somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনাতে বিলীন হব সুখে, কিন্তু আপনার ভাল-মন্দ জানব না, মেনে নেবেন আপনি তা?

২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি নিছক একজন ভ্রমণকারী কেন হবেন? আমি কেন তা হব? সমাজ সভ্যতায় আপনার আমার কোনো দায় নেই, থাকা উচিৎ না? ভ্রমণে প্রতি পদেপদে খরচ হয়, টাকা বাঁচিয়ে চলতে হয়, এতে দায় বাড়ে বৈ কমে না একটুও। এর মানে এই নয় যে ভ্রমণের গুরুত্ব আমি অস্বীকার করছি।

তবে ‘গুরুত্ব’ শব্দটির ভীষণ আপেক্ষিকতা আছে, সেটিও মাথায় রাখতে হবে। আধুনিক সভ্যতার অন্যতম দাবি যেমন ব্যক্তি স্বাধীনতা, পাশাপাশি ব্যক্তির গুরুত্বহীনতাও। তাই ব্যক্তির ভালোলাগা সমষ্টির জন্য কী গুরুত্ব বহন করে সেটিও বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

অর্থাৎ, আধুনিক সভ্যতা এজন্যই এতটা অগ্রসরমান সভ্যতা। কারণ, তা রাজা-প্রজা সবাইকে সমান দায়বদ্ধ হতে বলে। ১০ঃ১ অনুপাতে হলেও তো সে দায় নেওয়া উচিৎ আমাদের, নাকি?

প্রসঙ্গটি আসলো কারণ, ইদানিং প্রচুর ভ্রমণের ইনভাইটেশন আসে, যেতে চাই না তা তো নয়, কখনো কখনো যাই। কিন্তু অনুভব করেত পারি না- হল্লা করে যাওয়া, হোটেলে থাকা, ধনী হলেও যেখানে যত কম খরচ করে পারা যায় তা করা (যেহেতু সামনে আবার বেরুতে হবে), পুরো বিষয়টা খুব মেকি এবং আত্মস্বীকৃত মনে হয়।

এজন্য নিজেকে অন্তত শুধাই-

আপনি দশ ঘণ্টা ভ্রমণ করেন, তবে অন্তত এক ঘণ্টা করে হলেও সভ্যতার দায় মেটানো উচিৎ। উচিৎ কিনা? আর কিছু না হোক ভ্রমণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা যায়, শুধু নিজের ছবি না তুলে যেখানে যাচ্ছি সেখানকার মানুষের জীবন-যাপন, সীমাবদ্ধতা, সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি তুলে আনা যায়।

যেমন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভ্রমণ করতে গিয়ে প্রতিকী হলেও জায়গাটি পরিষ্কার করে দেখানো যায়। কিছু একটা অন্তত করা যায়, তাহলে ভ্রমণের বিষয়টি একটি সামষ্টিক গুরুত্ব পায়, অনেক কাজ হতে পারে এভাবে।

টেকনাফে গেলাম একবার, ওখানকার লবণ চাষীদের দেখলাম, লবণের খামার দেখলাম। অথচ আর অল্পকিছু সময় ব্যয় করলে, শ্রমিকদের সাথে কথা বললে, অনেক বিষয় জানা হতো। এতটুকু দায় অনুভব থাকা বোধহয় দরকার।

একটু ভাবলেই বোঝা যায়, কেউ এভারেস্টে উঠলে তাতে সভ্যতা একটুও এগোয় না আর? বরং এভারেস্টের কিছু ক্ষতি হয় তাতে। পাহাড়-জঙ্গলে বেশি মানুষ ঘন ঘন যাওয়া মানে আসলে জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতি করা।

তাহলে ক্ষতিটা পোশাতে হবে না? শুধু ঢাকা শহরে নয়, ঢাকার আশেপাশের কোনো নদীর দিকেও তাকানো যায় না। নবীনগর ঢাকা থেকে বেশ দূরে, সেখানকার বংশী নদীও বুড়িগঙ্গার মত কালো। এগুলো চোখে পড়বে না, এগুলোর জন্য কোনো কথা থাকবে না, অন্তত চলতি পথেও? তাহলে সে ভ্রমণের মূল্য কি?

পাল পাড়ায় যাব, হাড়িগড়া দেখব, তাদের বিচিত্র জীবন দেখে মজা নেব, কিন্তু তাদের সুবিধা-অসুবিধা জানব না! তাহলে বিষয়টি কি চিড়িয়াখানায় জন্তু-জানোয়ার দেখার মত হয়ে গেল না?

সেন্টমার্টিন গিয়ে শুধু উপভোগ করব, কিন্তু অনুভব করব না ওটির প্রাণ টিকে থাকছে কিনা, এটা হয়? পারবেন মানুষের ক্ষেত্রে এমন করতে? পারব আমি আপনার সাথে এমন করতে? আপনাতে বিলীন হব সুখে, কিন্তু আপনার ভাল-মন্দ জানব না! মেনে নেবেন আপনি তা?আপনি নিছক একজন ভ্রমণকারী কেন হবেন? আমি কেন তা হব? সমাজ সভ্যতায় আপনার আমার কোনো দায় নেই, থাকা উচিৎ না? ভ্রমণে প্রতি পদেপদে খরচ হয়, টাকা বাঁচিয়ে চলতে হয়, এতে দায় বাড়ে বৈ কমে না একটুও। এর মানে এই নয় যে ভ্রমণের গুরুত্ব আমি অস্বীকার করছি।

তবে ‘গুরুত্ব’ শব্দটির ভীষণ আপেক্ষিকতা আছে, সেটিও মাথায় রাখতে হবে। আধুনিক সভ্যতার অন্যতম দাবি যেমন ব্যক্তি স্বাধীনতা, পাশাপাশি ব্যক্তির গুরুত্বহীনতাও। তাই ব্যক্তির ভালোলাগা সমষ্টির জন্য কী গুরুত্ব বহন করে সেটিও বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

অর্থাৎ, আধুনিক সভ্যতা এজন্যই এতটা অগ্রসরমান সভ্যতা। কারণ, তা রাজা-প্রজা সবাইকে সমান দায়বদ্ধ হতে বলে। ১০ঃ১ অনুপাতে হলেও তো সে দায় নেওয়া উচিৎ আমাদের, নাকি?

প্রসঙ্গটি আসলো কারণ, ইদানিং প্রচুর ভ্রমণের ইনভাইটেশন আসে, যেতে চাই না তা তো নয়, কখনো কখনো যাই। কিন্তু অনুভব করেত পারি না- হল্লা করে যাওয়া, হোটেলে থাকা, ধনী হলেও যেখানে যত কম খরচ করে পারা যায় তা করা (যেহেতু সামনে আবার বেরুতে হবে), পুরো বিষয়টা খুব মেকি এবং আত্মস্বীকৃত মনে হয়।

এজন্য নিজেকে অন্তত শুধাই-

আপনি দশ ঘণ্টা ভ্রমণ করেন, তবে অন্তত এক ঘণ্টা করে হলেও সভ্যতার দায় মেটানো উচিৎ। উচিৎ কিনা? আর কিছু না হোক ভ্রমণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা যায়, শুধু নিজের ছবি না তুলে যেখানে যাচ্ছি সেখানকার মানুষের জীবন-যাপন, সীমাবদ্ধতা, সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি তুলে আনা যায়।

যেমন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভ্রমণ করতে গিয়ে প্রতিকী হলেও জায়গাটি পরিষ্কার করে দেখানো যায়। কিছু একটা অন্তত করা যায়, তাহলে ভ্রমণের বিষয়টি একটি সামষ্টিক গুরুত্ব পায়, অনেক কাজ হতে পারে এভাবে।

টেকনাফে গেলাম একবার, ওখানকার লবণ চাষীদের দেখলাম, লবণের খামার দেখলাম। অথচ আর অল্পকিছু সময় ব্যয় করলে, শ্রমিকদের সাথে কথা বললে, অনেক বিষয় জানা হতো। এতটুকু দায় অনুভব থাকা বোধহয় দরকার।

একটু ভাবলেই বোঝা যায়, কেউ এভারেস্টে উঠলে তাতে সভ্যতা একটুও এগোয় না আর? বরং এভারেস্টের কিছু ক্ষতি হয় তাতে। পাহাড়-জঙ্গলে বেশি মানুষ ঘন ঘন যাওয়া মানে আসলে জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতি করা।

তাহলে ক্ষতিটা পোশাতে হবে না? শুধু ঢাকা শহরে নয়, ঢাকার আশেপাশের কোনো নদীর দিকেও তাকানো যায় না। নবীনগর ঢাকা থেকে বেশ দূরে, সেখানকার বংশী নদীও বুড়িগঙ্গার মত কালো। এগুলো চোখে পড়বে না, এগুলোর জন্য কোনো কথা থাকবে না, অন্তত চলতি পথেও? তাহলে সে ভ্রমণের মূল্য কি?

পাল পাড়ায় যাব, হাড়িগড়া দেখব, তাদের বিচিত্র জীবন দেখে মজা নেব, কিন্তু তাদের সুবিধা-অসুবিধা জানব না! তাহলে বিষয়টি কি চিড়িয়াখানায় জন্তু-জানোয়ার দেখার মত হয়ে গেল না?

সেন্টমার্টিন গিয়ে শুধু উপভোগ করব, কিন্তু অনুভব করব না ওটির প্রাণ টিকে থাকছে কিনা, এটা হয়? পারবেন মানুষের ক্ষেত্রে এমন করতে? পারব আমি আপনার সাথে এমন করতে? আপনাতে বিলীন হব সুখে, কিন্তু আপনার ভাল-মন্দ জানব না! মেনে নেবেন আপনি তা?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ৩৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ৮:৩৭



১। রোজার ঈদে বেতন বোনাস সব মিলিয়ে ৩৯ হাজার টাকা পেয়েছি। এই মুহূর্তে আমার পকেটে আছে মাত্র দুই হাজার টাকা। বাকি সব টাকা খরচ হয়ে গেছে। একটা ময়লা কাপড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর সকল সিনিয়র, জুনিয়র ব্লগারদেরকে আমন্ত্রন সামু পাগলার ব্লগবাড়িতে (আড্ডাঘরের একবছর পূর্তি উৎসব!) :) :) :)

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ৮:৫৪



গত বছরের ২৭ এ জুন আমি একটি আড্ডাপোস্ট দিয়েছিলাম। আড্ডাপোস্ট! নাহ নাহ আড্ডাঘর! এই মহা মিলনমেলাকে শুধু পোস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে ছোট করা হবে। সেই আড্ডাঘরে প্রচুর ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বন্ধু তুমি নদীর মতো

লিখেছেন নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন, ২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:৪৯




মনটা তোমার পাবো বন্ধু কেমনে করি আশা,
হলনা-তো নিজের সাথেই আমার আত্মীয়তা!
ফল পাবো তাই মন-ভূমে লাগাই গাছের চারা,
গাছের সব ডাল শুকাই গেলো রস যতন ছাড়া।

আমিই নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু ধর্মের লোকদের জন্য ষাড় বা বলদ গরু খাওয়া হালাল মনে করি

লিখেছেন ব্লগ সার্চম্যান, ২৮ শে জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৪৫


পোস্ট কি বিষয়ের উপরে লেখা সেটা পোস্টের শিরোনাম দেখেই আমাদের বোঝা হয়েগেছে নিশ্চয়,তাই পোস্ট
পড়ার আগেই সকলকে অনুরোধ করছি লেখার বিষয় বস্তু না বুঝলে কোন কমেন্ট বা অহেটুক ক্যাচাল করবেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্কুলে যাই রোজ সকালে

লিখেছেন নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন, ২৮ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০০



রোজ সকালে আম্মু বলে,
সোনামণি খুব ভালো ছেলে;
আদর সোহাগ নিয়া শেষে,
মুখ-ধুই দাঁত ব্রাশ করে।

আব্বু বলে গোছল দিতে,
ব্যাগ গুছিয়ে মা ভাত বেড়ে;
পাঙ্খা হাতে ডাকবে খেতে,
না-শুনিলে ভীষণ ক্ষ্যাপে!

ধমক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×