somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদ্যানে সন্ধ্যা নামে....

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সংসদ ভবনের উত্তরের ক্রিসেন্ট লেকের ধারের উদ্যানটা আমার কাছে বরাবরই বেশ রহস্যময় বলে মনে হয়। এজন্য মন খারাপ হলেই আমি এখানে সময় কাটাতে আসি। কয়দিন ধরে মনটা খুব খারাপ ছিল। তাই পড়ন্ত এক বিকালে এর কিনারে বসে আমি এখানে আসা মানুষগুলোকে লক্ষ্য করছিলাম /:)
সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। বেশ কয়েক জোড়া জুটি তখনও ভালই সময় কাটাচ্ছে। ডায়বেটিস কবলিতদের হাটাহাটি আস্তে আস্তে কমে আসছে। ফ্যামিলি নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে আসারা ধীরে ধীরে বাইরে চলে যাচ্ছে।
যতোই অন্ধকার হচ্ছে, বাগানের পশ্চিম দিকের মাটির ঢিবিটার ধারের নির্জনে রঙচংয়ে পোশাক পড়া কয়েকজন প্রফেশনাল মেয়ে স্নো পাউডার মেখে নিজেদের চেহারাটা ঘসামাজা করে নিচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিদিনের মতো বাগানের মাঝখানের লাইটগুলো অজ্ঞাত কারণে নিভে গেল।



বাগানের লাইটগুলো নিভে যাবার পরও কিছু নিরীহ দর্শনার্থী লেকের ধারেই বসে রইলো। আর কিছু দর্শনার্থী এ সময় রওনা দিলো বাগানের ভেতরের দিকে। প্রফেশনাল যে মেয়েগুলোর চেহারা ঘসামাজা করা শেষ তারা রওনা দিয়েছে বাগানের অন্ধকার কোনের দিকে। বোরখা পড়া কয়েকজন এসময় তাদের সাথে যোগ দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বোরখা ঢুকে পড়ে ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতরে। কয়েকজন দর্শনার্থী এসময় তাদের পিছু নেয় :)

এ পর্যন্ত দৃশ্যটা স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। শান্ত নিস্তব্ধ পরিবেশ। কিন্তু হঠাৎ বাগানের পূর্ব দিকে আর্মড পুলিশের একটি ট্রাক এসে থামে। বুটের মচমচে শব্দ আর দৌড়াদৌড়িতে বুঝতে পারি এলাকাটা আর নিরাপদ নাই। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়।
আজকে পুলিশের টার্গেট প্রফেশনাল মেয়েরাই। তাদের দিয়ে জৈবিক তাড়না মেটানোর জন্যই তাদের আগমন। ভাবছিলাম অন্ধকারে ছবি তুলতে পারে এমন একটা ক্যামেরা থাকলে পুলিশের কাণ্ডগুলো তুলে রাখা যেতো। এদের একটা কঠিন শ্বাস্তি হওয়া দরকার। আর্মড পুলিশের দলটির তাড়া ছিল মনে হয়। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই বাগানের অন্ধকারে বিনা পয়সায় নিজেদের জৈবিক তাড়না মিটিয়ে পুলিশেরা উধাও হয়ে যায়।
এরপর আবার ধীরে ধীরে রাতের বাগানের স্বাভাবিক প্রাণ ফিরে আসতে থাকে। এদিক ওদিক পালানো লোকজন আবার ধীরে ধীরে ফিরে আসতে থাকে। এ বাগানটার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে শুধু প্রফেশনালদের খদ্দেরই আসে না। প্রচুর দর্শকও আসে।

বাগানের অন্ধকার কোনায় শুরু হয় অর্থের বিনিময়ে জৈবিক তাড়না নিবারণ। ঘুটঘুটে অন্ধকারে তার পাশ দিয়েই অনেকে হেটেঁ যায়। দূরের ল্যাম্প পোস্টের আলোয় ভালোমতো দেখা যায় না কিছুই। তবু কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করে। পেইড জৈবিক তাড়না মেটানোর ব্যাপার স্যাপার। প্রফেশনালরা অবশ্য ব্যাপারটাকে ভাল চোখে দেখে না। মাঝে মাঝেই তাই গর্জন শোনা যায়,.... না করলে এখান থেকে ফুট। যা.. যা... B-)
তবু দর্শক কমে না। তাড়া খেয়ে কিছু দূরে যায় মাত্র। কয়েকজন সিগারেট অলা এখানেও সিগারেট বিক্রি করে। অন্ধকারেই একটা কুপি জ্বালিয়ে বাদামঅলা চাপা স্বরে ডাকাডাকি করে, বাদেম বাদেম....



জুটিগুলি অবশ্য অন্ধকারে বাগানের এতোটা ভেতরে থাকে না। জানের একটা মায়া আছে না! তারা একটু বাইরের দিকে ঝলমলে ল্যাম্পপোস্টের আশেপাশে পরস্পর শরীরের উষ্ণতা উপভোগ করে।

বাগানের একেবারে অন্ধকার দিকটাতে মানুষের জটলাগুলো থেকে খানিকটা দূর দিয়ে আমি হেটে যাচ্ছিলাম। এসময় হলুদ শাড়ি পড়া এক মেয়ে এগিয়ে আসে। পথ রোধ করে বলে, করবেন না?
আমার পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহ বা সাড়া না পেয়ে বলে উঠে, হিজরা খুঁজেন নাকি? পাইবেন না। আমি ভয়ে একটু জোরে পা চালাই :-/
বিজয় স্মরণির দিকটাতে বাগানের অন্ধকারে প্রতি সন্ধ্যায় অন্যদের তুলনায় বয়স্ক এক মেয়েকে জমকালো একটা শাড়ি পড়ে দাড়াতে দেখি। প্রতিদিনই মাথার চুলগুলো উচু করে ঝুঁটি বাঁধে সে। এতে তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা মনে হয়। মেয়েটাকে আমি সবসময় একটা নির্দিষ্ট জায়গায় একা দাড়িয়ে থাকতে দেখি। আচ্ছা এ মেয়েটা কি কোনো কাস্টমার পায়না? আচ্ছা এ কি আমাকে চিনতে পেরেছে? কালকেও তো এভাবেই হেঁটে গেলাম! আচ্ছা এর নাম জিজ্ঞাসা করলে কি সঠিক নামটা বলবে? নাকি টাকা পয়সা ছাড়া কোনো কথা বলবে না? এর জীবণটাও কি আমাদের মতো জটিলতায় পরিপূর্ণ?

আমি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, বরাবরের মতো সে জিজ্ঞাসা করলো, চলে?
আমিও কিছু না বলে বরাবরের মতো পাশ কাটিয়ে চলে যাই। বলা হয়না কিছুই। সেও বরাবরের মতো একটু হতাশ হয়। হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। মুখে অবশ্য আর কিছু বলে না।

মনে মনে ভাবি, এখানে এসে আমার কি লাভ হয়? সান্ত্বনা খুঁজি? কেউ দাম দেয় না? পৃথিবীর আর কোথাও নিজেকে দামী মনে হয় না, যতোটা এখানে মনে হয়?

এভাবেই প্রাণপণে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যায় কেউ কেউ। আর হতাশ জীবন নিয়ে মন খারাপ করা অন্ধকারে সান্ত্বনা খুজে ফেরে ব্যর্থ এক যুবক.... :((



(ছবি: গুগল)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৫৫
২৩টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×