নারীকে ক্ষমতাহীন করেছে একক ঈশ্বরের প্রবক্তারা-১ (উত্সর্গঃ জামাল ভাস্কর)
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:৪৮
সৃষ্টির অসীম রহস্যময়তা দেখে ভক্তিতে গদগদ হয়ে মাথা নোয়াতো অসহায় আদিম মানুষ। সৃষ্টির যত কর্মকান্ড তার মধ্যে সবচে জরুরি, তখনও মানুষের ব্যাখ্যা-অজানা আর গুরুত্বপূর্ণ ছিল মানব-জন্ম। (নারী আর পুরুষের মিলনের মধ্য দিয়েই ঈশ্বরকে বন্দনা করতো একসময় মানুষ। এই মিলন তখন ছিল উপাসনা, পবিত্র কর্ম। যখন নারীদেহ নাপাক ঘোষিত হলো তখন এই মিলন হলো নিষিদ্ধ আর পাপকর্ম।) আর এই অসম্ভব জটিল কর্মকান্ডটা ঘটতো নারীর উদরে; বিমুগ্ধ পুরুষের কাছে নারী ছিল তাই জীবনের আরেক নাম, স্রষ্টার রূপ, ক্ষমতা ও শক্তির আঁধার। সৃষ্টির উত্পাদনশীলতাকে তাই আদিম মানুষ কল্পনা করেছে নারী হিসেবে। পূজা করেছে দেবী হিসেবে। ফসল ফলায় যে মাটি, থাকার আশ্রয় দেয় যে ভূমি, তাকে পৃথিবী জুড়ে প্রাকৃতিক ধর্মবাদী সব মানুষ তখন সম্মান জানাতো 'মাদার আর্থ' হিসেবে। পুরুষের উত্পাদনের হাতিয়ার, কলাকৌশল আবিষ্কার আর ধর্মচিন্তার নানা প্রচলনে এখন পৃথিবী শুধুই পুরুষদের 'প্ল্যানেট আর্থ'।
মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কোনও সমাজবিজ্ঞানীর কল্পনা নয়। খোদ বাংলাদেশের অনেক আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে এখনও চালু আছে নারী-প্রধান সমাজ ব্যবস্থা, মাতৃ-প্রধান পরিবার প্রথা। শুধু যেসব আদিবাসীর আঙ্গিনায় হানা দিয়েছে গির্জার পুরোহিতরা সেখানেই শুধু নারীর প্রভাব ক্ষয়ে গেছে বা যাচ্ছে। নারীর দেবীত্ব কেড়ে নিয়েছে ঈশ্বরের ক্রুশ।
খ্রিস্টান ধর্ম ক্রুশকে নিজেদের প্রতীক বানানোর আগে যে ক্রস চালু ছিল পাশ্চাত্যে তা ছিল সুইজারল্যান্ডের পতাকার ক্রসের মত। দুটি সমান রেখার ক্রস। নারী ও পুরুষের সমান গুরুত্বে ব্যালান্সড একটি প্রতীক। রোমানরা খ্রিস্টান ধর্মকে হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের বানানোর পর তারা তাবত্ চেষ্টা করেছে সমাজে নারীর ক্ষমতা ও ভূমিকাকে সংকুচিত করে ফেলতে।
ক্যাথলিকদের বই 'দি উইচেস হ্যামার' হচ্ছে মানব-সভ্যতার ইতিহাসে নারীকে ক্ষমতাশূন্য করে দেয়ার খুন-রাঙা দলিল। এর রচয়িতারাই মুক্ত চিন্তার নারী থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার প্রথম পরিকল্পনা নেয়। সব বিদুষী নারী, পূজারী নারী-পুরোহিত, জিপসি-নারী, মিস্টিক নারী-পীর-দরবেশদেরকে আখ্যা দেয়া হয় ‘ডাইনি‘ হিসেবে। পাওয়ামাত্র তাদেরকে খুন করার উন্মাদনায় মাতে ক্যাথলিকরা। চিকিত্সা জ্ঞানসম্পন্ন মিডওয়াইফ/ধাত্রীরা যারা সন্তানজন্মকে ব্যথামুক্ত করে প্রসূতিকে আরাম দিতে চাইতো তাদেরকে হত্যা করতো তারা। কারণ জেনেসিস-এর ঈশ্বরব্যাখ্যায় প্রসববেদনা নারীর পাপের শাস্তি- ইভের কর্মফল। ইউরোপজুড়ে তিনশ বছর ধরে এই ধর্মীয় উন্মাদনায় কম পক্ষে পাঁচ মিলিয়ন মুক্ত চিন্তার নারীকে হত্যা করা হয়েছে।
জামাল ভাস্কর, আপনি এরপরও জানতে চান কি করে নারী তার সামাজিক প্রভাব ও ক্ষমতা হারালো?
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:৫০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
এঙ্গেলস থিকা গর্ডন চাইল্ড এই সিলসিলাতে বিষয়টা অনেক ফকফকা হয়। তয় ম্যাট্রিমনি কিন্তু শুধু হুজুররা না মৌলবাদী ফেমিনিস্টরাও মানে না। এই বিষয়টাও আপনের পোস্টের বক্তব্য ঠিক রাইখা বুঝা যায়।
রাগ ইমন বলেছেন:
এইটা ,মানে এই সিরিজটা অনুগ্রহ পূর্বক চালু এবং শেষ কইরেন । কই কই হারায় যান হঠাৎ ! আমরা পড়ি বিপদে! আলতু ফালতু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম!
উৎস বলেছেন:
পুরোটা জানতে চাই। তবে এটা ঠিক পুরোনো বা আদিবাসী সমাজ ব্যবস্থাগুলোর কোন কোনটায় নারী -পুরুষের ব্যবধান অনেক কম। অবশ্য ঘেটে দেখিনি কেন কম।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
ছবিটা কি ইরানের মহিলা সোলজারগো?
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন:
নাদান, ধন্যবাদ। পাশা ও দ্বিতীয়নাম, ছবি সম্পর্কে মন্তব্য নাই।
সাদিক ভাই, চেষ্টা। একথাগুলোতো আপনিও জানেন। লেখেন না কেন। ভালো লেখা কিন্তু সাইটে কম হচ্ছে। যদিও জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
ইমনআপা, প্রমাণ-সাক্ষ্যসহ লেখার আগে পড়া বইগুলো আরেকবার উল্টায়া দেখতে হয়। যদি আপনারা আবার চেপে ধরেন? তাই অনেককিছু লিখতে পারলেও লিখি না। বইগুলো হাতের কাছে নাই।
উত্স, অনেকদিন আপনার লেখা পড়ি না।
যূথচারী বলেছেন:
ভুল তথ্য- প্রায় পুরোটাই। কয়েকটা হাইপোথিসিস আছে আপনার কথার সপক্ষে, কোনো প্রামাণ্য তথ্য নাই।
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন:
ধন্যবাদ যূথচারী, প্রমাণগুলোই তো এখানে দেব। না দেয়ার আগে পাবেন কই। হাইপোটা প্রমাণ করা যায় কিনা সে চেষ্টা করা যাক।প্রথম কিস্তি গেল।
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন:
ও হ্যা, যূথচারী, আপনার মন্তব্যের প্রথম অংশটা খেয়াল করিনি। লিখেছেন, ভুল তথ্য -পুরোটাই। ঢালাও মন্তব্য আপনার কাছ থেকে আশা করিনি। কোন তথ্যটা ভুল সরাসরি বলুন। এবং আপনার বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করুন।
আশা করি আপনার মন্তব্যের পক্ষে তথ্য-যুক্তি দেবেন।
কাজটা ফেয়ার হয়নাই
পুরুষরা গায়ে-গতরে শক্তিশালীই ছিল ... তবে যেদিন বুঝল সন্তান উৎপাদনে শুধু নারী না পুরুষেরও ভূমিকা আছে, সেডিন থেকেই মেল শভেনিস্ট সোসাইটির জন্ম।
বাংলাদেশের পাহাড়ী গোত্রদের মধ্যে খ্রীস্টান মিশনারীর প্রভাব ছাড়ারা মাতৃপ্রধান -- এটা ভুল।
নারীর ইতিহাসে (যতটুকু জানা যায়) সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে দিয়ে গেছে এরিস্টোটল, অপবিজ্ঞান ব্যবহার করে। সে মায়ের পেটে বাচ্চা কিভাবে পুরুষ থেকে নারীতে পরিণত হয় তা নিয়া একটা মর্মান্তিক হাইপোথেসিস দিয়া গেছিল। এই হাইপোথেসিসের কারণে কিছুদিন আগ পর্যন্তও সবাই জানত যে 'বাচ্চা ছেলে না মেয়ে হবে তার জন্য শুধু মা--ই দায়ী'। ব্যাটা যা জানতনা তা নিয়া বিজ্ঞান ফলাইতে গেছিল।

দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন:
যাক, আলোচনাটা জমে উঠছে।সর্বশেষ জ্বিনের বাদশাও যোগ দিলেন। ধন্যবাদ।
জ্বি.বা. না শুধু খ্রিস্টান ধর্মের একটা উদাহরণ দিলাম। অন্যান্য ধর্মও আসবে।
মাতৃপ্রধান সমাজে গির্জার প্রভাবের বিষয়ে আমার মন্তব্যটা আপনি একটু কড়াকড়িভাবে দেখে ভুল বুঝেছেন। যা আমি বলতে চেয়েছি তা হলো, যেসব মাতৃপ্রধান নৃ-গোষ্ঠীতে গির্জা অনুপ্রবেশ করেছে সেগুলোতে নারীর সামাজিক ক্ষমতা বা প্রভাব কমে গেছে। কারণ নতুন ধর্মের সাথে এসেছে সেই ধর্মের নর্মস ও ভ্যালুজ।
অরূপ বলেছেন:
ভালো লাগলো এটা যে দীক্ষুদাদা লাইন পে আ গেয়া। দীক্ষক, সুমন্দা আর অপ বাকের লেখার সেই সোনালী দিন কই গেল?
যুঞ্চিক্ত বলেছেন:
আমার মনে হয় অতি সিম্পলিফায়েড অ্যানালাইসিস হৈসে। আসলে নারীরা খৎমতা হারাইছে হোর্টিকালচার থেইকা কৃষিভিত্তিক ব্যবস্থায় উততোরণের সময়। যখন ব্যক্তিমালিকানার উদ্ভব হ্য়। সম্পদের কনজাম্পশোন যত বাড়টে থাকে পুরুষদের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। মাতৃতান্ত্রিক ধারা ভাইংগা তৈরি হয় পিতৃতান্ত্রিক প্রথা। নারী পরিণত হ্য় পুরুষের সম্পত্তিতে। মনোথিসটিক ধর্মগুলা ঐ ধারাই চালাইে সুবিধা বুইঝা।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
সবগুলান ঠিক আছে। তয় এগুলি উপলক্ষ্য মাত্র। পুরুষের পুরুষোত্তম হইয়া উঠা অনিবার্য ছিল। আখেরে পুরুষ ধরনীর বিধাতা হইয়া উঠবোই।
লাল মিয়া বলেছেন:
যৌনাকাঙ্খাই অসহনীয় মাথাব্যাথার কারণ
দ্বিধা বলেছেন:
অনেক জানলাম । ধন্যবাদ ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















এটা কিসের ছবি দিলেন? ভূত ভূত লাগছে।