একসময় ৩১ ডিসেম্বর পাড়ায় হতো বিশাল বিশাল পিকনিক। ছেলেদের একটা গ্রুপ ছিল মেয়েদের একটা গ্রুপ ছিল। মেয়েদের পিকনিকটা হতো বড়মামার বাসার পাশে মাঠটাতে। আমাদের পাড়ার ছেলেরা তেমন মজা করতে পারত না। গান বাজানো হতো পাল্লা দিয়ে ছেলেরা অবশ্য ফার্স্ট হতো। তারা মাইক ভাড়া করত। আর মেয়েরা বড়োজোর দুইটা তিনটা সাউন্ড বক্স এক করে গান বাজাত। তবে গান মেয়েরাই ভালো বাজাত। খাওয়া দাওয়ার পর যখন অনুষ্ঠান হতো মেয়েদেরটা এত জমা জমত যে ছেলেরা পাচিলের ঐ পাশ থেকে নেমে দেখতে আসত। তারাও দূরের কেউ ছিল না সবাই পরিচিত ভাইয়ারা। কিন্তু তাদের তাড়িয়ে দেয়া হতো অপমান করে। এছাড়াও আরেকটা পিকনিক হতো সেটা অনেক বড় ভাইয়ারা করত। সেই পিকনিকে বাচ্চাদের প্রবেশাধিকার দিত অবশ্য।
তখন পাড়ায় এক বয়সী কতগুলো ছেলেমেয়ে ছিল মনে করলে ভালো লাগে। তারা কত লাকি ছিল। এখন তারা সবাই ঘর-সংসার-বাচ্চা-চাকরি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যস্ত। মাঝে মাঝে ৩১ ডিসেম্বর খুব মজা করতে ইচ্ছা করে কিন্তু খুব বোরিং যায় রাতটা। অনেকে বাইরে গিয়ে মজা করে। সারারাত জেগেই থাকি বোরিং টাইপ গান শুনে। আর পাড়াটাও এখন বলতে গেলে সুনশান হয়ে গেছে। আমাদের বাড়ির সামনের বাড়িটার সামনে একটা মাঠ আছে সেখানে পিকনিক হয় প্রতিবারই কিন্তু মনেই হয় না পিকনিক হচ্ছে কোনো হৈ হুল্লোর নাই। কেউ পটকাও ফুটায় না, কোন উত্তেজনা নাই।
ঠিক একই অবস্থা ঈদের সময়। এই সময়গুলোতেও কেমন যেন একটা উত্তেজনা অনুভব করতাম। খুব নরমাল যায় এই দিনগুলো এখন। ঈদের আগেরদিন হাতে মেহেদী লাগাতাম এক সময়। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি। মেহেদি লাগায় দেওয়ার কেউ নাই। ঈদের জামা পরতে ইচ্ছা করে না সাজাগুজা তো দূরে থাকুক। আগে পাড়ায় কারো বাসায় কোনোদিন না গেলেও ঈদের দিন ঠিকই যেতাম দেখা করতে এখন আম্মু বললে যাই না বললে যাই না। সালাম করে টাকা সংগ্রহ করতাম। এখন বড় হয়ে গেছি সালাম না করলেও কেউ না দিক বড়মামা ঠিকই টাকা দেয়। কিন্তু আমি এখন সালাম করতে কোনো আগ্রহ পাই না। ঈদের দিন সকাল বেলায় আগে ৬টার আগেই ধড়ফড় করে উঠে পড়তাম এখন আটটায় উঠি তাও বাধ্য হয়ে। নানী বেঁচে থাকতে মেজমামা প্রতিবারই আসত আর মাঝে মধ্যে ২/৩বছর পরপর খালারাও আসত। এখন আর কেউই আসে না। আর আসলেই আমার কি মামাত ভাইবোনরাই যদি না আসে তাহলে আর মজা কিসের....তারা সবাই এখন ব্যস্ত চাকরিজীবী, গৃহিনী! ঈদের সময় বড় বোন থাকে শ্বশুর বাড়িতে, সকাল বেলাতে উঠে ব্রাশ করার আগেই ছোটবোনের ক্যাচক্যাচানি শুনা লাগে, বিছানায় চাদর বিছা, ড্রয়িং রুম ঠিক কর
লোকজন ফোন করলে বা বাসায় আসলে তখন সে বলে, আমি তো কাজ করতে করতে ব্যাঁকা হয়ে গেছি। ঐটা(আমি) কোনো কাজই করেনা কবে যে আমাকে চা খাইয়েছে মনে করতে পারছি না। ভাবলেই মনটা উদাস লাগে একদিন আমার এই বোনটারও বিয়ে হবে। আমি তখন বাসায় একা একা আম্মু আব্বুর সাথে ঈদ করব। আমি চিরকুমারী থাকব কেন যেন মনেহয় .....চশমাটা নাকে উঠিয়ে মামাত ভাইয়ের বাচ্চাদের সেলামি দিবো। যদিও আমার চোখ অনেক ভালো চশমা টশমা লাগে না কিন্তু তখন লাগবে......গম্ভীর ভাব মারতে হলেও অবশ্যই চশমা চোখে দেয়া লাগবে। আব্বু আমাকে এমনি কখনো বকা দেয় না ঈদের দিন যে তার কি হয় আল্লাহই জানে আমাকে ইচ্ছা মত বকা দেয়। একসময় অতিষ্ট হয়ে আব্বুকে বকা দিয়ে চুপ করিয়ে টিভির সামনে বসিয়ে দেই। টিভিতে অনেক কিছুই দেখায় ঈদে কিন্তু এত বিজ্ঞাপন দেয় যে ধৈর্য্য চ্যূতির পর আমি এক সময় ঘুমিয়ে পড়ি। সন্ধ্যাবেলায় কিছু কাজিনরা আসে তাদের ডাকাডাকিতে উঠে পড়ি।জানিনা এবার শেষ পর্যন্ত কি হবে ঈদে
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



