আমার প্রিয় পোস্ট

ছাত্র সাংগঠনের কর্মকান্ড কি শুধু মাত্র ছাত্রদের দাবী দেওয়া নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকবেঃ University of Alabama এর অভিজ্ঞতা ।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৯

শেয়ারঃ
0 18 0


যুক্তরাষ্ট্রের University of Alabama এর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ছাত্রদের পরিবাহনের দায়িত্ব পালনকারী ৬২ জন বাস চালকের মুজুরী বৃদ্ধির আন্দোলণের সাথে একাত্ম হয়েছে। Students for a Democratic Society নামক ছাত্র সংহঠনের University of Alabama শাখার সদস্যরা বাসে বাসে উঠে বাসচালকদের দাবীর পক্ষে ছাত্রদের নিকট হতে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছে।

ঘটনার শুরুঃ
University of Alabama কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যাষয়ের ছাত্রদের সার্বিক পরিবাহনের জন্য ২০০৭ সালে FirstGroup PLC নামক বিশ্বের পরিবাহণ সেক্টরের অন্যতম প্রভাবশালী ব্রিটিশ মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশনকে নিয়োগ করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে FirstGroup PLC কে এর জন্য প্রতি ঘন্টায় ৫৫ ডলার পরিশোধ করতে হয়।এই ব্রিটিশ মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশনটির University of Alabama ক্যাম্পাসে ছাত্র পরিবাহন ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ ইউ এস ডলারের উপর। University of Alabama ক্যাম্পাসে FirstGroup PLC কর্তৃক ছাত্র পরিবাহনে নিয়োজিত সাটেল বাসগুলো Crimson Ride Shuttle Bus নামে পরিচিত আর এই বাসগুলোতে ছাত্রদের পরিবাহন সেবায় ৬২ জন বাস চালক দায়িত্ব প্রাপ্ত, যাদের সিংহভাগ আফ্রিকান-আমেরিকান নারী বংশোদ্ভুত।

Crimson Ride Shuttle Bus চালকদের দূরাবস্থাঃ
প্রতি ঘন্টা কাজের জন্য FirstGroup PLC একজন বাস চালকে মাত্র ৯.৫ ডলার পরিশোধ করে। বিশ্ববিদ্যারয়ে ছুটির সময় এই সকল বাস চালকে কোনরূপ মুজুরী প্রদান করা হয় না।উপরন্ত নেই চাকুরীর নিরাপত্তা, ছাটাইয়ের জন্য কোন নিয়ম-নীতির ধারধারে না FirstGroup PLC . নিম্মমুজুরী প্রাপ্ত এই সকল বাস চালকরা দারিদ্র সীমার নিচে জীবন যাপন করে । বেঁচে থাকার সংগ্রামে দিনের অবশিষ্ট সময়ে কেউ কে ২য় আরেকটি কাজ করে।

নিজেদের এই অসহায় অবস্থার থেকে মুক্তির জন্য এই বাস চালকরা Alabama এর পরিবাহন শ্রমিক সংগঠন/ ট্রেড ইউনিয়ন Amalgamated Transit Union (ATU) Local 1208 তে যোগদানের জন্য মে ২০০৯ এ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে; কিন্তু আজ পর্যন্ত তাঁরা উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের ব্যর্থ হয়।

Crimson Ride Shuttle Bus চালকদের পাশে ছাত্ররা
Students for a Democratic Society এর University of Alabama শাখার সদস্যরা অসহায় বাস চালকদের পাশে দাড়িয়েছে।বাস ছারকদের দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে সমাবেশ করেছে। ছাত্রদের সমর্থন পেয়ে দরিদ্র বাস চালকরা আশান্বিত হযে উঠেছে।Crimson Ride Shuttle Bus চালকদের একজন Tia Brown তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেছেন,'Students have the power to put a lot pressure on the university to do something.”

Students for a Democratic Society এর University of Alabama শাখার সদস্যরা বাস চালকদের অবস্থা ও দাবি ছাত্রদের সামনে তুলে ধরতে সারা ক্যাম্পাসে 'হ্যান্ডবিল' বিতরণ করছে। ১১ ফেব্রূয়ারি ২০১০ পর্যন্ত মধ্রে ১ হাজার ছাত্রের স্বাক্ষর সঙগ্রহের কর্মসূচি গ্রহন করেছে। একই সাথে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ কে National call-in day ঘোষনা করে University of Alabama এর প্রেসিডেন্ট কে জানানো হবে যে,
Crimson Ride Shuttle Busএর ৬২ জন চালকে FirstGroup PLC যে মুজুরী পরিশোধ করে তা অমানবিক।

Students for a Democratic Society এর কর্মীরা তাঁর এই সংগ্রাম কে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বিচিন্ন কর্মসূটি দেখে না। SDS এর কর্মী Jenae Stainer নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে বলেন, African American workers continue to struggle for equality, especially here in the South where we have not yet overcome the history of racism. Though people may have moved from the back of the buses to the drivers’ seats, they still don’t have the justice they deserve.

আমার লজ্জা, আমার অক্ষমতা ঃ
মে ১৯৯৬ থেকে সেপ্টম্বর ২০০১ পর্যন্ত দীঘৃ সাড়ে পাঁচ বছর বুয়েটের আহসানউল্রাহ হলের কাটিয়েছি।ছাত্র সংগঠনের কর্মী হিসাবে হলে প্রতিটি ছাত্রের কক্ষে আমার ছিল অবাধ বিচরণ। কিন্তু, আহসানউল্রাহ হলের পশ্চিম প্রান্তের অন্ধকার কোণে যে ২২/২৩ জন মানুষ নামক জীবের বৎসরের পর বৎসর মুখ লুকিয়ে থাকতো , তাদের খোজ আমার কখনও নেওয়া হয় নি।
এদের মাঝে ১৮ জন আহসানউল্রাহ হলের ডাইনিং। এদের কোন স্থায়ী চাকুরী নেই। এদের সাথে বিশ্ববিদ্যারযের কোন সম্পর্ক নেই। সে সময় তাদের মাসিক বেতন ছিল ১২০০/- থেকে ১৫০০/- টাকা। সে বেতনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন বরাদ্দ ছিল না। ছাত্রদের ডাইনিং ফি সাশ্রয় করে তা দেওয়া হতো ।বিশ্ববিদ্যারয় বন্ধ থাকলে তাই মাসিক সামন্য বেতন টুকু বন্ধ।ছাত্রদের খাবার রান্না করে ও পরিবেশন করে বিনা পয়সায় দু' বেলা আহার জুটতো।

উপসংহার ঃ
যক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত University of Alabama এর ছাত্রদের বাস চালকদের পাশে দাড়াবার এই সংবাদ আমার মনে দীর্ঘ দিনের এক দ্বিধাগ্রস্থ প্রশ্ন উত্তর দিয়ে দিলো।

শুধু ছাত্র সমাজের বা শিক্ষা সংক্রান্ত দাবী আদায় নয়, যে কোন অন্যায়-অবিচার আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ভাবে দাড়ানো ছাত্র সমাজেন নৈতিক কর্তব্য এবং সেটাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব পরিচয়।

*************************************************
সূত্রঃ
Union says UA Crimson Ride bus drivers ‘grossly underpaid’

Alabama: Campus Bus Drivers Fight for Living Wage


 

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০০
অর্থহীণ বলেছেন: Bhai Plz dont provide this kind of news. Monta choto hoye jai. Amago polapain ki kore r ora .......
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৯

লেখক বলেছেন: আমি ছাত্রজীবনে আমার নিজ অক্ষমতার কথা স্বীকার করতে চাই।

আমার নবীন বন্ধুরা আমার মত মন্যৃষত্বহীন ক্লিব যেন না হয়।

২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৮
খোশনবীশ বলেছেন: শুধু যুক্তরাষ্ট্র কেন, চীন ও ইরানের সাধারণ ছাত্ররাও কোন গোষ্ঠীর লেজুরবৃত্তি না করে গণতন্ত্র ও অন্যান্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন করেছে। আর আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই Students for a Democratic Society একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ওদের আন্দোলন ধারণা আর আমাদের আন্দোলন ধারণার মধ্যে অনেক তফাৎ আছে বলেই আমার ধারণা। ওরা তো আর ক্ষমতাবান হওয়া আর টেন্ডারব্যবসার জন্য সংগঠন করেনা!

পোষ্ট আর আপনার অনুশোচনার জন্য ধন্যবাদ।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৫

লেখক বলেছেন: শ্রমিকের মুজুরী প্রশ্ন, রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতির প্রশ্ন, বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী অগ্রাসণের প্রশ্ন কিংবা রাষ্ট্রীয় নীতিতে বর্ণবাদী কোন টি রাজনীতির বাইরে।

Students for a Democratic Society একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গি সম্পন্ন সংগঠন। Freedom Road Socialist Organization এর ছাত্র সংগঠন Students for a Democratic Society .

পড়ুনঃ
On the Student Movement in the United States
Click This Link


ক্ষমতাবান হওয়া আর টেন্ডারব্যবসার জন্য সংগঠন করেনা! ..আপনার মন্তব্যের উত্তর আমি নিচের লেখায় করার চেষ্টা করেছি।

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংঘাতের উৎসের সন্ধানে।
Click This Link

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনার হতাশার স্বপ্ন যদি সামান্য আলোক প্রাপ্ত হয় তবে তবে আমার সার্থকতা।

৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৩
অক্টোপাস বলেছেন: ভালো লাগলো।
আমাদের মনুষ্যত্ববোধ কতটা নীচে নেমে গেছে!
আজ আমরা কী নিয়ে নিজেদের সংঘর্ষে মেতে আছি! ক্ষমতার দখলের লোভ লালসা আর সাথে মনুষ্যত্ববোধের কি নিদারুন ঘাটতি!!
-------------------------------------------------

আপনারা চলে যাবার প্রায় বছর দুয়েক পর আ.উ. হলে আপনাদের উত্তরসূরি হয়েছিলাম। ডাইনিংয়ের ওই মানুষগুলোর আজও কোনো পরিবর্তন হয়নি! কেউ কখনো ভাবেও না ওদের নিয়ে। :( :( :( :(


১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪০

লেখক বলেছেন: আমি বৎসের এক -আধ বার হলে যাই। আমি হলে এসেছি জানলে ওরা অনেকেই ছুটে আসে।তকন আমি অনুশোজনা বারংবার দগ্ধ হই।

৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪০
মতিউর রহমান চরিয়া বলেছেন: খোশনবীশ বলেছেন: "চীন ও ইরানের সাধারণ ছাত্ররাও কোন গোষ্ঠীর লেজুরবৃত্তি না করে গণতন্ত্র ও অন্যান্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন করেছে। আর আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই Students for a Democratic Society একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ওদের আন্দোলন ধারণা আর আমাদের আন্দোলন ধারণার মধ্যে অনেক তফাৎ ----------ওরা তো আর ক্ষমতাবান হওয়া আর টেন্ডারব্যবসার জন্য সংগঠন করেনা!

- সহমত। ------- আমাদের ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-আন্দোলন, ৭১-এর স্বাধীনতা-আন্দোলন এসব কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় ----- কিন্তু এখন? সেই দিন নেই, সেই মহত গুন এবং উদ্যেশ্য ও সেই আজকালকের আমাদের ছাত্র-রাজনীতিতে ---- তাই অবিলম্বে ছাত্র-রাজনীতি বন্ধের দাবি জানাই সবে মিলে ----- দেশের প্রয়োজনে দরকার হলে, লেজুর-বিত্তিক রাজনীতি না করেও ছাত্র-জনতা ভবিষ্যতে মানুষের হাতে হাত মিলিয়ে সংগ্রাম করবে তাতে কোনই সন্দেহ নেই।
৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৬
জামীর রাসেল বলেছেন: খুব ভাল পোস্ট। দেশের প্রচলিত ছাত্ত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে এসব উদাহরণ শিক্ষা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ছাত্ত্র রাজনীতি বা আন্দোলন বিচ্ছিন্ন কোন কিছু না। খোশনবীশের সাথে কিছু বিষয়ে আমি একমত পোষন করলেও কয়েকটা ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। তা হচ্ছে লেজুরবৃত্তি। শব্দটি নেতিবাচক। ছাত্ত্র আন্দোলনের স্বাধীনতার বিষয়টি আমার কাছে বিমূর্ত। কেননা, তাদের যে কোন আন্দোলন বৈশ্বিকভাবে বা জাতীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট শক্তির স্বার্থ রক্ষা করবেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে স্বার্থটা কার? এখানকার বড় লোকদের না নিপীড়িতদের? Students for a Democratic Society এর University of Alabama শাখার আন্দোলন নিশ্চিতভাবে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে গেছে। ফলে এখানে আজ মূল ধারার ছাত্ত্র সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড নির্দিষ্ট গ্রুপের ইন্টারেস্ট রক্ষা করছে। তার বিপরীত খুঁজে বের করার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের নিজের
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

খোশনবীশের সাথে আমার বিরোধের জায়গা টি আপনি পরিষ্কার করে দিলেন।

স্বাধীন ছাত্র সংগঠন হতে পারে না।

ছাত্র- শ্রমিক-কৃষক- নারী সমাজ দেহে অপরিহার্য অঙ্গ।এই অঙ্গগুলির সম্মলিত ক্রীয়ায় সমাজ অগ্রসর হবে।

যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার চিন্তা অবৈজ্হানিক।ধরুণ .......................

৪ জন নগর পরিকল্পনাবিদ শহরের চার প্রান্ত তেকে যার যার মত পরিবর্পনায় ্সর , তবে বকর তারা একপি পরিকল্পিত নগর উপহার দিতে পারবে না।

তাই সমাজ নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চাই । থাকা চাই সুণির্দিষ্ট রাজনৈতিব লক্ষ্য।

৭. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৫
খোশনবীশ বলেছেন: আপনার ঐ লেখাটা আমি পড়লাম। ঐ লেখার সাথে আমি একমত। কিন্তু তারপরও বলবো-- ওদের আন্দোলন ধারণা আর আমাদের আন্দোলন ধারণার মধ্যে অনেক তফাৎ আছে বলেই আমার ধারণা। তাছাড়া, ছাত্র আন্দোলন ছাড়াই কি ওদের শিক্ষা ও অধিকার আমাদের চাইতে উন্নত নয়? আমাদের দেশের যে ছাত্র রাজনীতি তার সাথে আমি মোটেই একমত নই। সম্ভবত আপনিও না। যদিও জানলাম আপনি একসময় ছাত্ররাজনীতি করেছেন। অনেকে বলে থাকেন, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের আগমন ঘটে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে যে ছাত্র নেতৃত্ব বিকশিত হয়েছে তা থাকার চাইতে না থাকাই ভাল। আমার অল্প বয়সের স্বল্প অভিজ্ঞতায় যা বুঝেছি, তা মোটেই ছাত্র রাজনীতির প্রতি কোন সুখকর ধারণার জন্ম দেয়না। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষক আর সৃজনীমুখ সৃষ্টি হবার কথা সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাপাতি আর অস্ত্র চালনায় দক্ষমুখ সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যে বিশ্বের ৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায়না তার মূলে কি আমাদের ছাত্রদের এই নেতিবাচক চরিত্রই দায়ি নয়? আর এই ধারায় শুধু ছাত্র কেন শিক্ষকরাও কি পচে যাননি! যেখানে তাদের গবেষণা করার কথা সেখানে তার তদবীর করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খুবই পরিচিত একজন শিক্ষক একবার এক টিভি টকশো তে বলেছিলেন, যে সব শিক্ষকরা বিভিন্ন টকশোতে পন্ডিতের মত কথা বলেন তাদের কাওকেই লাইব্রেরিতে দেখা যায়না এবন কি তাদের নাকি লাইব্রেরি কার্ডও নেই। আর অধ্যয়ন না করে তারা কিভাবে অধ্যাপনা করেন এ বিষয়টি তার কাছেও বোধগম্য নয়।
তবে, পোষ্টের জন্য আপনাকে আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি বলতে আমরা বারংবার যা দেখছি তাকে আমাদের জাতীয় রাজনীতি অপধারার অচ্ছেদ অংশ মনে করি।
******************************************
আমি আমার ছাত্র জীবনে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ছিলাম এবং তাঁর জন্য আমি অহংকার বোধ করি।

কেন?

আমি এর মাঝে মন্যুষত্বের শিক্ষা পেয়েছি। মানুষ হিসাবে আমার যে টুকু অর্জণ তা ছাত্র রাজনীতির থেকে অর্জণ।

প্রশ্ন হচ্ছেন আপনি কোন লড়াইয়ে শামিল হবেন..........অবক্ষয়ী দানবীয় পথ .......... না........ নির্মাণের মনুষ্যত্বের পথ।

মাঝামাঝি কোন পথ নেই।

লড়াইয়ের একটা পক্ষ আপনা কে বেছে নিতে হবে আর লড়াই কখনও একা হয় না । এই সম্মিলিত লড়াই টা কে সংগঠন বলে।

৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০২
মতিউর রহমান চরিয়া বলেছেন: খোশনবীশের উপরোক্ত মন্তব্যের সাথে আমি ১০০% একমত ---- লেজুর-ভিত্তিক ছাত্র-রাজনীতির কোনই যুক্তি নেই, আছে সমূহ কুফল যা আমরা দেখছি সবসময় ----
৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩১
মতিউর রহমান চরিয়া বলেছেন: বঞ্চিতদের পাশে দাড়ানোর অজুহাতে জামাতের শিষ্য হিসাবে শিবির, আওয়ামি লীগ-এর ছাত্রলীগ, বিএনপি-র ছাত্রদল এর আমাদের আদৌ দরকার নেই; এরা ব্যস্ত শুধু তাদের প্রভু রাজনৈতিক দলের স্বার্থ আদায়ের জন্য, উৎসাহী শুধু নিজেদের স্বার্থ-লাভের জন্য মারামারি, খুন-খারাবি-টেন্ডারবাজিতে -----

----ছত্র-রাজনীতি আর দলীয় রাজনীতি আজ একে অপরের অপকর্মের সহায়ক শক্তি ---- এসব চাইনা, চাইনা, চাইনা ----

দেশের প্রয়োজনে কিংবা সাধারণ মানুষের সাহায্যার্থে দরকার হলে, লেজুড়-ভিত্তিক ছাত্র-রাজনীতি না করেও আমাদের ছাত্র-জনতা ভবিষ্যতে মানুষের হাতে হাত মিলিয়ে সংগ্রাম করবে, তাতে কোনই সন্দেহ নেই।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০১

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
দেশের প্রয়োজনে কিংবা সাধারণ মানুষের সাহায্যার্থে দরকার হল।


প্রশ্ন এখন এই মুহুর্তে দরকার কিনা?

যখন............ ইজারা গ্রহণের ১৫ থেকে ১০ বছর পর আই ও সি গুলো দেশের চরম গ্যাস সংকটের মাঝে হাত পা গুটিয়ে বসে আছে?

যখন.........১৯৯৪ সালে সালে জন্ম গ্রহণ করা ৩২ লক্ষ শিশুর মাঝে মাত্র ৯ লক্ষ শিশু এবার ২০১০ সালে এসএস সি পরীক্ষার টেবিলে বসছে

যখন.........রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে ব্রাক গরিব বর্গা চাষীদের কাছ থেকে ১৮% সুদ আদায় করছে।

যখন.......... প্রতিদিন গড়ে ৩ জন গার্মেন্টস কর্মী তাঁর কাজের স্থলে কিংবা ফিরবার পথে য়ৌণ লাঞ্ছনার স্বীকার হচ্ছে।

যখন......... আমাদের শিল্পপতিরা কারখানা বর্জ্যে একে একে নদীগুলো কে হত্যা করেছে।
*******************************************
যে দরকারে কথা আপনি বলেছেন............. সে দরকারে কথা ব্রিটিশ আমরে সুবিধার হালুয়া রুটি খাওয়ারা বলেছিল..............

পাকিস্তান আমলেও বলা হয়েছে................

প্রশ্ন দরকারের সময় টা কখন তা জানা................................

১০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১০
খোশনবীশ বলেছেন: ছাত্র সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। একটি শিক্ষিত ও প্রগতিশীল সমাজের ছাত্ররা রজনৈতিক বিষয় ও মতাদর্শ নিয়ে সচেতন ধারণা লালন করবে এটা প্রত্যাশিতও। কিন্তু রাজনীতি তো আলাদা একটি পর্ব। ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও গন্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে এর সমাপনটাই জরুরী। ছাত্র জীবনে রাজনীতির বৈধতা দিতে গিয়ে যদি পুরো শিক্ষা জগৎটাই কলুষিত হয়ে যায় তবে ঐ রাজনীতি দিয়ে কী হবে। যে রাজনীতি করতে চায় সে শিক্ষাপর্ব সমাপ্ত করেই তা করবে। এর অন্যথা হলে ঐ নেতার কাছ থেকে দেশ-জাতি খুব ভাল কিছু পেতে পারবেনা। উন্নত বিশ্বের সেরা রাজনীতিবিদদের দেখেন, প্রায় প্রত্যেকেই আইন কিংবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অভিজ্ঞ ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা প্রত্যেকেই রাজনৈতিক আদর্শ চিন্তা ও মননে লালন করতেন কিন্তু আমাদের মত তথাকথিত ছাত্র নেতা ছিলেননা। ফলে তাদের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর আমরা রাজনীতি বলতেই বুঝি, নেতা বা সংসদ সদস্য হয়ে গম, টিন, চাল আর বরাদ্দ অর্থের মাতাব্বরি নেওয়া। সংসদ সদস্যের প্রধান কাজ যে আইন প্রণয়ন করা সেটা আমরা বেমালুম ভুলে গেছি।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫২

লেখক বলেছেন: '' র্পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করিয়া আমি ইহা উপলব্ধি করিয়াছি যে- আমাদের সমুদয় দীক্ষা কেবল মনুষ্যত্ব লাভের উদ্দ্যেশ মাত্র। ''

......................দূর্বল ভালোমানুষের দ্বারা এই সব হইবে না, এইসবের জন্য বিক্রমশীল পুরুষের আবশ্যক, তাহাদের পূর্ণশক্তির আঘাতে সব বাধাবিঘ্ন শুন্যে মিশিয়া যাইবে।

আর যে শান্তি ক্রোড়ে আমরা এতদিন নিশ্চেষ্ট ও সুপ্তভাবে জীবন যাপন করিয়াছি, জগৎ হইতে সেই শান্তি অপসৃত হইতেছে। শান্তি কোনো জাতির পৈতৃক অথবা চিরসম্পত্তি নহে; বল দ্বারা, শক্তি দ্বারা, জীবন দ্বারা শান্তি আহরণ করিতে এবং রক্ষা করিতে হয়।

..........................স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু্
Click This Link

১১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৯
মতিউর রহমান চরিয়া বলেছেন: এত ঘোরপ্যাচ না করে দয়া করে নিচের কথাগুলো সত্য না মিথ্যা সরাসরি বলুন আর সেই ভিত্তিতে আজকের ছাত্র-রাজনীতির অবস্থান বিবেচনা করুন।

জামাতের শিষ্য হিসাবে শিবির, আওয়ামি লীগ-এর ছাত্রলীগ, বিএনপি-র ছাত্রদল - এধরনের ছাত্র-রাজনীতির আমাদের আদৌ দরকার নেই; এরা ব্যস্ত শুধু তাদের প্রভু রাজনৈতিক দলের স্বার্থ আদায়ের জন্য, উৎসাহী শুধু নিজেদের স্বার্থ-লাভের জন্য মারামারি, খুন-খারাবি-টেন্ডারবাজিতে -----

---- আমাদের দেশে ছাত্র-রাজনীতি আর দলীয় রাজনীতি আজ একে অপরের অপকর্মের সহায়ক শক্তি।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন: আমি জামাত-বিএনপি- আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি না। তাদের দায় আমি নেব না..... তবে তাদের বিরুদ্ধে দাড়াতে আমি দুঃসাহসী....................


তাদের দলে নয়ই যারা....................মাত্র এক বছর আগে ...পঁচা মাংস দিয়ে ভাত খাবার বদলে পঁচা মাংস দিয়ে ভাত ধেখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে ছিলেন।


লীগ- দল-শিবির- ছাত্ররাজনীতির শেষ কথা নয়।

নিচের লিংকে ভিডিও টি দেখুন..................

Click This Link

ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত দেখবেন।

১২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১৩
খোশনবীশ বলেছেন: সময় মানুষকে সংগঠিত করে। এই সংগঠিত হওয়া আর আমাদের চলমান পাপবিদ্ধ ছাত্ররাজনীতি এক কথা নয়। অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হওয়ার একটা সুফল আছে কিন্তু ক্ষমতা আর সম্পদ কুক্ষীগত করার জন্যে সংগঠিত হওয়ার প্রভূত মন্দ ফল আছে। ছাত্র রাজনীতির তত্ত্ব আর আমাদের বিদ্যমান ছাত্র রাজনীতি এক নয়। আর এই জন্যই হয়তো এদেশে জন্মে না কোন যুগ বদলানো বিজ্ঞানী, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ। এজন্যই হয়তো এদেশে ডি রোজীও কিংবা স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর কোন উত্তরাধিকার নেই।
১৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৬
জামীর রাসেল বলেছেন: চরিয়া এবং খোশনবিশের সাথে এক মত হতে পারলাম না। লীগ, শিবির, ছাত্ত্রদল যে ধারার রাজনীতি করছে তা বন্ধ হওয়া অবশ্যই জরুরী। আপাত কথার অর্থে যদি বলা হয়, রাজনীতিকে শুদ্ধ করতে হবে। তখন, প্রস্তাবনা হিসেবে আসে ছাত্ত্র রাজনীতি এবং শ্রমিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তাতেই কী জগৎ শুদ্ধ হয়ে যাবে? আ. লীগ, বিএনপি, জামাতসহ অন্যান্যরা নোংরামী করবে আর দায় হবে রাজনীতির উপর। ফলে চরিয়া এবং খোশনবিশের কথামতে রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাও কি আদৌ সম্ভব? সমাজ থাকলে রাজনীতি থাকবেই। প্রত্যেক গ্রুপের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি চর্চা অব্যাহতভাবে চলবে। ফলে এসব দায় ছাত্ত্রদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের অধিকার আদায়ের পথ বন্ধ করে দেয়া যাবে না। আগের ইতিহাস বাদ দেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুয়েটে সনি হত্যার বিরুদ্ধে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শামসুন্নাহার হলে ছাত্ত্রী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন কে নেতৃত্ব দিয়েছিল? সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ছাত্ত্র নির্যাতনের বিরুদ্ধে কারা আন্দোলন পরিচালনা করে? করেছে ছাত্ত্র সংগঠনরাই। ছাত্ত্র লীগ বা শিবির করে নাই। আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়েছে অধিকার আদায়ের ছাত্ত্র সংগঠনগুলো। ছাত্ত্র রাজনীতি বিরোধী যারা যুক্তি করছেন, তা অনেকটা এ রকমই, সর্দি হয়েছে তো, তাই এ থেকে মুক্ত হতে গলা কেটে ফেলে দিন। ফখরুদ্দীন নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনীতিসহ ছাত্ত্র রাজনীতি বন্ধ ছিল। আমি ওই সময় একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ত্র ছিলাম। সে সময় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ ছাত্ত্র বেতন বাড়ে তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে আর কখনো বাড়েনি। কারণ, ছাত্ত্র রাজনীতি মানে অধিকার আদায়ের ভাষা। শিক্ষা রক্ষার মূল অস্ত্র। আর সে অস্ত্র পুঁজি করে এখনো কিছু ছাত্ত্র সংগঠন অব্যাহত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এখনো মধ্যবিত্তদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদি ছাত্ত্র রাজনীতি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত শিক্ষা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। নিষিদ্ধ করা দরকার লীগ, শিবির, ছাত্ত্রদলকে। যারা আমার ক্যাম্পাস কলঙ্কিত করছে।
১৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৯
দিনমজুর বলেছেন: ভিন্ন চিন্তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ তার এই চমতকার আলোচনার জন্য।

এই আলোচনার মন্তব্যে চরিয়া এবং খোশনবিশ ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কিছু কথা বলেছেন যেগুলোর উত্তর ভিন্ন চিন্তা এবং জমীর রাসেল একভাবে দিয়েছেন। আমি এখানে তাদের সাথে আরো কিছু কথা যুক্ত করতে চাই------

ছাত্র সংগঠনগুলোর পরস্পরের মধ্যে বা নিজেদের মধ্যে যখন কোন গ্যাঞ্জাম বাধে, যখনই কেউ নিহত/আহত হন তখন আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক, ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ না করাটা মোটেই কাম্য নয়-- কিন্তু মাঝে মাঝে বোধ হয় সেই ক্ষুব্ধতা আমাদের যুক্তি বুদ্ধি নষ্ট করে দেয়(আমি এখানে প্রথম আলো গ্রুপের ও তার লালিত পালিত বুদ্ধিজীবীদের কথা বলছি না, তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নয় বরং খুব ঠান্ডা মাথায় এ ধরনের মূহূর্তে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা করতে শুরু করে)- নইলে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সমস্যার গোড়ায় নজর না ফেলে একটা বড় অংশের মানুষ দেখি বলতে শুরু করে ছাত্র রাজনীতিটা থাকাই হলো মূল সমস্যা- কাজেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব!

তাত্ত্বিকভাবে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্বসম্পর্কে অনেক কথাই বলা সম্ভব। এখানে এখন সেসব কথা না তুলে, যারা বাস্তবতার দোহাই দিয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলেন তাদের ভাবনার জন্য আমরাও কিছু বাস্তব প্রশ্ন করতে চাই- আচ্ছা, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে এই যে মারামারি হানাহানি এটার মূল কারণ কি? স্রেফ ছাত্র-সংগঠন নামক এক একটা সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে থাকার কারণেই কি তাদের মধ্যে এই সমস্যা?(এই ধরনের সাংগঠনিক কাঠামোতে তো আরও অনেক ছাত্ররা রাজনীতি করছে- ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন- তাদের কে তো এরকম চাদাবাজি লুটপাট কিংবা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত হতে দেখা যায় না!)

সাংগঠনিক কাঠামো বাতিল করে দিলে বা abolish করে দিলে কি যে সব সমস্যার কারণে এই হানাহানি সেটা দূর হয়ে যাবে? ছাত্রলীগ, ছাত্রদলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেই কি ছাত্রলীগের/ছাত্রদলের হয়ে কাজ করা ছাত্র-যুবকদের ব্যাবহারের পথ বন্ধ হয়ে যাবে? এদের যৌবন এদের শাক্তিমত্তা কে কি যুবলীগ/যুবদলের মাধ্যমে কিংবা আওয়ামী লিগ/বিএনপির মাধ্যমে ব্যাবহার করা যাবে না?(ছাত্রলীগ/ছাত্রদল নিষিদ্ধ করবেন- তখন এসব দলের সদস্যদেরকে যুবদল/যুবলীগ এ ব্যাবহার করা হবে, যুবদল/যুবলীগ নিষিদ্ধ করলে এদের কে আওয়ামীলিগ/বিএনপিতে ব্যাবহার করা হবে---তারপর কি আওয়ামি লিগ বিএনপি কে নিষিদ্ধ করতে বলবেন? তাহলে এখনই বলছেন না কেন? ক্ষমতার মূল কাঠামোকে অক্ষুন্ণ রেখে এভাবে ক্ষমতার একটা/দু‌টো শাখা নিষিদ্ধ করলে কিছুই পরিবর্তন হবে না, তার নতুন শাখা গজাবে, নতুন নতুন ভাবে মানুষকে ক্ষমতার প্রয়োজনে ব্যাবহার করা হবে) ক্যাম্পাস থেকে ছাত্ররাজনীতি তুলে দিলেই কি ঐ ছাত্ররা রাজনীতির নামে ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের আশপাশে অস্ত্রবাজি, চাদাবাজি, লুটপাট এবং সেই লুটের বখরা ইত্যাদি নিয়ে পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করে দেবে? বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র-যুবকদের ব্যাবহার করে আধিপত্য বিস্তার করার রাজনৈতিক প্রয়োজনগুলো তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক ভাবে অক্ষুন্ন রেখে স্রেফ ছাত্ররাজনীতি নামক একটি সাংগঠনিক কাঠামো নিষিদ্ধ করে ক্যাম্পাস/দুনিয়া নিরাপদ করার প্রস্তাব কি বাস্তবানুগ হলো?
১৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৮
শা‌হ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন: চমৎকার সময়োপযোগী পোস্ট। ছাত্র রাজনীতি বিষয়ে কোন প্রশ্ন নেই। ছাত্র রাজনীতির সীমানা নিয়েও কোন প্রশ্ন নেই।

তবে একটি বিষয়ে মনে হয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। "স্বাধীন ছাত্র সংগঠন হয় না"--- একথার একটু ব্যাখ্যা দরকার।

ছাত্র-সংগঠন যখন রাজনীতি করবে তখন জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের যেকোন ইস্যুতে তাদের অবস্থান থাকবে। একারনে স্বাভাবিক ভাবে, একটা ছাত্র সংগঠন একটা রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক সংগঠনের অনুসারী সংগঠন হতে পারে। এই সম্পর্কটাকে অঙগ-সংগঠনও বলা যেতে পারে।

কিন্তু যদি রাষ্ট্রীয় সংগঠনটি অনুসারী ছাত্র-সংগঠনটিকে আর্থিক এবং সাংগঠনিক দিক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখনই এই অনুসারী বা অঙ্গ ছাত্র-সংগঠনটির মূল সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে ব্যবহৃত হবার সম্ভাবনা বাড়ে।

সুতরাং ছাত্র অঙ্গ-সংগঠনের সাথে রাষ্ট্রীয় মূল সংগঠনের সম্পর্কটা আদর্শিক মেন্টরিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম।

বলাবাহুল্য, মূল-সংগঠনের আদর্শ যখন লুটপাট তখন মেন্টরিং এর কিছু থাকে না।

ছাত্র সংগঠন অবশ্যই মূল সংগঠনের কর্মসূচী বাস্তবায়নে অংশ নেবে, কিন্তু আর্থিক/সাংগঠনিক দিক থেকে স্বাধীন থাকলে তারা যেকোন কর্মসূচীতে অংশ না নেবার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মূল সংগঠনের উপর প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগ করতে পারে (৭১ এ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের উপর ছাত্রলীগের চাপ-প্রয়োগ স্মর্তব্য)।

বর্তমান বাংলাদেশের অস্থির বাস্তবতায় আইনগত/সামাজিক-ভাবে মূল এবং অঙ্গ সংগঠনের এই আর্থিক এবং সাংগঠনিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৪৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্রষ্টার করুণা প্রত্যাশি হয়ে নয়। স্বর্গের লোভে নয়। নরকে ভয়ে ভীত হয়ে নয়। সৎ থাকতে ভাল লাগে, তাই সৎ থাকি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই