বাংলাদেশের সেকুলার শক্তির মাঝে ইসলাম-ভীতি আজকের নয়, বরং শুরু থেকেই। শেখ মুজিবের মগজেও সে ভয় ছিল প্রচন্ড। ফলে আইন করে ইসলামী শক্তির উত্থানকে তিনি রহিত করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন সুতারদের মত ভারতীয় দালাল-ঘাতকদের আওয়ামী টিকিটি তিনি এমপি বানিয়েছেন কিন' লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী মুসলমানদের তিনি সংগঠিত হতে দেননি। শুধু এ অপরাধে যে তাদের অঙ্গিকার ছিল ইসলামের প্রতি। তিনি দেশের নাসি-ক কম্যিুনিষ্ট, সমাজতন্ত্রি, জাতিয়তাবাদী, এমনকি বেশ্যাদেরও সংগঠিত হওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন যাতে তারা নিজ নিজ কর্ম, আদর্শ ও দূষীত জীবববোধের প্রসারে আত্মনিয়োগের সুযোগ পায়। কিন' যারা ইসলামের বিজয় ও গৌরব বাড়াতে নিজেদের শ্রমদান ও আত্মদানকে অতি পবিত্র ও অলংঘনীয় দায়িত্ব মনে করেন তাদেরকে সে সুযোগ দেননি। শেখ মুজিবের এটি অজানা ছিল না যে প্রকৃত মুসলমান মানেই ইসলামের পক্ষের শক্তি। তার কাছে ইসলামে নিরপেক্ষ থাকাই মহাপাপ। এমন নিরপেক্ষতার অর্থ, ধর্ম-অধর্মের দ্বন্দে মুসলমানকে নিস্ক্রীয় করা। অথচ ধর্ম-অধর্মের দ্বন্দে নিস্ক্রীয় হওয়াটাই শুধু অধমর্ই নয়, এটি আল্লাহর বিরুদ্ধে চরমতম বিদ্রোহ। একাজ কাফেরদের বা মুনাফিকের। সুদ-ঘুষ, মদ-জুয়া, ব্যাভিচার ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠার ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিরপেক্ষ বা নিস্ক্রীয় থাকাটা এজন্যই প্রতিটি ঈমানদারের জন্য অতিশয় বর্জনীয়। এটি তার ঈমান বাঁচানোর বিষয়। তাই সেকুলারিজম আদৌ কোন ইসলামের পরিভাষা নয়। আদি আরবী ভাষাতে এমন শব্দই নেই। অধুনা সেকুলারিজম বোঝাতে আলমানী নামে আরবীতে একটি শব্দ যোগ হয়েছে নিছক পাশ্চাত্যের প্ররোচনায়। এটি তাই নিছক সামপ্রতিক আবিস্কার।
দ্বন্দ-সংঘাতময় এ বিশ্বে কেউ ইসলামের পক্ষে না হলে অবশ্যই তাকে ইসলামের বিপক্ষে হতে হয়। নিরপেক্ষতা বলে মধ্যম পথ এখানে নেই। এজন্যই বাংলাদেশের মত দেশে যারাই ধর্ম নিরপেক্ষতার ভান কর তারাই রাষ্ট্রের আইন-আদালত ও শ্ক্িষা-সংস্কৃতিতে আল্লাহর দ্বীন তথা শরিয়তের প্রতিষ্ঠার ঘোরতোর শত্রুপক্ষ। এবং এটি তাদের মনের গোপন বিষয়ও নয়। ফলে তাদেও ধর্মনিরপেক্ষতার ভান যে নিছক ধোকাবাজি এরপরও কি সেটি বুঝতে বাঁকি থাকে। তারা গায়ে গতরে খাটেন আল্লাহর শরিয়ত বিরোধী কুফরি আইনের হেফাজতে যা বেশ্যাবৃত্তি, সূদ, জুয়ার ন্যায় পাপাচারকে বৈধতা দেয়। অথচ মুসলমান হওয়ার অর্থই হল ইসলামের পক্ষ নেওয়া। সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের পরবর্তী সবাই ইসলামের পক্ষ নিয়েছেন। কেই নিরপেক্ষ থেকেছেন তার কোন নজির নেই। ফলে ইসলামের নামে মুসলমানদের সংগঠিত হতে দেওয়ার অর্থই যে তাদের নিজেদের পায়ে কুড়াল মারা সেটি মুসলিম দেশের সব সেকুলাররাই বোঝে। পাশ্চাত্য দেশে সেকুলারদের সে বিপদ নেই। কারণ ইসলাম সেখানে কোন রাজনৈতিক শক্তি নয়। আর খৃষ্টানধর্ম তো রাজনীতিকদের জন্য ময়দান ফাঁকাই ছেড়ে দিয়েছেন। হযরত ঈসা (আঃ) রাষ্ট্রপরিচালক রূপে কোন আদর্শ রেখে জাননি। এমনকি রেখে যাননি তার ১২ খলিফাও। ফলে অতিশয় ধর্মভীরু পাদ্রীরাও ধর্ম বর্জিত শাসকদের বিরুদ্ধে বিকল্প কোন মডেল খাড়া করতে পারেননি। খৃষ্টান ধর্মযাজকগণ এজন্যই সেকুলারদের চেয়েও সেকুলার। রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে মাথা ঘামানোকে তারা অধর্ম মনে করে। নিজেদের কাজকর্মকে গীর্জার চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখাকে তারা ধর্মীয় পবিত্রতা ভাবেন। খৃষ্টান জগত বরং রাজনীতি শিখেছে রোমান সম্রাট কনস্টানটাইনের কাছ থেকে যখন তিনি খৃষ্টীয় চতুর্থ দশকে খৃষ্টান হযে যান। কনস্টানটাইনের সে রাজনীতিতে ধর্মের বেলায় ছিল না। একারণেই তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের হত্যার মাধ্যমে সাম্রাজ্যের প্রজাদের জোর করে খৃষ্টান বানানোকে ধর্মীয় কর্ম রূপে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর খৃষ্টান পাদ্রীদের কাজ ছিল তার সে নিকৃষ্ট কাজ গুলোকে জায়েজ বলে প্রচার করা। পরবর্তীকালে সেটিই মডেলে পরিণত হয়েছে সমগ্র পাশ্চাত্য জগতে। রাজনীতিতে ধর্মের প্রবেশ বন্ধ করে অধর্মকে এভাবেই সর্বস-রে প্রতিষ্টা করা হয়েছে। ফলে পাশ্চাত্যের উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদীরা যখন আফ্রিকার দুর্বল ও দরিদ্র মানুষদের গলায় রশি বেঁধে গবাদী পশুর ন্যায় বাজারে তুললো বা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের নির্মূল করতে লাগলো তখন পাদ্রীরা নিশ্চুপ থাকাটাই ধর্ম-কর্ম মনে করেছিল। অনেক বরং এটিকে সভ্যতার বিস-ার বলে সে সময় সে বর্বরতাকে প্রশংসাও করেছিল। পাশ্চাত্য সমাজে বিবাহ যে ভাবে প্রাচীন প্রথারূপে চিত্রিত হচ্ছে এবং প্রসার পাচ্ছে অবাধ যৌণতা, পর্ণগ্রাফি এবং সমকামিতা সেটি তো ধর্মবর্জিত সেকুলার সংস্কৃতি ও রাজনীতির কারণেই।
কিন' ইসলামের বিষয়টি এক্ষেত্রে ভিন্ন। মুসলমান হওয়ার অর্থ শুধু নামাযী, রোযাদার বা হাজী হওয়া নয়, তাকে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক হতে হয়। রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন, প্রতিরক্ষা ও ও রাজনীতির উপর নজরদারি রাখা ও তার সংস্কারে আত্মনিয়োগ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। এটি শুধু নবীজীর (সাঃ) সুন্নতই নয়, ইসলামের ফরজ বিধানও। নবীজী (সাঃ) নিজেই ছিলেন আমুত্যু রাজনীতিক। আমৃত্যূ রাজনীতিক ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদা, আশারায়ে মোবাশ্শেরা ও নবীজীর প্রতিজন সাহাবা। তারা নবীজীর (সাঃ) ন্যায় হামলার মুখে বিধর্মীদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, দেশ-শাসন করেছেন এবং অনেকে শহিদও হয়েছেন। মুসলমানের মনে ইসলামের প্রতি অটুট বিশ্বাটটি যেমন কাম্য তেমনি কাম্য তার রাজনীতিতে ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিজয়ের অঙ্গিকার। সেটি না থাকলে সে আর মুসলমানই থাকে না।
মুসলিম বিশ্বে যারা সেকুলার রাজনীতিবিদ তাদের জীবনে প্রচন্ড প্রভাব পড়েছে খৃষ্টান ধর্মের, ইসলামের নয়। ইসলাম ও নবীজীর (সাঃ) থেকে তারা অনেক দূরে। মুসলমানের ন্যায় আরবীতে নাম ধারণ করেও যেমন অনেকে পতিতাবৃত্তিতে নামে, তেমনি অনেকে নাসি-ক কম্যিউনিস্ট হয় বা ইসলামের প্রতিষ্ঠা বিরোধী সেকুলারও হয়। তাদের কাছে ধর্মে অঙ্গিকারের অর্থই হলো মৌলবাদ। তাদের সাথে পাশ্চাত্য দেশসমূহের নব্য-ক্রসেডপনি' নেতাদের সখ্যতা এজন্যই এতটা গভীর। তবে পাশ্চাত্যের সাথে তাদের মিলটা নিছক ধর্মহীনতায়, পাশ্চাত্যের অপর গুণগুলো তারা পায়নি। বা তাদের শেখানোও হয়নি। ফলে ধর্মহীনতার কারণে এদের বেড়েছে সীমাহীন চরিত্রহীনতা। বাংলাদেশ, পাকিস-ান, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিশর তুরস্ক - এসব দেশগুলোয় বিগত অর্ধ-শতাব্দি জুড়ে এসব সেকুলার রাজনীতিকরাই ক্ষমতায় আছে। কিন' সেকুলার নেতৃত্ব দেশগুলোর কোন গৌরবই বাড়াতে পাড়েনি। বরং দূর্নীতি, অপচেতনা ও অপসংস্কুতিতে তারা মুসলিম উম্মাহকে বিবস্ত্র করে ছেেেড়ছে। আর বাংলাদেশের সেকুলারগণ এক্ষেত্রে সবাইকে হার মানিয়েছে। দেশকে তারা বিশ্বের সবচেয়ে দূর্নীতিগ্রস- দেশে পরিণত করেছে। রাজনীতি যেখানে ইবাদত, এরা সেটিকে বাণিজ্যে পরিণত করেছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পরিণত হয়েছে অপরাধীদের ট্রেড ইউনিয়নে। রাজনৈতিক দলের ক্যাডারগণ নেমেছে চাঁদা ও ভোট আদায়ের সন্ত্রাসে। তারা এতটাই মনুষ্যত্ব বর্জিত যে মানুষ খুন করা, যাত্রীভর্তি বাসে আগুণ দেওয়া, ব্যাংক ডাকাতি করা কোন ব্যাপারই নয়।
দ্রুত নীচে ধাবমান বাংলাদেশকে বাঁচানোর সামর্থ যে ইসলামে অঙ্গিকারহীন সেকুলারদের নাই সেটি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। পঞ্চাশ বছরেরও বেশী কাল ধরে জাতির উপর সেকুলার প্রেসক্রিপশনের প্রয়োগ হয়েছে কিন' রোগ সারেনি। শুধু পয়সার লোভে যারা রাজনীতি করে বা চাকুরী করে তাদের দ্বারা পাপিষ্টদের বিরুেদ্েধ রক্তক্ষয়ী লড়ায়ে বিজয়লাভ সম্ভব নয়। বরং এ কাজকে যারা ইবাদত ভাববে, এপথে অর্থ, শ্রম ও মেধাদানকে যারা জ্বিহাদ ভাববে একাজ মূলতঃ তাদের। তখন বেতনলাভ নয়, বরং এমন কাজে প্রাণদানকেও তারা দায়িত্ব ভাববে। যুগে যুগে এমন চেতনাবানরাই রাষ্ট্রে পরিবর্তন এনেছে। এ প্রেরণাতেই মরুর নিস্ব মুসলমানেরা বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। তখন চাকরকে উটে চড়িয়ে রশিধরে সামনে চলাকে খলিফা নিজের জন্য লাভজনক ও সন্মানজনক ভেবেছেন। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক মুমুর্ষরোগীকে ঔষধ না খাওয়ানোই শাসি-যোগ্য অপরাধ। কারণ এমন অবহেলায় রোগীর মুর্ত্যু অনিবার্য। রাষ্ট্রের সুচিকিৎসায় মহান আল্লাহ পাকও প্রসক্রিপশন দিয়েছেন। সেট হল কোরআন। এটি ব্যবহার না হলে জাতির ধ্বংসও অনিবার্য। বিশ্বের বহু জাতি অতীতে নিছক একারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এজন্যই আল্লাহ পাকের প্রসক্রিপশন রাষ্ট্রে বাস-বায়ন না করার শাসি- জাহান্নাম। মুসলিম দেশ সমুহে সেকুলার নেতৃত্ব ইসলামের প্রয়োগ না করে বস'তঃ সে মহা অপরাধটিই করছেন। তবে তাদের অপরাধ আরো গুরুতর। কারণ, তারা শুধু নিজেরা দায়িত্ব পালন না করেই থেমে নাই। বাধা দিয়েছে বা শেখ মুজিবের ন্যায় আইন করে নিষিদ্ধ করেছে যেন অন্যরা আল্লাহর দেয়া প্রেসক্রিপশনে প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর না হয়।
সুরা মায়েদার ৪৪ নম্বর আয়াতে তিনি সুস্পষ্ট ভাবে সে ঘোষণা দিয়েছেন এভাবে, ‘‘--- মান লাম ইয়াহকুম বিমা আনযালাল্লাহু ফা ঊলাইয়িকা হুমুল কাফিরুন।’’ অর্থ: ‘‘যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম বিচারকার্য পরিচালনা করে না তারা কাফের।’’ সুরা মায়েদার ৪৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘‘--- মান লাম ইয়াহকুম বিমা আনযালাল্লাহু ফা ঊলাইয়িকা হুমুল যালিমুন।’’ অর্থ: ‘‘যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম বিচারকার্য পরিচালনা করে না তারা যালিম।’’ সুরা মায়েদার ৪৬ নম্বর আয়াতে আবার বলেছেন, ‘‘--- মান লাম ইয়াহকুম বিমা আনযালাল্লাহু ফা ঊলাইয়িকা হুমুল ফাসিকুন।’’ অর্থ: ‘‘যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম বিচারকার্য পরিচালনা করে না তারা ফাসিক।’’ মহান আল্লাহপাক একই সুরার পর পর তিনটি আয়াতে যেটি বার গুরুত্ব দিয়েছেন সেটি হল আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান বা প্রেসক্রিপশনের প্রয়োগ। খুব কম বিষয়েই কোরআনের পর পর তিনটি আয়াতে একই বিষয়ের উপর এরূপ তাগিদ এসেছে। অতএব এ নির্দেশ পালনে সামান্য অবহেলা যে আল্লাহর আযাব শুধু আখেরাতে নয় পরকালেও ডেকে আনবে তা নিয়ে কি সন্দেহ আছে? কারণ, মহান আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে এটি চরম অবাধ্যতা। সে অবাধ্যতার কারণে নামে বা বংশীয় সূত্রে মুসলমান হলেও সে ব্য্ক্িত আল্লাহতায়ালার খাতায় জালেম, ফাসেকও কাফের রূপে চিহ্ণিত হবে। এমন খেতাব নিয়ে কি সে ব্যক্তি জান্নাত প্রাপ্তির স্বপ্ন দেখতে পারে? বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে এমন কি অতিশয় জালেম শাসকদের কাছেও ভীষণ গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে মুসলিম দেশগুলিতে উপনিবেশিক কাফের শাসন ও তাদের তাঁবেদার সেকুলারদের শাসনের পূর্বে প্রতি জনপদে কোরআনের আইনই ছিল বিচারকার্য পরিচালনার একমাত্র আইন। এমনকি সিরাজদৌলার শাসনাধীন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যায় ও সমগ্র ভারত ব্যাপী মোগল শাসনেও প্রতিষ্ঠিত ছিল কোরআনের আইন। এ আইনের প্রয়োগে মুসলমানদেরকে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। বরং সত্য তো এটাই ভারতে কখনই মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্টতা ছিল না। অথচ তারা ছয় শত বছর শাসন করেছে শরিয়তের আইন দিয়েই। সে আইনেরই বিখ্যাত সংকলন হল ফতোয়ায়ে আলমগিরি। অথচ বাংলাদেশের জনসংখ্যার শতকরা ৯০ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে আল্লাহর আইনের প্রয়োগ নেই। বাংলাদেশের মুসলমানদের ব্যর্থতা অনেক। আরব, ইরানী, তূর্কী বা আফগানদের ন্যায় কোন ভিন্ দেশে ইসলামের প্রচার বা বিজয় আনা দূরের কথা নিজ দেশেও তারা আল্লাহর আইনের গৌরব বাড়াতে পারেনি। অথচ এর জন্য নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম যেটি করেছেন সেরূপ কোন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল না। অর্থ ব্যয় বা শ্রম ব্যয়েরও প্রয়োজন ছিল না। ভোট দিয়েই সেটি সম্ভব ছিল। কিন' বাংলাদেশের মুসলমান সেটিও করতে পারেনি। তারা বরং গায়ে গতরে খেটেছে ও ভোট দিয়েছে আল্লাহর অবাধ্য দুর্বৃত্ত সেকুলারদের। অতীতের স্বৈরাচারি মুসলিম শাসকদের রাজ দরবারে অনাচার থাকলেও আদালত থেকে কোরআনের আইন হটিয়ে আল্লাহতায়ালার দরবারে কাফির, জালিম ও ফাসিক রুপে চিত্রিত হওয়ার সাহস দেখায়নি। এমনকি সে সাহস কারবালায় ইমাম হোসেন হত্যার ঘৃণ্য নায়ক ইয়াজিদেরও হয়নি। কিন- সে সাহস দেখিয়েছে বাংলাদেশের মুসলিম নামধারি সেকুলার রাজনীতিকগণ। তাদের ঘর, দল, ব্যবসাবাণিজ্যই শুধু আল্লাহর অবাধ্যতায় পরিপূর্ণ নয়, সে অবাধ্যতায় তারা পূর্ণ করেছে দেশের আদালত, প্রশাসন ও রাজনীতিও। ফলে বিশ্বব্যাপী যে অসম্মান কাফের বা শাপ-শকুন ভক্ষণকারি প্রকৃতি পুজারি জঙ্গলবাসিদের জুটেনি সেটি জুটেছে বাংলাদেশের। তারা শুধূ দূর্ণীনিতে বিশ্বে বার বার প্রথমই হয়নি অতীতে তলাহীন ভিক্ষার ঝুড়ির খেতাবটিও সংগ্রহ করেছে। এটি কি আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার শাসি- নয়? ইসলামের বিজয়ে যাদের মনে সামান্য অঙ্গিকার আছে এবং আল্লাহর দ্বীনের প্রতি মহব্বত আছে তাদের অন্তত এ নিয়ে ভাবা উচিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


