ছোড় বেলায় বড়দার কাছে যে গল্প শুনেছিলাম তা ছিল অনেকটা – গুরু শিষ্য দেশভ্রমনে বেরিয়ে এক আজব দেশে গিয়ে উপস্থিত হলেন, যে দেশে ঘিয়ের দাম পানির চেয়ে কম সোনার দাম বালির চেয়ে কম , মাংশের দাম কচুর চেয়ে কম ইত্যাদি। শিষ্য তো মহাখুশী। এমন দেশ আর হয় না,শিষ্য সেদেশে থেকে যেতে চাইলেও প্রমাদ গুনলেন গুরু। গুরু শিষ্যকে রেখে চলে যাওয়ার সময় উপদেশ দিলেন “ সাবধানে থেক, আর বিপদে পড়লে স্মরন কোরো। শিষ্য সস্তায় ভাল ভাল ভাল খাবার খেয়ে দুদিনেই নাদুস নুদুস হয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছিল। এর মধ্যে রাজ সভায় ঘটল এক কান্ড। চোর চুরি করতে পাচিল টপকাতে গিয়ে ঠাং ভেঙ্গে ফেলল। চোর রাজার কাছে এসে অভিযোগ করল” হুজুর বাড়ীওয়ালা শক্ত করে পাচিল বানায়নি, ফলে আমিচুরি করতে গিয়ে পড়ে ঠ্যাংগ ভেঙ্গেছি, বিচার করুন হুজুর” রাজা মশাই হুকুম দিলেন ধরে আনো বাড়ীওয়ালাকে। বাড়ীনওয়ালা রাজসভায় এসে গত্যন্তর না দেখে বয়ান করল “ হুজুর বাড়ী আমার ঠিকই কিন্তু পাচিল বানিয়েছে রাজ মিস্ত্রি, সুতরাং দোষ তার আমার নয়। এবার আদেশ হল রাজমিস্ত্রীকে ধরে আনার। রাজমিস্ত্রী জীবন সঙ্কটাপন্ন দেখে সবিনয়ে জানাল “ হুজুর আমি যখন পাচিল বানাই তখন এক সুন্দরী মেয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল তার দিকে নজর দিতে গিয়ে আমি পাচিল ঠিক মত বানাতে পারি নি সুতরাং দোষ মেয়েটার, আমার নয়। আদেশ হল মেয়েকে ধরে আনার। রাজসভায় মেয়েটি এসে জীবন যায় যায় দেখে রাজাকে জানাল “ হুজুর আপনি তো দেখছেন আমাকে, আমি কি তাকিয়ে থাকার মত সুন্দরী? মোটেই না , কিন্তু সেদিন খুব সুন্দর একটা শাড়ী পরার কারনে আমাকে সেদিন সুন্দরী লাগছিল, সুতরাং দোষ সেই তাতীর যে শাড়ীটি বানিয়েছিল। ধরে আনা হল তাতীকে । রাজার বিচারে রায় হল তাতীকে শুলে চড়িয়ে মারার। কিন্তু শুলে চড়াতে গিয়ে বিপদ হল যে তাতী নিতান্তই রোগা পটকা। এবার রাজার আদেশ হল তাতীর পরিবর্তে নাদুস নুদুস কাউকে শুলে চড়ান হোক। খুজতে খুজতে গিয়ে পাওয়া গেল শিষ্যকে। নাদুস নুদুস শিষ্যকে ধরে এনে রাখা হল জেলে। শুলে চড়ার আগে শেষ ইচ্ছে হিসেবে গুরুকে দেখতে চাইলো শিষ্য। গুরু এসে শিষ্যকে আশ্বস্ত করলেন “ চিন্তা করিস না আমি আছি” কিন্তু কোথায় কে। নির্দিস্ট দিনে উন্মুক্ত মাঠে শুলে চড়ানোর আয়োজন করা হল। টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শিষ্যকে এমন সময় কোথা গুরু এসে রাজার কাছে আর্জী জানালেন শুলে চড়বার। রাজা কারন জিজ্ঞেস করলে গুরু জানালেন “ পঞ্জিকামতে এই শুভক্ষনে শুলে চড়লে নির্ঘাত স্বর্গবাস। রাজা জিজ্ঞেস করলেন সত্যি ঠিক তো। গুরু নিজের তৈরী পঞ্জিকা বের করে রাজাকে দেখালে রাজা গর্জে উঠলেন ‘ ইয়ার্কি হচ্ছে? আমার বুড়ো মা থাকতে স্বর্গে যাওয়ার এই সুবর্ন সুযোগ তুমি পাবে তা ভাবলে কি করে?” রাজা আদেশ দিলেন মাকে শুলে চড়ানোর। শিষ্য মুক্তি পেলেন। গুরু শিষ্যকে স্মরন করিয়ে দিলেন “যে দিন এই দেশে সব কিছু দেখেছিলাম উলটো সেই দিনেই বুঝেছিলাম এ দেশে থাকা নিরাপদ নয় , চলো শিঘ্রই কেটে পড়ি”
আমি মুক্তিযুদ্ধ স্বচক্ষে দেখেছি, রাজাকার আল বদর পাকীস্তানীদের সব কিছুই আমার দেখা, শোনা বা পড়া। সুতরাং কারো কাছে রাজাকারদের সম্পর্কে জানার কোন দরকার আমার নেই। যদি আমার ক্ষমতা থাকত তবে সব রাজাকার আল বদর এবং তাদের মদদদাতাদের রাজাকাররা যে ভাবে খুন করেছে, ধর্ষন,লুটপাট, ঘরবাড়ী পুড়িয়েছে সেই একইভাবে তাদেরকে খুন করতাম, তাদের শাস্তি দিতাম।
তিনশ’র উপর খুন, ৫টী প্রমানিত অপরাধের জন্য কাদের মোল্লার জাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তি আমাকে মনে করিয়ে দিল ছোটবেলায় বড়দার কাছে শোনা উপরের গল্পকে। মনে হচ্ছে এ দেশ নিরাপদ দেশ নয়। এই কাদের মোল্লাই হয়ত সামনের বছর প্রয়োজনে রাস্ট্রপতির ক্ষমায় বেরিয়ে এসে আবার আরেকটা ৭১ ঘটাবে। বাংলাদেশকে হয়ত আরো বেশী মুল্য দিতে হবে রাজাকারদের যথাযথ শাস্তি না দেওয়ার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



