somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমাবেগ :)(লিখেছেন: চানাচুর)

৩১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই স্কুলের টুকরো একটা ঘটনা দিয়ে আজকের আলোচনা শুরু করছি....যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন ক্লাস নাইনের মুন্না ভাই দুইতলা থেকে লাফ দিয়েছিল। লাফ মেরেছিল নায়িকার জন্য নয়! ছেলেদের কমনরুমে নায়িকাকে নিয়ে হাত ধরে গল্প করার সময় হেডস্যার (মুন্না ভাইয়ের মামা) এসে পড়ায় মু্ন্না ভাই হেডস্যারের ভয়ে জান বাঁচানো ফরয মনে করে নায়িকাকে ফেলে বিসমিল্লাহ বলে ভাঙ্গা জানালা থেকে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে লাফ মেরেছিল। নায়িকা আমাদের ক্লাসমেট ছিল তাই ঘটনা ডিটেইল জানতাম। ঐ ঘটনার পর নায়িকা আর ফিরে যায়নি। যাবেই বা কেন! তার মতে, এটাকে কি কোনো ভালবাসা বলে???X(

“প্রেম/ভালবাসা জিনিসটাই হচ্ছে আবেগ দিয়ে মাখামাখি মনের একটা ভুয়া সম্পত্তি” বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ মনে করেন। এজন্য তাদেরকে প্রেম না করতেই দেখা যায়। তবে যারা প্রেম/ভালবাসার মাধ্যমে শুভ পরিণয় ঘটায় তাদেরকে বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ যথেষ্ট রেসপেক্ট করেন।

তবে কোনো কোনো বিজ্ঞরা এ ব্যাপারে দ্বিমত প্রকাশ না করে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করে বলেছেন, “প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে ‘ভালবাসা’ নামক আবেগী এক ধরনের হরমোন থাকে। এই হরমোন কারো হৃদয়ে বেশি থাকে কারো হৃদয়ে কম থাকে। যাদের বেশি থাকে তাদেরকে বারবার প্রেমে পড়তে দেখা যায়। এই হরমোন নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত থাকে তবে কারো কারো হৃদয়ে সারাজীবন পর্যন্তও থাকে যার কারণে তারা অধিক বয়সেও প্রেমে পড়ে। যেমন: হু.মু.এরশাদ”।

ভালবাসার পার্থক্য রয়েছে বলেই মুর্গা ঔপন্যাসিক আব্দুস সালাম মিতুলের “মানসী প্রিয়া”নামক উপন্যাস পড়ে আমরা তাকে ছাগলা বলে আখ্যায়িত করি আর অপরদিকে হুমায়ূন আহমেদের “নবনী” নামক প্রেমের উপন্যাস পড়ে পানি গিলি আর বলি কথাসাহিত্যিক কথাসাহিত্যিক।

এ পৃথিবীতে যারা আবেগের বশবর্তী হয়ে কাজ করে তারা কখনোই কোনো কাজ ঠিক মত করতে পারে না। কারণ আবেগ জিনিসটা মানুষের মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য আসে। আবেগ শেষ তো সব শেষ। এই জন্যই মৃত মানুষের জন্য আত্নীয় স্বজনের ক্রন্দন সাময়িক সময়ের জন্য হয়। তবে যে মৃত মানুষটাকে সত্যিকার অর্থে অনুভব করে তার কিন্তু অন্তরেই তার প্রতি মমতা সবসময়ই জমে থাকে।

আর এ কারণেই একজন চেইন স্মোকার তার স্ত্রী-কন্যার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আবেগায়িত হয়ে “স্মোকিং ছেড়ে দিবো” বলেও ছাড়তে পারে না। কিন্তু যখন সে হিসাব কষতে থাকে স্মোকিং-এর কুফলতার ব্যাপারে অর্থাৎ বাস্তবিক চিন্তা ভাবনা যখন শুরু করে তখনই সে সফলতার সহিত স্মোকিং ছাড়তে পারে।

ঠিক এভাবে নেতা কর্মীরা ইলেকশনের আগে আবেগায়িত হয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেলেন। কিন্তু ইলেকশনের কিছুদিন পরে জয়ী নেতা কর্মীদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না কারণ আবেগ তখন ঘুমে রূপান্তরিত হয়।|-)

এ ধরনের অসংখ্য অসংখ্য উদাহরণ আছে আপনার আমার সবার জানা।

একবার ভাবুন তো “তোমাকে ভালবাসি” বা “তোকে/তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না” এইসব কথা যখন কাউকে বলা হয় তখন কত্ত বড় মিথ্যাটা বলা হয়? যদি আপনি বিশ্বপ্রেমিক/বিশ্বপ্রেমিকা হয়ে থাকলে মনে মনে প্রশ্ন করবেন,” কেন? এতে মিথ্যার কি আছে?” যাদের চিন্তাধারা বাস্তবধর্মী তারা কিন্তু ঠিকই ধরতে পেরেছে মিথ্যাটা কি। মিথ্যাটা হল মানুষ নিজেকেই শুধু ভালবাসে.....আর তারপর তার পরিবারকে ভালবাসতে পারে.....এর বাইরে অন্য কাউকে না।( পরিবারের মধ্যে অবশ্য স্ত্রী/স্বামীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ)....। অন্যদেরকে সে খেয়াল রাখতে পারে সেটাকে ভালবাসা বা প্রেম বলা যায় না সেটাকে বলে উপকার বা দায়িত্ববোধ।

আকর্ষণ থেকে প্রেমের উৎপত্তি আর প্রেম থেকে দায়িত্ববোধের সৃষ্টি। আর এটাই সাচ্চা প্রেম। এই ধরনের প্রেম বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ একটু একটু পছন্দ করেন। তবে অধিকাংশ প্রেমই যেহেতু মুন্না ভাইয়ের মত আবেগী তাই বিজ্ঞরা ওটা থেকে দূরে থাকতেই পরামর্শ দিয়েছেন।
সত্যি বলতে কি....ভালবাসা নামক আবেগী জিনিসটা দিয়ে মাখামাখি করা অদৃশ্য বস্তুটা আসলে প্রেম নয়.....ওটাকে বলে ভন্ডামীX(
অনেকদিন আগে মাসুমা মীমের “আবেগ” নামক একটা উপন্যাস পড়েছিলাম যার কাহিনী খুবই জঘন্য ছিল। কিন্তু অনেক সত্যই উপন্যাসটাতে ছিল। তাই উপন্যাসটা খারাপ হলেও পড়তে বলছি।
আবেগকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখুন।..........

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: হুমায়ূন মামা আর শাওন মামীকে নিয়ে ফাও একটা কথা বললে সত্যি সত্যি আজকে আমি ব্লক মারবো)


জোড়াতালি মারা এই লেখাটা আমার এক আবেগী বন্ধুকে উৎসর্গ করলাম যে এই সাইটে আসে না।



সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩০
৯৫টি মন্তব্য ৯৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×