রিচ স্ক্রেনটা নামটা শুনেছেন। না শোনার কথা। এই ভদ্রলোক বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করে আসছেন একটা নিউজ বিজনেস টপিকস-এ যেটা একটা ওয়েব ডাইরেক্টরি তৈরী করার কাজ করে আসছে। এখন টাইম ওয়ার্নার কোম্পানি কিনে নিয়েছে এই ডাইরেক্টরি।
এছাড়া তিনি তৈরী করেছেন অসংখ্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম। গত পহেলা সেপ্টেম্বর ছিলো এই লোকের জন্মদিন। কিন্তু কথা হলো তাতে এমন কি হয়েছে? যা হয়েছে তা হলো একইসাথে বিশ্বে প্রথম কোন কম্পিউটার ভাইরাস লেখকের ২৫ বছর পূর্তি হলো। ২৫ বছর আগে ‘এলক কোন’ নামে একটা পারসোনাল কম্পিউটার ভাইরাসের সংক্রমন ঘটে যা তৈরী হয়েছিলো এই মেধাবির একটা প্রাকটিক্যাল জোকের ফলে। এটা ছিলো একটা সেল্ফ রেপ্লিকেটিং ভাইরাস মানে নিজে নিজে কপি হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়ায় বিভিন্ন কম্পিউটারে। তবে সেসময় ইন্টারনেট এতো বেশী সহজলভ্য না থাকার কারনে ভাইরাস টা খুব বেশী কম্পিউটারকে আঘাত করতে পারেনি। তবে যা করতে পেরেছিলো সেটা সাড়া ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ২৫ বছর আগে রিচ ছিলো একজন কিশোর। তাদের বন্ধুদের একটা পাইরেসি সার্কেল ছিলো যারা তাদের নিজেদের মধ্যে গেমস বা সফটওয়্যার আদান-প্রদান করতো। কিন্তু তার বন্ধুরা তার কাছ থেকে ফপি নিতে চাইতো না কারন সে প্রায়ই ডিস্কে করে নানা রকম অনস্ক্রিন ম্যাসেজ পাঠাতো। তাই সে তার বন্ধুদের সাথে মজা করার জন্য একটা মজার কাজ করে। ১৯৮২ সালে তিনি তার এপল-২ কস্পিউটােিরর জন্য একটা প্রোগাম লিখে যার সাহায্যে সে তার বন্ধুদের কম্পিউটারে হ্যাক করে অটোমেটিকলি সেই সব ম্যাসেজ পাঠাতে পারতো। এর ফলে যা ঘটে তা হলো সে একটা বুট সেক্টর ভাইরাস তৈরী করে। এই ভাইরাসটি কাজ করতো কেবল এপল কস্পিউটারে। ভাইরাসটি কম্পিউটারে প্রবেশ করানো মাত্র এর মেমোরিতে নিজের একটা কপি তৈরী করে রাখতো এবং যখনই ওই কস্পিউটারে কোন ফপি ডিস্ক প্রবেশ করানো হতো এবং সব ফাইল দেখার জন্য যখন ক্যাটালগ কমান্ড দেওয়া হতো তখনই এটা আপনা আপনি কপি হয়ে যেত সেই ডিস্কে। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। তবে এটা কস্পিইটারের তেমন কোন তি করতো না। কেবল ৫০ বারের বার বুট করলে একটা ম্যাসেজ আসতো “ওঃ রিষষ মবঃ ড়হ ধষষ ুড়ঁৎ ফরংশং; রঃ রিষষ রহভরষঃৎধঃব ুড়ঁৎ পযরঢ়ং.”।১৯৮২ সালে রিচ তার বন্ধুদের কম্পিউটার এবং একটা কম্পিউটার কাবে ছড়িয়ে দেয় এই ভাইরাস। তারপর যা ঘটে তা হলো তার ভাইরাস কি কি ঘটিয়েছে তার খবর প্রথমে কন্ধুদের কাছে এবং পরে অন্যান্য দের কাছ থেকে পেতে থাকেন তিনি। এমনকি এই ঘটনার এক যুগ পরেও এক নাবিক তাকে তার কম্পিউটার এ ভাইরাসে আক্রান্ত হবার গল্প শোনায়। তবে তিনি বুঝে উঠতে পারেননি কেন ওই নাবিক এপল-২ কম্পিউটার ব্যাবহার করতো। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে রিচ জানান যে ব্যাপারটা পুরোটাই করা হয়েছিলো মজা করার জন্য এবং তিনি কখনো বুঝতে পারেননি এরকম কিছু ঘটবে। তবে সেই ঘটনা ঘটার পর এখন আইটি দুনিয়াতে অনেক ভাইরাস আছে যাদের শক্তি বলা যায় অপরিসিম। এখন ভাইরাস আর ডিস্ক নয় বরং আক্রমন করে ই-মেইলের মাধ্যমে এবং মোলিসা, লাভ বাগের মতন ভাইরাসগুলোর আক্রমনে বরোটা বেজেছে মিলিয়নের মত কম্পিউটারের। তবে যত দুর্বল হোকনা কেন এলক কোন বিশ্বের প্রথম ভাইরাস হিসেবে এবং রিচ স্ক্রেনটা প্রথম ভাইরাসটির লেখক হিসেবে বিশ্বে ইতিহাসে আজীবন টিকে থাকবেন।
তথ্য সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



