somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিসের মধ্যে কি! :-P

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একসময় ৩১ ডিসেম্বর পাড়ায় হতো বিশাল বিশাল পিকনিক। ছেলেদের একটা গ্রুপ ছিল মেয়েদের একটা গ্রুপ ছিল। মেয়েদের পিকনিকটা হতো বড়মামার বাসার পাশে মাঠটাতে। আমাদের পাড়ার ছেলেরা তেমন মজা করতে পারত না। গান বাজানো হতো পাল্লা দিয়ে ছেলেরা অবশ্য ফার্স্ট হতো। তারা মাইক ভাড়া করত। আর মেয়েরা বড়োজোর দুইটা তিনটা সাউন্ড বক্স এক করে গান বাজাত। তবে গান মেয়েরাই ভালো বাজাত। খাওয়া দাওয়ার পর যখন অনুষ্ঠান হতো মেয়েদেরটা এত জমা জমত যে ছেলেরা পাচিলের ঐ পাশ থেকে নেমে দেখতে আসত। তারাও দূরের কেউ ছিল না সবাই পরিচিত ভাইয়ারা। কিন্তু তাদের তাড়িয়ে দেয়া হতো অপমান করে। এছাড়াও আরেকটা পিকনিক হতো সেটা অনেক বড় ভাইয়ারা করত। সেই পিকনিকে বাচ্চাদের প্রবেশাধিকার দিত অবশ্য।


তখন পাড়ায় এক বয়সী কতগুলো ছেলেমেয়ে ছিল মনে করলে ভালো লাগে। তারা কত লাকি ছিল। এখন তারা সবাই ঘর-সংসার-বাচ্চা-চাকরি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যস্ত। মাঝে মাঝে ৩১ ডিসেম্বর খুব মজা করতে ইচ্ছা করে কিন্তু খুব বোরিং যায় রাতটা। অনেকে বাইরে গিয়ে মজা করে। সারারাত জেগেই থাকি বোরিং টাইপ গান শুনে। আর পাড়াটাও এখন বলতে গেলে সুনশান হয়ে গেছে। আমাদের বাড়ির সামনের বাড়িটার সামনে একটা মাঠ আছে সেখানে পিকনিক হয় প্রতিবারই কিন্তু মনেই হয় না পিকনিক হচ্ছে কোনো হৈ হুল্লোর নাই। কেউ পটকাও ফুটায় না, কোন উত্তেজনা নাই।


ঠিক একই অবস্থা ঈদের সময়। এই সময়গুলোতেও কেমন যেন একটা উত্তেজনা অনুভব করতাম। খুব নরমাল যায় এই দিনগুলো এখন। ঈদের আগেরদিন হাতে মেহেদী লাগাতাম এক সময়। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি। মেহেদি লাগায় দেওয়ার কেউ নাই। ঈদের জামা পরতে ইচ্ছা করে না সাজাগুজা তো দূরে থাকুক। আগে পাড়ায় কারো বাসায় কোনোদিন না গেলেও ঈদের দিন ঠিকই যেতাম দেখা করতে এখন আম্মু বললে যাই না বললে যাই না। সালাম করে টাকা সংগ্রহ করতাম। এখন বড় হয়ে গেছি সালাম না করলেও কেউ না দিক বড়মামা ঠিকই টাকা দেয়। কিন্তু আমি এখন সালাম করতে কোনো আগ্রহ পাই না। ঈদের দিন সকাল বেলায় আগে ৬টার আগেই ধড়ফড় করে উঠে পড়তাম এখন আটটায় উঠি তাও বাধ্য হয়ে। নানী বেঁচে থাকতে মেজমামা প্রতিবারই আসত আর মাঝে মধ্যে ২/৩বছর পরপর খালারাও আসত। এখন আর কেউই আসে না। আর আসলেই আমার কি মামাত ভাইবোনরাই যদি না আসে তাহলে আর মজা কিসের....তারা সবাই এখন ব্যস্ত চাকরিজীবী, গৃহিনী! ঈদের সময় বড় বোন থাকে শ্বশুর বাড়িতে, সকাল বেলাতে উঠে ব্রাশ করার আগেই ছোটবোনের ক্যাচক্যাচানি শুনা লাগে, বিছানায় চাদর বিছা, ড্রয়িং রুম ঠিক কর:-/......বিকালবেলায় শুনি, সারাদিন তো তুই বসেই ছিলি! লোকজন ফোন করলে বা বাসায় আসলে তখন সে বলে, আমি তো কাজ করতে করতে ব্যাঁকা হয়ে গেছি। ঐটা(আমি) কোনো কাজই করেনা কবে যে আমাকে চা খাইয়েছে মনে করতে পারছি না। ভাবলেই মনটা উদাস লাগে একদিন আমার এই বোনটারও বিয়ে হবে। আমি তখন বাসায় একা একা আম্মু আব্বুর সাথে ঈদ করব। আমি চিরকুমারী থাকব কেন যেন মনেহয় .....চশমাটা নাকে উঠিয়ে মামাত ভাইয়ের বাচ্চাদের সেলামি দিবো। যদিও আমার চোখ অনেক ভালো চশমা টশমা লাগে না কিন্তু তখন লাগবে......গম্ভীর ভাব মারতে হলেও অবশ্যই চশমা চোখে দেয়া লাগবে। আব্বু আমাকে এমনি কখনো বকা দেয় না ঈদের দিন যে তার কি হয় আল্লাহই জানে আমাকে ইচ্ছা মত বকা দেয়। একসময় অতিষ্ট হয়ে আব্বুকে বকা দিয়ে চুপ করিয়ে টিভির সামনে বসিয়ে দেই। টিভিতে অনেক কিছুই দেখায় ঈদে কিন্তু এত বিজ্ঞাপন দেয় যে ধৈর্য্য চ্যূতির পর আমি এক সময় ঘুমিয়ে পড়ি। সন্ধ্যাবেলায় কিছু কাজিনরা আসে তাদের ডাকাডাকিতে উঠে পড়ি।:(

জানিনা এবার শেষ পর্যন্ত কি হবে ঈদে /:)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×