কিন্তু মানুষ থেকে পয়গম্বর হয়ে ওঠার পথে তারা নিজেরা এমন কিছু দেখার ও শোনার দাবী করেন যা তাদের চারপাশের মানুষ দেখতে ও শুনতে পায় না। যেমন আমরা মুসা নবীর কাছ থেকে শুনতে পাই যে তার মাথায় কেউ কথা বলে অবিরাম। কিন্তু আশে-পাশের কেউ সেসব কথা শুনতে পায় না। নবীদের কাছ থেকে আমরা জানি ভরা আসরে জিব্রাইল এসে দাঁড়ায়, তাদেরকে ওহি দেয়, কিন্তু আসরের অন্য কেউ জিব্রাইলকে দেখতে পায় না। অশরীরি অস্তিত্বের সাথে পয়গম্বরদের যোগাযোগের, কথোপকথনের ও লেন-দেনের এমন কিছু অলৌকিক, অস্বাভাবিক ও অপ্রমাণযোগ্য গল্প আমরা শুনেছি। তারা এসব মিথ্যা করে বা বানিয়ে বলেছেন এমন মনে হয় না।
নবী পয়গম্বরদের বর্ণনায় বুঝা যায়, তারা যা বলেছেন তা তারা নিজেরা বিশ্বাস করেন ও অন্যদের বিশ্বাস করা জরম্নরি বলেও মনে করেন। এসব বিশ্বাসের ভিত্তিতে নতুন ধর্ম চালু হয়ে যায় এবং যারা এসবে বিশ্বাস করে না তারা অবিশ্বাসী বা বিধর্মী ঘোষিত হয়। পয়গম্বরদের এইসব মানব-অসম্ভব কার্যকলাপকে মনোবিজ্ঞান বা সাইকোলজির আলোকে অস্বাভাবিক বা এ্যাবনর্মাল মনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া মনে হয় (জার্নাল অব রিলিজিয়ন এ্যান্ড হেলথ, ভ: 13, নং:3 পৃষ্ঠা 194-200)।
পয়গম্বরদের মনের তিন ধরনের বিশেষ অবস্থা লক্ষণীয়। যা তাদেরকে মানুষ থেকে আলাদা করে তোলে; ক) অনুপ্রেরণা: মানসিক উত্তেজনার এমন একটা স্তর যখন বাস্তব সমস্যা-অসুবিধাগুলো নিয়ন্ত্রণ মন অস্বীকার করে, খ) এক্সট্যাসি বা উদভ্রান্তের মত উদ্বেলিত অবস্থা: যখন বাস্তব হিতাহিত জ্ঞান কিছুক্ষণের জন্য লোপ পায়, গ) দৃষ্টি ও শ্রবণ বিভ্রম : স্বপ্ন বা বিভ্রমের শিকার হয়ে নিজের কল্পনার মত দৃশ্য দেখতে পাওয়া ও কথা শুনতে পাওয়া।
ছোটবেলা থেকেই যেকোনো সাধারণ মানুষকে শেখানো হয় পয়গম্বরদের মত আদর্শ মানুষ হতে। কিন্তু কী সেই উপায়? মন ও চিনত্দার কোন অবস্থায় মানুষ হয়ে ওঠে পয়গম্বর। সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাটা কঠিন কিন্তু এর উত্তর জানাটা মানুষ ও সভ্যতার জন্য জরুরি।
এ পর্যায়ে প্রশ্ন হচ্ছে, মনের বিশেষ অবস্থার কারণেই কি একজন মানুষ অতি-মানুষ, মহা-মানুষ, বা পয়গম্বর হয়ে ওঠে, অথবা হয়ে উঠেছে বলে নিজের মনে বিশ্বাস করে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

