শামসীরের তখন গ্র্যাজুয়েশন প্রায় শেষ। সিলেট ছাইড়া চইলা যাবে যাবে আবহ। আমাদের সবারই মন কম বেশি খারাপ। কেমন জানি দুঃখ দুঃখ একটা ভাব আসছে সবার মইধ্যে। দেখা হইলেই দৌড়াইয়া গিয়া গলা জড়াইয়া ধইরা বইসা থাকা। মনে মনে কই শামসু তুমি আদু ভাই হইয়া আরো দুইটা বছর থাইকা যাও পিলিজ লাগে। বাইরে কই শামসু, ভাল থাইকো। তো বিদায়ের টাইমে শামসুর মনে হইল এইযে আমাগো মতন জিনিয়াস, অসাধারন, দুর্দান্ত কিছু মানুষের সাথে যে অসাধারন কিছু সময় কাটাইছে, এটার একটা স্মৃতি নিয়া যাওয়া দরকার। তাই সে বাজারে গিয়া একটা চকচকে নতুন ডায়রী কিনল। তারপর তার যারে যারে পছন্দ সবার অটোগ্রাফ নিবো প্ল্যান করল। আমরাও সবাই খুশি হইলাম। অনেক কথা আছে কওন যায় না মুখে। লেইখা দিমু।
আমি কইলাম "কাহিনী কি"?
সে হু হু হু হা হা হা কইরা কয় "এই দেখ কি আনছি।"
আমি তাকাইয়া দেখি শামসীরের ডায়রী। তখন আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলে। তাতে কি? পরীক্ষা হইল পোংটামীর জন্য খুব উপযুক্ত সময়। কারন তখন ব্রেইন স্ট্রমিং খুব ভাল হয়। একটুও দেরী না কইরা সাথে সাথে ডায়রী নিয়া আমি সুমন আর শিবলী চইলা গেলাম শিহাবদের বাসায়। ওদেরো পরীক্ষা চলে। মাগার শামসীরের ডায়রী দেইখা বই টই ফালাইয়া সবাই দৌড়াইয়া আসলো। কি করা যায় কি করা যায়? আমি কইলাম দেখো মাইয়াগো নাম দিয়া কিছু কমেন্ট লেইখা দিই। সবাই কইলো সেইটা না হয় হইল মাগার এমন কোনো মাইয়াদের নাম দিতে হবে যারা তার ডায়রীতে লেখতে পারে এই ব্যাপারে শামসু কুনু দিনও কল্পনা করে নাই। ব্যস ঠিক হইয়া গেল। ০২ ব্যাচ হইল আদর্শ। কারন ঐ ব্যাচের লগে শামসীরতো দূরে থাক, আমাগোর লগে পর্যন্ত তেমন একটা কথা হইত না। কিন্ত ওই ব্যাচের মাইয়াদের নামতো ঠিক মতন জানি না। আরে এইডা কুনু সমস্যা হইল? সাইফুল আছে না? লগে লগে পট পট কইরা ডাটাবেস থেইকা নাম বাইর করল।
শামসীর ভাই,
আপনার লাল রঙের যেই টি শার্টটা আছে না, ওইটা পড়লে আপনাকে যে কি কিউট লাগে ভাইয়া, কি আর বলবো। কোনোদিন বলা হয় নাই। আজকে বলেই ফেললাম। কত যে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলাম।
ইতি ক
শামসীর ভাই,
আপনাকে আমাদের এত ভাল লাগে যে আমরা ঠিক করেছি আমাদের ছেলের নাম রাখব শামসীর।
ইতি অমুক জুটি।
শামসীর ভাই,
আপনাকে আমরা অনেকককককক ভালোবাসি।
ইতি ঙ,চ,জ
এই ধরনের আরো কিছু কমেন্ট। এখন একটা সুন্দর কাহিনী দাড় করানো হবে। যাতে করে শামসীর বুঝতে না পারে যে কাজটা আমদের। ঠিক হলো সুমন যেহেতু ডায়রী নিয়া আসছে তারই এটা শামসুরে দেয়া উচিত। সময় হইল সন্ধ্যায়, স্থান টং। কিন্ত যেহেতু রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটবে তাই সবাই আসবে। আর এখন পরীক্ষার সময় সবাই কোনো কারন ছাড়া হুট কইরা গেলে সন্দেহের উদ্রেগগঘটতে পারে। (যদিও আমরা জানি তেমন কিছু হবে না কারন মানুষটা শামসু, ও এত কিছু ভাবতে পারে না।
"দেখি শামসীর ভাই কে কি কমেন্ট দিল?" সুমন শামসীরকে দায়রী দিতে গেল এমন সময় ডায়রী টেনে নিয়ে আমার প্রশ্ন।
"আয় হায়রে এইডা কি কমেন্ট? ওরে দেখ কে কমেন্ট দিছেরে? কিরে সুমইন্ন্যা, এইডা কি তুই জুনিয়র মাইগোরে দিছিল নাকি?"
সুমন খুব নির্বিকার ভাবে জবাব দিল
"হ্যা, আমি লেখতাছিলাম, ওরা আইসা জিগাইলো এইডা কি। আমি কইলাম। আর ওরা লাফাইতে লাফাইতে নিয়া গেল, কইলো অটোগ্রাফ দিব।"
ইতিমধ্যে শ্যামলা শামসীর লালচে হইয়া, ভিতরে খুশিতে ডগমগ করতে করতে উত্তেজনা ধইরা রাখতে পারতেছিল না। আমরা তারে চাইপা ধরলাম। তলে তলে এতদূর। বেচারা কত চেষ্টা করল আমাগোরে বুঝাইতে। সেই সুযোগ তুই আর পাবেনে শয়তান। সবাই মিল্লা কইলো "খাওয়াও শামসু, তুমার মনের আশা পূর্ণ হইছে। মাইয়ারা তুমারে কত্ত ভালা পায় দেখছ? " এই বলে কয়ে টং এ প্রায় ২০০ টাকার মতন বিল তুল্লাম। টং হইল এমন জায়গা যেখানে সারাদিন খাইলেও ১০০ টাকা বিল আসে না। সেইদিন চরম হই চই কইরা কাটাইলাম। শামসুও বোধ করি এক অন্যরকম আনন্দ নিয়া সেই রাতে ঘুমাইছে। এর পরে যেইদিন শামসু সিলেট ছাইড়া চইলা যাবে, তারে সব কিছু গুছাইয়া দিয়া বাসে তুইলা দেয়া হইল। আমরা সবাই নিচে দাড়াইয়া আছি। শামসু বাসের জানালা দিয়া মাথা বাইর কইরা সবার সাথে হাত মিলাইতেছিল, তখন বোমাটা ফাটানো হইল। শামসু তখনো হাসতেছিল। আর এইটাই ওরে সবার থেইকা আলাদা কইরা রাখে। আর মনে করাইয়া দেয়, ভাল আসলে থাকতে জানতে হয়। পারতে হয়। জয়তু শামসু।
এরাম আরো হাজার খানেক কাহিনী আছে। যাই হোক অনেক প্যাঁচাল পারলাম। যেই কারনে এত কথা সেইডা হইল আইজকা আরো একটা জন্মদিন শামসু ব্যাচেলর হিসেবে কাটাইয়া দিল। বসন্তের হিসাব আর করতে ইচ্ছা করতাছে না। ক্যালকুলেটর লাগবে। এখন আপনাদের সবার পিলিজ লাগে হের লাইগা একটা মাইয়া খুইজা দেন। যেন আগামী জন্মদিন একা না কাটাইতে হয়। আগামী জন্মদিনে যেন আমরা তারে নিয়া এন্টারটেইনড হইতে না পারি। বন্ধু মানুষ, এইটুকু স্যাক্রিফাইস নির্দ্বিধায় করতে পারি।
সুন্দর হইলে উপরি, কিন্ত অবশ্যই ভালো মনের মানুষ হইতে হবে। সারাদিন খিটমিট করলে সমস্যা নাই, কিন্ত দিন শেষে অনেক ভালোবাসতে হবে। গম্ভীর না হওয়াই ভালো, হাসিখুশি হইলে বেশী ভালো। সেন্স অব হিউমার কম না হইলেই ভালো, বেশি হইলে বেশি ভালো। একটু অগোছালো হইলে খুব সমস্যা না, তবে গোছালো হইলে বেশ ভালো। শেম্পুর মডেল হইতে হবে এমন কোনো কথা নাই, তবে লম্বা চুল হইলে না নাই। আকর্ষনীয় ফিগার হইতে হবে এমন কোনো কথা নাই, তবে মোটা সাস্থ্য চিকন করুন বিজ্ঞাপনের মডেল না হওয়া উত্তম। গরুর চোখের মতন টানা টানা চোখ হইতে হবে এমন না, তবে মেয়ের গায়ের রঙ শ্যামলা হইলে অবশ্যই চোখ সুন্দর হইতে হবে। আর অতি অবশ্যই শামসুর বন্ধুবান্ধবে এলার্জি থাকলে সেই মেয়ে স্ট্রেইট বাদ।
হ্যাপি বাড্ডে শামসীর।
ইতি
দুনিয়ার সবচেয়ে বাজে ব্যাচ, ০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

