somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক ইভটিজারের বিরুদ্ধে দাড়ান !

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিজি একজন কবি। সে একজন তরুনী কবি। ফেসবুক এবং উন্মুক্তব্লগের কল্যানে যে সকল মানুষ তােদর কবিতাকে ডায়রীর পাতায় আবদ্ধ না রেখে পরিচিত মানুষদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, নতুন নতুন পাঠকের মনের খোরাক যোগাচ্ছেন সিজি তােদরই একজন। ব্যক্তিগতভাবে এই মানুষটিকে আমি চিনি না, কখনো দেখিনি, ব্লগিং এর কল্যােণই ভার্চুয়াল সম্পর্ক, গাঢ় বন্ধুত্ব।

বেশ কিছুদিন আগে সে তার কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছিল। অন্য কোন এক কবির সাথে তার দ্বন্দ্ব। কবিতা এবং ফেসবুক পেজ নিয়ে দ্বন্দ্বের শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের আক্রমন ব্যক্তিগত পর্যায়েও পৌছে গেছে। আজ ফেসবুকে অনলাইন হওয়া মাত্র সে দুিট ছবির লিংক দিল। ছবিগুলোতে টিশার্ট পড়া কোন এক তরুনীর ছবির সাথে প্রেমের আহবানমূলক একটি কবিতা এবং সেই সাথে সিজির নাম-ফোন নাম্বার।
ছবি এক: Click This Link

ছবি দুই: Click This Link

বলা বাহুল্য এধরনের ঘটনা ঘটলে কি ঘটতে পারে - মোবাইল বন্ধ করে বসে থাকা ছাড়া এই মুহূর্তে তার কিছুই করার নেই। কিছুক্ষন আগে সে একটি নোট লিখেছে - যার শিরোনাম এই মেয়েটাকে পাগল বলে জানলেও মেয়েটা খারাপ ছিল না
আমি সিজি ফেবুতে সবাই সূর্য বলে চিনে।আমাকে সবাই খুবি ক্যাম্পাস ও খুলনার সবাই আমাকে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত হিসেবে চিনে। মাঝে মাঝে লেখার অভ্যাস থাকায় কিছু লিখি আমার নিজের সব লেখা নিয়ে একটা পেজ খুলি।আমার সব লেখা বিশ্ববিদ্যালয় একজন সিনিয়র মিঠুন দা দেখেন। মিঠুন দা তখন একটা পেজ সুরু করেছিল চতুর্ভুজ কবিতার আশ্রম নামে।তখন তিনি সৌভিক (খুবিতে এমবিএ করছে) এবং সিপাহি রেজা এই তিন জন মিলে পেজ চালাতেন।আমি ১১।১১।২০১১ এ পেজ এ এডমিন হিসাবে যুক্ত হই। তারপর কিছু দিন এমন ভাবে যেতে থাকে।উনি কিছু মানুষকে বলেন যে আমি তার GF।আমি শুনে অবাক হয়ে তাকে এই ব্যাপারে বললে উনি বলেন উনার আগের প্রেমিকার হাত থেকে বাচতে উনি এই কথা বলেছেন।আমার লেখা ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে এমন সময় আমার ডিসিপ্লিনের কিছু সিনিয়রের সাথে সৌভিক দার সমস্যা হয়। উনি তখন কারণ ছাড়া আমার ভুল ধরতে থাকেন এবং আমাকে পেজ থেকে সরানোর চেষ্টা শুরু করেন কিন্তু মিঠুন দার আপত্তির করণে পারছিলেন না।পরে খুব সম্ভবত জানুয়ারি ০৮ উনি জোর পূর্বক আমাকে ডিলিট করেন এবং অন্য একজনকে এডমিন বানান। এটা দেখে মিঠুন দা তাদের ডিলিট করেন এবং আমাকে আবার এডমিন বানান।
কিন্তু তারপর সৌভিক দা সবাই কে মেইল করে আমার নামে উলটা পালটা মেইল দেওয়া সুরু করেন।আমি সহ্য করতে না পেরে অই পেজ এর এডমিন থেকে সরে যাই ২ দিনপর।তারপরও বিভিন্ন ফেক id খুলে আমার পেজ এ গিয়ে আমার ও আমার পরিবার নিয়ে অনেক মন্তব্য করেন।আমাকে বিভিন্ন নাম্বার দিয়ে খুব আজেবাজে কথা বলেন এবং আমি নাম্বার বদলাতে বাধ্য হই।তারপরও তিনি Madhobilota Orytree, Hasnain Khorshed, Nazia Islam Joyita এই সব id দিয়ে আমার নামে একের পর এক কুৎসিত মেইল করতে থাকেন। আমি সবাইকে উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হই।আমার পরিবার আমার বন্ধুরা সবাই আমার পাশে থাকলেও এক পর্যায় তারাও আমাকে সব সহ্য করতে বলে।
আমি আমার ফোন নাম্বার বাধ্য হয়ে বদলে ফেলি ৩সপ্তাহ আগে।কিন্তু আজ তিনি যা করলেন তা আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে তুচ্ছ প্রাণীতে দাড় করাল।আমি আজ দুপুর হতে বিভিন্ন নাম্বার হতে ফোন পেতে থাকি।আমি অবাক হই যে আজ কেন এত ফোন আসবে।আমার এক বন্ধু আমাকে আজ দুপুর নাগাদ জানান ওইসব ফেক idগুলতে সুন্দর একটা মেয়ের ছবি দিয়ে আমার নতুন এবং পুরাতন সব নাম্বার দিয়ে পোস্ট করেছে।
আজ আমি এত কুৎসিত কথা শুনেছি যে কয়েকবার মরে যেতে ইচ্ছা করেছে।আমি এখন সব ফোন অফ করে পুরা পৃথিবীর সাথে সংযোগ বন্ধ করে বসে আছি।আমার বার বার মনে হচ্ছে আমার দু কলম লেখা কি অপরাধ ছিল??? জনপ্রিয়তা পাওয়া অপরাধ ছিল নাকি তার কথিত প্রেমিকা না হতে পারা????
আমি কবিতা চাই না,জনপ্রিয়তা চাই না।আমি শুধু আমার স্বাভাবিক জীবন চাই।আমার এমন অযাচিত উপদ্রব নিয়ে বেচে থাকার থেকে মরে যাওয়া অনেক সোজা মনে হচ্ছে।আমার কাছে সবাই প্রশ্ন করেছে আমি আজ তার সব উত্তর দিয়ে দিলাম-শুধু এই জন্যে যেন আমি না থাকলেও কেউ বলে এই মেয়েটাকে পাগল বলে জানলেও মেয়েটা খারাপ ছিল না।


প্রকৃত ঘটনাটা কি সেটা আমার জানা নেই, সিজির উল্লিখিত কবি মানুষটিই এই ছবিটি তৈরীর জন্য দায়ী কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু ছবিতে কারও ফোননাম্বার দিয়ে - 'কল মি অ্যানিটাইম' লিখে দেয়া এবং সেই ছবিতে অনেক মানুষকে ট্যাগ করে জানিয়ে দেয়া একজন নারীর জন্য কতটা অপমানজনক সেটা নতুন করে বলার দরকার হয় না।

ভার্চুয়াল এই দুনিয়ায় এই ছবিগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা ছাড়া আমি আর কিছুই করতে পারিনি। এই নারী বন্ধুটির উপর কিছু পুরুষের এমন নির্লজ্জ পশুসুলভ আচরনে একজন পুরুষ হিসেবে আমার মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে - সিজির কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা।
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝে ৭ ঘন্টা!

লিখেছেন সুলতানা সালমা, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:১৪


কালকের রাতটা হতে পারত আমাদের জীবনের শেষ রাত!
খুব কষ্ট লাগে যখনদেখি,মানুষ একটা হাতির জন্য তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেয় অথচ এত বড়
একটা ঘটনাকে কেউ কেউ গুজব বলে চালিয়ে দেন!
গতকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

লিখেছেন সৈয়দ আহাম্মদ উপল, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:৪৯


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
৯১ হাজার কোটি টাকার ঋণে সুদ দিতে হবে ৬৯ হাজার কোটি

দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রকল্প পাবনার রূপপুরে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়ার কাছ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথা রাখিও বন্ধু

লিখেছেন অরুনি মায়া অনু, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১:০৬



"তুমি আবার কবে আসিবে ফিরিয়া?"
- জানিনে আমি, যেদিন কাজ ফুরাইবে সেইদিন হয়ত আসিব, নয়ত আর ফেরা হইবেনা |

"আর আমার ভালবাসার কি পরিণতি হইবে? আমারই বা কি উপায় হইবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সহ অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী এলাকায় পাহাড়ের নীচে জিনুলান গিরি গুহায় দু:সাহসিক এডভেঞ্চার ( Caving adventure )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১:৩৫


আপনি কি দু: সাহসিক অভিযান খুঁজছেন - এমন কিছু যেখানে রোমাঞ্চ উপচে পড়বে - হামাগুড়ি ঘুরপথ বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু প্রচীন মুদ্রা ছবি ব্লগ

লিখেছেন মামুন ইসলাম, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:০০

এক সময়ের তামার মুদ্রা

দিল্লির টাকশালে প্রস্তুতকৃত রূপার মুদ্রা

আনুমানিক ১২৪৬ সালে থেকে ১২৬৬ সালের ভিতরে প্রস্ত্তুত করা হয়েছিল নাসিরউদ্দিন মাহমুদের মুদ্রা
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ, নাসিরউদ্দিন ফিরোজ শাহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×