আমার প্রিয় পোস্ট

নারীমূর্তি ভাঙায় ব্যস্ত পুরুষ ঈশ্বর (উত্সর্গঃ উত্স)

০২ রা মে, ২০০৭ ভোর ৬:৪৭

শেয়ারঃ
0 4 0

(নারীকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে একক ঈশ্বরের প্রবক্তারা-২)

এই একটি বিষয়ে ধর্মে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী পুরুষেরা একমত। মানুষের কখনও নারী-ঈশ্বর ছিল না। তাদের জোর দাবী ঈশ্বর সর্বদাই পুরুষ ছিলেন। অর্থাত্ সমাজে নারীর মর্যাদা এত উঁচুতে কখনও ছিল না যে মানুষ সৃষ্টিকর্তার কল্পনা করতে গিয়ে তাকে নারী ভাবতে পারে। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিকরা দুনিয়ার গুহাচিত্র আর মূর্তির ধ্বংসাবশেষ ঘেঁটে শেষ কথা বলে দিয়েছেন যে এমন কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তারা পাননি। পাওয়া নাই যেতে পারে। শুধু মাটির নীচে পাওয়া জিনিসেই সত্য থাকে না, সত্য অন্যত্রও আছে, অন্যভাবেও সত্যকে পাওয়া যায়। আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিজে থেকে কথা বলে না, মানুষই এর ব্যাখ্যা দেয়। একেক ব্যাখ্যা একেক রকম হয়। তবু যুত্সই নারী-ঈশ্বর মূর্তি না পেয়ে এটাই চালু তত্ত্ব যে নারী কখনও ঈশ্বর হওয়ার যোগ্য ছিল না। এমনকি উর্বরতার দেবী নারী ছিলেন তার প্রমাণও তারা পান না।

তাই যখন মার্লিন স্টোন ১৯৭৬ সালে লিখলেন `হোয়েন গড ওয়াজ ওম্যান` তখন বিরোধীমতের লোকেরা হা রে রে রে করে তেড়ে আসলেন। তবে মার্লিন স্টোনের ব্যাখ্যার সূত্রে ৭০ ও ৮০-র দশকে চালু হলো রিলিজিয়াস ফেমিনিজম। এই মতের এক প্রবক্তা এলিজাবেথ ডেভিস লিখলেন `দ্য ফার্স্ট সেক্স' বইটি। যাতে তিনি দেখালেন মিথিওলজি, এ্যানথ্রোপলজি এবং ডিসিপ্লিন হিসেবে হাঁটি হাঁটি পা পা করলেও আর্কিওলজির সব তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করে যে সমাজ আগে মাতৃতান্ত্রিক ছিল। এবং মহাদেবীকে (গ্রেট গডেস) প্রতিস্থাপিত করে ইহুদি, খ্রিস্টান মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা প্রতিহিংসাপরায়ণ পুরুষ ‌ঈশ্বরের সৃষ্টি করেছে।

গত কিস্তিতে জ্বিনের বাদশা প্রশ্ন করেছেন আমার উষ্মাটা শুধু খ্রিস্টান ধর্মের উপর কিনা? না, অবশ্যই নয়। ইসলামের ইতিহাস অনেক বেশি প্রামাণ্য, অনেক সাম্প্রতিক। সেখানেও নারী-মূর্তি, নারী-দেবীর প্রতি আক্রোশ দেখতে পাই। একক ঈশ্বরকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নারী-দেবীদের ধ্বংস দেখতে পাই। পুরুষ প্রধান সমাজের ভ্যালুজ চালু করতে গিয়ে নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে তোলা দেখতে পাই।

মক্কা বিজয়ের পর নবী মুহাম্মদ কাবার মধ্যে ঢুকে পাগানদের দেবী-মূর্তিগুলোকে বাইরে এনে ভাঙ্গেন। এর মধ্যে ছিল লাত, উজ্জা ও মানাত। এরা পূজনীয় দেবী ছিল শুধু কুরাইশদের নয় সেই উত্তর আফ্রিকা থেকে যারা ফি বছর হজ্জ্ব করতে আসতো সেইসব পাগানদের। নবী মুহাম্মদ ও তার সঙ্গী-সাথীরা দেবীদের মূর্তি ভাঙেন কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মানুষের মূর্তি ভাঙেননি। মেরি ও শিশু যীশুর মূর্তি নবী ভাঙেননি। ভেঙেছেন সেসব নারীমূর্তি যারা থাকলে একক ঈশ্বরের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়। আর আল্লাহও চরম হুমকিতে থাকেন এসব মূর্তিগুলোর কাছে। তার একটা ব্যাখ্যাও তিনি দেন কোরানের সুরা আন নাজমের ২৩ নং আয়াতে।

نْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاء سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ وَلَقَدْ جَاءهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَى
(এগুলো কিছু নাম ছাড়া কিছু নয়, যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছো। এর সমর্থনে আল্লাহ কোনও দলিল নাজিল করেননি। .......)

মাটির নীচে প্রত্নতাত্ত্বিকদের হাতে আবিষ্কার হওয়ার মত নারী-ইশ্বর, নারী দেবীর মূর্তি থাকবে কি করে? যদি পুরুষের তলোয়ারের আঘাতে সেসব টুকরো টুকরো হয়ে যায়। লোককাহিনী থেকে আমরা সেসব কথা পেতে পারি। সেসব নারী দেব-দেবীর গল্পগাঁথা মনে করিয়ে দেয় একদা এমন সমাজ ছিল যখন নারীকে ঈশ্বর ভাবতেও মানুষের আপত্তি ছিল না।

একক ঈশ্বরের প্রবক্তারা গল্পে, মিথে থেকে যাওয়া দেবীদের, নারী-ঈশ্বরদের নামগুলো মুছতে পারেনি। মূর্তির মত এগুলো তো আর ভাঙা যায় না। তবে তার একটা বিকৃত ব্যাখ্যা চালু করেছে তারা। খ্রিস্টানরা পাগান নারী দেবীদের নাম চুরি করে এ্যাঞ্জেলদের নাম দিয়েছে আর তা দিয়ে গল্প চালু করেছে। যাতে পরবর্তীতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে নারী-ইশ্বরদেরকে ভুল করে খ্রিস্ট ধর্মের এ্যাঞ্জেল ভাবে। কোরানেও একই তথ্য দেখা যায়। একই সুরার ২৭ আয়াতে সেই ব্যাখ্যা পাই আমরা।
نَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَائِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَى

(যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারাই ফেরেশতাদের নারীর নাম দিয়ে থাকে।)

পাঠ্যপুস্তকে তাই আমরা ইসলামের আগের সময়কে জাহেলিয়াত বলেই পড়ি। পড়ি, `আরবের মানুষেরা তখন জীবন্ত কন্যাসন্তান কবর দিত`। অথচ মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রার নাম আমরা ইতিহাসে পাই। সেই যুগে নারীরা রাণী হতে পারতো? খাদিজা বিধবা হয়েও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হতে পারতো? তবু খাদিজার কর্মচারী থেকে স্বামী হওয়া মুহাম্মদ যখন নবী হলেন তখন তার প্রচারিত ধর্মের অনুসারীরা দাবী জানান ইসলামেই নারীকে সত্যিকার অধিকার দেয়া হয়েছে। তখন বিস্ময় লাগে। এই সেই ধর্ম যে ধর্মে নারী নেতা হতে পারে না, ইমাম হতে পারে না, রাষ্ট্রের অধিপতি হতে পারে না। অথচ ইতিহাস বলে, ইসলাম আসার আগে আরবের বেদুইন সমাজে নারীদের প্রভাব পুরুষদের চেয়ে কম ছিল না। (এখনও আরবের বেদুইন মহিলাদের স্বাধীনচেতা মনোবৃত্তি নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রকেই বিপাকে পড়তে হয়।)। উমর খলিফা হওয়ার আগে মক্কা ও মদিনার নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক ছিল না। নারীদের ভাগ্যের চাকা এই পেছনে ঘুরানোর প্রক্রিয়ায় এক ঈশ্বরের প্রবক্তাদের সক্রিয় ভূমিকার কথা ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। এ জানার জন্য মাটি খুঁড়তে হয় না, প্রত্নতাত্ত্বিক হওয়ার দরকার করে না।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০২ রা মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩৪
যুঞ্চিক্ত বলেছেন: ভালা হৈছে। কিছু পোসটের রেটিং ৫ এর উপরে হওয়ন উচিত।
তা আপনের ইমেইলটা কি পাওন যায়? আমগো যুক্তি ম্যাগাজিনের লাইগা লিখতে কৈতাম। জুলাইয়ে বাইর হোইব নেক্সট সংখ্যা।
৩. ০২ রা মে, ২০০৭ সকাল ১০:১৮
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: এ উপমহাদেশের হিন্দুরা আগে দেবতার পুজা করতো.......মুসলিমদের কাছে রাজ্য হারানোর হতাশায় নারী দুর্গার আবির্ভাব ঘটিয়েছে কয়েক শতাব্দী আগে....
৪. ০২ রা মে, ২০০৭ সকাল ১০:২১
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: HOLY FATHER
বলে
খ্রিস্টানরা ঈশ্বরকে পুরুষ কল্পনা করে। মুসলমানরাও কি আল্লাহকে পুরুষ ভাবে
?
৬. ০২ রা মে, ২০০৭ সকাল ১০:২৭
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: মহাদেবীকে (গ্রেট গডেস) প্রতিস্থাপিত করে ইহুদি, খ্রিস্টান মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা প্রতিহিংসাপরায়ণ পুরুষ
৮. ০২ রা মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৭
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: ১. ইসলামে ঈশ্বর পুরুষ সেটা কোথুকে পেলেন? স্পষ্ট করে বলা আছে, আল্লাহ নারী পুরুষ কোনটাই নয়।

২. কাবা ঘর থেকে মেরী আর যীশুর মূর্তি যে ভাঙা হয় নি, তার সাক্ষী ইতিহাস বললেন। ইতিহাসকে সাক্ষী মানার জন্য কোন রিজোর্স ব্যবহার করেছেন, একটু লিংক পেতে পারি? আমার জানা মতে সমস্ত মূর্তি ভাঙা হয়েছিল।

৩. খ্রীষ্টান ধর্মে ফেরেশতাদের আল্লাহর মেয়ে বলা হয়। এই ব্যাপারটার বিরোধিতা করা হয়েছে সংগত কারণেই, কারণ ইসলামিক কনসেপ্টে আল্লাহর ছেলে মেয়ে কোনটাই নেই।

৪. কিছু কমপ্রিহেনসিভ ইতিহাসগ্রন্হ্ আছে সেই সময়ের আরবে মেয়েদের অবস্থা নিয়ে। ওগুলো পড়লে এপারেন্ট কনফ্লিক্টগুলো দূর হয়ে যাবে।
প্রথমত, ক্লিওপেট্রা আরবের ছিল না, মিশরের ছিল। মিডল ইস্ট এখন পুরাটাই আমাদের কাছে আরব, তখন ছিল না।
দ্বিতীয়ত, আরবে মেয়েদের অবস্থা সোশাল ক্লাস অনুযায়ী ভ্যারিয়েবল ছিল।

জীবন্ত পুঁতে ফেলার ব্যাপারটা কুরআনে এসেছে। এটা হতো সমাজের অর্থহীনদের মধ্যে। কারণ মেয়ের বিয়ে প্রচুর টাকা পয়সার সাথে দিতে না পারা মানে তার মর্যাদা শ্বশুড় বাড়িতে যথেষ্ট থাকতো না। মেয়ে হয়ে যেত কনকুউবাইনের মত। এটা বাবারা নিজেদের পরাজয় বলে মনে করতো। কিন্তু টাকা না থাকলে ওরকম ঠেকানো ইনএভিটেবল ছিল।

খাদীজা (রা) শুধু কেন, হিন্দাও তো মেয়ে ছিল এবং তেজী ছিল। যদিও ইসলামের বিরোধিতা করেছে কিন্তু ভয়াবহ সব ট্যাকটিক আবিষ্কার করে বিরোধিতা করেছে, যন্ত্রনা দিয়েছে। বদরের যুদ্ধের পরে মুসলিমদের আঙ্গুল, নাক, মুখ কেটে নিয়ে মালা বানিয়ে পরে ঘুরেছে। উম্মে সালমা নামের একজন মুসলিম নারী ছিলেন সেই সময়ের যিনি রাসুল (সা) এর পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেছেন উহুদের যুদ্ধের সময়। উল্লেখযোগ্য, হিন্দাও কুরাইশ বংশের ছিল, খাদীজাও তাই। কুরাইশ বংশে নারীদের অন্য রকম প্রতিপত্তি ছিল।

নারী মূর্তি ভেঙেছে বটে, কিন্তু মানুষ নারীকে ইসলাম প্রাপ‌্য মর্যাদাই দিয়েছে। পরবর্তী যুগে পুরানো সামাজিক রীতি নীতি মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছে। অনার কিলিং (ওই যে, বাবারা লজ্জিত হওয়ার ভয়ে কন্যা শিশু হত্যা করতো) ইত্যাদি ইত্যাদি রূপে প্রাচীন রীতি নীতি আবার এসেছে।
৯. ০২ রা মে, ২০০৭ সকাল ১১:১৭
বাকী বিল্লাহ বলেছেন: ইশ্বর ধারণার মাঝে মালিক বা প্রভু এরকম যে ব্যাপারটি রয়েছে তাতেই এটি একান্ত পুরুষালি বিষয় হয়ে গিয়েছে। নারী মালিক হয়না, হলে কিসের মালিক হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পতি তো সে নিজে।
১০. ০২ রা মে, ২০০৭ দুপুর ১২:১১
আরিফ জেবতিক বলেছেন: কমেন্টের ঘরে আলোচনা চলুক।আমরা সাথে আছি।
১১. ০২ রা মে, ২০০৭ দুপুর ১২:১৬
সুমন চৌধুরী বলেছেন: পড়তাছি। তবে বস আগেও কইছি এখনো কইতাছি। একেশ্বরের আগমণ সেমেটিক ধর্মের আগে। ইহুদিধর্ম-খ্রীষ্টধর্ম-ইসলামে আইসা তিনি পরিণত চেহারা পাইছেন। আপনে ভাস্করদার পোস্টে যে স্কুলরে বাদ দিছেন তারে সহ অন্যগুলারে দেখাটাই মনে হয় ভালো। নাইলে ওই তড়িকায় প্রাপ্ত কাহিনিগুলা পুরা বাদ দিলে সমাজবিজ্ঞান কানা হইয়া যাইবোগা। সকলেই থাক। তাদের সাথে হাইগেইটে ঘুমন্ত জার্মানও থাক।
নারী ঈশ্বরের পাশে পুরুষ ঈশ্বর এবং তাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এই বিষয়টা খুব খিয়াল কইরা। ম্যাট্রিমনির সময়ে ঈশ্বর অনেক ছিলেন এবং তাদের মধ্যে জেন্ডার ব্যালান্স ছিল। এই ভারসাম্য পরে কমতে থাকে এবং পুরুষের প্রাধান্য বাড়তে থাকে। এই ঘটনা সেমেটিক ধর্মগুলার উত্পত্তির আগের। একেশ্বর একদিনে আসে নাই।

সন্ধ্যাবাতি,
এইখানে অ্যান্থ্রোপো-ফিলসফির আলোচনা চলছে। তাই যুক্তি তর্কে ধর্মতত্ব অনুপস্থিত। ধর্ম এইখানে বিশ্লেষিত হইবার বস্তু। কোন নির্দিষ্ট ধর্মের চশমা নাই। পাম্পকিন ট্রি বিজ্ঞানের।
ইসলামে সৃষ্টিকর্তার লৈঙ্গিক পরিচয় ইসলামের দৃষ্টিতে নাই। নৃবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আছে। যাকে আরব সাগরের তীরে পৌছাইবার বহু আগে খোজা করা হইছে।
১২. ০২ রা মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২২
আরিফ জেবতিক বলেছেন: যুঞ্চিক্ত:
আপনাদের পত্রিকায় অভিজিত রায় সাহেবের ,সিলেটকে ''মৌলবাদের আখড়া হিসেবে পরিচিত'' কথাটি মানতে পারলাম না।যদিও তর্কের জন্য এই পোস্ট বা ব্লগ উপযুক্ত স্থান নয়,তবু এখানে আপনার কমেন্টের বিপরীতে বলে গেলাম।

তবে নি:সন্দেহে চমতকার একটা ম্যাগ।তক্ষশিলা থেকে এক কপি জোগাড় করব শিগগীর।
১৩. ০২ রা মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২৮
আরিফ জেবতিক বলেছেন: সুমন চৌধুরী,ভালো বলেছেন।

''ম্যাট্রিমনির সময়ে ঈশ্বর অনেক ছিলেন এবং তাদের মধ্যে জেন্ডার ব্যালান্স ছিল। এই ভারসাম্য পরে কমতে থাকে এবং পুরুষের প্রাধান্য বাড়তে থাকে। এই ঘটনা সেমেটিক ধর্মগুলার উত্পত্তির আগের। একেশ্বর একদিনে আসে নাই।'' একমত আপনার সাথে।
১৪. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৩:১৬
ঠুকেমারি বলেছেন: এই শয়তান দীক্ষক এখন ঈশ্বরের সালোয়ার খুইলা নিচে হাত দিয়া বসছে। তাগুতি, দুষ্ট!
১৫. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২০
সুমন চৌধুরী বলেছেন: উপরে টাইপো অআছে একটা গুরুতর। ম্যাট্রিয়ার্কি লিখতে গিয়া মনি লিখা ফালাইছি। বুড়া হইয়া গেলাম মনে হয়
১৬. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৫২
হোসেইন বলেছেন: আস্ত খালাম্মা,তুমি বহুত জ্ঞান রাখো গো মা জননী, তবে সেটা তুমার তবলীগের লেকচারে দিও।

সব আলুচনা বুঝার ঘিলু সবার হয় না গো খালা।
এই খানে বস লুকরা যে রেফারেন্স টানবো,সেই গুলা বানান করার খ্যামতা তুমার তি্রিভুজ ভাইয়েরও নাই।

অফ যাও,সব জায়গায় বিদ্যা ফলাইতে আইয়া পেজগি লাগাইও না।আমগোরে একটু শিখতে দেও,জানতে দেও।
১৭. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৪:১২
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ। পাঠকের কাছে ধারাবাহিকটিকে আকর্ষণীয় রাখতে একটু সাসপেন্স ব্যবহার করেছি। সুতরাং শিরোনাম ও শুরু দেখে হয়তো অনেকে ধাক্কা খাচ্ছেন। আশা করি ধীরে ধীরে ধোঁয়াশা কেটে যাবে । তবে ধীরে তথ্য ও তত্ত্ব উদ্ধারের আনন্দ না থাকলে পড়াটা খুব বোরিং হয় বলেই আমার এমন কৌশল।

সুতরাং সুমনদাদার যে মন্তব্যটা আরিফভাই রিকোট করলেন সেকথা উপসংহারের। আসবে। আসতেই হবে। সুমনদাদা খোলস ভাইঙা এখন বের হয়ে আসছেন, দেখতে ভালো লাগে, আলোচনায় একটা বুদ্ধিমন্ডিত পরিবেশ তৈরি হয়।

সন্ধ্যাবাতি, সুমনদাদার মন্তব্যটা আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর হিসেবে জরুরি। হিন্দা ও উম্মে-সালমার নাম উল্লেখ করায় ধন্যবাদ। আয়েশা পরবর্তীতেও যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুতরাং নারী তখন অবলা, শক্তিহীন ছিল এই যুক্তির ভিত্তি থাকে না। ক্লিওপেট্রা, অবশ্যই মিশরের, আরব মরুভূমির ইতিহাসের নারীদের মাঝে কেউ বিশ্বখ্যাত হয়নি বলেই তার উদাহরণ এসেছে, তবে আরবের কথা আমি বলছিলাম না, খেয়াল করবেন, আমি নারীর কথা বলছিলাম। নারী তখনও রাণী হতে পারতো, এ তথ্যটাও জরুরি।
যীশু ও মেরির মূর্তি রেখে দেয়াটা আমি সব বইতেই পেয়েছি। তবে সেগুলো নন-মুসলিমের বই, আপনি হয়তো মানবেন না। যদিও জ্ঞানের আলোচনায় লেখকের ধর্ম-পরিচয় প্রধান নয়, যদি প্রামাণ্য গ্রন্থ হয়। আপাতত: রেজা আসলানের নো গড বাট গড বইটির নাম বলছি। অন্য বইতে ঐ তথ্যটা খুঁজে পেলে জানিয়ে দেব।
(আর হোসেইনের দুষ্টু মন্তব্যে ভড়কাবেন না। আপনার জানার ইচ্ছাই আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।)
১৮. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৪:১৮
সুমন চৌধুরী বলেছেন: বইলাম গাঁইট হইয়া..অনেকদিন পরে একটা ভালো সিরিজ শুরু হইছে..
১৯. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৪:২২
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন: সুমনদাদার আগের মন্তব্যের একটা উত্তর না দিলে অনেকে ভুল বুঝতে পারেন, তাই আবার মন্তব্যে হাত দিলাম।
একেশ্বরের ধারণা অবশ্যই সেমেটিক ধর্মের আগে। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। সভ্যতাকে যদি ধারাবাহিক প্রাগসরতা ধরি তবে ঈশ্বর ধারণাও বিবর্তিত হয়েছে মানতে হয়, তবুও আমার গুরুদের মত আমিও এই তত্ত্বে আস্থা রাখি যে, প্রাগৈতিহাসিক ঈশ্বর, সেমেটিকদের ঈশ্বর, মিস্টিকদের ঈশ্বর আর বিজ্ঞানী/বুদ্ধিজীবিদের ঈশ্বর এক না। অর্থাত্ ঈশ্বর ধারণা বিবর্তিত হয়েছে কিন্তু এগুলো এত আলাদা বৈশিষ্টের যে এগুলোকে আলাদা ঈশ্বর বলেই চিহ্নিত করাই সঙ্গত।
উদাহরণ দেই, মিস্টিকদের ঈশ্বর ধারণা কোনো নামাজি মুসলিমের ঈশ্বরের সাথে মিলে না। সেসব কথা বলতে হলে আরেকটি ধারাবাহিক দিতে হবে, নামটা ঠিক করে রেখেছি, `সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির ইতিহাস'। সময় হয় কিনা দেখি।
২১. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৪:২৮
সুমন চৌধুরী বলেছেন: ঠিকাছে।
দর্শনের ঈশ্বর আর রিলিজিওনের ঈশ্বর।
২২. ০২ রা মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৭
সুমেরু বলেছেন: পড়ছি। চাম ছাড়া ৫ দিলাম।
২৩. ০২ রা মে, ২০০৭ রাত ৮:০৯
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: হুমম, গবেষণাধর্মী লেখা ।
অনেক কিছু বুঝি নাই - অবশ্য ওইটা নিজের সমস্যা । আপনার কোন ব্যর্থতা নাই ।

হুমায়ুন আজাদ পড়ার পর এই ব্যাপারটা নিয়ে আগ্রহ হইছিলো , কিন্তু সময়াভাবে পড়ার সুযোগ হয়নাই । কৃতজ্ঞতা অন্ধজনে আলো দেওয়ার জন্যে ।

কমেন্ট পড়ার জন্যে আবার ফিরবো ।

---
কথার পিঠে অন্যকথা, ইউনিকোডের সুফল, আরবি আসছে ।
২৪. ০২ রা মে, ২০০৭ রাত ৮:৩৪
হিমু বলেছেন: মুসলিমদের কাছে রাজ্য হারানোর হতাশায় দুর্গার প্রচলন হয়েছে কি না জানি না। তবে এর আগেও গঙ্গা, সরস্বতী, দৃশদ্বতী এসব নদীকে দেবীজ্ঞানে ভক্তি করার উদাহরণ আছে আর্য বিস্তারের শুরুর দিকে। আর্যরা এসেছে পশ্চিম দিক থেকে, তাই তারা শুরুতে সরস্বতী (সরস্বতী আর দৃশদ্বতী নদী দুটি এখন লুপ্ত, গুজরাট আর সিন্ধ এলাকায় ছিলো, তখন পঞ্চনদ নয়, সপ্তনদের দেশ ছিলো সিন্ধু অববাহিকা) ভক্তির নমুনা রেখে গেছে বিভিন্ন শ্লোকে। পরবর্তীতে আর্যদের বিস্তার যখন নদীর মৃত্যুর পর পূর্বদিকে চলে আসে, তখন গঙ্গাই হয়ে ওঠে তাদের ভক্তির ফোকাস (অন্যান্য দেবতা সহ)। দুর্গা বা কালিপূজার ব্যাপারটা একান্তই পূর্বভারতের সাঁওতালদের সংস্পর্শে আসা সমাজ আর তার বলয়ে দেখা যায়। গুজরাটিরা কিন্তু লক্ষীর বেশি ভক্ত, দক্ষিণীরা গণেশের। রেফারেন্স ছাড়া যারা কিছু বিশ্বাস করতে চান না তারা পড়ুন আব্রাহাম ইরেইলির জেম ইন দ্য লোটাস। কোন ভুল করে থাকলে মার্জনা করুন মার্জিতভাবে।
২৫. ০২ রা মে, ২০০৭ রাত ১০:৪০
যুঞ্চিক্ত বলেছেন: জেবতিক,
সিলেটিরা সকলেই মৌলবাদী হলে যুক্তির মত পত্রিকা সিলেট থেকে বের হতে পারত কি? সিলেটে আনেক প্রগতিশীল তরণ আছে বলেই এটা সম্ভব হ্ য়েছে। লক্ষ করবেন, অভিজিত রায় মৌলবাদের আখড়া শব্দবন্ধ ক'টি ইনভারটেড কমার মধ্যে লিখেছেন। বলেছেন মৌলবাদের আখড়া হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত। কিন্তু ব্যাপারটা অভিজিত তো নিজেই খন্ডন করেছেন পরবর্তী বাক্যগুলোতে, তাই না?
তারপরেও আত্মসমালোচনার কিছু স্কোপ দেওয়া উচিত। এটিকে ব্যক্তিগতভাবে না নিলেই ভাল।
একজন সিলেটী লেখক সুমন তুরহানের সিলেটী মৌলবাদ নিয়ে লেখাটি সম্বন্ধে আপনার মন্তব্য পেলে খুশী হব।
২৬. ০৩ রা মে, ২০০৭ রাত ১২:৩৫
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন: অনুভূতিশুন্য, ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।
হিমুদাদার মতো সর্বগ্রাসী পাঠক পাওয়া কঠিন। রেফারেন্সও হাজির। কারো রেফারেন্স লাগলে আওয়াজ দেবেন আর বিষয় বলবেন। ওয়েব লিংকও দেয়া যাবে, বেশি যন্ত্রণা না হলে।

যুঞ্চিক্ত, (আপনার এই নিকের কি কোনো অর্থ আছে? জানালে খুশি হই।) প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ। লেখাটি শেষ হলে আপনাকে জানাবো।
২৭. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:২৮
উৎস বলেছেন: ধন্যবাদ দ্রাবিড়, খেয়াল করিনি আগে আপনি যে এটা আমাকে উৎসর্গ করেছেন। এরা আগে কেউ আমাকে কোন লেখা উৎসর্গ করেছে বলে মনে হয় না, আবারো ধন্যবাদ।
২৮. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৩০
দ্রোহী বলেছেন: "উৎস" নামেই তো একটা উৎসর্গ ভাব আছে...........
২৯. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৩২
উৎস বলেছেন: ওহ আর 'সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির ইতিহাস' শুরু করুন ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার আগেই।
৩০. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৫১
কেমিকেল আলী বলেছেন: "অনেক কিছু বুঝি নাই - অবশ্য এইটা নিজের সমস্যা । আপনার কোন ব্যর্থতা নাই "---
পড়তে থাকি আস্তে আস্তে আবার দেখি বুঝি কিনা।
৩১. ০৬ ই মে, ২০০৭ সকাল ৮:০৩
হাসান মোরশেদ বলেছেন: যুনচিক্ত(দুঃখিত, চেষ্টা করে ও লিখতে পারলাম না)ঃ
'ব্যক্তিগত' ভাবে না নিয়েই একটা মন্তব্য করি । ৯২-৯৩ সালে শামসুর রাহমান কে ঘিরে সিলেটে একটা ঘটনা ঘটেছিল । সিলেটের কজন সংস্কৃতিপ্রেমিক রাহমান'কে সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন । রাহমান নির্মুল কমিটিতে ছিলেন বলে মুলতঃ জামাত ও তার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সংগঠন গুলো রাহমান কে সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিল । সিলেটের প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি ও জামাতকে প্রতিরোধ করে যে কোন মুল্যে রাহমান কে সংবর্ধনার ঘোষনা দিয়েছিল ।
না তারা শেষে পারেন নি । কয়েকজন প্রগতিশীল শিক্ষক ও সাংবাদিক শিবিরের আক্রমনের শিকার হয়েছিলেন । পারেন নি কারন 'জীবন দিয়ে রক্ষা করা হবে' এমন আশ্বাস দেয়ার পর ও শামসুর রাহমান জামাতের হুমকীতে সিলেটে আসার সাহস করেননি । রাহমান নিরীহ ভদ্রলোক সবসময়ই । ৭১ এ ও তিনি নিরীহ ই ছিলেন । সেটা দোষের তা ও বলছিনা ।
তবে তাঁর সে সময়ের পরামর্শক, জাতীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ববর্গ রাহমান কে নিরুৎসাহিত করেছেন, ভয় দেখিয়েছেন, নিজেরা ও সাহস করেন নি সিলেটে আসার । মৌলবাদ যে কোনো এলাকাভিত্তিক সমস্যা নয়, নয় সিলেটের, চট্রগ্রামের, নোয়াখালীর সমস্যা - সেটা সেদিন বোঝতে পারেনন ঢাকাবাসী সাংস্কৃতিক মহাজনগন । বোঝেছেন অনেক পরে, যখন খোদ ঢাকার বুকেই রাহমান আক্রান্ত হয়েছেন । কিন্তু ততোদিনে অনেক কিছুই ঘটে গেছে । সেদিন যদি জাতীয় সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব, জামাতের চ্যালেঞ্জকে 'সিলেটে মৌলবাদীদের দৌরাত্ব' না ভেবে মোকাবেলা করার সাহস দেখাতেন সিলেটের সাংস্কৃতিক ইতিহাস অন্য রকম হতো । ঢাকায় নিরাপদে বসে না থেকে, রিমোট এলাকা গুলোতে মৌলবাদ বিরোধী বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধ কে যদি পেট্রোনাইজ করতেন , তাহলে নিজেরা ও আজ বিলুপ্তির পথে পা বাড়াতেন না ।
যা হোক, সুমন তুরহানের লেখার লিংকটা কাজ করছেনা । লিংকটা দয়া করে দিন আবার । আমি খুব আগ্রহী তুরহানের নাম দেখে । প্রায় একযুগ আগে চেনা কিশোর কবি সুমন তুরহান এর আজকের ভাবনার জগত জানতে আগ্রহ হচ্ছে ।


দ্রাবিড়ঃ
ক্ষমাপ্রার্থী । আপনার পোষ্টে বিষয় বহির্ভুত আলোচনার জন্য । সবিনয়ে বলি, আপনার ও উৎসের সব পোষ্ট পড়ি । পড়ি, শেখার জন্য । নিঃশব্দে শিখি, আলোচনায় অংশ নেয়ার মতো বিষয়ভিত্তিক ঋদ্ধতা অর্জন হয়নি এখনো ।
৩২. ০৯ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১২:৫০
লাল মিয়া বলেছেন: যৌনাকাঙ্খাই অসহনীয় মাথাব্যাথার কারণ

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৬০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ