somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নযাত্রা: ইটালী - ৭

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম। আজ কোলোসিয়াম, রোমান ফোরাম আর সংলগ্ন স্থাপনাগুলো যতোটুকু পারি দেখবো। খবর নিয়ে জেনেছি দু’দুটা লম্বা লাইনের মুখোমুখি হতে হবে আজ। একটা টিকেটের, আরেকটা ঢোকার। মূল ভিড় হয় কোলোসিয়ামে ঢোকার জন্য। হোটেল থেকে বাসে করে কাছের সাবওয়ে কর্নেলিয়া, তারপর দুইবার ট্রেন চেন্জ করে সকাল সাড়ে ১০টায় যখন কোলোসিয়ামের টিকেটের লাইনের কাছে আসলাম, আমার চোয়াল ঝুলে পড়লো! লাইনের আগা আর মাথার মধ্যে বিরাট তফাৎ! কি আর করা, লাইনে দাড়ালাম। একটু পর দেখি কিছু লোক ’স্কীপ দ্য লাইন’, ’স্কীপ দ্য লাইন’ বলে ডাকাডাকি করছে।

ঘটনা জানার জন্য দেশী চেহারার একজনকে ডাকলাম, ব্যাটা দেখি ইন্ডিয়ান। ঘটনা হলো, কিছু টাকার বিনিময়ে গাইড এবং টিকেটের ব্যাবস্থা করে দেয় এরা। লাইনের ভাব-সাব দেখে ’স্কীপ দ্য লাইন’ এর সাহায্য নেয়াই মনস্থির করলাম। এবার এক দেশী ভাইকে দেখে বললাম, আমার গাইডের দরকার নাই, টিকেটের ব্যাবস্থা করেন। কিন্তু সমস্যা বাধলো অন্য জায়গায়। সে বললো, প্রথমে যার সাথে কথা বলেছি তার সাথেই দরদাম করতে হবে, এটাই ওদের নিয়ম। আমি বললাম, নিয়মের খ্যাতা পুড়ি! আমার টাকা আমি দেশী কাউকেই দিবো, ভিনদেশী কাউকে না। নয়তো লাইনে দাড়িয়েই টিকেট কাটবো! তো দুইজন দুরে গিয়ে ফুসুর-ফাসুর করে আমাকে এসে বললো, দ্যান টাকা। আমি বললাম, ওকে ম্যানেজ করলেন কিভাবে? বলে, বলেছি, ভাই উনি ত্যাড়া টাইপের মানুষ, বেশী বাড়াবাড়ি করলে পুলিশ ডাকার হুমকি দিয়েছে। আর আশে-পাশে যেহেতু পুলিশের অভাব নাই, তাই বাধ্য হয়ে মেনে নিয়েছে। দেশীর বুদ্ধি দেখেন, আমাকে না জিজ্ঞেস করেই ত্যাড়া বানিয়ে দিয়েছে!!

টিকেট নিয়ে আরও ঘন্টাখানেক ঢোকার লাইনে দাড়িয়ে থেকে অবশেষে কোলোসিয়ামের ভিতরে ঢুকলাম। কোলোসিয়ামের ব্যাপারটা আপনাদের একটু সংক্ষেপে বলি। প্রায় আশি হাজার দর্শক-ধারনক্ষমতা সম্পন্ন এই কোলোসিয়াম বা এম্ফিথিয়েটারটির নির্মানকাজ শুরু হয় ৭২ খৃষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ৮০ খৃষ্টাব্দে। এখানে প্রায় প্রতিদিনই মূলতঃ গ্লাডিয়েটরদের রক্তাক্ত যুদ্ধ, নাটক আর অন্যান্য অনুষ্ঠনাদি সম্পন্ন হতো। বাকীটা ছবির সাথে সাথে বলছি।


কোলোসিয়ামে ঢোকার অপেক্ষায়



কোলোসিয়ামের ভিতরে মার্বেল পাথরের মেঝে, খুব বেশী বর্তমানে অবশিষ্ট নাই



দর্শকদের বসার জন্য ছিল এমন মার্বেল পাথরের গ্যালারী, এটাও খুব বেশী অবশিষ্ট নাই



প্রথম তলা থেকে নেয়া। এরেনা বা মূল ফ্লোর যেখানে যুদ্ধ বা অন্যান্য অনুষ্ঠান হতো তার খুবই সামান্য অবশিষ্ট আছে। এটি কাঠের তৈরী ছিল, উপরে বালি দেয়া থাকতো। এরেনার নীচে এই টানেল এবং ঘরগুলো হলো কোলোসিয়ামের হাইপোজিয়াম বা আন্ডারগ্রাউন্ড। টানেলগুলো বাইরের এবং আশেপাশের অন্যান্য ভবনের সাথে সংযুক্ত ছিল। এই টানেল দিয়ে গ্লাডিয়েটর, যুদ্ধে ব্যবহৃত পশু এবং শিল্পীরা যাতায়াত করতো। আবার এখান দিয়েই নিহত গ্লাডিয়েটর এবং পশুদের মৃতদেহ সরানো হতো। টানেল লেভেল থেকে এরেনা লেভেলে উঠা-নামার জন্য ক্রীতদাস-চালিত লিফটের ব্যাবস্থাও ছিল!



পুরো কোলোসিয়ামকেই আগের রুপে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে বছরের পর বছর। ভিতরে এমন স্যান্ডস্টোন এবং মার্বেলস্টোনের কারুকাজ করা প্রচুর পিলার ছিল যা বিভিন্ন সময়ে ভূমিকম্প বা অন্যান্য কারনে ভেঙ্গে পড়েছিলো। সেগুলোকে যথাস্থানে এনে রাখা হয়েছে আবার খাড়া করার জন্য। আপাততঃ দর্শনার্থীদের পাওয়ার ন্যাপের জন্য ব্যাবহৃত হচ্ছে!!



গ্যালারীতে যাওয়ার পথ



গ্যালারীর একাংশ



কোলোসিয়ামের উপরের তলা থেকে দেখা রোমান ফোরাম। ছবিতে গ্রীলের দরজাওয়ালা যেসব ঘরের মতো দেখছেন এগুলোই কোলোসিয়ামের আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলগুলোর সাথে সংযুক্ত ছিল।



উপর তলা থেকে এরেনা এবং হাইপোজিয়াম।



এরকম ভেঙ্গে পরা পিলার, মুর্তি বিভিন্ন জায়গায় রাখা আছে। এগুলোকে আবার স্ব-স্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে।



কোলোসিয়ামের ভিতরেই মিউজিয়াম আছে। সেখানে রাখা কলোসিয়ামের প্রোটোটাইপ।



প্রাচীন শিল্পীর চোখে গ্লাডিয়েটদের লড়াই। মিউজিয়াম থেকে।



এভাবে কোলোসিয়ামকে আবার নতুন রুপ দেয়া হচ্ছে। তফাৎটা খুবই পরিস্কার!



দ্য আর্চ অফ কন্সট্যান্টাইন। কোলোসিয়াম এবং প্যালেন্টাইন পাহাড়ের মধ্যিখানে অবস্থিত। ৩১২ খৃষ্টাব্দে কন্সট্যান্টাইন-১ মিলভিয়ানের যুদ্ধে ম্যাক্সেনটিয়াসের বিরুদ্ধে জয়ী হন। সেই জয়ের স্মরনে রোমান সিনেট এটা ৩১২ খৃষ্টাব্দেই তৈরী শুরু করে। ৩১৫ খৃষ্টাব্দে এর কাজ সমাপ্ত হয়।


কোলোসিয়ামের (কোলোসিয়ামের টিকেট দিয়েই ঢোকা যায়) পাশেই ফোরো রোমানো বা রোমান ফোরাম। এটা ছিল নগরীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে সিনেট হাউজ, কোর্ট-কাচারী, সরকারী দপ্তর, বিভিন্ন দেব-দেবীর মন্দির ছিল। শয়তানের মন্দির বা টেম্পল অফ স্যাটার্ন এখানেই প্রথম দেখলাম। কোন যুদ্ধে জয়ী হলে সেনাদল এখানে প্যারেড করতো। নিয়মিত বাজারও বসতো এখানে। বিভিন্ন গন-জমায়েত থেকে শুরু করে বক্তৃতা-বিবৃতির স্থান ছিল এটি। আমাদের বঙ্গবন্ধু এভিনিউও অনেকটা এই ধাচের, কি বলেন!!!

নীচের সবগুলো ছবিই ফোরামের।










তথ্য কিছু গুগলের, কিছু ওখানকার পরিচিতিমূলক পুস্তিকা এবং বোর্ডের, ছবি প্রথমটা নেট থেকে, বাকিগুলো আমার ক্যামেরা এবং ফোনের।

চলবে (তবে আগামী পর্বই শেষ পর্ব).........
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:১৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাকার শিশুদের ইদ বিনোদন

লিখেছেন তারেক_মাহমুদ, ১৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:০৫



ইদের পর অফিস খুলেছে দুইদিন, তবে রাজধানীতে এখনো ঈদের আমেজ কাটেনি। ঢাকার রাস্তাঘাট একদম ফাকা, অন্য সময় যেখানে দুই আড়াই ঘন্টা লাগতো, আজ ত্রিশ মিনিটেই অফিসে চলে আসলাম। গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বকাপ ফুটবল- দলগুলোকে সাপোর্টের নামে কী করছি!!

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫২


:: বাঙালিরা নিজের সফলতার চেয়ে অন্যের ব্যর্থতায় বেশি খুশি হয়। অন্যভাবে বললে, ব্যর্থ মানুষরা সফল মানুষদের ব্যর্থ হতে দেখতে চায়, বড়ই পুলকিত হয়। আর খেলাধুলা ক্ষেত্রে তো আমরা আরো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যের পথে চলতে হবে এটাই শেষ কথা

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৪


ভোটাধিকার নেই বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে
আছে মেতে সবেই-
নিজোদেশে বাস করে প্রবাসীদের মতো
তবু মনে নেই তাদের গভীর কোন ক্ষত।
যুদ্ধার্জিত স্বাধীনতারে কত দামে বিক্রি করে
আমরা সবে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের চোখে দেখা কয়েকটি মৃত্যু

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৭



১। ভদ্রমহিলা আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার দুইটা মেয়ে দশ-বারো বছর। স্বামী রেড ক্রিসেন্টে চাকরি করেন। কথা নেই, বার্তা নেই মহিলা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রচুর বমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"স্বপ্ন বয়ন"

লিখেছেন বৃষ্টি বিন্দু, ১৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:২০



কবিতা তুমি কোথায়?
কোথায় তোমার গন্তব্য?
এত পথ চলো,
এতো কবির নিউরনে ঝড় তুলো!
অথচ তুমি ক্লান্ত নও।
নাকি প্রচণ্ড ক্লান্ত,
তাও শুধু আমার জন্য?
মাঝে মাঝে পথ ভুলে চৌরাস্তায় দাঁড়িও।
সেখান থেকে তোমাকে নাহয় পিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×