এই নিয়া কমপক্ষে একশবার চেষ্টা করছি বিড়ি খাওয়া ছাড়ার। ফলাফল লাড্ডু। একটানা ১৫দিন না খাইয়া আছিলাম একবার। এইটাই বিরতির হাইয়েস্ট রেকর্ড। এর বেশি পারিনাই। দোস্তগো ঠেলায় পইরা মাঝখানে একবার গোল্ডলীফ ছাড়ান দেওন লাগছিলো। দোস্তগো মধ্যে আমি ছাড়া আর মাত্র একজন খাইতো গোল্ডলীফ। বাকি সবগুলাই আছিলো লাটসাহেবের বাল। বেনসন এন্ড হেজেস ছাড়া খাইতোনা। শেষমেষ আমার হেই জিগরিদোস্তও একদিন বেনসন ধইরা বসলো। বেনসন না খাইলে নাকি কলিগগো কাছে তার ইজ্জট থাকেনা! ওই হারামিটার লগে জিদ কইরা একলা একলা কয়েকদিন গোল্ডলীফ চালাইলাম কিনতু আমারে একলা পাইয়া পুরা গুরুপের পুলাপাইন আমার লগে শুরু করলো বিতলামি। এমনিতে আমাগো মধ্যে বিড়ির ভাগজোগ নিয়া কাইজা ফেসাদ হওয়াটাই আছিলো স্বাভাবিক। নিজের পকেটে বিড়ি থাকতেও আরেকজনের আধাখাওয়া বিরি নিয়া কত যে কাড়াকাড়ি করছি তার হিসাব নাই। কিনতু তখন আমারে বেনসন খাওয়ানির জন্য সবাই দেখি আস্তা বেনসন পর্যন্ত কুরবানি দিয়া দিতে রাজি! এই কাজে সবচয়ে বেশি আগ্রহ আছিলো আমার সেই বেইমান দোস্তটার। বেশিদিন ডাট দেখাইতে পালাম না। একদিন আমিও বেনসন খাওয়া শুরু কোলাম অন্য সবার মতুন। পুরা গ্রুপ হইলো বেনসন গ্রুপ! কিনতু বেনসন আমার কাছে খুব একটা জুইতের লাগতাছিলো না। এইভাবে গেলো কয়েকমাস। তারপর একদিন হেই দোস্ত আইসা কয়, আয় আবার থিকা সোনাপাতা খাওয়া শুরো করি। আমার হেই দোস্ত আবার গোল্ডলীফ সিগারেটরে কইতো সোনাপাতা বিড়ি। আমি কইলাম তর ইজ্জতের কি হইবো? দোস্ত মনে হয় লজ্জা পাইলো। কইলো, ইজ্জতের খেতা পুড়ি! হেই থিকা আবার দুই দোস্তের সোনাপাতা বিড়ি খাওয়ার শুরু...
আইজকা আমার খুব মনে পড়তাছে হেই বেইমান দোস্তটার কথা।
আরেক রাইতের কথা মনে কইরা এখনো মাঝে মাঝে হাসি। হইছে কি, হেই রাইতে আমাগো চাইর রুমমেটের কাছে সব মিলাইয়া অফিসিয়ালি কোনো বিড়ি আছিলো না। তাস খেলতে খেলতে সব বিড়ি শেষ! আমাগো রুমমেট সুজা আবার সবসময় দইএকটা বিড়ি ইমার্জেন্সি ব্যাকআপ হিসাবে লুকাইয়া রাখতো। সেইদিন তার ইমার্জেন্সি ভান্ডারে আছিলো মাত্র একটা বিড়ি। হেই বিড়ি ভাগ কইরা খাইতে খাইতে বিড়ির মালিক সুজার হতে যখন পৌছাইলো তখন আগুন ফিল্টার ছোয়-ছোয় অবস্থা! এমনেই সুজা কিছুক্ষন আগে তাস খেইলা লালে সেট খাইছে, তার উপর বিড়ির ভাগ পায় নাই! আর যাই কোথায়, হেই পোড়া ফিল্টার ছুইড়া ফালাইয়া দিয়া আমাগোরে গাইলাইতে গাইলাইতে শীতকালে রাইত সাড়ে চইরটায় সে বাইর হইলো বিড়ি কিনতে! কতোক্ষন পর আইসা আকটা নতুন প্যাকেট ছুইড়া দিয়া কয়, খা! জনমের খাওয়া খা! আমরা আর বিড়ি খামু কি, শরমে কচুকাটা! চুপচাপ মাথা নিচা কইরা বইসা বইসা ভাবতাছি কামটা করলাম কী! যার বিড়ি তারে না দিয়াই খাইয়া ফালাইলাম! আবার রাগও লাগতাছিলো। আরে ব্যাটা তরে না দিয়া না হয় খাইয়াই ফালাইছি, সেইটা লইয়া এমন তুলকালাম করনের কি আছে? আবার নতুন প্যাকেট মুখের উপর ছুইড়া দিয়া অপমান করস! সুজারে দুইএকটা কড়া কথা শুনামু কিনা এইটা যখন সিরিয়াসলি ভাবতাছি তখনই হঠাৎ কইরা সুজা হাইসা কয়, রুমে দেখি পানিও নাই। যা, পানি নিয়া আয়। পরোটা-ভাজি নিয়া আইছি, সবাই মিলা খাই। বহুত খিদা লাগছে...
সুজারেও আইজকা আমার খুব মনে পড়তাছে।
পুরাই খামাখা!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


