একঃ
বালক হযরত আব্দুল কাদরে জিলানী (র) শিক্ষার্থে বাগদাদ যাবেন। যাত্রা প্রাক্কালে তাঁর মা জামার আস্তিনের ভিতর কয়টি সোনার মোহর লুকিয়ে সেলাই করে দিলেন। মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে সমুদ্র পথে বাগদাদ যাত্রা করলেন বালক হযরত আব্দুল কাদরে জিলানী (র) । যাত্রা পথে তাঁদের জাহাজটি জলদর্স্যু দ্বারা আক্রান্ত হল। দর্স্যুরা জাহাজের যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নিল। এক সময় হাজির হল হযরত আব্দুল কাদরে জিলানী (র) সামনে এবং বলল ,‘ হে বালক! তোমার নিকট কি আছে , তা এখনই বাহির কর।’ আব্দুল কাদের উত্তর দিলেন,‘ আমার মা আমার জামার আস্তিনের ভিতর গোপনে ক’টি মোহর সেলাই করে দিয়েছেন; এ ভিন্ন আমার কাছে কিছুই নাই।’ উপস্থিত সকলে বলে উঠল ,‘ হে মূর্খ বালক। তুমি কেন তোমার জামার আস্তিনের লুকানো মোহরের কথা দর্স্যুদের নিকট প্রকাশ করতে গেলে? তারা তোমার এ মোহর কখনও খুজে পেত না।’ বালক হযরত আব্দুল কাদরে জিলানী (র) জবাব দিলেন ,“ আমি যে মহান জীবন দর্শন আমার অন্তরে ধারণ করি ; তা আমাকে মিথ্যা বলতে বা কোন ছলনা করতে শিক্ষা দেয়নি।”
দুইঃ
গত ৮ জুন ২০০৯ দুপুর ১২·০৯ টায় Some Where In Blog এ ইসলামী ছাত্র শিবিরের একজন ভক্ত সমর্থক ব্লগার ‘উষ্ঞ’ আসন বাজেট প্রাক্কালে উক্ত সংগঠনের দাবি দাও সংক্রান্ত ‘লেজ’ কাঁটা পোস্টার প্রকাশ করেন। লেজ কাঁটা বললাম এ কারণে যে , তিনি পোস্টারের নিচে সংগঠনের নাম টি কাঁচা হাতে কেঁচি দিয়ে কেঁটে দিয়েছেন। অন্য কেউ হলে স্ক্যানের পর কোন ‘ইমেজ এডিটিং’ সফটওয়ারের মাধ্যমে এই কাঁটা-কাঁটির কাজটি করতেন।
এ প্রসঙ্গে আমার এক অনুজের মন্তব্য এই যে,‘ নিন্দুকরা বলে বেড়ায় এই সংগঠনের সমর্থকরা ······· দ্বারা মানুষের ······· কাঁটতে খুব পারদর্শী। সেই অভ্যাস টা এখানে প্রতিফলিত।’ কিন্তু, পোস্টারের টেকজার ও কালার দেখে কোন সচেতন পাঠকের বুঝতে এক মূর্হুত বিলম্ব হয় নি যে পোস্টার টি ইসলামী ছাত্র শিবির কর্তক প্রকাশিত। আমার এ লেখার বিষয় সংগঠনের নাম গোপন করা নিয়ে নয়।
Click This Link
প্রকাশিত “ এ বাজেটে ছাত্ররা যা চায়········” শীরনামের লেখা প্রকাশের পর একই দিন দুপুর ১ঃ ২২ টায় আমি একটি মন্তব্য (১০ নং) প্রকাশ করি।
''অনুগ্রহ পূর্বক ইসলামী ছাত্র শিবির কতৃক প্রকাশিত পূর্ববর্তী (২০০১ হতে ২০০৮ পর্যন্ত) এমন কোন পোস্টার দেখাত পারেন যেখানে শিক্ষা সংক্রান্ত উপরের দাবিগুলো আছে।যদি দেখাতে পারেন আমি আপনা কে প্লাস দিব।
সংগঠনের নাম টি কেটে বাল করেন নি। অনুগ্রহ করে পোস্টার টি পূর্ন দিন। না হয় কিছু মাইনাস খাবেন।''
পরবর্তীতে ব্লগার ‘রোহান’ আমার উত্থাপিত চ্যালেঞ্জ সমর্থন করেন।রওহানরে নিকট ধন্যবাদ প্রকাশ করছি।
আমার মন্তবের আগে পরে অনেকের নানামুখী আক্রমনের জাবাব প্রদান করলেও লেখক আমার মন্তব্য টি এড়িয়ে যান। আমি বিগত ১৬ বছর এ দেশের ছাত্র রাজনীতি গতি ধারা ও প্রতিটি সংগঠনের কর্মসূচীগুলি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণরে চষ্টো করছি। পেশাগত জীবনে বিগত ৭ বছরের ব্যস্ততা সত্ত্বেও দেয়ালে সাটানো পোস্টার পড়ার নেশা আমার রয়ে গেছে। পূর্ববর্তী বছরগুলরি ইসলামী ছাত্র শিবির পোস্টারের বক্তব্যের সাথে আলোচ্য পোস্টারের বক্তব্য ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে।
শিক্ষা আন্দোনের প্রতি সদা সহানুভূতিশীল মন থেকে আমি ইসলামী ছাত্র শিবিরের আসন্ন বাজেট প্রাক্কালে প্রকাশিত দাবি দেওয়া গুলির অধিকাংমের সাথে সহমত প্রকাশ করি ।
কিন্তু আমি একাত্ম হতে পারছি না । কেন না আমার মনে একটা খটকা জাগ্রত হচ্ছে। নিজস্ব কর্মসূচী বলয় থেকে আকস্মাৎ বেরিয়ে এসে ইসরামী ছাত্র শিবির কি বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশে সাধারণ ছাত্রদের মাঝে আত্মগোপন করার প্রয়াস খুজছে? নাকি , সততার সাথে দীর্ঘ দিনের শিক্ষার অধিকার সংক্রান্ত দৃষ্টি ভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে ছাত্র সমাজের পাশে দাড়াতে তে চাইছে? ইসলামী ছাত্র শিবিরের দীর্ঘ দিনের শিক্ষার অধিকার সংক্রান্ত দৃষ্টি ভঙ্গির ধারণা পাওয়া যায় ব্লগার‘ নতুন পথে অন্ত যাত্রা’ মন্তব্যে । সেখানে তিনি অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের ‘জামায়েত ইসলাম ও বাংলাদেশ’ থেকে উদ্বৃত করেছেন ।
চারঃ

ফেইস বুকে আমি Tipaimukh Dam & Fulertal Barrage - Lets Stop India শীর্ষক গ্রুপের এডমিন হিসাবে যুক্ত। গ্রুপটির ছবির এলবামে ‘হিযবুত তাহ্রীর বাংলাদেশ’ এর একজন সমর্থক উপরের টিপাইমুখ অভিমুখে লং মার্চের পোস্টারটি সংযুক্ত করে দিয়েছে।
আমি ছবি সংযোগকারী ‘হিযবুত তাহ্রীর বাংরাদেশ’ এর সমর্থক ও গ্রুপে সক্রিয় উক্ত সংগঠনটির একাধিক একানিষ্ঠ সমর্থক এর নিকট প্রশ্ন করেছিলাম “কত সালের ৯ মার্চ ‘হিযবুত তাহ্রীর বাংরাদেশ’ টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে লং মার্চ করে?” এবং ” কোন রুটে তারা ঢাকা থেকে সুদূর জকিগঞ্জ সীমান্তবর্তী টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে পদযাত্রা করে?” উক্ত লংমার্চে কোন ছবি গ্রুপটিতে পোস্ট করারও অনুরোধ জানাই। কিন্তু ,প্রশ্ন উত্থাপনের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত কোন উত্তর পাই নাই।
২০০২ সালের প্রথম দিকে 'জাতীয় স্বার্থে তেল-গ্যাস-বন্দর রা জাতীয় কমিটি’র ঢাকা টু বিবিয়ানা লংমার্চে অংশ গ্রহনের নিজ অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ঢাকা থেকে মৌলভিবাজার জেলার শেরপুরে অবস্থিত বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্ররে কাছাকাছি পৌছাতে ৮ দিনে আমাদের কমবেশি ২৯০ কিমি পথ অতিক্রম করতে হয়। ঢাকা হতে সিলেট জকিগঞ্জ সীমান্তের দূরত্ব আরও অনেক বেশি । সুতরাং শুধু মাত্র ৯ মার্চ (!) একদিনে একটা লংমার্চ সম্পন্ন করার কর্মসূচি ঘোষনা প্রশ্নের জন্ম দেয়, নাকি?
উপসংহারঃ
প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা) মক্কাবাসীদের কাছে ইসলামের বাণী নিয়ে যাবার আগে জীবনে প্রথম দীর্ঘ ৪০ বছর সত্যবাদীতা আর সত্য প্রকাশের নির্ভিকতার মাধ্যমে কোরানের বাণি নেয়ে হাজরি হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন। আমি উপরে উক্ত ইসলামের আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন দুই টির নিকট উদ্বাত্ত আহ্বান জানাব অন্তত ৫ টি বছর শুধুমাত্র সত্যবাদীতার ও সততার চর্চা করুণ। তারপর কোরাণ-সুন্নাহর ধ্বজা কে উদ্ধে তুলে ধরুণ।
পাদটিকাঃ
আমার বক্তব্য কে ভুল প্রমাণ করতে পারলে আমি খুশি হব। এ লেখা প্রকাশের পর আমি আট বা ততোধিক মাইনাস খাবার জন্য হাসি মুখে প্রস্তুত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



