গত দুএকদিন ধরে তেমন কাজ নেই। বিশেষ করে আজ সারাদিন। তাই পুরো দিনটাই মুভি দেখে কাটিয়ে দিলাম। অবশ্য সব মিলিয়ে মুভি দেখলাম তিনটা। এগুলোই ছোট্ট রিভিউ দিলাম।
Grave of the fireflies (1988)
মুভিটার নাম বলেছিল নাফিস ইফতেখার ভাই, যদি কোন মুভি দেখে তিনি কেদে থাকেন এটি সেটি। তাই খুব আগ্রহ নিয়ে ডাউনলোড দিলাম, গতরাতে এক বসায় দেখে ফেললাম। আমি দেখলাম এনিমেশন মুভি, হয়তো সত্যিকারের মানুষ দিয়ে অভিনিত কোন মুভিও আছে।
জাপানের মুভি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী নিয়ে। আমেরিকানরা বিমানে করে ঝাকে ঝাকে এগিয়ে আসছে, বোমা ফেলে যাচ্ছে বসত বাড়ির উপরে। আগুন বোমা ফেলছে, তার পরে সেই আগুনকে উসকে দিতে ফেলছে তেল। এরকম সময়ে দুটো ভাইবোনের গল্প। ভাইটি বড়, বয়স ন'দশ বছর, বোনটির চার/পাচঁ। মা মারা যাওয়ায় দুজনে মিলে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় উঠে। কিন্তু যুদ্ধের সময় যা হয়, যাতনা শুরু হয়ে যায়। তাই দুজনে মিলে দূরে একাকী বাস করা শুরু করে। কিন্তু ডায়রিয়া আর অপুষ্টিতে মারা যায় বোনটি। যুদ্ধও শেষ হয়, ভাইটিও মারা যায়, ফিরে যায় বোনের কাছে।
প্রচন্ড মন খারাপ করে দেয় মুভিটি। যাদের ছোট বোন আছে তারা নিশ্চিতভাবে বোনটিকে আরও বেশী ভালোবাসার ইচ্ছা বোধ করবেন। মাস্ট সি মুভি।
Memento (2000)
খুবই জটিল প্রেজেন্টেশনের মুভি। একবার দেখার পর কাহিনী বোঝা সম্ভব হয় না। অতীত, বর্তমান ঘটনা আগে পরে মিশিয়ে মুভিটি তৈরী করা হয়েছে। পুরো মুভিটি না দেখলে কাহিনী বোঝা যায় না। দ্যা ডার্ক নাইটের পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের পরিচালনা।
কাহিনীটা বেশ অন্যরকম। নিজের বউকে ধর্ষনের পর হত্যা করেছে এমন এক খুনিকে খুজে বেড়ায় লিওনার্ড নামের সাবেক ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা। কিন্তু তার সমস্যা হল স্ত্রী হত্যার সময় খুনি তার মাথায় আঘাত করায় কোন কিছুই সে আর মনে রাখতে পারে না। অথচ পূর্বের সব ঘটনা তার মনে রয়েছে। ফলে সে উদ্ভাবন করে ভিন্ন এক পদ্ধতি, ক্যামেরায় ছবি তুলে ক্যাপশন লিখে রাখে আর শরীরে গুরুত্বপূর্ন তথ্যসমূহ উল্কি করে রাখে যেন কখনো ভুলে না যায়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সে খুনিকে হত্যা করে কিভাবে তা জানার জন্য মুভিটি দেখা উচিত। তবে অবশ্যই ঠান্ডা মাথায় সময় নিয়ে।
10000BC (2007)
এর সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নাই। এনিমেশন আর স্পেশাল ইফেক্ট মুভিটিকে অন্য রূপ দিয়েছে। জংলী মানুষদের জীবন যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেদেরকে পাল্টে দেয়ার গল্প। তবে আমার ভালো লাগে নাই। কারণ, গল্পের নায়ক হলো বিশাল জনগোষ্ঠির নেতা, অথচ তার যুদ্ধযাত্রা কিংবা নেতৃত্ব তার প্রেমিকার জন্য, জনগনের জন্য নয়, ঠিক আমাদের নেতাদের মতো।
দেখতে পারেন, খারাপ লাগবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


