[ভারত বাংলাদেশে সম্পর্ক নিয়ে সমগ্র জাতির আজ চরম বিভ্রান্তিকর অবস্থায় মধ্য বিরাজ করছে।বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের নিকট এদেশ কে সমর্পন ব্যতিত বাংলাদেশের অগ্রগিত আর কোন পথ খুজে পাচ্ছেন না। এমন কি তাঁদের কথায় মনে হচ্ছে যে, ভারতের রাষ্ট্রযন্ত্রের ছায়া বঞ্ছিত হলে বাংলাদেশের অস্তিত্ত্ব রক্ষাই সম্ভব নয় ।
অপর দিকে, ক্ষমতার বাইরের গোষ্টি 'ভারত' বিরোধিতার নামে মূলতঃ সংকীর্ণ জাতিয়তাবাদী বিদ্বেষের বিষবাষ্পে দেশবাসীর চিন্তা চেতনা কে হিংসাত্মশক করে তুলেছে।যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জনগনের একটি অংশ ভারতীয় সাধারন জনগণ কে শত্রু পক্ষ ভাবতে শুরু করেছে।কিন্তু, এদেশে ভারত বিরোধিতা যে রাজনৈতিক গোষ্টির একমাত্র পুজি তাঁর একটি বার উচ্চারণ করে না যে, ভারতীয় সাধারন জনগণ নয়, বরং ভারতী অগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী বাজার ব্যবস্থা ও বাজার সাংস্কৃতি এবং তার নিয়ন্ত্রক ভারতীয় পুজিপতি শ্রেনী বাংলাদেশের জন্য প্রধান হুমকি।এই ভারতী পুজিপতিরা নিজ দেশের অভ্যন্তরে নিজ দেশের সিংহভাগ মানুষের রক্ত শোষন করছে আর নিচ দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণরুপে কুক্ষিতগত করে বাংলাদেশসহ তাঁর প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমূহে অগ্রাসন চালাছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯ ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কনভেনশনে ভারতের Socialist Unity Centre of India (Communist)
এর পলিট ব্যুরো সদস্য কমরেড প্রভাস ঘোষ তাঁর ভাষণে ভারতের রাষ্ট্র চরিত্রের স্বরূপ তুলে ধরেন । মাসিক ভ্যানগার্ড পত্রিকার জানুয়ারি ২০১০ সংখ্যা থেকে তার অংশ বিশেষ এখানে উপস্থাপন করা হল।]
***************************************************

১১০ কোটি লোকের ভারতবর্ষে প্রায় ৫২/৫৪ কোটি লোক- বেকার অর্ধ বেকার। প্রতি বছর কয়েক লাখ গ্রামের গরিব কৃষক অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। এই শীতকালে ভারতবর্ষ হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছে একখন্ড শীতবস্ত্রের অভাবে। ভারতবর্ষে গত ৫ বছরে সংগঠিত অসংগঠিত শিল্পে প্রায় ১ কোটির বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। ভারতবর্ষের গ্রাম এখন শ্মশান, লক্ষ লক্ষ মানুষ গ্রাম থেকে চলে যাচ্ছে। গরীব বাবা-মা সন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছে। ভারতবর্ষে এখন দেহব্যবসা সবচেয়ে বাড়ছে। ভারতবর্ষের শহরে, গঞ্জে, স্টেশনে নারী দাঁড়িয়ে আছে। ঘরে বেকার অসুস্থ স্বামী,অভুক্ত সন্তান, মা বেরিয়ে এসেছে। এই হচ্ছে ভারতবর্ষের চেহারা। এগুলি রেডিও টিভিতে পাবেন না, সংবাদ পত্রে পাবেন না।
উন্নয়ন কি হচ্ছে না? হচ্ছে।
তবে টাটা, বিড়লা, আম্বানি, গোয়েংকার ও জিন্দার, যারা কোটি কোটি টাকা লুটছে। ভারতবর্ষ শুধু পুজিবাদী দেশ নয়, একটা সাম্রাজ্যবাদী দেশ। সে নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের উপর কর্তৃত্ব করতে চাইছে। তবে, সাম্রাজ্যবাদই সম্প্রসারণবাদ। এই বাংলাদেশের পদ্মাকে মেরে দিল, নদীগুলোকে ধ্বংস করছে।এখানকার গ্যাস-কয়লাসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সবকিছুকে সে গ্রাস করতে চাইছে। ভারতবর্ষের জনগণকে লুণ্ঠনকারী পুজিপতিদের সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠনের স্বার্থে ভারত এ উপমহাদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার করছে। কখনও রক্তচক্ষু, কখনও মিষ্টি কথা প্রয়োগ করে। এখন মিষ্টি কথার সময় চলছে। কারণ, ভারতবর্ষের সামনে আছে চীন। চীন সমাজতন্ত্র ধ্বংস করে পুজিবাদী হয়ে সেও আরেক সম্প্রসারণবাদী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
চীন যদি বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তন বা শ্রীংলংকায় ঢুকে যায়- এই জন্য সে (ভারত) হুশিয়ার। তাই এখন চোখ রাঙানোর বদলে মিষ্টি কথার কৌশল নিয়েছে ভারত। এ একটা সাম্রাজ্যবাদী ছলনা ছাড়া আর কিছু না। আমি শুনেছি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাবে, কিভাবে তার মন ভোলাবে তা নিয়ে ইতোমধ্যেই দিল্লির কর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ চীন ঢুকে পড়েছে, তাই ভারতের প্রভাব বজায় রাখতেই এই কৌশল।
আমি আপনাদেরকে একটি হিসাব পড়ে শুনাচ্ছি তাহলে বুঝতে পারবেন ভারতবর্ষের কি অবস্থা। বর্তমানে ১২২টি দেশে ভারতীয় পুঁজি লঙ্গিব খাটছে।রিজার্ভ ব্যাংক এর হিসাবমতে, ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিদেশে মোট ভারতীয় লঙ্গি পুজির পরিমাণ ৪৬•২ বিলিয়ন ডলার। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, ভারতবর্ষ এখন মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কারখানা, বিভিন্ন দেশে খনি ও গ্যাস ইত্যাদি কিনছে। ভারতবর্ষের বাণিজ্য ওশিল্পমন্ত্রী ২০০৯ সালের এর ১৭ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ইউএসএ ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের এক বৈঠকে বলেছেন, মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্রে স্থাপিত ভারতীয় কারখানায় ৩ লক্ষ মার্কিন শ্রমিক কাজ করছে।
ওবামা যে ভারতবর্ষকে এশিয়ার লিডার হিসেবে দেখতে চাইছেন, তা কি এমনিতেই? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের দুরবস্থা বুঝেছে। একদিকে জাপান অন্যদিকে চীন, এ অবস্থায় যদি তাকে ইরাক ও আফগানিস্তান ছাড়তে হয় তাহলে একমাত্র বন্ধু হল ভারত।যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সাথে সামরিক-অর্থনৈতিক নানা চুক্তিও করছে। চীন ও জাপানের বিরুদ্ধে ভারতকে ব্যবহার করার সুযোগ খুজছে আমেরিকা।সম্প্রতি কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলেনে ভারতবর্ষ অনুন্নত বিশ্বের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমেরিকার সাথে চুক্তি করলো। তার স্বাক্ষরকারী ছিল ও চীনও। কেন করল? নিজেদের স্বার্থে। ভারতবর্ষের মন্ত্রী জয়রাম রমেশ বলেছে, আমি কোপেনহেগেনে গিয়েছিলাম বিশ্ব মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য নয়, ভারতবর্ষের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য।
কি সেই স্বার্থ?
ভারতবর্ষের একচেটিয়া পুঁজিপতি ও বহুজাতিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমেরিকার সাথে হাত মিলিয়েছে। আরেকজন বলছে আমরা এমন চুক্তি করেছি যাতে যাতে আমেরিকার স্বাক্ষর না করা কিয়োটো প্রটোকলকে সমাধিস্থ করা যায়।
কার স্বার্থে এসব করছে?আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ।
জলবায়ুর ওপর আঘাত পুজিবাদের সর্বশেষ আঘাত। মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে, ছোট ছোট দ্বীপ, এই সুন্দরবন এবং বাংলাদেশের একটা বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে। সাগরে জল বাড়ছে, নানা রকম অসুখ আসছে, জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু তাদের লাভ চাই, মুনাফা চাই। ওরা গ্রীন হাউস গ্যাস কমাবে না এবং তার শরীক ভারতবর্ষ।
ভারতবর্ষের এই সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের বিরুদ্ধে আমাদের (সোসিয়ালস্ট ইউনিটি সেন্টার অব ইন্ডিয়া-সাম্যবাদী) লড়তে হচ্ছে। আবার আপনাদেরও লড়তে হচ্ছে। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সেটা আমাদের মধ্যে একটা ঐক্যের জায়গা।
সূত্র ঃ
http://www.spb.org.bd/vanguard/Jan-2010/4.pdf
Socialist Unity Centre of India (Communist)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



