আমার প্রিয় পোস্ট

ইচ্ছেমতো লেখার স্বাধীন খাতা....

সেন্ট মার্টিন্স - ২

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:২৮

শেয়ারঃ
0 0 0


বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ। জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দ্বীপটিতে আছে বহু প্রজাতির শৈবাল, শামুক-ঝিনুক এবং কড়ি। এ জন্য গবেষক এবং পর্যটকদের কাছে দ্বীপটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে ডিম পাড়তে আসে বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপ। দ্বীপটিতে স্থাপন করা হচ্ছে মেরিন পার্ক।
২০০২ সালের জানুয়ারিতে সরকার সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপকে পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। এ সময় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মেরিন পার্ক প্রতিষ্ঠা ও ইকো টুরিজম উন্নয়ন প্রকল্প চালু করে। এর আওতায় দ্বীপে কিছু কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন, গাছ কাটা, শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যা, প্রবাল, কচ্ছপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী ধরা, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস বা সৃষ্টিকারী সব রকম কার্যকলাপ, মাটি, পানি, বায়ু এবং শব্দ দূষণকারী শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয় এমন ধরনের কাজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্পের কর্মসূচিতে ছিলো পরিবেশবান্ধব পর্যটন মোটেল নির্মাণ, পরিবেশসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেরিন পার্ক স্থাপন, গাস বোটের মাধ্যমে পর্যটকদের সমুদ্রের তলদেশের উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখানো, দ্বীপের পাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য জন্য টাওয়ার স্থাপন, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, জাদুঘর স্থাপন এবং গবেষকের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি। প্রকল্পের কিছু কাজ হলেও এখন প্রকল্পটির কি অবস্থা তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ এ প্রকল্পের ওয়েবসাইট (Click This Link) থেকে - Conservation of Biodiversity, Marine Park Establishment and Eco tourism Development at Saint Martin’s Island. লিংকে ক্লিক করলে তা http://www.stmartinsbd.org/ এই ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। যা এই প্রকল্পের ওয়েবসাইট নয়।

সেন্ট মার্টিন্সকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে এ আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সেন্ট মার্টিন্সের পরিবেশ অবনতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে পর্যটকদের দেখার মতো কিছুই থাকবে না।
সেন্ট মার্টিন্স ঘুরে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক পর্যটক প্রতিদিন দ্বীপটি দেখার জন্য আসছেন। পর্যটকরা নিজেদের উচ্ছিষ্ট দ্রব্য এবং ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলছেন। এছাড়াও দ্বীপবাসী লোকজনের বিভিন্ন পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের ফলে দ্বীপটির পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে।
সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে বেশ কিছু মাছ প্রক্রিয়াজাত করার প্রতিষ্ঠান আছে। প্রক্রিয়াজাত করার পর মাছের বর্জ্যগুলো যেখানে-সেখানে ফেলা হয়। এর ফলে দ্বীপের বিভিন্ন অংশে পুতিগন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বীপবাসীর প্রধান ব্যবসা মাছ ধরা। প্রতিদিন শত শত জেলে নৌকা মাছ ধরার জন্য সাগরে যায়। মাছ ধরা জালে দ্বীপের নুড়িপাথর ব্যবহার করা হয়। জালে ব্যবহৃত নুড়িপাথরগুলো প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর হারিয়ে যায় বা পরিবর্তন করতে হয়। এভাবে দ্বীপের পাথর ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে বলে জানা যায়। এর ফলে দ্বীপের ক্ষয়সাধন বেড়ে যাচ্ছে এবং দ্বীপ ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে।
দ্বীপবাসীর জ্বালানি চাহিদা মেটানো হয় দ্বীপের দক্ষিণ দিকের প্রাকৃতিক গাছপালা দিয়ে। জ্বালানির প্রয়োজনে স্থানীয়রা দ্বীপের দক্ষিণ দিক থেকে কেয়া ও কেওড়া বন কেটে নিয়ে আসে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় তারা প্রথমে ঝোপে আগুন জ্বালায়। তারপর তা অর্ধপোড়া অবস্থায় কেটে নিয়ে আসে। এভাবে গাছ কাটার ফলে দ্বীপের প্রাকৃতিক গাছপালার প্রচুর ক্ষতি হয়।

স্থানীয় কয়েকটি হোটেলের পক্ষ থেকে সামনের সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ দ্বীপটির পরিবেশ নজরদারি করার জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অবতরণের সময় পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা এবং মাছের বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা বন্ধ করার জন্য স্থানীয় বা জাতীয় কোনো পর্যায় থেকেই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়াও দ্বীপটি সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার করার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্থানীয় হোটেলগুলো বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে তেল এনে জেনারেটর চালায়। সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি ব্যবহার করলে হোটেলগুলোর অর্থের সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশও রক্ষা হতো।
[ছবি: লেখক]

 

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩১
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: সেন্টমার্টিন নিয়ে আপনার গত কিস্তি পড়েছি অফলাইনে।
এটি পড়ে পড়ব। এখন ঘুমুতে যাই। চোখ ব্যাথা করছে।
টাটা।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: কুনো সমস্যা নাই। পরে একসময় পড়লেই হবে।
শুভরাত্রি....
;)

২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩২
রাশেদ বলেছেন: প্রাইভেট কোনো ফার্মের হাতে দিয়ে দেয়াই ভালো হয়তো! কে জানে! :|
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: এ বিষয়ে অনেকদিন আগে এ ব্লগে একটা পোস্ট এসেছিলো। যার মূল বক্তব্য ছিলো, সেখানে একটা সেইরকম প্রাইভেট বিচ তৈরি করা উচিত। আমিও সমর্থন জানিয়েছিলাম।
কারণ সরকারি আমলাতান্ত্রিক লোকজন দিয়ে কোনোভাবেই উদ্ভাবনী কাজ করা সম্ভব না। তারা নিজেদের চাকরি বাঁচানোর জন্য যা দরকার তাই করবে শুধু।
কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার থাকবে। এটাই মনে হয় সবচেয়ে ভাল উপায়।
শুভেচ্ছা।

৩. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৮
নাঈম বলেছেন: সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এর মতো আরো অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ শুধুমাত্র সরকারের অবহেলার কারণে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, ভাবতেই কষ্ট লাগে।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: হুমম.... ঠিকই বলেছেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।

৪. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৯
পারভেজ বলেছেন: পোষ্ট ২টা এখানে দিয়ে দিলাম।
http://coxbazaar.blogspot.com/
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: আরো পর্ব আছে কিন্তু।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৮

লেখক বলেছেন: এতো কষ্ট করে পড়ার কি দর্কার ছিলো।

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা :)

৬. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫২
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: প্রাইভেটে দেয়া ভাল। কিন্তু খালি প্রাইভেটে দিলেই হবে না। বাংলাদেশে এখনও ওত ভাল কোন উদ্ভাবনী ক্রিয়েটিভ এ্যামবিশাস প্রাইভেট কোম্পানী হয় নি। সরকারের ও ক্ষমতা খাটাতে হবে। ফয়েজ লেকও তো শুনেছি অনেক সুন্দর হয়েছে। কিন্তু তাতে ইন্টারন্যাশনাল টুরিষ্ট মার্কেট ধরা গেল কই?

দরকার প্রাইভেটে হস্তান্তর করে সাজানো। বিশ্বের নানা ট্রাভেল এজেন্টদের সাথে চুক্তি। কটা এয়ারলাইনের সাথে চুক্তি। বিশ্বের নানা জায়গায় এড। ডিসকভারী, ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেলরে দাওয়াত দিয়ে এনে খাতির করে কোন মতে ডকুমেন্টরি বানিয়ে প্রচার।

টুরিষ্টদের এ দেশে আসার পথ দেখাতে হবে। সব্বাই সামারে বসে থাকে কোথায় আসবে ভেবে। যাবার যায়গা পায় না। কদ্দিন আর স্পেন, ইটালি যা্ওয়া যায়? ইদানিং মিশর, এমনকি তিউনিসিয়া পর্যন্ত হিট হয়ে যাচ্ছে। কারন মানুষ নতুনত্ব খোজে। সামান্য স্মার্ট পদক্ষেপ প্রচুর বিদেশী টুরিষ্ট এনে দিতে পারে।
এ বিষয়ে বিশদ পরিক্লপনা সহ পোষ্ট দেবার ইচ্ছে ছিল। দেয়া হয় নি। কোন একসময় দিব।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:০৭

লেখক বলেছেন: আপনি আবার?

যাই হোক, ভাল বলেছেন। বিশদ পরিকল্পনা সহ আপনার সেই পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

এখন আমিই বরং যাই। শুভরাত্রি।

৭. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১০
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: কক্সবাজারের কাছে থেকেও এই দ্বীপটি দেখা হলো না। আপনার লেখাটা পড়ে আগ্রহ আরো বেড়ে গেলো, আপনাকে ধন্যবাদ তথ্যবহুল পোষ্টের জন্য

ভালো থাকুন
শুভকামনা থাকলো।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৫

লেখক বলেছেন: হায় হায় এখনো দেখেন নি.... :(
সময় করে যেয়েন।

আপনিও ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা :)

৮. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৩
জেমসবন্ড বলেছেন: ভাই,

আপনাকে আমার পরিবেশ গ্রুপে আমন্ত্রণ । দয়া করে কি আপনার লেখাগুলা পরিবেশ গ্রুপে দিবেন ?

আমি একা একা কষ্টে কষ্টে এ গ্রুপ চালায়তাছি , আপনাকে সাথে পেলে খুশি হতাম ।

ধন্যবাদ ।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কয়দিন খুব ব্যস্ত আছি। পরে একসময় সুযোগ বুঝে গ্রুপের সদস্য হবো ;)
ভালো থাকবেন।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ ;)
ভালো থাকবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৪৪৯৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্বপ্ন দেখি একজন কবি হওয়ার। ভালো লাগে বন্ধুদের নিয়ে মজা করতে, ঘোরাঘুরি করতে, নানা ধরনের বিষয় পড়তে আর লেখালেখি করতে।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ