somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নারীর ইসলাম বা ইসলামের নারী
নারীদের প্রতি বন্ধুত্বমূলক আচরণ করো কারণ তাদেরকে বুকের হাড় থেকে তৈরি করা হয়েছে, বুকের বাঁকা হাড়, যদি তুমি তাকে সোজা করতে চাও তবে তা ভেঙে যাবে; আর যদি তুমি কিছুই না করো, তবে সে বাঁকাই থেকে যাবে।

এ বাক্যটি নিশ্চয়ই অবমাননাকর। কিঞ্চিত আত্মসম্মানবোধ থাকলে কোনো নারীই তা অস্বীকার করতে পারবেন না। তাদের অনেকেই হয়তো নীচের আয়াতগুলোতেও নারীর প্রতি অবজ্ঞার বিষয়টি খুঁজে পান না:

O you who believe! Al-QisⳠ(the Law of Equality in punishment) is prescribed for you in case of murder: the free for the free, the slave for the slave, and the female for the female. (2.178)

And divorced women shall wait (as regards their marriage) for three menstrual periods, and it is not lawful for them to conceal what All⨠has created in their wombs, if they believe in All⨠and the Last Day. And their husbands have the better right to take them back in that period, if they wish for reconciliation. And they (women) have rights (over their husbands as regards living expenses, etc.) similar (to those of their husbands) over them (as regards obedience and respect, etc.) to what is reasonable, but men have a degree over them. (2.228)

And divorced women shall wait (as regards their marriage) for three menstrual periods, and it is not lawful for them to conceal what All⨠has created in their wombs, if they believe in All⨠and the Last Day. And their husbands have the better right to take them back in that period, if they wish for reconciliation. And they (women) have rights (over their husbands as regards living expenses, etc.) All⨠commands you as regards your children?s (inheritance); to the male, a portion equal to that of two females; (4.11)

তো সুরা বাক্বার ও নিসার আয়াতগুলো পড়ুন। নিসার তিন নাম্বার আয়াতে আছে পুরুষের বহুবিবাহের অধিকার আর 34 নাম্বার আয়াতে আছে প্রহারের অধিকার। সেগুলো এখানে পুনরুল্লেখ করলাম না। নিসার 11 নাম্বার আয়াতে পুরুষ সন্তান ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে যে পার্থক্য করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীতে অনেক মুসলিম নারী সংগঠন আন্দোলন করছে। তাদের বক্তব্য একটাই পিতার কাছে সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় বড় হতে পারে না। কিন্তু কোরানে নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য আছে আরো অনেক আয়াতেই। হতে পারে এর একটি কারণ কুরাইশরা যে তিনটি দেবীর পূজা করতো সে তিনটি দেবী নারী ছিলেন। পুরুষের তুলনায় নারী যে নীচু তা বুঝা যায় অনেক আয়াতে (যেমন: 4.117, 43.15-19, 52.39, 37. 149-50, 53. 21-22, 53. 27)। তবে সেগুলো হয়তো সুক্ষম।

কোরআনে নবীর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে কিছু আয়াত আছে যা পরবর্তীতে সব মুসলিম নারীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য হাদিস আছে যেগুলোতে নারীর অবস্থানকে খাটো করা হয়েছে। হাদিসের সূত্র নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে এবং অনেক হাদিসকে পরবর্তীতে অশুদ্ধ বলে দাবী করা হয়েছে। এসব কারণে সেসব সূত্র উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। তবে হাদিসের সূত্র ধরে আমাদের সমাজে চলে আসা কিছু রীতি বা বক্তব্য আছে যা আমরা শুনি। যেমন: "স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেশত"। এধরনের আরো অজস্র নিয়ম-কানুন-রীতি ও আইন দিয়ে মুসলিম রমণীদের ভূমিকা ইসলামে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে যে ভূমিকা হলো বাড়িতে থাকা, পুরুষের ইশারায় ছুটে আসা, স্বামীকে মান্য করা তার ধর্মীয় দায়িত্ব। হাদিসে আরো বলা আছে একজন স্ত্রী কখনও তার স্বামীকে না করতে পারবে না যদি সে উটের উপরেও থাকে। বলা আছে, যেসব বিষয়ের মধ্যে খারাপ ও শয়তানি জিনিস লুকিয়ে থাকে তা হলো: বাড়ি, নারী ও ঘোড়া। নবী আরো বলেছেন সেই ব্যক্তি কোনোদিন উন্নতির মুখ দেখবে না যে নারীর কাছে তার গোপন কথাগুলো বলে।

কোরান ও হাদিস দিয়েই শুধু ইসলাম ধর্ম চলে না। ইসলামে খলিফা ও মুসলিম মনীষিদের বক্তব্যকেও গুরুত্ব দেয়া হয়। ইসলামী শিক্ষার ও নিয়ম-কানুনেরই এসব অংশ। তাছাড়া সামাজিকভাবে এসব শিক্ষা চলে আসছে মুসলিম সমাজের মধ্যে। তাই বিভিন্ন খলিফা, দার্শনিক ও ধর্মীয় চিন্তাবিদের নারীবিরোধী কথা-বার্তা ইসলামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অত্যন্ত জোরদার ভাবে। (যদিও ইসলাম দাবী করে তারা নারীকে দিয়েছে অধিক স্বাধীনতা। কিন্তু তারা একবারও ভাবে না যে নবী মুহাম্মদ একজন বিধবার ব্যবসায় কর্মচারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সুতরাং ইসলামহীন সে পরিবেশেও নারী অনেক অগ্রসর ছিল।)

ইসলামের দ্্বিতীয় খলিফা ওমর আদেশ দিয়েছিলেন, লেখা শিখতে নারীদের বাধা দাও। আরেকবার তিনি বলেছিলেন, নারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, এতে অনেক সুবিধা। তার সবচেয়ে নিন্দার্হ বক্তব্য ছিলো যে, তিনি বলেছিলেন, দরকার হলে মেয়েদেরকে কাপড় ছাড়া রাখো। যাতে তারা ঘরের বাইরে যেতে না পারে, বিয়ের অনুষ্ঠানে না যায় এবং প্রকাশ্যে না আসতে পারে। বাইরে গেলেই তারা অপরিচিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং যা তাদের নাই তার প্রতি নারীরা আকর্ষিত হয়।

নারী বিরোধী বক্তব্য আরো বেশি পাওয়া যায় চতুর্থ খলিফা আলীর বক্তব্যে। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত নারী জাতি হচ্ছে দুষ্ট প্রকৃতির এবং সবচে খারাপ দিক হচ্ছে এরা প্রয়োজনীয় দুষ্ট। আরেক জায়গায় তিনি বলেছেন, কখনও নারীর কাছে পরামর্শ চেয়োনা কারণ তাদের পরামর্শ অর্থহীন। তাদেরকে লুকায়ে রেখো যাতে তারা কোনো পুরুষকে দেখতে না পারে। তাদের সংস্পর্শে বেশি সময় কাটায়ো না তাহলে তারা তোমাকে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাবে।

ইসলামের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের এসব বক্তব্য আর মুসলিম দেশগুলোতে নারীর প্রতি ব্যবহার দেখেও যারা বুঝতে পারে না ইসলামে নারীর অবস্থান কোথায় তাদেরকে কি বলা যায়। নারী যদি নিজের অস্তিত্বকে সম্মানিত না করতে পারে তবে সে ধর্মের কাছ থেকে কিভাবে উন্নত ব্যবহার আশা করতে পারে।

নবী মুহাম্মদ বলেছেন নারী ও দাস এই দুই দুর্বল জিনিসকে দয়ার সাথে দেখতে। ইসলামে নারীকে বুদ্ধির দিক দিয়ে, নৈতিকভাবে এবং শারীরিকভাবে নিম্নস্তরের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হাদিসেই আছে নারীদের যুক্তিবোধ ও বিশ্বাস কম। নারীকে স্পর্শের বিষয়ে ইসলামে আছে নানা কটুক্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা;

Better for a man to be splashed by a pig than for him to brush against the elbow of a woman not permitted him.

অথবা

Three things can interrupt prayers if they pass in front of someone praying: a black dog, a woman, and an ass.

কুকুর ও গাধার সাথে নারীকেও যুক্ত করা হয়েছে অপবিত্রতার চিহ্ন হিসেবে।
লিবারেল মুসলমানরা এসব হাদিস ও প্রমাণকে অপ্রমাণিত বলে চালিয়ে দিতে চান। কিন্তু কোরানের বাণীর ক্ষেত্রে তাদের কি বক্তব্য। কোরানের উপর নির্ভর করেই মাওলানারা ওয়াজ-নসিহত করে যাচ্ছেন যে, পুরুষের চেয়ে নারী নিম্নস্তরের এবং সমানাধিকার ইসলাম বর্হিভূত চিন্তা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28731867 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28731867 2007-09-17 22:08:23
মনে হয় আবার ব্লগানোর সময় হয়েছে কয়েকজনের লেখা পড়ে মনে হলো, আবার হেদায়েত দরকার।
আবার ব্লগানোর সময় হয়েছে।

এই ব্লগে কিছু পুরনো লেখা আছে আমার। সেগুলো মনে হয় নতুন ব্লগাররা পড়েননি। সে লেখাগুলো সম্পাদনা করে আবার দেয়া দরকার মনে হচ্ছে।

তবে আগের তরফে আমার লেখাগুলো অনেক গুরুগম্ভীর ছিল। এখন মনে হয় সহজ পাঠ লেখা দরকার। সহজ দীক্ষক দ্রাবিড়। কারণ আগের কথাগুলো অনেকেই বুঝতে পারেননি। পারলে এমন করে এখনও চ্যাঁচাতেন না।

তবে কি শুরু হবে আবার ব্লগানো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28724934 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28724934 2007-08-09 23:44:21
সারা দুনিয়ার মানুষকে মুসলমান বানায়া ফেলবো যদি ফজলে এলাহি কোরান অনুযায়ী আবিষ্কারটা করেন
সে যাক, কাজের কথায় আসি।
পৃথিবীর সব মানুষের মনে বিশ্বাস ফিরায়ে আনার ও তাদেরকে মুসলমান বানানোর একটা সহজ উপায় দিতে চাই ফজলে ভাইকে। কাজটা সোজা। কোরানের বক্তব্য অনুযায়ী একটা ছোট্ট আবিষ্কার করলেই এই অসাধ্য অর্জন হয়ে যাবে। তখন আর মওদুদী, লাদেন, ফজলে এলাহি কাউকেই কষ্ট করে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে না।

কোরআনের বিভিন্ন ইঙ্গিত আর গোপন তথ্য পড়ে নাসারা আর ইহুদিরা বিজ্ঞানের সব আবিষ্কার করেছে বলে মুসলিম মনীষিরা প্রায়ই দাবী করেন। কিন্তু ফজলে এলাহি ভাইর মত মুসলমানরা কিছু করে না। যদি তারা এই ধর্মগ্রন্থ থেকে একটা আবিষ্কার করে দেখান তবে পৃথিবীটার ঈমান বদলে যেত।

কোরানে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন মানুষ ও জ্বিন দুটোই তিনি সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মুসলমানরা আল্লাহর এই বাণী শোনার পর জ্বিন নিয়া নানা ব্যবসা করলো। কিন্তু জ্বিনের আবিষ্কারের কথা পৃথিবীবাসীকে জানালো না। অথচ এই জ্বিন আবিষ্কারের দাবী করলেই আজ দুনিয়ায় মুসলমানের জ্ঞান-গরিমা কত উচ্চে উঠতো।

আমার ধারণা ফজলে এলাহি পারবেন। আল্লাহকে দেখতে চাই না। এই যে আল্লাহর সৃষ্টি জ্বিন, যার কথা কোরানে আছে তার অস্তিত্ব একবার প্রমাণ করে দেখান। সুমেরু, অলৌকিক হাসান আর ইশতিয়াক জিকোকে পাঠাবো জ্বিন বিষয়ক প্রমাণের ডকুমেন্টারি পাঠাতে। তারপর আপনাকে গ্যারান্টি দিচ্ছি সেই ডকুমেন্টারি দেখাইয়া সারা পৃথিবীর সব মানুষকে মুসলমান বানায়া ফেলবো।
আমার কথা আমি রাখবো, আগে আপনে কোরআনের কথার একটা প্রমাণ দেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28711879 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28711879 2007-05-21 18:03:49
মানুষ ছাড়া কেউ রচনা করতে পারে না
প্রাণী ছাড়াও মানুষের আয়ত্তের মাঝে আছে বলে দাবী করা হয় অশরীরি বিষয়। বাংলাদেশ ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বিন পালে বলে দাবী করে কিছু লোক। তারা নাকি জ্বিন দিয়েও নানা কারবার করাতে পারে।

তবে আস্ত একটা বই? লেখার মান যত খারাপই হোক আস্ত একটা বই লেখা এইসব সার্কাসের বাঘ, বানর বা জ্বিন-প্রেতের পক্ষে সম্ভব নয়। বই রচনা শেষ পর্যন্ত মানুষকেই করতে হয়। সেইসব রচনা করা বই বিভিন্ন সম্রাটের নামে, দেব-দেবী বা ঈশ্বর-খোদা-আল্লাহর নামে মনুষ্যসমাজে চালানোর একটা চল ছিলো। কারণ ক্ষমতাধর না হলে, গোত্রপ্রধান না হলে আরেক মানুষের কথা মানুষ সহজে মেনে নিতো না। যুক্তি সেখানে অবান্তর।

তবে মানুষের লেখা বই, সংবিধান, সনদ এখন সারা বিশ্বের নানা ধর্মের মানুষরা সমানভাবে মানছে। জাতিসংঘের কিছু সনদ ও নিয়মাবলী এত মানুষ ও দেশের নাগরিক অনুসরণ করে যে এর কাছে একটা বিশেষ ধর্মের ধর্মগ্রন্থের লেখকদের তুচ্ছ মনে হয়। এমন তুচ্ছ লেখালেখির কৃতিত্ব ঈশ্বর-খোদা-আল্লাহকে দিলে এই সর্বশক্তিমান ধারণাটারই অপমান করা হয়।

ব্যাকরণ মেনে লেখালেখি করা, ছন্দ মেলানো, অক্ষর ও ভাষা চর্চা, ভাষার সাহায্য নিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করা, এগুলো মানুষের মত সীমাবদ্ধ ক্ষমতার প্রাণীদের কাজকর্ম। এতো ছোট কাজে ঈশ্বর-আল্লাহ-খোদা-ভগবানকে টেনে এনে তাদেরকে পন্ডিতের বেতের নীচে না ফেললে কি হয় না?

লাল কলম হাতে নিলে কিন্তু কোনও ঈশ্বরই পাশ মার্ক পাবে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28711741 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28711741 2007-05-21 05:40:33
আমাদের ঐক্য আরো সুদৃঢ় হোক
তাছাড়া মুক্ত ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্যই আমরা ব্লগে লেখি। সেই স্বাধীনতা যখন খর্ব হয় তখন প্রতিবাদ করতেই হবে সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে। এমন খড়গ আমাদের ঘাড়েও নেমে আসতে পারে।

মনে রাখতে হবে তাসনিম খলিলকে তারা আটক করেছিলো ব্লগের জন্য। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টের জন্য নয়।

এই ব্লগের সবার সহানুভূতি ও প্রতিবাদের জন্য কৃতজ্ঞতা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্য আরো সুদৃঢ় হোক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710241 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710241 2007-05-12 14:23:48
ব্লগে এখন তাসনিম খলিলের গ্রেফতারের প্রতিবাদ চলছে: আপনার কণ্ঠও সামিল হোক শ্লোগানে
এই গ্রেফতার এরকম আরো প্রশ্ন, আরো বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। সেই বিষয়গুলো নিয়ে লিখুন। সহব্লগার তাসনিম খলিলের প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জানিয়ে দিন যে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে।

অন্য পোস্ট আমরা দিতে পারবো অনেকদিন। আজকের পোস্টের বিষয় হোক:
১. সেনাবাহিনী
২. সংবিধান ও জনগণের অধিকার
৩. তাসনিম খলিল ও তার রিপোর্টিংয়ের বিষয়
৪. তথ্যের অধিকার ও এই শতাব্দী।

এসব বিষয়ে মিনি-প্রবন্ধ হতে পারে, হতে পারে ফিচার, কৌতুক, এমনকি উদ্দীপনামূলক গান হতে পারে, কার্টুন হতে পারে। তবে সবকিছুর উদ্দেশ্য হোক প্রতিবাদ।
সংগ্রামী অনুরোধ থাকলো সহব্লগারদের প্রতি।

আসুন প্রতিবাদ করে জানিয়ে দেই, আমরা আমাদের অধিকারের এক কণাও ছাড়তে নারাজ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710144 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710144 2007-05-11 17:53:46
আগামী ২৪ ঘন্টা ব্লগ হোক তাসনিম খলিলের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোচ্চার
শুধু সত্য প্রকাশের জন্য, শুধু সাংবাদিক হওয়ার জন্য কেন তাসনিম খলিলকে আটক করবে সেনাবাহিনী? একজন তাসনিম খলিলের চেয়ে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দেশের জন্য বেশি কি করছে? আমরা কি মধ্যযুগে বাস করি যে আমাদের মত প্রকাশের অধিকার থাকবে না। তথ্য জানার অধিকার থাকবে না।

এই গ্রেফতার এরকম আরো প্রশ্ন, আরো বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। সেই বিষয়গুলো নিয়ে লিখুন। সহব্লগার তাসনিম খলিলের প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জানিয়ে দিন যে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে।

অন্য পোস্ট আমরা দিতে পারবো অনেকদিন। আজকের পোস্টের বিষয় হোক:
১. সেনাবাহিনী
২. সংবিধান ও জনগণের অধিকার
৩. তাসনিম খলিল ও তার রিপোর্টিংয়ের বিষয়
৪. তথ্যের অধিকার ও এই শতাব্দী।

এসব বিষয়ে মিনি-প্রবন্ধ হতে পারে, হতে পারে ফিচার, কৌতুক, এমনকি উদ্দীপনামূলক গান হতে পারে, কার্টুন হতে পারে। তবে সবকিছুর উদ্দেশ্য হোক প্রতিবাদ।
সংগ্রামী অনুরোধ থাকলো সহব্লগারদের প্রতি।

আসুন প্রতিবাদ করে জানিয়ে দেই, আমরা আমাদের অধিকারের এক কণাও ছাড়তে নারাজ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710140 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710140 2007-05-11 17:26:10
তাসনিম খলিলের গ্রেফতার ও প্রতিবাদ তার আগে, দু'টো বিষয় নিশ্চিত হওয়া দরকার:

১. এক তার গ্রেফতার হওয়ার সংবাদটা যাচাই করা হয়েছে কিনা। আমাদের বন্ধু সহ-ব্লগার কোনো সাংবাদিক দয়া করে নিশ্চিত করুন।
২. কী কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে? ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কারণে নাকি তার রিপোর্টিং-য়ের জন্য?

সেইসাথে এটাও জানা দরকার যে তাকে কে গ্রেফতার করেছে, পুলিশ না সেনাবাহিনী?
কোনো পত্র-পত্রিকায় বা সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে এ গ্রেফতারের খবর এসেছে কিনা?

যারা জড়িত তারা দয়া করে এগুলোর উত্তর খুঁজে বের করুন।
জরুরী অবস্থার কালে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা নিষিদ্ধ তা'বলে সেনাবাহিনীকে আমরা মাথা দিয়ে দিতে পারি না।

তথ্য নিয়ে আসুন প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710126 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28710126 2007-05-11 15:31:08
আমার বাবার আমিই মা এবং আমার স্বামী আমারই সন্তান (উত্সর্গঃ সুমন চৌধুরী) আমিই সম্মানিতা এবং আমিই ধিক্কৃতা
আমিই পতিতা এবং আমিই পবিত্রা
আমিই স্ত্রী অথচ আমিই কুমারী
আমিই মাতা এবং আমিই কন্যা
আমিই আমার মায়ের সন্তান-সন্ততি
আমিই বন্ধ্যা এবং শত সন্তানের জননী
আমারই বিবাহ-উত্সব ছিল ভুবনখ্যাত
এবং আমিই কোনো স্বামী গ্রহণ করিনি

আমিই ধাত্রী এবং যে কিছুই ধারণ করে না
আমিই আমার প্রসব বেদনার শান্তনা
আমিই বর এবং আমিই কনে
আমার স্বামীই আমাকে জন্ম দিয়েছে
আমার বাবার আমিই মা এবং
আমার স্বামীর বোন এবং সে আমার অপত্য....

আমার কথায় মনোযোগ দাও
আমি সেই যে অসম্মানিতা এবং
একই সাথে শ্রেষ্ঠ।

উপরের কথাগুলো ধর্মগ্রন্থের কথাই মনে হয়। কিন্তু প্রচলিত পুরুষ-ঈশ্বরের বাণী নয় তা বক্তব্যে স্পষ্ট। এমন নারী-কণ্ঠে কোন নারী-ঈশ্বর কথা বলেছেন তা এখনও অজানা। তবে এই পবিত্র বাক্যসমূহ আবিষ্কার হয়েছে ১৯৪৫ সালে মিশরে, নাগ হাম্মাদি নামে খ্যাত দলিলগুলোর মধ্যে। এগুলো যীশু খ্রিস্ট মারা যাওয়ার দুশো বা তিনশ' বছর পরে লেখা। ধারণা করা হয় এখানো সোফিয়ার কথা বলা হয়েছে তবে ইসিসের কথাও হতে পারে এগুলো।

পুরুষ ঈশ্বরের সাথে নারী-ঈশ্বরের ধারণার মূল পার্থক্য ধরা পড়ে এখানে। নারী ঈশ্বর বহুমাত্রিক। তার চরিত্রের মধ্যে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত। সকল বৈপরীত্য একসাথে স্থান করে নিয়েছি। নারী-ঈশ্বর তাই একই সাথে প্রাচীন ও উত্তর-আধুনিক। তার মধ্যে একসাথে আছে পুরুষ ও নারী সত্ত্বা, আছে সৃষ্টি ও ধ্বংস।

(নারীকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে একক ঈশ্বরের প্রবক্তারা-৪)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28709316 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28709316 2007-05-06 07:04:28
নারী-ঈশ্বরকে মাটিচাপা দেয়ার জন্য শুধু পুরোহিতরা নয় প্রত্নতাত্ত্বিকরাও দায়ী মূল কথা ছিল নারীপ্রধান ‌বা মাতৃতান্ত্রিক একটা সমাজ যদি আদিকালে থেকে থাকে তবে সে সমাজে মাতৃমূর্তি বা নারী-ঈশ্বর বা দেবীদের উপাসনা হওয়ারই কথা। এখন আমরা একক ঈশ্বরের ধারণা পৃথিবীতে চালু হওয়া ও তার সাথে মহাদেবী বা নারী-ঈশ্বর পূজার বিরোধের সন্ধান করতে পারি।

বাইবেল ও কোরানে আদম-ইভের যে ঈশ্বরের গল্প আমরা পাই তার বয়স মানুষের চেয়ে অনেক কম। নবী মুহাম্মদকে আদমের ২৫ তম প্রজন্ম ধরে আদম ও তার সন্তানদের বয়সে উদার হাতে গ্রেস দিলেও আদমের স্বর্গপতনের ইতিহাস ৪৫০০ বছরের বেশি পুরনো বানানো যায় না। তবে ইসরাইল-আরবের এই ঈশ্বরের আগেও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মানবগোষ্ঠীর মধ্যে একক-পুরুষ-ঈশ্বরের যে গল্পকথা শোনা যায় তা প্রায় ১৪ হাজার বছরের পুরনো। অর্থাত্ আদমের ঈশ্বরের চেয়েও সে ঈশ্বর দশ হাজার বছর পুরনো।

কোনো সন্দেহ নেই, ঈশ্বরের ধারণা পৃথিবীর এক বিন্দুতে জন্ম হয়ে পরে তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে নি। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আলাদা আলাদা করে তাদের ঈশ্বর কল্পনা করেছে। এতো বিজ্ঞানের সূত্র নয় যে সর্বত্র একই যোগফল হবে। ধর্ম বরং কলা বা মানবিক শাখার মত; বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বিভিন্ন ভাবে ছবি আঁকবে বা কবিতা লিখবে, গল্প ফেনাবে। গোল বাঁধিয়েছেন কার্ল মার্কসের দেশি ফাদার উইলহেম স্মিদ। ১৯১২ সালে তিনি বই লিখলেন ‘দি অরিজিন অভ দি আইডিয়া অব গড‘। এতে তিনি তত্ত্ব দিলেন প্রিমিটিভ মনোথিইজমের। যার মোদ্দা কথা হচ্ছে পৃথিবীর সব অঞ্চলের সব আদিবাসীদের ধর্ম শুরু হয়েছে একজন আকাশ-ঈশ্বরের কল্পনা থেকেই। অন্যান্য দেব-দেবী যুক্ত হয়েছে পরে। যদিও স্মিদ, ক্যাথলিক ফাদার ছিলেন, যদিও তিনি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করতেন না, যদিও তিনি ফ্রয়েডকে গাল-মন্দ করতেন, তবু্ও তার এই তত্ত্ব চার্চ পার হয়ে সমাজবিজ্ঞানের অনেক শাখায় স্থায়ীত্ব পেয়েছে।
http://en.wikipedia.org/wiki/Wilhelm_Schmidt

নৃতাত্ত্বিকরা অনেক আদিবাসী সমাজে গিয়ে দেখতে পেয়েছেন যে তারা দূরবর্তী এক আকাশ-ঈশ্বরের কথা বলে তবে সে ঈশ্বর মানুষের কোনো কাজে সাড়া দেয় না বলে তারা বিভিন্ন শক্তির দেব-দেবী মূর্তি পূজা করতে বাধ্য হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ বিবৃতদাতার তাদের এসব আকাশ-ঈশ্বরের যে বর্ণনা দেয় তাতে পুরুষালী বৈশিষ্ট প্রধান, সুতরাং আদিম ঈশ্বরের একটা পুরুষমত ধারণা আমরা পাই।

http://en.wikipedia.org/wiki/Plutarch
এর বিপরীতে আমরা নারী-ঈশ্বর, মহাদেবীর কিছু কাহিনীও পাই। কিন্তু পুরুষ-প্রধান সমাজ ব্যবস্থায় নারী-ঈশ্বরের কথা কেউ জোরালো কণ্ঠে বলে না। তবু্ও ১০০ খ্রিস্টাব্দে গ্রিক ঐতিহাসিক প্লুটার্ক মহাদেবী ইসিস-কে চিহ্নিত করেন প্রকৃতির নারী উপাদান হিসেবে। প্লুটার্কের মৃত্যুর সময়কালে আরেক গ্রিক দার্শনিক এপুলিউস ‘দি গোল্ডেন এ্যাস‘ নামে এক বই লেখেন সেখানে দেখা যায় মহাদেবী ইসিস বলছেন:
‘আদিম ফ্রাইজিয়ানরা আমাকে ডাকতো পেসিনানটিকা, দেবতাদের মাতা; এথেন্সবাসী আমাকে ডাকে সেক্রোপিয়ান আর্টেমিস, সাইপ্রাস দ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে আমি পাফিয়ান আফ্রোদিতি, ক্রিটের শিকারীদের কাছে আমি ডিকটায়ানা, ত্রিভাষী সিসিলিয়ানদের কাছে প্রোসারপাইন। কেউ আমাকে চেনে জুনো নামে, কেউ চেনে বেলোনা নামে, কিন্তু ইথিওপিয়ানদের দুই গোত্র আর মিশরবাসী, যারা আদি বিদ্যায় বুত্পত্তি অর্জন করেছিল, ...তারা আমাকে ডাকে আমার আসল নামে, রাণী ইসিস।‘

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নারী-ঈশ্বর,মহাদেবী বা দেবীর পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে ঢুঁ মারতে পারেন:
http://www.mothergoddess.com/

অনেকেই অভিযোগ তোলেন, (এই ধারাবাহিক সম্পর্কে মন্তব্যতে সম্ভবত: যূথচারী বলেছিলেন) কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননেই নারী-‌ঈশ্বর বা মহাদেবীর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কথাটা অসত্য এবং ভুল তত্ত্বের কারণে বিভ্রান্তিতে সৃষ্ট মতবাদ। প্যালিওলিথিক যুগের খনন কাজে শুধু ইউরোপের ৩ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে প্রায় ১ হাজার নারী মূর্তি বা ছবির সন্ধান পাওয়া গেছে। যেগুলোর কিছু কিছু ২৭,০০০ খ্রিস্ট-পূর্বাব্দের।

http://en.wikipedia.org/wiki/Marija_Gimbutas
সমস্যা হচ্ছে এসব নারী-মূর্তি বা ছবির ব্যাখ্যায়। কেউ ব্যাখ্যা দিয়েছেন এগুলো কোনো বিশেষ নারীর প্রতিকৃতি, কোনো প্রাচীন সুন্দরী রমণীর ভাষ্কর্য, অথবা গ্রাগৈতিহাসিক পর্ণোগ্রাফি বা ইরোটিকা। আজ থেকে ৩০ হাজার বছর আগের মানুষ ইরোটিকার জন্য নারী-মূর্তি বানাতো এ শুধু পুরুষ প্রত্নতাত্ত্বিকদের পক্ষেই কল্পনা করা সম্ভব। এখানেই প্রমাণ, শুধু ধর্ম নয়, বিজ্ঞানও নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, যেহেতু কিছু পুরুষরা এর নেতৃত্বে ছিল বলে। মাত্র বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রত্নতাত্ত্বিক মারিয়া গিমবুতাস (১৯২১-১৯৯৪) ব্যাখ্যা দিলেন যে এসব মূর্তি হচ্ছে মিথোলজিক্যাল চরিত্র এবং বিভিন্ন ঋতুতে বা বিভিন্ন মিথকে পুনরানুষ্ঠান করার আশায় এসব মূর্তি ব্যবহৃত হতো। মারিয়া প্রথম ব্যাখ্যা দেন যে, প্রাচীন ইউরোপ ছিল নারী-ঈশ্বর/মহাদেবী কেন্দ্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক। অন্যদিকে ব্রোঞ্জ যুগের ইন্দো-ইউরোপিয়ান সমাজের সংস্কৃতি ছিল পিতৃতান্ত্রিক।বলাবাহুল্য, তার ব্যাখ্যা অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। কিন্তু মারিয়া মানুষের ইতিহাসে নারী ও নারী-ঈশ্বরের নতুন অবস্থান তৈরি করে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

এখন অনেকেই মনে করেন যে, এসব নারী-মূর্তির সাথে জমির উর্বরতা প্রার্থনা, নারী দেবীদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা, ঋতু-উপাসনা এবং মহাদেবী পূজার যোগসূত্র রয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28709270 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28709270 2007-05-05 15:11:52
নারীমূর্তি ভাঙায় ব্যস্ত পুরুষ ঈশ্বর (উত্সর্গঃ উত্স)
এই একটি বিষয়ে ধর্মে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী পুরুষেরা একমত। মানুষের কখনও নারী-ঈশ্বর ছিল না। তাদের জোর দাবী ঈশ্বর সর্বদাই পুরুষ ছিলেন। অর্থাত্ সমাজে নারীর মর্যাদা এত উঁচুতে কখনও ছিল না যে মানুষ সৃষ্টিকর্তার কল্পনা করতে গিয়ে তাকে নারী ভাবতে পারে। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিকরা দুনিয়ার গুহাচিত্র আর মূর্তির ধ্বংসাবশেষ ঘেঁটে শেষ কথা বলে দিয়েছেন যে এমন কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তারা পাননি। পাওয়া নাই যেতে পারে। শুধু মাটির নীচে পাওয়া জিনিসেই সত্য থাকে না, সত্য অন্যত্রও আছে, অন্যভাবেও সত্যকে পাওয়া যায়। আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিজে থেকে কথা বলে না, মানুষই এর ব্যাখ্যা দেয়। একেক ব্যাখ্যা একেক রকম হয়। তবু যুত্সই নারী-ঈশ্বর মূর্তি না পেয়ে এটাই চালু তত্ত্ব যে নারী কখনও ঈশ্বর হওয়ার যোগ্য ছিল না। এমনকি উর্বরতার দেবী নারী ছিলেন তার প্রমাণও তারা পান না।

তাই যখন মার্লিন স্টোন ১৯৭৬ সালে লিখলেন `হোয়েন গড ওয়াজ ওম্যান` তখন বিরোধীমতের লোকেরা হা রে রে রে করে তেড়ে আসলেন। তবে মার্লিন স্টোনের ব্যাখ্যার সূত্রে ৭০ ও ৮০-র দশকে চালু হলো রিলিজিয়াস ফেমিনিজম। এই মতের এক প্রবক্তা এলিজাবেথ ডেভিস লিখলেন `দ্য ফার্স্ট সেক্স' বইটি। যাতে তিনি দেখালেন মিথিওলজি, এ্যানথ্রোপলজি এবং ডিসিপ্লিন হিসেবে হাঁটি হাঁটি পা পা করলেও আর্কিওলজির সব তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করে যে সমাজ আগে মাতৃতান্ত্রিক ছিল। এবং মহাদেবীকে (গ্রেট গডেস) প্রতিস্থাপিত করে ইহুদি, খ্রিস্টান মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা প্রতিহিংসাপরায়ণ পুরুষ ‌ঈশ্বরের সৃষ্টি করেছে।

গত কিস্তিতে জ্বিনের বাদশা প্রশ্ন করেছেন আমার উষ্মাটা শুধু খ্রিস্টান ধর্মের উপর কিনা? না, অবশ্যই নয়। ইসলামের ইতিহাস অনেক বেশি প্রামাণ্য, অনেক সাম্প্রতিক। সেখানেও নারী-মূর্তি, নারী-দেবীর প্রতি আক্রোশ দেখতে পাই। একক ঈশ্বরকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নারী-দেবীদের ধ্বংস দেখতে পাই। পুরুষ প্রধান সমাজের ভ্যালুজ চালু করতে গিয়ে নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে তোলা দেখতে পাই।

মক্কা বিজয়ের পর নবী মুহাম্মদ কাবার মধ্যে ঢুকে পাগানদের দেবী-মূর্তিগুলোকে বাইরে এনে ভাঙ্গেন। এর মধ্যে ছিল লাত, উজ্জা ও মানাত। এরা পূজনীয় দেবী ছিল শুধু কুরাইশদের নয় সেই উত্তর আফ্রিকা থেকে যারা ফি বছর হজ্জ্ব করতে আসতো সেইসব পাগানদের। নবী মুহাম্মদ ও তার সঙ্গী-সাথীরা দেবীদের মূর্তি ভাঙেন কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মানুষের মূর্তি ভাঙেননি। মেরি ও শিশু যীশুর মূর্তি নবী ভাঙেননি। ভেঙেছেন সেসব নারীমূর্তি যারা থাকলে একক ঈশ্বরের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়। আর আল্লাহও চরম হুমকিতে থাকেন এসব মূর্তিগুলোর কাছে। তার একটা ব্যাখ্যাও তিনি দেন কোরানের সুরা আন নাজমের ২৩ নং আয়াতে।

نْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاء سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ وَلَقَدْ جَاءهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَى
(এগুলো কিছু নাম ছাড়া কিছু নয়, যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছো। এর সমর্থনে আল্লাহ কোনও দলিল নাজিল করেননি। .......)

মাটির নীচে প্রত্নতাত্ত্বিকদের হাতে আবিষ্কার হওয়ার মত নারী-ইশ্বর, নারী দেবীর মূর্তি থাকবে কি করে? যদি পুরুষের তলোয়ারের আঘাতে সেসব টুকরো টুকরো হয়ে যায়। লোককাহিনী থেকে আমরা সেসব কথা পেতে পারি। সেসব নারী দেব-দেবীর গল্পগাঁথা মনে করিয়ে দেয় একদা এমন সমাজ ছিল যখন নারীকে ঈশ্বর ভাবতেও মানুষের আপত্তি ছিল না।

একক ঈশ্বরের প্রবক্তারা গল্পে, মিথে থেকে যাওয়া দেবীদের, নারী-ঈশ্বরদের নামগুলো মুছতে পারেনি। মূর্তির মত এগুলো তো আর ভাঙা যায় না। তবে তার একটা বিকৃত ব্যাখ্যা চালু করেছে তারা। খ্রিস্টানরা পাগান নারী দেবীদের নাম চুরি করে এ্যাঞ্জেলদের নাম দিয়েছে আর তা দিয়ে গল্প চালু করেছে। যাতে পরবর্তীতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে নারী-ইশ্বরদেরকে ভুল করে খ্রিস্ট ধর্মের এ্যাঞ্জেল ভাবে। কোরানেও একই তথ্য দেখা যায়। একই সুরার ২৭ আয়াতে সেই ব্যাখ্যা পাই আমরা।
نَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَائِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَى

(যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারাই ফেরেশতাদের নারীর নাম দিয়ে থাকে।)

পাঠ্যপুস্তকে তাই আমরা ইসলামের আগের সময়কে জাহেলিয়াত বলেই পড়ি। পড়ি, `আরবের মানুষেরা তখন জীবন্ত কন্যাসন্তান কবর দিত`। অথচ মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রার নাম আমরা ইতিহাসে পাই। সেই যুগে নারীরা রাণী হতে পারতো? খাদিজা বিধবা হয়েও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হতে পারতো? তবু খাদিজার কর্মচারী থেকে স্বামী হওয়া মুহাম্মদ যখন নবী হলেন তখন তার প্রচারিত ধর্মের অনুসারীরা দাবী জানান ইসলামেই নারীকে সত্যিকার অধিকার দেয়া হয়েছে। তখন বিস্ময় লাগে। এই সেই ধর্ম যে ধর্মে নারী নেতা হতে পারে না, ইমাম হতে পারে না, রাষ্ট্রের অধিপতি হতে পারে না। অথচ ইতিহাস বলে, ইসলাম আসার আগে আরবের বেদুইন সমাজে নারীদের প্রভাব পুরুষদের চেয়ে কম ছিল না। (এখনও আরবের বেদুইন মহিলাদের স্বাধীনচেতা মনোবৃত্তি নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রকেই বিপাকে পড়তে হয়।)। উমর খলিফা হওয়ার আগে মক্কা ও মদিনার নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক ছিল না। নারীদের ভাগ্যের চাকা এই পেছনে ঘুরানোর প্রক্রিয়ায় এক ঈশ্বরের প্রবক্তাদের সক্রিয় ভূমিকার কথা ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। এ জানার জন্য মাটি খুঁড়তে হয় না, প্রত্নতাত্ত্বিক হওয়ার দরকার করে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28708663 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28708663 2007-05-02 06:47:24
নারীকে ক্ষমতাহীন করেছে একক ঈশ্বরের প্রবক্তারা-১ (উত্সর্গঃ জামাল ভাস্কর)
মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কোনও সমাজবিজ্ঞানীর কল্পনা নয়। খোদ বাংলাদেশের অনেক আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে এখনও চালু আছে নারী-প্রধান সমাজ ব্যবস্থা, মাতৃ-প্রধান পরিবার প্রথা। শুধু যেসব আদিবাসীর আঙ্গিনায় হানা দিয়েছে গির্জার পুরোহিতরা সেখানেই শুধু নারীর প্রভাব ক্ষয়ে গেছে বা যাচ্ছে। নারীর দেবীত্ব কেড়ে নিয়েছে ঈশ্বরের ক্রুশ।

খ্রিস্টান ধর্ম ক্রুশকে নিজেদের প্রতীক বানানোর আগে যে ক্রস চালু ছিল পাশ্চাত্যে তা ছিল সুইজারল্যান্ডের পতাকার ক্রসের মত। দুটি সমান রেখার ক্রস। নারী ও পুরুষের সমান গুরুত্বে ব্যালান্সড একটি প্রতীক। রোমানরা খ্রিস্টান ধর্মকে হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের বানানোর পর তারা তাবত্ চেষ্টা করেছে সমাজে নারীর ক্ষমতা ও ভূমিকাকে সংকুচিত করে ফেলতে।

ক্যাথলিকদের বই 'দি উইচেস হ্যামার' হচ্ছে মানব-সভ্যতার ইতিহাসে নারীকে ক্ষমতাশূন্য করে দেয়ার খুন-রাঙা দলিল। এর রচয়িতারাই মুক্ত চিন্তার নারী থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার প্রথম পরিকল্পনা নেয়। সব বিদুষী নারী, পূজারী নারী-পুরোহিত, জিপসি-নারী, মিস্টিক নারী-পীর-দরবেশদেরকে আখ্যা দেয়া হয় ‘ডাইনি‘ হিসেবে। পাওয়ামাত্র তাদেরকে খুন করার উন্মাদনায় মাতে ক্যাথলিকরা। চিকিত্সা জ্ঞানসম্পন্ন মিডওয়াইফ/ধাত্রীরা যারা সন্তানজন্মকে ব্যথামুক্ত করে প্রসূতিকে আরাম দিতে চাইতো তাদেরকে হত্যা করতো তারা। কারণ জেনেসিস-এর ঈশ্বরব্যাখ্যায় প্রসববেদনা নারীর পাপের শাস্তি- ইভের কর্মফল। ইউরোপজুড়ে তিনশ বছর ধরে এই ধর্মীয় উন্মাদনায় কম পক্ষে পাঁচ মিলিয়ন মুক্ত চিন্তার নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

জামাল ভাস্কর, আপনি এরপরও জানতে চান কি করে নারী তার সামাজিক প্রভাব ও ক্ষমতা হারালো?

(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28708375 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28708375 2007-04-29 20:48:19
মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠার সুলুক-সন্ধান-6(ক): পয়গম্বররা কি সিজোফ্রেনিক?
পয়গম্বরদের কালে তখনও এসব মানসিক রোগ আবিষ্কার হয়নি। কিন্তু রোগটা ছিলো। অনেক জাতি-গোষ্ঠীতেই এরকম আচরণকে অশরীরি আত্মা ভর করা, আছর হওয়া হিসেবেই দেখতো। এখনও পৃথিবীর অনেক পিছিয়ে পড়া জনপদে সিজোফ্রেনিক লোকদের অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন লোক বলেই মানুষ মানে। (বাংলাদেশেও উদাহরণের অভাব হবে না।)

পয়গম্বরদের আচার-আচরণ বা জীবন ইতিহাস আমরা ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থে পাই। তারা সিজোফ্রেনিক ছিলেন কি না বা থাকলে কতটা সিজোফ্রেনিক ছিলেন তা বুঝার জন্য আমাদের জানা দরকার সিজোফ্রেনিয়া অসুখটা কী?

একটা সাধারণ ধারণা আছে সিজোফ্রেনিয়া রোগে ভোগা লোকজনের দ্বৈত-ব্যক্তিত্ব (ডাবল বা স্প্লিট পার্সোনালিটি) রয়েছে। অর্থাৎ ভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে ভিন্ন ব্যক্তিত্ব দেখা যায়। তবে এ এখনও প্রমাণ-সাপেক্ষ বিষয়। অন্যদিকে, সিজোফ্রেনিয়ার মত মানসিক অবস্থাগুলোকে সাইকোসিস বলে। সাইকোসিস মানে হচ্ছে এতে আক্রানত্দ হলে মানুষের বাসত্দব-অবাসত্দব জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায়। তবে ঐ ব্যক্তি যে সবসময় অবাসত্দব কথাবার্তা বলবে বা আচরণ করবে এমন নয়, তার ঐ সাইকোসিস অল্প কিছু সময়ের জন্যও হতে পারে। বাকী সময় সে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে।

একটি মানুষ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রানত্দ কি না তা নীচের লক্ষণগুলো দেখে বুঝা যায়। সবার মধ্যেই একসাথে সব ক'টি লক্ষণ থাকতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। আক্রানত্দ হওয়ার মাত্রার উপর নির্ভর করবে কয়টি লক্ষণ বা লক্ষণের প্রাবল্য।

(পরবর্তী অংশের জন্য 6 খ পোস্ট পড়ুন।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28705169 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28705169 2007-04-06 17:09:51
মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠার সুলুক-সন্ধান-6( খ): পয়গম্বররা কি সিজোফ্রেনিক?
লক্ষণ 1: হ্যালুসিনেশন: একে বলা যায় ভুল দেখা। এ অবস্থায় মানুষটি যা দেখছে বলে ভাবছে তা আসলে ঠিক নয়। "সর, সর, আমার চোখের সামনে থেকে সর"- এ কথা রাস্তার পাগলদের বলতে আমরা দেখি। এই বলে আজো ওঝারা জি্বন-ভূত তাড়ায়। এই কথা বলেই পয়গম্বররা শয়তান তাড়াতেন। আবার অনেকেই দৃষ্টি বিভ্রমে ঘুম থেকে ওঠে ভোর বেলা আকাশের সমান লম্বা দরবেশ দেখে, ফেরেশতা দেখে, বিভ্রান্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সেই দৃশ্যবস্তুকে অনুসরণ করে হারিয়ে যায়।

লক্ষণ 2: কন্ঠস্বর শুনতে পাওয়া: সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রানত্দ মানুষ সব সময় শুনতে পায় তাদের মাথার ভেতর কে যেন কথা বলছে। আমি একজনকে চিনি যে, প্রযুক্তি-পছন্দ করতো বলেই হয়তো, আক্রান্ত হওয়ার পর বলতো স্যাটেলাইটের সব টিভি চ্যানেলের কথা সে তার মাথার ভেতর শুনতে পায়। তবে অন্য মানুষরা এসব শব্দকে বাসত্দব মানুষের, অশরীরি আত্মার, ফেরেশতার, বা ঈশ্বরের বলে মনে করে। একসাথে কয়েক ধরণের কন্ঠস্বর শোনে এরা। কোনো কণ্ঠস্বর থাকে শয়তানের, কোনোটা বা ঈশ্বরের, কোনোটা স্বগর্ীয় পিতা বা নবীর। শয়তান মাথায় দুবুর্দ্ধি দেয়, বলে অমুককে হত্যা করো, তমুককে ধর্ষণ করো, ওর কান কেটে ফেলো। আবার ঈশ্বর আশ্বাস দেন যে, তুমিই আমার প্রতিনিধি, নিশ্চয়ই সব মানুষ একদিন তোমার কথা শুনবে।

লক্ষণ 3: ডিলিউশন: ভ্রানত্দ বিশ্বাস। এরকম লোক মনে করে সে উত্তম কুমার - টালিউডের নায়ক, তার বিশাল ক্ষমতা আছে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার, সে ভবিষ্যতের নেতা-প্রেসিডেন্ট।
এরকম ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকেই মানুষ ভাবে সে পয়গম্বর, ঈশ্বর তাকে বাছাই করেছেন পাপ থেকে পৃথিবীকে উদ্ধার করতে।
বিভিন্ন রকমের ডিলিউশনে মানুষ ভুগতে পারে। তবে এর মূল কথা হলো সে নিজেকে এমন একটা কিছু বলে বিশ্বাস করে যার সাথে বেশিরভাগ যুক্তি-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ একমত হয় না।

কিছু উদাহরণ:
খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা সেইন্ট পল বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি "ঈশ্বরের এক মিশনে আছেন" কারণ তিনি সেরকম এক "দৃশ্য" দেখেছেন। বিটলসের গায়ক জর্জ হ্যারিসনকে চাকু মেরেছিলো যে আব্রাম, সেও ভাবতো, যে "ঈশ্বরের এক মিশনে আছে" (অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টার, 7/5/02, পৃষ্ঠা 121)।

অস্কার পাওয়া মুভি "দি বিউটিফুল মাইন্ডে" রাসেল ক্রো অভিনয় করেছিলেন নোবেল জয়ী অধ্যাপক জন ন্যাশের ভূমিকায়। ন্যাশ সিজোফ্রেনিক ছিলেন। তিনি তার শিশুদেরকে পানিতে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিলেন কারণ তার ভাষায় ঈশ্বর তাকে সেটা করতে বলেছেন।

2004 এ সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনা লিন্দকে ছুরি মেরেছিল যে যুবক সেও দাবী করেছে যে ঈশ্বর তাকে এই কাজের জন্য নির্বাচিত করেছে। তার নাম ছিল মিজালো। মিজালো কে আমরা এই দাবীর জন্য সিজোফ্রেনিয়াক ভাববো কিন্তু একই রকম দাবী যখন পয়গম্বররা করছেন তখন তাদেরকে আমরা প্রেরিত পুরম্নষ জ্ঞান করেছি। কেন?

সাইকিয়াট্রিক এ্যানথ্রোপলজিস্টরা নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। তারা বলছেন, একজন ব্যক্তি মানুষের হ্যালুসিনেশন বা ডিলু্যশনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই চালু হয়েছে নতুন নতুন ধর্ম। অর্থাৎ পয়গম্বরদের মানসিক বৈকল্যের কারণে ভুল দেখা ও ভুল শোনার উপর দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধর্ম। তাদের এসব কথায় প্রথমেই বিশ্বাস করেছে তাদের পরিবারের সদস্যরা, বন্ধু-স্বজনরা, তারপর ধীরে ধীরে নানা অলৌকিকতার গাল-গল্পে সমর্থক-ভক্তদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ধর্মটি একসময় রূপ পেয়েছে বিরাট প্রতিষ্ঠানের। (তবে সবার প্রচারিত ধর্মই বড় হয় না, সবাই পয়গম্বর হিসেবে সফলও হয় না, তারা তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তাদের জনপদ থেকে এবং মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত হিসেবেই মারা যায়।) (সূত্র: Littlewood, R. (1984) The imitation of madness: the influence of psychopathology upon culture. Social Science and Medicine, 19, 705 -715.)

ধর্মের প্রতিষ্ঠা ও পয়গম্বর হয়ে ওঠার এই সাইকো-এ্যানালাইটিক্যাল ব্যাখ্যা আপনাকে এক কথায় মেনে নিতে হবে তা বলছি না। তবে টেম্পোরাল লোব এপিলেপ্সি আর সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলো পড়ুন, তারপর আপনার চেনা-জানা পয়গম্বরদের জীবনী গ্রন্থে আবার চোখ বুলান। দেখুন ভুল দেখা, ভুল শোনার কত মরতবা পৃথিবীতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28705168 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28705168 2007-04-06 17:06:21
পয়গম্বর নিয়ে প্রশ্নব্যাংক বহিভর্ূত অপ বাকের প্রশ্ন
অপ বাকের মূল প্রশ্ন পয়গম্বরের সংখ্যাটি কোথা থেকে এলো? সেই সাথে অপ বাক এই ব্লগ সাইটে আলোচিত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতেও আলো ফেলেছেন। অপ বাকের লেখা দীর্ঘ হলেও তার প্রশ্নগুলো বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না। যদিও তিনি দক্ষ সাতারুর মত এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে যাওয়া-আসা করেন, তবু বিভিন্ন ফুল দিয়ে গাঁথা তার মালাটি খুবই শিল্প শিল্প হয়।

তার লেখায় মনে হতে পারে তিনি প্রশ্নটা করেছেন জনাব সাদিককে। যদিও প্রশ্নটা পুরো ধর্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির প্রতি। তবে যেকোনো মুহুর্তে জনাব রিউ এসে বলতে পারেন যে অপ বাক আরজ আলী মাতুব্বরের বই পড়ে এই প্রশ্ন তুলেছেন। এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দায়-দায়িত্ব অবশ্যই অপ বাকের।

অপ বাকের চিন্তা-ভাবনার একটি বিষয় অত্যন্ত লক্ষণীয়। তা হলো, পূর্বপুরুষ ও মুরুব্বীদের কথা, সংখ্যা, তত্ত্ব ও তথ্যের প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা। তাদের কথাকে তিনি এক বাক্যে ছুঁড়ে ফেলে দেন না। বরং শিশুর সারল্যে জানতে চান এমন উদ্ভট তত্ত্বের উৎস কী? টেক্সট বুক বোর্ডের বইতে পয়গম্বরের সংখ্যাটি তিনি মনোযোগী ছাত্রের মত বিশ্বাস করেছিলেন শিশুবেলায়, অন্তত: তার প্রশ্নের ফর্ম্যাটে মনে হয়। এবং এখন আরো নানা তথ্যে ও তত্ত্বে পুষ্ঠ হওয়ার পর এসব সংখ্যা, তত্ত্ব ও তথ্যের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বিনয়ী প্রশ্ন তুলেছেন। (আমি অবশ্য এসব সংখ্যা/তত্ত্বের বিষয়ে তার মত যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নই। আমি বলবো না এসব মনগড়া সংখ্যা, তবে এরকম সংখ্যা কেউ গুনেনি তা আমরা একরকম নিশ্চিত।) তবে মিস্টিকরা যখন থেকে ধর্মের নতুন একটা ব্যাখ্যা দিতে শুরু করলো, তখন থেকে এসব সংখ্যা এবং বিশদ বর্ণনার একটা নতুন তাফসির আমরা পেয়েছি। যেহেতু এসব সংখ্যা প্রমাণ করা সম্ভব নয়, সেহেতু তারা বলে যে এসব সংখ্যা/দৃশ্য আসলে সিম্বল, প্রতীক; এর অন্য অর্থ আছে।

একইরকম ভাবে আদম 60 হাত লম্বার একটি ব্যাখ্যা দেয়া হতে পারে যে প্রাচীন আরবীতে 60 শব্দের আরেকটি অর্থ হলো অনেক। আদম অনেক লম্বা বুঝাতেই 60 হাত বলা হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি।

নতুবা অপ বাকের মত পোস্টারুরা এসে প্রশ্ন করবেন, 60 হাত লম্বা লোকটিকে কোথায় কব্বর দেয়া হয়েছে? সেই কব্বর কত হাত লম্বা? আর আদম যদি 60 হাত হয়, তবে বিবি হাওয়া নিশ্চয়ই 50 হাত ছিল, না হলে দুজন দুজনের সাথে যোগাযোগ করতো কি করে? তাদের বাচ্চা কাচ্চারা কি 60 হাত লম্বা হয় নাই? তারা কি হঠাৎ করেই 4 হাত লম্বা হয়ে গেল? নাকি ধীরে ধীরে ছোট হতে লাগলো? তার মানে কি মানুষ ক্রমশ: খর্বাকায় হয়ে যাচ্ছে? তাহলে চীন-কোরিয়ার লোক লম্বা হচ্ছে কেন-তারা কি একই আদমের সন্তান না?

এমন প্রশ্ন তোলা হলে তখন জনাব রিউ এসে বলবেন, এসব প্রশ্ন আপনারা আরজ আলী মাতুব্বরের বই পড়ে শিখেছেন। (জনাব রিউ সম্ভবত: এসএসসির বিভিন্ন বিষয়ের উত্তরগুলো মুখস্থ করার সাথে সাথে প্রশ্নগুলোও মুখস্থ করেছিলেন, নতুবা পরীক্ষার হলে কি করে বুঝবেন কোন উত্তর তিনি কোন প্রশ্নের জবাবে লিখবেন। অথবা তার ধারণা পৃথিবীর সব প্রশ্ন টেস্ট পেপারের মত বা প্রশ্নব্যাংকের বইতে পাওয়া যায়। তা থেকেই মানুষ প্রশ্ন করে।)

যা হোক, জনাব রিউ-এর প্রশ্নের পর দীক্ষক দ্রাবিড় এসে বলবেন, রূপকথার গল্প হলিউডের লোকজন খুব ভালবাসে। তারা রূপকথা দিয়ে এনিমেশন ছবি বানায় যা বাচ্চারা দেখে এবং একইরকম রূপকথা দিয়ে তারা ধর্ম-ধর্ম ছবিও বানায়, সেগুলো আবার বুড়োরা দেখে।

(এসব কথায় সামহোয়ারইন যথেষ্ট মাইন্ড খাবে না, কারণ তাদের আলেক্সা র্যাংক তরতর করে 96 হাজার থেকে 76 হাজারে চলে আসবে। এখানেও সংখ্যার এক জাটিল্য। সংখ্যা কমে যাওয়াও অগ্রগতি। তবে সবচে' বড় অগ্রগতি হলো প্রশ্নব্যাংকের মুখস্থ প্রশ্নের বাইরের প্রশ্ন করতে শেখা, তার উত্তর খুঁজতে শেখা। আর যারা শেখা প্রশ্নের বাইরে প্রশ্ন দেখলে মূচ্র্ছা যায় তাদেরকে প্রাপ্তবয়স্ক করে তোলা। জরুরি ভীষণ জরুরি।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28705033 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28705033 2007-04-05 06:33:46
মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠার সুলুক-সন্ধান-5: নবী ইজিকিয়েল ও এপিলেপ্সি
ইজিকিয়েল নিজের মাথার ভেতর ঈশ্বরের নির্দেশ শুনে ডান পাশে কাৎ হয়ে শুয়েছিলেন 390 দিন তারপর পাশ ফিরে শুয়েছিলেন আরো 40 দিন, মানুষের বিষ্ঠা দিয়ে তার খাবার রান্না করেছিলেন, নিজের বাড়িতে গর্ত করে তার ভিতরে লুকিয়ে ছিলেন গজবের ভয়ে (ইজিয়েল, 4:9)। (ধর্মবেত্তারা অবশ্য ইজিকিয়েলের এসব কর্মকান্ডকে সিম্বলিক ও ঈশ্বরের রহস্যময়তা বলে ব্যাখ্যা করার একটা চেষ্টা করে থাকেন)। কিন্তু নিউরোটিক, নিউরোটিকই, সে নেপোলিয়নই হোক, জুলিয়াস সিজারই হোক আর নবী-পয়গম্বরই হোক।

নবী ইজিকিয়েলের মধ্যে এপিলেপ্সির রোগের অন্যান্য লক্ষণও দেখা গেছে। যেমন তিনি বাতিকগ্রস্তের মত লিখতেন শুধু লিখতেন। যাকে বলে হাইপারগ্রাফিয়া। তাছাড়া আগ্রাসী ধরনের ধার্মিক ছিলেন ইজিকিয়েল। ডিলিউশন, ধর্মের বিষয়ে আগ্রাসী মনোভাব ছাড়াও এই ধরনের মৃগীরোগের আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে ধর্মীয় আদেশ-নিষেধ বিষয়ক বক্তৃতাবাজি করা। ইজিকিয়েলের এই সবকিছুই ছিলো বলে জানিয়েছেন প্রফেসর এরিক। নিউরোসাইন্সের এই তত্ত্ব-প্রমাণের পর ইজিকেয়েলের বই পড়তে হবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। তাহলে এসব ধর্মগ্রন্থ রচনার নতুন একটা অর্থ ধরা পড়বে।

ইজিকিয়েলের মত অনেক পয়গম্বরের ক্ষেত্রেই সাইকোটিক, এপিলেপটিক, সিজোফ্রেনিক, অথবা হিস্টেরিক এসব অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের নিউরোটিকের কাছ থেকে শোনা ধর্মকথার সারবত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকরা। তবে মানুষ থেকে পয়গম্বর হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে সন্দেহের চোখেই দেখেন নিউরোসাইন্সের লোকজন। তাদের অনেকেরই মতামত ধর্ম মূলত: নিউরোসিস ও পলায়নপর মনোবৃত্তির ফসল (জার্নাল অব বাইবেল এন্ড রিলিজিয়ন, ভলিউম-21, নং-4, পৃষ্ঠা 244) ।

সাইকোলজির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলে আমরা পয়গম্বরদের প্রফেসির রহস্যের একটা সমাধান পাই। তাদের অস্বাভাবিক সব দাবী আর অসম্ভব সব বিশ্বাস, অদ্ভুত সব শব্দ বা কণ্ঠ শোনা, অবিশ্বাস্য সব দৃশ্য দেখার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এ থেকে। সরাসরি পরীক্ষা করার মত নবী-পয়গম্বর হাতের কাছে এখন পাওয়া কঠিন। তবে মানসিক হাসপাতালের রোগীদের আচরণ থেকে যেটুকু বুঝা যায় তাতে সন্দেহ নেই সাইকোলজির ব্যাখ্যা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।

তবে কি পয়গম্বরত্ব একধরনের মানসিক ব্যাধি? শ্রুতি ও দৃষ্টি বিভ্রমের শিকার মানুষের বাস্তবতাবর্জিত কল্পনার প্রকাশ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28704929 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28704929 2007-04-04 10:18:41
মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠার সুলুক-সন্ধান-4: এ্যাবনর্মাল সাইকোলজি
কিন্তু মানুষ থেকে পয়গম্বর হয়ে ওঠার পথে তারা নিজেরা এমন কিছু দেখার ও শোনার দাবী করেন যা তাদের চারপাশের মানুষ দেখতে ও শুনতে পায় না। যেমন আমরা মুসা নবীর কাছ থেকে শুনতে পাই যে তার মাথায় কেউ কথা বলে অবিরাম। কিন্তু আশে-পাশের কেউ সেসব কথা শুনতে পায় না। নবীদের কাছ থেকে আমরা জানি ভরা আসরে জিব্রাইল এসে দাঁড়ায়, তাদেরকে ওহি দেয়, কিন্তু আসরের অন্য কেউ জিব্রাইলকে দেখতে পায় না। অশরীরি অস্তিত্বের সাথে পয়গম্বরদের যোগাযোগের, কথোপকথনের ও লেন-দেনের এমন কিছু অলৌকিক, অস্বাভাবিক ও অপ্রমাণযোগ্য গল্প আমরা শুনেছি। তারা এসব মিথ্যা করে বা বানিয়ে বলেছেন এমন মনে হয় না।

নবী পয়গম্বরদের বর্ণনায় বুঝা যায়, তারা যা বলেছেন তা তারা নিজেরা বিশ্বাস করেন ও অন্যদের বিশ্বাস করা জরম্নরি বলেও মনে করেন। এসব বিশ্বাসের ভিত্তিতে নতুন ধর্ম চালু হয়ে যায় এবং যারা এসবে বিশ্বাস করে না তারা অবিশ্বাসী বা বিধর্মী ঘোষিত হয়। পয়গম্বরদের এইসব মানব-অসম্ভব কার্যকলাপকে মনোবিজ্ঞান বা সাইকোলজির আলোকে অস্বাভাবিক বা এ্যাবনর্মাল মনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া মনে হয় (জার্নাল অব রিলিজিয়ন এ্যান্ড হেলথ, ভ: 13, নং:3 পৃষ্ঠা 194-200)।

পয়গম্বরদের মনের তিন ধরনের বিশেষ অবস্থা লক্ষণীয়। যা তাদেরকে মানুষ থেকে আলাদা করে তোলে; ক) অনুপ্রেরণা: মানসিক উত্তেজনার এমন একটা স্তর যখন বাস্তব সমস্যা-অসুবিধাগুলো নিয়ন্ত্রণ মন অস্বীকার করে, খ) এক্সট্যাসি বা উদভ্রান্তের মত উদ্বেলিত অবস্থা: যখন বাস্তব হিতাহিত জ্ঞান কিছুক্ষণের জন্য লোপ পায়, গ) দৃষ্টি ও শ্রবণ বিভ্রম : স্বপ্ন বা বিভ্রমের শিকার হয়ে নিজের কল্পনার মত দৃশ্য দেখতে পাওয়া ও কথা শুনতে পাওয়া।

ছোটবেলা থেকেই যেকোনো সাধারণ মানুষকে শেখানো হয় পয়গম্বরদের মত আদর্শ মানুষ হতে। কিন্তু কী সেই উপায়? মন ও চিনত্দার কোন অবস্থায় মানুষ হয়ে ওঠে পয়গম্বর। সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাটা কঠিন কিন্তু এর উত্তর জানাটা মানুষ ও সভ্যতার জন্য জরুরি।

এ পর্যায়ে প্রশ্ন হচ্ছে, মনের বিশেষ অবস্থার কারণেই কি একজন মানুষ অতি-মানুষ, মহা-মানুষ, বা পয়গম্বর হয়ে ওঠে, অথবা হয়ে উঠেছে বলে নিজের মনে বিশ্বাস করে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28704924 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28704924 2007-04-04 09:32:29
মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠার সুলুক-সন্ধান-3
ঈশ্বর তার অসত্দিত্ব নিশ্চিত করতে কিছু পয়গম্বরের - কেউ গ্রন্থসহ, কেউ গ্রন্থছাড়া- বেশি পৃথিবীতে কিছুই পাঠাতে পারেন না। সেসব পয়গম্বররা, কুষ্ঠরোগীকে রোগমুক্ত করে দেয়ার, চাঁদকে আঙুলের ইশারায় ভাগ করে দেয়ার, সূর্যকে মাঝ আকাশে থামিয়ে দেয়ার, সাগরের মাঝ বরাবর রাসত্দা করে হেঁটে যাওয়ার, দেবদূতের সঙ্গে উধ্র্বাকাশে উড়াল দেয়ার, বিচিত্র ঘটনা ঘটিয়ে ঈশ্বরের ক্ষমতার প্রমাণ দেখান পৃথিবীতে। ঈশ্বর তার ক্ষমতার তার অসত্দিত্বের তেমন প্রমাণ দেখাতে পারেন, যতটা পারেন পয়গম্বররা; ইতিহাস তাই বলে। তা কিছু অনুসারীরা হয়তো দেখে, অধিকাংশ লোক না দেখেই, পয়গম্বরের ক্ষমতার বর্ণনা শুনে মুগ্ধ হয়ে তার ধর্মকে, তার ঈশ্বরকে, তার গ্রন্থকে বিশ্বাস করে। তারপর কবুল করা ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে পৃথিবী জুড়ে ভিন্নধর্মের, বা বিধর্মীদের মুন্ডুপাত করে।

পয়গম্বর মুসা তার জাতিকে জানান যে; পাহাড়ে তার সাথে ঈশ্বরের কথা হয়, - ঈশ্বর যদি তার সাথে কথা কইতে পারেন তবে অন্যের সাথে কইতে অসুবিধা কী? অত:পর অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর বৃষ্টি-বাদলের রাতে ঈশ্বর নবী মুসাকে দেখা দেন - ঈশ্বর আগুনের, তাই পাহাড় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন কি শুধু মুসাই দেখতে পেতেন সেই কালে, আর কেউ পেত না? তবে ঈশ্বর সেই কালেও আর কারো সামনে আসেন না। দুই খন্ড পাথর দেন তিনি নবী মুসাকে। সেই পাথর খন্ডে ঈশ্বর নিজ হাতে লিখে দেন দশটি নির্দেশনামা। একটি পাথর ভেঙে যাওয়ার পর ঈশ্বর আবার নতুন করে মুসাকে আরেকটি পাথর দেন। সেসব গল্প আমরা শুনি। কিন্তু পাথর খন্ডগুলো আর পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাই না। ঈশ্বরের চাঁদ, ঈশ্বরের সূর্য তেমনই আছে, কিন্তু তার স্বহসত্দলিপি, তার নির্দেশনামা লেখা পাথরখন্ড পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যায়, কি বিস্ময়কর!

যেসব মানুষরা এরকম পয়গম্বর হয়ে ওঠে, তারা ঈশ্বরের সাথে তাদের সোল এজেন্সির এমন সব গল্প-গাঁথা বলে তা শুনে আমরা শিহরিত হই, কিন্তু আশ্বসত্দ হতে পারি না। ঈশ্বর কি তবে শুধু পয়গম্বরদের? কেন ঈশ্বর মানুষে মানুষে আসতে পারেন না, জনে জনে নির্দেশ নামার পাথর বিলাতে পারেন না, দেশে দেশে পাহাড়ে পাহাড়ে এসে উঁকি দিয়ে যান না।

পয়গম্বরদের গাল-গল্পের সাথে এই যে আমাদের যুক্তি-বুদ্ধি মেলে না সে দোষ কার? ঈশ্বরের নাকি মানুষ হয়ে ওঠা পয়গম্বরের। যেহেতু ঈশ্বর আমাদের কাছে আসেন নি, যেহেতু পয়গম্বররাই বিভিন্ন দাবী নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সেহেতু দায়ভার মানুষের পয়গম্বরদের ওপরই বর্তায়। তবু জরুরি প্রশ্নটাই পয়গম্বরদের করা হয় না;

ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, তবু মানুষের কাছে তার পরিচয় তুলে ধরতে কেন তার পয়গম্বর লাগে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28704254 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28704254 2007-03-30 05:34:43
যার নির্দেশে আকাশে সূর্য থেমে গেল -2 : মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠা
পয়গম্বর ও তার যোদ্ধা বড় ভাই মিলে ফোর্ট গ্রিনভিলে সাদাদের প্রভাবমুক্ত এক শহরের পত্তন করলেন। যার নাম হলো পরবর্তীতে 'প্রফেটস্ টাউন'। পয়গম্বরের নগর। তিনি তখন রেড-ইন্ডিয়ানদের বিভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছেন, সেগুলোকে সাদাদের শয়তানীমুক্ত করছেন ঈশ্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, আর দলে দলে রেড-ইন্ডিয়ানরা তার ধর্ম বরণ করে নিচ্ছে। ইন্ডিয়ানার গভর্নর উইলিয়াম হ্যারিসন (পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট) পয়গম্বরের এই অগ্রযাত্রায় প্রমাদ গুণলেন। কারণ পয়গম্বর ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন ইন্ডিয়ানা, ইলিওনয়, মিশিগান ও উইসকনসিনে যে ভূমি কিনেছেন বলে গভর্নর দাবী করছেন তা ধর্মবিরুদ্ধ।

গভর্নর তখন দেশবাসীকে হুশিয়ার করে সংবাদ পাঠাতে শুরম্ন করলেন যে, টেনসকাওয়াতাওয়া একজন জোচ্চোর, প্রতারক, একজন ভন্ড পয়গম্বর। ডেলওয়ারের অধিবাসীদের পরামর্শ দিলেন হ্যারিসন যে, টেনসকাওয়াতাওয়া যদি সত্য পয়গম্বর হবেন, তবে কোথায় তার স্বগর্ীয় ক্ষমতা। "তাকে বলো যে, তার ক্ষমতা থাকলে সূর্যকে থামাতে, চাঁদের গতি পরিবর্তন করতে, নদীর স্রোতধারা বদলে দিতে, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে তুলতে। তবেই না মানবো সে সত্যিকার পয়গম্বর"।

হ্যারিসনের এই চ্যালেঞ্জে দমে গেলেন না টেনসকাওয়াতাওয়া। তার ভাই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে নিষেধ করলেন তাকে। পয়গম্বর শুধু আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে বললেন, সদাপ্রভু তুমি তোমার ধর্মকে জয়ী করো। তোমার পয়গম্বরকে জয়ী করো। তারপর পয়গম্বর হ্যারিসনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। পয়গম্বর জানালেন 1806 সালের 6 জুন তারিখে তিনি সূর্যকে গ্রিনভিলের আকাশে থামিয়ে দেবেন।

পয়গম্বরের জানানো তারিখ ও সময়ে বিপুল সংখ্যক জনতা জড়ো হলো পয়গম্বরের ঐশি ক্ষমতা নিজ চোখে দেখতে। পয়গম্বরের ইশারায় সূর্য থেমে গেলো আকাশে। গ্রিনভিলের মানুষেরা দেখলো এক নাটকীয় সূর্যগ্রহণ। পয়গম্বরের সত্যতা নিয়ে রেড-ইন্ডিয়ানদের আর কারো মনেই কোনো সন্দেহ রইলো না। তার জনপ্রিয়তা বাড়তে লাগলো, তার ধর্মানুসারীদের সংখ্যা বাড়তে লাগলো। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সাদা বাসিন্দারা সন্দেহ প্রকাশ করে বললো, কোনোভাবে টেনসকাওয়াতাওয়া আগেভাগে জেনে গিয়েছিলেন সূর্যগ্রহণের কথা। তার এসবই ভন্ডামি। কিন্তু দলে দলে তীর্থযাত্রীরা আসতে শুরু করলো পয়গম্বরের গ্রামে। আর তিনি তার ঐশি ক্ষমতায় তাদের রোগ-শোক দূর করে দিতে থাকলেন মুহুর্তের মধ্যে।

ঈশ্বরের নির্দেশে পয়গম্বর তার জাতিকে আলো ও সত্যের পথ দেখান। সাদাদের বিরম্নদ্ধে অনেক যুদ্ধে তিনি ও তার বড়ভাই সাফল্যের সাথে নেতৃত্ব দেন। কিন্তু 1813-তে টেমসের যুদ্ধে যখন বড়ভাই টেকুমসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হ্যারিসনের হাতে নিহত হলেন তখন মনোকষ্টে পয়গম্বর তার অনুসারীদের নিয়ে হিজরত করলেন কানাডায়।

অন্যদিকে হ্যারিসন 1840-এ নির্বাচিত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তাতে কি? পয়গম্বরের অভিশাপ তো ছিলই। দায়িত্বগ্রহণের মাত্র একমাসের মধ্যে পরাক্রান্ত সেনাপ্রধানকে আক্রমণ করলো সামান্য ঠান্ডাজ্বর এবং তাতেই তিনি মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়লেন। তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি ক্ষমতায় থাকতেই মারা যান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পয়গম্বরের অভিশাপে বিশ বছর পর পর আমেরিকার প্রেসিডেন্টরা এভাবে ক্ষমতায় থাকতেই দেখছেন মৃতু্যর মুখ। 1860/1880/1900/1920/1940/1960 এই বছরগুলোতে নির্বাচিত হওয়া প্রেসিডেন্টরা গদিতে থাকতেই মৃতু্যবরণ করেন। 1980-তে এসে রোনাল্ড রিগ্যান যখন আততায়ীর গুলি খেয়েও বেঁচে গেলেন তখন যুক্তরাষ্ট্রবাসী হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলো এই বলে যে পয়গম্বরের অভিশাপ ভেঙে হয়তো মুক্তি পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট হ্যারিসনের মৃতু্যর আগেই দেশে ফিরে এসেছিলেন পয়গম্বর। 1837 এ তার তিরোধানের আগে তিনি বিশ্বাসীদের শুনিয়ে গেছেন ঈশ্বরের আশ্বাস বাণী। "অবশ্যই একদিন পয়গম্বরের মাতৃভূমি মুক্ত হবে সাদাদের শোষণ-শাসন থেকে"। পয়গম্বরের তিরোধানের পর তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আরো অনেকে নিজেদের ঐশিক্ষমতার কথা দাবী করেছে। কিন্তু তারা কেউ জাতিকে মুক্তি এনে দিতে পারেননি, ঐক্যবদ্ধও করতে পারেননি।

পয়গম্বর ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন যে, তারপর এক মহিলা নবী আসবেন, কিন্তু তাকে হত্যা করা হবে। এবং একজন বালক নবী আসবেন এবং রেড-ইন্ডিয়ান জাতির উচিত সেই বালক-নবীর কথা শোনা। তার অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য হয়েছে। তিনি বলেছিলেন হটকাগারা উপজাতি তাদের মুখের ভাষা লিখতে সক্ষম হবে। পরে তা সত্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, এমন একদিন আসবে যেদিন বৃক্ষ তার শেকড় থেকে মুক্ত হবে এবং পৃথিবী ভ্রমণ করবে। যেদিন তার জাতভাইরা দেখলো পাহাড়ের বৃক্ষকে মানুষ শেকড় থেকে আলাদা করছে এবং ট্রেনে বা জাহাজে করে নিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর অন্যপ্রানত্দে সেদিন তারা বেদনায় অশ্রম্ন ফেললো। তাদের পয়গম্বর কত প্রজন্ম আগে তাদেরকে এসব কথা আগাম জানিয়ে গিয়েছিলেন।

তাদের পয়গম্বরের বাকী কথাগুলোও সত্যে পরিণত হবে এই আশায় এখনও বুক বেঁধে আছে রেড-ইন্ডিয়ান জাতির বিশ্বাসীরা। এখনও তারা ছোঁয় না সাদাদের হুইস্কি, প্রেমে পড়ে না সাদা নারীর। ঘরে পোষে না সাদাদের আনা ইউরোপের কুকুর ও বেড়াল। এখনও তারা স্বপ্ন দেখে বালক নবীর। যে তাদের মাটিকে স্বাধীনতা এনে দেবে, মুক্ত করবে সাদা দসু্যদের হাত থেকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703888 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703888 2007-03-28 06:02:53
মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠা-2: যার নির্দেশে সূর্য থেমে গেল আকাশে-1
সমস্যা এই ইতিহাসেই। ইতিহাস কোথায় পাওয়া যায়? কে লিখবে ইতিহাস? 1971 এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে 1991 তেই পাওয়া যায় নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য। আর পৌরাণিক ইতিহাসের সত্যাসত্য নির্ধারণ করার উপায় কী? প্রধান প্রধান পয়গম্বরদের সত্যিকার ইতিহাস পাওয়া দুরুহ (ড্যান ব্রাউনের দ্য ভিঞ্চি কোড বা জন ক্যামেরনের কফিন আবিষ্কারের কথা ভাবুন)। এসব ইতিহাস থেকে পয়গম্বরদের উত্থানকে বুঝতে গেলে সমস্যা দেখা দেয় অন্তত: তিন রকমের; ক) অনুসারীরাই মূলত: পয়গম্বরের জীবনেতিহাসের প্রথম বয়ানকারী। সুতরাং সেগুলো পক্ষপাতদুষ্ট, ফোলানো-ফাঁপানো, মিথিক্যাল। খ) অনগ্রসর জাতি-গোষ্ঠীর পক্ষে এসব ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। সঠিক ঐতিহাসিক বয়ান পাওয়া না, জবাব পাওয়া যায় না অনেক প্রশ্নের, একারণেই। গ) পরবর্তীতে আসা অন্য কোনো ধর্মের ষাঁড়দের দ্বারা বা পরাক্রমশালী সম্রাটের বাহিনীর দক্ষযজ্ঞে ইতিহাসের অনেক চিহ্নই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং পয়গম্বরদের প্রকৃত জীবনী এখন আমরা আর ঠিকঠাক জানতে পাই না।

সুতরাং মানুষের পয়গম্বর হওয়া বুঝতে এমন একজনকে বেছে নেয়া উচিত যার সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। পক্ষ-বিপক্ষের অনেকগুলো সূত্র থেকে তার তথ্য যাচাই করা যায় এরকম একজন পয়গম্বরকে এখানে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। কয়েকটি কারণে এই উদাহরণ আমাদেরকে পয়গম্বরত্ব লাভ সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা দেবে:

1. এই পয়গম্বর আধুনিক কালের হলেও অনগ্রসর সমাজের সদস্য। বর্তমান সময়ের অনগ্রসর সমাজের মানুষের আচার-আচরণ থেকে আমরা সহজে সভ্যতার উষালগ্নের মানুষের সমাজব্যবস্থা একটা স্পষ্ট ধারণা পেতে পারি।
2. আধুনিক সময়ের বলে তার সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি নেই।
3. পয়গম্বর হিসেবে তিনি তার সমাজ-জাতিকে কাঙ্খিত মুক্তি এনে দিতে পারেননি। পয়গম্বর হিসেবে তার এই ব্যর্থতা পৃথিবীর প্রতিষ্ঠিত 2/3 টি ধর্ম বাদে বাকী বিপুল সংখ্যক ব্যর্থ পয়গম্বরদের সম্পর্কে অনুমান করতে সাহায্য করবে।

পয়গম্বরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: আমাদের আলোচ্য এই পয়গম্বর জন্মেছিলেন উত্তর আমেরিকায়। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের কথা। ইউরোপ থেকে সাদা চামড়ার লোকেরা দলে দলে এসে তখন দখল করে নিচ্ছে উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তর। পয়গম্বরের জাতির জন্য নেমে এসেছে চরম দুর্দিন। তারা তখন বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত, দলাদলিতে লিপ্ত, কেউবা ইউরোপিয়ানদের দালালিতে রত। ইউরোপিয়ানদের আনা মদ ও সসত্দা চাক্যচিক্যময় ভোগ্যপণ্যের মোহে পড়ে (রেড)ইন্ডিয়ান জাতির অনেকেই তখন বিভ্রান্ত। সাদা চামড়ার লুটেরাদের হাতে তখন তারা নির্যাতিত হচ্ছে, আটকা পড়ছে, হয়ে পড়ছে দাস। এসময় রেড ইন্ডিয়ানদের মাঝে একজন জেগে উঠলেন, তার নাম টেকুমসে। তিনি বললেন, "মহান ঈশ্বর হচ্ছেন আমার পিতা। এই মাটির পৃথিবী আমার মা।" তিনি বললেন, এই মাটি সমষ্টিগতভাবে সব রেড ইন্ডিয়ানদের সম্পত্তি। একক কোনো মালিক নেই এই মাটির। কেউ চাইলেই ব্যক্তিগতভাবে এর কোনো অংশ বিক্রি করতে পারে না। টেকুমসে'র এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদখলে বিরাধ বাধা হয়ে দাঁড়ালো। যুদ্ধ লাগলো সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানদের সাথে ভূমিপুত্রদের।

টেকুমসে' এখানে নির্যাতিত মানুষের নেতা, সাহসী যোদ্ধা। যদিও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন পরম ঈশ্বরের তিনি পুত্র তবু তিনি পয়গম্বর ছিলেন না। তেমন দাবীও তিনি করেননি।

পয়গম্বর ছিলেন টেনসকাওয়াতাওয়া (তার নামের মানে, যিনি দরজা খুলে দেন, 'হি হু ওপেন্স দ্যা ডোর'।)। তিনি ছিলেন সাহসী যোদ্ধা টেকুমসে'র ছোট ভাই। টেনসকাওয়াতাওয়া (1778-1837) ছিলেন শাওনি নৃগোষ্ঠীর সদস্য। পশ্চিমা ঐতিহাসিকরা অবশ্য তার চরিত্রে নানা কালি-ঝুলি মেখেছেন। তাকে চিহ্নিত করেছেন ভন্ড, প্রতারক, মাতাল হিসেবে। তবে সব পয়গম্বরদের ক্ষেত্রেই এরকম মানহানির আর ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটেছে। তার জীবনী পাঠ করলে মানুষ কীভাবে পয়গম্বর হয়ে ওঠে সে সম্পর্কে আমরা একটা সুস্পষ্ট ধারণা পাবো। এই পাঠ থেকে আমরা এও বুঝতে পারবো আদিকালে কেন গন্ডায় গন্ডায় পয়গম্বরের জন্ম হতো।

টেনসকাওয়াতাওয়ার মানুষ থেকে পয়গম্বর হয়ে ওঠাটা খুবই মিথিক্যাল। একবার কিছু লোক তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। তারপর তিনি মারা গেছেন ভেবে তাকে ফেলে যায়। পরদিন চেতনা ফিরে পেয়ে টেনেসকাওয়াতাওয়া জানালেন যে, মৃতু্যর পর তাকে দেবদূতরা ঈশ্বরের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। ঈশ্বর তার হৃদপিন্ড খুলে পরিষ্কার করে তাকে আবার পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে নবীন পয়গম্বর তখন আহ্বান জানালেন রেড-ইন্ডিয়ান জাতির ঐক্যের। বললেন সাদারা হচ্ছে শয়তান, ওদের সমস্ত আচার-আচরণ শয়তানী, ওদের হুইস্কি শয়তানের পানীয়। যারা সাদাদের দলে গেছে তাদেরকে প্রায়শ্চিত্ত করে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন তিনি। তারপর তিনি নিজেই গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে সে প্রায়শ্চিত্তের অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে শুরু করলেন।

কিন্তু তার বেশিরভাগ জাতভাইরাই তাকে বিশ্বাস করলো না। তারা তাকে বিকৃত মসত্দিষ্ক হিসেবে চিহ্নিত করলো। তাকে মিথ্যাবাদী, পাগল ও অসৎ বলে গালাগালি করলো। অবিশ্বাসীদেরকে পয়গম্বর তখন একটা যুদ্ধ করার লাঠি দেখিয়ে তা মাটি থেকে তুলতে বললেন। বিখ্যাত যোদ্ধা বড়ভাই টেকুমসে সেই লাঠি মাটি থেকে উঠাতে ব্যর্থ হলেন। তারপর একে একে গোত্রের সবাই যখন সেই লাঠি তুলতে ব্যর্থ হলো, তখন তারা মেনে নিলো টেনসকাওয়াতাওয়া ঈশ্বরের প্রেরিত পুরুষ। পয়গম্বর তখন কানাডা থেকে শুরম্ন করে মেঙ্কিান উপসাগর পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার বিরাট অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও গোত্রে বিভক্ত রেড-ইন্ডিয়ান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিলেন। তাদেরকে জানালেন ঈশ্বরের পবিত্র আদেশ।

পয়গম্বর ও তার যোদ্ধা বড় ভাই মিলে ফোর্ট গ্রিনভিলে সাদাদের প্রভাবমুক্ত এক শহরের পত্তন করলেন। যার নাম হলো পরবর্তীতে 'প্রফেটস্ টাউন'। পয়গম্বরের নগর। তিনি তখন রেড-ইন্ডিয়ানদের বিভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছেন, সেগুলোকে সাদাদের শয়তানীমুক্ত করছেন ঈশ্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, আর দলে দলে রেড-ইন্ডিয়ানরা তার ধর্ম বরণ করে নিচ্ছে। ইন্ডিয়ানার গভর্নর উইলিয়াম হ্যারিসন (পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট) পয়গম্বরের এই অগ্রযাত্রায় প্রমাদ গুণলেন। কারণ পয়গম্বর ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন ইন্ডিয়ানা, ইলিওনয়, মিশিগান ও উইসকনসিনে যে ভূমি কিনেছেন বলে গভর্নর দাবী করছেন তা ধর্মবিরুদ্ধ।

গভর্নর তখন দেশবাসীকে হুশিয়ার করে সংবাদ পাঠাতে শুরম্ন করলেন যে, টেনসকাওয়াতাওয়া একজন জোচ্চোর, প্রতারক, একজন ভন্ড পয়গম্বর। ডেলওয়ারের অধিবাসীদের পরামর্শ দিলেন হ্যারিসন যে, টেনসকাওয়াতাওয়া যদি সত্য পয়গম্বর হবেন, তবে কোথায় তার স্বগর্ীয় ক্ষমতা। "তাকে বলো যে, তার ক্ষমতা থাকলে সূর্যকে থামাতে, চাঁদের গতি পরিবর্তন করতে, নদীর স্রোতধারা বদলে দিতে, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে তুলতে। তবেই না মানবো সে সত্যিকার পয়গম্বর"।

হ্যারিসনের এই চ্যালেঞ্জে দমে গেলেন না টেনসকাওয়াতাওয়া। তার ভাই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে নিষেধ করলেন তাকে। পয়গম্বর শুধু আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে বললেন, সদাপ্রভু তুমি তোমার ধর্মকে জয়ী করো। তোমার পয়গম্বরকে জয়ী করো। তারপর পয়গম্বর হ্যারিসনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। পয়গম্বর জানালেন 1806 সালের 6 জুন তারিখে তিনি সূর্যকে গ্রিনভিলের আকাশে থামিয়ে দেবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703840 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703840 2007-03-27 19:28:49
আরবে নবীদের জন্মহার হ্রাস বনাম পাপ-পূণ্যের হিসাব http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703723 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703723 2007-03-26 19:15:30 মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠার সুলুক-সন্ধান: ভূমিকা
তবু বিচিত্র জাতি-গোষ্ঠীর জন-মানবের উপর ছড়ি ঘুরানোর ক্ষমতা নির্বিঘ্ন রাখতে ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া ছাড়পত্র ছাড়া চলে কি করে? সুতরাং মানবের ইতিহাসে ঈশ্বরের পুত্র বলে নিজেদের দাবী করা লোকের সংখ্যাও একাধিক। তবে বাঘের বাচ্চার মত ঈশ্বরের বাচ্চা হয়ে ওঠার জৈব প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে সন্দেহের তালমিশ্রি জমাট বাঁধতে থাকলে এ পদ্ধতি ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি। তাই খুব বেশি ঈশ্বরের পুত্রকে পায়নি মানবসমাজ।

ক্ষমতার বিপরীত প্রানত্দে ছিল নির্যাতিতরা। ক্ষমতাবান শুধু সিংহাসনে বসেই নিজেকে ঈশ্বর কল্পনা করবে আর নিপীড়িতরা হাড়-চামড়া-সার হয়ে কল্পনাশক্তি হারিয়ে ফেলবে তাতো হয় না। তাদেরওতো কেউ কেউ সাহস করে ঘুরে দাঁড়ায়। তাদের সিংহাসন নেই রোমান বা মিশরীয় সম্রাটের মত। তারা তাই সম্রাট-ঈশ্বরের বিপরীতে নতুন ঈশ্বর বানানোর কায়দা আবিষ্কার করে। তারা ঈশ্বরের আবাস বানায় শূন্যে। সে ঈশ্বর চোখে দেখা যায় না, সে ঈশ্বর মানুষের শরীর ধারণ করেন না; তার সিংহাসন মর্ত্যে নয়, তিনি আছেন উধর্্বলোকে। তিনি শুধু পরাক্রমশালী অশ্বারোহী বাহিনীর নির্দেশদাতা নন, তার নির্দেশে সূর্য ওঠে, তারপর সন্ধ্যা হলে ডুবে গিয়ে আশ্রয় নেয় তার আসনের নীচে। তার আসন এমনই বিশাল, তার ক্ষমতা এমনই বিপুল।

ক্ষমতাবান-ধনাঢ্যদের কাছে পৃথিবীর বিলাসী জীবন বড়, আর বড় সিংহাসনে বসে থাকা প্রতাপশালী সম্রাট। সম্রাটের ক্ষমতায় যে রয়েছে তাদেরও অংশীদারিত্ব। নির্যাতিত-নি:স্ব-দরিদ্র-সহায় সম্বলহীন মানুষের পৃথিবীতো নরকবাসের সময়। তারা তাদের স্বর্গ বানায় শূন্যে, সর্বশ্রেষ্ঠত্বের ক্ষমতা আরোপ করে গড়ে তোলে তাদের মূর্তি। কিন্তু মূর্তি গড়ে তুললেই সে মূর্তি শুধু আমার বলে দাবী করা যায় না। ক্ষমতাশীল সম্রাট বরং আরো জোরে-শোরেই সে নতুন মূর্তির স্বত্ত্ব দাবী করতে পারে। সম্রাট তো আর সর্বময়ের ইচ্ছার বিরম্নদ্ধে পৃথিবীর ক্ষমতার সিংহাসনে বসেননি। বরং তিনিই তো নির্বাচিত পৃথিবীকে শাসন করার জন্য। ঈশ্বর যদি ভালইবাসেন তবে তিনি তার পছন্দের মানুষগুলোকে নি:স্ব করে বানাবেন কেন? বরং ঈশ্বরের করুণাপ্রাপ্তরা তো ইহ ও পরলোকে সমান ঐশ্বর্যশীল হওয়ার কথা।

কে হে তুমি, নি:স্ব দরিদ্র, বংশ-গোত্র-নাম পরিচয়হীন ধর্মপ্রচারক? কিসের বলে, কিসের ভিত্তিতে তুমি দাবী করো তোমার সাথে শূন্যের ঈশ্বরের যোগাযোগ? কেন তোমাকে ঈশ্বর নির্বাচিত করবেন? তুমি ক্যাডা?

"আমিই প্রেরিত পুরম্নষ। ঈশ্বরের কোনো পুত্র-কন্যা নাই। আমি পয়গম্বর। অবিশ্বাসীদের পথে ফেরাতে ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন।" স্বঘোষিত পয়গম্বর বের করেন ঈশ্বরের দেয়া পাথরের খন্ড। এই যে তাতে খোদাই করা ঈশ্বরের দশটি নির্দেশ। নিপীড়িত মানুষরা আশ্বাস পেয়েও যাচাই করে নেয়;

"কিন্তু সম্রাটকে ছেড়ে তোমার ঈশ্বরকে যদি আমরা মেনে নেই তবে কি তিনি সম্রাটের অত্যাচার থেকে আমাদের বাঁচাবেন? সব সময় তোমার সাথে থাকবেন? তোমার ঈশ্বর আবার সম্রাটের দলে ভিড়ে যাবেন নাতো?"

পয়গম্বর কণ্ঠ তীব্র করেন যাতে তাকে সম্রাটের চেয়েও ক্ষমতাশালী মনে হয়। তিনি জানান, ঈশ্বর আমার সাথেই থাকবেন। তেমনই কথা হয়েছে। তার সাথে আমার প্রায়ই কথা হয়। তোমাদের কথাও আমি তাকে জানাতে পারি।

নিপীড়িত মানুষ আশান্বিত হয়। পয়গম্বর সম্রাট না হোক, ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র না হোক, শূন্যের ঈশ্বরের সাথে তার নিয়মিত কথা হয়। তিনি তার প্রশ্নের উত্তর দেন। "সম্রাটের শোষণ-শাসন থেকে বাঁচবার জন্য এই 'পয়গম্বর'ত্ব দাবী করা লোকটির ওপর আমরা ভরসা করতে পারি"। সমর্থকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পয়গম্বর তাদের আশার কথা শোনান, আশ্বসত্দ করেন। কিন্তু তারা প্রশ্ন তোলে, তুমি কি তোমার ঈশ্বরকে দেখেছো। পয়গম্বর এই প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। শূন্যের ঈশ্বরের অসত্দিত্ব নিশ্চিত করতে তিনি জানান, ঈশ্বর আমাকে দেখা দিয়েছেন।

"ঈশ্বর আপনাকে দেখা দিয়েছেন! তাহলে সত্যি সত্যি আকাশে ঈশ্বর আছেন! তিনি আমাদের রক্ষা করবেন সম্রাটের অবিচার থেকে!"
"নিশ্চয়ই তিনি তা করবেন। তার সাথে আমার তেমনই কথা হয়েছে।"

যাদের কিছুই ছিল না, না ধন, না ক্ষমতা, না সাহস, না রম্নখে দাঁড়াবার ক্ষমতা তারা অকস্মাৎ সব পাওয়ার খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। তাদের সাথে আছে শূন্যের ঈশ্বর! সে ঈশ্বরের পতাকা নিয়ে তারা খালি হাতে, নাঙা পায়ে, উদোম বুকে লড়াই করবে সম্রাট ঈশ্বরের বিরম্নদ্ধে। তাদের সাথে থাকবেন শূন্যের ঈশ্বর আর তার অদৃশ্য দেবদূতগণ।

পয়গম্বরের গাল-গল্পে বিশ্বাসী লোকদের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। কিন্তু আর সব সাধারণ মানুষের মত মানুষ পয়গম্বর তার শূন্যের ঈশ্বর আর দেবদূতের সাহায্য নিয়েও নি:স্বদের নির্যাতনের সমাপ্তি ঘটাতে পারেন না। সুতরাং লক্ষ লক্ষ পয়গম্বর জন্মাতে থাকে আরবের উষর ভূমিতে। নিজেকে পয়গম্বর দাবী করা তখন তরম্নণ আরবদের হাল ফ্যাশন। আজকাল যেমন তরুণরা মডেল সাজে, নায়ক হয়, তখন যুবারা হতো পয়গম্বর (ব্যতিক্রম আছে একালের নায়কদের মধ্যে, নায়করাও কেউ কেউ পয়গম্বর হতে চান, যেমন হলিউডের টম ক্রুজ)।

কিন্তু পয়গম্বর হওয়ার তরিকা কেউ কাউকে জানান দেন না। না ঈশ্বর তার ঐশিগ্রন্থে না পয়গম্বর তার বাণী ও নির্দেশে, কোনভাবেই জানা যায় না, কী প্রকারে একজন মানুষ হয়ে উঠতে পারে পয়গম্বর, নবী, প্রেরিত পুরম্নষ। কি যোগ্যতায় সে পেয়ে যায় আকাশের ঈশ্বরের লেখা বইয়ের নতুন নতুন সংস্করণ?

কী প্রকারে মেষের রাখাল, গোয়াল-নন্দন শুধু নিজের উচ্চারণের জোরেই, শুধু নিজের সাক্ষ্যেই হয়ে যান পয়গম্বর। মানুষ থেকে পয়গম্বর হয়ে উঠার পদ্ধতিটা না জেনে পয়গম্বরকে 'রূপকথার রূপকার' বলা যায় না কিছুতেই। প্রশ্ন তাই, তরিকাটা কী?

(চলবে)

ছবি:জিওর্জিওস ম্যাজেরাকিস]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703561 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/28703561 2007-03-25 09:16:31
বেহেশতের টিকেট বুক করে ফেলেছে ওরা তারা, মানে ছবির এরা, সে পথেই পা বাড়ালেন।
ইবাদত-বন্দেগির উর্ধেব চলে যাচ্ছেন তারা।
তারা কি ডাইরেক্ট বেহেশতে যাবেন?
নাকি কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলে তো খারাপ কথা। তাহলে কেয়ামত যত তাড়াতাড়ি হয় তত ভালো। হুজুররা কব্বর থেকে বেহেশতে দ্রুত যেতে পারবেন।
আমিন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/26263 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/26263 2006-11-28 20:17:08
সৃষ্টিবাজির গালগল্পে আদমের পাপাচার
আদম বানানোর গল্পটা ছন্দ-কথায় আপনাদের জানা থাকবার কথা। বিস্তৃত আছে দ্য বুক অব জেনেসিসে। তিন ধর্মগ্রন্থে গল্পটা যদিও বিবর্তিত হয়েছে, সৃষ্টির বিবর্তন ধর্মবিশ্বাসীরা কক্ষণো মানে না (গল্প বিবর্তিত হয় মানে, অন্যকিছু বিবর্তিত হতে পারে মানে না)। সে যাক, একেক ধর্মের বিশ্বাসীরা গল্পটার একেক শাখা-প্রশাখায় জোর দিলেও [লিংক=যঃঃঢ়://িি.িনরনষবমধঃবধিু.পড়স/ঢ়ধংংধমব/?নড়ড়শথরফ=1্পযধঢ়ঃবৎ=3্াবৎংরড়হ=31]মূল গল্প [/লিংক]এক। রেসিপি একই ছিল, বাবুর্চির হাতে মসলা কম বেশি হয়। সেই রান্নার প্রক্রিয়া বিসত্দারিত আপনারা নিজ দায়িত্বে জেনে নিন। যেহেতু রেসিপিটা আমার পছন্দ হয় নাই, খেতে গিয়ে আমার হেঁচকি উঠেছে। এই মেনূ্যতে আমি আস্থা রাখতে পারছি না। ।

সৃষ্টির প্রচলিত গাল-গল্প গেলার পর যে হেঁচকি উঠে তার মধ্যে নীচেরগুলো এখন মনে পড়ছে:

* ঈশ্বর যদি এটাই চান যে আদম ও হাওয়া জ্ঞানবৃক্ষের ফল না খাক, তবে কেন তিনি তাদেরকে ঐ বাগানেই রাখলেন। তার কি আর বাগান ছিল না?
* যা খেলে এরকম বিশাল পাপ সংঘটিত হয় সেরকম একটা গাছ ঈশ্বর কেনইবা বানাতে গেলেন, তার আবার ফলই হয় কেন? সেই গাছকে আবার বাগানের মাঝেই লাগানোর কারণ কি? নাকি গাছ ও ফলের জন্মের উপর ঈশ্বরের হাত ছিল না?
* জ্ঞান বৃক্ষের ফল অথবা ভাল-খারাপ জ্ঞান হওয়া তো খারাপ কিছু না, তাহলে ঈশ্বর কেন আদমকে তা খেতে নিষেধ করেন?
* যদি শয়তানের প্ররোচনাই আদমের এই ভ্রানত্দির জন্য দায়ী, তবে সেই শয়তানকে ঈশ্বর কেন সৃষ্টি করলেন? যদি সৃষ্টি করলেন তবে কেন তাকে ধ্বংস করলেন না? যদি ধ্বংস না করেন, তবে কেন তার বাগানে ঢুকা বন্ধ করতে পারলেন না?
*ঈশ্বর বারবার আদমকে বলেন যে শয়তান আদমের শত্রু। তাহলে শিশু আদমকে শয়তানের হাত থেকে ঈশ্বর কেন রক্ষা করতে পারলেন না? শয়তানের ক্ষমতা কি ঈশ্বরের ইচ্ছা-বহির্ভূত ক্ষমতা? ঈশ্বরের আদেশ-নির্দেশ বহির্ভূত কাজও কি শয়তান করতে পারে? তাহলে শয়তান কি খল-ঈশ্বর?
* ঈশ্বর আদমের সাথী হিসেবে হাওয়াকে তৈরি করেছিলেন। তো কি এমন সাথী তৈরি করলেন ঈশ্বর যে তার সঙ্গ ও পরামর্শ-বুদ্ধিতে আদমকে চিরতরে স্বর্গের বাগানে বসবাস করা থেকে বঞ্চিত হতে হলো? এর চেয়ে ভালো সঙ্গী-সাথী কি ঈশ্বর বানাতে পারেন না?
* আদম হাওয়ার তখন ভালো-মন্দ জ্ঞান ছিল না। যাদের ভাল-মন্দ জ্ঞান ছিল না তাদেরকে ফল খাওয়ার জন্য কি শাসত্দি দেয়া যায়? ঈশ্বর দাবী করেন তিনি মহান করুণাময় ও ক্ষমাশীল, অথচ আদমের প্রথম অপরাধেই তিনি এমন শাসত্দি দিলেন যে আদমের চৌদ্দ লক্ষ গুষ্ঠিকে দুনিয়াতে পঁচতে হচ্ছে? কেমন ন্যায়-বিচারক তিনি? শিশু আদম-হাওয়ার প্রতি আরেকটু ক্ষমাশীল হওয়ার ক্ষমতাও তার নেই?
*একটি বৃক্ষের ফল খাওয়ার জন্য যিনি আদম-হাওয়াকে তিনি গুষ্ঠিসহ শাসত্দি দিলেন, তাকে কি করে ন্যায় বিচারক, করুণাময়, বা প্রেমময় বলা যায়?
*জ্ঞান বৃক্ষের ফল খাওয়ার পর আদম-হাওয়ার লজ্জাবোধ সৃষ্টি হলো, তারা গাছের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢাকতে চেষ্টা করলো, তার আগে তাদের লজ্জাবোধ ছিল না। তাহলে কি ঈশ্বরের মূল ইচ্ছা ছিল আদম-হাওয়াকে আজীবন নগ্ন রাখার? (ব্রিটনি স্পিয়ার্সের মিনিস্কার্ট তাহলে কি এমন দোষের? ঈশ্বরের মূল পরিকল্পনার চেয়ে অনেক শ্লীলই তো মনে হয়। এনিমেশন নির্মাতা ঐতিহাসিক সত্যতা সত্ত্বেও এত অশ্লীল হতে পারে নাই।)
*ভালো-মন্দ জ্ঞান যদি আদম-হাওয়ার না থাকে তবে তারা ঈশ্বর আর শয়তানের আদেশ-অনুরোধের মধ্যে পার্থক্য করবে কি করে? (আদম-হাওয়ার কি বর্ণপরিচয় হয়েছিলো? তাদেরকে কোনো ধর্মগ্রন্থও দেয়া হয়েছে বলেও তো ঈশ্বর জানাননি? তারপরও এইসব নাবালক-নাবালিকাদের এত কঠিন শাসত্দি হলো?)
*আদম-হাওয়ার সামনে ছিল দুটি দিক। ঈশ্বরের কথা ও শয়তানের প্ররোচনা। শয়তানের প্ররোচনার কাছে ঈশ্বরের নির্দেশ হেরে গেল। ঈশ্বর পারলেন না অথচ শয়তান পারলো আদম-হাওয়াকে প্রভাবিত করতে। এ কেমন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর?
*শয়তান কি কোনো গোপন কারণে ঈশ্বরকে ব্ল্যাকমেইল করে? নতুবা আদম-হাওয়ার এত বড় শাসত্দি হয় আর শয়তানের কোনো শাসত্দি হয় না কেন? সে দিব্যি বেহেশত-দোযখ-পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায়? তার কেশাগ্রও ঈশ্বর স্পর্শ করতে পারেন না কেন?

আপনাদের যদি নতুন হেঁচকি উঠে তবে যোগ করতে পারেন। অথবা যারা পরম তৃপ্তিতে গিলেছেন তারা আমাদের দিকে হাজমলার কৌটাটা বাড়িয়ে দিতে পারেন। আপনাদের ওষুধেই না হয় হেঁচকি বন্ধ হোক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/26245 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/26245 2006-11-28 10:51:49
সদ্যজাত উল্লুক ছানার জন্য নাম প্রস্তাব করুন
অথচ [link|http://www.shamokal.com/details.php?nid=42717|Lei ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/24458 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/24458 2006-11-14 16:23:18
পূণ্যের আশায় আরবের ঈশ্বরের সৃষ্টিবাজির গল্প-1 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/24335 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/24335 2006-11-13 11:30:33 সত্য, ভালবাসা, ক্ষমা ও শান্তি: সৃষ্টির নীতি বদলাবে না
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/23913 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/23913 2006-11-09 08:39:50
আস্তকে কি দেখা যায়? ঃছবি তোলার ছবি
চোখ দেখা যাচ্ছে পাঁচ জোড়া। অবশ্য কারো বোরকার নীচে কেডসও দেখা যাচ্ছে। ছবিটা তোলার স্থান অস্ট্রেলিয়া।

আমাদের ব্লগের কেউ পোজ দিয়ে ঐ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে কিনা?? : নাহ আমি বলবো না। আপনারা খুঁজে বের করুন।

অরূপ নাকি ভালো ক্যাপশন দিয়ে মাশীদের মন পেয়েছিলো। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি অভিনন্দনের। কেউ চাইলে ছবি নিয়ে গল্প, ছড়া ও কবিতাও লিখতে পারেন। রহস্য কাহিনীও চলবে। যার যা মনে আসে তা। বিষয়: ছবি তোলার ছবি।

আচ্ছা আমার একটা প্রশ্নছিল যারা ছবি তুলেছে এভাবে তারা নিজেদের ছবি কিভাবে চিনবে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/15495 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/15495 2006-08-05 08:20:47
রোমান্টিক কবি শেলি ও তার ঈশ্বরভাবনা
লিফলেটে ধর্ম-কর্মের অসারতা নিয়ে একটা রচনা ছিল। ছদ্মনামেই তিনি সেটা লিখেছিলেন।

রচনাটির মূল কথা ছিল যে, ঈশ্বরের অস্তিত্বের বিষয়টি বাস্তব সাক্ষ্যপ্রমাণ বা যুক্তি দিয়ে প্রমাণিত না সুতরাং ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়ে একটি মুক্ত তদন্ত হওয়া উচিত।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এমন ঈশ্বরবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করেছিল।

প্রায় 200 বছর হতে চললো। এই অভিযোগে এখন আর কেউ অক্সফোর্ড থেকে বহিষ্কার হবে না, এমনই ধারণা করা যায়। কিছু কিছু মানুষ থাকেন যারা নিজেদের সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকেন।

শেলি সেই রচনায় লিখেন:

Reasonable people do not require religious belief.
Christanity is unreasonable and incredible.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/13726 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/13726 2006-07-15 18:55:39
পুনর্বার বিশ্বাসের মড়কঃ1
2. কেন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পাঠান ঈশ্বর/ আল্লাহ/ভগবান/গড, কেনো এই গজব পৃথিবীর গরীব কোণায়, কেনো গজব পৌঁছায় না যেখানে ধনীরা বাস করে নিরাপদ সীমানায়? গরীবের ঈশ্বর কেন শুধু পরীক্ষা এই অসহায় বান্দার? যেমন বলা আছে ধর্মগ্রন্থের হরফে হরফে অবিশ্বাসীদের ধ্বংস করতে আমরা নামাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নিশ্চয়ই তিনি পাঠিয়েছেন সুনামি দক্ষিণ এশিয়ায়, নিশ্চয়ই তিনি ভূমিকম্প ঘটিয়েছেন সাধের পাকিস্তানে, নিশ্চয়ই তিনি সাগরের শান্ত পানিকে উত্তাল করেছে ন হারিকেন ক্যাটরিনা হয়ে আঘাত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে। যদিও ধনী, সাদা ও অবিশ্বাসীদের দেশেই হয়েছিল আঘাতটি কিন্তু ধ্বংসের কবলে পড়েছে গরীব, কালো ও বিশ্বাসীরা। সমুদ্র কূলের বিপদজনক জায়গা ছাড়া যাদের বসবাসের ভূমি কেনার সামর্থ্য নেই। তিনি নিশ্চয়ই জানতেন শিশুটি ঘুমিয়ে আছে ঘরের মধ্যে। নাকি এই সত্য তার রাডারে ধরা পড়েনি যে তার নাম জপতে জপতে বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা যারা সরকারের সরে যাবার আদেশকে পালন করতে না পেরে আশ্রয় নিয়েছিল ঘরের চিলেকোঠায় এবং সেখানেই ঘটে তাদের কষ্টকর সলিল সমাধি। মরিস বুকাইলি এত বিজ্ঞান বুঝলো আর ঈশ্বরকে সরবরাহ করলো না একটি আধুনিক রাডার। যারা মারা গেলো, যারা ঘর হারালো, যাদের কোল শূন্য হলো, যারা ধ্বংস্তুপের মধ্যে আটকে থাকলো দিনের পর দিন আর মানুষ এসে যন্ত্র দিয়ে কেটে উদ্ধার না করা পর্যন্ত কেউ তাদের উদ্ধারে সিং্গা ফুঁকলো না। শুধু ধ্বংসের সিংগা থাকে, বিশ্বাসীরা কল্পনায় উদ্ধারের কোনো সিংগা থাকে না। এরা সবাই অবিশ্বাসী বলে কি এই গজব? নাকি তারা ঈশ্বর/ আল্লাহ/ভগবান/গড এবং আরো তাবৎ পরমশক্তিতে চরম বিশ্বাসী বলে এই গ্রিনকার্ডের লটারি। চলে আয় আমার কাছে! তারা তো তাদের জীবনভর ঈশ্বর/ আল্লাহ/ভগবান/গড-এর কাছে প্রার্থনায় নতজানু হয়েছে, শতনামে ডেকেছে তাকে, মুগ্ধ হয়েছে তাঁর ক্ষমতার ফুলঝুড়ি দেখে আর শুধু কাঙালের মত চেয়েছে নিজেদের দীর্ঘ জীবন। শুধুমাত্র, কেবলমাত্র অবিশ্বাসীরাই সাহসের সাথে বলে অনিবার্য সত্যটি: এই সব দরিদ্র লোকেরা বৃথাই জীবন কাটিয়ে গেছে তাদের কল্পিত বন্ধুর ভরসায়। আর ভুল ব্যাকরণে আজীবন মেনে গেছে তাদের ঈশ্বর/ আল্লাহ/ভগবান/গড সর্বজ্ঞানী/সর্বশক্তিমান এবং পরম করুণাময়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/10671 http://www.somewhereinblog.net/blog/Dravirblog/10671 2006-06-04 06:49:57