সেদিন রান্নাঘরে যেয়ে দেখি একটা লাঠি।
আমি নতুন কাজের খালাকে জিজ্ঞেস করলাম, খালা এটা এখানে কেন?
খালা বললো, তুমাগে বিলাইডা ভাল না। সব কিছুতে শুধু মুখ দেয়। সেইদিন এক হাড়ি দুধে মুখ দেছে। তাই বিলাইডারে মারতে লাডিডা আনছি।
তাই বললাম, খাবার না ঢেকে রাখলে বিড়াল তো মুখ দিবেই! সে কি আপনাকে খাতির করবে নাকি!
খালার মুখ দেখে মনে হলো আমার কথাটা খুবই অপছন্দ হয়েছে তার। অথচ অপছন্দ হওয়ার কি আছে। আমি খেয়াল করেছি আমাদের বিড়ালটা ছ্যাচড়া। আমি বাদে কেউ কিছু খেলে সে পিছুপিছু ঘুরবে আর ম্যায়াও ম্যায়াও করবে। কেউ যদি চা খায় তাও সে ম্যায়াও ম্যায়াও করবে। খাবার খোলা থাকলে সে নিজেকে সামলাতে পারে না। এটা তো যেকোনো বিড়ালেরই স্বভাব। একবার একটা গোটা পাউরুটির প্যাকেট সে ছিঁড়ে পুরোটাই খেয়ে নিয়েছিল। সে চুরি করেছে এটা বলা যাবে না কারণ যখন সে পাউরুটি খাচ্ছিল সেই সময় আমি সে ঘরে বসে অতি মনোযোগ সহকারে গান শুনছিলাম। আমি অবশ্য ওর খাওয়া খেয়াল করিনি তাহলে হয়তো বাধা দিতাম। সে যদি চুরিই করতো তাহলে ঐ রুমে আমার সামনে বসে বসে খেত না। প্যাকেট নিয়ে দৌড় মারতো। আগে আমি সবার মতোই বিড়ালটাকে নেগেটিভলি দেখতাম। কিন্তু আমি দেখলাম ও যথেষ্ট ভাল। তার সবচেয়ে বড় গুন সে আমাকে কখনো ডিস্টার্ব করেনা। আমি কিছু খেলে সে ম্যায়াও ম্যায়াও করে বলার চেষ্টা করে না, তুমি কি খাচ্ছো! আমাকেও খাওয়াও! শীতকালে সে কখনো আমার রুমে আমার পায়ের তলায় এসে ঘুমায় থাকে না। আমার পায়ে কখনোই সে মাথা ঘষে ঘষে গদগদ ভঙ্গিতে আদর দেখায় না। সে তাদের কাছেই যায় যারা তাকে সহ্য করে, পছন্দ করে। সে জানে আমি তাকে পছন্দ করি না। তাই সে আমার কাছে আসে না। সে একটা বিড়াল, একটা পশু অথচ কি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব তার! এমন ব্যক্তিত্ব যদি সব মানুষের হতো!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


