somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত সমস্যাসমূহ প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক বামমোর্চা।। হত্যা, ছিটমহল সমস্য, বাণিজ্য ঘাটিতসহ অমিমাংসিত সমস্যাসমূহ সমাধান এবং
ট্রানজিটের নামে করিডোর প্রদানর উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম
মোর্চার উদ্যোগে আজ ২৮ আগস্ট ২০১১ সকাল ১১.৩০টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি
মিলনায়তনে (নীচতলায়) এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনের লিকিত বক্তব্য প্রকাশ করা হল।]

গণতান্ত্রিক বামমোর্চার পক্ষ থেকে আমাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। ভারতের
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও দুই দেশের
মধ্যে অমীমাংসিত সমস্যাসমূহ নিষ্পত্তির দাবিতে এবং ভারতকে
ট্রানজিট-করিডোর সুবিধা প্রদানসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলন
আহ্বান করা হয়েছে।
আপনারা অবগত আছেন যে, আগামী ৬-৭ সেপ্টম্বর ২০১১ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড.
মনমোহন সিং এর বাংলাদেশ সফরকালে অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, কাঁটাতারের
বেড়া, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ছিট মহল সমস্যার সমাধান না করেই ভারতকে
ট্রানজিট-করিডোর প্রদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ
চুক্তি সাক্ষর হবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য এই সমস্ত
চুক্তি ও সমঝোতা সম্পর্কে সরকারের তরফ থেকে এই পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে
কোনকিছুই দেশবাসীকে জানানো হয়নি। এমনকি শাসকশ্রেণীর বক্তব্য অনুযায়ী সকল
বিষয়ে আলোচনার কথিত কেন্দ্র বিন্দু জাতীয় সংসদেও এসব নিয়ে কোন আলোচনা
হয়নি। কারা, কোথায়, কিভাবে দেশের এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ
করছেন বাংলাদেশের জনগণ তার কিছুই জানে না। বোঝাই যাচ্ছে, সমগ্র বিষয়ে
ন্যূনতম কোন স্বচ্ছতা নেই। এক ধরণের রাখ-ঢাক প্রক্রিয়াতেই ভারতের সাথে নানা
ধরণের চুক্তি সাক্ষরের আয়োজন চলছে। যেসব চুক্তি সম্পর্কে জনগণ কিছু জানে
না বা যেসব চুক্তি জনস্বার্থ ও দেশের স্বার্থের পরিপন্থী জনগণ সেসব দেশবিরোধী
চুক্তি কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না, নেবে না।

গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা খানিকটা জানতে পেরেছি যে, বাংলাদেশ-ভারত
দ্বি-পাক্ষিক অমীমাংসিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ও নিরাপত্তা ইস্যুর
মতো ভারতীয় পক্ষের এজেন্ডাসমূহই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত ৪০ বছর
ধরে উত্থাপিত দাবি অভিন্ন নদীর পানি বন্টন তথা ন্যায্য হিস্যা আদায়,
ছিটমহল ও সীমান্ত সমস্যার মতো বাংলাদেশের এজেন্ডাসমূহ কার্যত অনেক পিছনে,
টেবিলের নীচে রেখে দেয়া হয়েছে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের অমীমাংসিত
সমস্যাসমূহের সমাধান না করে এবং দেশবাসীর কাছে সমগ্র বিষয়গুলো পরিষ্কার
না করে ভারতের চাহিদা মতো ট্রানজিট-করিডোর সুবিধা প্রদান ও ভারতের
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চুক্তি সাক্ষরের কোন অবকাশ নেই। ভারতের সরকার তথা
ভারতের শাসকশ্রেণীর চাপের মুখে এই ধরনের চুক্তি এই অঞ্চলে উন্নয়ন, শান্তি
নিরাপত্তা সৃষ্টির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে অনাস্থা, অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের
পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। চাপিয়ে দেয়া কোন চুক্তি এ পর্যন্ত পৃথিবীর
কোথাও উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করতে পারেনি।

প্রিয় বন্ধুগণ,

আপনার অবগত আছেন যে, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহের উপর বাংলাদেশের
ন্যায্য হিস্যা এখনও নিশ্চিত হয় নি। গঙ্গা নদীর মতো্‌ তিস্তার পানি বন্টন
সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তিতেও বাংলাদেশ ঠকতে যাচ্ছে বলে আমাদের আশঙ্কা।
আমাদের ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের কথাও শোনা যাচ্ছে। ভারত
টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে জল বিদ্যুৎ তৈরির সর্বনাশা প্রকল্পও অব্যাহত রেখেছে।
আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহারের
পরিকল্পনাও রয়েছে ভারতের। সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ কর্তৃক
বাংলাদেশীদের নির্মম হত্যাকাণ্ড, গুম, অপহরণ, নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।
বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে এক ধরণের উত্তেজনা ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা
জিইয়ে রাখা হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার
মধ্যে রয়েছে। ইসরাইল সীমান্ত এবং মেক্সিকো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ছাড়া
পৃথিবীর কোথাও প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকলেও
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ভারত বাংলাদেশের প্রতি
বন্ধুত্বের এক অনন্য (!) দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত
জুড়ে ৩৭৮৩ কি.মি. ভারতের কাঁটাতারের প্রাচীর নির্মাণ ও বিভিন্ন অংশে তাকে
বিদ্যুতায়িত করা সীমান্তের জনগণকে আরও নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে।
বাংলাদেশের তিন দিকে বিপদজনক এই কাঁটাতারের বেড়া বাংলাদেশকে এক ধরণের
কারাগারে পরিণত করেছে। সীমান্তে ধারাবাহিক এই হত্যাকাণ্ড উত্তেজনা ও
যুদ্ধ পরিস্থিতি অবসানে এই পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যেসব সমঝোতা
হয়েছে বিএসএফ তথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেসব কোন আমলেই নেয়নি। ১৯৭৪ সালে
সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশের দক্ষিণ বেরুবাড়ী ইউনিয়ন ভারতকে হস্তান্তর
করা হলেও গত ৪০ বছরে বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডোর স্থায়ীভাবে হস্তান্তর
করেনি ভারত। ছিটমহল সমস্যার এখনও পর্যন্ত কোন সমাধান হয়নি। এই অবস্থায়
সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না করে ২০ আগস্ট ভারতের সাথে সীমান্ত
নকশা সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি সাক্ষর আমাদেরকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে
তুলেছে। এই চুক্তির হাত ধরে দেশের স্বার্থ বিপন্ন হবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্য ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও খুবই নাজুক। ভারতের
আরোপিত শুল্ক ও অশুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশী পণ্য ভারতের বাজারে ঢুকতে
পারছে না। ভারতের প্রতিবন্ধকতার কারণে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল
ভারতীয়দের দেখার কোন সুযোগ নেই। অথচ ভারতের বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে
বাংলাদেশ সয়লাব হয়ে আছে এবং এর মাধ্যমে ভারত এক ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন
পরিচালনা করে চলেছে। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা বাংলাদেশের দক্ষিণ
তালপট্টির উপর ভারত এখনও তার অবৈধ দাবি পরিত্যাগ করেনি। তদুপরি আমাদের
সমুদ্রের তেল-গ্যাস ব্লকের উপর ভারতের দাবি ও জবরদখলের কারণে বাংলাদেশের
জাতীয় স্বার্থ গুরুতর হুমকীর মধ্যে পড়েছে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্দী
বিনিময় চুক্তি না থাকলেও ভারতীয় চাপের মুখে বাংলাদেশ ভারতের কথিত
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ট্রেনিং, আশ্রয় ইত্যাদি বিষয় কূটনৈতিক ফয়সালার বদলে
বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন বহু বিষয়ের উন্মোচন ও নতজানু নীতি নিয়ে চলছে
বাংলাদেশ সরকার। এ ধরনের বহু সমস্য রয়েছে যার তালিকা আর দীর্ঘ না করে
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশের সার্বভৌম অস্তিত্ব, জাতীয় স্বার্থ,
জাতীয় নিরাপত্তা. শান্তি ও উন্নয়ন সম্পর্কিত এ সকল সমস্যার যৌক্তিক ও
ন্যায়সঙ্গত সমাধান না করে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতকে
ট্রানজিট-করিডোর প্রদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ ভারতের প্রতি নতজানু নীতি
গ্রহণ করে কোন চুক্তি সাক্ষর করা যাবে না। এই ধরণের চুক্তি হবে বাংলাদেশের
জন্য আত্মঘাতী। আমরা এই ধরণের তৎপরতা মেনে নেব না। বাংলাদেশের
গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক মানুষও মহাজোট সরকারের ভারতের প্রতি নতজানু ও
দেশবিরোধী অশুভ পদক্ষেপকে বরদাস্ত করবে না।

সাংবাদিক বন্ধুগণ,

সরকার ট্রানজিটের নামে ভারতকে করিডোর দেবার যে চুক্তি সাক্ষর করতে যাচ্ছে
তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলেও গুরুতর আপত্তি ও নানা প্রশ্ন উত্থাপিত
হয়েছে। বহুপাক্ষিক ট্রানজিট অবকাঠামোর বিশাল ব্যয়ভার, ট্রানজিট
প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা, অবকাঠামোর দায়িত্ব, ট্রানজিটের কারণে বাংলাদেশের
সীমিত জমির বিশাল ক্ষতি, পরিবেশ ও স্বাস্থের বিরাট ঝুঁকি এবং সর্বোপরি
ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর দেবার বিনিময়ে বাংলাদেশ নির্দিষ্টভাবে কি অর্জন
করবে, এই সমস্ত বিষয়ের সুরাহা না করে তাড়াহুড়া করে ভারতকে
ট্রানজিট-করিডোর সুবিধা দেবার কোন সুযোগ নেই। ভারত এই সুবিধাকে যে
নিরাপত্তা করিডোর হিসাবে ব্যবহার করবে না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে এটা নিয়েও তাদের
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আর বস্তুত: বাংলাদেশের সড়ক, রেল, নৌ বন্দর প্রভৃতি
কোন দিক থেকেই ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর দেবার প্রস্তুতি নেই; বর্তমান
অবকাঠামোয় যেখানে বাংলাদেশের চাহিদাই মিটছে না, সেখানে ভারতের এসব সুবিধা
দেবার অবকাশ কোথায়? আর ভারত গত ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুসুলভ
কোন আচরণ করেনি বরং ভারত বৃহৎ পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের চরিত্র অনুযায়ী অপরাপর
প্রতিবেশী দেশের মতো বাংলাদেশের উপর তার খরবদারী ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার
চেষ্টা করে এসেছে। বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী-জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র হিসাবে
আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ-বিরোধী বৈরী প্রচারণাও অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন-ভারত অশুভ আঁতাত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভারতকে
বাংলাদেশের দেখ-ভাল করার দায়িত্ব দেবার পর বাংলাদেশের প্রতি ভারতের
আগ্রাসী মনোভাব ও তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরে মার্কিন
কর্র্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কনোকো ফিলিপস-এর সাথে গ্যাস ব্লক ইজারা
চুক্তি সাক্ষরের পর বাংলাদেশের উপর ভারতের নানামুখী চাপও আরো বৃদ্ধি
পেয়েছে। আগেকার সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট
সরকার মার্কিনের পর এখন ভারতের রাজনৈতিক সমর্থনকে ১০০ ভাগ নিশ্চিত করতে
ভারতের ইচ্ছা অনুযায়ী ও তাদের শর্তে ট্রানজিট সহ বহুবিধ চুক্তি সাক্ষরেরর
উদ্যোগ নিয়েছে। ট্রানজিটের নামে করিডোর এর সুদুরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব
এর বিষয়টি আড়াল হয়ে অর্থনৈতিক লাভালাভের বিষয়টিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। তাই
আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে এই ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান
জানাচ্ছি।

সমমর্যাদা ও সমস্বার্থের নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশ ও
জনগণের মধ্যে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও
উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই; কিন্তু তার জন্য বৃহৎ রাষ্ট্রের খবরদারী ও
কর্তৃত্ববাদী মনোভাব পরিহার করে ভারতকেই প্রথম এগিয়ে আসতে হবে এবং সৎ
প্রতিবেশীর প্রমাণ দিতে হবে। মহাজোট সরকারকে আমরা সতর্ক করে দিয়ে বলতে
চাই, নিজেদের দলীয় রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত বিবেচনায় নতজানু নীতি নিয়ে দেশের
স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সাথে অসম ও অন্যায্য চুক্তি ও আঁতাত গড়ে
তোলার অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকুন। তানাহলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে
সর্বাত্মক অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। দেশবাসীকেও আমরা সরকারের এসব অশুভ
তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক ও সোচ্চার হবার আহ্বান জানাচ্ছি।

কর্মসূচি
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সকল অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া প্রত্যাহার, সীমান্তে হত্যা বন্ধ, ছিটমহল সমস্যা, বাণিজ্য ঘাটতিসহ ভারতের সাথে বাংলাদেশের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের দাবিতে এবং ভারতের কাছে নতজানু হয়ে তাদের চাহিদা মত ট্রানজিট-করিডোর সুবিধা প্রদানসহ দেশবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরের অপতৎপরতার প্রতিবাদে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ রবিবার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় ঐদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিকেল ৪টায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।
আপনাদের উপস্থিতির জন্য আবারও ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29440453 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29440453 2011-08-29 14:16:44
গ্যাস সেক্টরের উন্নয়নের চালচিত্র ঃ বাজেট বরাদ্দ বনাম রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাকৃত অর্থ
তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ সেক্টরে সরকারের নেক নজরের চিত্র

বাংলাদেশ সরকারের সকল তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান , উৎপাদন ও উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট দুই টি সংস্থা ঃ এক , বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (GSB)এবং দুই, পেট্রোবাংলা (অন্তর্ভুক্ত বাপেক্স সহ ১২ টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি)।

তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নে ২০১০-২০১১ অর্থ বৎসরে সরকার GSB ও পেট্রাবাংলা (এবং এর অধিনস্ত ১২ টি কোম্পনি) কে সর্বমোট বরাদ্দ প্রদান করেছে ১০৩৯.৬৩ কোটি টাকা। আর আসন্ন ২০১১-২০১২ অর্থ বৎসরের বাজেটে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৮৮০.৮৪ কোটি টাকা।

আবার প্রশ্ন এই সীমিত বাজেট বরাদ্দের কতটুকু প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন উৎসের অনুসন্ধানে কিংবা এতদবিষয়ে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যয়িত হয় বা হবে? সে উত্তর পাওয়া যাবে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত বহুল আলোচিত বাপেক্সের বাজেট প্রাপ্তি ও বাজেট বরাদ্দের দিকে তাকালে।



তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের টাকা আসবে কোথা কে ?

তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহোরণে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও প্রথমেই বলা হয় দরিদ্র দেশ এতো টাকা পাব কোথায়?

যদি বলা হয় এই সেক্টরের উন্নয়নে সরকারের নিজ তহবিল থেকে একটি টাকাও ব্যয় করা প্রয়োজন নেই , প্রয়োজন নেই বিদেশি দাতাদের দাড়ে হাতপাতার ....তা মানতে অনেকেরই কষ্ট হবে।
যারা আমার কথা মানে নিতে পারছেন না তাদরে অনুরোধ রইলো ''আসুন, পেট্রোবাংলার ওয়েব সাইটে মাসিক প্রতিবেদনের পাতায় ঘুরে আসি।''
নিচে লিংক................
Click This Link

২০১০-২০১১ অর্থ বৎসের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পেট্রোবাংলার অধীনস্ত ১২ টি কোম্পানী (পেট্রোবাংলা বাদে) ২৭২৭.৬০ কোটি টাকা ভ্যাট - আয়কর-মুনাফার অংশ হিসাবে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা প্রদান করেছে। আর বিগত ২০১১-২০১২ অর্থ বৎসরে যার পরিমাণ ছিল ৩৪৯৪.৯৮ কোটি টাকা।

কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন?
বাংলাদেশে অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র সব শেভরনের হাতে থাকা বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের সর্বমোট বিনিয়োগ ২৭.০০ কোটি মার্কন ডলার বা ১৯০০ কোটি টাকা।
.........The total development cost for the project, including 12 development wells, was approximately $270 million. The original development program included a natural gas processing plant with a capacity of 600 million cubic feet per day and a natural gas pipeline to connect the field to the national natural gas transmission grid.
সূত্রঃ Bangladesh Fact Sheet

ConocoPhillips সমূদ্রে ব্লক ১০ ও ১১ তে আগামী ৯ বৎসরের জন্য ১১.০৬ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৮০৭ কোটি টাকা বিনিযোগ করবে।
(সূত্রঃ The Financial Eexpress)
Click This Link
অর্থাৎ, সরকার ১ বৎসরে ভ্যাট-আয়কর হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সেক্টরের প্রতিষ্ঠান হতে যে অর্থ পায় তা দিয়ে অনায়াসে বিবিয়ান গ্যাস ক্ষেত্রের মত বৃহৎ ক্ষেত্রর অনুসন্ধান , উত্তোরন ও উন্নয়ন ব্যয় সম্ভব।

গ্যাস সেক্টর হতে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোথায় যাচ্ছে?

''আসুন,আবারও পেট্রোবাংলার ওয়েব সাইটে মাসিক প্রতিবেদনের ৮১ পাতায় ঘুরে আসি।''

অধিকন্তু IOC গুলোর পক্ষে পেট্রোবাংলাকে যে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয় তার পরিমান কম নয়। ২০১০-২০১২ অর্থ বৎসরে তা ৪৪৩.৮৬ কোটি টাকা।

উপসংহারঃ

উডসংহার লিখবার দায়িত্ব পাঠকের হাতে ছেড়ে দিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29402929 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29402929 2011-06-26 20:42:05
দিনমজুরের ব্লগ ঃ দুর্ঘটনার রাজা কনোকোফিলিপস ও বঙ্গোপসাগরের আসন্ন বিপদ: যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিপি-ব্লোআউটের আলোকে
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস আহরনে বহু জাতিক কোম্পানীর ভূমিকা, মডেল পিএসি -২০০৮ এবং আমাদের জ্বালানী নিরাপত্তা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে ইতোমধ্যে।
দুর্ঘটনার রাজা কনোকোফিলিপস ও বঙ্গোপসাগরের আসন্ন বিপদ: যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিপি-ব্লোআউটের আলোকেশীর্ষক দিনমজুরের ব্লগ আমাদেল খনিজ সম্পদ আহোরণ বিষয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় উঠে এসেছে।
Click This Link
পরিশ্রমী ও মৌলিক লেখার জন্য দিন মজুর কে ধন্যবাদ।
সকল কে পড়বার অনুরোধ রইলো।
কর্তৃপক্ষের নিকট লেখাটি স্টিকি করার অনুরোধ জানাচ্ছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29396183 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29396183 2011-06-13 17:47:37
দিনমজুরের ''নগরের কসমেটিক সার্জারি ও রাষ্ট্রীয় প্রদর্শন কাম'' পড়তে পড়তে মনেপরা একটি অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা। Click This Link

ঘটনা তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১১, সকাল ৯ টা।
ঘটনার স্থান: সড়ক ভবন মসজিদ গেট প্রান্ত।

আই ই বি কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান । প্রধান মন্ত্রী আসবেন ১০টায়। আমি ভাল আসনের সামনে দিকে বসবার লোভে সকাল ৯টায়ই মৎস ভবনের মোড় থেকে ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিটিউট অভিমুখে ফুটপাথ ধরে ছুটতে গিয়ে সড়ক ভবন মসজিদ গেট প্রান্তে এসে আটকে গেলাম। সমগ্র ফটুপাত বৃত্তাকারে ঘিরে রেখেছে রাষ্ট্রী পোশাক ধারী নিরাপত্তা কর্মীরা। আর আমার মত উৎসুক কিছু লোক।

কসরত করে বৃত্তের কেন্দ্রের দিকে নজর দিতে দেখি , একগাদা ছেড়া পোষ্টা বিছানা পেতে বসে আছেন এক বৃদ্ধা। পুলিশার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁকে উঠে যেতে বলছেন নরম-গরম স্বরে। কিন্তু বৃদ্ধার তাতে বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ নাই। সম্ভবত তিনি কানেও শুনেন না।

একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখলাম উত্তেজিত ভাবে ওয়ারলেসে মহিলা পুলিশ পাঠানোর জন্য কোথাও কথা বলছেন।( আই ই বি কনভেশনে মহিলা পুলিশ রাখার প্রয়োজন আগে মনে ছিল না বোধয় ) ।বৃদ্ধার ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কি ঘটলো দেখবার সময় ছিল না ( আসলে আগ্রহ হয় নি )। তবে নির্ধারিত সময়ের ১ ঘন্টা পরেও যখন প্রধান মন্ত্রী প্রকৌশলীদের কনভেনশনে এলেন না, তখন মনে হলো শেষ পর্যন্ত সেই বৃদ্ধাকে কী প্রধান মন্ত্রী তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তর জন্য হুমকি মনে করা হযেছে ।আর তাই প্রধান মন্ত্রীর আগমনের সবৃজ সংকেত দেওয়া হচ্ছে না, তাঁ আগম বিলম্বিত হচ্ছে।

ঐ বৃদ্ধা প্রধান মন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য হুমকি এ কথা বললে হাস্যকর মনে হবে। তবে ভুলে গেলে চলবে না প্রধান মন্ত্রীর শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের আরও একটি নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয় ..''ইমেজের নিরাপত্তা''। এটাকে খাটো করে দেখবার অবকাশ নেই। এটা রাষ্ট্রীয় ইমেজের বিষয় বটে।

পুনশ্চঃ উদ্বোধণী অনুষ্ঠান শেষে রমনা পার্কের মধ্য দিয়ে পায়ে হেটে বাসায় ফিরছি। মাথায় তখন ঘুর পাক খাচ্ছে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী বর্ষে ভিশন -২০১২ বাস্তয়ানে প্রকৌশলীদের প্রতি প্রধান মন্ত্রীর উদ্দাত্ত আহবান আর প্রকৌশলী সমাজের দীপ্ত শপথ। সকালের সেই বৃদ্ধের তার সহায়-সম্বল সমেত রমনা পার্ক ঠাই মিলেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29330782 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29330782 2011-02-20 17:50:23
কতরূপ স্নেহ করি বিদেশের কুকুর ধরি, দেশের ঠাকুর ফেলিয়া। বিদেশি কুকুরের পদলেহনের প্রথম অধ্যায় ।

৯০ এর গণ আন্দোলণ উত্তরকালে বিএনপি-আওয়ামীলীগ সরকারদ্বয় নিজদেরর মধ্যে এক রকম প্রতিয়োগিতা করে বাংলাদেশের অতি সম্ভাবণাময় ১২ টি গ্যাস ব্লক (গ্যাসাঞ্চল) এর ভাগ্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানীর (IOC ) হাতে সমার্পণ করে দেয়। সে সময় দুই দলের তরফ থেকে উচ্চ কন্ঠে বলা হয়েছিল যে , আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানীগুলো (IOC )-র আর্থিক বিনিয়োগ ক্ষমতা - কারিগরী দক্ষতা আর ব্যাবস্থাপনার উৎকর্ষতার গুণে বাংলাদেশ শুধু অচিরে জ্বালানী স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জণই করবে না বরং উদ্বৃত গ্যাস রফতানি করে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। সরকারদ্বয় শুধু আইওসি নিকট প্রধান প্রধান ব্লক বা গ্যাসাঞ্চলেরক্ষেত্রগুলো হস্তান্তর করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাঁদের বিদেশি প্রভুদের কর্মকান্ড কে বিকল্পহীন-প্রশ্নাতীত করা প্রয়াস হিসাবে রাষ্ট্রায়াত্ত তেল/ গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্স কে কর্র্মহীন করে দৈর্ঘ এক দশক ফেলে রাখা হয়েছে।

আইওসি গুলোর নিকট ব্লক হস্তান্তরের দেড় যুগের বেশি সময় পরে যদি তাদের অর্জণগুলো খোজ নেওয়া যায় তবে একে একে যে চিত্র ফুঠে উঠে :

এক) ইজারাকৃত ১২ টি ব্লকের মাঝে ৭ টিতে আজ পর্যন্ত আইওসি গুলোর তৎপরতা শূন্য। যার অধিকাংশের (৬টি ব্লক) দায় ছেড়ে IOC গুলো পালিয়েছে।

দুই ) যে ৫ টি ব্লকে IOC তৎপরতা দেখিয়েছে তাও প্রাক প্রতিষ্ঠাত গ্যাসাঞ্চলে নামকাওস্তে কর্মকান্ড বলা চলে।

গ) মাগুরছড়ায় দুর্ঘটনার মাধ্যমে বিপুল গ্যাস আর পরিবেশের ক্ষতিসাধণ।

ঘ) নিজ দেশের গ্যাস IOC নিকট হতে আন্তর্জাতিক বাজার দরে বৈদেশিক মূদ্রায় ক্রয় করে দেশের তহবিল শুণ্যকরণ। আর মূল্য সমন্নয়ের নামে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি বোঝা জনগণের পিঠে চাপানো।

ঙ) দেশের চাহিদা পূর্ণে দেশের গ্যাস বাজারের IOC কে প্রধান নিয়ন্ত্রকে পরিণত করণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস ৎপাদন কোম্পানী বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানী লিমিটেড ও সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের উৎপাদন হ্রাসকরণ- নতুন উৎপাদন কূপ খননে বাধা ( এমন কি কোম্পানীর নিজস্ব অর্থায়ণে)- পুরাতন কূপ সংস্কার করতে না দেওয়া সহ নানামুখি অপতৎপরতা ।

চ) চুড়ান্ত অবস্থায় দেশ যখন ভয়াবহ জ্বালানি সংকট মূখে তখন IOCএর নিকট জাতি কতটুকু অসহায় তার প্রমাণ কেয়ার্ণ কর্তৃক ৩য় পক্ষের নিকট গ্যাস বিক্রয়ে লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষবের বাধ্য করা আর শেভরনের কম্প্রেসর কেনা জায়েজকরণ।


বিদেশি কুকুরের পদলেহনের দ্বিতীয় অধ্যায় ।


একদিকে দেশের জ্বালানী সংকটে ক্রমাবনতি এবং অপরদিকে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষায় জাতীয় কমিটির আপোসহীন নিবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের ফলে সচেতন জনগণের নিকট উম্মোচিত হয় যে এদেশের গ্যাস সেক্টরে ক্রিয়াশীল IOC গুলো কিভাবে সমগ্র জাতিকে জিম্মি করে ফেলেছে।জনগণের মাঝে আন্তর্জাতিক প্রভুদের উপর নির্ভরতা পরিবর্তে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তেল/গ্যাস সেক্টরের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কে সক্রিয় করা দাবি উত্থাপিত হয়।

২০০৯ সালে ডিজিটাল মহাজোট নামধারী আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রথমেই দেশকে জ্বালানি সংকট মুক্তকরণের মহা স্বপ্ন দেখায়।শুরু হয় বিদেশি কুকুরের পদলেহনের দ্বিতীয় অধ্যায় ।

তবে এবার একটু ভিন্ন প্রক্রিয়ায়।

সরকরা বা তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ সক্টরের সরকারের মুখপাত্র পেট্রাবাংলা আন্তর্জাতিক প্রভুদের হাতে স্থলভাগে গ্যাস ক্ষেত্রগুলো সরাসির তুলে না দিয়ে বরং জনগণ যে রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করবার এবং দক্ষতা বৃদ্ধি দাবি তুলেছে সেই সকল প্রতিষ্ঠান দিয়ে First Track Programme / Project বা অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাগজে কলমে গ্যাস সেক্টরের রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এই প্রকল্প বাস্তবায়েনর কথা বলা হলেও কাজগুলো সম্পাদনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ গ্যাস ফিলড লিমিটে (BGFCL)ও সিলেট গ্যাস ফিলড লিমিটের (SGFL ) মালিকানাধীন গ্যাস ক্ষেত্রে প্রাথিমিক ভাবে ৫ টি উন্নয়ন কূপ খননে জন্য বিদেশি কূপ খনন কোম্পানির নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।অপরদিকে বাপেক্সের নামে ৩২০০ কিমি ২-ডি সিসমিক সার্ভের নামে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদানের কথা বলা হয়।(বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনারয়, পত্র তাং ১২ জুলাই ২০০৯)।জ্বালানি সংকটকে জাতিয় দুর্যোগ বিবেচনায় ক্রয় বিধান মালা কে ( পিপিআর-২০০৮/পিপিএ-২০০৬) শিথিল করে দেওয়া হয়।

কয়েকগুণ বেশি ব্যয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কে নিয়োগ করে ৩য় পক্ষ সেবা গ্রহণের মূল যুক্তি দেখানো হযেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান ও খনন কারী একক প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের পক্ষে সংক্ষিপ্ত সময়ে এতো বিপুল কাজ জাতিয় জরুরী মুহুর্তে সমাধান সম্ভব নয়।

এখন দেখা যাক জ্বালানি কে সর্বোচ্চ অগ্রধিকার বলে পুনরায় জাতির ভাগ্যে যে বিদেশিদের উপর ছেড়ে দেওয়া হল দেড় বৎসরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর অগ্রগিত কতটুকু।

আজ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১১ এ The Financial Express ও The New Age পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় ,

দীর্ঘ ২০ মাস কাল ক্ষেপণ করে বাংলাদেশ গ্যাস ফিলড লিমিটে (BGFCL)ও সিলেট গ্যাস ফিলড লিমিটের (SGFL ) মালিকানাদীন গ্যাস ক্ষেত্র ৫ টি উন্নয়ন কূপ খননে জন্য যে পোলিশ কোম্পানি Polish Poszukiwania Nastyi Gazu Krako এর সাথে চুক্তি হয়েছিল তারা জানিয়ে দিয়েছে চুক্তি মোতাবেক খনন কাজ করতে পারবে না।

পোলিশ কোম্পানির এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের ২০১২ সাল নাগদ প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ এমএমিসিএফ গ্যাস উত্তোরণের আশাবাদের পানি ঢেলে দিযেছে।

সংবাদ মাধ্যমে যে দিন বিদেশি কোম্পানি কর্তৃক জাতিয় সংকটে কি আরও দীর্ঘায়িত সংবাদ এসেছে. একই দিন সকল দৈনিক সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হচ্ছে আবারও সরকার রাশিয়ান কোম্পানি Gazprom সাথে ১২ টি উন্নয়ন কূপ খননের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়তে যাচ্ছে।

আজ সময় এসেছে জনগণ কে বলিষ্ট কন্ঠে বলতে হবে যে..................

বিদেশি কুকুর ছেড়ে দেশি ঠাকুর ধর।

***********************************************
সূত্র :
১।


বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনারয়, পত্র তাং ১২ জুলাই ২০০৯।

২।The Financial Express: ২০ ফেব্রুয়ারি২০১১১।
Polish firm pulls out of 'fast-track' gas exploration.
Click This Link

৩।ও The New Age:২০ ফেব্রুয়ারি২০১১১।
Gazprom deals likely under supplier’s credit scheme
Click This Link

৪। Augmentation of Gas Production under Fast Track Program (BGFCL Part)
http://www.bgfcl.org.bd/list.html

৫। দৈনিক প্রথম আলো : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১১।
কাল আসছে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল: জ্বালানি খাত উন্নয়নে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক মার্চে
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29330715 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29330715 2011-02-20 15:54:13
অপ্রকাশিত সংবাদ ঃ বাপেক্স নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের দাড় প্রান্ত।
গত নভেম্বর ২০১০ এ বাপেক্স তার নিজস্ব রীগ ও জনবলে সুন্দলপুরে অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু করে।গত শনিবার ভোরে ,১২ ফেব্রুয়ারী ২০১১ ভূপৃষ্ঠ হতে ৩১৮৯ মিটার হতে ৩২২১ মিটার গভীরতায় খনন কালে কূপে গ্যাস প্রবাহের অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায়।এ ছাড়া পূর্বে ১৭০০ মিটার গভীরতায় অপর এটি ক্ষুদ্র গ্যাস স্তরের অস্তিত্ত্ব নির্ণিত হয়। প্রযোজনীয় বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা মাধ্যমে গ্যাস বাণিজ্যিক উৎপাদন যোগ্য প্রমাণিত হলে আগামী ১/২ সপ্তাহের মাঝে বাপেক্স জ্বালানি সংকটের ক্রান্তি কালে জাতিকে শুভ সংবাদ দিতে পারবে বলে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য ২২ মে ২০০৮ ECNEC কর্তৃক সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ৭৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ( যার মাঝে বৈদেশিক মূদ্রার ৫৪.৭৭ কোটি) ব্যয়ে সুন্দলপুর তেল/গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প গৃহিত হয়।ধারণা করা হচ্ছে যে , প্রকল্প টি ধারণাকৃত ও অনুমোদিত বাজেটের থেকে কম ব্যয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29326337 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29326337 2011-02-14 10:31:27
কোকাকোলার রঙের রাঙ্গা, সান্তা ক্লোজের জামা।
রড়দিনের উৎসের কথা বললেই তুষার শুভ্র দাড়ি মন্ডিত আর লাল জামা-টুপি গায়ে নাদু-নুদুস হাস্যোজ্জল সান্তা ক্লজের আয়েসী চেহারা ভেসে উঠে। সে চেহার দেখে যে কোন ব্যক্তির মনে হবে, সান্তা ক্লেজের বয়স নিদেন পক্ষে কয়েক সহস্র বৎসর আর শত-সহস্র বৎসর ধরে বুড়ো সান্তা দাদু প্রতি বৎসর সুদূর উত্তর মেরু হতে তাঁর বলগা হরিণে টানা শ্লেজ গাড়িতে চেপে ক্রিসিমাসের রাতে বাড়িতে বাড়িতে ছেলে-বুড়োর জন্য তাঁর উপহারের সামগ্রী বিলিয়ে যান। তবে সান্তা ক্লজ দাদুর প্রকৃত বযসের হিসাব করতে যদি ইতিহাসের পাতা ঘাটতেই ধাক্কা খেতে হয়।

সান্তা ক্লোজ (Santa Claus) এর জন্মকথা

সান্তা ক্লোজেরইতিহাস ঘাটতে গেলে যীশুখ্রীস্টের পরিবর্তে দুইটি নাম টি প্রথমেই চলে আসে , এক সেন্ট নিকোলাস (Saint Nicholas) আর দুই , Odin বা নরড্রিক মিথলজির (Norse mythology ) প্রধান দেবতা।

সেন্ট নিকোলাস ২৭০ খ্রীস্টব্দে বর্তমান তুরস্কের Parara জন্ম গ্রহণ করেন । তিনি তুরস্কের প্রচীন বাজেন্টাইন নগরী Myra বিশপ ছিলেন। সেন্ট নিকোলাস ৩২৫ খ্রীস্টাব্দে রোমান সম্রাট Constantine I কর্তৃক আচর্য বিশপদের সমন্বয়ে গঠিত প্রথম Council of Nicaea এর প্রধান ও প্রবীণতম সদস্য ছিলেন । ৬ ডিসেম্বর ৩৪৫ খ্রীস্টব্দে তিনি মারা জান। সেন্ট নিকোলাস কে কেন্দ্র করে অনেক লোক গাথা প্রচলিত আছে, বিশেষ করে দরিদ্রদের প্রতি তার মহানুভবতার কথা।

তেমন একটি বহুল প্রচলিত লোকগাঁথায় জানা যায়, একদা তিনি জানতে পারেন যে,' এক দরিদ্র ব্যক্তি যৌতুকের অর্থের অভাবে তাঁর তিন কন্যার বিবাহের ব্যবস্থা করতে পারছেন না এবং ভবিষ্যতে পিতার অবর্তমানে কন্যাত্রয় কে ব্যেশা বৃত্তিব্যতিত জীবন নির্বাহের আরও কোন উপায় নেই।' দরিদ্র ব্যক্তি দান গ্রহন করে সামাজিক ভবে হেয় প্রতিপণ্য হবে এ কথা ভেবে মহানুভব নিকোলাস রাতে দরিদ্র ব্যক্তির বাড়ির জানালা দিয়ে ( মতান্তরে চিমনি দিযে) তিন থলে স্বণৃ মূদ্রা নিক্ষেপ করেন ( মতান্তরে তিন থলে স্বর্ণ মূদ্রা পর পর তিন বৎসর)।

১০৮৭ সালে ইতালির 'বারি' নাগরিকরা তীর্থ যাত্রা কেন্দ্রিক লাভজনক ব্যবসা প্রসারের চিন্তা করে এবং বিভিন্ন সেন্ট বা সাধুদের দেহাবশেষ বা স্মারক সংগ্রহ শুরু করে। সে সময় কিছু ইতালিয় নাবিক তুরস্ক থেকে সেন্ট নিকোলাসের দেহাবশেষ 'বারি'তে নিযে আসে ও একটি সমাধিক ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।সেখানে প্রথমে নিকোলাসের মহানুভবতা কে কেন্দ্র করে 'Pasqua Epiphania এর দাদীমা' নাম একটি অলৌকিক চরিত্রের মাধ্যমে ধারণা প্রচলিত করা হয় যে , সেই দাদীমা শিশুদের মুজার মধ্যে উপহার রেখে জান। ক্রমের 'বারি'র নিকোলাসের সমাধি ক্ষেত্র তাঁর অনুসারিদের তীর্থ ক্ষেত্র পরিণত হয় এবং সেই 'দাদী মা' হারিয়ে যান। এর পরিবর্তে সেন্ট নিকোলাসের অনুসারীরা ৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু দিবসে নিজেদের মধ্যে উপহার বিনিময়ের রেওয়াজ চালু করে।দূত নিকোলাসের অনুসারিরা খ্রীস্ট ধশৃ প্রচারের লক্ষ্যে ( ২ বৎসরের মধ্যে) উত্তরের জার্মান ও আইয়ার ল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে।

সেন্ট নিকোলাসের লোকগাথা ও দেবতা 'অডেন' এর মিথষ্কক্রীয়া

নিকোলাস অনুসারীরা যখন খ্রীস্টান ধর্ম প্রচারে জার্মানের পৌছ তখন জার্মানবাসীরা Woden বা Odin উপাসনা করতো।Odin ছিলেন তুষার শুভ্র লম্বা দাড়ির অধিকারী এবং প্রতি বৎসর শরতের কোন এক সন্ধ্যায় তিনি তার আট পাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গ হতে নেমে আসতেন।
দেবতা Odin আগমন উপলক্ষ্যে শিশুরা তাঁর আট পাওয়ারা Sleipnir নামক ঘোড়ার খাবার জন্য নিজেদের জুতার ভিতরে গাজার, খড়, মিষ্টি রেখে দিত ঘরের চিমনীর পাশে।Odin শিশুদের প্রতি খুশি হয়ে ঘোড়ার খাবার পরিবর্তে শিশুদের জুতার মধ্যে চকলেট বা উপহার রেখে যেতেন। জার্মান , বেলজিয়াম ও নেদার ল্রান্ড বাসী খ্রীস্ট ধর্ম গ্রহণের বহু দিন পর পর্যন্ত এটা পালন করতো।
ক্রমে প্রাচীন জার্মান সাংস্কৃতির সাখে মিথষ্ক্রিয়ায় সংক্ষিপ্ত শশ্রুমন্ডিত সেন্ট নিকোলাস দেবতা Odin আদল ধারণ করলেন। তাঁ ভুমধ্যসাগরীয় আবয়ব হারিয়ে লম্বা তুষার শুভ্র দাড়ি ঢাকা মুখে একরাশ শীতের কাপড় পরে ঘোড়ার পিঠে চেপে হাজির হতে লাগলেন।অপর দিকে দেবতা Odin তাঁর সফর কাল মরঃ কাল হতে শীতে পুনর্নিধারণ করলেন।

পরবর্তীতে য়খন প্রোটেস্টাইন বিরোধ চরমে উঠে তখন প্রাচীন সাংস্কৃতিক উপাদন মিশ্রিত সেন্ট নিকোলাসপন্থীদের এই আচার-অনুষ্ঠানকে রোমান চার্চ মেনে নেয় বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে। তবে এই শর্তে যে এটা ৬ ডিসেম্বর সেন্ট নিকোলাসের মৃত্যু দিবসে পরিবর্তে ২৫ ডিসেম্বর যীশু খ্রীসের জন্মদিনে (!?) পালিত হবে।

১৮০৯ সালে 'রিপভ্যান উইনকেল' এর লেখক Washington Irving ডাচ সাংস্কৃতিকে কে কটাক্ষ করে লেখা তাঁর Knickerbocker History শীর্ষক এক প্রহসনে কয়েক বার যে সান্তা ক্লোজের বর্ণনা দিযেছেন তাতে সান্তা ক্লোজ কে ঘোড়ার পিঠে চেপেই ভ্রমণ করতে দেখা যায়। ১৯ শতক পর্যন্ত সান্তা ক্লোজের বাহন দূতগামী ঘোড়া। এ সময় পর্যন্ত সান্তা ক্লোজের বলগা হরিণ টানা শ্লেজ গাড়িটি অবর্তমান।
Washington Irving এর Knickerbocker Histor পাঠ করে ১৮২২ সালে Union Seminary এর অধ্যাপক Dr. Clement Moore সান্তা ক্লোজ কে নিয়ে এক কবিতা লেখেন। THE NIGHT BEFORE CHRISTMAS কবিতায় তিনি সান্তা ক্লোজ বা সেন্ট নিকোলাস কে চাপিয়ে দেন আট বলগা হরিণে টানা শ্লেজ গাড়িতে।
'Twas the night before Christmas, when all through the house Not a creature was stirring, not even a mouse; The stockings were hung by the chimney with care, In hopes that St. Nicholas soon would be there; ...................... When, what to my wondering eyes should appear, But a miniature sleigh, and eight tiny reindeer, With a little old driver, so lively and quick, I knew in a moment it must be St. Nick.

জার্মান বংশ উদ্ভত আমেরিকান কার্টুনিস্ট ও চিত্র শিল্পী Thomas Nast ১৮৬২ থেকে ১৮৮৬ পর্যন্ত Harper's Weekly এর জন্য Dr. Clement Mooreএর কবিতার আলোকে সান্তা ক্লোজের ২২০০ প্রতিকৃতি অংকন করেন ।


Nast এর পূর্ব সান্তা ক্লোজ কে শীর্ণ বিশপের চেহারা থেকে শুরু করে ফ্রক পরা বামন পর্যন্ত নানা রূপে চিত্রিত করা হয়েছে। Nast সান্তা ক্লোজ কে শুধু বর্তমান রূপই দেন নি । তিনি তাকে উত্তর মেরুবাসী বানিয়েছেন।সেখানে তাঁরা বাড়ি ছোট ছোট পরীতে (elves) ভরে দিয়েছেন , তাঁর পকেটে পুরে দিয়েছেন তাবৎ দুনিয়ার ভাল-আর দুষ্ট ছেলে-মেয়েদের দুটি তালিকা।
সান্তা ক্লোজের বর্তমান আবয়বের শুধু মাত্র একটা জিনিস Nast এর দেওয়া নয়।

সান্তা ক্লোজের লাল জামা

সান্তা ক্লোজের আবয়ব চিন্তা কললে তাঁর গায়ে লাল জোব্বা আর মাথায় রাল লম্বা টুপি ছাড়া কিছুই আমাদের কল্পনায় আসে না। প্রাচীন সান্তা ক্লোজের গায়ে সুনির্দিস্ট রঙ্গের পোষাক দেখা যায়না ।বরং সান্তা ক্লোজ কে যখন ইংরেজি ভষাভাষিদের Father Christmas এর সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে , তখন তার পরিধানের সবুজ রঙই দেখে যায়।

লাল জোব্বাটা সান্তার ভগ্য জুঠেছে ১৯৩১ সালে। ১৯৩০ সালে কোকাকোলা কর্পোরেশন সুডিশ বাণ্যিজিক শিল্পী Haddon Sundblom কে কোক পানরত সান্তা ক্লোজ আঁকার দায়িত্ব দেয়। উর্লেখ্র যে, ১৯২০ সাল থেকেই কোকাকোলা সান্তা ক্লোজ কে তাদের পানীয়ের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করে আসছিল । কিন্তু তাতে সফলতার খুব একটা আসছিল না। ১৯৩১ সালে শিল্র্পী Haddon Sundblom তাঁর নাদুস নুদুস হাস্যমুখ বন্ধু Lou Prentice কে প্রথম মডেল হিসাবে বেছে নেন।চাপিয়ে দেন কোকাকোলার ব্রান্ড রঙের লাল জোব্বা।দ্রুত তা মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয় এবং কোকাকোলাকে বিজ্ঞাপনী সাফল্য এনে দেয়। ১৯৭২ সার পর্যন্ত Haddon Sundblom কোকাকোলার কর্পোরেশনের জন্য বিজ্ঞাপনে লাল পোষাক পরিহিত নাদু নুদু সান্তা ক্লোজ কে চিত্রিত করেছেন । যা এখনও কোকাকোলা করপোরেশন তাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করছে।
Haddon Sundblom এবং তাঁর সহর্মিরা যদিও বিজ্ঞাপনে সান্তা ক্লোজের পোশাকের রং লাল হওয়ার পিছনে যুক্তি দেখিয়েছেন খ্রীস্টান ধর্মযাজকদের পোশাক লাল, সে কারণেই সান্তা ক্লোজ কে লাল জোব্বা পড়ানো হয়েছে। কোকাকোলার রং- এর সাথে তা Haddon Sundblom এর আঁকা সান্তা ক্লোজে লাল পোষাক মিলে যাওয়া কাকতলিয় ঘটনা।

সে যাই হোক, Haddon Sundblom কর্তৃক বিজ্ঞাপনে সান্তা ক্লোজ কে ব্যবহারের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো সান্তার যে আবয়ব যে মানুষটির প্রতিচ্ছিব ফুটিয়ে তোলা হযেছে এবং সর্বস্তরের মানুসের মনে যে আবয়ব গেড়ে দেওয়া হয়েছে তা একজন ভোগ বিলাসে তৃপ্ত আয়েসি মানুষের মুখ।
অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পুনর্গঠনের যুগে Thomas Nast অনেক ক্ষেত্রেই সান্তাকে ক্লজ কে উপস্থাপন করেছন প্রগতিশীল আন্দোলনের অংশ হিসাবে।

(Thomas Nast's Original Civil War "Santa Claus In Camp" )
অপর দিকে Haddon Sundblom কর্তৃক কোকাকোলার ব্যবসায়িক স্বার্থে সান্তাক্লোজ কে ব্যবহারের মানুষ কে কোন পথে ধাবিত করে তা তাঁর কর্তৃক আঁকা ১৯৭২ সারের সান্তা ক্লোজের সর্ব ছবিটি দেখলে অনুমেয়।

*****************************************************সূত্রঃ
১।The Secret Cult of Santa Claus
Click This Link
২।উইকিপিডিয়া '' Santa Claus''
http://en.wikipedia.org/wiki/Santa_Claus
৩।উইকিপিডিয়া '' Saint Nicholas''
http://en.wikipedia.org/wiki/Saint_Nicholas
৪।উইকিপিডিয়া ''Odin''
http://en.wikipedia.org/wiki/Odin
৫।Images Of Haddon Sundblom's Coca-Cola Santa
Click This Link
৬।The Coca-Cola® Santa :Haddon Sundblom
Click This Link
৭।Thomas Nast Santa Claus Pictures
Click This Link



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29295946 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29295946 2010-12-25 17:55:45
পোস্টর যখন প্রতিবাদের ভাষা : ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রাম জয় যুক্ত হউক।ইসরাইলী দখলদার ও মার্কিন সাম্রজ্যবাদ নিপাত যাক।
[বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : যাঁরা মনে করেন যে, প‌্যালেস্তাইনবাসী প্রতি নির্মম নিপীড়ন ইসলামের উপর অপরাপর ঈর্ষাকাতর ধর্ম বিশ্বাসীদের জোটবদ্ধ নিপীড়ন-অবদমন এবং যাঁরা সদা অবিশ্বাসীদের প্রতি অভিসম্পাৎ করেন, অনুগ্রহপূর্বক তাঁরা এই ব্লগে প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন। কেননা এই ব্লগের সকল পোস্টার একজন সনাতনপন্থী ক্যাথলিক আইরিশ- এর নিকট হতে সংগ্রহ করা ।]
লাইল খালেদ (Leila Khaled) তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত এই পোস্টার টি প্রেরন করেন Workers Party of New Zealand কর্তৃক পরিচালিত PFLP Solidarity group নামক সংগঠন কে।বর্তমানে সংগঠনটি উপরের পোস্টারটি টি-শার্টে ছেপে ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে।
http://wpnz-pflp-solidarity.blogspot.com/

Popular Front for the Liberation of Palestine এর সাধারন সম্পাদক আহমদ সাদাৎ (Ahmad Sa'adat) মুক্তির দাবিতে ৫ -১৫ অক্টোবর ২০১০ পালিত আন্তজাতিক সংহতি সমাবেশের পোস্টার।
http://www.freeahmadsaadat.org/

Int'l Jewish Anti-Zionist Network কর্তৃক আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদী সম্প্রাদয়ের বর্ণ বৈষম্য এবং ইসরাইল কর্তৃক জাতিগত নিপীড়ন বিরোধি সমাবেশের পোস্টার (১৯ জুন ২০১০,Detroit)।
http://www.jewsconfrontapartheid.org/
Farah Filasteenএকজন কানাডা প্রবাসী গাজা হতে অভিবাসী তরুণী । তাঁর করা মননশীল পোস্টার সংগ্রহ নিয়ে ব্লগে আবার আসবো।


Popular Front for the Liberation of Palestine এর ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর পোস্টার ( ১২ ডিসেম্বর ২০০৯) ।

২৬ ডিসেম্বর ২০০৯ গাজা হত্যাকান্ডের ১ম বর্ষ।

ভিয়েতনাম যুদ্ধকালে (১৯৬৬)Lorraine Schneider আঁকা ''War is Not Healthy for Children and Other Living Things'' শ্লোগানে ''War'' শব্দটিকে ''Zionism'' শব্দ দ্বারা প্রতি স্থাপিত করা হয়েছে। কেননা ''Zionism'' ও যুদ্ধ সমার্থক।

আরবী শব্দের Sumoud অর্থ অবিচল। Sumoud কানাডার টরেন্ট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইসরাইল কর্তৃক প‌্যালেস্টানের রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
http://sumoud.tao.ca/

Free the Prisoners!বন্দীদের মুক্তি চাই।


গাজা, বিশ্ব সর্ববৃহত্ৎ বন্দীশালার নাম।

চাবি হচ্ছে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প‌্যালেস্তাইনের শরনার্থাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরবার অধিকারের প্রতীক।
Click This Link

ইসরাইলী পন্য বর্জণ করুণ্ ।Zionism প্রতিহত করুণ।

We will resist until the wall collapses!


চলবে.....................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29295032 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29295032 2010-12-23 23:47:40
কার্টুন যখন প্রতিবাদের ভাষা : প‌্যালেস্তাইনবাসীর মুক্তি সংগ্রাম জয় যুক্ত হউক।ইসরাইলী দখলদার ও মার্কিন সাম্রজ্যবাদ নিপাত যাক।
বধির বিশ্ব

''ইরান বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি '' :ইসরাইল


H&M হচ্ছে সুইডেনের বিখ্যাত ফ্যাশান হাউজ।অক্টোবর ২০১০ এ H&M তেল-আবিবে তাদের ১ম চেইন-শপ খোলার পর সুইডেন মানবতাবাদী গ্রুপসমূহ প্রতিবাদের ফেটে পরে। উক্ত প্রতিবাদের অংশ উপরের কার্টুনদ্বয়ে H&M এর চিরচেনা লগো হয়ে উঠেছে প্যারেস্টাইন বাসীর রক্ত রাঙ্গা।





শান্তির বাণী এক নির্মম পরিহাস।

ইসরাইল : সমালোচনা যেখানে নিষিদ্ধ শব্দ।

ইসরাইল : রক্ত পিপাসা নিয়ে যার জন্ম।

সান্তা ক্রুজ : বড়দিরে এক অবৈধ অনুপ্রেবশকারী।

তুই নাস্তিক। তুই কাফের।

চীনের প্রচীর এক দিকে মানব সভ্যতার গৌরবজনক বিনির্মাণের প্রতীক, অপর দিকে ইসরাইলের প্রাচীর মানবসভ্যতার এক ধ্বংসের প্রতীক।

''ইরানের উপর আক্রমনই আসন্ন ইহুদী হত্যাযজ্ঞ বন্ধের একমাত্র উপায়। '' যুক্তরাষ্ট্র

ভুমোধ্যসাগরের জলদস্যু।

Divide et impera। :

ভিয়েতনাম থেকে প‌্যালেস্টাইন।ভিয়েতনাম প্রশ্নে আপনার নিরবতাই প‌্যালেস্টাইণের নিপীড়কের হাত কে শক্তিশালি করেছে।

প‌্যালেস্তাইনের জন্য ভালবাসা

********************************************
কার্টুনিস্ট Carlos Latuff ব্রাজিলের একজন ফ্রি লাইন্স কার্টুনিস্ট। চলবে............................





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29294186 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29294186 2010-12-22 16:01:28
' রহমত আলী ওয়াজ নট বরণ টু হ্যান্ডস আপ.......হি অল-ওয়েস হেড আপ।'
১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ২০১০।
রিকশার প্যাডলে পা ফেলতে ফেলতেই দিন পার হয় রহমত আলী স্যারের আজকাল।৭০ ছুঁই ছুঁই তারপরও এই রিকশার প্যাডল মারাই ক্ষুধা মেটানোর একমাত্র যুৎসই পেশা তাঁর।ভাড়া গুনতে গিয়েই বিপত্তি হলো যত।আমি একজন মু্ক্তিযো্দ্ধাকে চিনতে ভুল করেছিলাম(কারণ-ওনার কোন সার্টিফিকেট নাই,ওনার কোন লবিংও নাই যে ভদ্রলোক সেজে মিডিয়ার সামনে এসে কোন সেমিনার রুমে “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণ”করবেন)তাই স্যারকে রিকশাওয়ালা ভেবেই জিজ্ঞেস করেছিলাম,রাজাকারদের বিচার এবং গার্মেন্টস কর্মীদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি নিয়ে তিনি কি ভাবছেন।রহমত আলি হাসলেন,ভাবটা এমন তিনি রাজ্যের সব ঘটনা আগে থেকেই জানেন,নির্বাক থাকলেন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে।আমিও ভাড়া মিটিয়ে খামাখাই জ্ঞান বৈরাগ্যের ধার না করে হাটতে উদ্যত হলাম।ভাবছি,দেশের “আমজনতা”রা তো কোনকিছুই বুঝেনা,খামাখাই প্যাচাল পাড়ি সারাদিন,ধ্যাত!হঠাৎই পিছন থেকে রহমত আলীর কণ্ঠ শুনা গেল আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলে গেলেন একে একে সব কথা;কখনো কখনো ৭১’র কথা,কখনো কখনো নিজের ভিটে দখলের কাহিনী।তারপর শুনালেন জোতদারদের সার্টিফিকেট লাভ করে মুক্তিযুদ্ধ হওয়ার কাহিনী আর রাজাকার কাসেম মিয়ার হঠাৎ ফেরেস্তা বনে যাওয়ার কাহিনী।(এইসব বলার আগ পর্যন্ত রহমত আলি আমার কাছে শুধুই একজন বয়োবৃদ্ধ রিকশাওয়ালাই ছিলেন)

রহমত আলী স্যার যখন এগুলা বলছিলেন,নির্লিতভাবেই বলে গেলেন।আরো কিছু শুনতে চেয়েছিলাম,আবারো প্যাডল মেরে চলে গেলেন নতুন গন্তব্যে।
রহমত আলী স্যার গত ৩৮ বছর রিকশা চালিয়েছেন,বলতে পারেন তিনি পুরোদস্তর রিকশাওয়ালা,এতে তাঁর কোন ক্ষোভ নেই,এই রিকশা চালাতে গিয়ে কখনো কখনো ট্রাফিক পুলিশের চড় খেয়ছেন,কখনোবা উঠতি বয়সের ছেলেপান দাঁড় করিয়ে রেখেছেন হলের সামনে ভাংতি নেই বলে। কোন ক্ষোভ নেই তাতে,কোনকিছুতেই তাঁর কোন রাগ নেই।শহীদ মিনার সামনে দিয়ে রিকশা চালিয়ে গেলেও থেমে যান না কখনো।যে রহমত আলী একটা সবুজের মাঝে লাল টকটকে সূর্য এনে দিয়েছিলেন জীবন বাজি রেখে,আমি তাঁকে চিনি শ্রমজীবী এক মানুষ হিসেবে,তাঁকে আমি সন্মান দেখাইনি তাঁর অবিনাশী কীর্তির জন্যে।সালাম ফ্রিডম ফাইটার,সালাম!আমি তোমার কাছে আজ ক্ষমা চাই সবার হয়ে।
Click This Link
১৬ ডিসেম্বর ২০১০।
লাল-সবুজের পতাকায় মন্ডিত মহানগরী আজ বিজয় আনন্দে উদ্ভাসিত।

৩৯ বৎসর আগে দুঃসাহসী রহমত আলী স্যার যেমন করে বারংবার ঢুকে পরেছেন শথ্রু বেষ্টনিতে , আজ লাল-সবুজের মোহে কিছুটা বিকারগ্রস্ত রহমত আলী স্যার ৩৮ বৎসরের সঙ্গী রিকশা ফেলে তেজগাঁ প্যারেড গ্রাউন্ডের জাতীয় বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনির ভিতরে ঢুকে পরেন ।
এক সাথে গর্জে উঠে স্বদেশীয় খাকিপোশাক-কালো পোশাক- সাদা পোশাক।
'' হ্যান্ডস আপ।!''
রহমত আলী স্যার দীপ্ত কন্ঠে উত্তর দেন,
' রহমত আলী ওয়াজ নট বরণ টু হ্যান্ডস আপ.......হি অল-ওয়েস হেড আপ।'
(Rahat Ali was not born to 'Hands Up'...He always 'Head Up')]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29290376 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29290376 2010-12-15 22:52:41
সুখবর! সুখবর!! এবার বেড়িয়ে হয়ে আসবে সকল ষড়যন্ত্র। হা-মীমে আগুন তদন্তে দুটি কমিটি। সুখবর! সুখবর!! এবার বেড়িয়ে হয়ে আসবে সকল ষড়যন্ত্র। হা-মীমে আগুন তদন্তে দুটি কমিটি।
খবরে প্রকাশ................
আগুন লাগার কারণ তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি করেছে সরকার, অন্যটি করেছে বিজিএমইএ।

সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি করা হয়েছে ৫ সদস্যের। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল খান চৌধুরীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।এছাড়া পুলিশ বিভাগ, বিজিএমইএ, দমকল বাহিনী ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।

বিজিএমইএ গঠন করেছে ৩ সদস্যের আরেকটি কমিটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান,
''এই কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।অগ্নিকাণ্ডের কারণে সম্পর্কে তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্তের পর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।বাক বাকুম বাকুম.............."

জাতীয় দৈনিকের নিজস্ব প্রতিবেদকের প্রতিবেদন্।২২ ডিসেম্বর ২০১০ ।
এবার আর কোন আলসেমি নয়। দু'টো তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ মাত্র ৭ দিনের মাথা।ডিজিটাল সরকার বলে কথা।

তদন্ত রিপোর্টদ্বয় থেকে জানা গিযেছ যে ..................

আগুণের কারণ সর্ট সার্কিটই বটে।বৈদ্যুতিক তারের মান! মাশাল্লা, মাশাল্লা। বিদেশ থেকে ইম্পোর্টেড।
তবে................
ইদুরের উৎপাত হয়ে ছিল ক'দিন। বৈদ্যুতিক ডিশট্রিবিশন বোর্ডের কাছে প্রাপ্ত ছাইয়ের ফরেনসিক রিপোর্টে জানা গেছে...ছাই পোড়া চিনেবাদাম আলাম পাওয়া গেছে।

ফ্লোরের দায়িত্ব পালন কারী দারোয়ান আনোয়ার হোসেন ( ৫০) কর্তৃক তদন্ত কমিটির নিকট প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা যায় কাটিং ষেকশনের হেলপার রাজ্জাক ( ২১) আর শাবানা (১৭) , দু' জনার নতুন প্রেম...........কাজ ফাঁকি দিয়ে বৈদ্যুতিক ডিশট্রিবিউশন বোর্ডের কোণায় দিনভর গুজুরগুজু ফুসুর করতো.............দূঘৃটনার আগের দিন বিকালে ওদেরই দেখা গিয়েছিল ওখানে দাড়িয়ে চিনা বাদাম খেতে..........। হাতে থেকে খসে পরা বাদাম খেতে আসা ইদুর আর সে ইদুরই কাটে বৈদ্যুতিক তার ।

ইদুরের উৎপাত বিষয়ে কারখানার জেনারেল ম্যানেজার খলিলুর রহমান তদন্ত কমিটি কে জানান যে , '' ইদুরের উৎপাতের কথা বেশ ক'দিন আগেই ফ্লোর সুপারভাইজার প্রবীর ঘোষ প্রোডাকশন ম্যানেজার কে জানিয়ে ছিল। ইদুর মারতে আমি ৫০০টাকা বাজেট বরাদ্দ করা করি। এবং ফ্লোর সুপারভাইজার ইদুরের বিষ কেনার জন্য ৫০০টাকা দিয়ে পাঠিয়েছিল হেলপার শাকিব খান (১৮) কে পাঠিয়ে চিলেন গঙ্গা-যমুনা ডিপার্মেন্টল স্টোরে। শাকিব ফুটপাথ থেকে ৫টাকার ইদুর মারা বিষ কিনে, ৪৯৫ টাকা মেরে দিযেছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। কেননা, অপরাপর শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, ঘটনার আগের দিন শাকিব ছুটির পরে তার ইয়ার দোস্তদের কে কারখানার সামনে দাড়িয়ে হালিম খাইযেছে।''

দুইটি তদন্ত কমিটিই এই মর্মান্তিক দুগটণার জন্য রাজ্জাক , শাবান ও শাকিব খন কে দোষী সাবস্ত করেছে। এবং খেউ যেন ভবিষ্রতে কারখানার মধ্রে চিনা বাদাম নাখায় সে বিসয়ে দারোয়ান কে ও ফ্লোর ইন চার্জকে সতর্ক থাকাবার জন্য বলেছে।
দুঘঠনায় দোষিদের শাস্তি বিষয়ে প্রতিবেদক সরাসির কারখানার মালিক আ.ক.আজাদের সাথে কথা বললে তিনি জানান যে, '' দুর্ঘটনায় রাজ্জাক , শাবান ও শাকিব খন ৩ জনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিযেছ।''
****************************************************
ব্লগারের প্রশ্ন ৎ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্যী শ্রমিক পুড়ে মরলো , তদন্ত কমিটি হল, কিন্তক কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি কই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289869 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289869 2010-12-15 01:37:48
যা সব কুকুরের দল ...........সাভারে তোদের জন্য শিকাব বানানো হয়েছে.......শীতের রাতে মজা করে খা গা...............
যা সব কুকুরের দল ...........সাভারে তোদের জন্য শিকাব বানানো হয়েছে.......শীতের রাতে মজা করে খা গা............... যা সব কুকুরের দল ...........সাভারে তোদের জন্য শিকাব বানানো হয়েছে.......শীতের রাতে মজা করে খা গা...............

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289820 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289820 2010-12-14 23:35:16
আমার ৩৯ তম বিজয় দিবসর সকল আন্দন স্বাধীনতাকামী প্যালেস্টাইনের জনগণের সংগ্রামের প্রতি নিবেদন করছি।

নিজের মাতৃভূমি পরাধীন হলেও যে দেশটির মানুষ আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল তার নাম '' প্যালেস্টাইন"।
৩৯ তম বিজয় দিবসেরর সকল আন্দন স্বাধীনতাকামী প্যালেস্টাইনের জনগণের সংগ্রামের প্রতি নিবেদন করছি। আজ যেমন স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের পতাকা গৌরবের সাথে উড়ছে..........বিশ্বাস একদিন তেমন নিজ স্বাধীন ভুমিতে দীপ্তমান হভে প্যালেস্টানের পতাকা।


যদি আমার ব্লগটি ভাল লাগে........ তবে অনুগ্রহ করে গান টি শুনন...........

Wavin' Flag .............by K'naan

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag
And then it goes back, and then it goes back
And then it goes back

Born to a throne, stronger than Rome
A violent prone, poor people zone
But it's my home, all I have known
Where I got grown, streets we would roam

Out of the darkness, I came the farthest
Among the hardest survival
Learn from these streets, it can be bleak
Accept no defeat, surrender, retreat

So we strugglin', fighting to eat
And we wondering, when we'll be free
So we patiently wait, for that faithful dat
It's not far away, but for now we say

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag
And then it goes back, and then it goes back
And then it goes back

So many wars, settling scores
Bringing us promises, leaving us poor
I heard them say "love is the way"
"Love is the answer" that's what they say

But look how they treat us, make us believers
We fight their battles, then they deceive us
Try to control us, they couldn't hold us
'Cause we just move forward like Buffalo soldiers

But we strugglin', fighting to eat
And we wondering, when we'll be free
So we patiently wait for that faithful dat
It's not far away, but for now we say

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag
And then it goes back, and then it goes back
And then it goes back, and then it goes

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag
And then it goes back, and then it goes back
and then it goes back, and then it goes
And then it goes,

And everybody will be singing it
And you and I will be singing it
And we all will be singing it

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag
And then it goes back, and then it goes back
And then it goes back, and then it goes

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag
And then it goes back, and then it goes back
And then it goes back

When I get older, I will be stronger
They'll call me freedom, just like a wavin' flag
Just like a wavin' flag, just like a wavin' flag
Flag, flag, just like a wavin' flag]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289513 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289513 2010-12-14 15:33:14
এটা কি সহি হাদিস : সহি হলে এর তাৎপর্য কি? হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে , একজন ইহুদী বা খ্রীস্টান তোমাকে সাদর সম্ভাষন করার পূর্বে তুমি তাকে তা করো না এবং পথে তুমি যদি তাদের কোন একজনের সাথে মুখোমুখি হও, তবে তাকে পথের সংকীর্ণাংশ ব্যবহার করতে বাধ্য কর। (সিহ মুসিলম :বই ২৬ : হাদিস: ৫৩৮৯)
Abu Huraira reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: Do not greet the Jews and the Christians before they greet you and when you meet any one of them on the roads force him to go to the narrowest part of it. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289359 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29289359 2010-12-14 11:08:08
মাওলানা ভসানীর প্রতি সরকারী প্রেসনাট! তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১০।
শ্রদ্বেয় মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভসানী!
আপনি ইহলোক ত্যাগ করেছেন বহু বৎসর।কিন্তু আমরা সকলে জানি ও বিশ্বাস করি যে, পরলোকে অপার শান্তির মাঝে অবস্থান করেও বাংলাদেশের খেটে-খাওয়া কৃষক মজুরদের জন্য , তাদের দুর্দশা কথা ভেবে আপনি সদা ব্যকুর হন ; আপনার কোমল হৃদয় অশ্রু সিক্ত হয়। এ ইতিহাস আমরা এখনও বিস্মৃত হই নাই যে, আপনি আপনার সমগ্র জীবদ্দশায় বারংবার ক্ষমতা আভিজাত্যের অসংখ্য প্রলোভন হেলায় ঠেলে দিযে কাঁদা-ধুলো মাখা মানুষ গুলোকে বুকে টেনে নিতে ছুটে গিযেছেন, দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন।
আপনার কাছে একথা স্বীকার করতে লজ্জা নাই যে, স্বাধীনতার ৩৯ তম বর্ষে দাড়িও আমরা মুক্ত বাজারের চক্করের পরে কৃষকের জমির অধিকার কিংবা ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চত করতে পারি নাই । ৬৯ সালে আপনার আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের শোষকরা ১২৫ টাকা বেসিক সহ ১৫৫ টাকা শ্রমিকের মজুরী যখন ঘোষনা দেয় , তখন আপনি তা প্রত্যাখান করে বরেছিলেন ''১৫৫ টাকায় ৫ মন ধান পাওয়া যায়., এ টাকায় আমার শ্রমিক বাইরা মানুষের মত বা৭চতে পারবে না......তাই.৭ মন ধানের মূল্যে কম শ্রমিকের মজুরী মানি না।''আপনি শ্রমিকদের আরও বলেছিলেন... ''স্বারাজ্য না হলে ৭ মন ধানের সমান মুজুরি পাওয়া যাবে , মানুষের মত মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে না। তাই চলল স্বারাজ্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পরি।'' আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আপনা কৃষক মজুরা স্বরাজ্য আনেছে ; কিন্তু বৈশ্বায়নের হাওয়ায় আজ শ্রমিকের মুজুরী ৫ মন ধানের মূল্যের চেয়ে অনেক কম , শ্রমিক কাজ হারা ভয়ে দিশে হারা।

তাই আমরা আজ ভিষন চিন্তিত। যদি জমি হারা ক্ষেত মজুর- ফসলের ন্যায্য মূল্য বিঞ্চিত কৃষক - ন্যায়সঙ্গত মুজুরী বঞ্চিত শ্রমিক যদি আপনা নাম ধরে একবা কাঁদে উঠে , তাহলে নিশ্চিত পরলোকের সকল আরাম ত্যাগ করে আপনি আপনার চিরচেনা পোষাকে আপনার কৃষক-মুজুর-কুলিদের মাঝে নেমে আসবেন। আপনার জীবদ্দশা যেমন টি বারংবার দেখা গিয়েছি। আপনাকে ফিরাবার ক্ষমতা নাই কারও নাই।

গণ প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশে সরকারের নিকট হতে আপনার নিকট শুধু একটাই অনুরোধ , দয়া করে ইহলোকে নেমে আসবার সময় আপনার লুঙ্গিটি পাল্টে প্যান্ট পরে আসবেন। প্যান্ট পরতে অসুবিধা হলে নিদেনপক্ষে পায়জামা পরে আসলেও চলবে, আপনার স্নেহভাজন শিষ্য মেনন পায়জামা পরেই আমাদের সাথে সচ্ছন্দে বিচরণ করছেন।

কেননা, সাম্প্রতি শ্রমিক আন্দোলন গুলোর মাঝো লুঙ্গি পরিহিত চক্রান্তকারীদের ব্যাপক আনা গোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শ্রদ্ধান্তে ,
আপনার প্রতিষ্ঠিত
গণ প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকার।

পুনশ্চ ঃ আপনার জোব্বার উপর একখানা মুজিব কোট পরে আসলে ভাল হয়। ইতহাস বইয়ে আপনার ছবিগুলো ধুলায় ধুসর হয়ে গেছে , তাই নতুন যুগে নতুন সারথিরা আপনাকে চিন্তিতে নাও পারে , আরও ভয়ংকর কিছু ভেবে ভুল করতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29288922 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29288922 2010-12-13 16:17:09
বেতন-ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদের আন্দোলনরত যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থিদের সাথে সংহিত।
সমগ্র যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরা বিশবিবদ্যালযের ছাত্র বেতন ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে।উক্ত প্রতিবাদের অশ হিসাবে গত ২৪ নেভম্বর ২০১০ লন্ডনের প্রানকেন্দ্রে অবিস্থিত Trafalgar Square সমেবত হয়।
'উন্নত বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয় চৌহাদ্দীতে সীমবদ্ধ থাকে' আমাদের বিজ্ঞজনদের মুখে বহুবার শোনা কথাটি কে এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, নাকি?
সরকারের শিক্ষাবাজেট সংকোচন নীতি প্রতি নিজের অনুভুতির কথা জানাতেHastings, East Sussex এর Sussex Coast College কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে।
'রাজপথে মিছিল করে জনসাধারণের চলাচল কে বাধা গ্রস্তকার , অপরের াধিকারের উপর হস্তক্ষেপ!!!!!!!!!!!!!!!!!'' এ কথা গনতন্ত্রের সুতিকাগার যুক্তরাঝ্যের শিক্ষাথীদের জনা নেই। যুক্তরাজ্যের সদ্য ক্ষমতা গ্রহণকারী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ফি বৃিধ্ধ করে বার্ষিক ৯০০০ পাউন্ড করার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বাজেট হতে সরকারের অনুদান প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলে; শিক্ষার্থীরা 'খ্রামেরণ' সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠে।
ছবির মাঝের ছাত্রের নীল রং-এর প্লাকার্ডে লেখা ' Students and Workers UNITED AND FIGHT'.
যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরা সেই সত্য উপলদ্ধি করেছে .......আজ যে শিক্ষার্থী আগামী কাল সে শ্রমিক। শ্রমিক শ্রেনী সাথে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের চুড়ান্ত বিজয়ের প্রধান শর্ত

যদিও গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে ২য়বারের ছড়িয়ে পরা ছাত্র বিক্ষোভে মাসের শুরু ১ম বিক্ষোভের মত কোন সংহিসতা ঘটেনি , তবু রাষ্ট্র যন্ত্রের ক্রু চেহারা একি্ রকম। উপরে ছবিঠি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যারয়ে ফি-বিরোধি আন্দোলনে শিক্ষাথীদের উপর প্রশাসন যন্ত্রের নির্মম নিপীড়নের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিক্ষোভ কালে শিক্ষার্থীরা স্থানে স্থানে এবাবে আগুণ জ্বালিয়ে রাখে।
Bristol এর প্লাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ।
লিড-এর ২০০০ এর বেশি শিক্ষার্থী উপরের ছবিটি 'Twitter' এ পোস্ট করেছেন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হো্য়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন লেকচারা Mark Taylor-Batty .
শিক্ষা জীবন শেষ করে ফেলা একজন শিক্ষ কেন ছাত্রদের বেতন ফি বৃদ্ধি প্রতিবাদে শামিল হণ , সেটা আমাদের বিবেক কে প্রশ্নবিদ্ধ কের।
Durham এ in Market Square এর Town Hall সম্মুখে বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে সমবেত শিক্ষার্থীরা।
Whitehall (a road in Westminster) ছাত্রদের বিক্ষোভের মধ্যে অসহায় একিট পুলিশের গাড়ি। আটকে পড়া পুলিশ ভ্রানটি ছাত্রদের রোষের শিকার হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29279103 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29279103 2010-11-27 21:21:35
রূপগঞ্জের দুঃসাহসী জনতার প্রতি : দুই বিঘা জমি।
৮ কার্তিক ১৪১৭ আমাদের প্রাণ প্রিয় তিলোত্তমা ঢাকার সীমান্তবাসী রূপগঞ্জবাসী বাস্তু-ভিটা অস্তি্ত্ব রক্ষার প্রয়োজনে প্রজ্জ্বলিত হওয়াও আমাদের কিছুটা বিস্মিত জিছুটা সংক্ষুদ্ধ করে।

রূপগঞ্জবাসী লাল সালাম।]

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, "বুঝেছ উপেন, এ জমি লইব কিনে।'
কহিলাম আমি, "তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই।
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই।'
শুনি রাজা কহে, "বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখান
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা--
ওটা দিতে হবে।' কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, "করুণ বক্ষে গরিবের ভিটেখানি।
সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া!'
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে,
কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে, "আচ্ছা, সে দেখা যাবে।'


পরে মাস দেড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে--
করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে।
এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি--
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে,
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য!
ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে সেই দুই বিঘা জমি।
হাটে মাঠে বাটে এই মতো কাটে বছর পনেরো-ষোলো--
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়ই বাসনা হল।


নমোনমো নম সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি!
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর, জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগনললাট চুমে তব পদধূলি,
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।
পল্লবঘন আম্রকানন রাখালের খেলাগেহ,
স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল-- নিশীথশীতল স্নেহ।
বুকভরা মধু বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরে--
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রবেশিনু নিজগ্রামে--
কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি রথতলা করি বামে,
রাখি হাটখোলা, নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে।


ধিক্‌ ধিক্‌ ওরে, শতধিক্‌ তোরে, নিলাজ কুলটা ভূমি!
যখনি যাহার তখনি তাহার, এই কি জননী তুমি!
সে কি মনে হবে একদিন যবে ছিলে দরিদ্রমাতা
আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া ফল ফুল শাক পাতা!
আজ কোন্‌ রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছ বিলাসবেশ--
পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ!
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগি গৃহহারা সুখহীন--
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী, হাসিয়া কাটাস দিন!
ধনীর আদরে গরব না ধরে ! এতই হয়েছ ভিন্ন
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ সেদিনের কোনো চিহ্ন!
কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ি, ক্ষুধাহরা সুধারাশি!
যত হাসো আজ যত করো সাজ ছিলে দেবী, হলে দাসী।


বিদীর্ণ হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি--
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে, সেই আমগাছ একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে বালক-কালের কথা।
সেই মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা,
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।


হেনকালে হায় যমদূত-প্রায় কোথা হতে এল মালী,
ঝুঁটি-বাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।
কহিলাম তবে, "আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব--
দুটি ফল তার করি অধিকার, এত তারি কলরব!'
চিনিল না মোরে, নিয়ে গেল ধরে কাঁধে তুলি লাঠিগাছ--
বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ।
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন, "মারিয়া করিব খুন!'
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, "শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!'
বাবু কহে হেসে, "বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়।'
আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে--
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29260333 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29260333 2010-10-24 09:49:36
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ফি বৃদ্ধি বিরোধী কর্মসূচিতে প্রশাসনের লেলিয়ে দেওয়া ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা।
আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ রোববার বেলা ১১টা চট্টগ্রাম বিশ্বিদ্যালয়ের 'বর্ধিত বেতন-ফি বিরোধী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ' এর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র ও ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রশসানের ইন্দনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা উক্ত কর্মসূচিতে হামলা চালায়।সন্তাসীরা প্রদর্শনীর ছবি ও আন্দোলন সংক্রান্ত বুলেটিন ছিড়ে ফেলে। এ সময় ফি-বৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলনের ৩ জন কর্ম হামলাকারীদের আক্রমনের স্বীকার হয়ে আহত হয়।
এ সময় কাম্পাসে ৩ পল্টুন পুলিশ মোতায়ন ছিল।আন্দোলনকারীদের পক্ষ হতে হামলার সময় প্রক্টর- সহকারী প্রক্টরকে ফোন কার হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায় নি।


৭ দিনের জন্য বেতন ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিতকরণ এক নতুন প্রহসন ঃ
গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ দেড় মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল ক্যাম্পাস খুলবার দিন ৭ দিনের জন্য ফি-বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিতকরা সিদ্ধান্ত নিতান্তই হাস্যকর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29241919 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29241919 2010-09-19 15:35:56
ধিক্কার!!!!!!!!!!!!চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, আগস্ট ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বর্ধিত ফি প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

রোববার বেলা ৩টার দিকে ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় চার রাস্তার মোড়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ তাদের বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা পিছু হটতে হটতে ২ নং গেট থেকে জিইসির মোড় পর্যন্ত ৩০টি গাড়ি ভাংচুর করে।

সিএমপি'র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) রেজাউল মাসুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রেস ক্লাব থেকে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে ২ নং গেটে এসে সড়ক অবরোধ করে।

এ সময় পুলিশ তাদেরকে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তুশিক্ষার্থীরা যান-বাহন ভাংচুর শুরু করলে ২৫ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে বেলা ৩টার দিকে ষোলশহর রেল গেটে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরমুখী আরো একটি শাটল ট্রেন আটকে দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

এর আগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী রেলস্টেশন থেকে সকাল ৭টায় এবং পৌনে ৮টায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া দুটি শাটল ট্রেন আটকে দেয়।

এসময় শাটলট্রেনে থাকা শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেয়। প্রায় আধঘন্টা আটকে রাখার পর খালি ট্রেন দুটি ছেড়ে দেয় তারা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গামী বেশ ক'টি মিনিবাস ষোলশহর রেলগেটে থামিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সকাল ১১টার দিকে ষোলশহর রেল স্টেশন থেকে বিক্ষোভকারী এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। আটক শিক্ষার্থী মীর নিক্সন বনবিদ্যা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তসলিমা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

নিক্সনকে আটকের পর আরো প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীকে স্টেশন চত্বরে ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে সভা করে। এরপর তারা অবস্থান ধর্মঘট ও প্রতীক অনশন শুরু করে।

বর্ধিত বেতন-ফি প্রত্যাহার, বহি�কৃত শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ বাতিল ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা- এই তিন দফা দাবিতে পাঁচদিন ধরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট মোড়ে টানা ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে রোববারের এ কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তবে শনিবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিদের আলোচানার পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা রাত ৮টার পর ষোলশহর ২ নম্বর গেট মোড় ও এর আশপাশের সড়কগুলো থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছিল বলে জানান সিএমপি'র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) রেজাউল মাসুদ।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সিএমপি'র উপ-পুলিশ কমিশনার চবি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরবর্তীতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আন্দোলনের বিষয়টি অবহিত করার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রবাল মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সুশীল সমাজের অনেকেই আমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সব কর্মসূচি পালন করছি।

তিনি জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি প্রশাসনের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর চন্দন কুমার পোদ্দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আন্দোলনকারীদের দায়দায়িত্ব আমাদের নয়। ক্যাম্পাসে কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

ক্যাম্পাস পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস শান্ত। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হলেও কিছু ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
***************************************
সূত্রঃ
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29212877 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29212877 2010-08-01 18:35:15
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন জয় যুক্ত হউকঃ সুজন কান্তি দে'এর বহি্ষ্কার আদেশ প্রত্যাহার কর।
(তুমি দুর্বল চিত্ত নও, এটা মনে করেই আমরা অনেকে সাহসী। মনে রেখো তোমাকে দুর্বল করতে পারলেই 'ওরা' সফল। সুতরাং, ইজ্জতের লড়াইয়ে তেমাকে আরো বেশি সামনের কাতারে দেখতে চাই!)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গত ২৬ জুলাই ২০১০ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের বেতন-ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে । চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের চলমান এ আন্দোলন এ দিকে যেমন সুশৃঙ্খল অপরদিকে তারা তাদের দাবি আদায়ে অবিচল আপোষহীন।

ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন কে অংকুরে বিনষ্ঠ করা জন্য কর্তৃপক্ষ লোকপ্রশাসন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহ-সম্পাদক সুজন কান্তি দে কে শিক্ষক লাঙ্ছনার মিথ্যা অভিযোগে আন্দোলনের প্রথম দিনই ২৬ জুলাই ২০১০ দুই বৎসরে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে।

যে শিক্ষককে লাঙ্ছিত করা অভিযোগ করা হয়েছে, স্বয়ং সেই শিক্ষক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেছেন যে, তার সঙ্গে শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে। ''"শিক্ষার্থীরা আমাকে চিনতে পারেনি। তাদের সাথে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এ বিস্তারিত পড়ুন...........
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29211141 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29211141 2010-07-30 16:49:36
ডঃ শাহাদীন মালিকের কলামঃ ‘তিন হাজার টাকা’
সংবিধান নিয়ে আলোচনায় এখন অনেকেই বলছেন বা প্রশ্ন তুলছেন যে এতকাল পর ‘সমাজতন্ত্র’ কথাটিই সংবিধানে কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সমাজতন্ত্র তো উঠে গেছে সারা বিশ্ব থেকে। উনি মারা গেছেন। অতএব উনাকে (সমাজতন্ত্রকে) নিয়ে টানাহেঁচড়া অবাস্তব।
অর্থাৎ পোশাকশিল্প শ্রমিকদের মজুরি তিন হাজার টাকাই সই! (সূত্র: প্রথম আলো, ২৬ জুলাই) এখন ধনতন্ত্রের যুগ। দুপক্ষ আলাপ-আলোচনা করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হবে, সেটাই ঠিক। বাংলাদেশে শোষণ নেই। শোষণটোষণ সমাজতন্ত্রের অচল কথা। পোশাকশিল্পমালিকদের যদি তিন হাজার টাকার বেশি পারিশ্রমিক দিতে হয় শ্রমিকদের তাহলে ফ্যাক্টরি চলবে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস ধ্বংস হয়ে যাবে, লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে, অশান্তি-হানাহানি বাড়বে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
আরও আছে, সংখ্যার হিসাব। কী কী যেন বলা হয়—একসময় ছিল ৬০০ টাকা। তারপর বেড়ে হলো ৯০০ টাকা। তারপর এক হাজার ১০০-র কিছু বেশি এবং সর্বসাকুল্যে এক হাজার ৬০০ টাকা বা তারও কিছু বেশি।
‘আর জানেন না। যারা শুরু করে, তারাই এক হাজার ৬০০ টাকা তারও কিছু বেশি পায়। অভিজ্ঞজনেরা অনেকে সাত-আট হাজার থেকে শুরু করে ভালো ফ্যাক্টরিতে ১৫ হাজার বা তারও বেশি পায়।’
তার পরও আমার তথ্যসমৃদ্ধি আরও ব্যাপকতর করা হয় অনেকটা এক নিঃশ্বাসেই ‘ওই কালো গাড়িটা পছন্দ হয়ে গেল। এক কোটি ১০ লাখের কমে কোনোমতেই দেবে না। কী আর করি। নিয়ে নিলাম।’ এ কথা ও কথার পর ‘ভাই, ভাবছি এবার ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিন সপ্তাহ আমেরিকা ঘুরে আসব। এই তো দুই দিন আগে স্পেন থেকে এলাম। ওদের নিয়ে তো আর যাওয়া হয় না। সময় পেলে ভাবছি তিন দিনের জন্য হলেও কানাডা ঘুরে আসব।’
সমাজতন্ত্র-শোষণ আসলেই সেকেলে কথাবার্তা।

২.
প্রায় দুই দশক ধরেই দেখছি বিজেএমইএ হাচ্চু মারলেই সরকার কাঁপে! এতে তো আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছুই নেই। বিজেএমইএ বলছে, এর বেশি আর দেওয়া যাবে না। সব ধরনের শুল্ক থেকে ছাড় পাই, গ্যাস-বিদ্যুৎ পাই, ইপিজেড পাই, যেখানে কোনো শ্রম আইন নেই, ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার সামান্য সুযোগ-সুবিধায় মন ভরে না, বহু বছর তাই নিজেরাই ব্যাংকমালিক হয়ে গেছি (বাধ্য হয়ে), আর নির্বাচন এলে ডজন দুয়েক আসন তাদের জন্য বরাদ্দ না থাকলে কেমনে চলবে দেশ।
দেশকে ডলার-পাউন্ডে ছয়লাব করে দিচ্ছেন। অতএব তিন হাজার টাকার এক পয়সা বেশি দেওয়া অসম্ভব?
সবই ঠিক, হক কথা।
ভাঙচুর আজকাল হচ্ছে প্রায় অহরহ। একটা ভাঙচুর হলে শ-পাঁচেক শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, এমন ভাঙচুরের ঘটনা কেউ জানেন কি? গত দুই দশকের শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য কোনো মালিক কি জেলের ভাত খেয়েছে?
খাবে না, এটা বলাবাহুল্য।
একটা ‘রাফ’ হিসাব।
এখন ঢাকা আর কাশিমপুর জেলে প্রায় ২০০-র মতো ‘কনডেমনড প্রিজনার’ আছে। অর্থাৎ বিচারিক আদালত যাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল বাধ্যতামূলক। হাইকোর্টে আপিলে এদের শতকরা পঁচাত্তর ভাগেরই নিজস্ব অ্যাডভোকেট নেই। সরকার তাদের উকিল দিচ্ছে। আর অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় যারা দোষী প্রমাণিত হয়ে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন, তাঁদের দু-একজনও কি এখনো জেলে আছেন?
আমরা একটা সম্পূর্ণ শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। অতএব তিন হাজার টাকা মজুরি পেলে পোশাকশ্রমিকদের উদ্বাহু হয়ে নৃত্য করা দরকার। আশা করব, নতুন মজুরি নির্ধারণের পর পোশাকশ্রমিকদের জন্য ‘ওপেন এয়ার কনসার্টে’র ব্যবস্থা হবে।

৩.
২৬ জুলাই প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘উদ্ধৃতি’ অংশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর একটা উদ্ধৃতি আছে—‘বেসরকারি খাত সরকারি খাতের চেয়েও বেশি দুর্নীতিবাজ।’
কথাটা আমলে নেওয়া দরকার। এটা অনস্বীকার্য যে ফ্যাক্টরির মালিকদের পথে-ঘাটে ঘুষ দিতে হয়। বন্দরে কাঁচামাল এনে সে কাঁচামাল খালাস করা থেকে শুরু করে ঢাকার ফ্যাক্টরিতে এনে পোশাক বানিয়ে এবং সেটাকে আবার বন্দরের জাহাজে তোলা পর্যন্ত কতটা ঘাটে যে ঘুষ দিতে হয়, তার হিসাব তারাই ভালো জানে।
মালিক সংগঠনের চোটপাট সব শ্রমিকের ওপর।

৪.
আমার ধারণা, পোশাকশ্রমিকেরা তিন হাজার টাকা মানবে না। সংখ্যার হিসাবে যাব না। কিছু তত্ত্ব কথা বলি। বলাবাহুল্য তাই দায়ভার আমার না, কিছু বইপত্তর ঘেঁটে যা বুঝেছি তা-ই বলছি।
১৯২০-এর দশকে হুগলি নদীর চারপাশে সে সময়ের সারা বিশ্বের অন্য সব জায়গার তুলনায় সে আমলের পাটশিল্পে যে শ্রমিকেরা কাজ করত, তাদের মোট সংখ্যা সে সময়ের ইউরোপ-আমেরিকার যেকোনো একক শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকের সংখ্যা থেকে ছিল বেশি। হুগলি নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা পাটশিল্পের শ্রমিক ছিল হাজার হাজার, কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় এত শ্রমিক মোটামুটি এক জায়গায় থাকা সত্ত্বেও বড়সড়ো কোনো শ্রমিক আন্দোলন গড়ে ওঠেনি।
কংগ্রেস-মুসলিম লীগ কোনো বৃহৎ দলে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন ঘটেনি। ব্রিটিশদের হাত থেকে দেশ স্বাধীন করা ছিল ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া স্থান পায়নি।
এখন আসি কারণের কথায়। এত হাজার হাজার শ্রমিক কিন্তু তারা কেন কিছু করতে পারল না। কারণ হলো, সে সময়ের পাটশ্রমিকেরা যদিও পাটশিল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত, তথাপি মনে-প্রাণে তারা নিজেদের কৃষক ভাবত? অর্থাৎ কোলকাতা-হুগলিতে আসত অল্প সময়ের জন্য, কিছু বাড়তি রোজগারের আশায়। টাকা-পয়সা কিছু জমলে আবার গ্রামে ফিরে যাবে। ঋণটা শোধ করবে, জমি বন্ধকমুক্ত করবে, দুটো গরু কিনবে এবং আবার কৃষিকাজে মনোযোগী হবে। কৃষিতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জমত না। শ্রমিক হিসেবেই পাঁচ, সাত, দশ, পনেরো বছর কেটে যেত। কিন্তু তা সত্ত্বেও মনে-প্রাণে সে কখনো শ্রমিক হয়নি। ফলে শ্রমিক হিসেবে তার দাবি-দাওয়ার প্রতি সে ছিল অমনোযোগী। শ্রমিক-আন্দোলনে শরিক হওয়ার মনমানসিকতা তার গড়ে ওঠেনি।
নিকট-অতীতের নারায়ণগঞ্জের আদমজী বা খুলনার পাটশিল্পের শ্রমিকেরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং অন্যান্য কারণে সম্ভবত নিজেদের নিতান্ত শ্রমিক ভাবত না। কিছুটা সরকারি বা সুবিধাভোগী ভাগ তাদের ছিল বা সে ধরনের মনমানসিকতা তৈরি করা হয়েছিল, তাদের ভেতরে যাতে তারা আন্দোলন-ফান্দোলন না করে।
আশির বা নব্বইয়ের দশকে যেসব মহিলা গ্রাম থেকে ঢাকায় বা শহরে এসে পোশাকশিল্পে কাজ শুরু করেছিল, তারাও আমার ধারণা, নিজেদের স্বল্পকালের শ্রমিক ভাবত। কিছু টাকা-পয়সা জমলে গ্রামে ফিরে গিয়ে বিয়ে-শাদি করে ঘর-সংসার করবে। যৌতুকের টাকা জোগাড় করাও পোশাকশিল্পে কাজ করার একটা কারণ ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই।
অল্প কথায় বড় কেচ্ছা সারছি। ১৯২০ থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত কৃষি বা গ্রামে ফিরে যাওয়ার সে মনমানসিকতা বা স্বপ্ন, সেটা এ শতাব্দীর আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকদের আর নেই। অন্তত আমার তা-ই ধারণা। তারা ঢাকাতেই থাকবে (সেটা রামপুরা, মিরপুর, আশুলিয়া বা ইপিজেড এলাকা যেখানেই হোক না কেন)। আর যেকোনো অন্য চাকরিজীবীর মতো ঈদে-পরবে গ্রামে যাবে আত্মীয়স্বজন, বাবা-মা, ভাই-বোনদের সঙ্গে সময় কাটাতে। কিন্তু ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে আসবে।
আমাদের প্রবাসী শ্রমিকেরা যেমন দুই-চার-পাঁচ বছর বিদেশে সবকিছু সহ্য করে প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করে গাদাগাদি করে থাকে। পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা সেটা আর করবে না, অতীতের পাটশিল্পের মতোই প্রবাসী শ্রমিকেরা সবকিছু সহ্য করে। কারণ, তারাও গ্রামে (অর্থাৎ দেশে) ফিরে আসবে। প্রবাস-জীবন ক্ষণিকের।
পোশাকশিল্পের শ্রমিকের জীবন এখন তার সারা জীবন। এই কাজ সে সারা জীবন করবে। তার মনমানসিকতা বদলেছে। সে আর সহজে ছাড় দেবে না। মালিক-রাজনীতিবিদ-পুলিশ সবাইকে এটা উপলব্ধি করতে হবে।
৫.
‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে যেমন অপরাধ দমন করা যায়নি বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ক্রমান্বয়ে ভাড়াটে বাহিনীতে পরিণত হচ্ছে, তেমনিভাবে শ্রমিকদের দাবিদাওয়াকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’, ‘দেশ অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত’ ইত্যাদি ভাবে আখ্যায়িত করার নিবুুর্দ্ধিতায় লিপ্ত না হয়ে শোষণের মাত্রা কমাতে হবে। তিন হাজার টাকায় দু-চার মাস সময় হয়তো ‘কেনা’ যাবে। ওই পর্যন্তই।
বড় পোশাকশিল্প আছে অথচ মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধী হবেন না, বুকে হাত দিয়ে কয়জন পোশাকশিল্পমালিক বলতে পারবেন। পারতেন, যদি আপনার শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করতেন—একই বেলায় মাছ-মাংস দিয়ে পেটপুরে শেষবার কখন খেয়েছিলে মনে পড়ে কি?
আমার হিসাবে, কোরবানির ঈদ এখনো মাস চারেক দূরে। তিন হাজার টাকা মাস হিসাবে একজন হেলপার আগামী চার মাসে কয়বার মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে তৃপ্তিতে ঢেঁকুর তুলতে পারবে।
যারা বলে, সংবিধানে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটা রাখা যাবে না, তারা নাকি রাজনৈতিক নেতা।
**************************************************
সূত্র ঃ
দৈনিক প্রথম আলো ২৭ জুলাই ২০১০
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29208653 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29208653 2010-07-27 12:52:19
কেন গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ৭০০০/- টাকা মাসিক নুন্যতম মুজুরী চাই?
দারিদ্রসীমার মানদন্ডঃ

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করতে হলে একজন মানুষের দৈনিক ২ ডলার আয় প্রয়োজন।
৪ জনের একটি পরিবার ধরলে পরিবারের আয় হওয়া উচিত........
৪ x ৩০x ২ = ২৪০ ডলার প্রতি মাসে।
১ ডলার সমান ৭০ টাকা ধরলে তা দাঁড়ায়.......
২৪০x ৭০ = ১৬৮০০ টাকা।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ে উপর্যাজনক্ষম হলে...................
প্রতিজনের মাসিক উপার্জন গড়ে ৮৪০০/- টাকা।


পুষ্টিবিজ্ঞানের মানদন্ডঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হিসাব করে দেখিয়েছে..........
দৈনিক ১০ ঘণ্টা কাজ করলে একজন পুরুষ গার্মেন্টস শ্রমিকের ৩৩৬৪ কিলোক্যালরি এবং নারী শ্রমিকের ২৪০৬ কিলোক্যালরি তাপ লাগে।

এ হিসাবকে ভিত্তি ধরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট মজুরি বোর্ডে যে হিসাব দাখিল করেছে এখানে তা পুরোই তুলে ধরা হলঃ-

সাধারণভাবে একজন মানুষের জন্য তাপশক্তি কত লাগে এটা হিসেব করতে হলে বিভিন্ন কাজে কত কিলোক্যালরি তাপলাগে তা জানা দরকার।

স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের একজন মানুষের প্রতি মিনিটে তাপশক্তি প্রয়োজন হয়ঃ

মাঝারি গতিতে হাঁটলে (১২ মিনিটে ১ কিঃ মিঃ) ৪ কিলোক্যালরি
মাঝারি ধরনের কাজে ৩ কিলোক্যালরি
ঘরের কাজে ২ কিলোক্যালরি
বসে থাকতে (টিভি দেখা, গল্প করা) ১·৫ কিলোক্যালরি
ঘুমানোতে ১ কিলোক্যালরি।

এ হিসাবে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের প্রতিদিন কত কিলোক্যালরি তাপ প্রয়োজনঃ

৮ ঘণ্টা কাজ (৮x৬০x ৩) = ১৪৪০ কিলোক্যালরি
৮ ঘণ্টা ঘুম (৮x৬০x ১) = ৪৮০ কিলোক্যালরি
১ ঘণ্টা বিরতি (১x৬০x ১·৫) = ৯০ কিলোক্যালরি
২ ঘণ্টা ওভারটাইম (২x৬০x ৩) = ৩৬০ কিলোক্যালরি
২ ঘণ্টা ঘরের কাজ (২x৬০x ২) = ২৪০ কিলোক্যালরি
২ ঘণ্টা অবসর/আড্ডা/গল্প (২x৬০x ১·৫) = ১৮০ কিলোক্যালরি
১ ঘণ্টা হাঁটাঃ কর্মক্ষেত্রে
যাওয়া-আসা (১*৬০*৪) = ২৪০ কিলোক্যালরি
অর্থাৎ দিনে ২৪ ঘন্টায় সর্বমোট = ৩০৩০ কিলোক্যালরি

(নারী শ্রমিকদের ওজন ৫০ কেজি ধরলে এটা কিছুটা কম হবে। আবার সন্তানসম্ভবা কিংবা প্রসব পরবর্তী সময়ে কিছু বেশি লাগবে। এখানে আরো একটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। গার্মেন্টসের একজন নারী শ্রমিক ঘুমায় কতক্ষণ? এক হিসাবে দেখা গেছে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। তাকে রান্নার জন্য লাইন দিতে হয়, বাথরুমে যাবার জন্য লাইন দিতে হয়। ফ্যাক্টরিতে দেরীতে আসলে মজুরি কাটে কিন্তু দেরীতে ফিরলে সে অনুযায়ী মজুরি বাড়ে না।)

সুষম খাদ্য দ্বারা এই ক্যালরির প্রয়োজন মেটালে শারীরিক সুস্থতা এবং কর্মশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। মোট খাদ্যের ৫৭ শতাংশ কার্বহাইড্রেট যেমন চাল, আটা দ্বারা, ৩০ শতাংশ চর্বি জাতীয় খাবার যেমন তেল, ঘি, মাখন দ্বারা এবং ১৩ শতাংশ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ দ্বারা পূরণ করা দরকার। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ খুবই প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ এবং শক্তি ব্যবহার করার জন্য। আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম শক্তি উৎপাদন করে না কিন্তু এগুলোর অভাব হলে শরীর কর্মক্ষম থাকতে পারে না। ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্যের জন্য শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন।

বাজারে প্রাপ্ত সস্তা খাবার দ্বারা যদি একজন শ্রমিক তার শক্তি ও পুষ্টি রক্ষা করতে চায়, তাহলে প্রতিদিন নিম্নরূপ খরচ হবেঃ
খাদ্য পরিমাণ কিলোক্যালরি বাজার মূল্য (টাকা)
১· চাল ৫০০ গ্রাম ১৮০০ ১৬·০০
২· আটা ৫০ গ্রাম ২০০ ১·৫০
৩· ডাল (মসুর নয়, ছোলা) ৬০ গ্রাম ২০০ ৩·৫০
৪· তেল (সয়াবিন) ৫০ মিলিলিটার ৪৫০ ৪·৫০
৫· ডিম ১টি ৭০ ৬·৫০
৬· মাছ ৬০ গ্রাম ৮০ ৬·০০
৭· আলু ১০০ গ্রাম ১০০ ১·৫০
৮· শাক-সবজি ১৫০ গ্রাম ৫০ ৩·০০
৯· কাঁচা মরিচ, মশলস্না, হলুদ ২·০০
১০· ফল ১টি কলা বা আমড়া ৫০ ৪·০০
১১· রান্নার খরচ ১০·০০
১২· চা দিনে ২ কাপ ৬·০০
সর্বমোট ৩০০০ কিলোক্যালরি ৬৪·৫০ টাকা
(অসুস্থ হলে খরচ বাড়বে। শিশুদের ভাত কম লাগবে কিন্ত অন্যান্য খরচ বাড়বে। গড়ে ৬৪·৫০ প্রতিদিন খরচ ধরতে হবে।

৪ জনের পরিবারের খরচ কত?
খাওয়া খরচ (৬৪·৫০x ৪ x ৩০) = ৭৭৪০/০০ টাকা
বাসা ভাড়া (১ রুম বিশিষ্ট + পানি + বিদ্যুৎ + গ্যাস) = ৩৫০০/০০ টাকা
যাতায়াত (২ জন কর্মজীবী মানুষ) (৫০০x ২) = ১০০০/০০ টাকা
চিকিৎসা (২৫০x৪) = ১০০০/০০ টাকা
পোষাক, অন্যান্য সাংসারিক দ্রবাদি = ১০০০/০০ টাকা
সর্বমোট = ১৪,২৪০/০০ টাকা
অর্থাৎ ১৪,২৪০ টাকার কমে একটি পরিবার চলতে পারে না। স্বামী-স্ত্রী ২ জনই চাকুরী করলে প্রত্যেকের কমপক্ষে ৭১২০ টাকা মজুরি দরকার। এখানে সন্তানের শিক্ষা খরচ, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, বিনোদন ও অতিথি আপ্যায়নের হিসেবও ধরা হয়নি।

সুতরাং ,

মাসিক ৭০০০/- নুন্যতম মুজুরীর দাবি শ্রমিক শ্রেনীর সার্বজনীন মানবাধিকার ও বাংলাদেশের সংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নের সাথে জড়িত।
***********************************************
বন্ধুবর আবু নাইমের ব্লগ থেকে সংক্ষিপ্ত ও ঈষৎ পরিবর্তনপূর্ব প্রকাশ করা হল।
''বাঁচার মতো মজুরির দাবিতে উত্তাল গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চল : ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ৭০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে''
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29207734 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29207734 2010-07-26 11:55:42
আমার যত লজ্জা- হীরক রাজার দেশে।
বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে দাড়ায়ে আমার মত অনেকেই মনে হয় স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে পরেছেন বারংবার। সীমান্ত অতিক্রম করতেই সুউচ্চ পাহাড়ের মাথা মেঘের রাজ্য ফুরে কোথায় হারিয়ে গেছে।বৎসরের এই সময়টাতে দূর পাহাড়ের বুকে রোদ্র -ছায়ার খেলার রূপ যে কাউকে আত্মহারা করবে। আর রৌদ্র উজ্জল বর্ষার দিনে দূরের কালো ( ঘন সবুজ) পাহাড়ে ঝরণার জলে রোদের ঝিলিক আপনা সীমান্ত ওপারে ছুটে যাবার হাতছানি দিবে।

সীমান্তের ওপারে মেঘালয় রাজ্য।

রূপ আর রহস্যের দেশ মেঘালয় যেন এক হীরক রাজার দেশ। আমি ছবিতে ছবিতে আজ আপনাদের সেই হীরক রাজার দেশের কাহিনী শোনাব।

হীরক রাজার দেশেঃ

মেঘালয়ের নয়নাভিরাম এই পর্বতমালার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শত-শত ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত ইদুরের গর্তে মত ছোট ছোট কয়লার খনি। যন্ত্র সভ্যতার যুগেও এই খনিগুলো পরিচালিত হয় প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রযুক্তিতে। আর এর কয়লা খনিগুলোতে কর্মরত রয়েছে ৭০ হাজার শিশু শ্রমিক । বাংলাদেশ, নেপাল, আসাম, ঝাড়খন্ড আর বিহার থেকে পাচার হয়ে আসা এই শিশু শ্রমিকদের বয়স ৭ থেকে ১৭ বৎসর।


আসুন সেই সব শিশুদের কথা শুনি।

জিরো নামের ১০ বৎসরের বালকটি তার মায়ের সাথে দিন ভর কয়লা খুটে তুলে কুড়িয়ে ঝুড়িতে ভরে।

বিহার থেকে আগত রুপেশ কুমার নামক ১২ বৎসরের বালকটি হাতুড়ি দিয়ে খনি থেকে তুলে আনা কয়লা ভঙ্গছে।

আসামের শিলচর থেকে আগত ৮ বৎসরের 'সাইফুল' দিনের এক ঝুড়ি কয়লা কুড়িয়ে ২০ রুপি আয় করে।

নেপাল বালক সুনীর তাঙ্গমা ( ১৪ বৎসর) স্কুলের পাঁকে কয়লা খনিতে কাজ করে।

১৫ বৎসরের নেপালি বালক 'সানু রাই' কে প্রতিদিন এ রকম পিচ্ছিল-ভাজা বাঁশের মই বেয়ে নামাতে হয় ১৫০-২০০ ফুট গভির খনির তলদেশে।

ঝাড়খন্ডের রাজু প্রধান (১৪), রাজ বার্জ্য (১৭) তাদের অনান্য সাথীদের মতই শৈশব থেকে ইদুরের গর্ত ( কয়লা খনির গর্তের নাম) কয়লা তুলে আনে।

মনোজ, বিনোদের মত আর অসংখ্য দরিদ্র নেপালী শিশু পাচার হয়ে জয়ন্তিয়া পাহাড়ের খনিগুলো তে এক রকম বন্দী।

শিশুগুলোর উপর্জিত পয়সার অনেকাংশ শুষে নেয় এ রকম খনি মালিক বা অনুগতদের পরিচালিত ভিসিডি ক্লাব।

আসামের ১৬ বৎসের রেহমানুদ্দীন তার সর্দার অর্জুন দত্ত ও তাজুদ্দীনের সাথে কয়লা খনির মাটি কাটে।

আসামের অনিল সুভা (১৭) কয়লা খনির বাইরে কামারশালায় তার গাইতী টাকে তীক্ষ করে নিচ্ছে।
***************************************************]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29187177 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29187177 2010-06-28 17:15:42
আসমা-রত্না-রুনার সফল বিবাহের আয়োজেনর মাধ্যমে মহামান্য প্রধানমন্ত্রী সহস্র বৎসরের সামাজিক সংস্কারের ধ্বজাকে উর্ধ্বে আসিন রাখলেন।।
গত ৯ জুন ২০১০ গণভবনের আসমা-রত্না-রুনার সফল বিবাহের আয়োজনের মাধ্যমে চিরন্তন বাংলার মাতৃরূপ মহামান্য প্রধানমন্ত্রীএদেশের শত সহস্র বৎসরের সামাজের বিদ্যমান বিশ্বাস কে পুনঃস্বীকৃতি প্রদান করলেন।

কন্যাপণ

আজ একাবিংশ শতাব্দীতে দাড়িও এদেশের কন্যাদায়গ্রস্ত শিক্ষিত- অশিক্ষিত মাতাপিতা কন্যার অনাগত সংসার সজ্জার সকল আয়োজন সম্পাদন (অঘোষিত যৌতুক) ব্যতিত কন্যা সম্প্রদানের কথা কল্পনাও করতে পারেন না।

গণভবণ আয়োজিত কন্যাত্রয়ের বিবাহ বিষয়ে ১০ জুন ২০১০ দৈনিক ইনকিলাবের ভাষায়..................
''আমাদের দেশীয় এবং মুসলিম সংস্কৃতির ঐতিহ্য অনুযায়ী কনের পরিবার থেকে বরকে বিয়ের জন্য যা যা দেয়া হয় তার সবকিছুই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।''
জয়তুন কন্যাপণ।। জয়তুন বঙ্গীয় দেশীয় এবং মুসলিম সংস্কৃতির ঐতিহ্য।। জয়তুন প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গীয় মাতৃরূপ।।

পুরুষের পায়ের নিচেই নারীর একমাত্র ও নিরাপদ আশ্রয়।

সেই বৈদিক কাল হতে শাস্ত্রকাররা নানা রূপে নানা ভাষায় বারংবর নারীর নিরাপত্তার বিধান দিতে গিয়ে বলে এসেছেন.................
''নারীর শৈশবর পিতার ছায়া তার আশ্রয়, নারী পরিণত বয়সে স্বামীর পদতলেই নারীর স্বর্গ আর বার্ধক্যে পুত্রের করুণাই একমাত্র নিয়তি।''

মহামন্য প্রধানমন্ত্রী আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।।

পুরুষতান্ত্রিক সামাজ শাস্ত্রের প্রতি অবিচল থেকে আপনি পিতায় আশ্রয় হারা তিনটি অবলা নারীকে অতিশয় সংক্ষিপ্ত সময়ে চোখের পানি শুকাবার আগেই তাদের ২য় আশ্রয় স্থলের সংস্থান করে দিলেন।

পদাটিকাঃ
বেগুনবাড়ির কান্না নিমতলির পোড়া মাংসের গন্ধে মিলিয়ে না যেতেই গণভবন বিবাহের সানাইয়ের সুরের মধ্য দিয়েএকটি আকর্ষণ নাটিকার যবনিকা পতন ঘটল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29174866 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29174866 2010-06-11 17:02:55
পিপিপি’র নামে শিক্ষার বেসরকারিকরণ-বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ, জাতীয় বাজেটের ২৫% শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সহ ৫দফা দাবি
স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির পূর্বে সকাল ১১·৩০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি ফখরুদ্দিন কবির আতিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী তমাল, দপ্তর সম্পাদক ইমরান হাবিব রুমন, সাইফুজ্জামান সাকন, মলয় সরকার, স্নেহার্দী চক্রবর্ত্তী রিন্টু। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনার্দন দত্ত নান্টু।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘কৃষি নির্ভর এদেশে শিক্ষা, কৃষি ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না দিলেও প্রতি বছরই সামরিক খাতসহ অনুৎপাদশীল খাতগুলোতে বরাদ্দ বেড়েই চলছে। এবারও যুদ্ধ বিমান ও যুদ্ধ জাহাজ ক্রয়ের জন্য এবারের বাজেটে বরাদ্দের কথা শোনা যাচ্ছে। অথচ উচ্চশিক্ষায় আর মাত্র ১১০ কোটি টাকা বেশী বরাদ্দ দিলে শিক্ষার্থীদের কোনো বেতন ফি দিতে হয় না। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গবেষণা আজ প্রায় বন্ধ। ভর্তি সংকট নিরসনে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগে নতুন নতুন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ।
দীর্ঘ ১১ বছর থেকে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নির্মান ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সারাবছর ক্লাস চালু রাখার দাবি করলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
আবার পিপিপি’র নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বার ব্যবসায়ীদের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন সংকট নিরসনে এবার বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এবার বাজেটে নিম্নোক্ত ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
এরপর একটি মিছিল বিশ্ববিদ্যালেয় ক্যাম্পাসে প্রদক্ষিণ শেষে অর্থমন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পথে শিক্ষা ভবনের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পুলিশী বাধার নিন্দা জানানো হয়। সমাবেশ শেষে জনার্দন দত্ত নান্টুর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন।

***************************************************************

অর্থমন্ত্রী বরাররব স্মারকলিপি

প্রতি
মাননীয় মন্ত্রী,
অর্থ মন্ত্রণালয়,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিষয়ঃ ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুসারে জাতীয় বাজেটের ২৫% শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা, কলেজসমূহে স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নির্মাণ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ বরাদ্দ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বর্ধিত বরাদ্দ, উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি সংকট নিরসনকল্পে নতুন সরকারি কলেজ নির্মাণ ও পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করে ডাবল শিফ্‌ট চালু করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান প্রসঙ্গে।

জনাব,

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা নেবেন। আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে আপনি ২০১০-’১১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন। বাজেট পেশের পূর্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের চিত্র এবং এর সমাধানকল্পে আমাদের সংগঠনের কিছু দাবি আপনার মাধ্যমে সরকারের কাছে তুলে ধরতে চাই।

প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সকল স্তর সংকটে জর্জরিত। সরকারি হিসাবে দেশে এখনো ১৪,১৯৯টি গ্রামে কোনো ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সরকারি নীতিমালা অনুসারে কমপক্ষে ২,০০০ জনসংখ্যা অধুষিত গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কথা। অথচ এমন প্রায় ২ হাজার গ্রাম আছে যেখানে কোনো প্রকার স্কুলই নেই। সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ১৯৯৮ সালে ছিল ৩৭,৭০৯টি, ২০০৫ সালে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৭,৬৭২টি। বর্তমানে প্রতিবছর প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয় ৩৪ লাখ শিশু। তাদের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পৌঁছে ২২ লাখ। অর্থাৎ চার বছরে ঝরে পড়ে (Drop-Out) ১২ লাখ শিশু। এ বছর ১০টি বোর্ড মিলে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ লক্ষ ৬০ হাজার ৪৯২ জন। গত বছর ৭টি বোর্ড মিলে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৩,৭১,৩৮২ জন। অর্থাৎ প্রথম শ্রেণী থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। দারিদ্র্যের কষাঘাত আর শিক্ষার নিম্নমানই Drop-Out এর কারণ। Drop-Out কমাতে স্কুল ছাত্রদের একবেলা খাবার, ইউনিফর্ম, বিনামূল্যে খাতা-কলমসহ শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। এদিকে প্রাথমিক স্তরে বর্তমান ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত (১ঃ৪৯) , যা মানসম্পন্ন শিক্ষার মোটেই সহায়ক নয়। এজন্য পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।

অনেক উপজেলাতেই মাধ্যমিক স্তরে কোনো সরকারি স্কুল ও কলেজ নেই। মাধ্যমিক স্তরে ১৬ সহস্রাধিক স্কুলের মধ্যে সরকারি স্কুলের সংখ্যা মাত্র ৩১৭টি। এ বছর এসএসসি-তে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করেছে ৭,১৩,৫৬০ জন। সরকারি-বেসরকারি মিলে ৩,১৫০টি কলেজে আসনসংখ্যা আছে ৫ লাখ। ২৫১টি সরকারি কলেজে আসনসংখ্যা আছে ৯২,৩৯৬টি। ১০টি বোর্ডে GPA ৪ - ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ৩,৭০,৬৭১ জন। অর্থাৎ GPA ৪ পেয়েও প্রায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী সরকারি কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। এই ভর্তি সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগে নতুন কলেজ নির্মাণ করা প্রয়োজন। সংকটের আশু সমাধান হিসেবে ভাল কলেজগুলোতে ডাবল শিফ্‌ট চালু ও আসন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আনুপাতিক হারে শিক্ষক সংখ্যা ও বিভিন্ন অবকাঠামো বৃদ্ধি প্রয়োজন। ভর্তি সংকটের আপাত সমাধান করতে চাইলেও বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা আবশ্যক।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভুগছে তীব্র বাজেট ঘাটতিতে। মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ বাজেট বিবরণী অনুয়ায়ী ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুদান ৬৮২ কোটি টাকা। এর ৮৮% ব্যয় হয় বেতনভাতা,পেনশন ও সাধারণ আনুসঙ্গিক খাতে। আর ১১% মাত্র শিক্ষা আনুসঙ্গিক খাতে ব্যয় হয়। চলতি অর্থবছরে শিক্ষা বাজেটের মাত্র ৬·৯৮% ও জাতীয় বাজেটের মাত্র ০·৯২% বিশ্ববিদ্যালয় খাতে বরাদ্দ ছিল।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলেও এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বাজেটে বরাদ্দ মাত্র ০·০৭৬৯%। অর্থাৎ ১০০০ ভাগের ১ ভাগেরও কম। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা বাঁচাতে, আবাসন সংকট নিরসন এবং ডাইনিং-ক্যান্টিন ও লাইব্রেরি-ল্যাবরেটরির মান বাড়াতে সরকারি বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজসমূহের উচ্চশিক্ষার আয়োজন একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সেটা এমনই যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেই এখন একরকম বিলুপ্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কলেজসমূহের সংকট নিরসনে ছাত্রসমাজের দীর্ঘদিনের দাবি স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম নির্মাণ ও শিক্ষক নিয়োগের সরকারি ঘোষণা ইতোপূর্বে দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হলে বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজন।

অন্যদিকে, শিক্ষকদের যে বেতন দেওয়া হয় তা দিয়ে বর্তমান আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কোনো পরিবার সম্মানজনকভাবে চলতে পারে না। মানবেতর জীবনযাপন করে তাঁরা মানসম্পন্ন শিক্ষা দেবেন কিভাবে? ফলে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন কাঠামো ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জিডিপির ৮ ভাগ বা জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দ করার করার দাবিতে বাংলাদেশের শিক্ষানুরাগী মহলসহ আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু বার বারই এ দাবি উপেক্ষিত রয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং শ্রীলংকায়ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩·৮ শতাংশ, অথচ আমাদের দেশে তা মাত্র ২·০৩ শতাংশ। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া সমগ্র জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করা সম্ভব নয়।
আর এ কথা কে অস্বীকার করবে যে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করা ছাড়া একটি দেশের জাতীয় অগ্রগতি সাধন সম্ভব নয়। উপরন্তু বর্তমান সরকার ঘোষণা দিয়েছে স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের। সরকার যদি এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সত্যি সত্যি আন্তরিক হয় তাহলে শিক্ষাখাতের সম্পূর্ণ দায়িত্বই রাষ্ট্রকে নিতে হবে, পর্যাপ্ত সংখ্যক স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে হবে।

তাই, বাজেটকে সামনে রেখে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নিম্নোক্ত দাবি পূরণের জন্য আপনার মাধ্যমে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
১· ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুসারে জাতীয় বাজেটের ২৫% শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করতে হবে। ২· উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি সংকট নিরসনকল্পে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করে ডাবল শিফ্‌ট চালু এবং নতুন সরকারি কলেজ নির্মাণ করতে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। ৩· জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজসমূহে স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নির্মাণ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। ৪· পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে এবং আবাসন ও পরিবহন সংকট নিরসনে বর্ধিত বরাদ্দ দিতে হবে। ৫· জেলা জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ এবং ঐতিহ্যবাহী কলেজসমূহকে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29159118 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29159118 2010-05-20 20:44:05
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যে ''জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫'' এর ২৭ নং ধারার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫
আইন প্রনয়ণ কাল ঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৫
Click This Link
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যয় ও ছাত্র বেতনাদি
২৭৷ (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক পরিচালন ব্যয়ের (মূলধন ব্যয় ব্যতিরেকে) নিরিখে প্রতি বত্সর ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হইতে আদায়যোগ্য বেতন ও ফিস নির্ধারিত হইবে৷

(২) সেমিস্টার অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও ফিস সেমিস্টার শুরু হইবার পূর্বেই পরিশোধ করিতে হইবে৷

(৩) বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে প্রণীত প্রকল্প ব্যয়ের অন্যুন ১৬% অর্থ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল হইতে যোগান দেওয়া হইবে এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হইবে৷

(৪) বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হইবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌনঃপুনিক ব্যয় যোগানে সরকার কর্তৃক প্রদেয় অর্থ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাইবে এবং পঞ্চম বত্সর হইতে উক্ত ব্যয়ের শতভাগ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও উত্স হইতে বহন করিতে হইবে৷
(৫) সরকার বা অন্যান্য বৈধ উত্স হইতে প্রাপ্ত অনুদান বা আয় হইতে প্রয়োজনের নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বৃত্তি বা, ক্ষেত্রমতে, উপ-বৃত্তি প্রদান করিতে পারিবে৷

(৬) উপ-ধারা (৫) এ ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীর নিয়মিত উপস্থিতি, অধ্যয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা আহরণে পারদর্শিতার উপর বৃত্তি বা উপ-বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি নির্ভর করিবে৷
Click This Link



*************************************************
পড়ুন ঃ
১। আন্দোলনে উত্তাল জবি।(দৈনিক ইনকিলাব, ৪ মে ২০১০)
Click This Link
২। JnU act needs to be amended for its smooth running ( The Daily Independent ,5 May 2010)
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29148937 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29148937 2010-05-05 10:36:24
 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোনরত শিক্ষার্থীদেরউপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা।
বর্ধিত সেমিস্টার ফি প্রত্যাহার ও বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭(৪) ধারা সংশোধনের দাবিতে গতকাল সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতারা বিক্ষোভে বাধা দিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেছেন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায়ই অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি বাড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি পরিবহন, ছাত্র সংসদ, মেডিকেল ইত্যাদি খাতে ফি বাড়ানো হয়েছে।

ডোনেশন ফি, খেলাধুলা ফি, ছাত্র সংসদ ফি, সাংস্কৃতিক ফান্ড, বিএনসিসি, রেঞ্জার বিভিন্ন খাতে ফি ২/৩ গুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ এসব খাতে টাকা নিলেও আদতে ছাত্ররা এসব কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। খেলাধুলার কোন আয়োজন না থাকার পরও এ খাতে ফি নেয়া হচ্ছে, ছাত্র সংসদ কার্যকর না থাকার পরও ফি নেয়া হচ্ছে এবং ক্রমাগত তা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মেডিকেল, পরিবহনে বারবার ফি বৃদ্ধি করেও আবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছে না। ডোনেশন ফি, কেন্দ্র ফি বিভিন্ন নাম দিয়ে আদায় করা হচ্ছে প্রচুর অর্থ। শুধু এই সেমিস্টারেই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪১৫ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় , বুয়েট সহ অপরাপর দেশের প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় নানা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যারয়ের ভর্তি ফি- সেমিস্টার ফি কয়েকগুন বেশি।বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব অর্থায়নে চলার অর্থাৎ সরকার পরিচালিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর সরকারি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সময় নামে-বেনামে বিভিন্ন ফি আরোপ এবং তা ক্রমাগত বৃদ্ধির মাধ্যমে আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাইভেটাইজেশনের দ্বারপ্রান্তে হাজির করা হয়েছে।

সাম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে পুনরায় ফি বৃদ্ধি করা হলে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে।২৮ এপ্রিল ২০১০ বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল (৩ মে ২০১০) ছাত্রফ্রন্টের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিল ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ছাত্রফ্রন্টের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। সকাল ১০টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। ঘণ্টাখানেক পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে দু'বার শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বেলা পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বাধা দেন। তাঁরা বেশ কয়েকজন ছাত্রকে লাঞ্ছিতও করেন। একপর্যায়ে ভাস্কর্য চত্বরে ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্রদের শান্ত করতে বক্তব্য দেন। এ সময় ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকে লাঞ্ছিত করা হয়।

কামরুল হাসান ছাত্রদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের দাবির সঙ্গে একমত। কিন্তু ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ছাত্রলীগ ছাত্রদের বিক্ষোভ ছেড়ে আলোচনার টেবিলে যেতে বলেছে।’

বেলা একটায় ছাত্রফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন। এ সময় উপাচার্য মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মো. শওকত জাহাঙ্গীর ও রেজিস্ট্রার মো. ওহিদুজ্জামান ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

উপাচার্য বলেন, ‘আইন পরিবর্তন ও বর্ধিত সেমিস্টার ফি প্রত্যাহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ন্যায়সংগত। বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিবর্তন ও সেমিস্টার ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

***************************************************************
সংবাদ সূত্র ঃ
১)  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ঃ বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, বাধা দেওয়ার অভিযোগ। (দৈনিক প্রথম আলো ,৩ মে ২০১০)
Click This Link

২) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবি
(দৈনিক কালেরকন্ঠ,৩ মে ২০১০)
Click This Link

৩) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধরি প্রতিবাদ।
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29148315 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29148315 2010-05-04 14:10:53
বামন কাহিনী এবং বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার না বলা উপাখ্যান । বামন কাহিনী ঃ
একদা কোন এক গাঁয়ে এক বামন (খর্বাকার) যুবক ছিল। তার শৈশবের বন্ধুরা দেহ-মনে বেড়ে উঠলো। তার মানসিক গঠনের বিকাশ হলেও দেহের আকৃতিতে সেই শৈশবেই পরে রইলো।আর এই কারণে তাকে বন্ধুদের নিকট হতে প্রায়সই নানা উপহাস বাক্য শুনতে হতো। সেই সকল উপহাস বাক্যের মাঝে তার নিকট সবচেয়ে অপমান করছিল ,'' ব্যাটা , তুই তো এখন মায়ের সাথে ঘুমাস।''
এই অসহনীয় উপহাস থেকে নিষ্কৃতি পেতে বামন যুবকটি একদিন তার বাবার কাছে আবদার ধরল,''বাবা, তুমি নতুন যে ঘর টি তুলেছ, ওটা আমাকে দিতে হবে।'' ছেলের আবদার শুনে বাবা বললেন, '' তুই নিজের ঘর চাস?! কিন্তু তুই তো এত খাট (ছোট) যে নিজ ঘরের 'খিল' দিতে পারবি না। রাতে চোর এসে সব কিছু নিয়ে যাবে।''
বাবার কথায় বামন যুবকটির দৈহিক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করল। আর সেই জন্য নানা হুজুরের পানি পড়া , কবিরাজের ঔষধ আর দূর-দূরান্তের মাজারের তাবিজ-করজ ব্যবহার করল। কিছুতেই কোন ফল হল না। শেষে এক সাধক তান্ত্রিকের সন্ধান পাওয়া গেল।সাধু বাবা বলেন, ' যাদু মন্ত্র কিছুই নয়। তোমার দেহের ভিতরে এক স্থানে একটি ' জট' পাকিয়ে আছে। কিছু নির্দিষ্ট নিয়মে যোগব্যাম যদি করতে পার, তবে সেই জট খুলে যাবে আর তোমার দেহ তরতর করে বেড়ে উঠবে। সেই যোগ ব্যাম করতে হবে খোলা আকাশের নিচে;খুব ভোরে সূর্যের আগমন আভায় যখন সমগ্র চরাচর জেগে উঠে ঠিক সেই মুহূর্তে।আর এক বছর যদি তুমি নিয়ম মেনে যোগ সাধনা করতে পার তবেই তোমার বামনত্ব থেকে মুক্তি ঘটবে।'' কিন্তু ভোরের ঘুমের আলস্য আর শীত কাতরতায় বামন যুবকটির পক্ষে সেই যোগ ব্যাম করা হয়ে উঠে না। শেষে সে সাধুর পরামর্শ বাদ দিয়ে এক সহজ বুদ্ধি বেড় করলো।
বামন যুবকটি ডেকে আনলো রাজমিস্ত্রী। নতুন ঘরের প্রমান আকারের দরজা টি বন্ধ করে দিয়ে তৈরি করলো তার দেহের মাপে একটি ৩ (তিন) ফুট উচ্চতার দরজা ।

বাংলাদেশের বার্ষিকক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর সকলের জানা কাহিনী ঃ

গত ১ মে ২০১০ দৈনিক কালেরকন্ঠ ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় আগামী অর্থ বৎসরের (২০১০-২০১১) জন্য বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং চলমান অর্থ বৎসরের (২০০৯-২০১০) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরা হযেছে।

২০১০-২০১১ অর্থবৎসরের জন্য ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে সরকার আসন্ন জাতীয় বাজেট তৈরি করা হচ্ছে।....... গত ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মূল বরাদ্দ ছিল ৩০ হাজার ৫০০ কোটি।প্রকল্প সমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগিত সন্তোষজনক না হওয়ায় বতর্মানে খর্বিত আকারে ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ২৮ হাজার ৫০০ কোটিতে দাড়িয়েছে। ( দৈনিক কালেরকন্ঠ)

পরিকল্পণা মন্ত্রানালয়ের বাস্তবায়ণ পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ( আইএমইডি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও বিভাগ জুলাই (২০০৯) থেকে মার্চ (২০১০) পর্যন্ত নয় মাসে মূল এডিপির ৪৪ ভাগ বা সংশোধিত এডিপির ৪৮ ভাগ অর্থাৎ ১৩ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয় করতে সক্ষম হযেছ। এ অবস্থায় সংশোধিত এডিপি বরাদ্দ শেষ করতে হলে আগামী তিন (৩) মাসে সরকারকে ব্যয় করতে হবে ১৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা।(দৈনিক ইত্তেফাক)

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির এই দুরাবস্থার কাহিনী সংবাদ মাধ্যমের প্রতি বছর পাঠ করে সচেতন নাগরিক মাত্র একটি বদ্ধ মূল ধরণা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক যে, 'দেশের উন্নয়নে সরকারের যত সদিচ্ছা থাকুক না কেন; প্রতি বৎসের বার্ষিক উন্নয়ন প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে মূলত ঃ মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অদক্ষতা - অলসতা আর দৃর্নীতি আকাঙ্খার কারণে। জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ সেক্টরের আমার বিগত কয়েক বৎসর কাজ কার অভিজ্ঞতায় প্রচলিত ধারণার বৃত্ত ভেঙ্গে ক্রমে প্রকৃত স্থবিরতার চক্রটি আমার নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে ।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এক বামন কাহিনীঃ
লেখাটির কেন বামন কাহিনী দিয়ে শুরু করলাম তা নিচের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনারয়ের অধীনস্ত পেট্রোবাংলার বিগত ২০০৮-২০০৯ অর্থ বৎসরের বার্র্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগিত পর্যালোচনা সভার দুইটি কার্যপত্রাংশে স্পষ্ট হযে উঠবে।

'২৮-৫-২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত পেট্রোবাংলার উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের এপ্রিল ২০০৯ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরনী ' তে বলা হয়............
''২০০৮-২০০৯ অর্থ বৎসেরর এডিপিতে পেট্রোবাংলার ২৩ টি প্রকল্পের জন্য মোট ৭৮১.০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে।উক্ত বরাদ্দের বিপরীতে এপ্রিল ২০০৯ পর্যন্ত ( ১০ মাসে) মোট ব্যয় হয়েছে ৮৭.০৫ কোটি টাকা।উক্ত ব্যয় মোট বরাদ্দের ১১.১৫%।''

লক্ষ্য করুন মাত্র ২ (দুই) মাস পরে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বৎসরের শেষে অনুরূপ সভায় কী বলা হচ্ছে !!!'১৯-৭-২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত পেট্রোবাংলার উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের জুন ২০০৯ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরনী ' তে বলা হয়..................

''২০০৮-২০০৯ অর্থ বৎসেরর আরএডিপিতে পেট্রোবাংলার ২৩ টি প্রকল্পের জন্য মোট ১৮০.৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে।উক্ত বরাদ্দের বিপরীতে জুন ২০০৯ পর্যন্ত ( ১২ মাসে) মোট ব্যয় হয়েছে ১৯৬.২৪ কোটি টাকা।উক্ত ব্যয় মোট বরাদ্দের ১০৮.৭৯%।''

অমনোয়োগি পাঠক মাত্র চমকে উঠবেন যে, মাত্র ২ মাস সময়ে অগ্রগিত (১০৮.৭৯% - ১১.১৫% ) = ৯৭.৬৪ % বৃদ্ধি পেল কিভাবে?! এও কী সম্ভব!!!!!!!!!!!!!!!! সম্ভব তখনই যখন গল্পের সেই বামনের মত নিজ অসামর্থতার সাথে খাপ খাইয়ে প্রতি বৎসরই অনেকটা চুপচাপ বার্ষিক উন্নয় কর্মসূচি কে ছোট করে আনা হয়.... অর্জন (অগ্রগতি!) কে বড় করে দেখাবার জন্য।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রনয়ণ এক বিরাট ধাপ্পা বাজি ঃ

যেখানে ২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসরের ৯ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি মাত্র ৪৪% ; সেখানে আসন্ন ২০১০-২০১১ অর্থ বৎসরের জন্য ব্যয় বরাদ্দ পর্ববর্তী গৎসরের চেয়েও ১০ হাজার কোটি বৃদ্ধি করে ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিপুল বার্ষিক উন্নয়স কর্মসূচি প্রনয়ণ করা হচ্ছে । দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ,কিভাবে মন্ত্রী- সাংসদের চাপ ও রাজনৈতিক বিবেচনায় আসন্ন অর্থ বৎসরের বিপুল উন্নয়ন বাজেট হতে যাচ্ছে। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীনরা সকল কালে জনগণ কে মিথ্যা আশ্বাসে প্রতারিত করতে যত টুকু সচেষ্ট , তার বিন্দু মাত্র অঙ্গিকার বাস্তবায়নের পরিলক্ষিত হয় না।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মূল সংকট অনুসন্ধান ঃ

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মূল সংকট অনুসন্ধানের প্রারম্ভে আমি কিভাবে একটি উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের সংস্থান হয় সে সম্পর্কে আলোকপাত করব।
যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল কথা এর অর্থের সংস্থান।ধরুন , ' ক' একটি অনুমোদিত প্রকল্প, যার মেয়াদ কাল তিন (৩) অর্থ বৎসর। ভাবার কারণ নেই যে, প্রকল্পের শুরুতেই 'ক' প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সবটুকু চলে যায়। প্রকল্প পরিচালক অর্থ বৎসরের শুরুর আগেই জানান আসন্ন অর্থ বৎসরে তার প্রকল্পের জন্য কত বরাদ্দ প্রয়োজন। সে আলোক কে প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত হয় নির্দিষ্ট অর্থ বৎসরের বাজেট বরাদ্দ।
বার্ষিক বরাদ্দের সব টুকু কিন্তু প্রকল্প পরিচালকের হাতে অর্থ বৎসরের শুরুতে চলে আসে না। বাজেট অনুমোদন প্রাপ্তির পর প্রকল্প পরিচালক 'জুলাই- সেপ্টেম্বর', 'অক্টোবর-ডিসেম্বর', ' জানুয়ারি-মার্চ' ও ' এপ্রিল-জুন' ৪ (চার) প্রান্তিকের বাস্তবায়ন কর্মসূচির ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ প্রস্তাব কে ভাগ করে এবং স্ব স্ব মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রনালয়ে একটি প্রান্তিক (৩ মাস) এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় প্রস্তাব প্রেরণ করে।এবং ৩ মাস -৩ মাস করে এই অর্থ দাপে ধাপে অবমুক্ত হয়।এই বিধান টির বাস্তব চিত্রটা এবার দেখি।

২০০৯-২০১০ অর্থ বৎসর সরকারের অগ্রধিকার প্রাপ্ত জ্বালানী ও খিনজ সম্পদ বিভাগের ১ টি প্রকল্পের অর্থ অবমুক্তি প্রক্রিয়ায় দেখা যায়........................

১ ম প্রান্তিক ('জুলাই- সেপ্টেম্বর') এ বাস্তবায়ন যোগ্য কাজের অর্থ ছাড়/ অবমুক্ত হয়েছে ২৮ আগস্ট ২০০৯।

২য় প্রান্তিক 'অক্টোবর-ডিসেম্বর' এ বাস্তবায়ন যোগ্য কাজের অর্থ ছাড়/ অবমুক্ত হয়েছে ৬ ডিসেম্বর ২০০৯ ও ২১ ডিসেম্বর ২০০৯।

৩ য় প্রান্তিক (' জানুয়ারি-মার্চ') ও ৪ র্থ প্রান্তিক (' এপ্রিল-জুন' ) মে মাস শুরু হয়ে গেলেও এখনও অবমুক্ত হয় নি।

বিগত অর্থ বৎসর গুলোতে দেখা গিযেছে যে, প্রকল্পের অনুকূলে ৩ য় প্রান্তিক (' জানুয়ারি-মার্চ') ও ৪ র্থ প্রান্তিক (' এপ্রিল-জুন' ) এর অর্থ ছাড় হতে জুন মাসের মাঝামাঝি হযে যায়। আর শেষ সময়ে অর্থ অবমুক্ত হওয়াতে তড়িঘড়ি অর্থ ব্যয়ে একদিকে থাকে অস্বচ্ছতা-দুনীর্তির সুয়োগ আর অপর দিকে গুনগত মান নিশ্চিত করাও হযে উঠে অসম্ভব। আবার সময়ের অভাবে বার্ষিব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবাযনে ব্যর্থ হয়ে অনেকে অব্যয়িত অর্থ বিধি মোতাকেক ৩০ জুনের পর ফেরত পাঠান।

এখানেই মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্ব প্রাপ্তরা বড় অসহায়।র্তীর্থে কাকের মত বষে থকতে হয় প্রকল্পের প্রতি প্রান্তিক অর্থ ছাড়ের প্রত্যাশায়।নষ্ট হয় প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বাভাবিক গতি।

শেষ কথা ঃ

লোক দেখানো বিপুল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিবর্তে ক্ষুদ্র - সাধ্য মাত্রার মধ্য গৃহিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিই পারে প্রকৃত জাতীয় অগ্রগিত নিশ্চিৎ করতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29147440 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29147440 2010-05-03 13:14:04
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধরি প্রতিবাদ।
বর্ধিত সেমিস্টার ফি প্রত্যাহারের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ২৮ এপ্রিল ২০১০ সকাল ১১.৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে অনুমতি না নেওয়ার অজুহাতে কর্মসূচি শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান প্রতিবাদ কারীদের বাধা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনের জন্য ছাত্রফন্টের নেতা-কর্মীরা একত্র হন। তাঁরা বেশ কয়েকটি প্লাকার্ড ভাস্কর্যে ঝুলিয়ে দেন। এ সময় প্রক্টর কাজী আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচির জন্য পূর্ব অনুমতি আছে কি না জানতে চান। অনুমতি না নেওয়ায় তিনি কর্মীদের ভর্ত্সনা করেন।

প্রক্টরের বাধা উপেক্ষা করে দুপুর পৌনে ১২টায় ছাত্রফন্টের নেতা-কর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ইমরান হাবিব রুমন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক শরিফুল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, নয়ন কুমার সাহা, নাসিরুদ্দিন মোর্শেদ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ডোনেশন ফি, খেলাধুলা ফি, ছাত্র সংসদ ফি, সাংস্কৃতিক ফান্ড, বিএনসিসি, রেঞ্জার বিভিন্ন খাতে ফি ২/৩ গুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ এসব খাতে টাকা নিলেও আদতে ছাত্ররা এসব কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। খেলাধুলার কোন আয়োজন না থাকার পরও এ খাতে ফি নেয়া হচ্ছে, ছাত্র সংসদ কার্যকর না থাকার পরও ফি নেয়া হচ্ছে এবং ক্রমাগত তা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মেডিকেল, পরিবহনে বারবার ফি বৃদ্ধি করেও আবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছে না। ডোনেশন ফি, কেন্দ্র ফি বিভিন্ন নাম দিয়ে আদায় করা হচ্ছে প্রচুর অর্থ। শুধু এই সেমিস্টারেই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪১৫ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব অর্থায়নে চলার অর্থাৎ সরকার পরিচালিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর সরকারি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সময় নামে-বেনামে বিভিন্ন ফি আরোপ এবং তা ক্রমাগত বৃদ্ধির মাধ্যমে আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাইভেটাইজেশনের দ্বারপ্রান্তে হাজির করা হয়েছে।’নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সকল বর্ধিত ফি প্রত্যাহরের দাবি জানান।

******************************************************************
তথ্য সূত্র :
১। দৈনিক প্রথম আলো : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন।
Click This Link
২। The Daily Star : Fee hike at JNU protested
Click This Link





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29144736 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29144736 2010-04-29 12:34:06
একটি অপ্রকাশিত শুভ সংবাদ ঃ বাপেক্স কর্তৃক তিতাস গ্যাস ফিল্ডের ৪ নং কূপের উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধার। একটি অপ্রকাশিত শুভ সংবাদ ঃ
ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া শহরের উপকন্ঠ অবস্থিত দেশের স্বীকৃত বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ড তিতাস।এই ক্ষেত্র টির উৎপাদন কার্যক্রম রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত। তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র ১৯৬২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ১৬টি কূপ খনন করা হয়েছে। কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত ১৬ টি কূপের মাঝে ১৩ টি উৎপাদনক্ষম ছিল।উৎপাদন বন্ধ তিন টি কূপের মাঝে ,তিতাস ৩ নং কূপ পাশ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস উদ্বগিরণের ফলে সিল করে পরিত্যাক্ত ঘোষিত হয়। অপরদিকে বিগত কিছু কাল যাৎ তিতাস ৪ নং কূপ (খনন কাল ১৯৬৯ সাল) ও তিতাস ১২ নং কূপ (খনন কাল ১৯৯৯ সাল) উৎপাদন ক্ষমতা হরায়।

সাম্প্রতি দেশব্যাপী তীব্র গ্যাস সংকট কালে তিতাস ৪ নং কূপ কে পুনরায় উৎপাদনক্ষম করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে পুনঃখনন (Work Over Drilling) এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।গত ৩ মার্চ ২০১০ তারিখে বাপেক্স সম্পূর্ণ নিজস্ব জনবল ও যন্ত্রাদির দ্বারা তিতাস কূপ নং ৪ কে পুনঃউৎপাদনক্ষম করার লক্ষ্য পুনৎখনন কাজ শুরু করে।গত ১৬ এপ্রিল ২০১০ সফল ভাবে কূপ টিকে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনক্ষম করতে সক্ষম হয়।বর্তমানে কূপ টি থেকে প্রতি দিন ৩২ এম এম সি এফ গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে।

আরও একটি অপ্রকাশিত শুভ সংবাদ ঃ

গ্যাস সংকটের ক্রান্তকালে অবহেলিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সফল প্রয়াস এটাই প্রথম নয়। ২০১০ সালের সূচনায় তারা আরো একটি সফলতার নজির রাখছে রাষ্ট্রায়াত্ত গ্যাস কোম্পানী 'সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেটেড' পরিচালিত
বহুল আলোচিত সমালোচিত হরিপুর তেলক্ষেত্রে।হরিপুরের সিলেট-৭ কূপটি ৭ জুলাই ২০০৮ থেকে উৎপাদন ক্ষমতাহীন হয়ে পরেছিল।গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে বাপেক্ষ নিজ যোগ্যতায় তা পুনৎখনন (Work Over Drilling) পূর্বক উৎপাদন ক্ষম করেছে।তা থেকে প্রতি দিন ৬ থেকে ৮ এম এম সি এফ জাতীয় গ্রীডে প্রদান করা সম্ভব হবে।
http://sgfl.org.bd/fields.htm

সংবাদগুলো কেন জনসাধারনের নিকট আসে না?

জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সাফলতা সংবাদ কেন আমাদের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে আসে না, তা একটু ভেবে দেখা প্রয়োজন। এর পশ্চাৎ রয়েছে গভীর চক্রান্ত।

মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলোর বিপুল বিজ্ঞাপন আর পরিতোষক পুষ্টি বাংলাদেশের মিডিয়া তাদের প্রচারণার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মনে বদ্ধমূল ধারণা তৈরী করেছে যে , 'রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান মানেই অদক্ষ- পশ্চাদপদ- মাথা ভারি আমলাতান্ত্রিক কাঠামো।রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান মানেই আকন্ট নিমজ্জিত দুর্নীতি -লোকসান আর অব্যবস্থাপনা।'
সুতরাং , বিদেশী ত্রাতার কৃপা ব্যতিত আমাদরে বাঁচবার আর কোন পথ নেই। তাই , বাঁধা-প্রতিবাদ মুক্ত কর জাতীয় সম্পদ - স্বাথ বিদেশি বেনিয়াদের হাতে সমর্পণের সকল পথ।আর সে প্রচেষ্টায় জোট-মহাজোট একাকার।একাকার প্রথম আলো- কালের বন্ঠ- যুগান্ত- ইনকিলাম -নয়া দিগন্ত- আমর দেশ।

দেশের ক্রান্তি কালে আসুন.........................
বিদেশী কুকুর দের মোহ ত্যাগ করে, জাতীয় সামর্থ্য কে আর সংহত করতে সোচ্চার হই।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29137857 http://www.somewhereinblog.net/blog/Different_thought/29137857 2010-04-19 15:26:29