি শিবসেনা প্রত্যেক মুসলমানের বাড়ীতে গণেশের মূর্তি রাখতে বাধ্য করত।

Click This Link

Click This Link

১০. ১৩ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৫
দিগন্ত বলেছেন: এককালে 1947 এর আগে অখন্ড ভারত তো ছিল, তখন এত দাঙ্গা হত তাতে শিবসেনা গণহত্যা চালিয়ে বাংলাদেশে আর তালিবানদের হত্যা করে গেছে বুঝি :) ... যাহোক আপনি আপনার শিবসেনার ভয়ে থাকেন। আমি তালিবানের ভয়ে থাকি ...
১৪ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: আমি বলেছি বর্তমানে যা হত। পূর্বে কি তালেবান ছিল সেটা কোথায় পেলেন? আর অখন্ড ভারত বর্তমানে থাকত ৭৫-৮০% হিন্দু তালেবানদের কে দমন করতে পারবে না এটা বোধ হয় একটা কিন্ডারগার্টেনের শিশুও বিশ্বাস করবে না। বরং এখানকার মুসলমান, খ্রীষ্টানদের কে হিন্দু বানিয়ে শূদ্রদের থেকেও নিম্ন শ্রেণী করে রাখত। আল্লাহর অশেষ রহমতে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ আমাদের মুসলমানদের তো বাচিয়েছেই বরং খ্রীষ্টানগণও বেচে গেছে। কি বলেন দিগন্ত বাবু?

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬১১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
I want very active debate
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই