
আজ ৩০ নভেম্বর ২০০৯। আজ হতে ১৫১ বৎসর পূর্বে পরাধীন ভারতবর্ষে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন মহান বাঙালী বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসু । আধুনিক বিজ্ঞানের একাধিক আঙ্গিনায় জগদীশচন্দ্র বসু সরব বিচরণ বিশ্বের বিজ্ঞান পিপাসুদের যুগযুগ বিশ্ব ব্যাপী আলোড়িত করলেও ,নিজ জন্মভুমি বাংলাদেশে তিনি আজ ততটাই অনাদৃত। তাঁকে নতুন প্রজন্মের নিকট হতে আড়ালে রাখবার এই প্রচেষ্টা কেন?
আমার নিকট উত্তরটা হচ্ছে............
স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর জীবন সংগ্রাম এবং তাঁর বিজ্ঞান চর্চা নিয়ে যদি নতুন প্রজন্মের পূর্ণ রূপে জানতে পারে , তবে বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার কর্তাদের সন্মুখে নতুন প্রজন্ম এ কঠিন প্রশ্ন নিয়ে আবির্ভূত হবে। আর সেই প্রশ্ন হচ্ছে........ '' শত বর্ষের পরাধীনতার শৃংখলবদ্ধ বাংলায় জগদীশবসু-প্রফুলাল চন্দ্র রায়-সত্যেন বসু -মেঘনাদ সাহা মত মহান বিজ্ঞানীরা শুধু জন্ম গ্রহণ করেন নি, এ দেশের মাটি-বাতাসে পুষ্ট হয়েছেন এ দেশেই বিকশিত হয়েছেন। কিন্তু, আজ স্বাধীন ও সকলের জন্য অবারিত মৌলিক নাগরিক অধিকারে অঙ্গীকারবদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থায় মাঝে কেন তাঁদের মত একজন জগদীশবসু কিংবা প্রফুলাল চন্দ্র রায় বেড়ে উঠছেন না বিকশিত হচ্ছেন না?'
এই বন্ধ্যত্বের মূল প্রথিত রয়েছে আমাদের শিক্ষা সংক্রান্ত মূল্যবোধে। এই ক্রান্তিকালে স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর নিচের উক্তি টি খুবই প্রয়োজনীয় মনে হয়।
'' র্পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করিয়া আমি ইহা উপলব্ধি করিয়াছি যে- আমাদের সমুদয় দীক্ষা কেবল মনুষ্যত্ব লাভের উদ্দ্যেশ মাত্র। ''
নতুন প্রজন্মের জন্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর দূর্লভ একটি বক্তৃতার ১ম কিস্তি উপস্থাপন করলাম।
ছাত্রসমাজের প্রতি।
তোমাদের সাদর সম্ভাষণে আমি আপনাকে অনুগৃহীত মনে করিতেছি।তোমরা আমাকে একান্ত বিজ্ঞ এবং প্রবীণ মনে করিতেছ। বাস্তবপক্ষে যদিও জরা আমার বাহিরের অবয়বকে আক্রমণ করিয়াছে কিন্তু তাহার প্রভাব অন্তরে প্রবেশ করিতে পারে নাই। আমি এখনও তোমাদের মতো ছাত্র ও শিক্ষার্থী। এখনও স্কুলে যাইবার পুরাতন গলিতে পৌছাইলে স্মৃতিদ্বারা অভিভুত হই। আমার শৈশবশিক্ষক দর্শণে এখনও হৃদয় চিরন্তন ভক্তি প্রবাহের উচ্ছ্বসিত হয়।তবে তোমাদের অপেক্ষা শিক্ষার দীর্ঘতর সময় পাইয়াছি; অনেক ভুল সংশোধন করিতে পারিয়াছি এবং অনেকবার পথ হারাইয়া পরিশেষে গন্তব্যপথের সন্ধান পাইয়াছি। আজ যদি কোনো ভুলচুক কিম্বা দূর্বলতার বিরুদ্ধে তীব্রভাষা ব্যবহার করি তবে মনে রাখিও যে সেসব কষাঘাত হইতে নিজেকে কোনোদিন বঞ্চিত করি নাই। কুসুমশয্যায় সুপ্ত থাকিবার সময় অতীত হইয়াছে; কন্টকশয্যাই আমাদিগকে এখন জাগরিত রাখিবে।
এখন আমাদের দেশে সচারচর দুই শ্রেণীর উপদেষ্টা দেখিতে পাওয়া যায়। কেহ কেহ আমাদের জাতীয় দূর্বলতার চিত্র অতি ভিষণরূপে চিত্রিত করেন। যে দেশে এরূপ জাতিভেদ ও দলাদলি, যে দেশে দাসত্বসুলভ বহু দোষে দোষী , যে দেশে পরস্পরে এত হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা দেখা যায়, সে দেশে কি কোনো দিন উন্নতি হইতে পার? আশ্চার্য বিষয় এই যে এইরুপ ভয়ানক ভবিষ্যদ্বাণীর পর তাহাদের নিদ্রার কোনো ব্যাঘাত হয় না। যদি যথার্থই বুঝিয়া থাকো যে, দেশে এরূপ দুর্দিন আসিয়াছে তবে কেন বদ্ধপরিকর হইয়া তাহার প্রতিবিধান করিতে চেষ্টা কর না। আমি দেখিতে পাই ছাত্রদের মধ্যে, আমাদের নেতারা কেনএ কাজ করিলেন, কেন এ কাজ করিলেন না , এরূপ বচষা দ্বারাই সময় অতিবাহিত হয়। পরের কর্তব্য কী তাহা নিষ্পত্তি করিবার আমি কে? আমি কী করিতে পারি ইহাই কেবল আমার ভাবিবার বিষয়।
আবার অন্যদিকে এক দল আছেন যাহারা অতীতকালের কথা লইয়া বর্তমান ভুলিয়া থাকেন। 'জ্ঞান ও বিজ্ঞানে আমাদের পূর্বপুরুষদের কিছুই অবিদিত ছিল না' আমাদের পূর্ব ঐশ্বর্য যদি এতই মহান তবে আমাদের অধঃপতনের হেতু কী? ইহার প্রতিবিধান কি নাই? আমরা যদি সেই মহান পূর্বপুরুষদের প্রকৃত বংশধর হই তাহা হইলে আমরা নিঃসন্দেহে পূর্বগৌরব অধিকার করিতে পারিবই পারিব।(চলবে....)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


