
গতকাল ১৮ অক্টোবর ২০০৯ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ ভৌলা-৩ আসন থেকে ডিসেম্বর'০৮ এর জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদ মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিনের সংসদ সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করেছে। যার ফলশ্রুতি আওয়ালী লীগের এই সাংসদের পদটি শূণ্য হয়ে যাবে এবং ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতার মোতাবেক সীমিত সময়ের মাঝে ভোলা-৩ আসনে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দৈনিক নিউ এজ এর খবরে জানা যায় মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিন ৩১ আগস্ট ২০০৪ তার সরকারী চাকুরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং অবসর গ্রহণের পর ৫ বছর কাল অতিবাহিত না হলেও গত ২৯ ডিসেম্বরের ২০০৮ এর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। একই আসনের বিএন পি মনোনীত প্রার্থী মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন এ বিষয়ে নির্বাচণের পূর্বেই নির্বাচণ কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু নির্বাচণ কমিশণ মেজর হাফিজের অভিযোগ খারিজ করে দেন । ফলে মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিন আওয়ালীলীগের প্রার্থী হিসাবে সাংসদ নির্বাচিত হন।পরবর্তীতে মেজর হাফিজের আদলতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিনের সংসদ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়।
এখন ভিন্ন কিছু প্রসঙ্গে ভাবা যাক।
একটি আসনে জাতীয় নির্বাচণের এক দিকে যেমন বহু অর্থ ব্যয় যা জসগণের কষ্টার্জিত সম্পদ থেকে সংগৃত হয় , অপর দিকে নির্বাচণ সংক্রান্ত নানা আয়েজনের জাতীয় সম্পদ-জনবলের নানা মুখি সংশ্লিষ্টতা এতে যুক্ত থাকে। ভোলা -৩ আসনে আসন্ন উপনির্বাচন কেন্দ্র করে এ ধরণের পুনঃব্যয়ের দায় কার?
প্রথমেই, নির্বাচণ কমিশণের।
কারণ, নির্বাচণ অনুষ্ঠানের পূর্বই মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিনের নির্বাচণে প্রার্থীতা হবার বিষযে প্রশ্ন উঠেছিল । নির্বাচণ কমিশণ নিজেই নির্বাচণ সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখে না। সুতরাং , আজ ভোলা -৩ আসনে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রথম দায় নির্বাচণ কমিশণের উপর বর্তে এবং জনগণের অর্থ-সম্পদ অপচয়ের জন্য তাদের জবাব দিহিতা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে যে দল মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিন কে মনোনয়ণ দিয়েছে।
আওয়ালী লীগ তাকে মনোনয়ন প্রদানের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিযেছে। আমরা শুনেছি নানা টেকনিকাল কমিটির নানা মুখী বিশ্লেষণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তার প্রার্থীর তালিকা চুড়ান্ত করেছে। একজন প্রাক্তন সরকারী কর্মকর্তার কে নিজ দলের প্রার্থী করার সময় প্রথমে মাথায় আসার কথা তিনি নির্বাচণে অংশ গ্রহণের যোগ্য হবার জন্য প্রয়োজনী আইনী বাধ্যবাধকতার সীমা অতিক্রম করেছেন কিনা। আবার যখন নির্বাচণের পূর্বেই মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিনের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছিল, আওয়ামীলিগ নিশ্চয়ই তার বাঘাবাঘা আইনবিদদের কাছে পরামর্শ গ্রহণ উচিৎ ছিল। সুতরাং, একজন নির্বাচণে অংশ গ্রহণের অযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দানের মাধ্যমে এবং পুনঃনির্বাচণের আয়োজণের মাধ্যমে জনগণের অর্থ-সম্পদ অপচয়ের দায় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার কোন ভাবে এড়িযে যেতে পারে না।
তৃতীয়ত, মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিন নিজে।
তিনি গ্রাম-গঞ্জের কোন অশিক্ষিত- অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তি নন। একজন সামরিক বাহিনীর প্রাক্তণ কর্মকর্তা হিসাবে দেশের আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধতার তাঁর কাছে প্রত্যাশিত।দায়িত্ববান প্রাক্তণ সেনাকর্মকর্তা হিসাবে এহন হটকারিতার আশ্রয় নিয়ে তিনি সমগ্র সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের মুখে কালিমা লেপন করেছেন। আর দেশের আইনের প্রতি যার নিজের কোন শ্রদ্ধা বোধ নেই, তিনি কিভাবে দেশের আইন তৈরির গুরু দায়িত্ব মাথায় নিবেন।
উপসংহারে বলতে চাই;
১। জাতীয় সংসদের ভোলা-৩ আসনে নির্বাচণ সংক্রান্ত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উপনির্বাচন বা পুনঃনির্বাচণের আগে নির্বাচণ কমিশন এবং আওয়ামী লীগের জবাব দিহিতা চাই।
২। একজন উচ্চ শিক্ষিত দায়িত্ববার প্রাক্তণ সেনাকর্মকর্তা হিসাবে মেজর (অবঃ) জসিম উদ্দিনের দেশের আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা অপরাধে ভবিষ্যতে জাতীয় কোন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণে অযোগ্য ঘোষনা করা হউক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


