২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে তারা দিন বদলের নীতিতে বিশ্বাস করে এবং তারা ক্ষমতায় গেলে ডেপুটি স্পীকারের পদটি বিরোধী দল কে দিবে। কিন্তু ২০০৯ সালে ৬ই জানুয়ারী ক্ষমতায় যাওয়ার পর কি দেখলাম..........হাসিনা ও তার দলের চিরাচরিত খাড়ার উপর পল্টি। ঠিক যেমন ১৯৮৬ সালে হাসিনা প্রকাশ্যে বলেছিলেন "যারা স্বৈরাচার এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান"। কিন্তু বিধিবাম এরশাদের থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে তিনি ১৯৮৬র নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। এগুলো হাসিনা ও তার দলের অসংখ্য ভন্ডামি, মতলববাজি, শঠতার সামান্য উদাহরণ মাত্র। কিন্তু বাংলাদেশের কি প্রিন্ট কি ইলেকট্রনিক সব ধরণের মিডিয়াতে আওয়ামী-বাকশালী মিডিয়ার অশুভ কব্জায় বন্দী। চ্যানেল ওয়ান এবং আমারদেশ পত্রিকা তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। ১৯৭৫ এ বাকশালী কায়দায় যেমন মাত্র ৪ টি পত্রিকা রেখে সব নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবারও সেই একই কায়দায় বিরোধী মতকে দমনের চেষ্টা চলছে।
আজকে যদি খালেদা জিয়া হাসিনার মতন সামান্যও অনিয়ম করতেন তো আওয়ামী-বাকশালী সমর্থক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সর্বদা এগুলো বার বার স্মরণ করিয়ে দিত। যা তারা সর্বদা করে আসছে। কিন্তু হাসিনার শঠতার অনেক পূর্বের কর্মকান্ডতো দূরে থাকুক ডেপুটি স্পীকারের বিষয়টি নিয়েও আওয়ামী-বাকশালী মিডিয়া ভুলেও মুখে আনে না। মনে হয় এ বিষয়গুলো কোন কালেও ঘটেনি। আরও বলা যেতে পারে লন্ডনে জলিলের ফাস করে দেওয়া মন্তব্য যে ২০০৮ এর নির্বাচন একটা পাতানো নির্বাচন যার উদ্দেশ্যই হল ভারতকে চিরস্থায়ী এমন অসম সুবিধা দেওয়া যাতে বাংলাদেশ ভারতের সাথে জীবনেও নিজ স্বার্থে কোন বিষয়ে দেন-দরবার করতে না পারে।
উপরের উদাহরণ টানার উদ্দেশ্য হল এই ১লা সেপ্টেম্বর নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য "ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব নিয়ে প্রশ্নকারীরা স্বাধীনতা বিরোধী"। উনি যে ভারতের চরম-পরম দালাল তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ পেল। ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ করেছে সম্পূর্ণ নিজস্ব কুমতলবে মোটেই বন্ধূ হিসেবে নয়। তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হল ইন্দিরা গান্ধীর নাতি রাহুল গান্ধীর মন্তব্য "আমার পরিবার যখন কিছু সিদ্ধান্ত নেয় তা করে ছাড়ে। যেমন ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানকে ভেঙ্গেছি";
Click This Link
কিন্তু আওয়ামী-বাকশালী মিডিয়ার কল্যাণে পরিস্থিতি এমন যে রাহুল গান্ধী কোনদিনও এই কথা বলেনি। রাহুলের এই বক্তব্যের পর ভারতের বাঘা বাঘা নবীন-প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক(কুলদীপ নায়ার) এই বক্তব্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, রাহুল অপরিপক্ক(Immature) দাবী করলেও রাহুল গান্ধী নিজেতো দূরে থাকুক এমনকি তার মা সোনিয়া গান্ধীও এই বক্তব্যের বিরোধীতা করেননি। এখান হতে একটি সত্যই বেরিয়ে আসে নিহত ইন্দিরা গান্ধী তার ও ভারতের ৭১ এ আসল মতলব রাজীব গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীর কাছে চেপে রাখেননি। কিন্তু রাহুলের এই বক্তব্যর বিরোধীতাকারী কুলদিপ নায়ার সহ অন্যান্যদের লেখা আওয়ামী-বাকশালী গংদের মিডিয়া ও বিশেষ করে আগা চৌধুরী বিশাল বিশাল লেখা দেন। কিন্তু তাদের আফসোস যে রাহুল গান্ধী আজ অবধি তার ঐ বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। এই বিশ্বে মিডিয়া যে একটা বিশাল ফ্যাক্টর তা বাংলাদেশও জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। হাসিনা ও তার দল নাৎসী গোয়েবেলসকেও হার মানিয়ে ভারতের পক্ষে নির্লজ্জ ও বেহায়া ভাবে গুণকীর্তন করে যাচ্ছে। কথায় বলে Morning shows the day। ভারত যদি প্রকৃত বন্ধুই হোত তো বেরুবাড়ী নিয়ে তিন বিঘা দিত, তালপট্টি ফিরিয়ে দিত, সমুদ্র সীমা, সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, বাংলাদেশকে তার দেশে শুল্ক মূক্ত ভাবে পণ্যের প্রবেশাধিকার, নেপাল-ভুটান-চীনকে ট্রানজিট দিয়ে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবাহারের সুযোগ দিত। বিগত জোট সরকার আমলের শেষের দিকে ৮০ লক্ষ পিস গার্মেন্টস ভারতে আমদানী নিয়ে টাল বাহানা করতো না। ভারত হতে বাংলাদেশের উপকৃত হওয়া একেবারেই নগণ্য অন্তত ভারতের মত বিশাল দেশ এবং অর্থনৈতিক শক্তির বিচারে। ঠিক যেমন মেক্সিকো ও কানাডা আমেরিকা হতে সহজেই সুবিধা পায়। তার উপর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ এর অসভ্য-বর্বরতা নির্বিচারে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা যখম। এর পরেও এই শাজাহান খান গংরা বলে যে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধূত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বাংলাদেশর মানুষ কি এতই বেকুব যে ভারতের অসভ্য-বর্বর ও বিমাতা সুলভ আচরণ মুখ বুঝে সহ্য করে যাবে? হাসিনা ও তার দলের ভন্ডামি ও বুলি এতটাই অসংখ্য যে সমগ্র বিশ্ব ব্রামান্ডের তারা গুণে শেষ করা যাবে কিন্তু তাদের এই শঠতার সংখ্যা কখনও গুণে শেষ করা সম্ভব নয়। একটি সত্যকে মিথ্যা বানানোর জন্য এবং একটি মিথ্যাকে সত্য বানানোর যে নিরন্তণ চেষ্টা তা আওয়ামী-বাকশালী গংদের চেয়ে কেউ ভাল পারে না। এখন বিরোধী দল বিএনপির এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। নতুবা আওয়ামী-বাকশালী গং ভারতের সকল বদ মতলব সহজেই বাস্তবায়িত করতে পারবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

