২১শে আগষ্ট ২০০৪ সালে আলীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা সমন্ধে বলার আগে উক্ত ২০০৪ সালের প্রথম দিককার ঘটনা বিশ্লেষণ করতে হবে।
ঐ ২০০৪ সালের শুরু হতেই উগ্র ও ভারত প্রেমিক নাস্তিক হুমায়ুন আযাদের "পাক সার জমিন...." লেখা নিয়ে সারাদেশে এবং সংসদে হৈ চৈ। পাকিস্তানের সমালোচনা করতে যেয়ে মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন। হোসেন শহী শোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী সহ শেখ মুজিবও পাকিস্তানের জন্য লড়েছিলেন। এটা ১৯৪৭ পর্যন্ত ঠিক ছিল। হুমায়ুন আযাদের হিংসাবশত লেখা সঠিক হলে এই নেতারাও আসামীর কাঠ গড়ায় দাড়াবে। হুমায়ুন আযাদ এখানে কারসাজি করে বিভিন্ন সত্য ও বাস্তবতাকে চাপা দিয়ে অর্ধ সত্য তুলে ধরেছিলেন। বস্তত কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের জন্যই তখনকার মুসলিম নেতৃবৃন্দর ভারত হতে পৃথক ছাড়া অন্য কোন পথ ছিল না। তারা যে সম্পূর্ণ সঠিক ছিলেন তার প্রমাণ হল ২০০৬ সালে ভারতের অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি রাজিন্দর শেখর কমিশনের রিপোর্ট যা বর্তমান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন শিং এর কংগ্রেস সরকার মেনে নিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয় বিগত ৬০ বছরে বিভিন্ন ভারতীয় সরকার(বেশীর ভাগ কংগ্রেসই ক্ষমতায়) গুলোর চরম অবহেলায় ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠী ব্যাপক ভাবে অবহেলিত এবং অনগ্রসর;
http://en.wikipedia.org/wiki/Sachar_Committee
কিন্তু জ্ঞানপাপী হুমায়ুন আযাদ বহুদিন ধরেও ভারতে মুসলমানদের সমন্ধে অবগত থেকেও ৪৭এর ভারত বিভাজনকে কটাক্ষ করেছিলেন। হুমায়ুন আযাদের ভাগ্য হয় নি এই রিপোর্ট দেখে যাওয়ার। বিএনপি, জামাত, জাপা সহ ডান ও ইসলামী দল গুলো এই বিষয়ে বহু আগে হতেই জানত এবং সচেতন ছিল। বস্তুত এই বিষয়টিকেই আলীগ ২০০৪ সালে ভারতীয় র এর পরামর্শে ও বুদ্ধিতে পুজি করে একুশে বইমেলায় ২৭শে ফেব্রুয়ারী হুমায়ুন আযাদের উপর হামলা করায়। পরের দিন ঢাবি সহ দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে জোট সরকারের পতন দাবী করে। বলা হয় জোট সরকারের ছত্রছায়ায় জামাতীরা আযাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। গুরুতর আহত আযাদকে সিএমএইচে ভর্তি করা হলে যখন তার অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে ঠিক হামলার তিন দিন পর ১লা মার্চ আলীগ পন্থী ফরিদুর রেজা সাগরের চ্যানেল আইতে প্রচার করা হয় আযাদ ক্লিনিকালী ডেড। এর রেশ ধরে আরেক দফা ঢাবিতে ভাঙচুর হয়। তারপর হুমায়ুন আযাদক অনেকটা সুস্থ হয়ে ব্যাংকক গেলেও আওয়ামী-বাকশালীদের ঘেউ ঘেউ চলতে থাকে।
এরপর ২০০৪ সালের মার্চের শেষে এবং এপ্রিলের শুরুর দিকে হাসিনার পরামর্শে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ৩০শে এপ্রিল জোট সরকারের ডেড লাইন ঘোষণা করেন। এখানেও ভারতীয় র এবং তার ঘনিষ্ঠ এজেন্ট প্রশিকা জড়িত ছিল। জলিল বলেন যে এই ৩০ তারিখের পর খালেদা সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন। তখন এক সাংবাদিক সম্মেলনে জলিলকে জিজ্ঞাসা করেন কিভাবে আপনি নিশ্চিত যে জোট সরকারের পতন ঘটবে? জলিল পাল্টা প্রশ্ন করেন যে আপনি কিভাবে নিশ্চিত জোট সরকার ৩০শে এপ্রিলের পর টিকে থাকবে। জলিল জানালেন তার কাছে ট্রাম্পকার্ড আছে। তারপর যখন ৩০শে এপ্রিল পার হয়ে গেলেও জোট সরকারকে টলানো গেল না তখন জলিল মিডিয়াকে দুষলেন যে মিডিয়া নাকি তার কথা অতিরঞ্জিত করে প্রচার করেছে। আর আলীগের অনেকেই বলল জলিল একটা ছাগল এভাবে কি সরকারের পতন ঘটানো যায়? একে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ হতে সরিয়ে দেওয়া হৌক! আসল বাস্তব হল এটা হাসিনা ভারতের র এর পরামর্শে জলিলকে দিয়ে করিয়েছে। তথা সফল হলে কৃতিত্ব হাসিনার আর ব্যার্থ হলে দোষ সব জলিলের। আক্ষরিক অর্থেই হাসিনা জলিলের কাধে বন্দুক রেখে শিকার করতে চেয়েছিল। যদি জলিলই এই বুদ্ধি বের করেন তো এরপরেও কেন তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক রাখা হল?
২০০৪ সালের জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। জাতিসংঘ, এডিবি সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা সাহায্য করতে চাইলেও জোট সরকার সাফ জানিয়ে দিল এই বন্যাকালীন তার মোকাবেলা করার একক সামর্থ্য রয়েছে তাই কোন সাহায্যের প্রয়োজন নাই। সত্যিই জোট সরকার দেশীয় সম্পদ এবং নিজস্ব বলে ২০০৪ এর বন্যা সফল ভাবে মোকাবেলা করেছিল। ঐ সময়ে হাসিনা ও আলীগের কোন ইস্যুই ছিল না। ইতিমধ্যে ব্যাংকক হতে চিকিৎসা শেষে পেন(ইন্টার ন্যাশনাল লেখক সমিতি) জার্মানির স্কলারশিপে মিউনিখ যাওয়ার পথে জিয়া বিমান বন্দরে নিজামীর সাথে নাকি আযাদের দেখা হয়। আযাদের কাছে এসে কুশল বিনিময় এবং কোথায় যাচ্ছেন তা নাকি জানতে চান এবং তিনি তা বলেনও। মজার কথা হল আযাদ পেন-স্কলারশীপে জার্মানীতে গেলেও যা নিজামী জানে তারপরেও জনকন্ঠ, ভোরের কাগজ, আজকের কাগজ প্রায়ই খবর দিত যে জামাতীরা আযাদ সন্তানদের প্রহার ও ফোনে ধমকি দিয়ে নাকি জিজ্ঞাসা করত যে তোদের বাপ কোথায়। এই ভাবে যখন ১১ই আগষ্ট বৃহস্পতিবার ২০০৪এ জার্মানির মিউনিখে হঠাৎ নিজ এপার্টমেন্টে আজাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের প্রেসের বাংলাদেশী কর্মকর্তা জনাব মোর্শেদ তার ঢাবি শিক্ষকদের কোয়ার্টারে গিয়ে দেখেন তার বাসায় স্রেফ ছোট সন্তান আছে। তাই তিনি সেদিন তাকে কিছু না জানিয়ে পরের দিন নিজে তার স্ত্রীকে জানাবেন। পরের দিন ১২ই আগষ্ট শুক্রবার সকালে উনি আজাদের বাসয় গিয়ে উনার স্ত্রীকে যেই জানালেন মৃত্যুর খবর সে সহ তার বড় মেয় ও বড় ছেলে জনাব মোর্শেদের উপর হামলে পড়ল। চিৎকার করে বলল তোর জার্মান সরকার জামাতের টাকা খেয়ে আমার স্বামী/আব্বুকে মেরে ফেলেছিস। এই খবর ঢাবিতে প্রচার হওয়া মাত্র ছাত্রলীগ ও তাদের উস্কানিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন টিএসসিতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রোপাগান্ডা করে জার্মানীতে জামাতীরা আজাদকে গুলি করে হত্যা করছে। অথচ বিবিসি, রয়টারের খবরে প্রকাশ জার্মানির পুলিশ ও ডাক্তারগণ জানান যে এটা স্বাভাবিক হার্ট এটাক। তারপরেও জার্মান সরকার এটার যথাযথ তদন্ত করে আজাদের লাশ বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিবে।
জার্মান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আজাদ হত্যার অভিযোগ তদন্তের দাবী
আজাদ মিউনিখে মারা যাওয়ার ঘটনা জানার পর পরই ১২ই আগষ্টে তার বাসায় এসে যতটা না তার পরিবারকে সান্তনা দিবে তার চেয়ে রণ হুংকার দেয় আম্লীগের সাধারণ সম্পাদক জলিল, তোফায়েল এবং ওয়ার্কাস পার্টির মেনন ও জাসদের ইনু। জলিল বলেন যে আমরা আজাদের এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মেনে নিতে পারছি না। আমরা জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে তদন্ত চাই। তথা জলিল ও আওয়ামী-বাকশালী এবং বামদের জার্মানীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবী জানায়।
আজাদের স্ত্রী এই ঘটনার পর জানান মিউনিখে ফ্লাইটের পূর্বে নিজামীর সাথে তার স্বামীর জিয়াতে সাক্ষাতের কথা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের সিংহভাগ লোকই জানত না যে আজাদ আদৌ দেশে আছেন অথবা পৃথিবীর কোথাও গেছেন। অথচ সেই ২০০৪ এর জুলাই ও আড়ষ্টের মারা যাওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগেও প্রচার করা হয় ফোনে হুমকি-ধমকি এমনকি আজাদের পুত্রকে জামাতিদের অপহরণের ঘটনাও সেই আওয়ামী ত্রিরত্ন পত্রিকায় ফলাও করেও প্রচার করা হয়;
His son was kidnapped on 24 July 2004 but escaped after two hours. The following day, Dr Azad received a death threat by telephone: the caller threatened to bomb his house.
http://www.ntpi.org/html/humayunazad.html
যদি আজাদ জার্মানী যাওয়ার পূর্বে নিজামীকে বলেই থাকেন যে তিনি কোথায় যাচ্ছে তারপরেও কেন জামাতীদের ক্যাডাররা তার পুত্রকে অপহরণ করবে? স্পষ্টতই এটা এক ধরণের ইদুর-বিড়াল খেলা। সবচেয়ে বড় কথা হল জার্মানী সরকার পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দেয় তার দেশের সুরাহাতাল তথা ময়না তদন্তের বাইরে আর কাউকে তদন্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তার কয়েকদিন পর আওয়ামী-বাকশালীরা কাচু-মাচু করে চুপ মেরে যায়।
উপরোক্ত ঘটনা হতে বুঝা যায় ২০০৪ সালে মাঠ গরম করার মত কোন রাজনৈতিক ইস্যু আলীগের হাতে ছিল না। স্রেফ জামাতী-রাজাকার, হাওয়া ভবনের র্দূনীতি এই কথাগুলোই বলে বেড়াত। যা সরকারের পতন ঘটানোর জন্য যথেষ্ঠ নয়। এর পরই ষড়যন্ত্র করা হয় ভয়ংকর ২১শে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হাসিনা হত্যার রাজনৈতিক নাটক। মূলত ২০০৪ সালে দীর্ঘদিন পর কংগ্রেস ভারতের ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। অবশ্যই আলীগের বেশ কয়েকজন নেতাও এতে জড়িত। তাতে স্রেফ ট্রাকের চারপাশে গ্রেনেড পড়লেও হাসিনার অবস্থানরত ট্রাক মঞ্চে একটিও পড়ল না। ঐ ট্রাকের চারপাশে ঘাতকরা গ্রেনেড ছুড়লেও ট্রাকের উপর দিয়ে একপাশ হতে অন্য পাশে পড়লেও ট্রাকে পড়ল না কেন একটা শিশু শ্রেণীর ছাত্রও বিস্মিত না হয়ে পারবে না। ঐ সময় এটিএন, চ্যানেল আই, এনটিভির ফুটেজে দেখা যায় হামলার পর হাসিনা, সাবের গাড়ীতে(বিরোধী নেত্রীর গাড়ী) করে সুধা সদনে চলে যান এবং গাড়ীটাকে অক্ষত অবস্থাতেই দেখা যায় পির ইয়ামেনী মার্কেট ও জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত। কিন্তু পরের দিন সাবের হোসেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের দেখান যে হাসিনার গাড়ীতে গুলির তথা স্নাইপার বুলেটের চিহ্ণ। তিনি বলেন যে হাসিনা গ্রেনেড হামলার পর পরই যখন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের অফিসের সামনে হতে গাড়ীতে উঠতে ছিলেন এবং গাড়ী চলতে শুরু করলে তখন তাকে আশে পাশের কোন বিল্ডিং হতে ঘাতক গুলি করে। পরে টিভি ফুটেজের কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা গাড়ী পরীক্ষা করতে চাইলে সাবের ও আলীগ হাসিনার গাড়ী দিতে অস্বীকার করে। এর রহস্য কি? এর ব্যার্থতার দায় অবশ্যই বিগত জোট সরকারের। একেতো গোয়েন্দারা ঘটনা ঘটার পূর্বে কোন তথ্যা বা টের পেল না এবং হাসিনার গাড়ী সহ ঘটনায় উপস্থিত লীগ নেতাদের জেরা করতে পারল না। উপরন্ত যে চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব তা ভারতের কোলকাতায় করতে গেল। আর শুধু তাই নয় কোলকাতার চিকিৎসক প্রথমে বলেন লীগের শীর্ষ নেতাদের বলেন এতো সামান্য ক্ষত এটাতো বাংলাদেশই পারে। পরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার চাপে ঐ ডাক্তার আর কিছু বলেন নি। জোট সরকারের উচিত ছিল ঠুনকো যু্ক্তিতে তাদের ভারত গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা। তাহলে তাদের জবানবন্দির গরমিল পাওয়া যেত।
তারপরে জোট সরকার অহেতুক জজ মিয়াকে টেনে নিয়ে নিজেদের অবস্থানকে দূর্বল করল। ঐ সময়ে জোট সরকার একজন বিচারপতি দিয়ে তদন্তে বিদেশী তথা ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করলেও তার নাম মুখে নিল না। হাসিনা ও আলীগ যেখানে অহরহ পাকিস্তানের সমালোচনা করে খালেদাতো নয়ই এমনকি বিএনপির অন্য নেতারাও পারে না। তাই আজ ৭ বছর পরেও জজ মিয়াকে দিয়ে বিএনপি পার পেতে চাচ্ছে;
Click This Link
হাসিনা হল ধূরন্ধর মিথ্যাবাদী, প্রতারক। ১৯৮৬ সালের জাতীয় বেঈমান সহ বহু প্রতারণা তার মজ্জাগত অভ্যাস। মিথ্যা বলা ও প্রতিপক্ষকে হত্যার চেষ্টা দেওয়া তার পক্ষে কোন ব্যপারাই না। জামাতের সাথে উঠাবসা সহ ১৯৮৬-৮৭ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের আলীগের জনসভায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে জনসভায় পুলিশ গুলি চালালে ২৪ জন নিহত হলে হাসিনা এর জন্য সরাসরি এরশাদকে দায়ী করেন। অথচ এরশাদ বর্তমান ডিজিটাল মহাজোট সরকারের প্রধান অংশীদার। তারপর ২০০৭-০৮ সালে ফখরুদ্দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ কালে হাসিনাকে খাদ্যে বিষ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা হলে ক্ষমতায় এসে হাসিনা ফখরু-মঈন কাউকেই হাতের কাছে পেয়েও গ্রেফতার করে নি। তার উপর ২১শে গ্রেনেড হামলার জন্য হাসিনা ও তার দলের নেতারা দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকেও দায়ী করেছে। কিন্তু মতির বিদেশী লবী মহাশক্তিধর হওয়ায় তার কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারে নি। কিন্তু তারেক রহমান বিএনপির হওয়ায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে জড়িয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আজকে যখন দেশের চরম র্দূনীত-অনিয়মের জন্য বিপর্যয়কর অবস্থা যেখানে সরকার দলের এমপিরা পর্যন্ত বলছে এভাবে চললে গণবিস্ফোরণ ঘটবে তখনই এই মামলার বিচার তারেককে অনুপস্থিত দেখিয়ে এবং খালেদাও জড়িত বলে বিচার করা হবে রোজার পর। বস্তুত জজ মিয়ার জন্যই বিএনপির অবস্থান র্দূবল হয়ে গেল। যদি ভারতের নাম নিত তাহলেতো কথাই ছিল না। তারপরেও যদি স্রেফ বিদেশী হাত আছে এই বলে চুপ থেকে যেত তাহলে আজকে হয়ত তারেক রহমানকে এভাবে ফাসাতে পারত না। কারণ এদেশে হাসনিা যত মিথ্যা কথা, প্রতারণা ও অন্যায় করুক না কেন তার সমর্থকদের কাছে হাসিনা ফেরেশতা অথবা দেবীর মতই নিষ্পাপ। কিন্তু বিএনপির পান থেকে সামান্য চুন খসলেও বিশাল অপবাদ নিতে হয়। আর বিএনপির কোন জোরাল মিডিয়াও নেই। হাসিনা ও আলীগ যেখানে হুমায়ুন আযাদের স্বাভাবিক হার্ট এটাকের মৃত্যুর জন্য জার্মানির মতন বিশ্বের অন্যতম সভ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে হত্যার অভিযোগে তদন্ত চায় এবং মতি মিয়াকে গ্রেনেড হামলার জন্য জড়িয়ে বক্তব্য দেয় সেখানে একটা শিশু শ্রেণীর ছাত্রও বুঝবে যে হাসিনার হুমায়ুন আযাদ ও ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা হল ক্ষমতায় যাওয়া ধরে রাখার জন্য ভয়ংকর ষড়যন্ত্রমূলক নাটক। যার উদ্দেশ্যই হল ক্ষমতায় থেকে ভারতকে বাংলাদেশের ক্ষতি করে সুবিধা দেওয়া এবং নিজেরা দেশে র্দূনীতি, লুটপাট ও জুলুম করা। বিএনপি ভীতু হয়ে ভারতকে ছাড় দিলে পার পাবে না। ভারত হল শক্তরে ভক্ত নরমেরে যম। আমাদের দেশ শ্রীলংকার মতন ঐক্যবদ্ধ নয়। যারা ভারতকে এক বিন্দু ছাড় দেয় না। তাই বিএনপি যদি ভারত ও আলীগকে ভয় পেয়ে জোরাল আন্দোলন না করে তাহলে দল এবং দেশের জন্যই ক্ষতি। দরকার পরলে আত্নত্যাগের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের মানুষ চায় সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব। এখনতো বিএনপির জন্য ক্ষমতায় যাওয়া অনেক কঠিন হলেও যদি ক্ষমতা পেয়েও ভারতের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু করতে না পারে সেটা হবে কাপুরুষতা। সুবিধাবাদী ও গাবাচানোর চেয়ে ময়দানে রাজনৈতিক লড়াই হল মর্যাদার। তবে ইতিহাসে দেখলে দেখা যায় সবাই টিপু সুলতান ও জিয়াউর রহমানের মতন সৎ, দক্ষ ও সাহসী নয়। তারা কখনই নিজেদের লক্ষ্য ও দর্শন হতে সরেন নি। তাই বাংলাদেশ ৭ই নভেম্বর পরবর্তী সময়ে তলাবিহীন ঝুড়ির খেতাব হতে মূক্ত হয়ে পেয়েছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং শক্ত অর্থনীতির ভিত। তাই খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিয়ালের মত চলবে নাকি সিংহের মত সাহস করে দেশ জাতির জন্য লড়বে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


