somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা'কে যেন আমার মৃত্যু দেখতে না হয়

০৩ রা নভেম্বর, ২০১০ ভোর ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন কি বার ছিলো মনে নেই। সকালে সারোয়ার চলে গেলো। আমি রওনা হলাম ধানমণ্ডি। উদ্দেশ্য খানিক আড্ডাবাজি করবো রবীন্দ্র সরোবরে, হ্যাপি আর্কেড থেকে টেলিটকের হারানো গোল্ডেন(!) সিমটা তুলবো এবং সবচে জরুরী যেটা, কেনার এক সপ্তাহের মাথায় জ্বলে যাওয়া হার্ডডিস্কটার কোন উপায় করার জন্যে এলিফ্যান্টরোডে দৌড়ঝাপ। লেকে পৌছে প্রায় ঘন্টা দুই ঝিমুলাম, আরাফের(আমার ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের একজন) খবর নেই। বেচারার পা মচকেছে গতকাল, কিন্তু কোথায় যে আছে কে জানে! ১৫ মিনিটের কথা বলে ঘণ্টা পার করে দিলো। একসময় বিরক্ত হয়ে হাঁটা দিলাম সিটি কলেজের দিকে সর্টকাট পথে।এর মধ্যেই ওর ফোন। আবার ফিরে আসলাম। দুজন প্রথমে গেলাম টেলিটকের কাষ্টমার কেয়ারে। সিম তুললাম। বেরিয়ে আসলাম। তারপর গেলাম এলিফ্যান্টরোডে। নাহ, হার্ডডিস্কের ওয়ারেন্টি পাবোনা, সারাতে হবে। হঠাৎ টের পেলাম, ফোন ফেলে এসেছি। সব মিলিয়ে আধা ঘন্টা হবে না, বাবার ফোন আসলো কোকোর মোবাইলে। আমি ধরলাম। আমার "হ্যালো" শুনে বাবা যেন একটা ধাক্কা খেলো। একটু থেমে জিজ্ঞেস করলো,
-আরাফ?
-না বাবা, আমি।
-অনীক?
-হুমম, ক্যান? কি হইছে?
-তুমি ঠিক আছো?
-হ্যাঁ, ক্যানো?
-তোমার কোন সমস্যা হয়নিতো?
-হুম, ক্যানো, আমার কি হবে?
-নাও, তোমার মা'র সাথে কথা বলো।

আমার তখনো কোন ধারণা নেই, গত ত্রিশটা মিনিটে কি হয়ে গেছে।
মা ফোন নেবার পর আমি হ্যালো বলার সুযোগ পাই নি। হয়তো ছেলের মৃত্যতেই কেবল মা'রা এমন কাঁদেন।
মা চিৎকার করে কাঁদছে, কথা বলতে পারছে না। এপাশে আমি সম্পুর্ণ হতভম্ব, কেন-কি-কিভাবে কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমার কানে মা'র কান্না ভাসতেছে, পৃথিবীর আর কিছুর কথা আমি জানিনা। একবার মনে হলো, আমি বেঁচে আছিতো? নইলে এমন কাঁদে ক্যানো মা?
বাবার সাথে কথা বললাম। ঘটনার সারমর্ম দাড়ালো, টেলিটকের কেয়ারে আমি ফোন ফেলে এসেছিলাম, ওরা আমার ফোনবুক থেকে কাকার নম্বরে ফোন করে সেটটা নিয়ে যেতে বলছে। কিন্তু, আমার গ্রামে থাকা অতি সরল কাকা বুঝছেন- ওরা ওখান থেকে '"আমাকে"ই নিয়ে যেতে বলেছে, আমার একটা কিছু হয়েছে। বাসায় ফোন করে এ কথা জানাতেই ভয়ঙ্কর একটা ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হলো। আমার সথে কথা বলার পরও আরো প্রায় দেড়ঘন্টা কেঁদেছিলো মা, স্বাভাবিক হতে পারেনি পরের দিনেও। পরে শুনেছিলাম, কাঁদতে কাঁদতে মা'র কথা বন্ধ হয়ে গেছিলো। প্রচণ্ড হেঁচকি তুলছিলো, প্রায় দমবন্ধ অবস্থা। পরে ডাক্তার নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার ওষুধ দিয়ে ঘুমপাড়িয়ে যান।

প্রচণ্ড নাড়া খেলাম। আম্মার কান্না এখনো কানে বাজছে- আমার অনীককে আমার কাছে এনে দাও___
আম্মার এইভাবে ভেঙ্গে পড়া মনে করিয়ে দিল, প্রতিটা দিনই দেশের কোনো না কোনো মায়ের কাছে সন্তানের মৃত্যুসংবাদ যাচ্ছে। রোজই কিছু মা এইভাবে বিলাপে বুক ভাসাচ্ছেন সন্তান শোকে। প্রত্যেকটা মা, যাদের সন্তান ঘরে নেই, প্রতিটা মুহুর্ত তটস্থ থাকেন কি ভয়ানক শংকা আর অনিশ্চয়তায়।
আর যাই করো খোদা, আমার মৃত্যু যেনো আমার মা'কে না দেখতে হয়। মা সহ্য করতে পারবে না খোদা একদম সহ্য করতে পারবে না।

আমার জীবন যাপন অনেক অগোছালো আর বেপরোয়া। প্রায়ই রাতভর ঘুরে বেড়াই সম্পুর্ণ একা। কদিন আগেই গোপনে চট্টগ্রাম আর কক্সবাজার ঘুরে এলাম, তাও একা। একটা গোটা রাত পুরো একা সাগরপাড়ে ছিলাম। অথচ,পুকুর ছাড়া নদীতেও সাঁতরাইনি কখনো। জীবনে প্রথমবারের মতই চট্টগ্রাম যাওয়া সেবার। আমি এমনই সবসময়। কিন্তু এই ঘটনাটার পর থেকে অনেকটাই ভীরু হয়ে গেছি। খুব ভয় কাজ করে- আমার কিছু হলে, মা'কে আবারো অমন কাঁদবে। আমি তখন দেখবো কি না, টের পাবো কিনা জানিনা। কিন্তু একদম সহ্য করতে পারবোনা আমি।
খোদা, আমার মা'কে যেন আমার মৃত্যু দেখতে না হয়।

প্রসঙ্গতঃ ভার্সিটি পড়ুয়া হলবাসী ছাত্র আমি। সেই এসএসসি থেকেই ঘরছাড়া উদ্বাস্তু :(
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×