গত বৃহস্পতিবার মিরপুর স্টেডিয়ামে গিয়ে ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে গেলাম। মন টা আজ অন্যরকম লাগছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম আমার সাদা সিধা দিন টি কে বিশেষ দিন করে দিল। যেহেতু আমার আজ একটা বিশেষ দিন। আমি আজকের দিনের অভিগ্যতা টা ছোট ছোট করে আপনাদের সাথে সেয়ার করতে চাই। বিরক্তির উদ্রেগ হলে নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন। আমি জানি আপনারা সবাই অনেক গুণি।
টিকেট বিক্রি: গ্রান্ড স্টান্ড এর এক হাজার টাকার টিকিট বিক্রি করতে হবে প্রথমেই। জাবেদ ভাই যার অনুপ্রেরণায় স্টেডিয়ামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, তিনি আসতে পারবেন না। অফিসের কাজে আটকা পড়েছেন। টিকিট হাতে নিয়ে হালকা ভয়ে গেটের সামনে দাড়ালাম। ব্ল্যাকার ভেবে যোদি মামারা আদর শুরু করে তাহলে সমস্যা। ১০০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায় বিক্রি করলাম। যা পাই তাতেই লাভ। ঢুকলাম স্টেডিয়ামে।
বাংলা ব্রিগেড: বাংলা ব্রিগেড নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ফেন ক্লাব খুলেছে। ছেলেদের দেখলাম তেলের শেষ নাই। খেলার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ড্রামের দ্রিম দ্রিম শব্দ মাঠের ডি জে কেও হার মানাচ্ছিল। খুব পছন্দ হল ওদের নাচানাচি। ভাবলাম ওদের সাথে যোগ দিব।
গরম: গরমের চোটে বসতে পারছিলাম না। বাতাসের চিন্হ মাত্র ছিল না। বসে বসেই ঘেমেছি। সাকিব কেন বার বার টায়ার্ড হয়ে যাচ্ছিল ভাল ভাবেই বুঝতে পারছিলাম। এর মদ্ধেও যে এক খান ইনিন্গস খেলল...
আতাহার:: হঠাৎ দেখলাম আতাহার আলী খান কে। হেটে এসে আমার পাশে দু সিট ছেড়ে বসলেন। একটু অবাক হয়েছিলাম তাকে এখানে দেখে। একটু পরেই বুঝতে পারলাম বেচারা পরিবারের সাথে খেলার একটু অংশ উপোভোগ করতে এসেছেন। কিন্তু বেচারার খেলা আর উপোভোগ করা হল না। ভক্তদের ছবি এবং অটগ্রাফের মিষ্টি যন্ত্রনায় কিছুক্খনের মদ্ধেই উঠে যেতে হল।
এলোকেশি: চুল ত মানুষ হঠাৎ করে লম্বা করতে পারে না এটা একটু একটু করে লম্বা হয়। এক এলোকেশি ভদ্রলোক কে দেখলাম এই গরমের মদ্ধে চুল এমন ভাবে নাচাচ্ছিল যেন আজ সকালে উঠে সে চুল গুলো পেয়ছে। বুঝতে পারছিলাম এর সবটুকুই কেমেরা এবং গ্যালারি তে অবস্থানরত কিছু স্মার্ট তরুনী কে আকর্ষন করার জন্য। কিছু আংশে তাকে সফল বলতে হয়। কারণ মজার জিনিস গ্যালারি তে না থাকলে সবারই বোরিং লাগে।
মেক্সিকান ওয়েভ: প্রথম ইনিংসে বেশ কয়েকবার সম্ভব হলেও দ্বিতিয় ইনিংসে কোনও ভাবে ওয়েভ তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। বাংলা ব্রিগেডের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও দর্শক কে উজ্জিবিত করতে পারছিল না। আসলে একে ত ছিল প্রচন্ড গরম, তার উপর খেলা টেনশনের দিকে যাচ্ছিল।
আমরা করব জয়: শেষ উইকেট। ফেটে পড়ল গ্যালারি। আমার পাশের ভদ্রলোক জড়িয়ে ধরল আমাকে, আমি তাকে। অথচ কেউ কাউকে চিনি না। তাতে কি হয়েছে? আমার বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে। মাঠে বেজে উঠল আমরা করব জয়....আকাশ থেকে নেমে এল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। এত ভাল লাগছে কেন? চোখের জ্বল লুকোতেই যেন বৃষ্টির আগমন। বৃষ্টি তে ভিজতে এত ভাল আর কখনও লাগেনি।.....আহ.. আমরা করব জয়, আমরা করব জয় আমরা করব জয় একদিন.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



