চিত্র ১: গত কিছুদিন বাংলাদেশ পুড়ছে প্রচন্ড দাবদাহে, আমন চাষ আর করা হবে না কৃষকদের কারন বীজতলা রোদে পুড়ে লাল হয়ে গেছে। পাট সব শুকিয়ে যাচ্ছে কারন পাট পচাঁনো যাচ্ছে না পানির অভাবে। গরমে মানুষের জীবন এ হাহাকার।
চিত্র ২: গতকাল সারারাত মুষলধারে বৃষ্টি। আজ ঢাকা শহরকে চেনার কোন উপায় নেই। কাল কি দেখেছি আর আজ কি দেখছি! সমস্ত ঢাকা শহর যেন এক মহাসাগর, বিল্ডিংগুলি মনে হচ্ছে ছোটবড় জাহাজ। যানবাহনগুলি যেন হঠাৎ পানিতে চলবে বলে জিদ ধরেছে! কোথাও কোথাও নৌকা ও চলছে।
আমার অভিজ্ঞতা:
আজ থেকে আমার অফিসে ফিল্ড স্টাফদের প্রশিক্ষণ শুরু। কাল বিকালে সবাই পৌছে গেছে। গতকালের টিম মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেই ট্রেনিং শুরু হবে সকাল ৮:৩০ এ, যদিও ডিজিটাল সময় বলে আমি আপত্তি করেছিলাম, কিন্তু মেজরিটির মতামত মেনে নিতে হলো এবং সেই সাথে প্রশিক্ষনের সূচনাপর্বে আমাদের সবাইকে অবশ্যই থাকতে হবে অর্থাৎ আজ সকাল ৮:১৫ এর মধ্যে অফিসে আসতে হবে।
গতকাল রাতে সারারাত বৃষ্টির গান শুনেছি, কেন জানি ঘুম আসছিল না। তাই টুনাটুনি রাত জেগে বৃষ্টি উপভোগ করেছি আর গান শুনেছি। সকাল ৭:৪৫ মিনিটে বাসার গেটে এসে বুঝলাম সারারাত বৃষ্টি উপভোগ এবার দূর্ভোগে পরিনত হয়েছে। অনেক কষ্টে এক রিক্সাওয়ালা মামুকে রাজি করালাম তিনগুন ভাড়া দেয়ার শর্তে। আমার অফিস যে এলাকায় সেখানে যেতে হলে মাঝপথে প্রশান্ত মহাসাগর পার হতে হবে। সেটা পার হয়ে কিছুদূর এসেই আমার রিক্সা সহ তিনটা রিক্সা একই সঙ্গে ম্যানহোলের উম্মুক্ত দরজার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে চিৎপটাং
আর আমার তখন ত্রাহি অবস্থা নিজে বাঁচব না সাধের ল্যাপিটাকে বাঁচাবো!
অবশেষে ল্যাপিকে বাঁচাতে পারলেও নিজেকে তো বাঁচাতে পারলামই না সাথে মোবাইল ও ভিজল ।
কি আর করা, উল্টা পথে বাসায় ফিরলাম, কিন্তু সেখানেও আমার জন্য অপেক্ষা করছিল আর এক দূর্ভোগ। কলে পানি নেই, বুঝুন ঠেলা। সারা ঢাকা শহরে এত পানি আর আমার কলে গোসল করার মত পানি নেই
অবশেষে বুয়ার বদান্যতায় নীচের ট্যাংকি থেকে পানি এলো। এরই মধ্যে অফিস থেকে একেরপর এক ফোন। সব সামলে অফিসে এসেছি ১২ টায় আর সাড়ে আটটার ট্রেনিং শুরু হতে হতে ১১ টা।
বস শুধু বললো, আপনার মত রেসপন্সিবল কর্মকর্তার আর ও সতর্ক ভাবে পথ চলা উচিৎ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


