somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নারী গৃহকর্মী নামের ক্রীতদাসী রপ্তানী করা উচিত হবে কি?
সম্প্রতি লন্ডনে এক ধনী আরব দোষী প্রমাণিত হয়েছে তার কর্মচারীকে লন্ডনের এক হোটেলে নির্যাতন করে মেরে ফেলার কারণে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সে নির্যাতনের অংশবিশেষ বিবিসিতেও দেখানো হয়েছে। খুন করার সময় ধনী ওই আরবের হয়তো খেয়াল ছিল না যে সে তখন আরবের বাইরে আছে। আরব দেশে হলে এই ঘটনার বিচার তো দূরে থাক আত্মীয় স্বজন লাশটা পেলেও নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করতেন।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ইউরোপের পথে যাত্রা বিরতির সময় দুজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আলাপ করতে করতে জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কোন দেশের নাগরিক? বাংলাদেশ- কথাটা শুনেই তাদের মুখের ভাব পাল্টে গেল। কারণ বুঝতে আমার একটুও দেরী হলো না। বাংলাদেশের মানুষজনকে এরা একটু নিচু দৃষ্টিতেই দেখে। আরব দেশগুলোর নিম্ন বেতনের চাকরিগুলোই বাংলাদেশের মানুষজন করে। এগুলোর মধ্যে আছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ- গৃহকর্মী।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের এক চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে তারা বহু মানুষ নিবে। পদের মধ্যে রয়েছে বাগানের মালি, ক্লিনার, ড্রাইভার এবং নারী গৃহকর্মী (বা কাজের মেয়ে)। এর সংখ্যা হতে পারে প্রতি মাসে ১০ হাজার পর্যন্ত। এসব পদের মধ্যে বাস্তবতার কারণে একমাত্র বিরোধীতার পদটি হচ্ছে, গৃহকর্মী বা কাজের মেয়ে।
বাড়ির কাজের মেয়ে পদটাই মানুষের জন্য অবমাননাকর। আর তা যদি হয় সৌদি আরবে তাহলে পদটা হয়ে দাড়ায় ভয়ঙ্কর ঝুঁকিপূর্ণ। বিদেশী বিভিন্ন পত্রিকার পাতায় প্রায়ই আরবদের বিদেশী কাজের মেয়ে নির্যাতনের খবর পা্ওয়া যায়। আর ইন্টারনেটে এ বিষয়ে সার্চ দিলে যে খবরগুলো আসে তা দেখলে রিতিমতো আতঙ্কে শিউরে উঠতে হয়। আরবে নারী গৃহকর্মীদের মধ্যে নির্যাতিত হবার হার অনেক বেশী। এ নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, মারধর, বৈদ্যুতিক শক, বন্দী করে রাখা এবং বেতন না দেয়া। এসব সহ্য করতে না পেরে অনেকে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। অন্যদিকে নির্যাতিত হবার পরে বিচার চা্ওয়ার মতো পরিস্থিতি আরবে নেই। বাংলাদেশের যেসব নারীদের সেখানে পাঠানো হবে তাদের অনেকে একেবারেই নিরক্ষর। বাংলাদেশের দূতাবাসের তুলনায় অন্য কয়েকটি দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের রক্ষায় অনেক সচেষ্ট হলেও তারা তাদের নাগরিকদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমাদের দূর্বল দূতাবাসের পক্ষে যে তা সম্ভব হবেনা তা বলাই বাহুল্য।

গত বছরের আগস্টে সৌদি আরব থেকে নির্যাতিত হয়ে ফেরত আসা শ্রীলঙ্কার এক মহিলার এক্সরে রিপোর্টে হাত, পা ও মাথার ভেতর থেকে ২৪টি পেরেক ও সুচ পা্ওয়া যায়। এর মধ্যে একটা পেরেক পাওয়া যায় তার চোখের উপর বিদ্ধ অবস্থায়। অন্যগুলো ছিল হাত ও পায়ের ভেতর।

পেরেকগুলো আড়াই থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা আর সুচগুলো প্রায় আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা। নির্যাতনের শিকার আরিওয়াথি সাংবাদিকদের জানান, "তারা আমাকে কখনো বিশ্রামও করতে দিতোনা। ভারী জিনিস বহন করতে অক্ষম হওয়ায় তারা পেরেকগুলো গরম করে আমার দেহে ঢুকিয়ে দেয়। বাড়ির পুরুষটা সেগুলো গরম করে এবং মহিলাটা সেগুলো আমার দেহে ঢুকিয়ে দেয়।" তবে সৌদি আরবে থাকতে তিনি অভিযোগ করেননি কারণ, অভিযোগ করলে তারা যদি তাকে দেশে আসতে না দেয়। এ ঘটনার জন্য শ্রীলঙ্কা সরকার সৌদি সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানায়।
নির্যাতনের ভয়াবহ এ ধরনের চিত্র আরবের দেশে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। আল আরাবিয়া নিউজের মতে আরবে নির্যাতিত নারী গৃহকর্মীর সংখ্যা ৩০ লাখ! আরবের নব্য ধনীরা কাজের মানুষকে অতীতের দাস প্রথার সময়কার দাসীদের মতো করেই দেখে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বৃহৎ শক্তি। এ মুহূর্তে প্রবাসীরা অর্থ পাঠানো বন্ধ করে দিলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি হবে এবং দেশের আমদানীর অর্থ শোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে দেশের অর্থনীতি ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট সঙ্কটে পতিত হবে বলে সরকারের ধারণা।
বাস্তবে অত্যন্ত বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয়া এই মেয়েদের থেকে কি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পা্ওয়া যাবে তার বাস্তবসম্মত হিসাব সরকারের আছে কিনা জানা নেই। বলা হচ্ছে তাদের বেতন হবে মাসে মাত্র ১২ হাজার টাকা। উল্লেখ্য পৃথিবীর অনেক দেশেই আইন অনুযায়ী একজন অদক্ষ শ্রমিকের মাত্র দুই দিনের সর্বনিম্ন বেতনই আরবের প্রস্তাবিত ওই ১২ হাজার টাকার থেকে বেশী।
মাসে ১২ হাজার টাকার হিসেব করার সময় সরকারের অবশ্যই হিসেব করা উচিত যে বিদেশে যেতে একজন শ্রমিকের দালাল, রিক্রুটিং এজেন্ট, পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা প্রাপ্তি, যাতায়াত প্রভৃতিতে বহু খরচ হয়ে যায়। এর মধ্যে অনেকেই মেয়েই বাস্তবে তাদের পরিশ্রমলব্ধ পা্ওনা টাকা পাবেনা, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কোনো রকমে জান নিয়ে ফেরত আসবে। দেশে ফেরত আসার পর অনেকের চিকিৎসার নিতেই উপার্জনের এ টাকা শেষ হয়ে যাবে। এসব খরচ করার পর ১২ হাজার টাকা থেকে কয় টাকা ভুক্তভোগীর হাতে থাকবে কিংবা কোনো টাকা থাকবে কিনা তা অবশ্যই হিসেব করা প্রয়োজন রয়েছে।

নারী গৃহকর্মীদের বিদেশ যা্ওয়ায় কোনো খরচ করা হবেনা বলেই জানানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিদেশ যা্ওয়ার সময় নানা অজুহাতে রিক্রুটিং এজেন্টরা প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে নেয়। গরীব কর্মীরা ধার-দেনা করে কিংবা ভিটা-মাটি বিক্রি করে এ টাকা জোগাড় করে। ফলে বিদেশ থেকে তারা চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে আসতে চাইলেও আসতে পারে না। দেশে আসলে ঋণ কিভাবে শোধ হবে এ চিন্তাতেই নির্যাতন সহ্য করে তাদের বিদেশে থেকে যেতে হয় লম্বা সময়।
পরিসংঋখ্যানে জানা যায়, বিদেশ যাওয়া নারী শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ শতাংশ সম্পূর্ণরুপে সর্বশান্ত হয়ে ফিরে আসে। রিক্রুটিং এজেন্ট সহ বহু ধরনের খরচ তাদের পানিতে যায়। তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশের আর্থিকভাবে কোনো লাভ হয় না ক্ষতিও হয় না। কোনোক্রমে বিদেশ যা্ওয়ার টাকাটা উঠে আসলেই তারা দেশে ফিরে আসে। অর্থাৎ তাদের জীবনের মূল্যবান সময় ও শ্রম তারা বিদেশে নষ্ট করে। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানো নারী শ্রমিকের ৪৯ শতাংশেরই প্রত্যাশা পূরণ হয় না।

বাংলাদেশে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই এমনটা মনে করা ভুল। গার্মেন্টসের রপ্তানি প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কর্মসংস্থান। চট্টগ্রাম অঞ্চলের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সে এলাকায় সারা বছর কর্মী সঙ্কট লেগেই আছে। মাঝে মাঝে মাইকিং করেও তারা দক্ষ কর্মী পায়না। আর কিছুদিন গার্মেন্টসে কাজ করার পর দক্ষ হয়ে উঠলে আরবের প্রস্তাবিত ১২ হাজার টাকার থেকে বেতন খুব একটা কম হবে না। উপরন্তু এখানে চাকরি পাওয়ার জন্য পাসপোর্ট, দালাল, বৈদেশিক রিক্রুটিং এজেন্ট, বিমান ভাড়া ইত্যাদি বাবদ খরচ নেই। ফলে চাকরির নেয়ার জন্য ঋণের দায়ে সর্বশান্ত হতে হবে না।

আসুন দেখি বাংলাদেশ থেকে বেশী বেশী গৃহকর্মী নেয়ার আরবদের উদ্যোগের পিছনে কারণটা কি? অতীতে আরবের দেশগুলো মূলত ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ইথিওপিয়া ও ভারত থেকে কাজের মানুষ নিতে পারতো। যেসব দেশে এসব মেয়েরা কাজ করে তার মধ্যে রয়েছে, সউদি আরব, কুয়েত, জর্ডান ও লেবানন।

এসব কর্মীদের নির্যাতন, মৃত্যু, কম বেতন দেয়া ইত্যাদি কারণে সরবরাহকারী দেশগুলো বর্তমানে আরবের দেশগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাই তারা সস্তায় নতুন মেয়ের সন্ধানে এসেছে বাংলাদেশে। যদি বিদেশে এভাবে মেয়েদের পাঠানো বন্ধ না হয় তাহলে আর কিছুদিনের মধ্যেই আরবের ৩০ লক্ষ নির্যাতিত গৃহকর্মীর সংখ্যা আরো বড় হবে। বিদেশের মাটিতে আমাদের দেশের মেয়েদের এ অবমাননা ও নির্যাতন আমরা চাইনা।
অন্যথায় আমরা বাধ্য হবো আরবদের নতুন নতুন পদ্ধতির নির্যাতনে মৃত মেয়েদের লাশ দেখতে। বেঁচে যা্ওয়া বহু নারীকে নির্যাতনের ভয়াবহ স্মৃতি বহন করতে হবে, অনেকে পঙ্গু হয়ে যাবে, যন্ত্রণা বয়ে বেড়াবে সারা জীবন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29367051 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29367051 2011-04-22 08:08:51
মার্কিন রাষ্ট্রদুত মরিয়ার্টির বিহারীদের জন্য আহ্বান বনাম তাঁর দেশের বাস্তবতা
ছবি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের উপর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনের প্রচ্ছদ।
ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি গত সোমবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের জেনেভা ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং নানান মন্তব্য করেন। জানা যায়, ক্যাম্প পরিদর্শনের পর মরিয়ার্টি সাংবাদিকদের বলেন, "এই উর্দুভাষীদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়ার হাইকোর্টের রায়ের পর কী ঘটেছে তা দেখার জন্য আমি এখানে এসেছি।" তিনি আরো বলেন, "বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী উর্দুভাষী বিহারীদেরও বাঙালিদের মতো সমঅধিকার পাওয়া উচিত।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
কাউকে কোনো বিষয় সম্পর্কে পরামর্শ দেবার আগে নিজে তা করি কিনা সে সম্পর্কে চিন্তা করে নেয়া উচিত। মার্কিন রাষ্ট্রদূত যখন ঢাকাতে দাঁড়িয়ে আড়াই লক্ষ বিহারীদের সুযোগ সুবিধা ও অধিকার নিয়ে কথা বলছেন, ঠিক সে মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ অবৈধভাবে বসবাসকারী (অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট) মানুষ ন্যুনতম নাগরিক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে।

মারিয়ার্টির নিশ্চয়ই জানা আছে, তার সরকারের নীতির কারণে তার নিজের দেশের অবৈধ ইমিগ্র্যান্টরা বঞ্চিত ও অমানবেতর অবস্থায় বসবাস করে। এমনকি সব মার্কিনদের উন্নত স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য ওবামার প্রস্তাবিত বিলেও এই এক কোটির বেশী মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকার করা হয়েছে। অবৈধদের সেদেশে শুধু বিনা চিকিৎসাতেই মরতে হয় তা নয়, অবৈধ ইমিগ্র্যান্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বঞ্চিত হয় কাজের সুযোগ সহ অন্যান্য আইনগত ও অতি প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা থেকে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক প্রতি বছর হাজার হাজার ইমিগ্র্যান্টকে জোরপূর্বক বিদেশে ফেরত পাঠানোর কঠোর সমালোচনা করে থাকে। বিভিন্ন রিপোর্টে মানবাধিকার সংগঠনগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের কঠোর নিন্দা করে থাকে। এ আইনের সুযোগে নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও কোনো ব্যক্তিকে সামান্য অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে জোরপূর্বক বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এ বছরের মার্চে প্রকাশিত এক রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছে, বৈধভাবে বহু বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পরও সামান্য অপরাধে সাজা ভোগ করার পর তাদের বিদেশে ফেরত পাঠানো হয়। সামান্য এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে ট্রাফিক অফেন্স ও শপ লিফটিং।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি ৯১ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ সংক্রান্ত একটি আইন পাশ হওয়ার পর থেকে এ অবস্থা সবচেয়ে বেশী খারাপ হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী মোট ৬ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশী মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যালিসন পার্কার এক রিপোর্টে বলেন, এদের (জোরপূর্বক বিদেশে ফেরত পাঠানো) মধ্যে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরে বৈধভাবে বসবাস করছেন। অনেকেই সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন, অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের অনেকেরই পরিবারের সদস্য ও ছোট বাচ্চা আছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অনেককেই তাদের স্ত্রী, সন্তান কিংবা বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়, জানাচ্ছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, পরিবারের একজনকে এভাবে বিদেশে ফেরত পাঠানোর ফলে পরিবারগুলো মারাত্মক সমস্যায় পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবারগুলো ভেঙ্গে যায়।



বিহারীদের পরিচয়
জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসকারী বিহারী মাত্রই একথা স্বীকার করে যে, তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল। এমনকি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পরও এই বিহারীরা অনেক বাঙালিকে হত্যা করে। যদিও সেসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশে নিহত ৩০ লক্ষ মানুষের একটা বিরাট অংশকেই হত্যা করেছিল এরা। ১৯৭১ সালের সময়কার গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীদের নানা সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণমূলক বই থেকে সে সময়কার বিহারীদের ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে ওঠে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারিয়ার্টির হয়তো জানা নেই, বিহারীরা আমাদের দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং তার আগে ও পরে এ দেশের অধিবাসীদের কিভাবে কচুকাটা করেছিল। অসংখ্য লুটপাট, হত্যা ও ধর্ষণের জন্য তারা অভিযুক্ত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা এ চক্রের অন্যতম কীর্তি। শুধু অস্ত্র হাতে নিতে সক্ষম টগবগে যুবকদেরকেই তারা হত্যা করেছে তা নয়। কবী ও লেখক, শিক্ষক, চলচ্চিত্রকার কিংবা সাংবাদিক কেউই তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। দেশের নীতি নির্ধারণে সক্ষম হাজার হাজার জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের তারা হত্যা করেছে। সেসব হত্যাকাণ্ডে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এ দেশের নেতৃত্বকে মেধাশূন্য করে ফেলা।
অনেকেই মনে করেন, স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্টী তাদের সে চক্রান্তে পুরোপুরি সফল হয়েছে। কারণ সেসব হত্যাকাণ্ডের ধাক্কা এ দেশ এখনো সামলে উঠতে পারেনি। স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে আজ পর্যন্ত চলে আসা দেশের অচলাবস্থা, নানান রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, দেশ পরিচালনা ও নীতি নির্ধারণে ন্যূনতম পরিকল্পনার অভাব ইত্যাদি দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বুদ্ধির শূন্যস্থানকেই প্রমাণ করে।

বাংলাদেশে বিহারীদের আইনগত ভিত্তি
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারিয়ার্টির নিশ্চয়ই জানা আছে, বাংলাদেশ থেকে এসব হত্যাকারী, ধর্ষণকারী ও নির্যাতনকারীদের বের করে দেয়া হয়নি। তাদের থাকতে দেয়া হচ্ছে কয়েকটা ক্যাম্পে। তবে তাদের এ ক্যাম্পগুলোতে থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিহারীরা ইচ্ছে করলেই ক্যাম্পের বাইরে থাকতে পারে। তাদের কাজের ক্ষেত্রেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত একথা শোনা যায়নি যে, বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়ার কারণে এদেশে চাকরি পেতে কিংবা ব্যবসা বাণিজ্য চালাতে কোনো বিহারীর বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়েছে। বিহারী ক্যাম্পে গিয়ে তার উত্তর পাশের জমজমাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখলেই যে কারো এ সন্দেহ দূর হবে।
তবে অতীতে বিহারীরা কাগজে কলমে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছিল না। এ কারণে তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের দাবি জানিয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।
বাংলাদেশের হাইকোর্ট এ সমস্যার একটা সমাধান দেয় গত বছরের ১৮ই মে। হাইকোর্টের রায়ে বাংলাদেশের ১১৬ টি ক্যাম্পে বসবাসরত ১ লাখ ৬০ হাজার উর্দুভাষী 'আটকেপড়া পাকিস্তানীর' মধ্যে যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় নাবালক ছিল বা এর পরে জন্ম নিয়েছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক বলে রায় দেয়। আইন অনুযায়ী তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিসহ নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলেও অভিমত দেয় আদালত। ওই রায়ের পর এসব ক্যাম্পে বসবাসরত অধিকাংশ উর্দুভাষী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

মরিয়ার্টির পরামর্শ ও বাস্তবতা
মরিয়ার্টির মন্তব্যগুলো পড়লে একথা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্পে বিহারীদের জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেছেন, "আমি মনে করি বাংলাদেশের একটি সংবিধান রয়েছে এবং তাতে খুব স্পষ্ট করেই বলা আছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিচারে এদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার পাবে। এসব উর্দুভাষী তাদের নাগরিক। তারা সরকারেরই নাগরিক"। এ বিষয়টি উর্দুভাষী বিহারী ও বাংলাদেশ সরকারের নিষ্পত্তি করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাস্তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের চিকিৎসা কিংবা কাজ করতে যেমন বাধা দেয়া হয় বাংলাদেশের বিহারীদের ক্ষেত্রে তেমন বাধা নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিসংখ্যানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপোর্ট করা বা বের করে দেয়া বৈধ ও অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ও তাদের ভেঙ্গে যাওয়া পরিবারে যেমন দুঃখজনক ব্যাপার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখা যায় এদেশের বিহারীদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ব্যাপার দেখা যায় না।

বাংলাদেশের কোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিহারী বলে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়না কিংবা কোনো স্কুলে তাদের বাচ্চাদের ভর্তি করা হয়না এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়না। দেশের যে কোনো স্থানে তারা কাজ করতে পারে। ঢাকার বেশ কয়েকটা রুটের বাসে বিহারী ড্রাইভার, হেলপারের আধিপত্য দেখা যায়। এ নিয়ে কেউ কখনো অভিযোগ করেনি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কখনো কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে তেমনটা শোনা যায়নি।
একথা সত্যি যে, বিহারীদের বসবাসকারী ক্যাম্পগুলোতে তারা অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় গাদাগাদি করে থাকে। তবে তাদের এ দুর্দশার কারণ সরকারের কোনো আইন নয়। নদী ভাঙ্গন কিংবা প্রাকৃতিক নানান দুর্যোগের শিকার হয়ে ঢাকা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেয়া লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশের নাগরিকদের অবস্থা বিহারীদের চেয়ে বহু গুণে খারাপ।

শেষ কথা
বাংলাদেশের বিহারীদের যেহেতু সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে তাই এ নিয়ে মরিয়ার্টির চিন্তিত হবার তেমন কোনো কারণ দেখা যায় না। মানবাধিকার সমুন্নত করার উদ্দেশ্য থাকলে মরিয়ার্টির নিজ দেশের আইন দ্বারা বঞ্চিত প্রায় সোয়া এক কোটি অবৈধ মানুষের পাশে দাড়ানোই ভাল। আর যদি উদ্দেশ্য থাকে গরীব ও অভাবী মানুষদের পক্ষে কাজ করার, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিস্বরণের ফলে সৃষ্ট গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে দ্রুত বর্ধনশীল প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়ানোই সমীচিন। ঢাকা শহরের বস্তিবাসীদের বিরাট অংশ নদী ভাঙ্গন কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে স্থানচ্যুত হয়েছে এবং বর্তমানে ঢাকার বস্তিগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, জেনেভা ক্যাম্পের আটকে পড়া পাকিস্তানীদের চেয়েও তাদের অবস্থা অনেক খারাপ।

তথ্যসূত্র:
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (http://www.hrw.org), বিডিনিউজ (http://www.bdnews24.com/bangla), উইকিপিডিয়া (http://www.wikipedia.org)

আরো বিস্তারিত দেখুন......
Click This Link
Click This Link
Click This Link
http://www.hrw.org/node/82173]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29050340 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29050340 2009-11-27 08:43:10
মানব দেহের রোমহর্ষক প্রদর্শনী
বাউল গানে আছে, দেহ ঘড়ি চৌদ্দ তলা / তার ভেতরে দশটি নালা / নয়টি খোলা একটি বন্ধ / গোপন একটা তালা আছে....
দেহঘড়ির এ রহস্য নিয়ে শিল্পী থেকে শুরু করে ডাক্তার পর্যন্ত সবারই আগ্রহ রয়েছে। শরীর নিয়ে মানুষের এ আগ্রহ মেটানোর জন্যই বডিস রিভিল্ড প্রদর্শনীর আয়োজন। এ প্রদর্শনী মানব দেহের বেশ কিছু সম্ভার নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ায়। প্রদর্শনী দেখে কৌতুল মেটায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে এ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা পর্যন্ত।
কয়দিন আগে এ প্রদর্শনী শুরু হলো বৃটেনের বার্মিংহামে। আমিও মানব দেহের দুর্লভ এ প্রদর্শনী দেখার জন্য বন্ধুদের নিয়ে প্রদর্শনীতে গিয়ে হাজির হলাম।
প্রদর্শনীর শুরুতেই আধো অন্ধকারের ভৌতিক পরিবেশে মানুষের কিছু কঙ্কাল রাখা ছিল। পরে বুঝলাম এ অংশটা মানুষের দেহের হাড্ডি-গুড্ডির ব্যাপারটা (skeletal system) দেখাচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই আমি এ জিনিস দেখেছি। তাই তেমন ভয় পেলাম না।
অবশ্য তার পাশে কিছুদূর যেতেই অন্ধকারে স্পটলাইটের আলোয় চোখে পড়লো নিখুতভাবে চামড়া ছাড়ানো এক মানুষ দাড় করিয়ে রাখা আছে। মৃত লোকটার সারা দেহের মাংসগুলো স্পষ্ট। প্রতিটা পেশী অতি সুস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আরো একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম…… লোকটার চোখ। মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটা এরা এতোই নিখুতভাবে করেছে যে দেখে মনে হচ্ছে একেবারে টকটকে টাটকা মাংস দেখছি। লোকটার চোখগুলোও অতি জীবন্তভাবে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। দূর থেকেই দেখলাম কিছুক্ষণ। কাছে গিয়ে দেখলে অনুভূতি কেমন হবে তা নিয়ে একটু চিন্তিত ছিলাম। পরে আস্তে আস্তে কাছে গেলাম। না, যতোটা ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছিলো, ততোটা নয়। অন্তত কাঁচা মাংসের কোনো গন্ধ নাকে আসলো না।

এদের মৃতদেহ সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াটা নিঃসন্দেহে উন্নত মানের। প্রদর্শনীটাও মানুষের দেহের বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রদর্শনীটি নার্ভাস সিস্টেম, সার্কুলেটরি সিস্টেম, রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেম ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর এক অংশে মানব দেহের পেশীগুলোর (Muscular System) নানান ব্যাপার দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই পেশী দেখানোর জন্য দেহের চামড়াগুলো নিখুতভাবে তুলে ফেলা হয়েছে।

মানুষের নার্ভ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির কম্পিউটারের চেয়েও দ্রুত। নার্ভাস সিস্টেমের প্রধান অংশ মানুষের মস্তিস্ক প্রতি সেকেন্ডে অসংখ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত তৈরি করে এবং অন্যান্য কাজ চালু রাখে। এ জিনিসগুলো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে নার্ভাস সিস্টেমের অংশে। এখানে আরেকটা জিনিস বেশ অভিনব। মানুষের মস্তিস্ক খুব নিখুতভাবে কেটে ভাগ ভাগ করে রাখা হয়েছে। বার্নিশ করা কাঠের ফার্নিচারে যেমনভাবে কাঠের নকশাগুলো বোঝা যায় ঠিক সেভাবেই মস্তিস্ক মসৃন ভাবে কাটা হয়েছে। মস্তিস্কের ভেতরের প্রতিটা স্তর আলাদা আলাদা ভাবে দেখা যাচ্ছে।

মস্তিস্কের অংশ পার হয়ে গেলাম সার্কুলেটরি সিস্টেম দেখার জন্য। মানুষের সারা দেহে ছড়িয়ে রয়েছে রক্ত পরিবহনের অসংখ্য নালী। এগুলোর উপস্থাপন দেখানো হয়েছে সার্কুলেটরি সিস্টেমে। মানুষের শরীরের রক্তনালীগুলোর উপস্থাপন নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। প্রদর্শনীর এক পাশে লেখা আছে, কিভাবে মৃতদেহের ভেতরে রাসায়নিক ঢুকিয়ে রক্ত পরিবহন তন্ত্রের অনুলিপি তৈরি করা হয়েছে।

শ্বাসতন্ত্রের প্রদর্শনীতে কয়েকটা ফুসফুস দেখে আগ্রহী হলাম। এখানে অনেকটা ধুমপান বিরোধী প্রচারণাও করা হচ্ছিলো। ক্যান্সারে মারা যাওয়া ধুমপায়ীর ফুসফুসের পাশাপাশি সুস্থ ফুসফুস রাখা ছিল। ধুমপায়ীর কালো রঙের ফুসফুস দেখে পার্থক্যটা সহজেই বোঝা যাচ্ছিলো। এখানে একটা কাচের বাক্স রাখা ছিলো। অনেক ধুমপায়ী এগুলো দেখে তাদের পকেটে থাকা সিগারেট, ম্যাচ, লাইটার ইত্যাদি পাশের কাচের বাক্সে ফেলে দিচ্ছিলেন।
রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেম অংশে মানুষের শরীরের যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বংশবৃদ্ধির কাজে লাগে সেগুলো দেখানো হচ্ছিলো।

অনেক আগে দেখেছিলাম সম্ভবত ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রাণী জাদুঘরে বিভিন্ন বয়সের মানুষের বাচ্চার ভ্রুন প্রদর্শনের জন্য রাখা আছে। এখানেও তেমনটা দেখলাম। তবে এখানকার প্রদর্শনীর ঢং, লাইটিং তথ্য প্রদান ইত্যাদি সে তুলনায় আকর্ষণীয়।

সবকিছু দেখার পর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে না পারার দুঃখটা ভুলে গেলাম। প্রদর্শনীতে যাওয়ার পরেই দারোয়ান খুব গুরুত্বের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল যে, ভেতরে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা যাবেনা। আমার কাছে বৃটেনে এটা একটা বেশ অভিনব ব্যাপার। বৃটিশ মিউজিয়ামেও ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে কোনো বারণ নেই। তাই প্রদর্শনীর ছবিগুলো ইন্টারনেট ঘেটে জোগাড় করতে হলো।

প্রদর্শনীটা শুধু কৌতুহল নিবারকই নয়, বেশ কিছু ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীর ভিড় দেখে বুঝতে পারলাম এরা শেখার জন্যই প্রদর্শনীতে এসেছে। জানা গেল, এ প্রদর্শনীর জন্য মৃতদেহগুলো প্রধানত জোগাড় করা হয়েছে চীন থেকে। পরবর্তী কালে এ কোম্পানি মূলত চিকিৎসা গবেষণার জন্য সংগ্রীহিত মৃতদেহগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রদর্শনীর উপযোগী করে তৈরি করেছে।
স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এ প্রদর্শনী দেখায় কোনো বিধিনিষেধ আছে কিনা এটা নিয়ে আমি একটু চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু মজা পেলাম যখন শুনলাম, এ বিষয়ে কোনোই বিধিনিষেধ নেই। টিভি সাক্ষাৎকারে আয়োজকরা জানাচ্ছিলেন, স্কুলের বাচ্চারা নাকি এ প্রদর্শনী খুবই আগ্রহ নিয়ে দেখে। ভাবছিলাম, তাহলে আমি এতো বড়ো হয়েও এ প্রদর্শনী দেখতে ভয় পাচ্ছিলাম কেন?




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29047122 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29047122 2009-11-21 10:12:28
রেস্টুরেন্টের দিনগুলি- (শেষ পর্ব) তিনি জানালেন, এখন কিচেন পোর্টার হিসেবে কাজ করলেও ওনার অভিজ্ঞতা বেশ বড়। এর আগে তিনি রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন। কিন্তু লাভ করতে না পেরে এখন তা বিক্রি করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বহু মানুষের সাথে তার খুব ভালো যোগাযোগ আছে বলে জানালেন তিনি।
বৃটেনে এ সময় নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা চলছিলো। কয়দিন আগে নির্বাচন হয়ে গেল। যাবার পথেই গাড়িতে বসে তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন আছে লেবার পার্টির কর্মী। আমি নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ভোট দিয়েছি, একথা জানাতেই অন্যরা বেশ অবাক হলো। তাদের জানা নেই যে, কমনওয়েলথ দেশগুলোর নাগরিকরা বৃটেনে থাকার সময় ভোটার হতে পারে। তারা মনে করেছিলো আমি ভোটার না।
রাত দেড়টার দিকে বার বন্ধ করার পর সাধারণত আমার কাজ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু কখনো কখনো কিচেনের ধোয়া-মোছার কাজ শেষ করতে আরো এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এ সময় আমাদের কাজ থাকতো না। অন্য একজন ওয়েটার মনোয়ার বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় খুব আগ্রহ ছিল।
রাতে গাড়িতে করে পৌছে দেবার আগে অপেক্ষা করার জন্য অনেক সময় আমরা গাড়িতে যেয়ে বসতাম। মনোয়ার আমার কাছে মহাকাশের বিভিন্ন বিষয়, গ্রহ-নক্ষত্র বিষয়ে জানতে চায়। আমিও তাকে আমার সাধ্যমতো জানানোর চেষ্টা করি। মহাকাশে সৌরজগৎ সম্বন্ধে তার কিছুটা ধারণা ছিল। কিন্তু সৌরজগতের বাইরের গ্রহ-নক্ষত্রের বিশালতা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা কম ছিল। কিন্তু আগ্রহের কোনো শেষ ছিল না। মহাকাশে সৌরজগতের বাইরে আবিষ্কৃত গ্রহ বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না। তাকে গ্লিস৫৮১সি নামে ২০.৫ আলোকবর্ষ দূরের একটা গ্রহের নাম শিখিয়ে দিলাম। এলিয়েনদের বিষয়েও তার আগ্রহের কমতি ছিল না। তবে এলিয়েন প্রাপ্তি বিষয়ে তাকে কোনো সুখবর দিতে পারলাম না। পরে সে রেস্টুরেন্টের অন্যান্য কর্মচারীদের এসব দুর্বোদ্ধ কথা বলে নিজেকে জ্ঞানী প্রমাণ করতো।
সিলেটি উচ্চারণে আমার দক্ষতা কম থাকায় তাদের গ্রুপ আলোচনায় খুব কম অংশ নিতাম। তবে একজন বা দুইজনের সঙ্গে আলাপ করতাম ঠিকই। ভাষাগত দক্ষতাও দিন দিন বাড়ছিলো। সিলেটি ভাষায় আমার প্রধান সমস্যা হচ্ছে, আমি তাদের প্রায় সব কথাই বুঝতাম কিন্তু আমার কথা তাদের বুঝতে কষ্ট হতো।
একদিন শায়খ ভাই পায়ে ব্যথা পেয়ে রেস্টুরেন্টে এসেছিলো। আমার কাছ থেকে কয়েকটা বরফ নিয়ে পায়ে লাগাচ্ছিলো। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “পায়ে ব্যথা পেয়েছেন কিভাবে?” তিনি বুঝতে পারলেন না। পরে কথাটা ওনার জন্য একটু বোধগম্য করার জন্য বললাম, “ব্যথা পাইসেন কেমনে?” তিনি তবুও বুঝতে পারলেন না।
তাকে বোঝানোর জন্য কথাটা ইংরেজিতে বলতেই হলো। তারপর বললেন, তিনি সিড়ি দিয়ে নামার সময় “দুখ” পেয়েছেন। তখন বুঝলাম “ব্যথা” শব্দটা ওনার অপরিচিত। শিখলাম সিলেটি উচ্চারণে “ব্যথা”কে “দুখ” বলে। তবে আমার কথা তাদের দুর্বোদ্ধ হলেও কাজের স্বার্থে আমি তাদের কথা বোঝার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করতাম। খুব বেশী সমস্যা হলে ইংরেজিতে বুঝে নিতে হতো। ইংরেজিতে বুঝে নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়তি কিছু বিরক্তি ও ধমক-ধামক শুনতেই হতো।
একদিন ঠাণ্ডা লাগার কারণে সম্ভবত ঘাড় বেশ শক্ত হয়ে গিয়েছিলো। ঘাড় ঘুরাতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো। হেড ওয়েটার এজন্য বেশ বিরক্ত বোধ করছিলো। আমি একটু ভয়েই ছিলাম। ঘাড়ের এই সমস্যার কারণে নতুন কোনো অপবাদ শুনতে হয় কিনা। তবে এ সমস্যা দ্রুত কেটে গেল।
এর মধ্যে কয়েকজন স্টাফের সন্দেহ হয়েছিলো যে, আমি কানে কম শুনি। যদিও সমস্যাটা ঠিক কম শোনার জন্য ছিলো না, সমস্যাটা ছিলো তাদের উচ্চারণ বুঝতে না পারা সংক্রান্ত। তবু তারা মাঝে মঝে এমন ভাব করতো যেন আমি কানে কিছুই শুনি না। একদিন রেস্টুরেন্টের মালিক এসে পিছন থেকে বলে গেল গ্লাস ধোয়ার জন্য সিঙ্কে পানি জমাতে। কিন্তু আমি তখন অন্য একটা অর্ডারের গ্লাস সাজানোর জন্য ব্যস্ত ছিলাম। তাই পানির কাজ শুরু করতে দেরী হচ্ছিলো। এর মধ্যে মালিক আবার আমার কানের কাছে এসে চিৎকার করে বললো পানি লাগান। কথাটা সে কানের এতো কাছে এসে এতো জোরে বললো যে শুধু শব্দই নয়, তার মুখের বাতাস ও পান খাওয়া থুথুর ছিটা আমার কানে এসে লাগলো। আমি মুখে কিছু না বললেও খুবই মন খারাপ হলো। চাকরিটা ছেড়ে দেয়ার পুরনো ইচ্ছাটা আবার বাড়তে লাগলো। অবশ্য প্রতি সপ্তাহেই আমার এই ইচ্ছাটা হতো। তারপর মজুরির টাকাটা হাতে পাবার পর আবার মন কিছুটা ভাল হতো।
ঢাকায় থাকতে কি করতাম, কোথায় পড়াশুনা করতাম ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ওয়েটার সুজা ভাইয়ের খুব আগ্রহ ছিল। আমার পূর্ব ইতিহাস রেস্টুরেন্টের কাউকে জানানোর তেমন একটা ইচ্ছা ছিল না। কেউ এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে বলতাম যে, কিছুদিন একটা ছোটখাট চাকরি করেছি। তবু সুজা ভাই এ কথাতে শান্তি পাচ্ছিলো না। তাই উনি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে পদের নামটা জেনে নিলেন। পত্রিকা অফিসের তেমন বড় কোন পদ না। তাই ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু তবু সুজা ভাইয়ের কাছে ব্যাপারটা বেশ বড় কিছু বলেই হয়তো মনে হয়েছিলো। এ কারণে তিনি রেস্টুরেন্টের মালিক সহ অন্য সবাইকে বলে বেড়ালেন যে, আমি ঢাকার অমুক পত্রিকায় ছিলাম। এ পরিচয়ে হেড ওয়েটার আমাকে অত্যাচার করার জন্য আর একটা অস্ত্র পেয়ে গেল। এর পর থেকে সে মাঝে মাঝে বলতো, এই কাজটাই পার না, তুমি নাকি অমুক ছিলা? মাঝে মাঝে হেড ওয়েটার বিরক্ত হলে তুমি থেকে তুইতে চলে যেতো। আমি অবশ্য তাকে সবসময় আপনি করেই বলতাম।
রেস্টুরেন্টের আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বাসাতে খাবার ডেলিভারি করার একটা সিস্টেম আছে। কাস্টমাররা ফোন করে খাবারের অর্ডার আর তাদের বাসার ঠিকানা বললে তা তাদের বাসাতে পৌঁছিয়ে দেয়া হয়। উইকএন্ডে ব্যস্ততা বাড়লে সন্ধ্যার সময় একটা গাড়িতে করে ডেলিভারি দিয়ে পোষানো যেতো না। এ কারণে আর একজন বাড়তি মানুষ আসতো ডেলিভারি দেয়ার জন্য। সে আমাকে একদিন কথা প্রসঙ্গে বললো, “চাচার (রেস্টুরেন্টের মালিক) ব্যবহার খুব খারাপ আপনি কিছু মনে করবেন না”। তার কথায় আমি চমকে উঠলাম। পরে সে বললো, আমি কাজ করার সময় সে মাঝে মাঝে লক্ষ্য করে। কাজে কোনো ভুল না হলেও রেস্টুরেন্টের মালিক আমার সাথে যে দুর্ব্যবহার করে এটাতে তার বেশ খারাপ লাগে।
হেড ওয়েটারের একজন বন্ধু এসে রেস্টুরেন্টে বসে ছিলো। বুঝলাম সে চাকরি খুজছে কিন্তু মালিক বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না। এসব কারনে হেড ওয়েটারের মন-মেজাজ খারাপ ছিল। রাতে সে আমাকে বলছিলো টেবিল সাজাতে। টেবিলগুলো সাজানোর নিয়মটা আমি শিখেছিলাম কয়েকদিন আগেই। টেবিল ক্লথ একদম সোজা করে বিছিয়ে তারপর তার উপরে বিশেষ বিন্যাস অনুযায়ী প্লেট ও কয়েকটা হাফ প্লেট রাখতে হয়। প্লেটের ডানপাশে দুই ধরনের ছুরি, বাম পাশে দুই ধরনের চামচ ইত্যাদি একদম সোজা করে রেখে তারপর গ্লাস ও মেনু জায়গা মতো রাখতে হয়। নির্দিষ্ট জায়গার আধা ইঞ্চি এদিক ওদিক হলেই হেড ওয়েটারের পছন্দ হয় না।
এর মধ্যে অন্য কেউ একটা টেবিল সাজিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু সেটাতে একটা মেনু উল্টো করে রাখা ছিল। আমাকে হেড ওয়েটার বলছিলো টেবিলটা ঠিক করে একটু টেনে বাম পাশে নিয়ে আসতে। এ সময় টেবিলের যে মেনুটা উল্টো করে রাখা ছিল আমি সেটা হাত দিয়ে ধরে জায়গা বদল করেছিলাম। সারাদিনের পরিশ্রমে বেশ ক্লান্ত ছিলাম। তাই উল্টো করে রাখা মেনুটা সোজা করার কথা মনে হয়নি। হেড ওয়েটার টেবিলের মেনুটা উল্টো বেশ বিশ্রী ভাষায় ধমকে উঠে। পাশেই রেস্টুরেন্টের মালিক ও অন্য ওয়েটাররা ছিল। তারা কেউ এ বিষয়ে কিছু বলে না। আমিও হেড ওয়েটারকে কোনো পাত্তা দেই না এমন একটা ভাব করে চুপ করে থাকি। কিন্তু বিষয়টা বেশ খারাপ লাগে। রাতে বাসায় ফিরে এসব কথাবার্তা মাথা থেকে দূর হতে চায় না। এসব স্মৃতি নিয়ে পরদিন পড়াশোনা করতেও বেশ কষ্ট হয়। মনসংযোগ হতে চায় না। তাই চাকরিটা ছেড়ে দিব কিনা আবার ভাবতে লাগলাম।
এদিকে কড়া ওয়াশিং লিকুইড আর গরম পানি দিয়ে বারের গ্লাসগুলো ধুতে ধুতে আমার হাতের বারোটা বেজে গিয়েছিলো। বাসায় এসে একদিন পড়ার সময় আমার হাত দেখে আমি নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পাঠ্য বইয়ের উপরে হাতটা রাখার পর তা বড়ই বেমানান লাগছিলো। ক্যামেরা বের করে হাতের কয়েকটা ছবিও তুলে রেখেছিলাম। পরদিন কাজে যাওয়ার পরে শেফ আমার হাতের অবস্থা দেখে ফেলেছিলো। পরে সে বলছিলো যে, “ভ্যাসলিন ব্যবহার করেন না কেন?” বাস্তবে বাসায় আসার পরে হাতের যত্ন নেয়ার কথা মনে থাকতো না।

রেস্টুরেন্টের কয়েকজন মানুষের এ ধরনের অনাকাঙ্খিত কথাবার্তা আমার প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি করে। তাদের মানসিক গঠনের সাথে আমার মানসিক গঠনের কিছুটা পার্থক্য ছিল। এ কারণেই হয়তো আমার বেশী অসুবিধা হতো। বিশেষ করে এ রেস্টুরেন্টের মালিক ও হেড ওয়েটার এ দুজন মিলে আমার জীবনটা অতিষ্ট করে ফেলেছিলো। মাঝে মাঝে বাসায় ফিরে পরদিন আবার সেখানে যেতে হবে এ কথা ভাবলে মনে হতো পাগল হয়ে যাব। হয়তো বেশীদিন এ রেস্টুরেন্টে কাজ করলে তা-ও অসম্ভব ছিল না।
এ সময় বাংলা ব্লগিংটা আমার মনের অবস্থা ঠিক করার জন্য অনেকটা উপকার করেছিলো। কারণ রেস্টুরেন্টের যুদ্ধ শেষ করে বাসায় ফিরে প্রতিদিনই বাংলা ব্লগগুলো নিয়ে বসতাম। বহু মানুষের হাজার হাজার লেখার মাঝে আমার নিজের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিতান্তই তুচ্ছ হয়ে যেতো।
এদিকে আমি যে অন্য একটা স্টক অডিটিংয়ের কোম্পানিতে চাকরি করি সেখানেও কাজের চাপ বাড়ছিলো। রেস্টুরেন্টে কাজ করার পরে সেখানে কাজ করতে গেলে মানুষের ব্যবহারে আকাশ পাতাল পার্থক্য চোখে পড়তো। রেস্টুরেন্টের কাউকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করলেই ঝারি শুনতে হতো অন্যদিকে সেই কোম্পানির লোকজনকে কোনো বিষয় হাজারবার জিজ্ঞাসা করলে তারা হাজারবার বুঝিয়ে দিতো। দুই-একজন বর্ণবাদী বৃটিশ ও ভারতীয় ছাড়া সবাই ছিল অতি ভদ্র ও হাসিখুশি। সে কোম্পানিতে এক দিনের গড় বেতন রেস্টুরেন্টের দ্বীগুন, কখনো কখনো চার গুণ বেশী পাওয়া যাচ্ছিলো। তবে ব্রিটিশ কোম্পানিটিতে আমার নিয়মিত কাজের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। সাধারণত তাদের ওখানে সপ্তাহে দুই দিন কাজ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু লোকবল সঙ্কটের কারণে তাদের ওখান থেকে মাঝে মাঝে চারদিন বা পাঁচদিন পর্যন্ত কাজে ডাকা শুরু করেছিলো। আর ইউনিভার্সিটির টিউশন ফিয়ের বাকি টাকাটাও মোটামুটি গুছিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু কাজের চাপে পড়াশোনার সময় পাচ্ছিলাম না। সে মুহূর্তে আমার কাছে টাকার চেয়ে পাশ করাটাই জরুরী মনে হচ্ছিলো। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আর রেস্টুরেন্ট নয়। কয়েকজন বন্ধুকে বললাম, আর রেস্টুরেন্টে কাজ করবো না। তারা অনেকেই মানা করলো। কারণ যতো বেশী কাজ ততো বেশী আয়। কিন্তু রেস্টুরেন্টের উপর থেকে আমার মন একেবারেই উঠে গিয়েছিলো।
পরদিন ঘুম থেকে উঠে রেস্টুরেন্টের মালিককে ফোন করে জানালাম, আপনার সাথে একটু দেখা করতে চাই। তিনি পরদিন গাড়িতে করে যখন রওনা দিবেন এমন একটা সময়ে তার বাসায় ডাকলেন। বাসার সামনের রাস্তায় দাড়িয়েই কথা হলো। আগের দিন রাতে আমার পকেটে ভুলক্রমে রেস্টুরেন্টের একটা চিমটা রয়ে গিয়েছিল। সেটা ফেরত দিলাম আর আগামী সপ্তাহ থেকে কাজ করতে চাই না, এমন কথা জানালাম। এভাবেই আমার ছয় মাসের রেস্টুরেন্ট জীবনের অবসান হলো। এই ছয় মাসে আমার অভিজ্ঞতাটা্ও কম হয়নি।
চাকরি ছাড়ার পর আর কখনো সেই রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয়নি। তবে কয়েকজন কর্মচারীর সাথে রাস্তাঘাটে দেখা হয়েছে। সহকারী শেফের সাথে তার কয়দিন পরে দেখা হয়েছিলো। তিনি জানালেন যে, তাদের খারাপ ব্যবহারের কারণে চাকরিটা তিনিও ছেড়ে দিয়েছেন। কাজ ছাড়ার পর তাদের সাথে আর কখনো দেখা করতে যাইনি। কারণ দেখা করতে গেলেই হেড ওয়েটার ও অন্য কয়েকজন সম্ভবত আমার সাথে খারাপ ব্যবহারের কারণে দুঃখ প্রকাশ করবে। সাধারণত কোনো কারণে লোকজন চাকরি ছাড়ার পর এরা তা করে। আমি অবশ্য তাদের সে সুযোগ দেইনি।

আগের পর্বগুলো:
রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-১

রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-২

রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-৩

রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-৪

রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-৫ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29028283 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29028283 2009-10-19 05:32:21
রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-৫ কিন্তু এতেই কাহিনীর শেষ নয়। রেস্টুরেন্টের মালিক একবার তার ওপর খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। বিরক্ত হয়ে তিনি তাকে ছুরি দিয়ে খোচা দিয়েছিলেন। ধারালো ছুরিতে তার হাত বেশ ভালোভাবে কেটে গিয়েছিলো। এর পরেও সেই কর্মচারী কারো কাছে অভিযোগ করেননি। কারণ, পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে ওনার অভিযোগ হয়তো শুনবে, ব্যবস্থাও নিবে। কিন্তু তার পরই ভিসা না থাকার কারণে পুলিশ ওনাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবে। আর মালিক যদি তাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেয় তাহলে নতুন একটা চাকরি যোগাড় করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। কারণ অবৈধ শ্রমিকদের চাকরি যোগাড় করা খুব কঠিন ব্যাপার। এসব দিক মিলিয়ে মালিক ছুরি মারার পরেও আহত সেই কর্মচারীর মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
একমাত্র হাবিব সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি রেস্টুরেন্টের মালিককে বলেছিলেন, “আমার ভাই আজকে পেটের দায়ে অবৈধভাবে এদেশে আছে। তাই বলে আপনি তাকে ছুরি মারতে পারেন না।” তিনি এ ঘটনা দেখে পরদিন অন্য কর্মচারীদের নিয়ে মালিকের বিরুদ্ধে সংগঠিত হন। মালিককে তিনি মাপ চাইতে বাধ্য করেন, সেই আহত শ্রমিকের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করেন।
বৃটেনের বাংলাদেশী মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেলে অদ্ভূত এক বিজ্ঞাপন প্রায়ই দেখা যেতো। বিজ্ঞাপনে এক রেস্টুরেন্টের ভেতরে শেফ ধারালো একটা চাপাতি বাগিয়ে খুব বিপজ্জনকভাবে অন্য একজনকে তাড়া করতো। সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে এ বিজ্ঞাপণ দেখে অবাস্তব বলেই মনে হবে। যদিও আমি বাস্তবেই এমন ঘটনার প্রমাণ পেলাম।
এ ঘটনা শুধু একটা নয়। অবৈধ শ্রমিকদের এমন বহু ঘটনা এখানকার রেস্টুরেন্টগুলোতে নিয়মিত হয়। তবে তাদের দুঃখ দুর্দশাতে এভাবে এগিয়ে আসার এমন ঘটনা খুবই কম। অবৈধদের পক্ষে এসব বিষয়ে আইন-আদালতের সাহায্য নেয়া কোনোক্রমেই সম্ভব হয় না।

বৃটেনের নিয়ম অনুযায়ী কেউ ১৪ বছর এ দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করতে সক্ষম হলে তাকে বৃটিশ নাগরিকত্ব দেয়া হয়। এ কারণে রেস্টুরেন্টের অনেক অবৈধ শ্রমিকেরা নিজেদের জীবন-যৌবন শেষ করে অপেক্ষায় থাকে এক যুগ পূর্তির জন্য। অনেকে তার আগেই পুলিশের কাছে ধরা পড়ে বৃটিশ লাল পাসপোর্টের স্বপ্ন ধূলিস্যাত করে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সবচেয়ে হৃদয় বিদারক হয় যাদের ১০ বা ১১ বছর কষ্ট করে থাকার পরে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কয়েকদিন আগে এ এলাকা থেকে এমন কয়েকজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠানো হলো যাদের এ দেশে ১৪ বছর পূর্ণ হতে আর কয়েক মাস বাকি ছিলো। জীবনের বড় একটা অংশ অবৈধভাবে লুকিয়ে, অল্প বেতনে, লোকজনের লাঞ্ছনা গঞ্জনা সহ্য করে থাকার পর এ হলো তাদের পরিণাম।

রেস্টুরেন্টে জয়েন করার পর কিছুদিন হলো শোনা যাচ্ছিলো অবৈধ শ্রমিকদের জন্য বৃটেনের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। এ নিয়ে রেস্টুরেন্ট মালিকেরও ব্যাপক চিন্তা ছিলো। শ্রমিকদের ভাগ্যের চেয়ে তার চিন্তাটা মালিককে নিয়েই বেশী ছিল। কারণ অবৈধ শ্রমিক ধরা পড়লে নিয়োগকর্তার প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা হয়। একদিন তিনি আমাকে কতোদিনের ভিসা আছে, কতো দিনের ডিগ্রি নিচ্ছি ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করে নিলেন। আমার পকেটে থাকা ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের কার্ড, আর ইউনিভার্সিটির আইডি কার্ড দেখিয়ে তাকে নিশ্চিন্ত করলাম। তার রেস্টুরেন্টে আমরা কেউ অবৈধ ছিলাম না। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই বৃটেনের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টগুলোতে অবৈধদের সন্ধানে পুলিশের রেইড করার খবর আসছিল। প্রচুর বাংলাদেশী অবৈধ শ্রমিক ধরা্ও পড়ছিলেন।
শুনলাম এক রেস্টুরেন্টে রেইড করার সময় বৃটিশ পুলিশদের সঙ্গে এক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অফিসার ছিলেন। আইডি চেক করার সময় তিনি কৌশলে এক অবৈধ বাংলাদেশীকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। দেশীদের মহানুভবতার এমন কাহিনী রেস্টুরেন্টের স্টাফদের মুখে মুখে ফিরছিলো। যদিও লোকমুখে শোনা এসব কাহিনী সত্য হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বাস্তবে অবৈধ শ্রমিকদের বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসে না।

বার্মিংহামে আমার বাসার কাছেই সপরিবারে থাকেন সদালাপি এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। আমরা ওনাকে আঙ্কেল বলে ডাকি। প্রায়ই ঈদ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের দাওয়াত করে খাওয়ান। এই আঙ্কেল বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরের প্রথম শ্রেণীর একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু বিডিআরদের ওপর অত্যাচার ও নিপিড়ন মূলক আচরণ, চাকরিতে উন্নতি না হওয়ার অনড় নিয়ম ইত্যাদি দেখে তিনি হতাশ হয়েছিলেন। তার পরও তিনি বিদ্রোহ করেন নি। বিডিআর বিদ্রোহের অনেক আগেই হতাশ হয়ে দেশ ছেড়েছেন।
তিনি সামরিক বাহিনীর চাকরির বিধিমালা ভেঙ্গে বৃটেনের একটা টুরিস্ট ভিসা জোগাড় করে সপরিবারে পালিয়ে এসেছেন। এখন তিনি অবৈধভাবে এ দেশে আছেন প্রায় সাত বছর। কাজ করেন একটা রেস্টুরেন্টে। মধ্যরাত পর্যন্ত অমানুষিক পরিশ্রম করেন সামান্য কয়টা পাউন্ডের জন্য। অবৈধভাবে এদেশে বসবাস করায় অন্য কোনো চাকরি পাওয়া সম্ভব না ওনার পক্ষে। আবার দেশে ফেরত গেলে সামরিক বাহিনীর আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবেন।
যতোবার এদেশে রেস্টুরেন্টগুলোতে পুলিশের রেইড করার খবর পাই ততোবারই আমার ওনার কথা মনে পড়ে। ওনার মানসিক অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে বছর গুনি। তিনি এদেশে আছেন সাত বছর। চৌদ্দ বছর অবস্থান করে বৃটিশ পাসপোর্ট পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরো সাত বছর। এর মধ্যে কখনো কোনো প্রয়োজনে সরকারি লোকজন ও পুলিশের কাছে যাওয়া যাবে না। দেশে যাওয়ার কথা ভাবাই যাবে না। বাবার কথা যতোই মনে পড়ুক। মা যতোই অসুস্থ হোক তার কাছে যা্ওয়ার কথা চিন্তা্ও করা যাবে না। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয়জন মারা গেলেও তাকে শেষবারের মতো দেখা যাবে না।

অবৈধভাবে অবস্থানকালীন এক যুগেরও বেশী সময়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রচণ্ড ভয় আছে প্রত্যেকের। অসময়ের এক মিনিটই কতো লম্বা মনে হয়। আর দীর্ঘ ১৪টি বছরকে না-জানি কতোই না দীর্ঘ ও কষ্টকর সময় হিসেবে পার করতে হয়। ওনার মতো এমন বহু অবৈধ শ্রমিক ভিসার অভাবে বিদেশের মাটিতে জীবনের দীর্ঘ ভীতিময় সময় পার করেন। কবে শেষ হবে চৌদ্দ বছর, সে আশায় দিন গুনেন। সুদূর প্রবাসে অমানসিক পরিশ্রম করে বিসর্জন দেন তাদের জীবন-যৌবন সবকিছু।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29011372 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29011372 2009-09-16 11:19:53
রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-৪ রেস্টুরেন্টের কিচেনের ভেতরে সবচেয়ে বড় পদ হচ্ছে শেফ। সে কিচেনের অন্য লোকজনকে খুবই বকাঝকা করে কাজ করায়। রাগ হলে সে লোকজনের দিকে হাড়ি পাতিল, চামচ, পানি ইত্যাদি ছুড়ে মারে। সাধারণত কেউ এসব বিষয়ের প্রতিবাদ করে না। এ রেস্টুরেন্টের শেফও সেই রকম। শেফে রান্নার দক্ষতার পাশাপাশি হাত চালু হওয়াটা খুবই জরুরী। কারণ এতো ছোট একটা কিচেনে কয়’শ ধরনের যে খাবার তৈরি হচ্ছে তা বলার মতো না। খুব দ্রুত এগুলো তৈরি করতে হয়।
এ রেস্টুরেন্টের অধিকাংশ খাবারই আবার একই ধরনের উৎস থেকে আসে। যেমন মুরগির অনেকগুলো আইটেম এখানে তৈরি করা হয় যেগুলোর মূল মাংশ একই থাকে। এখানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সস পাওয়া যায়। এগুলো এই কাজে ব্যবহার করা হয়। এ কাজে রাতেই বড় এক ডেকচিতে ছোট ছোট পিসের মুরগি রান্না করে রাখা হয়। এর পরে যদি চিকেন ঝাল ফ্রাই এর অর্ডার আসে তাহলে বেশী করে ঝাল, পিয়াজ, ধনেপাতা ইত্যাদি মসলা দিয়ে আগে থেকে রান্না করা মাংসটা দুই-এক মিনিট ভেজে পরিবেশন করা হয়। এভাবেই টক মসলা দিয়ে সেই মাংসকে ভিন্ন মসলা ও সস দিয়ে দুই-এক মিনিট গরম করে তা অন্য নামে চালানো হয়। এভাবে একই চিকেন থেকে তৈরি হয় চিকেন কারি, চিকেন ভুনা, চিকেন ঝালফ্রাই, চিকেন দোপেয়াজো, চিকেন কোরমা, চিকেন নির্মলা ইত্যাদি বহু আইটেম। অনুরুপভাবে ভেড়ার মাংস, গরুর মাংস ইত্যাদিরও অনুরুপ বহু আইটেম তৈরি হয় কিচেনে। ফ্রাই প্যানে খাবার আইটেমগুলোকে খুব দ্রুত এভাবে ফ্রাই করাকে রেস্টুরেন্টে বলা হয় “প্যান মারা”।
তবে তন্দুরী রুটি তৈরি করার জন্য সবসময় আলাদা একজন মানুষের নজরদারির দরকার হয়। এ কারনে রেস্টুরেন্টে তন্দুরি শেফ নামে অন্য একটা পদ আছে। সুযোগ পেলেই অবশ্য শেফ তাকে দিয়ে অন্যান্য কাজও করায়।
-------------------------------------------------
সুজা ভাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের একটা ছোট ব্যবসা খুললো। তার বদলে ফারুক নামে অন্য একজন তরুন ওয়েটার জয়েন করলো। ফারুক আবার খুব দামী একটা অডি গাড়ি চালিয়ে কাজ করতে আসে। জানালো যে, তাদের পারিবারিক মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা আছে। কিন্তু কয়েকদিন আগে পুলিশ রেইড করে তাদের ব্যবসাতে কি একটা ঝামেলা তৈরি করেছে। তাই কয়েকদিন তাদের ব্যবসা বন্ধ আছে। এই সময়টা নষ্ট না করে সে রেস্টুরেন্টে কাজ করছে। ফারুক সিলেটি হলেও তার জন্ম বৃটেনেই। তবে হাবভাবে একটা আলাদা ঔদ্ধত্য থাকায় এবং আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়ার কারণে হেড ওয়েটার ফারুকের সাথে অতোটা খারাপ ব্যবহার করতো না, যা আমার সাথে করতো।
নতুন ঝামেলা তৈরি করতে লাগলো মনোয়ার। সে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পানীয়ের খুবই ভক্ত। সাধারণত বারের পানীয়ের খালি বোতলগুলো একটা বড় প্লাস্টিকের বক্সে জমা করা হয়। তারপর সেটা ভরে গেলে বাইরের বিনে ফেলে আসতে হয়। মনোয়ার মাঝে মাঝে বারে ঢুকে আমার সামনে থেকে কোনো ভর্তি পানিয়ের বোতল নিয়ে অন্যান্য খালি বোতলের সাথে রেখে দেয়। পরে খালি বোতল বাইরে ফেলতে যাওয়ার সময় সেটা খুজে বের করে খেয়ে ফেলে। এছাড়া প্রায়ই কাস্টমাররা পুরো বোতল শেষ করতে পারে না। বিভিন্ন লিকুয়ার খাওয়ার পরে বোতলের তলে অনেকখানি জমে থাকে। কখনো কখনো অর্ধেক বোতল বারে জমিয়ে রাখা হয় আবার কখনো ফেলে দেয়া হয়। মনোয়ার বোতল ফেলার সময় এগুলোরও সদ্ব্যবহার করে। তার ড্রিংক্স করার ক্ষমতা অসাধারণ। পুরো এক লিটারের কোবরা বিয়ারের বোতল সে এক চুমুকে শেষ করতে পারে। অধিকাংশ সিল করা বোতল দাত দিয়ে খুলে ফেলতে পারে। অনেক কড়া পানীয় খাওয়ার পরেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে তার কোনো অসুবিধা হয় না।
কিন্তু এভাবে বোতল শেষ করলে হিসাবে কোনো ঝামেলা হতে পারে একথা মনে করে আমি মনোয়ারকে বলেছিলাম এভাবে ড্রিংক্স নিতে মানা করেছিলাম। কিন্তু সে আমার কথা শুনেনি। এর পর আমার অগোচরেই সে এই কাজ করতো। আমি সবসময় বোতল ফেলতে যাওয়ার সময় পেতাম না। এই সুযোগে সে ফ্রিজ বা কোনো তাক থেকে তার পছন্দমতো নতুন বোতল খালি বোতলের বাক্সে লুকিয়ে রাখতো। যেহেতু আমি এই কাজ করছি না তাই আমার এ বিষয়ে তেমন একটা মাথাব্যথা ছিল না। একদিন অন্য সবাই ব্যস্ত থাকায় শায়খ ভাই বোতল ফেলার জন্য সেগুলো নিয়ে যায়। সেখানে সে একটা এক লিটারের ভরা কোবরা বোতল আবিষ্কার করে এবং দোষটা আমার ঘাড়ে চাপায়। যেহেতু বারে আমি দায়িত্ব পালন করি। আমি জানতাম মনোয়ার এই কাজ করেছে। আর আমি যেহেতু এই কাজ করি নাই তাই শায়খ ভাইকে শুধু বলেছিলাম আমি করি নাই। কিন্তু মনোয়ারের নাম বলি নাই। কারণ এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু আর জিজ্ঞাসা করে নাই আমাকে। পরে মনে হয়েছে মনোয়ারের এ কাজে আমার ইমেজ অনেকখানি নষ্ট হয়েছিলো। আমি সব সময় বারে দায়িত্ব পালন করি দেখে লোকজনের আমাকেই সন্দেহ হওয়াটা স্বাভাবিক।
-----------------------------------------------------
একদিন কাজে গিয়ে লোকজনের কথাবার্তা শুনে আমি হাসতে হাসতে শেষ। গতকাল দুই পাউন্ডের বখশিস (বা টিপস) নিয়ে সেখানে বিশাল ঝামেলা হয়ে গেছে। একেবারে মারামারি লাগার মতো অবস্থা। আমি সেদিন ডিউটিতে ছিলাম না। তাদের কথাবার্তা শুনে যা বুঝলাম তা হচ্ছে, এক কাস্টমার খাওয়ার পরে টেবিলের ওপর দুই পাউন্ডের টিপস রেখেছিলো। সেই পাউন্ড দুটো আবার দুই দিক থেকে দুই জন ওয়েটার দেখেছিলো। এর পরে সেখান থেকে গ্লাস সরিয়েছিলো অন্য একজন ওয়েটার আবার টেবিল পরিষ্কার করেছিলো ভিন্ন একজন ওয়েটার।
রেস্টুরেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত বখশিসের দাবীদার মালিক। তাই সেই দুই পাউন্ড টিপসের জন্য নির্ধারিত বক্সে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু টিপসের বক্স খুজে দুই পাউন্ডের কোনো কয়েন সেখানে পাওয়া যায়নি। ওয়েটারদের যারা সেখানে দায়িত্বে ছিলো তারাও কেউ টিপস মেরে দেয়নি বলেই দাবী জানাচ্ছিলো। অন্যদিকে মালিক তো নাছোড়বান্দা। যে কোনো মূল্যে তার টিপসের সেই দুই পাউন্ড চাই। কিন্তু ব্যাপক তদন্ত, পুনঃতদন্ত, হুমকি-ধামকি, সার্চ ইত্যাদি করার পরেও সেই দুই পাউন্ডের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তাদের কথা শুনে আমার মনে হয়েছিলো, সেই কাস্টমার যাবার সময় মন পরিবর্তন করে টেবিলে রাখা সেই টিপস আবার উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যা অন্য কেউ দেখেনি। সে সপ্তাহান্তে এক দিনে প্রায় আট হাজার পাউন্ডের বিক্রি হলেও সেই দুই পাউন্ডের টিপসের দুঃখে মালিকের মনটা বহুদিন খারাপ ছিলো।
পরদিন মালিক আমাকে জানালো কর্মচারীদের বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। তার বদলে তুমি বার দেখাশোনার পাশাপাশি ক্যাশ মেইনটেইন করো। কিন্তু আমার মাথায় তখন ঘুরছে অন্য এক ঝামেলা। আমি বৃটেনে নতুন। বৃটিশদের মুদ্রা ভালোমতো চিনি না। বিশেষ করে বারের মিটিমিটি আলোয় কয়েনগুলো আলাদা করে গোনা আমার জন্য খুব কঠিন ব্যাপার। তারপরও কোনো কাজে আমার আলসেমি নাই। তাই এ কাজেও মানা করতে পারলাম না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29008194 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29008194 2009-09-10 19:05:21
রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-৩ রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারি মনোয়ারের সাথে কাজের ফাকে ফাকে আলাপ হলো। সে জানালো তার বয়স মাত্র ২৩ বছর। কিন্তু সে বিবাহিত। ৩-৪ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সাথে বৃটেনে চলে এসেছে। এখন বৃটিশ নাগরিক। আমি কোনো নেশা করিনা জেনে সে খুব নিরাশ হলো। তার অল্পবিস্তর নেশা করার অভ্যাস আছে। সে জানালো তার গাঁজা ও অ্যালকোহলের নেশা আছে।
ওয়েটারদের সহায়তায় আজকে আরো কয়েক ধরনের ড্রিংক্স বানানো শিখলাম। এর মধ্যে ফ্রেঞ্চ কফি উল্লেখযোগ্য। আমাকে শেখানো হলো বড় কাপে কিছু ব্র্যান্ডি ও কফি মিশাতে হবে। এরপর সেখানে কয়েক চামচ চিনি দিয়ে ভালভাবে মেশাতে হবে। মেশানোর পরে কফি স্থির হলে দুধের ক্রিম ফেনা ফেনা করে তার উপরে ছড়িয়ে দিতে হবে। একই পদ্ধতিতে আইরিশ হুইস্কি দিয়ে আইরিশ কফি ও টিয়া মারিয়া দিয়ে টিয়া মারিয়া কফি বানাতে হবে।
এছাড়াও কয়েক ধরনের ককটেল বানাতে শিখলাম। অর্ধেক লেমনেড ও অর্ধেক লাগার মিশিয়ে বানাতে হয় সাধারণ শ্যান্ডি। আবার লাগারের গ্লাসের উপরে এক ইঞ্চি পরিমান লেমনেড ঢেলে বানাতে হয় লাগার ড্যাশ। এছাড়াও ওল্ড স্পার্কল হ্যান নামের এক বিয়ার ও লেমনেড মিশিয়ে বানাতে হয় বিটার শ্যান্ডি।
তৃতীয় দিনে কাজ অল্প অল্প শিখে নেয়ার পাশাপাশি গ্লাস ও বেশ কিছু হাফ প্লেট ধোয়ার দায়িত্ব পড়লো আমার উপর। হাফ প্লেটগুলো ধোয়া খুব একটা কঠিন না। গরম পানি আর লিকুইড মিশিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখার পরে এগুলো ঘষে ধুয়ে ফেলতে হয়। এর পর কয়েক মিনিট পানি ঝড়িয়ে তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হয়। এরকম দুই-একটা জিনিস হলে ধোয়াটা সমস্যা না। কিন্তু একবারে যখন ৫০টা ধুতে, মুছে রেডি করতে হয় তখন হাত ব্যথা হয়ে যায়। এদিকে দেরি করার কোনো উপায় নাই। কারণ এগুলোর পরে আবার লাইনে আছে আরো শ খানেক গ্লাস। সেগুলো না ধুলে কাস্টমারকে ড্রিংক্স দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এগুলো ধোয়াধুয়ির পাশাপাশি বারের অর্ডারের দিকেও নজর রাখতে হয় সব সময়। কোনো অর্ডার আসলেই সাথে সাথে ধোয়াধুয়ি বন্ধ করে অর্ডারটা সরবরাহ করতে হয়। এরপর আবার ধোয়াধুয়ি শুরু হয়।
এভাবে যখন তুফান মেইল চালিয়ে একটানে পঞ্চাশটা হাফ প্লেট ধুয়ে মুছে রেডি করে তারপর গ্লাস ধোয়ার তোরজোড় করছি তখনই আবার মালিকের আগমন। হাফ প্লেটগুলো দেখে সে জানালো যে, এগুলো কেমন যানি পরিষ্কার পরিষ্কার লাগে না। বলেই সে সেগুলো আবার সিঙ্কের পানিতে রেখে দিল। এতো কষ্ট করে ধোয়া জিনিসগুলোকে আবার ধুতে হবে দেখে আমার মাথা কিছুটা গরম ছিল। এর মধ্যে আবার গ্লাস স্বল্পতায় নতুন ড্রিংক্সের অর্ডার সরবরাহ করতে পারছিলাম না। কারণ সব গ্লাসই কাস্টমাররা ব্যবহার করে ফেলেছে। বারে আর কোনো পরিষ্কার গ্লাস নাই। তাই হেড ওয়েটার এসে অর্ডার দিতে দেরী হবার কারনে ঝারি মেরে গেল। উভয়ের ঝারি খেয়ে আমার মাথাটাও বেশ গরম হয়ে গেল। চিন্তা করছিলাম এই মুহূর্তে যদি চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে চলে যাওয়া যেত তাহলে কতোই না ভাল হতো। কি দরকার ছিল এই দেশে আসার।
মেজাজ খুব খারাপ হলেও মুখে কাউকে কিছু বললাম না। রাগের মাথায় একটা গ্লাস ধোয়ার জন্য হাতে নিলাম। কিন্তু হাতে নেয়া মাত্র গ্লাসটা ভেঙ্গে গেল দেখে আমি খুব অবাক হলাম। স্বাভাবিক অবস্থায় গ্লাসটা হাত দিয়ে ভাঙ্গার মতো নয়। আবার গ্লাসটার কোথাও বারিও লাগেনি। শুধু হাত দিয়ে ধরেছি আর সেটা ভেঙ্গে গেল। বুঝলাম এদের অত্যাচারে আমার মাথাও গরম হয়েছে। এর মধ্যে আমার হাতও কেটে গেল দেখে হেড ওয়েটার আবার আসলো। তারাও এবার কিছুটা নরম হলো। কিছু না বলেই আবার চলে গেল। সম্ভবত মালিক হেড ওয়েটারকে ইশারা করে কিছু বলেছিলো।
কাটা হাত নিয়েই গরম পানি আর কড়া ওয়াশিং লিকুইড দিয়ে শত শত গ্লাস আর হাফ প্লেট ধুয়ে পরিষ্কার করলাম। এর পর রেস্টুরেন্টের ভিড় আস্তে আস্তে কমে গেল। সময় শেষে খাওয়া দাওয়া করে চিন্তা করলাম এ সপ্তাহ পরে এই কাজটা ছেড়ে দিলে কেমন হয়। কিন্তু একথা ভাবলেই পেছন পেছন তাড়া করে বেড়ায় ইউনিভার্সিটির টিউশন ফিয়ের পাহাড়। যেটা শোধ না করলে আমার সব পরিশ্রম মাটি হয়ে যাবে। তবে এই কাজের একটা বেশ ভাল জিনিস আবিষ্কার করতে পারলাম। যতো ঝড় ঝাপ্টাই যাকনা কেন, সবকিছু হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। কাজের সময়টা কেটে যায় চোখের পলকে। নিঃসন্দেহে এটা একটা ভাল দিক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29003945 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29003945 2009-09-03 10:31:43
রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-২ এর মধ্যে নতুন এক সমস্যা দেখা দিলো। গতকাল যেসব পানিয়ের নাম শুনেছিলাম সেগুলো আজকে অনেকখানি ভুলে গেছিলাম। কয়েকশ অপরিচিত বোতলের নাম একবার শুনেই মনে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব না। কর্মচারীরা এগুলো নিয়ে আমাকে কথা শোনাতে লাগলো। বাধ্য হয়ে তাদের জানালাম যে, আমার স্মৃতিশক্তি খুব খারাপ। এজন্যই এই অবস্থা।
এ রেস্টুরেন্টটি মোটামুটি একটা অভিজাত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানকার কাস্টমাররা সবাই মোটামুটি ধনী বৃটিশ। এশিয়ান বা অন্য কোনো জাতির মানুষ এখানে খুব কমই দেখা যায়। বৃটিশরা খাওয়াদাওয়ার পরে বিলের পাশাপাশি বেশ মোটা অঙ্কের একটা টিপস বা বখশিস দেয়। কিন্তু সে টিপসগুলো কোনো কর্মচারীর হাতে দেয়া হলেও তা কর্মচারীরা তা নিতে পারে না। কোনো ওয়েটারকে টিপস দিলেই তা ওয়েটাররা ক্যাশ কাউন্টারে নিয়ে আসে। মালিক সব সময় দূর থেকে টিপসের উপর নজর রাখে। একটা বাক্সের মধ্যে সবগুলো টিপস জমা করা হয়। মালিক রাতে সেগুলো গুনে হিসাবে তুলে রাখে। ওই বখশিসের টাকা দিয়েই অধিকাংশ ক্ষেত্রে কর্মচারীদের বেতন হয়ে যায়।
ওয়েটাররা অর্ডার নেয় দুটো স্লিপে। একটা ড্রিংক্সের জন্য অন্যটা খাবারের জন্য। কাস্টমার আসলে ওয়েটাররা তাদের কাছে গিয়ে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে, "কি কি ড্রিংক্স খাবেন?" সেগুলো ড্রিংক্সের জন্য আলাদা স্লিপে লেখা হয়। এর পর খাবারের মূল তিনটা ভাগে (স্টার্টার, মেইন কোর্স, ডেজার্ট) খাবার অর্ডার অন্য স্লিপে নেয়া হয়। ড্রিংক্সের অর্ডার নেয়ার পর তারা সেটা কোনো রকমে বারে ফেলে রেখে কিচেনে চলে যায়। বারে আমার কাজ হলো সেই স্লিপ দেখে দেখে একটা ট্রেতে ড্রিংক্সগুলো সাজানো।
স্লিপগুলোতে তারা খুবই সংক্ষিপ্তাকারে ড্রিংক্সগুলোর নাম লিখে রাখে। যেমন,
PTL -1
DWW – 2
HEN - 3
আমার মতো নতুন মানুষের পক্ষে এমন সাঙ্কেতিক ভাষা পড়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল। পরে আস্তে আস্তে শিখতে শুরু করলাম PTL মানে পাইন্ট অফ লাগার (বড় গ্লাসগুলোতে ভর্তি করে লাগার নামের পানীয় দিতে হবে), DWW মানে ড্রাই হোয়াইট ওয়াইন, আবার HEN কিন্তু কোনো অদ্যাক্ষর ভিত্তিক নয়। ওল্ড স্পার্কল হেন নামে একটা বিয়ার আছে। সেটাকেই সংক্ষিপ্তাকারে HEN লিখে তারা। এগুলোর পাশে লেখা নাম্বারটা হচ্ছে এগুলোর গ্লাস সংখ্যা।
এখানে বেশ কয়েক ধরনের চা ও কফি বানানো হয়। সাধারণ চায়ের পাশাপাশি আছে মাসলা টি। এ চায়ে কয়েক ধরনের মসলা দেয়া হয়। চা বা কফির ডেকোরেশনটা এখানে বেশ নজর কাড়া। প্রতি কাপ চা বা কফির সাথে একটা করে চকলেট, তিন কোনা করে ভাজ করা টিসু পেপার ইত্যাদি দেয়া হয়। এছাড়া দুধ, চিনি চামচ ইত্যাদিরও নির্দিষ্ট মাপ আছে। মালিক ও হেড ওয়েটার প্রতিনিয়ত এগুলোর মনিটরিং করে।
কফি বানানো হয় বহু ধরনের। ফ্লোটা কফি সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হলো। এ কফিতে দুটো লেয়ার থাকে। প্রথমে একটা বড় কাপে অর্ধেক পরিমাণ কফি বেশী করে চিনি দিয়ে নাড়তে হবে। তারপর একটা কৌটায় মিল্ক ক্রিম নিয়ে তা ঝাকিয়ে ফেনা বানাতে হবে। কফির উপর দিয়ে সেই মিল্ক ক্রিম আস্তে আস্তে এমনভাবে ঢালতে হবে যেন তা আলাদা লেয়ার হয়ে থাকে। শায়খ ভাই এসে আমাকে বেশ যত্ন করে এ কফি বানানোর নিয়ম শিখিয়ে দিল। বেশ কয়েক কাপ ফ্লোটা কফি বানালাম। এক কাপ ফ্লোটা কফি কাস্টমার খাবার পরে ফেরত আসার সময় দেখি কফির পিরিচে কয়েক পাউন্ড বখশিস রাখা। বুঝলাম ফ্লোটা কফি বানানোতে নিশ্চয়ই দক্ষতা অর্জন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় বখশিসগুলো আমার নেয়ার কোনো উপায় নেই। টিপসের জন্য নির্ধারিত বক্সেই সেগুলোর জায়গা হলো।
এদিন রেস্টুরেন্টে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন জিনিস লেখা স্লিপ পেতে থাকলাম। এমনও স্লিপ আসলো যেগুলোর কোনো কিছুই আমি আগে দেখিনি। এ কারণে স্লিপ নিয়ে ওয়েটারদের কাছে দৌড়াতে লাগলাম। এটা কি, ওটা কি ইত্যাদি। ওয়েটাররা যে কথাগুলো খুব সহজে বলে দিলেই আমি শিখে নিতে পারি। কিন্তু তারা কখনোই ব্যাপাটা সহজে বলে না। শায়খ ভাই ও সুজা ভাই এর মধ্যে ব্যতিক্রম। তাই তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে করে অর্ডার দেয়া শুরু করলাম। কিন্তু ভিড় বাড়ার সাথে সাথে তাদের দুজনকে পাওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছিলো। কাউকে না পাওয়া গেলে হেড ওয়েটার ও মালিকের কাছে জিজ্ঞাসা করা লাগছিলো। এর মধ্যে মালিক আবার আমার কাছে ওয়েটারদের চেয়ে একটু বেশী নৃশংস হয়ে ধরা দিলো। সে আমাকে কোনোটাই বলে না। প্রতিটা অর্ডারের জন্য সে আমাকে বলে নিজে খুজে বের করতে। ভুল হলে হোক। আমি তার কথায় পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে যাই। ফ্রিজ, শেলফ ইত্যাদির দিকে তাকিয়ে হাজার হাজার বোতলের লেবেল খেকে একটা নির্দিষ্ট নাম খুজে বের করার চেষ্টা করতে করতে যখন হাবুডুবু খাওয়ার অবস্থা হয় তখন সে বোতলটার নামটা আমাকে দেখিয়ে দেয়। এতে কাজ শিখা সহজ হয়ে আসলেও কয়েক মিনিটের মানসিক চাপটাও কম নয়। তার পরেও সব মিলিয়ে বেশ কয়েকটা পানীয়ের সংক্ষিপ্ত সংক্ষিপ্ত নাম শিখলাম। এগুলোর মধ্যে RW = Red Wine, MW = Medium Wine, OJ = Orange Juice, SPW = Sparkle Water/ Spring Water, SW = Soda Water ইত্যাদি।
অন্যদিকে হেড ওয়েটারকে কয়েকটা জিনিস জিজ্ঞাসা করেছিলাম তাই সে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা শুরু করলো। এদিনের ভিড়ের সময় ক্রমাগত এসব মানসিক অত্যাচারে আমি জর্জরিত হয়ে গেলাম।
এ রেস্টুরেন্টে কোনো কাস্টমার যদি পানি চায় তাহলে তাকে খালি গ্লাসে পানি দেয়া হয় না। গ্লাসের উপরে এক টুকরো লাইম, এক টুকরো লেমন ও কয়েক টুকরো বরফ দিয়ে তারপর পরিবেশন করা হয়। এগুলো সাজানোর ঝামেলাও কম না।
রাত সাড়ে এগারোটার দিকে রেস্টুরেন্ট ক্লোজিংয়ের (বন্ধ করার প্রক্রিয়া) কাজ শুরু করা হলো। দৈনন্দিন কাজের চেয়ে ক্লোজিংয়ের ঝামেলা আরো বেশী। কারণ বহু গ্লাস নতুন করে ধোয়া লাগে, কয়েকটা সেল্ফ সহ সম্পূর্ণ বার পরিষ্কার করা লাগে এরপর কয়েকটা বালতি, বোতল আনা নেয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রে সবকিছুই নতুন করে গরম পানিতে ধুয়ে আবার শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখা লাগে। এভাবে প্রতি রাতে ভালোভাবে ধোয়ার পরে মুছে রাখার ফলে জিনিসগুলো বছরের পর বছর নতুনের মতো ঝকঝকে থাকে।
সবকিছু শেষ করে মনে হলো যেন একটা যুদ্ধ শেষ করলাম। কর্মচারীদের মানসিক অত্যাচারে মন মেজাজ খারাপ ছিল। অবশ্য রাতেই কাজ শেষ হওয়া মাত্র বেতনের পঞ্চাশ পাউন্ড হাতে পাওয়ার পরে মনটা আবার কিছুটা ভালো হলো।
রাতে গাড়িতে করে নামিয়ে দেয়ার সময় মালিক জানালো, আগামী সপ্তাহের কাজ শুরুর আগেই যেন ধবধবে সাদা রঙের একটা শার্ট কিনে নেই। আগামী সপ্তাহ থেকে সাদা শার্ট, টাই ও কালো প্যান্ট পড়ে কাজে আসতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29003718 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29003718 2009-09-02 22:21:54
রেস্টুরেন্টের দিনগুলি-১ বৃটেনের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট বলতে মূলত বাংলাদেশী মানুষদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টই বুঝায়। এগুলোর প্রায় সবগুলোর মালিকই আবার সিলেট অঞ্চলের মানুষেরা। বৃটেনে আসার আগেই আমি ধারণা করেছিলাম যে জীবিকার তাগিদে এখানকার কোনো রেস্টুরেন্টে আমার কাজ করতে হতে পারে।
এখানে আসার পরে ইউনিভার্সিটির বিপুল অঙ্কের টিউশন ফি শোধ করার উপায় নিয়ে যখন চিন্তায় হাবুডুবু খাচ্ছি তখনই এখানকার এক বড়ভাইয়ের সাথে আলাপ হলো। তিনি সিলেটি। এখানকার এক স্কুলে চাকরি করেন। তিনি জানালেন, বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টের জব করা খুবই কঠিন। কারণ এদের ব্যবহার ভালো না। নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করবে। বিশেষ করে সিলেটের বাইরের মানুষ হলেতো কথাই নেই। তিনি জানালেন, তিনি নিজেই এক রেস্টুরেন্টে ঢুকেছিলেন। কিন্তু তাদের খারাপ ব্যবহারের কারণে তিনি ২য় দিনে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। উনি নিজেই নাকি কোন একটা সিলেটি শব্দ বুঝেন নাই। এ কারণে রেস্টুরেন্টের লোকজন তার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলো।
ইউনিভার্সিটির ক্যারিয়ার সার্ভিসের কল্যানে একটা ব্রিটিশ কোম্পানিতে পার্ট টাইম কাজ পেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে সপ্তাহে কাজ পাচ্ছিলাম ১০ ঘণ্টার মতো। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটিতে বিপুল অঙ্কের টাকা শোধ করতে হবে। শুনলাম টাকা না দিলে কয়দিন পরে ইউনিভার্সিটিতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিবে। তখন ক্লাস, পরীক্ষা ইত্যাদিও বন্ধ হয়ে যাবে।
ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি দেয়ার জন্য আমার অন্য কোনো উপায় ছিল না। এ কারণে আমি বিভিন্ন মানুষকে বলে রাখলাম, যে কোনো চাকরি দরকার। এমনকি রেস্টুরেন্টেও কাজ করবো।
কিছুদিনের মধ্যেই পরিচিত একজনের মাধ্যমে খবর পেলাম যে এক রেস্টুরেন্টে মানুষ নিবে। সেখানে শুধু শুক্র ও শনিবার কাজ করতে হবে। বেতন দুই দিনে ৫০ পাউন্ড। আমার রাজি না হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। ফোন নাম্বার নিয়ে মালিকের সাথে কথা বললাম।
----------------------------------
সময় মতো মালিক গাড়ি নিয়ে এসে আমাকে বাসা থেকে তুলে নেবে বলে জানালো। তবে আসার আগে একটা ফোন দিবে এমনই শুনলাম। সেমতে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়ে বসে আছি। বাইরে একটা গাড়ির হর্নের শব্দ হয়েছিলো। কিন্তু মালিকের ফোন করে আসার কথা ছিলো তাই দরজা খুলে দেখিনি। এমন সময় কলিংবেলের শব্দে গিয়ে দরজা খুললাম।
আনুমানিক ৪০ বছর বয়স্ক একজন লোক দরজা ধাক্কাচ্ছে। আমি দেখেই সন্দেহ করলাম রেস্টুরেন্টের মালিক হবে। তাই তাড়াতাড়ি সালাম দিয়ে দিলাম। ছাই রঙের একটা মাইক্রোবাস দাড়িয়ে আছে। তিনি সেটাতে আমাকে উঠিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে রওনা দিলেন। ভদ্রলোক বেশ গম্ভীর। গাড়িতে উঠানোর পরে আমার নাম আর কোথায় পড়াশুনা করি তা জিজ্ঞাসা করলেন।
এরপর গাড়িটা দুইটা গলি ঘুরে আর এক বাসার সামনে গিয়ে হর্ন দিলো। এখানে দিনেদুপুরে এভাবে গাড়ির হর্ন বাজানো হয়, ব্যাপারটা আমার জানা ছিলো না। যাই হোক বাড়ির ভেতর থেকে একটা তরুণ ছেলে বের হয়ে আসলো। গাড়ির দরজা খুলেই সালাম দিলো। কিন্তু সালামটা সে কাকে দিলো তা ঠিক বোঝা গেল না। কারণ মালিক সালামের জবাব দেবার কোনো প্রয়োজন মনে করলো না। আমি একবার ভাবলাম, আমাকে সালাম দিলো নাকি। কিন্তু পরে মনে হলো তা হয়তো দেয়নি।
কিছুক্ষণ পর আরেকটা বাসার সামনে গিয়ে গাড়ি দাড়ালো। সেখান থেকে আরেকজন লোক গাড়িতে উঠলো। সেও একটা সালাম দিলো। কিন্তু মালিক কোনো জবাব দিলো না।
মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে এক দোকানে গিয়ে কিছুক্ষণ কথা বললো। কয়েকটা জিনিস গাড়িতে উঠিয়ে নিলো। মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে পিছন থেকে কয়েকজন কর্মচারী আমার সাথে পরিচিত হলো। আমাকে ‘নয়া ভাই’ বলে সম্বোধন করে ২৪-২৫ বছর বয়স্ক এক ছেলে আমার সাথে পরিচিত হলো। জানালো, তার নাম মনোয়ার।
রেস্টুরেন্টের পেছনে নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা আছে। সেখানে গাড়ি থামালো হলো। মালিক আমাদের নামিয়ে দিয়ে উল্টো দিক দিয়ে গিয়ে নিজেই চাবি দিয়ে দরজা খুলে আমাদের ঢোকার ব্যবস্থা করে দিলো।
-----------------------------
রেস্টুরেন্টের ক্যাশ কাউন্টারে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো। তার পেছনে থরে থরে সাজানো আছে নানা ধরনের কয়েক’শ মদের বোতল। নানা ধরনের বোতল সাজানো এ স্থানটিকে বলা হয় বার। এ বারেই আমার দাড়ানোর জায়গা হলো।
এখানে সবাই সিলেটি উচ্চারণে কথা বলে। আমার কথা শুনে তারা বেশ অবাক হলো কারণ এ রেস্টুরেন্টে আমিই সিলেটের বাইরের প্রথম কর্মচারী। আমি সিলেটি উচ্চারণে ভালভাবে কথা বলতে পারি না।
কিছুক্ষণ পর পর বিভিন্ন লোকজন এসে আমার নাম জিজ্ঞাসা করছিলো। নাম বলার পরে আমিও তাদের কয়েকজনের নাম জিজ্ঞাসা করছিলাম। তার মধ্যে কয়েকজন তাদের নাম জানালেও ৩৪-৩৫ বয়স্ক শুকনো মতো এক লোক নাম বললো না। হাবভাবে বোঝা গেল তিনি এ রেস্টুরেন্টের বড় কোনো পদে আছেন। পরে জেনেছিলাম তিনি এ রেস্টুরেন্টের হেড ওয়েটার।
কিছুক্ষণ পরে আরো কয়েকজন এসে আমার সাথে কিছুক্ষণ আলাপ করলো। আমি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের উপর মাস্টার্স করেছি শুনে তারা হাসাহাসি করলো (এমবিয়ে কথাটাকে তাদের বুঝার সুবিধার্থে মাস্টার্স বলতে হলো)। একজন জানালো আমাদের মনোয়ার অনেক আগেই লিকুয়ারের (মদের) উপরে মাস্টার্স করেছে। পাশে দাড়িয়ে থাকা আরেকজনকে দেখিয়ে দিয়ে জানানো হলো, ও কারির (অর্থাৎ-মাংস/ঝোল) উপর মাস্টার্স করেছে। বুঝলাম তারা মজা করছে। কিছুক্ষণ পরে শায়খ নামে আরেকজন আসলো। আচার আচরণে অন্যদের চেয়ে ভদ্র। মালিককে সে চাচা বলে ডাকছিলো। পরে জানলাম তার বাবাও রেস্টুরেন্টের একজন মালিক। পরে জেনেছিলাম এ রেস্টুরেন্টের মোট চারজন মালিক। যার মধ্যে শুধু একজনই সব সময় রেস্টুরেন্টে থাকে। অন্যদের আমি কখনো দেখিনি।
---------------------------
আমাকে যে বারটিতে দাড় করিয়ে দেয়া হলো তাতে কতো রকমের পানীয় যে আছে তা বলার মতো না। বাম পাশের ফ্রিজে সবচেয়ে বেশী আছে ইন্ডিয়ান কোবরা নামের বিয়ার। তার পাশাপাশি সাজানো আছে, কোক।
শুধু পানিই আছে বেশ কয়েক ধরনের। যেমন সাধারণ পানি ছাড়া আছে স্টিল ওয়াটার, সোডা ওয়াটার, স্প্রিং ওয়াটার ও স্পার্কলিং ওয়াটার। জুসের মধ্যে অরেঞ্জ জুস সবচেয়ে বেশী দেখলাম। এছাড়াও আছে পাইনঅ্যাপেল, ম্যাংগো, রাসবেরি, টম্যাটো ইত্যাদি জুস।
তার পাশের ফ্রিজে আছে বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন। যেমন ড্রাই হোয়াইট ওয়াইন, মিডিয়াম ড্রাই ওয়াইন ইত্যাদি। এর পাশাপাশি কয়েকটা ব্র্যান্ডের শ্যাম্পেইন এবং রোজ ওয়াইন রাখা আছে। রেড ওয়াইন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হুইস্কি ফ্রিজের বাইরে রাখে।
শায়খ ভাই জানালো, সে আগে এই বারে ডিউটি করতো। এখন থেকে আমি তার জায়গায় ডিউটি করবো। ব্রিটেনেই তার জন্ম এবং কথাবার্তা খুব স্মার্ট। বিভিন্ন ধরনের ড্রিংক্স কোনটা কোথায় থাকে এগুলো সে আমাকে চেনানোর চেষ্টা করছিলো। জানালো স্প্রিঙ ওয়াটার, সোডা ওয়াটার, লেমনেড ইত্যাদি দেখতে এক রকম মনে হলেও প্রতিটার স্বাদই আলাদা। তাই একটার বদলে কোনো ক্রমেই অন্যটা দেয়া যাবে না। এ সুযোগে বোতল খুলে আমাকে অনেকগুলো হালাল পানীয় টেস্ট করালো।
এ রেস্টুরেন্টগুলোর কাস্টমার আসা শুরু হয় বিকাল ৫ টার দিক থেকে। প্রথম অর্ডার আসলো কোবরা ও পানি। তারা কিছুক্ষণ আগেই কোবরা জিনিসটা আমাকে দেখিয়ে দিয়েছিলো। জানতে পেরেছিলাম, কোবরা এক ধরনের বিয়ার। কিন্তু এবার অর্ডার পাওয়ার পরই আমি সেটা খুজে পাচ্ছিলাম না। কারণ হঠাৎ করে এ ধরনের কয়েকশ অপরিচিত জিনিসের নাম মনে রাখা এতো সহজ ব্যাপার নয়। পাশে মদের সাথে দেয়ার জন্য ছোট বরফের টুকরো রাখা ছিলো। কোবরার সাথে একটা গ্লাসে কিছু বরফ দিয়ে দিলাম। কিন্তু সেটা ছিলো আমার বিরাট ভুল। কোবরা নামের বিয়ারের সাথে কখনো বরফ দিতে হয় না । আমার এ বিষয়টা জানার কোনো কারণ নেই। ওয়েটাররা এ বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই আমাকে বলতে পারতো। কিন্তু তারা এমন ভাব করলো যেন আমি কি বিরাট এক ভুল করেছি। ওয়েটারদের ঝারি খেয়ে খেয়ে সবকিছু শিখতে লাগলাম।
ব্রিটিশদের পরিচালিত অন্য একটা কোম্পানিতেও আামি কাজ করি। সেখানে ব্রিটিশরা নতুনদের অনেক সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে শিখায়। কাজে মারাত্মক কোনো ভুল না করলে সধারণত মাথা গরম করে না। সেই তুলনায় এখানকার লোকজনের ব্যবহার আকাশ পাতাল পার্থক্য।
কিছুক্ষণ পরে মালিক এসে আমাকে গ্লাস ধোয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিল। গ্লাসগুলো সাবান মেশানো গরম পানিতে ডুবিয়েই আবার তুলে নিতে হয়। তারপর একটা শুকনো কাপড় দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুছতে হয়। প্রথম দিন দেখে এই কাজেও আমি কোনো দক্ষতা দেখাতে পারলাম না। তার মধ্যে নতুন সমস্যা দেখা দিলো, গরম পানি নিয়ে। যেই পানিতে গ্লাসগুলো ডুবিয়ে আবার উঠাতে হয় সেই পানির তাপমাত্রা অনেক। হাত পুড়ে যাবার দশা হয়। তার মধ্যে আবার সেখানে খুব কড়া ওয়াশিং লিকুইড দেয়া থাকে। এই পানিতে হাতের বারোটা বেজে যায়। তবু তাদের কথামতো কাজ করতে থাকলাম।
রাত ১১টার দিকে রেস্টুরেন্টের ভিড় কমে গেল। হেড ওয়েটার বলে গেল, তোমার জন্য ভাত রেডি হয়েছে, খেয়ে আস। রেস্টুরেন্টের কিচেনে স্টাফদের জন্য পুরনো কিছু প্লেট রাখা আছে। অন্য স্টাফদের দেখাদেখি সেগুলোতে ভাত বেড়ে নিলাম। স্টাফদের জন্য ল্যাম্বের আলাদা কারি রান্না হয়েছে। তার সঙ্গে কিছু সালাদ আর গরম ভাত। খাবারটা খুবই সুস্বাদু হয়েছিলো। খেতে খেতে আমার চোখে পানি চলে আসলো। কোনো আবেগঘন কারণে নয়, খুব সুস্বাদু খাবার খেলে আমার চোখে এমনিতেই পানি চলে আসে।
------------------------------
খাওয়া শেখ করে আবার কাজে ফিরে গেলাম। আরো কয়েকজন কাস্টমার সার্ভ করার পরে শায়খ ভাই বলে গেল ক্লোজিং (বন্ধ করার প্রক্রিয়া) শুরু করতে। সুজা ভাই নামে আরেকজন ওয়েটারের সাথে পরিচিত হলাম। সুজা ভাই জানালো, সে আমেরিকায় সাত বছর ছিল। বৈবাহিক সূত্রে সে ব্রিটিশ নাগরিক। আপাতত এ রেস্টুরেন্টে কাজ করছে। ভবিষ্যতে নিজের একটা ব্যবসা খোলার ইচ্ছা আছে। সে জানালো যে সে ব্রিটেনে ও লেভেল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। কিন্তু এ রেস্টুরেন্টের হেড ওয়েটার ছোটবেলা থেকেই ব্রিটেনে থাকলেও জীবনেও স্কুলে যায়নি। এ কারণে তার ব্যবহার এতো খারাপ। হেড ওয়েটারের কথায় কোনো পাত্তা না দিলেই চলে বলে জানালো সুজা ভাই।
সুজা ভাইয়ের কাছ থেকে বার ক্লোজিংয়ের পদ্ধতি শিখছিলাম। গ্লাস রাখার শেলফটা খালি করে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নিতে হবে। এরপর প্রতিটা গ্লাস নতুন করে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে তারপর সেখানে রাখতে হবে। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য এই বারে কোবরা গ্লাস, দুই ধরনের ওয়াইন গ্লাস, সাদা পানির গ্লাস, শ্যাম্পেইন গ্লাস সহ প্রায় কয়েকশ গ্লাস আছে। প্রথম দিন দেখে ওয়াইন গ্লাসগুলো আমাকে সে ধরতে দিলো না। কারণ ওয়াইন গ্লাসগুলো অনেক হালকা। আমি ধরলে সেগুলো ভেঙ্গে যেতে পারে বলে জানালো সুজা ভাই। কয়েকশ গ্লাস সাজানোর পরে এদিনের কাস্টমারদের শেষ করা প্রায় একশ খালি বোতল ফেলে দিয়ে আসলাম।
এরপর রাত দুইটার দিকে গাড়িতে চড়ে বসলাম। কিছুক্ষণ পরে গাড়ি আমার বাসার সামনে এসে নামিয়ে দিয়ে গেল।
বাসায় ফিরে আমার রুমমেট সুমনকে দেখে একটু হিংসাই হলো। কারণ বহু পরিশ্রমের পর আমি বাসায় ফিরে দেখি রুমমেট পায়ের উপর পা তুলে কোকে চুমুক দিতে দিতে ইন্টারনেট থেকে মিউজিক ডাউনলোড করছে। তার পারিবারিক আর্থিক সামর্থ আমার চেয়ে ভাল। তাই পড়ার খরচ চালানোর জন্য টাকা পয়সা উপার্জনের কোনো চিন্তা ছিলো না। আমার রেস্টুরেন্টের কাজ কেমন হলো, কিভাবে করলাম, আরো করতে পারবো কিনা এসব বহু প্রশ্নের জবাব দিতে হলো তাকে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29002800 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/29002800 2009-09-01 08:57:31
ওবামার নতুন স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা, ব্রিটিশ এনএইচএস ও বাংলাদেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা মার্কিন নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এ বিতর্কে শুধু রাজনীতিবিদরাই নন, সাধারণ আমেরিকানরাও জড়িয়ে পড়েছেন। এ বিতর্কে আরও জড়িয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। আমেরিকার সীমা পেরিয়ে এ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ব্রিটিশ সরকারের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিও। ব্রিটেন ও আমেরিকা এ দু'দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপরীতধর্মী। তবু কেন এ বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ল আটলান্টিকের দু'পাশের দুটি দেশে?

আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থা
আমেরিকা ও ব্রিটেনের চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবা মূলত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিনির্ভর। যারা স্বাস্থ্য ইন্স্যুরেন্স করে রাখে তারা চিকিৎসা সুবিধা পায়, অন্যরা পায় না। জানা যায়, প্রতি বছর কয়েক কোটি আমেরিকান স্বাস্থ্য ইন্স্যুরেন্স করে না। যেসব আমেরিকান নাগরিক চিকিৎসা ইন্স্যুরেন্স করে না তাদের অনেককেই জরুরি চিকিৎসা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়। অনেকে চিকিৎসার টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে।
মাইকেল মুরের বিখ্যাত ডকুমেন্টারি মুভি সিকোর কথা অনেকের মনে থাকতে পারে। মাইকেল মুর আমেরিকানদের চিকিৎসাসেবা বিষয়ে একটা সিনেমা বানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা। এমনকি নাইন-ইলেভেনে টাওয়ারগুলো ধসে পড়ার পর সেখানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে যেসব দমকলকর্মী আহত হয়েছিলেন তাদের চিকিৎসাও অর্থাভাবে হচ্ছিল না।

ব্রিটেনের চিকিৎসা ব্যবস্থা
অন্যদিকে ব্রিটেনের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সরকার নিয়ন্ত্রিত। এর পরিচালনায় আছে ব্রিটেনের ৬ দশকের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএস। ব্রিটিশরা যে বছর ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ঘোষণা করে তার পরের বছরই, ১৯৪৮ সালের ৫ জুলাই প্রত্যেক ব্রিটিশ নাগরিকের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অবশ্য ব্রিটেনে আসা বিদেশিরাও এ স্বাস্থ্য সুবিধার সুফল পান।
মাইকেল মুরের ডকুমেন্টারি সিকোর এক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার খবর নেওয়ার জন্য ব্রিটেনের হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের খোঁজ নেওয়া হয়। এনএইচএস হাসাপাতালে এসে টাকা দেওয়ার জন্য কোনো কাউন্টার খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ব্রিটিশরাও চিকিৎসার বিনিময়ে খরচ কত হলো, এমন প্রশ্ন শুনে হাসাহাসি করে। পরে অবশ্য তিনি একটি ক্যাশিয়ারের কাউন্টার খুঁজে পান, যেখান থেকে শুধু টাকা বাইরে দেওয়া হয়; কিন্তু ভেতরে নেওয়া হয় না। সেখানে জিজ্ঞেসা করে তিনি জানতে পারেন এনএইচএস হাসপাতালগুলোতে রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, এজন্য কোনো কাউন্টারও রাখা হয়নি। কারণ ব্র্রিটেনের সরকারি এনএইচএসের হাসপাতালগুলোর সব সেবাই সাধারণ মানুষের জন্য ফ্রি (ব্যতিক্রম দাঁত ও চোখ)।
ব্রিটিশ এনএইচএসের হাসপাতালগুলো যথেষ্ট উন্নত। সারা ব্রিটেনে ছড়িয়ে থাকা হাসপাতালগুলোর চিকিৎসার দ্বার সবার জন্যই খোলা। ভর্তির সময় কখনোই রোগীর আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় না। কারণ এনএইচএসের চিকিৎসায় টাকা-পয়সার বিনিময় হয় না। বহু বাংলাদেশি ছাত্র কিডনিসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা এখানে বিনামূল্যেই পেয়েছেন। বিভিন্ন কারণে ব্রিটেনে অবস্থানকারী বহু বাংলাদেশি মা তাদের সন্তান জন্মদানকর্ম এ হাসপাতালগুলোতে নিরাপদে ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করতে পেরেছেন। আমিসহ আমার বহু বন্ধু প্রায়ই এ হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিতে পারছি।
সোয়াইন ফ্লু বিষয়ে এনএইচএসের তৈরি বাংলা নির্দেশিকা




ওবামার প্রস্তাব
আমেরিকানদের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বনাম ব্রিটেনের সব মানুষের জন্য বিনামূল্যে উন্নত স্বাস্থ্য সুবিধা-এ দুই ধারার উদাহরণ থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামাকে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবাই হয়তো বেশি আকর্ষণ করেছে। এজন্যই এনএইচএস থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব আমেরিকানের জন্য সমানমানের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আসার জন্য ওবামা সম্প্রতি আলোচনা শুরু করেছেন। ওবামা প্রস্তাব দিয়েছেন আমেরিকার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য এনএইচএসের মতো করে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে এক দশকে প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

ওবামার প্রস্তাবের বিরোধিতা
ওবামাবিরোধী রাজনৈতিক ও ডানপন্থিরা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন বেশ জোরেশোরেই। তারা এ 'হেলথ কেয়ারের' সমালোচনা করে একে বলছেন 'ওবামা কেয়ার'। জানা যায়, এ বিরোধিতায় অন্যতম ইন্ধন জোগাচ্ছে আমেরিকার চিকিৎসা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো। যারা এতদিন ধরে চলে আসা ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত। এ উদ্দেশ্যে বিরোধী আমেরিকানরা এনএইচএসের বিরোধিতা করে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। এনএইচএসে চিকিৎসা হয় না, খরচ কমানোর জন্য বুড়ো ও প্রতিবন্ধীদের বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলা হয় ইত্যাদি কথাও বলছেন অনেকে।
অন্যদিকে যেসব মার্কিন নাগরিক ইন্স্যুরেন্স করে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন তাদের অনেকে ওবামার এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন, গরিব আমেরিকানদের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার জন্য তাদের ইন্স্যুরেন্স খরচ বেড়ে যেতে পারে।

এনএইচএস নিয়ে বিতর্ক
ওবামার নতুন স্বাস্থ্য পরিকল্পনা যেহেতু ব্রিটিশ এনএইচএস অনুসরণ করে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাই বিরোধীরা সরাসরি এনএইচএসের নানা বিরোধিতা করছেন। আর এনএইচএসের বিরোধিতা করা বক্তব্যগুলো ব্রিটিশ এনএইচএসের কর্তাব্যক্তিদের কানে এসে পেঁৗছেছে। এ কারণে তারাও এনএইচএসবিরোধী সেসব যুক্তি খণ্ডন করতে লেগে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ পাবলিক হেলথ ফ্যাকাল্টির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালান ম্যারিওন ডেভিস বলেন, 'এনএইচএস অত্যন্ত ভালো কাজ করে, যা বলা হচ্ছে ওসব অত্যন্ত বাজে কথা।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা আমেরিকার তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির কম অংশ খরচ করি; কিন্তু বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচকে যেমন গড়আয়ুর দিক দিয়ে ভালো অবস্থানে আছি।'
তবে এ কথা সত্য যে, ব্রিটিশদের হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়। ডাক্তার স্বল্পতা এর অন্যতম কারণ। বর্তমানে ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্রিটিশ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমেরিকানদের এ হার অনেক কম।
ড. ম্যারিয়ন ডেভিস স্বীকার করেন, আমেরিকার ধনীদের জন্য স্বাস্থ্যসুবিধা ব্রিটেনের চেয়ে ভালো এবং দ্রুত। কিন্তু তিনি জানান, অধিকাংশ রোগীরই তা প্রয়োজন হয় না। একজন বিখ্যাত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ক্যারল সিকোরা জানান, ব্রিটেনের মানদণ্ড অনুযায়ী আমেরিকানরা অতিরিক্ত চিকিৎসা পান। কিন্তু তিনি বলেন, আমেরিকার বহু মানুষ কোনো ধরনের চিকিৎসা পায় না, এটি সত্যিই একটি সামাজিক অপরাধ।

ব্রিটিশদের প্রতিক্রিয়া
এনএইচএস বিষোদ্গারের জবাবে সাধারণ ব্রিটিশরা বিভিন্ন ব্লগে এনএইচএসের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। অনলাইন সাইট টুইটারের ব্লগাররা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন। দাদের উই লাভ দি এনএইচএস এ বিষয়ে সবচেয়ে সোচ্চার। একজন ব্লগার লিখেছেন, 'আমি আমাদের হেলথ সার্ভিস নিয়ে গর্বিত। এটি গত একশ' বছরে আমাদের দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।'
অনেকে আবার এনএইচএস থেকে কী ধরনের সুবিধা পেয়েছেন তা বর্ণনা করছেন। যেমন_ 'আমার বাবা গত বছর এনএইচএস থেকে হার্ট সার্জারি করে জীবন রক্ষা করেছেন'-বলছেন ক্লেয়ার থম্পসন নামে এক ব্লগার। অধিকাংশ ব্লগারের লেখাতেই ব্রিটিশদের এনএইচএস সম্পর্কে গর্ব করতে দেখা গেছে।
বিজ্ঞানী প্রফেসর স্টিফেন হকিংকে এ বিতর্কে টেনে এনেছেন আমেরিকানরাই। তাদের অনেকেই বলেছিলেন, এনএইচএসের হাতে থাকলে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বাঁচতে পারতেন না। কারণ এমন প্রতিবন্ধী একজন মানুষকে হয়তো বাঁচানোর প্রয়োজনীয়তা থাকত না।
কিন্তু ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং গত বুধবার এ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি এনএনইচএসের প্রশংসা করেন এবং জানান, "এনএইচএস ছাড়া তিনি হয়তো বেঁচে থাকতে পারতেন না"।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সুবিধা মূলত দুটি ধারা অনুযায়ী চলে আসছে। একঃ সরকারি হাসপাতালের স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা, দুইঃ বেসরকারি ডাক্তার চেম্বার ও হাসপাতালের চিকিৎসা।
তবে দুঃখের বিষয় বাংলাদেশে কোনো ধারার চিকিৎসাই গরীব মানুষদের জন্য বিনামূল্যে নেই। এ কারণে চিকিৎসার খরচ যোগাতে বহু মানুষকে সর্বশান্ত হতে হয়। পত্রিকাগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, চিকিৎসার জন্য সাহায্য চেয়ে আবেদন। বহু মানুষ চিকিৎসার খরচ যোগাতে না পেরে অকালে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। সরকারি হাসপাতালগুলো মূলত গরীব মানুষদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এসব হাসপাতালে রয়েছে দুর্নীতি সহ বহু ধরনের সমস্যা।
আমেরিকা ও ব্রিটেনের অনুসরণে ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য সেবা হয়তো এখনি চালু করা সম্ভব নয়। কিন্তু তবু দেশের জনসাধারণের চিকিৎসা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। এ কাজে ব্রিটিশ এনএনইচএসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

------------------------------------
তথ্যসূত্র
------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28995999 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28995999 2009-08-18 20:28:02
আজ চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন পাচ বছর বয়সে এস এম সুলতান স্থানীয় স্কুলে ভর্তি হন। দারিদ্র্যের কারণে অল্প দিন পরই তিনি স্কুল ত্যাগ করে বাবার রাজমিস্ত্রির কাজের সহকারী হিসেবে নিয়োজিত হন। এ সময় তিনি নিজে নিজে ছবি আকা শেখেন। কাঠ কয়লা, কাচা হলুদ ও পুই গাছের ফলের রস দিয়ে তিনি ছবি আকতেন। এসব ছবি স্থানীয় জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের দৃষ্টিতে পড়ে। পুরস্কারস্বরূপ তিনি ছবি আকার কিছু সরঞ্জাম কিনে দেন এবং স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থাতেই বিখ্যাত রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি একে সুলতান খ্যাতি অর্জন করেন।
স্কুলের শেষ পরীক্ষায় পাস করার আগেই সুলতান বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। কলকাতায় তিনি শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর বাসায় আশ্রয় নেন। সুলতানের পূর্ব নাম ছিল লাল মিয়া। শাহেদ সোহরাওয়ার্দী এ নাম পাল্টে শেখ মুহম্মদ সুলতান রাখেন। তিনি সুলতানকে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু খেয়ালী এ শিল্পী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আবদ্ধ থাকেননি। মাত্র তিন বছর পরই আর্ট স্কুল ত্যাগ করে ভবঘুরে জীবন শুরু করেন।
এস এম সুলতান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় পাচ-দশ টাকার বিনিময়ে গোরা সৈন্যদের ছবি আকতেন আর ভারতের বিভিন্ন শহর ঘুরে বেড়াতেন। দেশ বিভাগের পর কলকাতা ত্যাগ করে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। কিছুদিন লাহোরে থাকেন এবং করাচি আর্ট স্কুলে দুই বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন শহর ভ্রমণ করেন। এসব শহরের ছবি একে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯৫৫ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চিত্রা নদীর তীরে জন্মভূমি নড়াইলের মাসিমদিয়া গ্রামে স্থায়ী আবাস স্থাপন করেন।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তিনি মারা যান।
আজ ১০ আগস্ট শিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে গভীর শ্রদ্ধা জানালাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28991652 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28991652 2009-08-10 16:12:08
সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯১৯ সালে খুলনার তেতুলিয়া গ্রামে সিকান্দার আবু জাফরের জন্ম হয়। সিকান্দার আবু জাফরের বাবা সৈয়দ মঈনুদ্দীন হাশেমী ছিলেন একজন কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ী।
সিকান্দার আবু জাফর স্থানীয় তালা বি. দে. ইন্সটিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর তিনি কলকাতা বঙ্গবাসী কলেজে পড়াশোনা করেন।
কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রথম দিকে কলকাতার দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
দেশ বিভাগের পর ১৯৫০ সালে কলকাতা ত্যাগ করে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং রেডিও পাকিস্তানে চাকরি শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন, ১৯৫৪ সালে তিনি দৈনিক মিল্লাতের প্রধান সম্পাদক হন। ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তিনি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সমকালের সম্পাদনা করেন। তিনি ছিলেন এ পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
তৎকালীন পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতি চর্চার যে ধারা প্রবাহিত হয় তিনি ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টিভিতে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি তার তীব্র বিরোধিতা করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা সরকারের পক্ষ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
একজন বিপ্লবকামী কবি হিসেবে অসংখ্য গণসঙ্গীত লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তার কবিতায় যুগ যন্ত্রণা বলিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হচ্ছে, কবিতা : প্রসন্ন প্রহর, বৈরীবৃষ্টিতে, তিমিরান্তক, কবিতা ১৩৭২, বৃশ্চিক লগ্ন ইত্যাদি। নাটক : সিরাজউদ্দৌলা, শকুন্ত উপাখ্যান, মহাকবি আলাওল ইত্যাদি। উপন্যাস : মাটি আর অশ্রু, পূরবী, নতুন সকাল ইত্যাদি। গল্পগ্রন্থ : মতি আর অশ্রু। কিশোর উপন্যাস : জয়ের পথে, নবী কাহিনী ইত্যাদি। অনুবাদ : রুবাইয়াৎ ওমর খৈয়াম, সেন্ট লুইয়ের সেতু, বারনাড মালামুডের জাদুর কলস, সিংয়ের নাটক ইত্যাদি এবং গানের মধ্যে মালব কৌশিক উল্লেখযোগ্য।
সিকান্দার আবু জাফর ১৯৬৬ সালে নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি ঢাকায় মারা যান।
আজ ৫ আগস্ট সিকান্দার আবু জাফরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে গভীর শ্রদ্ধা জানালাম।

শুনুন সিকান্দার আবু জাফরের তুমি বাংলা ছাড়ো (আবৃত্তি : গোলাম মুস্তাফা) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28989010 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28989010 2009-08-05 08:40:20
গানে গানে প্রতিশোধ : এয়ারলাইন্স কোম্পানি বিপাকে কানাডিয়ান গায়ক গায়ক ডেভ ক্যারল গত বছর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমানে করে যাবার সময় তার গিটারটি তিনি বাক্সে ভরে বিমানের লাগেজে দিয়েছিলেন। প্লেনের কর্মীরা গিটারটি উঠানো নামানোর এক পর্যায়ে এটি ভেঙ্গে ফেলেন।
গায়ক ডেভ ক্যারল এই ঘটনার জন্য ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কোম্পানির কাছে গিটার সারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স তাঁকে নানা অজুহাতে অনেকদিন ঘুরানোর পরে বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখিয়ে এ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে।

কোনো ক্ষতিপূরণ না পেয়ে মনের দুঃখে ডেভ ক্যারল একটি গান রচনা করেন, “ইউনাইটেড ব্রেকস গিটারস”। ব্যান্ড বন্ধুদের নিয়ে গানটি গাওয়ার পরে তিনি তা ইউটিউবে প্রকাশ করেন এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ইউটিউবের মাধ্যমে সেটা একটা হিট গানে রুপান্তরিত হয়। কয়েক মিলিয়ন মানুষ এ গান উপভোগ করে।
ইউটিউবে প্রচারে এ সাফল্যের পর বহু টিভি কোম্পানি এ বিষয়টা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে। গানটির সাফল্যের ফলে বিভিন্ন চ্যানেলে এ বিষয়ে ডেভ ক্যারলের বেশ কয়েকটা সাক্ষাৎকারও প্রচারিত হয়।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স অবশেষে বুঝতে পারে যে এ ঘটনার ফলে তাদের কোম্পানির বদনাম হচ্ছে। এর পর তারা ডেভ ক্যারলের সাথে আবার যোগাযোগ করে এবং তার গিটারের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়।
কিন্তু ততোদিনে ডেভ ক্যারলের এই গানটি জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে। এই গানটির কারনে তিনি দর্শকদের কাছে আগের চেয়ে আরো অনেকখানি পরিচিতি পেয়ে গেছেন। বহু টিভি চ্যানেল ও পত্রিকায় তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাই ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব এবার তিনি ফিরিয়ে দেন। তিনি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে এ গায়ক জানান, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এ টাকাটা কোনো চ্যারিটিতে দান করতে পারে। তিনি আরো জানান, কদিন পরেই তার এ গানটির দ্বিতীয় পর্ব আসছে।

এদিকে এই গানের কারনে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের সেবার মান সম্বন্ধে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে কোম্পানির যাত্রী কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে গত কয়েক দিনে কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ কমে গেছে। এখন পর্যন্ত আর্থিক মূল্যে কোম্পানির এ ক্ষতির পরিমাণ ১৮০ মিলিয়ন ডলার।

শেয়ারের দাম কমে যা্ওয়ায় ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সেই ১৮০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ডেভ ক্যারলের ব্যবহৃত মডেলের ৫১,০০০টি গিটার কেনা সম্ভব। সময়মতো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কি ভুলটাই না করলো।

"ইউনাইটেড ব্রেকস গিটারস" আলোচিত গানটি


এ বিষয়ে ফক্স নিউজের আলোচনা

আরো পড়ুন: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28984098 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28984098 2009-07-26 17:09:00
বিষাক্ত প্যারাসিটামল খেয়ে আমাদের শিশুরা মারা যাচ্ছে, সরকার কি করছে? এর আগেও ১৯৯২ সালে প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ৩৩৯ জন শিশুর মৃত্যু ঘটনা ঘটে (যদিও প্রকৃত আরো বহু মৃত্যু আড়ালেই রয়ে যায়)। কিন্তু কি কারণে প্যারাসিটামলে বিষক্রিয়া ঘটছে? জানা যায়, অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা মুনাফার জন্য ট্যানারির কেমিক্যাল ব্যবহার করে প্যারাসিটামল তৈরি করে।

প্যারাসিটামল ওষুধ খেয়ে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুর পরও ট্যানারির বিষাক্ত কেমিক্যাল সংমিশ্রণে ওষুধ তৈরি বন্ধ হয়নি। জানা যায়, বিষাক্ত ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করায় ১৯৯২ সালে জড়িত ৫টি ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শুধুমাত্র কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল ও মালিককে লঘুদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে একটি কোম্পানির নাম ও মালিক পরিবর্তন করে পুনরায় ওষুধ তৈরির অনুমোদন পেয়েছে।
১৯৯২ সালে ক্ষতিকর প্যারাসিটামল সিরাপের পরীক্ষায় ট্যানারিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত কেমিক্যাল ( ইথালিন ও ডাই-ইথালিন গ্লাইকোল থাকার প্রমাণ পায়। এবার প্যারাসিটামল ও ভিটামিন সিরাপের মধ্যে একই ধরনের বিষাক্ত ইথালিন ও ডাই-ইথালিন গ্লাইকোল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে দুইটি হাসপাতালে প্যারাসিটামল খেয়ে অসুস্থ হয়ে আসা শিশুদের মধ্যে ২৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ধরা পড়লেও এই সিরাপ খেয়ে আরো অসংখ্য শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঐ সকল শিশুকে হাসপাতাল পর্যন্ত নেয়ার সুযোগ অভিভাবকরা পাননি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান। বিষাক্ত, নিম্নমান ও ভেজাল ওষুধ খেয়ে এ দেশে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাটি সহজ বিষয় হয়ে পড়েছে। বিষাক্ত ওষুধের মার্কেট মূলত গ্রামাঞ্চল। যেখানে মানুষের সচেতনতা দূর্বল। ফলে নিম্নমানের ওষুধের কারণে মৃত্যু ঘটলেও সেসব ঘটনা আড়ালেই রয়ে যায়।

ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রীড ফার্মার উৎপাদিত প্যারাসিটামল ও ভিটামিন সিরাপ মহাখালী ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে কখনও গুণগত মান পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়নি। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, উক্ত কোম্পানির ওষুধ তিনি কখনও এই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করছেন কিনা তাও তার মনে পড়ে না।

বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণ
জানা যায়, প্যারাসিটামল কিংবা অন্যান্য সিরাপ ও সাসপেনশন কেমিক্যাল প্রোপাইলিন গ্লাইকোল দ্রবীভূত করার জন্য ব্যবহার করার কথা। এই কেমিক্যাল স্বাস্থ্যের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। প্রোপাইলিন গ্লাইকোল এক লিটারের দাম ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। তবে এর বিকল্প হিসেবে ট্যানারি ডাই-ইথালিন গ্লাইকোল ব্যবহার করা হয়। যার দাম ২০০ টাকা লিটার। নিম্নমান ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অধিক মুনাফার লোভে কমদামের এ বিষাক্ত উপাদান ওষুধে মেশাচ্ছে। যার প্রতিক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ
প্যারাসিটামল সিরাপ তৈরিসহ নিম্নমানের ওষুধ তৈরির অভিযোগে গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরস্থ রীড ফার্মা লি.-এর কারখানা সীলগালা করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্যারাসিটামলের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দায়ী কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর জানা যায়নি।


চীনের উদাহরণ
চীনে কিছুদিন আগে গুড়োদুধে বিষা্ক্ত উপাদান ধরা পড়ে। এ কারণে চীনে ৬ জন শিশু মারা যায়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আমেরিকা সহ পৃথিবীর বহু দেশ চীন থেকে দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী আমদানি বন্ধ করে দেয়। চীন সরকার সে সময় নিম্নমানের খাবারের কারণ অনুসন্ধানে নামে। চীন সরকার সে সময় সরকারের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ বিভাগের প্রধান সহ আরো কয়েকজনকে দায়ী করে। বিচারে ফুড অ্যান্ড ড্রাগের প্রধান ব্যক্তির যাবজ্জীবন সহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বাকি ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
বিবিসির সংবাদটি দেখুন এখানে:
Click This Link
আরো দেখুন
http://www.msnbc.msn.com/id/28787126/
Click This Link

--------------------------------------------------------------------------------
১৯৯২ সালে আমাদের দেশে ৩৩৯ জন শিশু মৃত্যুর কারণ বিষাক্ত প্যারাসিটামল ওষুধ খেয়ে হয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও সে সময় প্রকৃত মৃত্যুর পরিমাণ নিশ্চিতভাবে অনেক বেশী ছিল। যারা এজন্য দায়ী তাদের বিচার হয়নি বললেই চলে। সে সময় দায়ীদের সঠিক বিচার করা হলে এখন নিশ্চয়ই আর এ ঘটনা ঘটতো না।
--------------------------------------------------------------------------------

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক সহ বিভিন্ন পত্রিকা ও ওয়েবসাইট
ছবি: চীনে বিষাক্ত গুড়ো দুধের জন্য বিচারের সম্মুখিন ব্যক্তি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28983843 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28983843 2009-07-26 08:22:06
বৃটিশ মেয়েরা -২ নির্দিষ্ট সময়ে জেনিফারের বাসা থেকে গাড়িতে তুলে নেয়া হলো। প্রাইভেট কারের পেছনের আসনে জেনিফার আমার সঙ্গে এসে বসলো। অনেকদিন পর জেনির দেখা পেয়ে খুব ভালো লাগলো। ওর পড়াশোনা, কাজ ইত্যাদির খোজখবর নিলাম। জেনে দুঃখিত হলাম, সে আমার নামটাই শুধু ভুলে যায়নি, আমার সাথে আগের পরিচয়ের সবই বেমালুম ভুলে গেছে। আমার কথা তার একটুও মনে নেই। জেনিকে জানালাম, তার সঙ্গে আমার আগেরবার পরিচয় হয়েছিল প্রায় আট মাস আগে।
পরে মনে হলো, নতুন করে পরিচয় হওয়াটাও খারাপ না। আগের চেয়ে এখন আমি বৃটিশ উচ্চারণ কিছুটা ভাল বুঝি। তাই আলোচনাটাও ভালভাবে জমানো যাচ্ছিলো। সে জানালো, গত সপ্তাহে তার নার্সিং কোর্সের অধিকাংশই শেষ হয়ে গেছে। এখন সে বিভিন্ন হাসপাতালে ইন্টার্নি করার চেষ্টা করছে। আগামী সপ্তাহেও তার একটা ইন্টারভিউ আছে। এ ফাঁকে সময়টা নষ্ট না করে পুরনো কোম্পানিতেই কিছুদিন কাজ করে কিছু পয়সা কামিয়ে নিচ্ছে।
জেনি জানালো, এখন সে ভিডব্লিউ গলফ গাড়ি ব্যবহার করছে। যদিও সে এবার কোম্পানির গাড়ি চালানোর ইন্সুরেন্স পায়নি। কারণ তার গাড়ি গত কয়েক মাসে দুইবার ছোটখাট এক্সিডেন্ট করেছে। জেনি জানালো সেসব এক্সিডেন্টে তার কোনো দোষ ছিল না। আমি শুনে হাসলাম।
জেনির মোবাইলে তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, এমনকি তার পোষা কুকুরটারও ছবি রাখা আছে। আগ্রহ দেখাতেই জেনি সবগুলো একে একে সবগুলো ছবি দেখানো শুরু করলো। জানালো জেনির জন্মের এক বছর পর থেকেই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে গেছে। জেনি একমাত্র মেয়ে। সে এখনো তার মায়ের সঙ্গে থাকে। অবশ্য বাবার সঙ্গেও জেনির যথেষ্ট ভাল যোগাযোগ আছে। আমার সামনেই একবার ফোনে তার বাবার সঙ্গে কথা বললো। কথার শেষে খুব সুন্দর করে বললো, আই লাভ ইউ। বুঝলাম, তার বাবার বিশাল ভক্ত সে।
এক পর্যায়ে জেনি সরাসরি আমার বয়স জিজ্ঞাসা করলো। বৃটিশরা কোনো ভনিতা ছাড়াই সরাসরি এসব কথা বলে থাকে। জবাব দিতেও কোনো দেরী করে না। বয়স চুরিও করে না। আমি অবশ্য অমন হতে পারিনি। বললাম অনুমান করতে। কিন্তু সে কোনো অনুমানের ধার ধারলো না। বারবার জিজ্ঞাসা করতেই থাকলো। তাই বয়সটা তাকে বলতেই হলো। বলার পরে তার বয়সটাও সে জানালো। সে আরো জানালো, বয়সের তুলনায় আমাকে কম বয়স্ক মনে হয়। আমার অবশ্য বলা হলোনা, বয়সের তুলনায় জেনিকেও অনেক কম বয়স্ক মনে হয়।
কাজ শেষে গাড়ি থেকে জেনির বাসায় নামিয়ে দেয়ার পরে ড্রাইভারের সিটে বসা ভারতীয় ছেলেটা বললো, জেনি তোমাকে খুবই পছন্দ করে।
জিজ্ঞাসা করলাম, কিভাবে বুঝলে?
সে জানালো, মোবাইলের ছবি দেখানোর সময় জেনি বারবার তোমার হাত ছুঁয়ে দিচ্ছিলো। তার কথা শুনে আমি হাসতে হাসতে শেষ।
পরদিন আবার জেনির সঙ্গে গল্প করতে করতে কাজে গেলাম। জেনি জানালো, সে অ্যাডভেঞ্চার খুব পছন্দ করে। ফেসবুকে তাকে অ্যাড করতে অনুরোধ করলো। জানালো, সেখানে তার দেশ বিদেশের বহু সুন্দর ছবি দেয়া আছে।
বৃটিশ মেয়েরা নাচা-নাচিতে খুবই ওস্তাদ। গাড়িতে একটা গান ছাড়া হয়েছিলো। সেটার তালে জেনি সিটে বসেই কিছুক্ষণ নাচানাচি করলো। এক পর্যায়ে আমাকে গানের তালে কয়েকবার ঘুষিও মারলো। আমি নেহাত ভদ্র লোক বলে ঘুষি খেয়েও বেরসিকের মতো চুপচাপ বসে থাকলাম।
পরদিন গাড়ির সবার জন্যই আমি একটা করে অরেঞ্চ জুসের ক্যান গিফট নিয়ে গিয়েছিলাম। জেনি উঠার আগেই গাড়ির সবাইকে তা দিয়ে দিয়েছিলাম। জেনি উঠার পরে তাকেও একটা দিলাম। অরেঞ্জ জুস উপহার দেয়ার কারণটা সে বারবার জিজ্ঞাসা করছিলো। আমিও রহস্যময় হাসি দিয়ে একটু ভনিতা করার চেষ্টা করলাম। ভারতীয় ছেলেটা অবশ্য ব্যাপারটা ফাঁস করেই দিল যে, আজকে সবাইকেই আমি অরেঞ্জ জুস দিয়েছি।
বৃটিশরা এসব ব্যাপারে খুবই সচেতন। কেউ কোনো উপকার করলে বা গিফট দিলে সেটা ভালই মনে রাখে। লাঞ্চের সময়ই তার প্রতিদান পাওয়া শুরু হলো। জেনির আনা টিফিন বক্সটা দেখার মতো। অনেকগুলো খাবার তাতে। সে লাঞ্চের জন্য এনেছে একটা ইনস্ট্যান্ট নুডলস প্যাকেট। তাতে একটু গরম পানি দিলেই রেডি হয়ে যায়। এছাড়া একটা সবুজ আপেল, একটা কলা, চার-পাঁচটা বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় চকলেট (এগুলোকেই এরা সুইট বলে), এক প্যাকেট চিপস, ছোট অরেঞ্জ জুসের প্যাকেট এবং স্ট্রবেরি ফ্লেভার্ড দইয়ের ছোট প্যাকেট। লিস্ট দেখে অনেক খাবার মনে হলেও আসলে খাবারের পরিমাণ তেমন বেশী কিছু না। কারণ সবগুলি খাবারই খুব সামান্য পরিমাণ করে। তবে অরেঞ্জ জুস সংক্রান্ত খাতিরের কারণে বেশ কয়েকটা চকলেট আর চিপস আমার কাছে চলে আসলো।
--------------------------------------

আগের পর্ব: বৃটিশ মেয়েরা


জেনি


জেনির পোষা কুকুর]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28976325 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28976325 2009-07-10 21:36:00
টানটান উত্তেজনায় দেখলাম "টার্মিনেটর স্যালভেশন"
সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার মজাই আলাদা। আর সেটা যদি হয় টার্মিনেটরের মতো রোমাঞ্চকর সায়েন্স ফিকশন তাহলেতো কোন কথাই নেই। বাংলাদেশে থাকতে অনেক সময় সিনেমার প্রিমিয়াম শো দেখা হতো। এবার বৃটেনে বসেই সে সুযোগ পেয়ে গেলাম। গত ৩ তারিখে টার্মিনেটর স্যালভেশন সিনেমাটা বৃটেনে মুক্তি পেল। আমরা তিন বন্ধু সেটা দেখার জন্য সকালেই রওনা দিলাম। ভাবছিলাম সিনেমা হলে অনেক ভিড় হবে কিন্তু গিয়ে দেখি তা নয়। এই দেশের যে কোনো সিনেমা হলে বরাবরের মতো একই দৃশ্য -অধিকাংশ সিটই খালি।

টার্মিনেটর সিনেমাটা মূলত একটা সাইন্স ফিকশন। স্কাইনেট নামের কম্পিউটার ডিফেন্স সিস্টেম মানুষকে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এ যুদ্ধের প্রথমেই পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ মারা যায় ভয়ঙ্কর পারমাণবিক আক্রমণের শিকার হয়ে। স্কাইনেট বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও রবোট পাঠিয়ে পৃথিবীর অবশিষ্ট মানুষদের মেরে ফেলার বা বন্দী করার চেষ্টা করতে থাকে। বেঁচে থাকা অবশিষ্ট মানুষেরা স্কাইনেটের বিরুদ্ধে মরণপণ প্রতিরোধ গড়ে তুলে। স্কাইনেটের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে মানুষের নেতৃত্বে ছিলেন, জন কনর।

জন কনর

সিনেমার শুরুতেই দুর্দান্ত জন কনরের নেতৃত্বে ভয়ঙ্কর রবোটগুলোর সাথে মারামারি আর প্রচণ্ড যুদ্ধের টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়েই সিনেমার কাহিনী এগোতে থাকে। ভয়ঙ্কর মেশিনগুলোর কাছে অতীতে যেমন মানুষ যতোটা অসহায় ছিলো এবার ততোটা নেই। মানুষ অনেকটাই প্রতিরোধ করতে শুরু করেছে। স্কাইনেটের বিরুদ্ধে কয়েকটা আক্রমণও পরিচালনা করা হয় এ পর্বে। এক পর্যায়ে মানুষেরা আবিষ্কার করে এক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি যা দিয়ে স্কাইনেটের মেশিনগুলোকে বন্ধ করে দেয়া যায়।
এর মধ্যেই কাহিনীতে প্রবেশ হয় আরেকটি রহস্যজনক সুপুরুষ মারকাসের। প্রথমে তার সাথে কাইল রিসের পরিচয় হয়। কিন্তু কাইল রিস স্কাইনেটের হাতে ধরা পড়ে যায়। মারকাস পালিয়ে যায়। পরে মারকাসের সাথে পরিচয় হয় এক নারী পাইলট ব্লেয়ারের। তারা দুজনে জন কনরের ঘাটিতে যাওয়ার সময় একটা ম্যাগনেটিক মাইনে মারকাস আহত হয়। সে সময় দেখা যায়, মারকাস কোনো মানুষ নয়, রবোট ও মানুষের সংমিশ্রন। তবে সে জানায় যে জন কনরকে রক্ষা করতেই সে এসেছে। জন কনর সে কথা বিশ্বাস করে না। সে মারকাসকে বন্দী করে রাখে। কিন্তু সেই নারী পাইলট ব্লেয়ার তাকে মুক্ত করে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। এ সময়েই জন কনর ধান্দায় পড়ে যায় মারকাসকে নিয়ে। কেন মারকাস জন কনরকে রক্ষা করতে চায়?


মারকাস ও ব্লেয়ার

অন্যদিকে জন কনর জানতে পারে, স্কাইনেট তাদের নেতাদের আগামী চার দিনের মধ্যেই মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছে। তালিকায় জন কনরের নাম দ্বিতীয় স্থানে আছে, প্রথম স্থানে আছে তার বাবা কাইল রিসের নাম। স্কাইনেটের ঘাটিতে আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় মানুষ পক্ষের নেতারা। কিন্তু স্কাইনেটের ঘাটিতে কাইল তখনই আক্রমণ চালাতে চায় না। কারণ স্কাইনেট সেখানে বহু মানুষকে বন্দী করে রেখেছে। আক্রমণ করা হলে তাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। সেখানেই বন্দী অবস্থায় আছে জন কনরের বাবা কাইল রিস। যিনি পরে টাইম মেশিনে করে অতীতে চলে যান (টার্মিনেটর থ্রী-এর কাহিনী অনুযায়ী)। কাইল রিসকে বাঁচানো না গেলে জন কনরের জন্মই হবে না, মানুষ পক্ষ পাবেনা এ সুদক্ষ নেতাকে।

জন কনর ও মারকাস

কাইল রিসকে উদ্ধার করার জন্য জন কনর নিজেই এক দুঃসাহসী অভিযানে স্কাইনেটের ঘাটিতে ঢুকে পড়ে। জন কনর যখন স্কাইনেটের ঘাটিতে তখন মারকাসও সেখানে। মারকাস জানতে পারে স্কাইনেটই মানবিক আবেগ দিয়ে মারকাসকে তৈরি করেছে জন কনরকে তাদের ঘাটিতে নিয়ে আসার জন্য। যে কারনেই জন কনর তখন তাদের ঘাটিতে। কিন্তু মানবিক আবেগ সম্পন্ন মারকাস তখন স্কাইনেটের অবাধ্য হয় এবং জন কনরকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে। বাকি অংশটা সিনেমায় দেখলেই ভাল লাগবে।
সিনেমাটা এতো দ্রুত শেষ হয়ে গেল যে বলার মতো না। ভাবছিলাম আগের পর্বগুলোর সঙ্গে এ পর্বটার পার্থক্য কি? কি কারণে এটা আগের মতো মানুষের নজর আকর্ষণে ব্যর্থ হলো। আগের মতো কাহিনীর বৈচিত্রতা নেই, নাকি চরিত্রগুলো আগের মতো আকর্ষণীয় নেই? মনে হলো দ্বিতীয়টাই সঠিক।



তবে সিনেমাটা অনেকের ভাল না লাগলেও আমার খুবই ভাল লেগেছে। শুধু সিনেমা হলের দারুন সাউন্ড সিস্টেম আর ঝকঝকে ছবির জন্যই নয়, কাহিনীর বৈচিত্রতা আর অভিনয়ও দারুন। হল থেকে বাসায় আসার পরেও ব্লগে বসে চিন্তা করছিলাম, দারুন একটা সিনেমা দেখলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28966164 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28966164 2009-06-18 07:23:18
বিদ্যুৎ সমস্যা ও মন্দা মোকাবেলায় নতুন বাজেটে যা চাই এবং যা চাইনা

বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান

বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য দেশের মানুষের যে কি পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে তার কোনো বর্ণনা করার ভাষা নেই। এই অবস্থায় দেশের গ্যাস সম্পদও শেষের দিকে।

১. বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য সমাধান হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর জন্য যদি ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। তবে এ ধরনের দুই থেকে তিনটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর জন্য এখনই উদ্যোগ নেয়া উচিত। এ ধরনের বড় প্রকল্পের পেছনে খরচ কখনোই একসাথে দিতে হয় না। প্রতি বছরের বাজেট থেকে দুই হাজার কোটি টাকা করে দিলে এ খরচের ভার খুব সহজেই মেটানো যায়। আমরা সামরিক সহ আরো কয়েকটা খাতে এর কয়েক গুণ বেশী টাকা প্রতি বছর খরচ করি। আর একবার স্থাপন করতে পারলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম কিন্তু কমই থাকে।
রাজনীতিবিদদের বোকামির কারণে অতীতে ইন্টারনেট সাবমেরিন কেবলের সংযোগ বিনা পয়সাতে পাওয়ার সুযোগ পেয়েও আমরা হারিয়েছিলাম। তখন যুক্তি দেয়া হয়েছিলো ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে আমাদের দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে (তার অনেক বছর পরে কয়েক মিলিয়ন ডলার দিয়ে এই সংযোগ নেয়া হয়েছে)। ফলে আমাদের দেশ হারিয়েছে সফটওয়্যার শিল্পের উন্নয়ন সম্ভাবনা। অন্যদিকে পাশ্ববর্তী দেশ সে সুযোগ নিয়ে সফটওয়্যার শিল্পে ব্যাপক উন্নতি করেছে। এখন কোনোভাবেই সেই ক্ষতি পূরণ হবে না। রাজনীতিবিদদের এমন বোকামি আমরা আর দেখতে চাই না।

২. দেশের যে দুইটা বড় কয়লা ক্ষেত্র আছে সেগুলোর কাছাকাছি দ্রুত আরো কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।

৩. নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন, সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, পানি বিদ্যুৎ ইত্যাদির প্রসার বাড়ানোর জন্য আরো আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন।

৪. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এনার্জি সেভিং বাল্ব উৎসাহিত (সম্ভব হলে বাধ্যতামূলক) করতে হবে।

পারমাণবিক বনাম সৌরশক্তি
রিনিউয়েবল এনার্জি ব্যবহার বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার বহুগুণে বাড়ানো উচিত। আমাদের দেশের গৃহস্থালী ব্যবহারের জন্য এটা খুবই কাজের হবে। কিন্তু শিল্প কারখানার জন্য এই উৎপাদন কতোখানি কাজের হবে তা নিঃসন্দেহে প্রশ্ন সাপেক্ষ।
জাপান:
জাপানে নতুন বাড়িগুলোর ৭০% সৌর প্যানেল সমৃদ্ধ। কিন্তু তা দিয়ে বাড়িগুলির আংশিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হয়। সৌরশক্তি দিয়ে জাপানের বিদ্যুতের অতি সামান্য অংশই পূরণ হয়। ২০০৮ সালে জাপানে ৫৫টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। আর সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২ হাজার মেগাওয়াট (প্রায়)।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন
অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একটু ভিন্ন পদ্ধতি নিয়েছে। তারা বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকেই টার্গেট বেধে দিয়েছে যে, তাদের মোট উৎপাদনের ১০% নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু, পানি) থেকে উৎপাদন করতে হবে।
এখন কথা হলো, একটা দেশের কতোখানি চাহিদা সৌরশক্তি দিয়ে পূরণ করা সম্ভব? জার্মানি এক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ নির্মাতা ও ব্যবহারকারী। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক সৌরবিদ্যুৎ এ দেশেই উৎপাদন হয়। তথ্য অনুযায়ী তারা ২০৫০ সাল নাগাদ তাদের মোট বিদ্যুতের ২৫% সৌরশক্তি দিয়ে পূরণ করার পরিকল্পনা করেছে। তাই একথা মানতেই হবে যে, সৌরশক্তি দিয়ে দেশের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর সময় এখনো আসেনি।

পারমাণবিক বিদ্যুতের বর্তমান ব্যবহার
পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নত বহু দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ দিয়ে তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে।
স্বল্প উন্নত দেশগুলোর মধ্যে, চীন, তাইওয়ান, ভারত (ভারতে ১৭ টি প্ল্যান্ট), ব্রাজিল, মেক্সিকো, লিথুয়ানিয়া, আর্জেন্টিনা, পাকিস্তান, ইরান স্বাচ্ছন্দে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। ভারতীয়দের চেয়ে আমাদের বুদ্ধি কোনো অংশে কম নয়।
যেসব দেশ নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে তার মধ্যে জর্ডান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাত ও নাইজেরিয়া উল্লেখযোগ্য।

পারমাণবিক জ্বালানী:
পারমাণবিক জ্বালানী দেশেই মজুত আছে (তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কঠিন কাজ হলেও অসম্ভব নয়)
সাধারণত যে কোম্পানির সাথে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের চুক্তি করা হয় তারাই দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানী সরবরাহ করে।

আমাদের মতো দেশের কাছে এ প্রযুক্তি বিক্রি করবে কিনা
ইতিমধ্যেই রাশিয়া, দঃকোরিয়া সহ বহু দেশ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। তারা তৈরি করবে ও জ্বালানী সরবরাহ করবে।

পারমাণবিক নিরাপত্তা
পারমাণবিক নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করে তারপর উৎপাদন করতে হবে। একথা মানতেই হবে যে, জাপানিদের নিজেদের দেশের নিরাপত্তার প্রতি মায়া আমাদের চেয়ে কম না। পারমাণবিক বোমার তারা সবচেয়ে বড় শিকার। তার পরেও তারা তাদের দেশে ৫৫ টা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়েছে। দুর্ঘটনার ভয়ে বাদ দেয় নাই। চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর রাশিয়া বা থ্রি মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনার পর আমেরিকা এ শক্তির ব্যবহার বন্ধ করে নাই।
পৃথিবীর বহু দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ দিয়ে তাদের চাহিদা মেটায়। শুধু তা-ই নয়, শত শত সাবমেরিন ও পারমাণবিক শক্তিচালিত সামরিক জাহাজ এ শক্তি দিয়েই চলে। তারা কখনো দুর্ঘটনার ভয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখেনি। আমাদের দেশের এই চরম সঙ্কটে দুর্ঘটনার ভয়ে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন থেকে পিছিয়ে গেলে চলবে না।


ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র বনাম বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ছোট ছোট বিদুৎ কেন্দ্র সব সময় এফিশিয়েন্ট হয় না (রিনিউয়েবল বাদে)। অর্থাৎ এক ঘনফুট গ্যাস থেকে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র তার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন করবে।

-------------------------------------------------------
বাজেটের প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত কর্মসংস্থান
-------------------------------------------------------
পশ্চিমা বিশ্বের মন্দার মধ্যে আমাদের সামনে আসছে বহু মিলিয়ন মানুষের কথা, যাদের চাকরি চলে গেছে। কতো মানুষের চাকরি আছে, কতো মানুষের গেছে, কিভাবে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়, এসব ব্যাপার তাদের অর্থনীতিবিদদের অন্যতম প্রধান মাথা ব্যথা। কিন্তু আমাদের দেশে কর্মসংস্থান বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা দেখি না। আমার মতে কর্মসংস্থানই হওয়া উচিত আমাদের বাজেটের প্র্রধান লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকারের অন্যান্য খাতকে তৈরি করা উচিত। কারণ দারিদ্র্য বিমোচনের নামে টাকার অপচয়ের কোনো দরকার নেই।

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দরিদ্র্য মানুষকে কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে তারা নিজেরাই নিজেদের দারিদ্র্য বিমোচন করবে। কারো সাহায্যে এটা হয় না। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনিতির গতি সঞ্চার হয়। যে শ্রমিক ১০০ টাকা বেতন পাবেন সে কিন্তু টাকাটা গোপনে লুকিয়ে রাখবে না। বাজারে গিয়ে টাকাটা খরচ করে ফেলবে। সেই খরচের টাকাটা আবার অন্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ফলে অর্থনীতি সচল থাকে।
অন্যদিকে বেকার মানুষ মানেই দেশের অপরাধ সহ নানান সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি। তাই দেশের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থান।

-------------------------------------------------------
শিল্প উন্নয়ন
-------------------------------------------------------
১. দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানার বিকাশ অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমার জানা মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে ব্রিটেনের বেসরকারি খাতের ৫৯.২% কর্মসংস্থান হয়ে থাকে অন্যদিকে বাংলাদেশের মাত্র ২৩% কর্মসংস্থান এ খাতের মাধ্যমে হয় (সূত্র: ইউকে ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস ও বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশন)। তাই সরকারের উচিত অযথা ও হয়রানিমূলক নানা ধরনের ট্যাক্সের বোঝা থেকে এ খাতকে মুক্ত রাখা ও উৎসাহমূলক নানা ধরনের ব্যবস্থা দিয়ে দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনীতি গতিশীল করা।
২. শুল্ক কাঠামো শিল্প সহায়ক করা। দেশীয় শিল্পকে নানা ধরনের ট্যাক্স ও হয়রানি থেকে মুক্ত রাখার ব্যবস্থা।
3. তৈরি পণ্য আমদানি শুল্ক বাড়ানো আর সেগুলোর জন্য উপকরণ, কাচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্ক কমানো। এর ফলে দেশীয় শিল্পগুলো উৎসাহিত হবে।

যে সুযোগগুলো আমরা প্রতিনিয়ত হারাই:
কয়েক বছর আগে আমরা দেশের শিল্পের উন্নয়নের বিশাল এক সুযোগ হারিয়েছি। ঢাকা শহর থেকে পুরনো স্কুটারগুলো উঠিয়ে দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বহু সিএনজি স্কুটার আমদানি করা হলো। সে সময় যদি সরকার তৈরি সিএনজি স্কুটার আমদানি করার উৎসাহ না দিয়ে শুধু সিএনজির যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিতো তাহলে বেশ কয়েকটা দেশীয় শিল্প যন্ত্রপাতি আমদানি করে সিএনজি সংযোজন/তৈরি করা শুরু করতো। পরে আস্তে আস্তে তারা নিজস্ব প্রয়োজনে দেশীয় উপকরণ ব্যবহার শুরু করতো। সংযোজন কাজ করতে গিয়ে দেশীয় ইঞ্জিনিয়ারদের কারিগরী জ্ঞান বৃদ্ধি পেত। যে জ্ঞান দিয়ে তারা পরবর্তীতে নিজেরাই সিএনজি তৈরি করতে পারতো।

এগুলো এমন কোনো আহামরি প্রযুক্তি না যে দেশে উৎপাদন করা যাবে না। বরং দেশে তৈরি করা হলে কর্মসংস্থান হতো বহু মানুষের। দেশী কয়েকটা শিল্পও দাড়িয়ে যেতো। সরাসরি তৈরি পণ্য আমদানি করার চেয়ে যন্ত্রপাতি আমদানি করায় উৎসাহ দেয়াটা এজন্য অনেক ভাল। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। এ ধরনের আরো বহু সুযোগ আমরা প্রতিনিয়ত হারাই।

৪. শেয়ার বাজারের সম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে।

-------------------------------------------------------
অবকাঠামো
অবকাঠামো এ দেশের জন্য সবচেয়ে বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এ কারণে এ খাতে বরাদ্দ রাখতেই হবে। বিশেষ করে সেতু নির্মাণ, নৌপথ, রেলপথ ও মহাসড়কগুলোর বৃদ্ধি, বন্দর উন্নয়ন ও ফাইবার অপটিকের মতো ইন্টারনেট অবকাঠামো নির্মাণ অতি জরুরী।
-------------------------------------------------------
শিক্ষা
শিক্ষা খাত হওয়া উচিত সবচেয়ে বেশী বাজেট বরাদ্দের খাত। অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার জন্যও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা উচিত।

-------------------------------------------------------
বিদেশী লোন চাইনা
-------------------------------------------------------
আইএমএফ অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য কিংবা সঙ্কট থেকে উত্তরণ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে লোন দেয়। কিন্তু তাদের অযাচিত ও অবাস্তব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অর্থনীতির বারটা বেজে যায়। এছাড়াও এ লোনগুলোর অধিকাংশই তাদের শর্ত অনুযায়ী বিদেশী কনসালটেন্টদের ফি হিসেবে দিয়ে দিতে হয়। ফলে আসল অর্থ দেশের খুব কমই কাজে লাগে।

বিগত আমলে কয়েকজন অর্থমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড বা আইএমএফের লোন নেয়ার জন্য ব্যাপক তৎপর ছিলেন। সাইফুর রহমান আইএমএফের প্রায় সব শর্ত পূরণ করার পরেও আইএমএফের ঋণের শেষের দিকের কিস্তিগুলো আনতে পারেন নাই। তাই মন্ত্রীত্ব কালের শেষের দিকে তাকে প্রকাশ্যেই আইএমএফের প্রতি বিষেদগার করতে দেখা যেত। এসব ঝামেলা থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি হচ্ছে তাদের কাছ থেকে লোন নেয়ার কোনো চেষ্টাই না করা।
-------------------------------------------------------
আমরাও পারি
আমরা খুব বোকা, উন্নত প্রযু্ক্তি বানাতে পারি না, ব্যবহার করতে পারি না নীতি নির্ধারকদের ইত্যাদি ধরনের ধারণা বাদ দেয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। দৃঢ়কণ্ঠে বলতে হবে আমরাও পারি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28945518 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28945518 2009-05-02 20:47:47
সত্যজিৎ রায়: প্রকৃত মেধাবী এক প্রতিভার জন্মদিন আজ
চলচ্চিত্রকার, সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী- সব পরিচয়ে অন্যতম স্মরণীয় বাঙালি সত্যজিৎ রায়। বাবা শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়, দাদা শিশু সাহিত্যের আরেক দিকপাল উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী। ১৯২১ সালের ২ মে সত্যজিৎ রায় কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে তার পূর্ব পুরুষের ছিল রক্তের সম্পর্ক। কারণ তার পূর্ব পুরুষরা বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার বড় মাসুয়া গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই সত্যজিৎ রায় পরিবারে সাহিত্যচর্চ্চার ভালো পরিবেশ পেয়েছিলেন। তার দাদা-বাবা সাহিত্যিক ছিলেন, তেমনি তাদের বাড়ি থেকেই বের হতো খ্যাতনামা পত্রিকা সন্দেশ। বাড়ির মধ্যেই ছিল প্রেস। তাই বইয়ের অক্ষরের সাথে পরিচয়ের আগেই তার প্রেসের ধাতব অক্ষরের সাথে পরিচয় ঘটেছিল।

১৯৩০ সালে সত্যজিৎ বালিগঞ্জ স্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হন। তবে স্কুলে ভর্তি হবার আগেই বায়োস্কোপ দেখেন তিনি। ১৯২৯ সালে তিনি প্রথম সবাক ছবি হিসাবে দেখেন টার্জান দি এপম্যান মুভিটি। তবে তার আগেই দেখে ফেলেন বেনহুর, কাউন্ট অফ মন্টিক্রেস্টো, থিফস অব বাগদাদ, আঙ্কল টমস কেবিন-এর মতো বিখ্যাত মুভি গুলো।
দেশী-বিদেশী গানের প্রতি সত্যজিৎ দারুণ ভাবে আকৃষ্ট ছিলেন । রাতে ঘুমাতে যাবার সময় কিশোর সত্যজিৎ-এর সঙ্গী ছিল সঙ্গীত। দেশী সঙ্গীতের পাশাপাশি বিটোফেন, মোৎসার্ট, বাখ তার খুব প্রিয় ছিল।

স্কুলে পড়ার সময়ই ক্যামেরায় সত্যজিৎ-এর প্রথম হাতে খড়ি। ১৯৩৬ সালে মাত্র চৌদ্দ বছর দশমাস বয়সে তার তোলা ছবি যে বছর বিদেশি পত্রিকা বয়েজ ওন পেপার-এ প্রথম পুরস্কার পায়। সে বছরই ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন সত্যজিৎ।
১৯৪০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনের কলা ভবনে ভর্তি হন সত্যজিৎ। বলা যায় এখানেই প্রখ্যাত চিত্রকর নন্দলাল বসুর হাতে শিল্পী সত্যজিৎ-এর জন্ম ঘটে। তবে এখানে পড়াশোনা শেষ না করেই চাকরিতে যোগ দেন তিনি।
কিন্তু চলচ্চিত্র বানাবেন- এটা ছিল সত্যজিৎ-এর বহু দিনের স্বপ্ন। বিভূতি ভূষণের পথের পাঁচালী ছিল তার প্রথম পছন্দ। কিছু টাকা যোগাড় করে ১৯৫২ সালে পথের পাঁচালীর কাজে নামেন তিনি। তবে টাকার অভাবে সেটা কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যায়। পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করলে পথের পাঁচালীর কাজ শেষ হয়। আর এর মাধ্যমেই আজকের সত্যজিৎ রায় হয়ে ওঠেন তিনি। একের পর এক চলচ্চিত্র তৈরি করেন আর পুরস্কার জিততে থাকেন তিনি। তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো অপরাজিত, পরশপাথর, জলসাঘর, অপুর সংসার, দেবী, তিনকন্যা, কাঞ্চনজঙ্ঘা, অভিযান, মহানগর, চারুলতা, গুপী গাইন বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, অরণ্যের দিনরাত্রি, অশনি সংকেত, সোনার কেল্লা, ঘরে-বাইরে, গণশত্রু, শাখা-প্রশাখা, আগন্তুক।

তার পরিচালিত অশনি সংকেত-এ বাংলাদেশের অভিনেত্রী ববিতা অভিনয় করেন এবং প্রশংসিত হন। চলচ্চিত্রের জন্য বহু পুরস্কার জিতেছেন সত্যজিৎ রায়। উপমহাদেশের একমাত্র চলচ্চত্রি ব্যক্তিত্ব হিসাবে চলচ্চিত্রে সারা জীবনের অবদানের জন্য পেয়েছেন অস্কার পুরস্কার।

সাহিত্যিক হিসাবে সত্যজিৎ রায় একটা বড় স্থান দখল করে থাকবেন বাংলা সাহিত্যে। বিশেষ করে শিশুতোষ গোয়েন্দা কাহিনী ফেলুনাথ সিরিজ ছেলে-বুড়ো সবার প্রিয়।

তিনি ছিলেন একজন খুব ভালো চিত্রশিল্পী। কোনো সিনেমা বানানোর আগে তার সেট ও দৃশ্য কেমন হবে তা নিজের খাতায় একে রাখতনে তিনি।

হাসপাতালে বসে আঁকা সত্যজিৎ রায়ের র্সবশেষ ছবি। এতে ১১ জন বিখ্যাত মানুষের মুখ আছে।
সত্যজিৎ রায় মারা যান ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল।

আজ ২ মে সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

[দুরন্তের পুরনো লেখা]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28945285 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28945285 2009-05-02 08:36:11
মে দিবস: জোরালো গলায় জানিয়ে দিলাম সামান্য দাবীগুলি ১. ন্যুনতম মজুরী ঘণ্টাপ্রতি কমপক্ষে ৫০ টাকা চাই (গৃহভৃত্য, ইট ভাঙ্গার শ্রমিক সহ সব ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানতে হবে)।
২. সাপ্তাহিক বেতন চাই।
৩. যারা ফুল টাইম কাজ করবেন তাদের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারিত করতে হবে বাড়তি প্রতি মিনিট কাজের জন্য ১ টাকা করে দিতে হবে। তবে পার্ট টাইম কাজের ক্ষেত্রে এই আট ঘণ্টার ব্যাপারটা না রাখাই ভাল। (আমি নিজে প্রায়ই টানা ১৩ ঘণ্টা কাজ করি। এক্ষেত্রে সুবিধা হলো এক দিনেই অনেক টাকা হয়ে যায় (যেহেতু ঘণ্টাপ্রতি বেতন)। ফলে সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে অন্য কাজ করা যায়।)
৪. কাজের বিশ্রাম চাই প্রথম চার ঘণ্টায় ৩০ মিনিট তার পর প্রতি তিন ঘণ্টায় ২০ মিনিট করে।
৫. বাৎসরিক এক মাস পেইড ছুটি চাই (যে কোনো অবস্থায় এই টাকা বেহাত না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে)।
৬. কাজের পরিবেশ উন্নত থাকা চাই।
৭. দুর্ঘটনা থেকে নিরাপত্তার জন্য যথাযথ বিধান চাই (ফার্স্ট এইড বক্স, আগুন থেকে নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পর ফ্রি চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ ও অসুস্থতার সময়কার পূর্ণ বেতন, দায়ী ব্যক্তির বিচার ইত্যাদি)।
৮. যে কোনো শ্রমকে শ্রম আইনের আওতায় আনতে হবে (গৃহভৃত্য, ইট ভাঙ্গার শ্রমিক সহ সব ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানতে হবে)।

আমার অভিজ্ঞতা
বৃটেনের শ্রম আইন অতি কড়া। আমি নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আমার কোম্পানি থেকে যেখানেই কাজ করতে যাই না কেন, ১ ঘণ্টার জন্য কোথাও কাজ করতে ঢুকলেই তারা প্রথমেই আগুন লাগলে কি করতে হবে (ফায়ার এক্সিট ও ফায়ার মিটিং পয়েন্ট), ফার্স্ট এইড বক্স কোথায় আছে, টয়লেটের অবস্থান কোথায় ইত্যাদি জানিয়ে দেয়। আইন অনুযায়ী কাজ শুরুর চার ঘণ্টা পর আধঘণ্টার জন্য বেতন সহ বিরতি দিতে হয় যা এখানে মেনে চলে। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য শ্রমিকরা যেসব মই, টুল ইত্যাদি ব্যবহার করে সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। কোনো মই নড়বড়ে হয়ে গেলে তা মেরামত করা হয়। যেখানে কর্ক লিফট, ছোট গাড়ি বা এ ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় সেখানে হাই ভিজিবল জ্যাকেট বা কটকটে রঙের পোশাক পড়তে হয়। সেগুলো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমায়।
গৃহভৃত্য ব্যবস্থাটা বৃটেনে না থাকলেও বুড়ো মানুষ কিংবা প্রতিবন্ধীদের দেখাশোনার করার জন্য অনেককে বাসায় বাসায় যেতে হয়। সেক্ষেত্রে এসব শ্রমিকের কল্যানের জন্য সুস্পষ্ট আইন আছে। যেমন ৭ কেজির বেশী ওজন উঠানো যাবে না (বাড়ির ক্ষেত্রে)। শ্রমিক কাজ করার সময় বাড়ির কেউ সিগারেট খেতে পারবে না। কুকুর থাকলে তাকে বেধে রাখতে হবে (নাহলে এতে শ্রমিকের অসুবিধা হতে পারে)। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়গুলো কাজের শুরুতে বাইরে থেকে ট্রেইনার এনে শ্রমিকদের জানাতে হয়।
আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বৃটেনে সব কাজেই ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি বেধে দেয়া। কোনো শ্রমিক ঘণ্টায় সাড়ে পাচ পাউন্ডের নিচে বেতন পাবে না। এ বেতনে মাত্র আট ঘণ্টা কাজ করলে তারা ৪৪ পাউন্ড পায়। যা দিয়ে কমপক্ষে ১৪৬ কেজি আলু বা প্রায় ৫৫ কেজি চাল কিনতে পারে।

ইতিহাস
১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলন দমনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মালিক পক্ষের উস্কানিতে শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায়। আপসহীন দশ শ্রমিকের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। এতে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো শিকাগো শহর। অবশেষে জনগণের প্রবল চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার শ্রমিকদের কাজের সময় আট ঘণ্টা নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়।
১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর শ্রমিকদের সংগ্রামী ঐক্যের মহান অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে সারা বিশ্বে শ্রমিক সংহতির আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে মে মাসের ১ তারিখে 'মে দিবস' পালিত হয়ে আসছে।

অগোছালো কথা
বিভিন্ন দিবস পালন নিয়ে আমাদের অনেকেরই এলার্জি আছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিরোধিতা করে প্রচুর লেখালেখি হয়। যুক্তি দেয়া হয় যে, এই দিবস পালন করে কোনো লাভ নেই, বরং নারীদের ক্ষতি করা হয়। তাই এ দিবস পালন না করে অন্য কিছু করা উচিত (কি করা উচিত তারাই জানেন!!)। তাই তেমন অভিজ্ঞতা আশা করে আমি এবার মে দিবসে বিভিন্ন বাংলা ব্লগ খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করলাম। কিন্তু আশার কথা এ দিবস পালন করে কোনো লাভ নেই এমন কথা সম্বলিত কোনো পোস্ট দেখলাম না।
অবশ্য শ্রমজীবী হিসেবে আমারও একটু ইচ্ছা করছিলো এ সুযোগে একটা পোস্ট দিয়ে ফেলি, “যেদিন বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধি দিবস পালন করবে সেদিন আমরাও শ্রম দিবস পালন করবো” কিংবা “শ্রমিকদের শত্রু শ্রমিকরাই” ইত্যাদি। কিন্তু অতি কষ্টে সেসব লেখার ইচ্ছাকে অবদমিত করে সরাসরি দাবীগুলিকেই জানিয়ে দিলাম।
(আমি বর্তমানে বৃটেনে আছি। ফলে শ্রমিকদের ব্যাপারটা বোঝানোর জন্য নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বারবার এ দেশেরই উদাহরণই দিতে হচ্ছে। বৃটেনে বেশীদিন থাকছি না। দেশে যাওয়ার আগে সবকিছু শিখে নিচ্ছি)।
মেহনতি মানুষের জয় হোক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28945211 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28945211 2009-05-02 00:49:46
স্মৃতির শহর হোয়াইটহ্যাভেন ভ্রমণ
আমরা লেক ডিস্ট্রিক্ট ভ্রমণ শেষে ট্রেনে করে রওনা দিয়েছিলাম কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই। হোয়াইটহ্যাভেন নামে একটা ছোট্ট শহরের কথা অবশ্য আগেই শুনেছিলাম। ট্রেনে যাবার সময় হোয়াইটহ্যাভেন দেখে তাড়াতাড়ি ট্রেন থেকে নেমে আসলাম। ভাবলাম শহরটা একটু ঘুরে দেখি।
৪৩৩ বছরের জীবন শেষে কয়লাখনিটি বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নেমে এসেছে মন্দা। হোয়াইটহ্যাভেন তবু স্মরণ করছে তার সেই যৌবনকালকে। এখন এখানে কোনো কয়লা উঠানো হয় না। রয়ে গেছে শুধু পুরনো কয়লাখনির ধ্বংসাবশেষ.....

১৯৮৬ সালে আমাদের দেশে ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তর যখন বড়পুকুরিয়ায় প্রথম কয়লাখনির বিস্তারিত অনুসন্ধান করছে সে সময়ই ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ ব্রিটেনের হোয়াইটহ্যাভেনের কয়লাখনিটি বন্ধ হয়ে যায়। এর সাথে সাথে এ শহরের ৪৩৩ বছরের কয়লা যুগের সমাপ্তি হয়।

১৭৩০ সালে এ শহরে ছিলো তৎকালীন সবচেয়ে (৪৫৬ ফিট) গভীর কয়লাখনি। গভীরতম সে পিটের নাম ছিলো স্যালটম পিট। সে পিট অবশ্য ১৮৪৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এখনও সে পিটের কিছু ধ্বংসাবশেষ আছে। ১৮০০ সালের কয়লাখনিগুলোর মধ্যে এটাই বর্তমানে ব্রিটেনের সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। ঘোড়া ব্যবহার করে সে সময় কয়লাখনি থেকে কয়লা উপরে উঠানো হতো। এখানেই প্রথম সাগরের নিচের কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন করা হয়।
এ এলাকায় কয়লা উত্তোলন শুরু হয় ১৫৫৩ সালে। দীর্ঘ এ সময়ে প্রায় ৭০ বার কয়লাখনি পানিতে ডুবে যায়। এ খনিতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৫ শতাধিক শ্রমিক মারা যায় (কয়লাখনিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়)। এছাড়াও হোয়াইটহ্যাভেন একটি পুরনো বন্দর ও পোতাশ্রয়। এমন একটা পুরনো শহরে এসে পুরনো আমলের ডক আর বিল্ডিংগুলো দেখতে ভালোই লাগছিলো।
এখানে বেশ কয়েকটা পুরনো ডক আছে। আমরা হাটতে হাটতে একটার ভেতরে ঢুকলাম। সেটার ভেতরে একটা টাওয়ার আর বাতিঘরও ছিলো। কিন্তু কোনো জনপ্রাণীও ছিলো না। অবশ্য দুই একজন বুড়ো মাঝে মাঝে হাটাহাটি করতে করতে আসছিলো। তাদের একজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানলাম বাতিঘরটাতে রাতে এখনো আলো জ্বলে।

পাশের সাগরটার নাম আইরিশ সি। এক বুড়িকে জিজ্ঞাসা করে নামটা নিশ্চিত হওয়া গেল।

হোয়াইটহ্যাভেন বন্দর পোতাশ্রয় অবশ্য অতো পুরনো না। সাইনবোর্ড দেখে বুঝলাম এটা মাত্র ৩০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত.....
আরেকটা ডক দেখলাম চালু আছে। সেখানে বেশ কিছু বোট ছিলো।


হোয়াইটহ্যাভেনের ছোট রেল স্টেশনটা আরো ছোট হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটা প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হয়ে গেছে।





এক লোক পাখিদের বেশ খাবারদাবার দিচ্ছিলো দেখে ভালোই লাগলো। অনুমতি ছাড়াই তার কয়েকটা ছবি তুলে ফেললাম (বৃটেনে এটা আইনবিরুদ্ধ)। মুখে কিছু বলেনি কিন্তু সে একটু বিরক্ত হয়েছিলো মনে হয়। তাই তার সাথে আলাপটা জমানো গেলো না।
পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য এ শহরের চেষ্টার শেষ নাই। গত কয়েক বছরে এখানে আয়োজন করা হয়েছে নানান বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। নতুন আর পুরনো যুগের সমন্বয়ের জন্য রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে নানান ভাস্কর্য। পুরনো আমলের কামানগুলোকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে রাস্তায় রাস্তায়.....






লেখা না থাকলে বুঝতেই পারতাম না যে এটা সাইকেল স্ট্যান্ড।

আমরা আগেই শুনেছিলাম এখানে একটা জাদুঘর আছে। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করতে করতে সেটা খুজে বের করলাম। জাদুঘরটার নাম দা বেকন। সেটার ভেতরে ঢুকে কিছু ছবিও তুললাম .......

বাচ্চাদের বিভিন্ন অনুভূতি লিখে রাখার জন্য ব্যবস্থা ছিলো জাদুঘরের ভেতরে। যেমন, তোমার প্রিয় শব্দ কোনটা? হাটার সময় তুমি কি চিন্তা করতো ভালোবাসো? তোমার মতে জীবনের মানে কি? তুমি কিভাবে স্মরণীয় থাকতে চাও। বড়রাও এগুলোর উত্তর পোস্টকার্ডে লিখে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখছে....
এ সময়ই আমার ক্যামেরাটা হাত থেকে পড়ে নষ্ট হয়ে গেল। অবশ্য অ্যাক্সিডেন্টাল ড্যামেজের ওয়ারেন্টি থাকায় তা ঠিক করতে পরে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে কিছু ছবি মোবাইল ক্যামেরায় আর বন্ধুর ক্যামেরা ধার করে তোলা লাগলো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28921169 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28921169 2009-03-07 22:36:34
লেকল্যান্ড ভ্রমণ-৩
লেকল্যান্ডে আমরা বোটে করে লেকের যেখানে গেলাম সেখানে একটা বড় অ্যাকুরিয়াম ছিল। একটা অ্যাকুরিয়াম বলা যাবে না। কারণ বড়টার পাশাপাশি এতে অনেকগুলো ছোট ছোট অ্যাকুরিয়ামও ছিলো। আর সাপ, ভোদর, বানর ইত্যাদি বেশ কিছু ছোট ছোট প্রাণীও ছিলো।
এ অ্যাকুরিয়ামের ভেতরে আমার সবচেয়ে ভালো লাগলো সি হর্স দেখতে। সি হর্স অনেকটা ঘোড়ার মতো দেখতে সামুদ্রিক প্রাণী। আগে কখনো সি হর্স দেখি নি। অ্যাকুরিয়ামের ভেতর সি হর্স গুলো অনেকটা নাচের ভঙ্গীতে নড়াচড়া করছিলো। দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো। অনেকগুলো ছবি তুলে ফেললাম....

















অ্যাকুরিয়ামের খুব ছোট একটা অংশেই ছিলো সি হর্স। । এছাড়া আরো বহু প্রাণী থাকলেও সেগুলোর তেমন ছবি তোলা হয় নাই। দুই একটা ছাড়া.....













সুন্দর কিছু কচ্ছপ দেখে ব্লগার সাইফুল ভাইয়ের কথাই মনে পড়লো (বর্তমানে দেখা যায়না)......




সেখান থেকে আমরা আবার শহরে ফিরে আসলাম। শহরের ভেতরে এক দোকানের ডামিগুলো দেখে বেশ পছন্দ হলো.....



রাতে খাওয়ার জন্য একটা থাই রেস্টুরেন্টে ঢুকেছিলাম। সেখানে খাবার পরিবেশনের পদ্ধতিগুলো নজর কাড়া।
আমার দেখামতে, এই দেশে যেই দেশের রেস্টুরেন্ট হয় সাধারণত সেই দেশের লোকজনই তা পরিচালনা করে। থাই রেস্টুরেন্টের ভেতরে সত্যিকার থাইল্যান্ডের মানুষজনকেই খাবার পরিবেশন করতে দেখলাম। রান্নাও করছিলো থাইল্যান্ডের লোকজন। ফলে আসল থাই খাবারের স্বাদ যে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ ছিলো না।
আমি একটা থাই সুপ নিয়েছিলাম। সেটা এতো ঝাল ছিলো যে আমি জীবনেও সেই দুঃসহ ঝাল ভুলতে পারবো কিনা সন্দেহ....





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28920239 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28920239 2009-03-05 09:26:23
লেকল্যান্ড ভ্রমণ-২
আমরা মিস কামব্রিয়া নামের বোটে করে যাত্রা শুরু করলাম। তার পাশে অন্য একটা বোট ছিলো মিস লেকল্যান্ড। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেটাতে যাওয়া গেল না। অবশ্য মিস কামব্রিয়াও খারাপ না।
আমরা সেটার ছাদে চড়লাম। বাতাস খুব ঠাণ্ডা ছিলো। তাই গরম পোশাক, টুপি ইত্যাদিতে নিজেদের ভালোভাবে মুড়ে নিলাম। তাও ঠাণ্ডা লাগছিলো অবশ্য।



পাহাড়, বন-বনানী আর লেকের অপরূপ সুন্দর দৃশ্যের মাঝ দিয়ে আমাদের বোট এগিয়ে চললো....


ছবি তোলার সময় নৌকাটার সামনের ইউনিয়ন জ্যাকের মতো পতাকাটা বেশ ডিস্টার্ব করছিলো। ছবি তোলার পরে অবশ্য এটা খারাপ লাগছিলো না....




















পানির একদম উপরে যে ঘর এগুলো বোট হাউস। এর ভেতরে নৌকা রাখা হয়......




এক ঝাক স্কুলের বাচ্চাকে দেখলাম নৌকা চালাচ্ছে। আমরা হাত নাড়লে তারাও সবাই নৌকার উপর দাড়িয়ে হাত নেড়েছিলো.....


কিছুদূরে একটা ফেরি দেখা গেল। পাহাড়ের পটভূমিতে ফেরিটার ছবি তুলতে পেরে খুব ভালো লাগছিলো.....



অবশেষে আমরা অ্যাকুরিয়ামের পৌছালাম। এখানেও এক ঝাক হাস আমাদের দেখে এগিয়ে আসলো। আমার হাতে একটা ব্যাগ ছিলো দেখে আমার দিকে তাদের আগ্রহটা বেশীই ছিলো। এ সময় এক মহিলা জানালো হাসগুলো তাদের লাঞ্চ বা দুপুরের খাবার খেতে চাচ্ছে....


এখানে আরো ছিলো অলস সময় কাটানো বেশ কিছু পাখি। জায়গাটা ছিলো খুবই নিরব। সব মিলিয়ে দারুণ একটা শান্ত জায়গা। দেখতে দেশী হাসের মতো হলেও এগুলো কিন্তু ভালো উড়তে পারে.....



এখানে একটা রেল স্টেশনও ছিলো। পর্যটকদের জন্য এতে স্টিম ইঞ্জিনের ট্রেন চালানো হয়। লোকজন জানালো এ বছর ট্রেন এখনো চালানো শুরু হয় নাই। তবে স্টেশনটাও দেখতে বেশ সুন্দর ছিলো....


(চলবে)
[ছবি- লেখক]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28919834 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28919834 2009-03-04 10:11:51
লেকল্যান্ড ভ্রমণ-১
কয়দিন আগে ঘুরে এলাম ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের লেক ডিস্ট্রিক্ট বা লেকল্যান্ড। আগেই শুনেছিলাম এ এলাকায় অপরুপ সুন্দর লেক আছে। পর্যটকদের জন্যও জায়গাটা বেশ আকর্ষণীয়। সেখানে যাবার জন্য আমরা কয়েক বন্ধু দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছিলাম। এতে ট্রেন ভাড়া বেশ কম পড়ে আবার প্রস্তুতিও ঠিকমতো নেয়া যায়। যাবার জন্য আমাদের প্রস্তুতির শেষ ছিলো না। অনলাইনে সে জায়গার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখে কোথায় কোথায় যাবো তার একটা তালিকা করে ফেলা হলো।

কিন্তু সমস্যা হলো যাত্রার সময়। আমাদের এলাকায় এতো তুষারপাত হলো যে ট্রেন চলবে কিনা সে বিষয়ে আমরা সন্ধিগ্ন ছিলাম। তবু দিনের আলো ফোটার আগেই মাইনাস তাপমাত্রা আর রেকর্ড পরিমান তুষারপাতকে অগ্রাহ্য করে আমরা রওনা দিলাম ট্রেন ধরার জন্য।
স্টেশনে গিয়ে দেখি রেল লাইনের উপর সাদা সাদা প্রচুর তুষার থাকলেও ট্রেন চলবে বলেই মনে হলো।

কিছুক্ষণ পরে ট্রেন দেখে আর যাত্রার আনন্দে আমার বন্ধু নাচা শুরু করে দিলো.....


ট্রেনে উঠার পর জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি তুষারে চারদিক ফকফকা হয়ে গেছে.....


বেশ কিছুক্ষণ তুষার আর প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করলাম। এভাবে বহু শহর বন্দর পার হয়ে যাবার পর আস্তে আস্তে ট্রেনটা একটা পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছালো। এ এলাকায় তুষারপাত কম হয়েছে বলেই মনে হলো....


এভাবে আরো বহু দূর যাবার পর তুষার একেবারে মিলিয়ে গেলো। এ এলাকায় তুষারপাত হয়নি দেখে খুব ভালো লাগলো....


এক স্টেশনে ট্রেন পাল্টানোর কথা ছিলো। সেখানে নেমে এমন চিহ্ন দেখে বুঝতে পারলাম এটা ওয়েটিং রুম....


আমাদের গন্তব্য ছিলো উইন্ডারমেয়ার স্টেশন। কিছুক্ষণ পরে আমাদের ট্রেন আসলে সেটাতে করে উইন্ডারমেয়ারে গিয়ে পৌঁছলাম। আমাদের হোটেল আগে থেকেই বুক করা ছিলো। স্টেশন থেকে বের হয়েই আমরা খুব সুন্দর টুরিস্ট ইনফর্মেশন সেন্টার দেখতে পেলাম.....

পর্যটকদের সাহায্যের জন্য সেখানে কয়েকজন হাসিমুখে বসে আছে। ভাবলাম হোটেলে কিভাবে যাবো তা জেনে যাই। টুরিস্ট সেন্টারের ভেতরে গিয়ে হোটেলের ঠিকানাটা দিতেই তারা এ এলাকার একটা ম্যাপ ধরিয়ে দিলো। সেখানে মার্কার পেন দিয়ে হোটেলে যাবার রাস্তাটা রঙ করে দিলো। আর ঘোরার জায়গা কি কি আছে তা বুঝিয়ে দিলো।
শহরটা দেখার জন্য আমরা হেটে হেটেই হোটেলে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। মাঝখানে কিছু ছবিও তুললাম......




শহরের অধিকাংশ বাড়ি অনেক পুরনো আর দেয়ালগুলো পাথরের তৈরি। এক বাড়ির দেয়াল দেখে হরর মুভির কথাই মনে পড়লো.....


একটা ঝর্ণা দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল....


কয়েকটা হোটেলে স্টাফ নিচ্ছে। ভাবছিলাম সিভিটা দিয়ে যাব নাকি.....


হোটেলে পৌঁছে জিনিসপত্র রেখে আমরা লেকের সন্ধানে বের হলাম। রাস্তার সাইনবোর্ডই বলে দিচ্ছিলো লেক কোন পথে....


কিছুক্ষণের মধ্যেই গলির ফাক দিয়ে লেকের দেখা মিললো....


লেকের ধারে যাওয়া মাত্র আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে এলো রাজহাঁসটি.....


ঘাটে শান্তভাবে বসে থাকা বকটা অবশ্য আমাদের কোনো পাত্তাই দিলো না....


এই দেশে আসার পর কাকের দেখা পাওয়াই মুস্কিল। একসাথে তিনটা পেয়ে তাড়াতাড়ি ছবি তুলে ফেললাম.....


ঘাটের ছবি.....


বোটে করে লেকের ভেতর দিয়ে একটা বেশ বড় অ্যাকুরিয়ামে যাবার জন্য আমরা টিকিট কেটে অপেক্ষা করতে লাগলাম। টিকিট কাউন্টারের ছবি....

(চলবে)
[ছবি- লেখক]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28919732 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28919732 2009-03-04 02:05:21
পৃথিবীর জনসংখ্যা কী অতিরিক্ত? (জনসংখ্যা-শেষ পর্ব)
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান মতে, পৃথিবীর ৮৫ থেকে ১০০ কোটি মানুষ খাদ্যাভাবের মধ্যে বাস করে। ফাও-এর পরিসংখ্যান মতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার লোক ক্ষুধায় বা খাদ্যাভাবজনিত নানা সমস্যায় মারা যায়। বিশুদ্ধ খাবার পানি পায় না পৃথিবীর ১.১ বিলিয়ন মানুষ।
এ অবস্থায় পৃথিবীর জনসংখ্যা অতিরিক্ত নাকি আরো মানুষ ধারণ করার মতো ক্ষমতা আছে পৃথিবীর? এ প্রশ্নে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থার নিজস্ব মতামত আছে। তবে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ধারণা হচ্ছে পৃথিবীর জনসংখ্যা অতিরিক্ত। কিছু বিজ্ঞানী জানান, পৃথিবীতে ছয় বিলিয়ন মানুষের ধারণক্ষমতা আছে।
পৃথিবীর মানুষ সর্ম্পকে আশাবাদীরা জানান, পৃথিবীর এ অবস্থা খুব বেশীদিন থাকবে না। দারিদ্র্য কমছে। প্রতিদিন এক ডলারের কম আয় করে এমন মানুষ আগামী ২০ বছর পর অর্ধেক হয়ে যাবে। আধুনিক প্রযুক্তির প্রচলন বাড়ায় ফসল উৎপাদন বাড়ছে। এসব হিসাব দেখিয়ে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা ধারণক্ষমতার মধ্যেই আছে।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড এবং গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট নেটওয়ার্ক পৃথিবীর জনসংখ্যা এবং পৃথিবীতে অবস্থান বিষয়ে গবেষণা করে। তারা জানায় ২০০৩ সালে পৃথিবীতে মানুষের ইকোলজিকাল ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশে মানুষের অংশগ্রহণ পৃথিবীর মোট সম্পদের চেয়ে প্রায় ২৫% বেশি। এ হিসাব অনুযায়ী ২০৫০ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে মানুষের ইকোলজিকাল ফুটপ্রিন্ট হবে ১০০% বেশি। এ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০% বেশি মানুষ আছে।

পৃথিবীর জনসংখ্যার গ্রাফ চিত্র। গ্রাফে ডান পাশের কালো অংশ হচ্ছে সাম্প্রতিক মানুষের মারাত্মক সংখ্যাবৃদ্ধি




আগের পর্বগুলো:

১. কাজ চাই, কাজ চাই (জনসংখ্যা- ১)

২. ১২ বছরে ১০০ কোটি উৎপাদন (জনসংখ্যা- ২)

৩. ছয় বিলিয়নের মাইলফলক (জনসংখ্যা-৩)

৪. আফ্রিকার জনসংখ্যা তিন গুণ বাড়ছে (জনসংখ্যা-৪)

৫. ৪৭টি দেশ বনাম ৩ জন ধনী (জনসংখ্যা-৫)

৬. জনসংখ্যা এবং জীবনযাত্রার মান (জনসংখ্যা-৬)

৭. হংকং ও সিঙ্গাপুর (জনসংখ্যা- ৭)

৮. ভারত ও চীন (জনসংখ্যা- ৮)

৯. চীনের এক সন্তান নীতি (জনসংখ্যা-৯)

১০. চীনের ধনীরা কৌশলে "একসন্তান নীতি" ফাঁকি দিচ্ছেন (জনসংখ্যা-১০)
এবং এ পর্ব.....
১১. পৃথিবীর জনসংখ্যা কী অতিরিক্ত?
(শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28908589 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28908589 2009-02-09 05:12:31
চীনের ধনীরা কৌশলে "একসন্তান নীতি" ফাঁকি দিচ্ছেন (জনসংখ্যা-১০)
মাও আমিন
চীনের একজন জনপ্রিয় গায়ক মাও আমিন। তাঁর তিন বছর বয়সের একটি মেয়ে আছে। গত বছর তিনি একটি ছেলেরও মা হয়েছেন। খবরটি অনেকের কাছেই খুব আনন্দের। কিন্তু খুশির এ খবরটি চায়নার কমিউনিস্ট পার্টির মেম্বারদের মোটেও খুশি করতে পারেনি। তারা জানান, মাও এখনো দুটি সন্তান নেয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন নি। শুধু তাই নয় কিভাবে আইনের ফাঁক দিয়ে তিনি দ্বিতীয় সন্তান নিলেন এ বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা
সরকারিভাবে চীনে শহরের অধিবাসীরা একটির বেশি সন্তান নিতে পারেন না এবং গ্রামাঞ্চলের অধিবাসীরা প্রথম সন্তান মেয়ে হলে প্রয়োজনে একাধিক সন্তান নিতে পারেন। তবে এ জন্য সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
মাও আমিনের এ সন্তান জন্মের ঘটনাটি চীনের জনসংখ্যা নীতিকে ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে। চীনের প্রভাবশালী পত্রিকা চায়না ডেইলি প্রশ্ন তুলেছে, এক সন্তাননীতি কি শুধু ধনীদের জন্য, নাকি চীন এক সন্তাননীতি থেকে সরে এসেছে? কমিউনিস্ট চীনের জন্য ধনী-গরীবের বৈষম্যের এ অভিযোগ অতি গুরুতর অবশ্যই। চীনের এলিটদের জন্য জনসংখ্যা নীতির কিছু ফাক-ফোকর আছে যার সাহায্যে ধনী কিংবা প্রভাবশালীরা এই আইন ফাকি দেয় বলে পত্রিকাটি জানায়।
যাকে নিয়ে এতো আলোচনা সেই গায়ক মাও-এর মুখপাত্র চেন কি সাংবাদিকদের জানান, মাও সব সময়ই সরকারের নীতির বিষয়ে সচেতন। কিন্তু কোন আইনের মাধ্যমে তার সন্তান সম্ভব হলো তা জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তবে চায়নিজ মিডিয়া জানায়, তিনি সম্ভবত বড় অঙ্কের একটি জরিমানা দিয়ে তার দ্বিতীয় সন্তান নেয়াকে বৈধ করেছেন।
চীনের জনপ্রিয় একটি ইন্টারনেট ওয়েবসাইট জানায়, একজন ধনী শিল্পপতি প্রায় ছয় হাজার ডলার জরিমানা দিয়ে দ্বিতীয় সন্তান নেয়ার অনুমতি নিয়েছেন। এছাড়াও আইনের আরো কিছু ফাক রয়েছে। যেমন ধনীরা বিদেশি চায়নিজ হিসেবে নিজেদের রেজিস্ট্রেশন করতে পারে। এর ফলে তারা মালয়শিয়া কিংবা দেশের বাইরের কোনো স্থানে গিয়ে সন্তান জন্ম দেয়।
তবে চীনের গরিবদের জন্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক সন্তাননীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করায় চীন সরকার আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার সম্মুখীন। চীন সরকার অনেক ক্ষেত্রেই জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং বাধ্যতামূলক বন্ধ্যাকরণ করে থাকে। বিদেশে চীনের কঠোর জনসংখ্যা নীতিকে সরকার এবং কমিউনিস্ট পার্টির বিপুল ক্ষমতা এবং শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়।
চায়নিজ মিডিয়াগুলোর এ ধরনের সমালোচনার মুখে কমিউনিস্ট পার্টির নীতিনির্ধারকরা তাদের জনসংখ্যা নীতি নতুন করে বিশ্লেষণ করছেন। চীনের প্রধান মন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও গত বছর স্বীকার করেছেন যে, গ্রামাঞ্চলে জন্মহার কম রাখা নিষ্ঠুরতার শামিল। চীনের নীতিনির্ধারকরা জনসংখ্যার বয়স্ক অংশের বৃদ্ধি নিয়েও চিন্তিত। বিশেষ করে জন্মহার কমে আসায় চীনের তরুণ জনগোষ্ঠী কমে যাচ্ছে এবং বেশিরভাগ মানুষ বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এক সন্তান নীতি ও কঠোর আইনের পরেও চীনের জনসংখ্যা বাড়ছে (যদিও বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় অনেক কম)। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান মতে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত চীনের জনসংখ্যা বাড়বে এবং তা ১.৪৮ বিলিয়নে পৌছাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ চীনে ২০ বছর বয়সের নিচের জনসংখ্যার তুলনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সের জনসংখ্যা হবে দ্বিগুণ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28908183 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28908183 2009-02-08 05:37:44
চীনের এক সন্তান নীতি (জনসংখ্যা-৯) প্রায় দুই দশক আগে চীন তার এক বিলিয়ন মানুষকে জানিয়েছিল, তারা যদি দুটি করে সন্তান নিতে থাকে তাহলে তাদের জনসংখ্যা বিশাল বোঝা হয়ে যাবে এবং তা এক সময় ১.৮ বিলিয়নে পৌছবে। শুধু চীনের জন্যই নয় এটা সমগ্র পৃথিবীর জন্যই ছিলো এক বিশাল বিপদ। এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই চীন এক পরিবার এক সন্তান নীতি গ্রহণ করে। সে সময় চীনের জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কমিটি সরকারের এই নীতির যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানায়, কঠোর আইনের মাধ্যমেই একমাত্র জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব।

তিয়ানজিন স্ট্যাচু, চীনের এক সন্তান নীতির প্রতিক

এক সন্তান নীতির ভালো দিকের পাশাপাশি বহু খারাপ দিকও আছে। এখানে উভয় বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, নানা সমস্যা আর খারাপ দিক সত্ত্বেও কঠোর নীতির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীনের জনসংখ্যার পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা গেছে।
এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক সন্তান কোটা নির্ধারণ করে দেয়। সাধারণত চীনের শহর অঞ্চলে একটার বেশী সন্তান নেয়া অনেক কঠিন হলেও গ্রাম অঞ্চলে সহজ। তরুণদের নিজস্ব এলাকা থেকে বিয়ের এবং সন্তান গ্রহণের অনুমতি নিতে হয়। যেসব মহিলা এ নিয়মের বাইরে গর্ভবতী হয়ে পড়ে তাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণকর্মী এবং স্থানীয় পার্টি অফিশিয়ালরা গর্ভপাত করার জন্য প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে। আর যেসব পরিবার একটি মাত্র সন্তান গ্রহণ করে সরকার তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়।
ফলে চীনের শহরগুলোতে এক সন্তান এখন সাধারণ বিষয় কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবারে দুটি বা তিনটি সন্তান দেখা যায়। কারণ যেসব পরিবারের (সাধারণত কৃষক পরিবার) প্রথম একটি বা দুটি সন্তান মেয়ে হয় তাদের প্রায়ই আরো সন্তান নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। এছাড়াও চীনের মূল জাতিগোষ্ঠীর (Han) বাইরের প্রায় প্রত্যেকের জন্যই আলাদা নিয়ম রয়েছে। সাধারণত শহর অঞ্চলে এদের দুটি পর্যন্ত সন্তান নেয়ার অনুমতি দেয়া হয় তবে গ্রাম অঞ্চলে তিনটি বা চারটিরও অনুমতি দেয়া হয়।
বেইজিং রিভিউ পত্রিকা জানায়, এক সন্তান নীতির কারণে চায়নায় মাতৃগর্ভেই অনেক কন্যাসন্তানের ভ্রণ হত্যা করা হয়। অনেকেই এ জন্য দায়ী করে হাজার বছরের পুরনো কনফুসিয়াজমকে। চায়নার অধিকাংশ লোকই কনফুসিয়াজমে বিশ্বাসী আর এই নীতিতে পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করা হয়। বহু শতাব্দী ধরে মানুষের অন্তরে শেকড় গেড়ে থাকা অন্ধবিশ্বাস, "নারীর তুলনায় পুরুষ শ্রেষ্ঠ" এটি দূর করা খুব সহজ নয়।

চীনের যমজ শিশু
পরপর দুটি সন্তান নিলে বাবা-মায়ের শ্বাস্তি হয়। কিন্তু প্রথম সন্তান যমজ শিশু হলে পিতা-মাতার কোনো জরিমানা হয় না। এ কারণে বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে যমজ শিশু জন্মানোর ঘটনা এখন অনেক বেড়েছে।

ছেলে বেশি মেয়ে কম
২০০০ সালে চীনে ছেলেমেয়ের জন্ম অনুপাত ছিল ১১৭:১০০। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে এটি ১০৩:১০০ থেকে ১০৭:১০০-এর মধ্যে থাকা উচিত। এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে চীনের মেয়ে শিশুদের মৃত্যুর হার বেশি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। অনেকে মেয়ে শিশুর জন্ম গোপন করে রাখে। অযত্ন-অবহেলায় তাদের অনেকেরই মৃত্যু হয়।
সরকার নতুন পরিকল্পনায় ২০১০ সালের মধ্যে এই বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছেলেমেয়ে নির্ণয় করার পর গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা এবং মেয়ে শিশুদের পিতা-মাতার জন্য বিশেষ ভাতা উল্লেখযোগ্য। যেসব দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তাদের বয়স ৬০ পেরিয়ে গেলে তারা বছরে ১২০০ ইউয়ান (১৫৪ ইউএস ডলার) করে পাবে।
(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28908001 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28908001 2009-02-07 19:48:20
ভারত ও চীন (জনসংখ্যা- ৮)
জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। দেশটির জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে, শিক্ষার হার কম, জনগণও দরিদ্র। তবে অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের ফলে দেশটির দারিদ্র্যের হার দ্রুত কমছে।
পৃথিবীর মোট ভূমির প্রায় ২.৪ শতাংশ ভারতের হলেও পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ এ দেশটি ধারণ করে। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন ভারতে বাস করে।
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার এই দেশটি আগামী ৪০ বছরের মধ্যে চীনকে ছাড়িয়ে জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর প্রথম স্থানে যাবে। দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ার কারণে ভারতের অধিকাংশ মানুষই তরুণ। প্রায় ৩২ শতাংশ ভারতীয় ১৫ বছরের চেয়ে কম বয়সি। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি জাতিসত্ত্বা সমৃদ্ধ ভারতে রাষ্টীয়ভাবে স্বীকৃত ২৩টি ভাষা থাকলেও ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। ২০০৮ সালে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১১৫ কোটি ছিল এবং ২০৫০ সালে জনসংখ্যা হবে ১৮০ কোটিরও বেশি।
পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ভারত সর্বপ্রথম ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করে। তবে এ কর্মসূচি দেশটির জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে ব্যর্থ হয়। ২০০০ সালে দেশটির জনসংখ্যা যখন এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করে সে বছরই ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত নতুন জনসংখ্যা নীতি ঘোষণা করে। এ নীতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়াও দুইয়ের কম সন্তান আছে এমন দম্পতিদের পুরস্কার প্রদান, জন্ম নিবন্ধন, বিয়ে নিবন্ধন, ২১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত সন্তান না নেয়া, গর্ভপাতের সুযোগ বৃদ্ধি, সঠিক বয়সে বিয়ে করা, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর জন্ম বিরতিকরণ ব্যবস্থা নেয়া, শিশু মৃত্যুর হার কমানো, বাল্যবিয়ে বন্ধ করা ইত্যাদি ব্যবস্থা নেয়া হয়। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মি. এন টি শানমুগাম বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবার পরিকল্পনায় পুরুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পৌছানো হবে। এ জনসংখ্যা নীতির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১০ সালে ভারত রিপ্লেসমেন্ট ফার্টিলিটিটে প্রবেশ করবে (প্রত্যেক দম্পতির দুই সন্তান)। এ নীতিতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকেও কাজে লাগানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ সব নীতি কতোখানি বাস্তবায়ন করতে পারে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম কতোখানি টেনে ধরতে পারে, তার দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

চীন
চীনে ১৯৭৮-এর আগে বিশেষ করে মাও সেতুংয়ের শাসনামলে বেশি সন্তান নেয়াকে উৎসাহিত করা হতো। ফলে পরবর্তীকালে দেশটিতে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। এর পর ডেং জিয়াওপিং চীনের ক্ষমতা নেন। তিনি অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং ১৯৭৯-এর পর তিনি প্রত্যেক পরিবারকে একটি করে সন্তান নিতে উৎসাহিত করেন। ফলে জন্ম নেয় পৃথিবী বিখ্যাত "এক সন্তান নীতি"।
চীন সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে এক সন্তান নীতিকে বাধ্যতামূলক করেনি। এক সন্তান নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রতিটি এলাকার জন্ম পরিকল্পনা কমিশন-এর। তারাই জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অধিকাংশই বিনামূল্যে দেয়া হয়।

চীনের এক সন্তান নীতির পোস্টার

১৯৭৫ সালে চীনে পরিবারপ্রতি গড়ে তিনটি করে সন্তান ছিল। এই পরিস্থিতি যদি চলতেই থাকতো তাহলে ২০৭৫ সালে চীনের জনসংখ্যা হতো ১৯৮০ সালের পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার সমান। তবে চীনের সরকার কঠোর নীতির মাধ্যমে বর্তমানে জনসংখ্যার এই বৃদ্ধিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে চীনের মোট জনসংখ্যা ১.৩ বিলিয়ন, জন্মহার ১.৭ এবং বৃদ্ধির হার ০.৬ শতাংশ যা এশিয়ার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28907801 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28907801 2009-02-07 07:43:26
হংকং ও সিঙ্গাপুর (জনসংখ্যা- ৭) অন্য কোনো সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও শুধু জনসংখ্যাকে ব্যবহার করে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করেছে হংকং ও সিঙ্গাপুর। একটি দেশের জন্য জনসংখ্যাকে সম্পদ বলা হয়, আবার কখনো বোঝা বলে গণ্য করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জন্য হংকং ও সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির উন্নয়ন এক রহস্য।

১৯৪০ সালে অনুন্নত হংকংয়ের রাস্তা দেখুন। এমন মানুষ টানা রিক্সা দিয়ে বোঝাই ছিলো


মানব সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে ১৯৯৮ সালে হংকং সমুদ্রের বুকে মাটি ভরাট করে তৈরি করে হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।

মানুষ হংকংয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ
১৯৮২ সালে হংকংয়ের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫.২ মিলিয়ন। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত হংকংয়ের জনসংখ্যা খুব দ্রুত (প্রায় ৩০ শতাংশ হারে) বেড়েছে। হংকং এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে শুধু জন্মহার বৃদ্ধিই নয়, চীন ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইমিগ্রান্টরাও দায়ী। হংকংয়ের আয়তন প্রায় ১,০৬০ বর্গ কিলোমিটার। এর অধিকাংশ এলাকাই অনুর্বর পাহাড়ি এলাকা। শুধু সংকীর্ণ উপত্যকা এবং সমভূমিতেই কৃষিকাজ হয়ে থাকে। এ এলাকাই হংকংয়ের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ।

হংকংয়ের জনগণের চাহিদা
অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে হংকংয়ের বর্ধিত জনগণকে জায়গা দেয়ার জন্য নতুন এলাকায় নতুন শহর তৈরি করা হয়েছে। পুরনো ব্যবসা-বাণিজ্যভিত্তিক শহরগুলোকে বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্রের বুকে মাটি ভরাট করে উদ্ধার করা হয়েছে কিছু এলাকা। এভাবে সঠিক নীতির মাধ্যমে হংকং উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ছাড়াই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নাগরিকদের চাহিদা মেটাতে পেরেছে।


সিঙ্গাপুর
১৯ শতকে সিঙ্গাপুর অনুন্নত একটি মাছ ধরা কেন্দ্র ছিল। দেশটির সম্পদ খুবই কম ছিল এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান নিম্ন ছিল। কিন্তু পরে সিঙ্গাপুর সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়, সমুদ্র বন্দর এবং দেশটি মানব সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে উন্নতি লাভ করে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মানুষের জীবনযাত্রা এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ এবং বিশ্বের মধ্যে ২৫তম। পৃথিবীর ২২তম ধনী দেশ সিংগাপুর। সিংগাপুরের ৮৩ শতাংশ মানুষ বাস করে হাউজিং এস্টেটে। মোনেকোর পর পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন বিন্যস্ত জনসংখ্যার স্বাধীন দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুর পরিচিত।
সিংগাপুরের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ। গত দুই দশক ধরে সিংগাপুরে জনসংখ্যা কমানোর জন্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি চালানো হলেও বর্তমানে এ দেশটির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিংগাপুরের ১৫ বছর বয়সের নিচে মাত্র ১৬% মানুষ রয়েছে (বাংলাদেশে এ হার প্রায় ৩৩%)। ২০০৬ সালে সিঙ্গাপুরে মহিলা প্রতি সন্তানের হার হচ্ছে ১.৩ (এ হার পৃথিবীর সবচেয়ে কম তিনটি দেশের একটি)। অর্থাৎ বর্তমানে এ দেশটির জনসংখ্যা কমছে। কোনো দেশের জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য এ হার ২.১ থাকা প্রয়োজন (বাংলাদেশে এ হার প্রায় ৩.১)। এ কারণে সিংগাপুর সরকার এখন তাদের জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28906446 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28906446 2009-02-04 06:52:50
জনসংখ্যা এবং জীবনযাত্রার মান (জনসংখ্যা-৬) ধরা যাক ব্রাজিলের যদি প্রতি বর্গ কিলোমিটারে দুইজন মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মতো খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান প্রভৃতি সুবিধা থাকে তাহলে দুইয়ের বেশি জনসংখ্যা হলে ব্রাজিলের জনসংখ্যাকে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বলা যাবে। কিন্তু আমেরিকার যদি প্রতি কিলোমিটারে ৫০ জন লোকের জন্য সুযোগ-সুবিধা থাকে তাহলে ৫০-এর বেশি লোক হলে তাকে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বলা যাবে। এছাড়াও জনসংখ্যার জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়ের গুরুত্ব আছে। যেমন মানুষের অক্সিজেন সরবরাহ করে গাছপালা। গাছপালা, বন্য জীব-জন্তুসহ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে মানুষের বসবাসের পরিবেশ তৈরি হয়। এগুলো না থাকলে পরিবেশ কিংবা মানুষের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণেই সাহারা মরুভূমির জনসংখ্যার সঙ্গে বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনা করা চলবে না।
পৃথিবীর বিভিন্ন ধরনের সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে কয়লা, তেল, লোহা এগুলোর পরিচিত। মানুষ নিজেও একটি মূল্যবান সম্পদ। এছাড়াও মানুষ যে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বাস করে সেই পরিবেশ এবং ভূমি এক ধরনের সম্পদ। আমাদের প্রধান শহরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কারণ শহরগুলো আমাদের বহু চাহিদা মিটিয়ে থাকে।
পৃথিবীর সম্পদের ওপর সব মানুষের চাহিদা থাকলেও সম্পদের বণ্টন বা ব্যবস্থাপনা সেই চাহিদা অনুযায়ী হয় না। পশ্চিমি দেশগুলো যে ভোগ-বিলাস করে থাকে তার অধিকাংশই যোগান দেয় দরিদ্র বা অনুন্নত দেশগুলো। যদিও অনুন্নত দেশগুলো এসব বিলাস দ্রব্য ভোগ করার সুযোগ পায়না।
জনসংখ্যার তুলনায় অন্যান্য সম্পদ কম হলে মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যায় এবং মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা প্রভৃতির অভাব বোধ করে। জীবনযাত্রার মানকে মাপকাঠি ধরে অতিরিক্তি জনসংখ্যা নির্ণয় করা হয়। যখন কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যা এতো বেশি হয়ে যায় যে, মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস এবং সেবার দীর্ঘস্থায়ী অভাব হয়, তখন সেই অঞ্চলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা আছে বলা হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28905548 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28905548 2009-02-02 04:09:39
৪৭টি দেশ বনাম ৩ জন ধনী (জনসংখ্যা-৫) মে ২০০৫-এ পৃথিবীর সবচেয়ে অনুন্নত দেশ বা এলডিসি (মাথাপিছু আয় ৭৫০ ডলারের কম ৫০ টি দেশের বার্ষিক মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের চেয়েও বেশি সম্পদ ছিলো ধনী ১২৫ জন মানুষের হাতে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে ধনী তিনজন লোকের হাতেই অনুন্নত ৪৭টি দেশের মোট উৎপাদনের চেয়ে বেশি সম্পদ ছিলো।

বর্তমানে সম্পূর্ণ পৃথিবীর জনসংখ্যার মাত্র ২% মানুষ পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক সম্পদের মালিক। প্রত্যেক দেশে কিংবা সমাজেও এ ধরনের সম্পদের বৈষম্য দেখা যায়। আমেরিকার ২০০১-এর ডেটা থেকে দেখা যায়, দেশটির ধনী মাত্র ১% মানুষ প্রায় ৩৮% সম্পদের মালিক। অন্য দিকে দেশটির সবচেয়ে নিম্ন আয়ের ৪০% মানুষ মিলিতভাবে দেশটির মাত্র ১% সম্পদের মালিক।
এছাড়াও ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটলাস অফ গ্লোবাল ইনএকুয়ালিটি থেকে জানা যায়, পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী এক শতাংশ মানুষ যে পরিমাণ সম্পদের মালিক, সবচেয়ে দরিদ্র ৫৭% মানুষের মিলিত সম্পদ তার প্রায় সমান।
মিলানোভিক ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক তথ্যে দেখান, বিশ্বের ধনী ২৫% মানুষ পৃথিবীর মোট ৭৫% আয় করে থাকে। বাকি ৭৫% গরিব মানুষ মাত্র ২৫% আয় করে থাকে। এর অন্যতম কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ লোক সবচেয়ে গরিব দেশগুলোতে বাস করে। বিশেষ করে চীন, ভারতসহ এশিয়া এবং আফ্রিকার গরিব দেশগুলোতেই সিংহভাগ লোকের বাস। জনসংখ্যা অনুপাতে এ দেশগুলোর পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এ দেশগুলোর জনসংখ্যা যতো বাড়বে এ বৈষম্য ততোই বাড়তে থাকবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28904701 http://www.somewhereinblog.net/blog/Durantoblog/28904701 2009-01-31 10:08:48