আস্তিক এবং নাস্তিক নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ দিনের। ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন বা করেন না। হাজার বছর ধরে ধর্মচর্চা চলে আসছে। শিশুর যখন থেকে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটে তখনই সে দেখতে পায় তার মা বাবা আত্মীয়স্বজনের ধর্মভক্তি। তারপর আরো একটু বড় হলে বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন, পাড়া পড়শী, স্কুলের সহপাঠীরা সবাইকে সে খুজে পায় ধার্মিক হিসেবে।সমাজ ব্যাবস্থাও ধার্মিক কে ভাল মানুষ হিসেবেই দেখে।
সুতরাং এটা খুবই স্বাভাবিক যে ধর্ম কে জীবনের গুরত্বপুর্ন অংশ হিসেবে নিয়েই বেড়ে ওঠে।যার ফলে অন্য সব কিছুকেই ধর্মকে দিয়েই সে বিচার করা শুরু করে।আমার ধর্ম সঠিক এবং অন্যের ধর্ম বেঠীক।এই বিশ্বাসের ফল কিন্তু এক ধরনের অহং বোধেরই জন্ম দেয়।যার ফলে হিটলারের দেশপ্রেমের সংগাই হয় তার সঠিক হিসেবে দৃস্টিভঙ্গি। হিটলার যেমন এরিয়ান রেসকে শ্রেস্ট হিসেবে বলত, ইহুদীদের নিকৃস্ট জীব হিসেবে দেখত, একইভাবে তারা নাস্তিক বা অন্য ধর্মকে নীচ হিসেবে ধরে নেয়। যে ধার্মিক সে ভাল , যে নাস্তিক সে খারাপ।আর মানুষ কিন্তু ধর্মকে পায় জন্মের মাধ্যমে। পারবারিক ভাবেই তার ধর্ম নির্ধারিত হয়। জন্মগত ভিত্তিতে শ্রেস্ট বা নীচ হওয়ার বিধান কিন্তু যুক্তি হতে পারে না।জন্মের উপর যেমন আপনার কোন হাত ছিল না জন্মগত ভাবে নির্ধারিত ধর্মএর ভিত্তিতে নিজেকে শ্রেস্ট দাবীও কিন্তু মুল্যহীন।
ধর্মগ্রন্থ সমুহ ও অবিশ্বাসীদের কে ভাল বলে না, নাস্তিকদের দোজ়খের শাস্তী ইত্যাদির কথা বলে। আর ইহকালে তো বিশ্বাসীদের আক্রমনের শিকার তো হতেই হয়।পরকালে ধার্মিকদের কি কি পুরস্কার আছে সে সম্পর্কেও অনেক কিছু নির্দিষ্ট ভাবে বলা আছে। বিশাসীরা স্বাভাবিক ভাবেই সব কিছুকে বিচার করা শুরু করেন ধর্মকে মুল হিসেবে ধরে নিয়ে।তারা ইহকাল পরকাল সব কিছুর শান্তির জন্য ধর্মকে অপরিহার্য্য ধরে নেন।যেহেতু ধর্মগ্রন্থে এটা এভাবে লেখা আছে এটাই সঠিক। এখানে যুক্তির চেয়েও বিশ্বাস বেশী কাজ করে। একজন মানুষের দৃস্টিভঙ্গি যুক্তির উপর বেশী নির্ভরশীল হওয়াই বাস্তবতা। ধর্ম কিন্তু এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার অনুমতি দেয় না। কারন হয়ত তাতে দুর্বল দিক গুলো বেরিয়ে আসবে।
ইহকাল যদি আমরা দেখি তবে ইহকালের সুখ কিন্তু ধর্মীয় বিস্বাসের উপর নির্ভর করে না। যারা বিশ্বাসী তারা ভাল আছেন দাবী করবেন। কিন্ত নাস্তিকেরাও একই দাবী করবেন। অল্প কিছু দিন আগে প্রকাশিত এক জরীপে দেখা গেছে, অধার্মিকের দেশ ডেনমার্ক যেখানে ৭৯% লোক নিজেদের নাস্তিক দাবী করেন সেটা হল সবচে সুখি দেশ। কানাডা দ্বিতীয়। এই সুখ হিসেব করা হয়েছিল বাস্তব পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে,যেমন স্বাস্থ্য সেবা , আবাসন, শিক্ষার সুযোগ ইত্যাদির ভিত্তিতে।কোন দেশ কি পরিমান ইশ্বরে বিস্বাসী সেটাও দেখা হয়েছিল, তাতে দেখা গেছিল মুসলিম প্রধান দেশ সমুহে বিশ্বাসীর সংখ্যা বেশী যেমন তুরস্কে ৯৫% ভাগ।
এখন সুখের মাপকাঠি নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে উন্নত দেশ গুলোতে জীবনযাত্রার মান কিন্তু বিশ্বাসী দেশ গুলো থেকে অনেক উপরে।এই সমস্ত দেশে ধর্মকে কিন্তু কাজের উপর স্থান দেওয়া হয় না। কাজকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। আপনি ধর্ম করবেন? করুন, কোন বাধা নেই। কিন্তু কখনই কাজ ফেলে নয়। নামাজ পড়বেন বলে কাজ করবেন না তা কিন্তু পারবেন না। বাঙ্গলাদেশে নামাজের নাম করে এক ঘন্টা আগে বেরিয়ে এক ঘন্টা পরে কাজে ফিরে আসা সর্বজন স্বীকৃত।
আমার ধারনা কাজকে প্রাধান্য দেওয়াই এদের উন্নতির মুলমন্ত্র। ধর্মীয় আবেগ কে প্রাধান্য না দিয়ে কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নত বিশ্ব কিন্তু তাদের শ্রেস্টত্ব অর্জন করেছে। পরকালের হিসেবে না গিয়ে ছোট বুদ্ধি দিয়ে ইহকালে পশ্চিমা বিশ্বকেই কিন্তু দেখতে পাই চালকের আসনে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১১ সকাল ৮:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


