আমি এই ব্লগ জগতে বেশী পুরনো না হলেও লেখা লেখির বয়স পুরোনোই বটে। তাও প্রায় দশ বছর। সেই ২০০০ সালের ৩০শে মার্চ দৈনিক ভোরের কাগজে লেখার শুরুর মাধ্যমে লেখার জগতে প্রবেশ। তারপর ২০০৩ সালে পরিচিত হলাম http://www.vinnomot.com যার মাধ্যমে নেট জগতের লেখার সাথে পরিচিত হই। শুরু হল ইন্টারনেটে লেখা। তারপরই দেখলাম আস্তিক-নাস্তিক বিতর্কর মাধ্যমে নতুন বাংলা সাইট http://www.shodalap.com যার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হলেন আবু সাঈদ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আমাদের অতিপরিচিত ব্লগার এস্কিমো। উনি আমার নেট জগতের দ্বিতীয় পছন্দের লেখক। ২০০৩ সালটি ছিল ৯/১১ উত্তর একটি সময় যা বিশ্বের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বদনাম, বিদ্বেষ, ঘৃণা ছড়ানোর খারাপ সময়। এর বিরুদ্ধে লেখনী নিয়ে যে কয়জন রুখে দাড়ান তার মধ্যে আবু সাঈদ জিয়া উদ্দিন প্রথম সারির লেখক। ঐ সময়ে কুৎসিত ছদ্দনাম ধারী সাঈদ কামরান মির্জা নামক চরম ইসলাম বিদ্বেষী লেখকের আবির্ভাব হয়। যাকে জিয়া ভাই তার কালজয়ী মুখোশ সিরিজের মাধ্যমে তার আসল পরিচয় উন্মোচিত করেন। এই কামরান মির্জা আর কেউ নন মার্কিন কৃষি অধিদপ্তরের কর্মরত ডঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী। বস্তুত এই কারণে জিয়া ভাইয়ের ভক্ত হয়ে যাই। তবে ভক্তি যে কিছুটা তিক্ততায় রুপ নিবে তা কখনও কল্পান করতে পারিনি। ইতিমধ্যে ২০০৬ সাল চলে আসল শুরু হল ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবীতে লেখনী। আমি বললাম যে পাকি সৈন্যদের ছেড়ে দেওয়া, প্রথমে ৩৭ হাজার মামলার ২৬ হাজার প্রত্যাহার, জিয়ার শাসনামলে বাকী ১১ হাজার সহ দালাল আইন বিলুপ্তি করলে যুদ্ধাপরাধের বিচার করা প্রায়ত অসম্ভব। তার উপর ১৯৯১-৯৬ সালে ওয়াদা করেও ১৯৯৬-২০০১ সালে আলীগের বিচার না করা। তাই আমি জোর গলায় বলেছি যে এটা হাসিনা ও তার দলের ক্ষমতায় যাওয়ার ছুতা মাত্র কারণ তারা জিন্দেগীতেও বিচার করবে না। এই নিয়ে জিয়া ভাইয়ের হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়া এবং ইমান জাগ্রত হওয়া নিয়ে পোষ্ট দিলে সদালাপে জিয়া ভাই লেখাই ছেড়ে দেন। বিশেষ করে উনার লেখা চিরকুট সিরিজ ৭১ নং হওয়ার পর আজকে প্রায় ২ বছর হতে চলল উনি আর চিরকুট তো লেখেন না অন্য লেখাও খুব কম। তো আমি উনাকে কানাডায় ফোন করে জিজ্ঞাসা করি যে ভাই কি ব্যাপার চিরকুটও লিখেন না এবং অন্য লেখাও না। জবাবে তিনি বলেন যে উনি নাকি সময়ই পান না। আমি এ নিয়ে কিছুটা চাপ দিলে উনি জানান যে "আরে ভাই এ জন্যইতো ২০০৫ সালে সদালাপ ছেড়ে দেই"। তো আমি আর এ নিয়ে কোন চাপ দেই নি। তখনও জানতাম না যে উনি মিথ্যা বলেছেন যে সময় পান না যখন তিনি সামু ব্লগে একজন দারুণ ব্যাস্ত ব্লগার। এই ফোনের ঘটনা হল ২০০৭ সালের শেষের এবং ২০০৮ সালের শুরুর দিকে। অথচ উনি ২০০৭ সালের মার্চ থেকেই সামু ব্লগে রেজিষ্টার্ড ব্লগার;
Click This Link
তবে ২০০৮ সালে উনিই সদালাপেই লিখে জানালেন যে সামু ব্লগ ও আমার ব্লগে লিখেন। যে লেখার নাম ছিল "আমার জন্মদাতা যদি হতেন ‘রাজাকার’";
Click This Link
তখনই ওয়েব সার্চ করে সামু ব্লগের অস্তিত্ব পাই। তখন নিজেকে খুব প্রতারিত মনে হল। যে সদালাপে তর্ক বিতর্কে না পেরে উঠে উনি সামুতে গেলেন অথচ বললেন যে উনি সময়ই পান না। তখন সামু ব্লগ দেখলাম যে মডারেশন চলে না। গালাগালি সহ অশ্লীল কথা। তারপরই অক্টোবর মাসে বন্ধুর মারফত খবর পাই সেপ্টেম্বরই(২০০৮) সামু কর্তৃপক্ষ ব্লগে মডারেশন চালু করেছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম যে ব্লগে রেজিষ্টার্ড হব। সে যাই হৌক রেষিষ্টার্ড হয়ে নভেম্বর(২০০৮) এ কমেন্ট ও জেনারেল ব্লগার হই। তখনও যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে ব্লগ প্রচন্ড গরম এবং উত্তাল। ২/১ টি ব্লগ পর পর শুধুই যুদ্ধাপরাধের বিচার যে এবার মহাজোট তথা আলীগ ক্ষমতায় গেলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেই করবে। মনে মনে হাসতাম কারণ যুদ্ধাপরাধের বিচার করলে ১৯৯৬-২০০১ সালেই করত। ব্লগারদের বড় তথা প্রায় ৮০% অংশই ২০-২৫ এর মধ্যে বয়স তারা ১৯৯১-৯৬ সাল দেখেনি যে কিভবে স্বৈরাচার পতন উত্তর নতুন সরকার কে মিথ্যা অজুহাতে হরতাল-অবরোধ-ভাঙচুর-জ্বালাও-পোড়াও করেছে। ভেবেছিলাম যে হাসিনা হয়ত ক্ষমতায় এসে বিচার করবে কিন্তু এর আগেই সম্ভবত ৯৫ সালে হাসিনা-নিজামীর পাশাপাশি বসে সহাস্যে সাংবাদিক সম্মেলন তখনই খটকা লাগলো প্রায় পুরো বিএনপির সময় যেখানে জামাতের সাথে আলীগের এক কথায় সাপে নেউলে সম্পর্ক সেখানে সংসদ হতে পদত্যাগের কারণেই এই দহরম মহরম। পরে ১৯৯৬-৯৯ তিন বছরে নিশ্চিত হলাম যে যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে না এবং জাহানারা ইমাম কে গণ-আদালত ১৯৯২ সালে লিখা চিঠির ওয়াদা পুরোপুরি ভঙ্গ করলেন হাসিনা। সেই আলোকেই জিয়া ভাই কে বলে আসছি যে ভাই আলীগ আবারও জাতির সাথে প্রতারণা করবে। কিন্তু উনি নাছোর বান্দা আমাকে রাজাকার সহ বিশেষ করে রাজাকারের বাচ্চা বলেছেন। যদিও বলেছেন "বাচ্চা রাজাকার" যার সঠিক উদ্দেশ্য বুঝার বয়স আমার ঠিকই আছে। জবাবে উনাকেও বাকশালী বলি। সে যাই হৌক তথাকথিত মহাজোটের মহাবিজয় যা ইতিমধ্যে আসল গোমড় ফাস করে দিয়েছে আলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জলিল, কথিত সেই বিজয়ের ২/৩ মাস হয়ে গেল ইতিমধ্যে পিলখানায় ঘটে গেল ভয়াবহ বিডিআর বিদ্রোহ। তখন আলীগের বিশেষ করে বাণিজ্য ফারুক খান সহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দ্বাবীতে সোচ্চার গং দ্বায়ী করল যে যুদ্ধাপরাধের বিচার যেন না হয় তাই জামাতীরা জেএমবির তথা জঙ্গীরা এই কান্ড ঘটিয়েছে। এই সুত্র ধরে যখন ভারতীয় মিডিয়া বলল যে নিজামী ও সাকা চৌধুরী এর জন্য দ্বায়ী তখন নিজামী পাল্টা বিবৃতি দিল যে ভারত বিশেষ করে এর গোয়েন্দা সংস্থা "র" ই দ্বায়ী। বাস আর যায় কই জিয়া ভাই নেমের পরলেন কলম যুদ্ধে। নিজামী কে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসা করা হউক এ নিয়ে একটি লেখাও দিলেন;
Click This Link
এটা যে পক্ষপাত দূষ্ট তা সহজেই বুঝা যায়। নিজামী ও সাকাকে যুদ্ধাপরাধের জন্য গ্রেফতার ও বিচার এক জিনিস আর পিল খানার বিদ্রোহ ঘটনায় ৬০-৭০ আর্মি অফিসার নিহত হওয়া আরেক জিনিস। তাই ভারতীয় মিডিয়া ভিত্তিহীন(যা মূলত ভারত সরকারেরই উইং) অভিযোগ করবে নিজামী ও সাকা তার জবাব দিবে না সে কেমন কথা? অথচ ভারত তার বিমান বাহিনী সহ প্যরা ট্রুপার কে বিডিআর বিদ্রোহের সময় কেন ষ্ট্যান্ড বাই রেখেছিল সে সমন্ধে জিয়া ভাইয়ের কোন বক্তব্য নেই। মনে হয় ভারতীয় বাহিনী একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশে ঢুকে পরবে তা নিয়ে জিয়া ভাইয়ের কোনই মাথা ব্যাথা নেই। আসলে সাত সুমুদ্র তের নদী দূরে থাকলে যা হয় আরকি। সে যাই হৌক কি জঙ্গী এবং কি জামাত কাকেউ পিলখানা বিদ্রোহে জড়িত থাকার বিন্দুমাত্র প্রমাণ পায় নি আলীগ সরকার। ইতিমধ্যে পত্রিকায় প্রকাশ বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত তোরাব আলীর পু্ত্র লেদার লিটন কে RAB গ্রেফতার করলেও সরকারের প্রভাবশালী মহল তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছে এভং সে এখন কোলকাতায়। ঘটনাক্রমে যখন জামাত কে পিলখানা ঘটনায় ফাসানো গেল না সেক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর কোন বাধা থাকার কথা নয়। তারপরেও যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সরকার কোন উদ্যোগই নিল না জিয়া ভাইও এ বছরের ২/৩ মাস পর চুপ মেরে গেলেন। কারণ হাসিনা ও আলীগের যখন প্রয়োজন তখন জিয়া ভাই সহ এটিমের অধিকাংশ যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে সরব হয় আর যখন হাসিনা ও আলীগের প্রয়োজন শেষ জিয়া ভাই ও তার এটিমও ফিউজ। এর জন্য নিম্নের পরিসংখ্যান দেখা যাক এস্কিমোর ব্লগ হতে। উনি এ বছরের মে মাসের পর আর কোন ব্লগ লেখেন নি। সে হিসেবে;
মে,২০০৯(১)
আজ এটিমের জন্মদিন - শুভ জন্মদিন এটিম।
এপ্রিল,২০০৯(৮)
মার্চ,২০০৯(১৯)
ফেব্রুয়ারী,২০০৯(১৯)
জানুয়ারী,২০০৯(১৬) মোট ৬৫ পোষ্ট।
গত বছর ২০০৮ সালে একই সময় তথা জানু-মে;
মে,২০০৮(৩৯)
এপ্রিল,২০০৮(৩৬)
মার্চ,২০০৮(৪২)
ফেব্রুয়ারী,২০০৮(৫০)
জানুয়ারী,২০০৮(৫৮) মোট ২২৫ টি পোষ্ট।
এর বেশীর ভাগই যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে এবং আলীগের ফেভারে। ফখরুদ্দিনের সময় তার লেখার খই ফুটে। এখন আজকে মহাজোট সরকারের ৯ মাস হয়ে গেল কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারের কোনই খবর নাই তখন জিয়া ভাইও এ নিয়ে কোন কথাই নেই। মাঝখানে আগাচৌ সমকালে বলেছেন যে যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে হলে আরো তিন টার্ম ক্ষমতায় থাকতে হবে এবং সৈয়দ আশরাফের উক্তি যে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী চাপ আছে। যেখানে আগাচৌ নিয়ে আমি একটি লেখা সামু, আমার ব্লগ এবং প্রআলো ব্লগে দেই। জিয়া ভাই শুধু আমার ব্লগে নামকা ওয়াস্তে কমেন্ট করছেন;
Click This Link
কমেন্ট নং ২।
জিয়া ভাই ভালো করেই জানেন যে ১৯৭৫ সালের পর সৌদি আরব বিশেষ করে ওহাবীদের কারণেই আর কখনই এদেশে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধের বিচার করা যাবে না। বস্তুত ব্লগার ইমন জুবায়ের ভাইয়ের পোষ্ট;
Click This Link
এরও বহু আগেই জিয়া ভাই বিষয়টি নিয়ে অবগত। উক্ত পোষ্টের ২নং কমেন্টে দেখুন। যদি আলীগের উপর সৌদির চাপ থাকে তো বিএনপির উপর আরো বেশী করে চাপ থাকে যে যুদ্ধাপরাধের বিচার যেন না করা হয়। ৭৪ এর র্দূভিক্ষে বাংলাদেশের করুণ অবস্থা হয়েছিল তা মাথা রেখেই শহীদ জিয়া গোলাম আযম সহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনেন এবং দালাল আইন রহিত করেন। আর যেহেতু জিয়া ভাই আলীগের একনিষ্ঠ অন্ধ সমর্থক তাই নিজ দল ক্ষমতায় থাকলে কোন উচ্চবাচ্য নাই কিন্তু অন্যদল ক্ষমতায় থাকলে উন্মাদ হয়ে যান.........হায় হায় গেল গেল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই মুহুর্তেই চাই। মূল যুদ্ধাঅপরাধী পাকি সৈন্যদের বঙ্গবন্ধু কেন বিনা বিচারে ছেড়ে দিল তা একবারের জন্যও জিয়া ভাই সমালোচনা করেন নি। তো জিয়া ভাই আক্ষরিক অর্থেই সামু ব্লগ হতে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন সেই এপ্রিলে যদিও স্রেফ এটিমের জন্মদিনের একটা পোষ্টই এই বছরের এ পর্যন্ত শেষ পোষ্ট। তো রণে ভঙ্গের বিষয়টি তো আর সরাসরি স্বীকার করতে পারেন না তাই এ নিয়ে আমারব্লগ হতে একটি কমেন্ট স্মরণযোগ্য। একটি(অন্য ব্লগারের) পোষ্টে কমেন্ট করেছিলেন যে "সামুতে ব্লগিং করা মানে রাজাকারদের মুফতে ইসু দেওয়া"। প্রকৃত অর্থে তিনি চরম মিথ্যা কথা বলেছেন। আসল কারণ হল;
Click This Link
এর ৩৪নং কমেন্টে "নির্বাক হাসান" নামক ব্লগারের কমেন্ট দেখুন।
এর কয়েকদিন পর মে মাসেই(সঠিক দিন তারিখ মনে নেই) পর ভোর ৫:৩০ এ রকম সময়ে দেখি নির্বাক হাসানের একটি পোষ্টে তার সাথে জিয়া ভাইয়ের তুমুল ব্যাক্তিগত এবং প্রাইভেট বিষয়ে বিতর্ক। যেই আমি কমেন্ট করতে যাব, হঠাৎ দেখি "এই পোষ্ট টি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, লেখকের সাথে যোগাযোগ করুন"। ঐ সাময়িক পোষ্টের পর এটিমের জন্মদিন ছাড়া জিয়া ভাইয়ের আর কোনই খবর নাই তথা পোষ্ট নাই। এটাই হল আসল কারণ যার জন্য জিয়া ভাই আর সামু ব্লগে আসেন না। তবে যাই হৌক জিয়া ভাইয়ের অন্তত সামু ব্লগে যুদ্ধাপরাধের বিচার কেন হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে হচ্ছে না। আপাতত মনে হয় উনি এই যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে মনে হয় পার পেয়ে গেলেন। আবার হয়ত হাসিনা এবং আলীগের প্রয়োজনে সামু ব্লগে যথারীতি হাজির হবেন। বিচারের ভার ব্লগারদের হাতে ছেড়ে দিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

