আমার প্রিয় পোস্ট

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংঘাতের উৎসের সন্ধানে।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৮

শেয়ারঃ
0 0 0

''বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলেতে ছাত্র সংঘাত ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণ কি?'' এমন প্রশ্নের সাধারণ উত্তরে বারংবার প্রায় সর্কস্তর থেকে সকল সংকটের মূলে ছাত্ররাজনীতির প্রতি আঙ্গুলী নির্দেশ করা হচ্ছে।

কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি সংকটের মূলটা কে চিহ্নিত করতে পরেছি বা পারছি?

আসুন অতি সাম্প্রতিক সময়ে (বিগত ৩ সপ্তাহ) দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু নৈরাজ্যজনক ঘটনা পূনঃপাঠ করি।
ঘটনা ১ঃ

১৮ জানুয়ারী ২০১০ ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত
ঘটনা ২ঃ

২৯ জানুয়ারী ২০১০ ।
বাণিজ্য মেলায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর।
ঘটনা ৩ঃ

২৯ জানুয়ারী ২০১০ ।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: পুলিশ-শিক্ষার্থী দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশত আহত
ঘটনা ৪ঃ

৩০ জানুয়ারী ২০১০ ।
আনন্দমোহন কলেজের উৎসবে দুঃসহ ঘটনা, সবাই নীরব।
ঘটনা ৫ঃ

০১ ফেব্রুয়ারী ২০১০ ।
আহত ৩০, নয়জন আটক: এফ রহমান হল ছাত্রলীগের দুই পক্ষে রাতভর সংঘর্ষ।

আসুন ঘটনা ১ হতে হতে ঘটনা ৫ কে একই সুত্রে গাঁথার চেষ্টা করি।

যে কেউ বাহ্যিক দৃষ্টিতে ঘটনা ১ ও ঘটনা ৫ দ্বয়ের জন্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংগঠন কর্মকান্ডের সাথে দায়ি করতে পারেন। কিন্তু , ঘটনা ২ হতে ঘটনা ৪ ত্রয়ের ক্ষেত্র সুত্র কি হবে? এগুলো কি নিতান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা?

যদি স্বচ্ছ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে যুক্তিবোধ থেকে আমরা ঘটনা ১ হতে ঘটনা ৫ কে বিশ্লেষণ করি, তবে এই শিক্ষাঙ্গনে সাম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা পাঁচকে একই মালায় গেঁথে ফেলা যায়।
এই সকল ঘটনা মূলের রয়েছে আমাদের সমাজ মানসে চলমান চরম আদর্র্শহীনতা, মানুষ হিসাবে আত্মমর্যাদা বোধের অবক্ষয় আর সংকীর্ণ সমাজ বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিবাদ কাছে নিলৃজ্জ আত্মসমার্পণ।

মুক্তি পথ কোথায় ?

সম্মিলিতভাবে মনুষ্যত্ত্ব আর আদর্শবাদের ঝান্ড উর্ধ্বে তুলে ধরে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের সর্বস্তরের গনতান্ত্রিক মুলবোধের চর্চার সংগ্রাম বেগবান করা।





 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২২
পারভেজ আলম বলেছেন: মুক্তি পথ কোথায় ? সম্মিলিতভাবে মনুষ্যত্ত্ব আর আদর্শবাদের ঝান্ড উর্ধ্বে তুলে ধরে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের সর্বস্তরের গনতান্ত্রিক মুলবোধের চর্চার সংগ্রাম বেগবান করা।

একমত। আদর্শবাদের অভাবই মূল কারন। শুধু শিক্ষাঙ্গনে না, সবখানেই। কিন্তু বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র রাজনীতির বর্তমান দুঃসময়ের অবসান যারা চায় তারা কোন আদর্শের রাজনীতি করবে, এই যায়গায় কিন্তু একটা শুন্যতা থেকে গেছে। এদেশের ছাত্র রাজনীতির দর্শনটাই তো পরিষ্কার না। যারা নিজেদেরকে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত মনে করে তাদের মধ্যেও তো বিভেদ কম নাই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত কারণহীন এবং পার্টি অনুগামিতার কারণে। এই অবস্থায় এদের একতা হবে কোন কোন লড়াইকে কেন্দ্র করে, তা নিয়া আলোচনা করলে ভালো হতো।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৪

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।


যারা নিজেদেরকে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত মনে করে তাদের মধ্যেও তো বিভেদ কম নাই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত কারণহীন এবং পার্টি অনুগামিতার কারণে। এই অবস্থায় এদের একতা হবে কোন কোন লড়াইকে কেন্দ্র করে, তা নিয়া আলোচনা করলে ভালো হতো।

এটা এই মুহূর্ত প্রগতিশিল আন্দোলণের কর্মীদের জন্য (শুধু ছাত্র আন্দোলন নয়) জরুরী প্রশ্ন।
...................বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত কারণহীন এবং পার্টি অনুগামিতার কারণে। .আপনার এই উক্তির সাথে একমত হতে পারছিনা।ব্লগে অন্য কেউ কমেন্ট করলে আমি নিরব থাকতাম।

কেন না আমি জানি....... একটি রাজনৈতিক দল বলতে প্রকৃত পক্ষে কী Mean করে কিংবা পার্টির সংজ্ঞা নিযে আপনার সাথে আমার বিরোধ নেই এবং তা এ বিষয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

সুতরাং , বরং আমি বলতে চাই ........পার্টির সাথে প্রতিটি কর্মীর একটি গনতান্ত্রিক ও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী সম্পর্ক অপরিহার্য।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন, এদেশের প্রগতিশিল দলের কর্মীদের সাথে পার্টির সেই সম্পর্ক আছে কি না।আমার মনে হয় তাতে ঘটতি আছে।
*************************************************
এবার আপনার মন্তব্যের প্রগতিশীল আন্দোলনের একতার পথ কি এ বিষয়ের আপনার সাথে আমার ভাবনা শেয়ার করবো।

একতার উপায় খোজার আগে আমাদের প্রগতিশিল সংগঠনগুলোর আন্তঃসম্পর্ক সংকট টা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। উত্তর টা অপ্রত্যক্ষ ভাবে আমার মূল লেখায় প্রোথিত।

বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থার পুজিবাদের মূল শক্তি হচ্ছে ব্যক্তিবাদ-ব্যক্তিকেন্দ্রকতা সংস্কৃতির সর্বময় বিস্তার।আমাদের তা সমগ্র বিশ্বের প্রগিতশীল আন্দোরনের কর্মীরা সচেতন-অচেতন বাবে সেই সংস্কৃতির ভাব বলয়ে আক্রান্ত।

যত দিন না প্রগতিশীল আন্দোলনের কর্মীরা জীবনের সর্বস্তর কে ব্যাপ্ত করে , ব্যক্তি জীবন ও পার্টি জীবন কে সম্বনিত করে ব্যক্তিবাদ-ব্যক্তিকেন্দ্রকতা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে যুক্ত না হবে ...তত দিন প্রকৃত বৈপ্লবিক শক্তি বা ঐক্য কোন কার্যকর একতার রূপ পাবে না।

৪. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০১
পারভেজ আলম বলেছেন: লেখক বলেছেন: যত দিন না প্রগতিশীল আন্দোলনের কর্মীরা জীবনের সর্বস্তর কে ব্যাপ্ত করে , ব্যক্তি জীবন ও পার্টি জীবন কে সম্বনিত করে ব্যক্তিবাদ-ব্যক্তিকেন্দ্রকতা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে যুক্ত না হবে ...তত দিন প্রকৃত বৈপ্লবিক শক্তি বা ঐক্য কোন কার্যকর একতার রূপ পাবে না।

তারজন্য আগে প্রয়োজন সময়োপযগী জীবন ঘনিষ্ঠ আদর্শ আর দর্শন। আমাদের দেশের সমাজ বাস্তবতায় এই কাজটা এখনো করা হয় নাই। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসের ওপর অনেক বই আছে। কিন্তু এখানকার ঐতিহ্যবাহী ছাত্র রাজনীতির বৈশিষ্ট, ক্ষমতা আর দূর্বলতা নিয়ে কোন তাত্বিক আলোচনা করা হয় নাই, যা জরুরি ছিলো। আমি শুধু একটা উদাহরণ দিলাম। পার্টির সাথে ছাত্র সংগঠনের গণতান্ত্রিক সম্পর্কের বিষয়টা বুঝেছি কিন্তু দ্বান্দিক বস্তুবাদী সম্পর্ক বিষয়টা বুঝলাম না।
৫. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৪
ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: বস্তু জগতের প্রতি বস্তু অপর ব্স্তুর সাথে সম্পর্কিত আর এই সম্পর্ক টি দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক।একের ক্রিয়া অপর উপর যেমন নির্ভরশীল তেমনি একের ক্রিয়ার ফলাফল অপর কে পরিবর্তত করে ..........,নবরূপ প্রদান করে।

সংগঠনের কর্মীর গনত্ন্ত্রিক চেতনার বিকাশের এক দিকে পার্টির অভ্যন্তরস্থ গনতান্ত্রিক আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল ........অপর দিকে সেই মাটি-পানি-বায়ুতে কর্মীর উৎকষৃতার মধ্য দিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরস্থ চরিত্র বিকশিত হবে...............সংগঠনের আচরণের পরিস্ফুরণ ঘটবে। আর সংগঠনের নব বিকাশিত পরিবেশে কর্মীর চেতনার বিকাশের নতুনতর সুযোগ পাবে।

পার্টির অভ্যন্তরে কর্মির গড়ে উঠা শুধু ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিকাশ নয়......একই সাথে সংগঠন নিজেরও বিকশিত হওয়া।

এই দুইয়ের কোন একটির বিকাশ যদি স্থিতি অবস্থায় চলে আসে ....তবে অপর টি মুখ থুবড়ে পরবে।

যদি কর্মী ব্যক্তি হিসাবে থমকে দাড়ায়.......আর বাকি কর্মীদের বিকাশের আকাঙ্খা পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান থাকে ..........পার্টির বিকাশ চলবে ........তবে কর্মী ক্রমাগত পিছিয়ে পরবে.......এক সময় প্রতিক্রিয়াশীলতার কাতারে দাড়িয়ে যাবে।

যদি বিশেষ কর্মীর ( উদাহরণ নেতা বিশেষ) গতি হীনতায় সাথে সাথে পার্টির আর সকলে থমক দাড়ায় তবে...............পার্টির বিকাশবন্ধ হয়ে যাবে.... যেহেতু পার্টির বাহিক পরিবেশক সদা পরিবর্তনশীল............আর সেই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ পার্টি ধ্বংস কিংবা প্রতিক্রিয়াশির রূপান্ত অবশ্যম্ভাবিব।

আর পার্টির কাঠামো গত ক্রুটির জন্য ...অপরিবর্তণ যোগ্য কাঠামোর জন্য কর্মীর বিকাশের এক পর্যায়ে পার্টি আর তাকে ধারণ করতে পারে না।তখন পার্টির অভ্যন্তরে বিস্ফোরণ ঘটে। কর্মী চিরজড় কাঠামো ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসে।

আমার সীমিত জ্ঞানে এবং সীমিত জীবন চর্চার আলোকে আমি এটা কেই পার্টি ও কর্মীর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী সম্পর্ক বলেছি,,...........ও বুঝি।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৬৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্রষ্টার করুণা প্রত্যাশি হয়ে নয়। স্বর্গের লোভে নয়। নরকে ভয়ে ভীত হয়ে নয়। সৎ থাকতে ভাল লাগে, তাই সৎ থাকি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই