somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে সমকামিতা: আমার ছোট ভাই আমাকে তার হাত ধরতে দেয় না

০১ লা জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাস দেড়েক আগের ঘটনা।
আমার ছোট ভাইয়ের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। একত্রে থাকা হয় না বলে যখন দেখা হয় তখন বেশ আড্ডাবাজি হয়। যদিও ভাইটি আমার মাত্র এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে, আলোচনা-আড্ডাবাজি গুরুত্বানুসারে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। আমি কখনো পুল খেলি নি, খেলা দেখতেও যাই নি, সুতরাং ভাইকে গাইড হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলাম ধানমন্ডির একটা পুল সেন্টারে। কিছু সময় কাটিয়ে আবার ফিরে এসেছি। আমার থেকে প্রায় ছ' ইঞ্চি লম্বা ভাইটার কাধ ধরার সুযোগ না থাকায় আমি তার কনুইর একটু উপরে ধরে হাটতে হাটতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। বেশ জমেছিল সেদিন।
দিন পনেরো পরে আবার কোন এক ঘটনায় দুজনে হাটছিলাম, অভ্যাসবশত: আবারও তার হাতে ধরতে সে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথে আপত্তি জানালো - হাতটা না ধরলে ভালো লাগে। আমি চমকে উঠেছিলাম এই মন্তব্যে। ভাই বড় হয়েছে, কিন্তু কতটা? প্রথমে 'মেয়েলি স্বভাব'কে আপত্তির কারণ বলে জানালেও আসল কারণটা জানাতে দেরী করেনি সে। এবং বেশ ফ্রাঙ্কলি কতগুলো সত্য কথা জানিয়েছে সে আমাকে, পরিনামে আমাকে চিন্তা করতে বাধ্য করছে সত্যিই কতটা এগিয়েছে বাংলাদেশ এ ব্যাপারে জানার জন্য।

সপ্তাহ দুয়েক আগে চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম কিছু কাজ সারতে। ষোলশহরে চট্টগ্রাম শপিং
কমপ্লেক্সের একটু আগে দাড়িয়ে ছিলাম গাড়িতে উঠবো বলে। স্কুল ছুটি হয়েছে কোথাও, নাইন-টেনে পড়া কিছু ছেলে ফিরছিলো। ফুটবল খেলায় গোল দেয়ার পরে গোলদাতার উপরে বাকী খেলোয়াররা যেভাবে ঝাপিয়ে পড়ে ঠিক সেরকম কোন একটা কারনে একটা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছিলে তারই দুটো বন্ধু। পশ্চাদ্দেশের উপর দুটো হাতের ব্যারিকেড তৈরী করার পরে ছেলেটি অঞ্চলিক ভাষায় চেচিয়ে বলছিল, "ওরে তোরা আমারে বাচা.." দুষ্টামি নি:সন্দেহে, কিন্তু বিষয়টা কেন সমকামিতা?

বছর দেড়েক আগে শিশু সমকামিতার সচেতনতা তৈরীর জন্য সামহোয়্যারইনে একটা পোস্ট দিয়ে জীবনে প্রথমবারের মতো ব্যান খেয়েছিলাম। দোষটা আমারই ছিল, ভাষায় সংযম আনতে পারিনি। এতদিন ভাবিনি যে এই সমকামিতা নিয়েই আবার একদিন লিখবো ব্লগে। লিখতে হচ্ছে, কারনটা ইস্যুটা স্পর্শকাতর হলেও গুরুত্বপূর্ন।

আগামী পর্বে সমাপ্য

http://darashiko.com/
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩০
২৪টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাণবিকতা

লিখেছেন প্রামানিক, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:২৯


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

(উৎসর্গঃ আলপনা তালুকদার।)

মানুষ হলো সৃষ্টির সেরা
কাজ কর্মেতে পাই
মানব গুনের ছিটেফোটাও
পশুর মাঝে নাই।

পশুরা সব হরহামেশা
নিজের স্বার্থেই ন্যাস্ত
মানব দুখে দুখি হয়ে
থাকে না তো ব্যাস্ত?


কিন্তু মোরা মানব সমাজ
মোটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিশাচ গল্প, কিছু সত্যি, কিছু কল্পনা

লিখেছেন জুন, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১১:৩২



বেশ কয়েক বছর আগের কথা সদ্য বিবাহিত এক যুগলের ঢাকার অদুরে প্রত্যন্ত এক গ্রামে কাজের সুত্রে স্বল্পকালীন বসবাস করতে হয়েছিল। জনবসতিহীন দিকশুন্যপুর গ্রামের এক ধারে ধু ধু এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ব্লগার এবং সামু

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৪:৩০



একটা ব্লগ লিখতে অনেক সময় লাগে। অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় নিয়ে ভাবতে হয়।
অনেক সাধ্য সাধনা করার পরে লেখাটা যখন পোষ্ট করি- দেখা যায়, আমার পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শঙ্খনীল কারাগার হতে

লিখেছেন শাহরিয়ার কবীর, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২৫



সীমাহীন দুঃখ, কষ্ট ও যন্ত্রণার থেকে মুক্তির
আশায় একটি মুক্ত আকাশ দেখি।
আমার নিরন্তর ভাবনার অন্তরালের
কোন এক চন্দ্র-তিথির রজনী শেষে
আমি লিখতে চাই আরেকটি কাব্য।
ধূসর এক পান্ডুলিপিতে,
বয়ে যাওয়া সময়ের স্রোতহীন জোয়ারে
ভাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দা মিস্ট্রি অব জিহাদ

লিখেছেন অদৃশ্য যোদ্ধা, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪১

শুভ্র আমার মামাতো ভাই। বোকাসোকা, ভীতু এবং একটু ছাগু গোছের হয়ে গেছে। আমার মামা ও মামীর কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ওর জীবনটা তছনছ হয়ে গেছে।

ও যখন ছোট ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×