আমি জানি এই ব্লগে অনেক বয়সি, কম বয়েসি, ছেলে, মেয়ে আছেন সবার কাছে মতামত চাই।
আমার এক বন্ধুর প্রেম বিষয়ক সমস্যা ।খুবি ইমপরটেন্ট তাই আমার একার বুদ্ধির উপর নির্ভর করতে পারছি না। কাউকে জিগাসা করতেও পারছি না। তাই আপনাদের দারস্ত হলাম। ঘটনাটা আমার বন্ধুর মুখে শুনুন।
..... আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন থেকে আমার এক কাজিন কে পছন্দ করতে থাকি কিন্তু কখনো বলি নাই। ওর নাম মিথিলা। সেভাবে চলতে থাকে। স্বাভাবিক নিওমে ও কখনো আমাদের বাড়ি আসে আমি ও কখনো ওদের বাড়ি যাই কিন্তু কখনো বলি নাই। আমি যখন ইনটারমিডিয়েট পরিক্ষা দিছ্ছি তখন একবার ও আমাদের বাড়ি আসে। ও যখন আসে বা অন্য কাজিন রা যখন আসে খুব গল্প গুজব হতে থাকে। এই সময়ও তেমন চলছিল হটাং ও একদিন আমাকে জিগাসা করে ভাইয়া তুমি কাউকে পছন্দ কর? আমি বলি হ্যা করি। ও জিগাসা করে কাকে? আমি তো ওকেই পছন্দ করি সেটা আর বলতে পারি না। পরবত্তি কয়েকদিন ও সুযোগ পেলেই চাপা চাপি করতে থাকে, কে শোনার জন্ন্য। এক পয্যায় আমি ওকে বলে ফেলি। ও বলে ভাইয়া আমি তো অন্য একজন কে পছন্দ করি। আমি কস্ট পাই, মন খারাপ হয়ে যায়। আর কিছু বলি না। এক সময় ও ওদের বাড়ি চলে যায়।
আমার পরিক্ষা শেষ হলে আমি একদিন ওদের বাড়ি বেড়াতে যাই। সেই সময় একদিন ও আামাকে বলে সেদিন যে বলেছিলাম আমি একজন কে পছন্দ করি সেই কথাটা কিছু সত্যি কিছু মিথ্যা। আমি জিগাসা করি কিরকম? ও বলে একটা ছেলে আমাকে পছন্দ করে সে আমাকে চিঠি দিত আমি উত্তর ও দিতাম। উত্তর গুলো জাষ্ট রুটিন উত্তর হত আমি কখনো ওকে ভালবাসিনি। এবং ওনেক দিন হল সেসবও বন্ধ। আমি আসলে তোমাকে ভালবাসি। আমি যখন তোমাদের বাড়ি যেতাম, তুমি তোমার ঘরে পড়তে আমি লুকিয়ে দেখতাম, আমার খুব ভাল লাগতো। তোমার বিষয়ে যেকোন কিছু শুনতে আমার খুব ভাল লাগে। আর আমি বুঝতে পারতাম তুমি আমাকে ভালবাস।
এই কথার পর আমাদের প্রেম শুরু হল। যেমন টা হয়, এরপর আমারা দুজন একসাথে ঘুরে বেড়াতাম। ভালবাসা পুন্য চিঠি লিখতাম, ও ও লিখতো। আমি নানান গিফট দিতাম, ফোনে কথা বলতাম।এক সময় আমার আর কোন সন্দেহ থাকলো না যে আমাদের পরিপুন্য সর্ম্পক হয়েছে। ও ও একদিন বল্ল তোমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছি তবে আমার খুব ভয় হয় তুমি বোধ হয় আমার ভাগ্যে নাই। কারন আমাদের দুই পরিবার কি এটা মানবে?
এর মাঝে ইনটারমিডিয়েট পরিক্ষার রেজাল্ট হল। এবং আমি জাপানে একটা স্কলারশিপ পেলাম তার গোছগাছ এর জন্য ঢাকা আসলাম। আমার ছোট বোন একদিন আমাকে ফোন করে বল্ল ভাইয়া নানি তোর জন্য একটা মেয়ে দেখে তোর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আমি তো খুব রেগে গেলাম। আমার বোন বল্ল, আরে শোনই না মেয়ে টা কে। আমি শুনবো না না করছি এর মাঝে ও বলে ফেল্ল, "মিথিলা"। আমি বল্লাম আমাদের মিথিলা? ও বল্ল হা। আমাদের মিথিলা? ও বল্ল হা। তার মানে আমি যাকে ভালবাসি তার সাথেই আমার নানি আমার বিয়ে ঠিক করেছে- আমিতো খুব খুশি। আমার বোন জিগাসা করলো তোর কি মত? একবারে রাজি হলে কেমন দেখায় তাই বল্লাম আছ্ছা পরে বলছি। দুদিন পর আমি ফোন করে বল্লাম আমি রাজি।
ঢাকার কাজ সেরে বাড়ি গেলাম। বাড়ি যেয়ে দেখি সব কিছু পাল্টে গেছে। মিথিলা আর আমার বিষয় টা ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। কেউ সরাসারি কিছু বলে না কিন্ত সবাই জানে। আসলে কিভাবে জানি আমাদের ভালোবাসার কথা সবাই জেনে গেছিল। তার উপর বিয়ের কথা পাকা হয়েগেছে। তবে বিয়ে এখন না। পরে হবে। আমি জাপান যাব দুই সপ্তাহ বাড়ি থাকবো। মিথিলা আসলো। পুরো দুই সপ্তাহ সে আমাদের বাড়ি থাকলো। আমরা রাত জেগে ছাদে বসে গল্প করলাম। এখানে ওখানে ঘুরতে গেলাম, সবাই আমাদের প্রশ্রয় দিল।
জাপান যাবার একসপ্তাহ আগে ঢাকা চলে এলাম মামার বাসায়। গাড়িতে ওঠার সময় ও আমাকে একটা বড় চিঠি দিল সারা পথ সেটা পড়তে পড়তে এলাম । কথা হল মা ছোট ভাই বোনরা ঢাকা আসবে আমার যাবার আগের দিন। জাপান যাবার আগের দিন ওরা এল সাথে মিথিলা।আমি ভিষন খুশি।আরো কথা ।আরো ভাববিনিময় হল।ও বল্ল ৪ বছর হিসাবে তুমি এত দিন এত ঘন্টা এত মিনিট এত সেকেন্ড আমার কাছে থাকবানা। আমি কিভাবে থাকবো।প্রতি সপ্তাহে চিঠি দিবা।
রাত ১ টায় আমি উড়াল দিলাম। জাপানে এসে প্রথম ছোট ভাই এর চিঠি পেলাম। সে লিখলো ভাইয়া তোর প্লেন উড়ে গেলে সবাই খুব কেদেছে মিথিলা আপু সবচেয়ে বেশি। দুই সপ্তাহ সে খওয়া দাওয়া করেনি খুব কান্নাকাটি করেছে।
আমি প্রতি সপ্তাহে চিঠি দেওয়া শুরু করলাম । লিটারালি আমি প্রতি সপ্তাহে চিঠি দিতাম, ও প্রতি মাসে একটা। আমাদের ভালবাসা আরো গভির হোয়ে গেল। ওর প্রতিটা চিঠি খুব আবেগে ভরা থাকতো। আমি পড়ে চোখে পানি রাখতে পারতাম না। ও লিখতো কবে আসবা, আমার চোখে ছানি পড়ে যাছ্ছে কাঁদতে কাঁদতে। তোমার সাথে যেসব যায়গায় ঘুরতাম। যেসব যায়গায় বসতাম। সেসব যায়গায় আমি আর যাই না। তুমি আসলে আবার যাব।
আমার র্কোস শেষ হল সাড়ে তিন বছরে। কিন্ত দুভাগ্য এর ভিতর বিভিন্ন কারনে দেশে আসা হল না।এবং র্কোস শেষ করেই একটা জব পেলাম কোরিয়া তে। বাড়ি তে বল্লাম কি করবো? র্কোস শেষ বাড়ি আসবো না কোরিয়া যাব? মিথিলা কে জিগাসা করলাম। বাড়ি থেকে বল্ল এবং ও ও বল্ল কোরিয়া যাও। ভবিয্য এর কথাও তো ভাবতে হবে।
কোরিয়া গেলাম ২০০১ এ ।অনেক টাকা বেতন পাছ্ছি।বাড়ি পাঠাছ্ছি। মিথিলা কে আরো বেশি বেশি গিফট দিছ্ছি।একটা মোবাইল ফোন কিনে দিলাম। এখন প্রতি দিন কথা বলি, প্রতি সপ্তাহে চিঠি বন্ধ হল।মাসে একটা চিঠি দেই । ও ও মাসে একটা দেয়। আর প্রতি দিন ফোনে কথা বলি ঘন্টার পর ঘন্টা। ২০০৩ শেষের দিকে মিথিলা বল্ল জান টাকা পয়সার খুব সমস্যা যাছ্ছে। আমি বল্লাম আমি পাঠাই। ও বল্ল না, তোমার কাছ থেকে কি হিসাবে নিব? আমি বল্লাম কেন আমাদের তো বিয়ে হবে। ও বল্ল না, বিয়ে হয়ে বরের কাছ থেকে টাকা নেয়া এক কথা আর কারো সাথে বিয়ে হবে তার কাছ থেকে টাকা নেয়া অন্ন্য কথা।
আমি বল্লাম, আছ্ছা! বিয়ে মানে ছেলে মেয়ের সম্মতি তাই না? ও বল্ল হা, তাহলে দেখো এটা পছন্দ হয় কিনা। তুমি কখনো বিয়ে দেখেছ? ও বল্ল হা দেখেছি, আমি তখন বল্লাম,-- অমুক,অমুক যায়গায় নিবাসি তার ছেলে ওমুক ( আমার আর আমার বাপের নাম বললাম) এর সাথে ৫ লাখ টাকা বাকি দেনমোহরে বিবাহ করতে রাজি। রাজি থাকলে বল কবুল। ও খুব হাসলো তারপর বল্ল - কবুল। আমি বল্লাম আমিও রাজি, কবুল কবুল কবুল।ও বল্ল আমিন। আমি বল্লাম আমাদের সাক্ষি হল ফোন আর আকাশ। কারন তোমার হাতেও ফোন আমার হাতেও ফোন।আর আমার মাথার ওপর যে আকাশ তোমার মাথার ওপরও সেই আকাশ।এখন বল তোমার কিছু বলার আছে? ও বল্ল সারা জিবন আমার টেককেয়ার করবা। আমি বল্লাম হা করবো। টাকা পাঠাবো কোন সমস্যা আছে । ও বল্ল না। ও জিগাসা করলো তোমার কিছু বলার আছে? আমি বল্লাম আমার কিছু আমানত আছে তোমার কাছে সারা জিবন রক্ষা করবা। ও বল্ল আছ্ছা। ও আরো বল্ল তোমার নামের
শেষ অংশ নিয়ে আমি এখন মিথিলা হাসান হলাম তোমার আপত্তি আছে। আমি বল্লাম, তুমি খুশি হলে আমার কোন আপত্তি নাই।যা হোক এরপর সেই আগের মত মাসে একটা চিঠি দেই । ও ও মাসে একটা দেয়। আর প্রতি দিন ফোনে কথা বলি ঘন্টার পর ঘন্টা। আর ও মিথিলা হাসান নামে একটা বাংক একাউন্ট খুল্ল আমি ওর একাউন্টে ওর কলেজের ফিস, প্রাইভেট এর বেতন, হাত খরচ,ড্রেস কেনার টাকা পাঠাই। আর আমাদের ভালবাসা আরো গভির হয়। ও চিঠি তে ওর কলেজের কথা লেখে।নানা রকম মজার কথা লেখে।একবার ওর সব বন্ধুর নাম লিখে পাঠাল আর বল্ল এই নাম গুলো মুখস্ত করবা তুমি আসলে পরিচয় করিয়ে দেব তখন যেন চিনতে কষ্ট না হয়। আমি বসে বসে সেই নাম মুখস্ত করলাম।
২০০৪ গেল, ২০০৫ এর মাঝামাঝি আমার তিন বছর এর জব কন্টাক্ট শেষ হল। দুভাগ্য এর মাঝে এবারো দেশে আসা হল না। কোম্পানি রিনিউ করতে বল্ল। আমি মাকে বল্লাম কি করবো? মা বল্ল পড়াশুনা বাকি রয়ে গেছে।আর দরকার নাই । পড়াশুনা শেষ করে আবার জব কর। মাষ্টাস কি জাপানে করবে। আমি বল্লাম আগে দেশে আসি তারপর দেখা যাবে। ২০০৫ এর এপ্রিল এ দেশে আসলাম প্রায় ৭ বসর পর।
বহুদিন পর দেশে আসলাম। খুব মজা হতে থাকলো। মিথিলা প্রথম দুই সপ্তাহ এক টানা থাকলো আমাদের বাড়ি। আমাদের বিয়ে হয় নি কিন্তু সবাই এমন আচরন করছিল যেন আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা খুব ক্লোজ চলাফেরা করতাম।ও আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিত। আমি ওকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতাম। বিভিন্ন্য জায়গায় বেড়াতে যেতাম। ওর কলেজে গেলাম সব বন্ধু দের সাথে পরিচয় হল। সুজন নামে একজন কে দেখিয়ে বল্ল, জান, এ আমার সব চেয়ে ক্লোজ বন্ধু। আমার সব কাজ কোরে দেয়, আমার ভায়ের থেকেও আপন । তাকে বল্লাম তোমাকে অনেক অনেক থ্যান্কস।তারপর একদিন সবাই কে নিয়ে চাইনিজ খেলাম । আমরা আগের মত, আরো গভির আরো আন্তরিক। নতুন জিনিষ যোগ হল।মিথিলা সুযোগ পেলেই আমার ঠোটে চুমু দিত।
এদিকে আমি খোজ খবর করে সিদ্ধান্ত নিলাম মাষ্টাস করবো অষ্টেলিয়ায়,ভর্তি হলাম, ভিসা হল, যাবার দিন এসে গেল। এবার আর ঢাকা না বাড়ি থেকেই সবাই বিদায় দিল। মিথিলা বল্ল আবার কবে আসবা? আর কত দিন আমি একা থাকবো? আমি বল্লাম এবার আসার সময় সিধঁ কাঠি নিয়ে আসবো।
পুরো একবছর পর আবার দেশ ছাড়লাম। অষ্টেলিয়ায় এসে কাজ করি, পরাশুনা করি, আর রাতে ঘুমানোর আগ পযন্ত মিথিলার সাথে ফোনে কথা বালি। এখন কার কথা আরো পরিপুন্য। এখন ভবিষ্য প্লান করি। আমি বলি মিথিলা যত যাই করি আমার ইছ্ছা গ্রামে একটা বড় বাড়ি বানাবো।পেছনে পুকুর থাকবে। সব ধরনের গাছ থাকবে বাড়ির চার পাশে। মিথিলা বলে আমাকে ওনেক গুলো বাচ্চা দিও প্লিজ। আমার ওনেক শখ আমার ওনেক গুলো বাচ্চা বাড়ি ময়ঘুরে বেড়াবে। আমি বলি দুটার বেশি নিলে তো সমস্যা। আমার শেষে জেলে না যেতে হয়। আমরা খুব হাসিঁ। সুখ নিয়ে ঘুমাতে যাই।
এভাবে করতে করতে দুই বছরে র্কোস শেষ হল। অষ্টেলিয়ায় পারমানেন্ট রেসিডেন্ট এর এ্যপলাই করার জন্ন্য ফর্ম আনলাম, দেখলাম বউ এর নাম দেবার অপশন আছে। মাকে বল্লাম মা নাম দিলে সুবিধা আছে। একসাথে দুইজনের হয়ে যাবে।মা বল্ল দিয়ে দে। আমি বল্লাম কাবিন নামা লাগবে। মা বল্ল এক কাজ করি তাহলে ফোনে তোদের বিয়েটা হয়ে যাক। কাবিন নামা হয়ে যাবে পরে তুই দেশে আসলে অনুষ্ঠান করবো।
গত সপ্তাহের কথা মা এই কথা বলার পর।এত খুশি লাগে বলার না। আর সইতে পারি না। মিথিলা কে তাড়াতাড়ি ফোন দিলাম। মিথিলা আমাদের খুব শ্রিগ্রি বিয়ে।ও জিগাসা করে কিভাবে? সব বল্লাম। আরো কিছু কথা বলে রাখলাম।
একটু পরে মিথিলার sms, ফোন কর। ফোন করলাম ,মিথিলার গলায় কোন খুশি নাই। বুঝলাম না ,জিগাসা করলাম কি হয়েছে জান? ও বল্ল আছ্ছা তুমি দেশে আসার পর বিয়ে করলে হয় না? আমি বল্লাম তাই তো হছ্ছে।এখন শুধু কাগজ টা। ও বল্ল আছ্ছা।
দুই ঘন্টা পর আবার মিথিলার sms, ফোন কর। ফোন করলাম । জিগাসা করলাম কি হয়েছে । মিথিলা বল্ল তোমাকে কিছু কথা বলবো। তুমি দেশে আসলে বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন বলতেই হবে। দেখো আগেও অনেকবার বলতে চেয়েছি বলতে পারিনি। আমি বল্লাম বলনা, মিথিলা ওনেক দুর থেকে বলতে থাকলো....
অর্নাসে ভর্তি হয়ে সুজনের সাথে পরিচয়।একসাথে চলতে চলতে সেকেন্ড ইয়ারে উঠে আমাদের সম্পর্কটা অন্য রকম হয়ে যায়। ২০০৪ এর মাঝামাঝি আমারা একেঅপরকে ভালোবেসে ফেলি। ২০০৫ এর ১৫ জানুায়ারি সুজন একটা কাবিন নামা এনে বলে সাইন কর। আমি বলি না , সম্ভব না। তোমার কথা বলি যে ওকে আমার বিয়ে করতে হবে। সুজন দেখি খুব মন খরাপ করে।তখন সাইন করে দেই। তার কিছুদিন পর সুজন বলে মিথিলা আমাকে একটু রাজশাহি যেতে হবে তুমিও চল। আমি বলি কখন ফিরবো।ও বলে বিকালে। কিন্তু রাজশাহি পৌছানোর পর দেখি তখন অলরেডি বিকাল আর কোন ফেরার ট্রেন নাই। সুজন তার কাজ সারার পর রাত হয়ে যায়। আমরা হোটেলে থাকার সিদ্ধান্ত নেই। হোটেলে রুম বুকিং এর সময় হঠাং দেখি সুজন স্বামি স্ত্রি নাম দিয়ে একটা রুম নিয়েছে।হোটেলের কর্মচারি দের সামনে আমি আর কিছু বলি না। রুমে যেয়ে বলি এমন করলে কেনো ।ও বলে আমরা তো স্বামি স্ত্রি তুমি কাগজে সাইন করনি? তখন আমি বুঝতে পারি সুজন আমাকে প্লান করে এনেছে। এবং ওই রাতে আমাদের সেক্স হয়। পরের রাত ও আমরা ওখানে থাকি।পরের দিন বাড়ি আসার সময় আমি সুজন কে বলি যে কাগজ টায় সাইন করেছিলাম সেটা পাকা কর। সুজন তার পর বিয়ে টা রেজিস্টি করে। আমিও পাকা ডিসিসান নেই যে যা হয়ে গেছে এখন সুজন কেই বিয়ে করবো। এর পর সুজনের ইছ্ছায় আমার তেমন অনইছ্ছা ছিল না যেহেতু ওকেই বিয়ে করবো । আমরা তিন বার কুয়াকাটায় যেয়ে হোটেলে স্বামি স্ত্রি হিসাবে কখনো ২ রাত কখনো ৩ রাত থেকেছি। তখন যা হবার সেটা হয়েছে। এরপর তুমি দেশে আসলে। আমি তোমাকে বলতে গেলাম কিন্তু বলতে পারলাম না।আমি তখন সুজন কে এভয়েড করতে থাকলাম।তারপর যে একবছর তুমি দেশে ছিলে তখন আমি কোথও যাইনি।
এরপর তুমি অষ্টেলিয়ায় গেলে আবার সুজনের সাথে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তখন আমরা আবার দুইবার কুয়াকাটায় যেয়ে হোটেলে স্বামি স্ত্রি হিসাবে ১ রাত ১ রাত করে থেকেছি। কিন্তু তারপর আমার মনে হয় যে না তোমাকে ছাড়তে পারবো না।তখন থেকে সুজনের সাথে পার্কেটার্কে গেছি লোকালি ঘুরেছি কিন্তু কোথাও রাত থাকিনি। কিন্তু সুজন আমাকে চাপাচাপি করতে থাকে দুরে যাবার জন্ন্য। এখন থেকে তিন মাস আগে ওর সাথে এই নিয়ে খুব গন্ডগোল হয়।তখন থেকে ওর সাথে সব সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে।
এখন তুমি সব জানলে। আমি বলবো আমাকে বিয়ে না করতে। আর তুমি যদি চাও আমাকে বিয়ে করতে আমি মন থেকে রাজি আছি।
এই শুনে আমি তো খুব রেগে গেলাম। আমি বল্লাম আমি এখনি সুজন কে লুলা করে দেব।মিথিলা আর্তনাদ করে বল্ল না। সুজনের একার দোষ না ওকে কিছু বলবে না। তুমি আমাকে স্বাস্তি দাও।
আমি ফোনে রেখে সুজন কে ফোন দিলাম। সে বল্ল হা আমাদের বিয়ে হয়েছে।আমাদের স্বামি স্ত্রির সব সম্পক হয়েছে। আমি মিথিলা কে চাই। আমি আপনাকে বল্ব বল্ব করছিলাম।আপনার জন্ন্য আমার খুব সর্বনাশ হয়ে যাছ্ছে।
আমি আরও জানতে পারলাম। সুজন আমাকে বল্ব বল্ব করছিল।আর আমাদের অনেক আত্নিয় দের এই ঘটনা জানিয়ে মিথিলাকে ফিরে পাবার চেষ্টা করছে।
এখন তুই বল দোস্ত আমি কি করবো। আমি দোটানায় পড়েছি।
প্রথমত মনে হছ্ছে মিথিলা আমাকে ফাকি দিয়েছে। ভিতরে নিশ্চই দেখেছিস। যে সময় টা থেকে সুজেনের সাথে সম্পক শুরু তখন থেকে শেষ পয়ন্ত ও আমার সাথে একই সম্পক রেখে গেছে।
২য়ত আরেকটা ছেলের সাথে সেক্স করেছে মেনে নিতে পারছিনা। ওর কথা মনে হলেই
আমার ঘিন্ন্যা লাগছে। আমার সাথে কিন্তু এটা কখনো হয়নি
অন্ন্যদিকে ওকে ছাড়া জিবন ভাবতেই পারছি না। আমার সব কিছুর সাথে ও জড়িত। যাকে এত ভালবাসি সে আমার কাছে ফিরে এসেছে তাকে ফিরিয়ে দেয়া কি ঠিক হবে।
ওকে ছাড়া আমার জিবন অচল।
...........................................................................................
১। ব্লগার বন্ধুরা আপনাদের পরামর্শ কি। আমার বন্ধুটি কি করবে?
২।আমার বন্ধুর সাথে গভির ভালবাসা ছিল।একই সময় মিথিলা কেন আরেকটা ছেলে কে ভালবেসে ফেল্ল?আপনাদের কি ধারনা?আমার মনে হয় পরের ঘটনা এই ভালবাসার ধারাবাহিকতা তাই সেটা কোন বাপার না। কিন্ত আগের টা কিভাবে ঘটলো

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

