মূলত রেসিসনের কারণেই বৃটেন তার দেশে বিদেশী ছাত্রদের জন্য ভিসা একেবারেই সহজ করে দেয়। ২০০৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে ৩০-৩৫ জন ছাত্র আবেদন করলে দেখা গেছে ২০ জনই রিফিউসড। কিন্তু টিয়ার-৪ মে মাস হতে সব কিছু বদলে দেয়। দেখা গেছে মার্কশিট-সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক সলভেন্সিতে সমস্যা না থাকলে সায়মন সেন্টারে প্রতিদিন ১০০% ছাত্রই ভিসা পায়। যার দরুণ সেপ্টেম্বর নাগাদ বাংলাদেশী ছাত্র আসে প্রায় ১৫ হাজার। মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের চেয়েও(প্রাইভেট কলেজ ও ভার্সিটি) বাজে পরিবেশের কোচিং সেন্টার সর্বস্ব কলেজ গুলোকে দেদারসে লাইসেন্স দেয় ব্রিটিশ হোম অফিস UKBA। তারা ভাল ভাবেই জানত যে এরা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু বৃটেনের দরকার অর্থ। সে কারণে কোন বাছ বিচার ছাড়াই শতাধিক অযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। সেই মে ২০০৯ হতে এদের বেশীর ভাগই হয় ভিসা কলেজ। ক্লাসে ছাত্র উপস্থিতি খারাপ হলেও কোন রিপোর্ট করেনি হোম অফিসে, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি সহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের অভাব ইত্যাদি নানা অনিয়ম ও জালিয়াতি অব্যাহত থাকে। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, চীন, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে প্রায় আড়াই লক্ষ ছাত্র বৃটেনে আসে। তার উপর আবার জব মার্কেট খারাপ। জব সেন্টারদের সিংহভাগই প্রতারণার আশ্রয় নেয়। কাউকে বাংলাদেশীদের রেষ্টুরেন্ট বা হোটলে নতুন জব দিলে দেখা যায় ১ সপ্তাহ না যেতে যেতেই চাকুরী নাই। জব সেন্টারগুলোই ঐ সকল রেষ্টুরেন্ট ও হোটেল বাংলাদেশী ব্রিটিশ মালিকদের বেশীর ভাগের সাথেই যোগসাজশী থাকে। যেখানে ৫.৫ পাউন্ড ঘন্টায় পাওয়ার কথা সেখানে কেউই ১.৫-৩ পাউন্ডের বেশী পায় না। তবে ইংলিশ জবে ৫.৫ পাউন্ড পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ইংলিশ পার্ট টাইম জব বড়ই অপ্রতুল। আর ফুল টাইম করা যায় না কলেজে হাজিরার জন্য। অনেক ছাত্রই ফাকি দেওয়ার কারণে বহু কলেজ জেনেও রিপোর্ট না করায় তাদের অনেকেরই লাইসেন্স স্থগিত হয়ে গেছে। হয়তো কারো স্থায়ী ভাবে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। ফলে ছাত্রদের দেওয়া ভিসা ফিস ঐ সকল বাদ হয়ে যাওয়া কলেজ হতে ফিরত পাবে কিনা এবং নতুন কোন ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারবে কিনা তা অনিশ্চিত রয়েই গেল। কলেজের লাইসেন্স বাতিল হলে ছাত্রদের দ্রুতই বৃটেন ত্যাগ করার নিয়ম। সেক্ষেত্রে হোম অফিস কতটুকু ছাত্রদের সহায়তা করবে তা সময়ই বলে দিবে। যেহেতু ভূক্তভোগী ছাত্রগণ আতংকে থাকবে তাদের উচিত বৃটেনে আইনজীবির সহায়তা নেওয়া। তবে সবার যেহেতু এত ব্যায়ভার বহন করা সম্ভব নয় তারা বৃটেনে রিফিউজি কাউন্সিলে যোগাযোগ করতে পারেন সেখানে আইনজীবি এবং ফি সম্পূর্ণ ফ্রি;
http://www.refugeecouncil.org.uk
ইষ্ট লন্ডনের জন্য;
Nelson House, 153-157 Commercial Road, London E1 2EB
Tel. 020 7780 3200.
Fax: 020 7780 3201. 10.
সে যাই হৌক এই সবই ব্রিটিশদের কারসাজি যাকে বাটপারিও বলা চলে। যার দারা তারা সারা বিশ্বে উপনিবেশ কায়েম করতে পেরেছিল। উদ্দেশ্য বিদেশ হতে অর্থ কামানোর সহজ রাস্তা। যেহেতু বৃটেনে সামনে নির্বাচন তাই ক্ষমতাশীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের লেবার পার্টি বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। যা অর্থ কামানো ২০০৯ সালেই হয়ে গেছে এখন হিউম্যান ট্রাফিকের এবং কলেজ লাইসেন্স বাতিলের অজুহাত দেখিয়ে বিদেশী ছাত্র খেদাও। কারণ আপাতত অখের গুছানো হয়ে গেছে কিনা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশন এবং বাংলাদেশের সরকারের বিষয়গুলো জেনে বুঝেও চুপ করে আছে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা অপচয় হচ্ছে তাতে মনে হয় সরকারের কোন মাথা ব্যাথা নেই। মহাজোট সরকার কি এই তামাশা দেখে যাবে?
(আপডেটেড)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

