আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় সর্বজনশ্রদ্ধেয় চিন্তাবিধ ও শিক্ষাবিধ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ, ইতিহাসবিদ, গবেষক, বামপন্থী রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও কলামিষ্ট বদরুদ্দীন উমর এবং দৈনিক আমার দেশ-এর কারারুদ্ধ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সমালোচনা করেছেন তাঁর কলামে। এর মধ্যে তিনি বদরুদ্দীন উমরকে বেছে নিয়েছেন তাঁর তীব্রতম ও রূঢ়তম বকাবকি করার পাত্র হিসাবে। দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে' শিরোনামে বদরুদ্দীন উমর এর একটি লেখা প্রকাশিত হয়। এতে উমর বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ আপন কাজের দোষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার নৈতিক ও আইনগত অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। তিনি এও উল্লেখ করেন ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙ্গালীরাও কিছু যুদ্ধাপরাধ করেছিল। এতে খুবই রেগে গিয়ে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী কালের কন্ঠ পত্রিকায় ২৩ জুলাই ও ২৭ জুলাই দুই কিস্তিতে 'একাত্তরের রাজাকার আলবদরদের নয়া 'স্পোকসম্যান' শিরোনামে একটা লেখা লিখেছেন। গাফ্ফার চৌধুরী এই লেখায় উমরকে একজন আলবদর হিসাবে চিত্রায়িত করার জন্য তাঁর নাম দিয়েছেন 'আলবদরুদ্দীন উমর'। গাফ্ফার চৌধুরী এছাড়াও বদরুদ্দীন উমরকে 'নরাধম' ও 'জাতিদ্রোহী' বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী আব্দুল গাফ্ফার চৌদুরীর মন্তব্য সমূহের উত্তর দিয়ে আসছেন ধারাবাহিকভাবে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় তাঁর লেখার শিরোনাম 'বাংলাভাষী বৃটিশ সাংবাদিকের ধৃষ্টতা'। এই সিরিজ-জওয়াবে সঞ্জীব চৌধুরী অতীত ঘেটে প্রকাশ করেছেন যে, জনাব আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৭৪ সালে দৈনিক জনপদ পত্রিকার (বর্তমান লুপ্ত) প্রথম পৃষ্ঠায় শুরু করে একটা ঢাউস নিবন্ধ লিখেছিলেন সেটির শিরোনাম ছিল 'জাতি আজ দ্বিধাবিভক্ত। এ মুহুর্তে প্রয়োজন সাধারণ ক্ষমা। এই নিবন্ধে তিনি বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনকারী বাঙ্গালী দালালদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য যে, ১৯৭৪ এর এপ্রিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৫ জন পাকিস্তানী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদেরকে ক্ষমা করে দেয়। এদিকে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৭৪ এ তার সম্মানিত জনপদ পত্রিকায় 'দালালদের' জন্য ক্ষমা প্রদর্শনের আহবান জানানোর কিছুদিন পরই বঙ্গবন্ধু এক সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করে হাজার হাজার কোলাবেটরদেরকে ছেড়ে দেন। সঞ্জীব চৌধুরী তার লেখায় মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তখন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী এজন্য তাঁর কৃতিত্ব দাবি করেছেন, 'এই মহান কীর্তির' স্বীকৃতি হিসেবে কেউ যদি আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর নাম পাল্টে আব্দুল রাজাকার চৌধুরী (অর্থ্যাৎ রাজাকারদের চাকর) রাখতে চায় তবে ব্যাপারটি কি তার কাছে খুব সুখকর মনে হবে?
@ বাংলাদেশ ফাষ্ট থেকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

