মেডিকেল জীবনের আরেকটি ঘটনা বলছি। এ ঘটনাটি মনে পড়লে এখনো নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আমাদের এক সিনিয়র ভাই ছিলেন তার নাম ..........। তিনি সবাইকে 'বন্ধু' বলে ডাকতেন তাই তার নিক ছিল'বন্ধু........' । তার বিশেষত্ব ছিল শুরু থেকেই তার মাথা জোড়া টাক। এ নিযে তার চিন্তার শেষ ছিল না। কলেজের ডার্মাটোলজি (ত্বক) বিভাগের প্রফেসরের কাছ থেকে প্রায়ই তিনি চিকিৎসা নিতেন- এছাড়া পেপারে বিজ্ঞাপন পড়ে যত্রতত্র টাকের ওষুধ কিনতে যেতেন। আমরা কয়েকজন ছিলাম মেডিকেল কলেজের সবচাইতে দুষ্টু ছেলে। আমাদের সাথে সখ্যতা ছিল মইজ্জুল নামে আরেক সিনিয়র ভাইএর যিনি ' বন্ধু...... ' এর সহপাঠি। একবার চট্টগ্রামের পত্রিকা পূর্বকোনে দেখলাম কোরবানি ঈদের আগে চান্দগাও এলাকার একজন ব্যবসায়ী ইন্ডিয়া থেকে ৭টি উট এনেছে কোরবানি দেবার জন্য। পেপার পড়ে আমাদের দুষ্টামি চাড়া দিয়ে উঠল। মইজ্জুলের সাহায্যে আমরা বন্ধূ....... কে বিশ্বাস করাতে পারলাম যে টাকে উটের মূত্র কয়েকদিন লাগালে নতুন চুল গজায়। উনি তা বিশ্বাস করলেন ঠিকই কিন্তু উটের মূত্র সংগ্রহ করার সাহস তার ছিল না। আমরা কয়েকজন মিলে খুব সিরিয়াস ভাবে মিটিং করে ঈদের ছুটির একদিন আগেচান্দগাওয়ে ঐ ব্যাবসায়ীর বাসায় গেলাম। সংগে মইজ্জুল, বন্ধু....... এবং চট্টগ্রামের ভাষায় পারদর্শী লোকাল সহপাঠী তিনজন। আমরা কয়েকজন গেটের থেকে কিছুটা দূরে দাড়িয়ে বন্ধু...... কে একজন লোকাল ছেলে দিয়ে পাঠলাম কাংক্ষিত তরল সংগ্রহের জন্য- প্রথমে দারোয়ান এরপর বাসার একজন তরুন সদস্যের সাথে তারা যেন কি বল্লেন- এরপর বের হতে দেখলাম বয়স্ক একজনকে- যিনি সম্ভবত বাড়ির (এবং উটগুলোর) মালিক- তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বকা ও গালি দেয়া শুরু করলেন এবং পুলিশ ডাকার হুমকি দিলেন- এবং চিৎকার করে বলতে লাগলেন- 'ব্যাকটিরে বাধি ফেল' -মানে সবাইকে বেধে ফেল। আমরা দৌড়- রিকশা- এবং ক্যাম্পাস- য পলায়তি স জীবতি।
পরে জানলাম- লোকাল ছেলেটির কাছ থেকে ,লোকটি আমাদেরকে মেডিকেলের ছাত্র বলে বিশ্বাস করেনি- এবং ইয়ার্কি করছি মনে করে এতটা রেগে গিয়েছিল।যা হোক কাংক্ষিত তরলটি না পেয়ে বন্ধু......... এর মন খারাপ।এরপর প্রায় ১৫ বছর কেটে গেছে। কর্মজীবনের সুবাদে আমি এখন সেই বন্ধু............ এর খুব কাছাকাছি কাজ করি। প্রায় প্রতিদিনই দেখা হয়। তার টাকটি আরো বড়- আরো চকচকে হয়েছে। জানিনা এখনো তিনি উটের সন্ধান করে চলেছেন কিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



