somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবির হাটে সামু ব্লগারদের ইফতার পার্টি এবং আমার অভিজ্ঞতা:D

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সা.ই. ব্লগে আছি প্রায় আড়াই বছর। এ আড়াই বছরে ভার্চুঢাল জগতের অনেকের সাথে ভার্চুয়াল পরিচয় হয়েছে।B-) তাদের পোস্টে তমেন্ট করেছি, আমার পোষ্টে তাদের কমেন্টের জবাব দিয়েছি, এভাবে কখন জানি এদেরকে খুব বেশী আপন ভাবতে শুরু করেছি। আর এখন এমন একটা অবস্থা দাড়িয়েছে একদিন সামু তে হাজিরা না দিতে পারলে মনে হয় কি যেন একটি কাজ বাকি রয়ে গেলো।
প্রথমে যীশুর পোষ্ট এ ইফতার পার্টির প্রস্তাব এবং পরে রাতমজুর, রোহান ও মনসুরের ইফতার পার্টি বিষয়ক পোষ্ট ও রিপোষ্টে সাড়া দিলাম অনেক আগ্রহ নিয়ে। কারন আড়াই বছর ব্লগের বাসিন্দা হয়ে ও আমি কখন ও ব্লগারদের কোন আড্ডায় হাজিরা দিতে পারিনি তাই স্বভাবতই কারো সাথে সরাসরি পরিচয়ের সুযোগ হয়ে উঠেনি।
গতপরশু এক ব্লগারের সাথে চ্যাট করতে করতে রাত পার (সে কাহিনী পরের পোষ্টে জানাচ্ছি) হয়ে গেল, কাজেই ঘুম আর কপালে জুটবে না বুঝতে পেরে সেহরী খেয়ে কিছুক্ষন নিজের কাজ করলাম এই ভেবে যে এখন যদি এখন ঘুমিয়ে পড়ি তো আর অফিসে যাওয়া হবে না। কিন্তু আমার ভাবায় আর কি এসে যায়! সাড়ে ছয়টার দিক ঘুমিয়ে পড়লাম আর ঘুম ভাংলো ১২ টায়, উঠে মেজাজ খারাপ করে গেলাম অফিসে, কারন আমার রিপোর্ট জমা দেয়ার ডেডলাইন ক্রস করি করি অবস্থা, আর মোবাইলে দেখলাম অফিসের আমার টিম থেকে ৪৭ মিস্ড কল এবং ২ টা এসএমএস আর এইচ আর থেকে ৫ টা মিস্ডকল।
অফিসে গিয়ে রিপোর্ট শেষ করে বের হব হব করছি এমন সময় ব্লগার মুহিব ভাই কল দিলেন প্রথম রিসিভ করতে পারছিলাম না, ২ মিনিট পরে রিসিভ করলাম আবার কল দিলে এর মধ্যে দেখলাম ৫:৪০ বাজে, প্রমাদ গুনলাম জ্যামে পড়ব না তো! অফিস থেকে বের হচ্ছি এমন সময় নতুন ব্লগার 'সবার প্রিয়' (যে এখন ও ৯ দিন হয়ে গেলেও পাতায় একসেস পায়নি) ফোন করল এবং জানাল সে আমার অফিসের পাশেই আছে তাকে জানালাম ইফতার পার্টির কথা রাজী হলো যেতে। মোহাম্মাদপুর থেকে দু'জনে মিলে রিক্সায় উঠেই রাতমজুরকে ফোন করে জানালাম আমরা দ'জনে আসছি। নিলক্ষেত মোড় পার হচ্ছি তখন আবার মুহিব ভাই এর ফোন পেলাম আবার জানালাম প্রায় পৌছে গেছি। এরপর ছবির হাটের সামনে নেমে প্রথমে মুহিব ভাইকে ফোন দিলাম দেখি আমার ডান পাশে দাড়িয়ে তিনি ফোনে কথা বলছেন, পরিচিত হলাম তার সাথে এবং সাথে নীল ভোমরার সাথে। এরই মধ্যে রাতমজুরের মোবাইল থেকে বৃত্তবন্দির ফোন কিন্তু রিসিভ করার আগেই কেটে গেলো, ব্যাক করতেই পাইরাম রাতমজুরকে। জানলাম তারা আমাদের জন্য পানি সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত। এরপর একে একে পরিচয় হলো রোহান, ভেবে ভেবে বলি, ক্যামেরাম্যান ও চাচামিয়ার সাথে। চাচামিয়া পরিচয় পেয়ে প্রথমেই জানতে চাইল অপরাজিতা কই, আমার ও পাল্টা প্রশ্ন ছিল চাচী আম্মা কই। এরপর পরিচয় ঢাকা শহরে বাসে ভ্রমনের কাহিনী নিয়ে ব্লগে বিখ্যাত হওয়া স্পর্শহীণ কিছুদিনের সাথে, আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল বাসে নতুন ১৮+ কি ঘটল।
এরপর ইফতার পার্টির মূল অতিথী শান্তির দেবদূত এর সাথে পরিচয়। আস্তে আস্তে পরিচয় হলো আর ও বেশ কয়েকজনের সাথে। এরই মধ্যে পরিচয় হয় সাইকেল ভ্রমনকারী ও শামষীরের সাথে কিন্তু আমি খুজে ফিরছি রাতমজুর আর বৃত্তবন্দিকে, আর সাথে সাথে অন্যদের সাথে পরিচয় পর্ব ও চলছে। এরই এক ফাকে এলেন রাত মজুর আর বৃত্তবন্দি, পরিচয় হলো তাদের সাথে। তাদের সাথে মেসেঞ্জারে আর মোবাইলে মাঝে মধ্যে কথা হওয়ার কারনে তাদের সাথে পরিচিত হবার একটা তাড়া ছিল। রাতমজুরের সাথে গল্পের এক ফাকে এসে গেলেন কালপুরুষ দা আর তার পরেই একরামুল হক শামীম ভাই ও মাতব্বর পরিচয় হলো তাদের সাথে। এর মধ্যে ইফতারীর সময় হলো, পানি খেজুর জুস আপেল জীলাপি এসব দিয়ে ইফতার শুরু করলাম, শামীম ভাই ও মাতব্বর সবাই কে পৌছে দিল ইফতারী, আর মুহিব ভাই এবং বৃত্তবন্দি লেগে পড়ল ভাজা ভুজি আর মুড়ির পিছনে।
মজা করে সবাই ইফতারী কররাম, সাথে শুরু হলো আড্ডা, গল্প। ইফতারী শেষ হবে হবে এমন সময় এলেন মনসুর ভাই। ইফতারী শেষ করে সবাই টং দোকান থেকে চা খেতে খেতে সবাই আবার মেতে উঠলাম আড্ডায় আর সাইকেল ভ্রমণকারী এবং বৃত্তবন্দির ক্যামরার ফ্লাসে রাতের আধার মুহুর্তের জন্য কেটে যেতে লাগল। ৮ টা পর্যন্ত চলল আড্ডা তারপর একে এক সবাই যার যার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

সত্যি ব্লগে আমরা যে যে মন্তব্য করি না কেন, আড্ডায় যে সবাই খুবই প্রানবন্ত আর আন্তরিক তা কাল ইফতার পার্টিতে গিয়ে বুঝলাম এবং আর ও বুঝতে পারলাম এতদিন আড্ডাতে না এসে কত কিছুই না মিস করেছি।:((
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×