আমার ব্যক্তিজীবনের একটা গল্প বলি।
আমার দাদীর সাথে নামাজ/ধর্ম নিয়ে প্রায়ই আমার তর্ক হয়। তর্কটা বেশ উপভোগ্য। উনি আবার বৃটিশ আমলের ক্লাস সেভেন পাশ! সারাজীবন নামাজ পড়েছেন 'না বুঝে' [মানে কুরআনের অর্থ জানতেন না]। আমার পরামর্শে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি বুঝে পড়ার চেষ্টা করছেন, অর্থাত 'তাফহিমুল কোরআন' পড়ে অর্থটা বুঝতে শিখেছেন। পাড়ার অন্য মহিলারা বিকেল হলে তার কাছে চলে আসেন। দাদী সবাইকে ব্যাখ্যাসহ কোরআনের অর্থ বুঝিয়ে দেন। মহিলা জামাতের লোকজন খবর পেয়ে গেল। বাড়িতে হঠাত একদল বোরকাবাহিনী হাজির। পরদিন থেকে দাদী মহিলা জামাতের একনিষ্ঠ সদস্য! বাড়িতে মহিলাদের আনাগোনা আরো বেড়ে গেল।
পাড়ার সবার কাছে এ রকম একজন সম্মানিত নারীর নাতি হিসেবে আমার কদরও খারাপ না। সমস্যা একটাই, আমি নামাজ পড়ি না। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগও অনেক। আমি উল্টা-পাল্টা কথা বলি। আমার কথা নাকি কাফিরদের মতো শোনায়। দাদী আমার ব্যাপারে আগে থেকেই জানতেন। তবুও কেউ অভিযোগের স্বরে তার কাছে কিছু বললে তিনি নতুন করে কষ্ট পান। প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয় [তবে সমঝোতার সীমায় থেকে]।
তর্কের কিছু অংশ তুলে ধরছি.....
দাদী : শুন, ওখন জোয়ান কাল। শইল্লে অনেক জোশ। একদিন কিন্তু মরতে অইব।
আমি : হ মরমু ত। আমি কবে কইছি বাইচা থাকুম আজীবন!
দাদী : নামাজটা পইড়লে কী এমন ক্ষতি?
আমি : কোনো ক্ষতি নাই। মন সায় দেয় না। আমি আবার মনের বাইরে কিছুই করি না।
দাদী : ভাই না ভালা, নামাজটা পড়। [আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে] আল্লাহ তুমি আমার ভাইরে নামাজী বানাইয়ে দাও।
আমি : আপনি দোয়া করতে থাকেন। যেদিন আপনার আল্লায় দোয়া কবুল করব, সেদিন থেইকা আমি নামাজ ধরমু। ঠিকাছে? এর আগে কোনোদিন কিছু কইবার পারবেন না।
............... এর পর থেকে দাদী আমাকে নামাজ পড়ার কথা বললেই আমি বলি, 'পড়মু না, তা তো কই নাই, পড়মু। তবে, আল্লায় আপনার দোয়া কবুল করার পর। আমার তো বুঝতে হবে, আমি কার জন্য নামাজ পড়ব? তার কাছ থেকে সিগনাল পাইলেই পড়মু। আমার উপর বিশ্বাস না রাখেন, আল্লার উপর রাখেন!'
............ শেষ ৩ বছর দাদী আমাকে আর নামাজ পড়তে বলেন না। হয়ত ............. তার বিরক্তি ধরে গেছে।
[চলবে]
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



